বর্তমানে সচেতন ই-কমার্স বা এফ কমার্স ব্যবসায়ীরা চান একটি Professional, User-Friendly এবং Secured ই-কমার্স ওয়েবসাইট, যেখানে তারা প্রোডাক্ট ম্যানেজ করা থেকে শুরু করে ডেলিভারি পর্যন্ত সবকিছু করতে পারেন সহজেই।তবে কোন প্ল্যাটফর্মে সাইট বিল্ড করলে স্পিড হবে ফাস্ট, কোনটা নেভিগেশনে সহজ আর কোনটা মোবাইল ফ্রেন্ডলি! এতোসব বিষয় লক্ষ রেখে একটি ভালো ও বিশ্বস্ত প্লাটফর্ম খুঁজে পাওয়া সত্যিই কষ্টকর।
তাই বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা ব্যবহার করছেন এমন কিছু জনপ্রিয় eCommerce website builder নিয়ে আমরা রিসার্চ করে দেখেছি যে – এগুলো ছোট স্টার্টআপ থেকে শুরু করে বড় অনলাইন শপ, সবার চাহিদা অনুযায়ী সমাধান দিচ্ছে। আজকের আর্টিকেলে এসব বিল্ডারের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে থাকবে সবকিছু। তাই Best eCommerce website builder in Bangladesh 2025 সম্পর্কে জানতে পুড়ো লেখাটি পড়ে ফেলুন।
ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার কী?
সেরা ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার নিয়ে কথা বলার আগে চলুন জেনে নেই যে, ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার আসলে কী এবং এটা ঠিক কিভাবে কাজ করে। প্রথমত, ওয়েবসাইট বিল্ডার হলো এমন একটি টুল বা সফটওয়্যার যার মাধ্যমে প্রোগ্রামিং বা কোডিং জানা ছাড়াই সহজে ও দ্রুত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। সাধারণত এতে ড্র্যাগ-এন্ড-ড্রপ ফিচার, রেডিমেড টেমপ্লেট এবং কাস্টমাইজেশন সুবিধা থাকায় একজন নতুন ইউজার সহজেই অতি অল্প সময়ের মধ্যে প্রফেশনাল মানের ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন।
ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার অনলাইনে প্রোডাক্ট সেলস এবং কাস্টমার ম্যানেজমেন্টের জন্য বিশেষভাবে তৈরি হওয়ায় এটি সাধারণ ওয়েবসাইট বিল্ডারের থেকে আলাদা। এতে প্রোডাক্ট ক্যাটালগ, শপিং কার্ট, পেমেন্ট গেটওয়ে, অর্ডার ট্র্যাকিং এবং ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টের মতো ফিচার দেয়া থাকে।
বাংলাদেশে যে পরিমান অনলাইন কাস্টমার রয়েছে, সত্যি বলতে ঠিক সেই পরিমান চাহিদা মেটানোর মতো ই-কমার্স ব্যবসা নেই। তাই প্রতিদিনই অনেক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান অনলাইন মার্কেটে আসছে। আর এই প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজেকে ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করতে ব্যবসায়ীদের দরকার সহজ, নিরাপদ এবং দ্রুত সেটআপযোগ্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট। ঠিক এখানেই ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডারের গুরুত্ব বেড়েছে। এটি কম খরচে, কম সময়ে এবং টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াই ব্যবসাকে ডিজিটাল রূপ দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশে ই-কমার্সের বর্তমান অবস্থা (২০২৫)
২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বড় শহর ছাড়াও এখন গ্রামাঞ্চলেও অনলাইন শপিং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আসলে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ক্রেতারা অনলাইনে পণ্য কিনতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে।
কম খরচে অনলাইন শপ চালু করা যায় বলে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এই খাতে যুক্ত হচ্ছেন। ফেসবুক শপ, ছোট অনলাইন স্টোর থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
দারাজ, চালডাল, রকমারির মতো দেশীয় মার্কেটপ্লেস ইতিমধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। পাশাপাশি বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম উন্নত হওয়ায় ক্রেতারা অনলাইন লেনদেনে আরও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। এতে ই-কমার্স ব্যবসার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বেড়েছে, ফলে এর বাজার আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার নির্বাচন করার শর্ত ও বৈশিষ্ট্য
একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট সফল করতে শুধু ভাল ডিজাইনই না বরং ওয়েবসাইটের ব্যাকএন্ডসহ অন্যান্য ফিচারগুলোও ভালো হওয়া জরুরি। তাই ওয়েবসাইট বিল্ডার বেছে নেবার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিতঃ
- UI/UX (ইউজার ইন্টারফেস ও এক্সপেরিয়েন্স): ওয়েবসাইটটি ইউজারদের জন্য সহজে নেভিগেবল এবং আকর্ষণীয় কিনা দেখুন। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, ভালো UI/UX কাস্টমাদের সেই ব্রান্ড থেকে শপিং বেশি করতে উদ্বুদ্ধ করে।
- Payment Integration (পেমেন্ট ইন্টিগ্রেশন): বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড, ব্যাংক ট্রান্সফারসহ বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে সাপোর্ট থাকতে হবে। এতে গ্রাহক সহজেই পেমেন্ট করতে পারবে।
- SEO Support (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন): ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে সহজে র্যাঙ্ক করাতে সকল SEO ফিচারগুলো থাকা অত্যন্ত জরুরি। SEO তে আসা অর্গানিগ ভিজিটর ব্যবসার গ্রোথের জন্য বেশ ভালো।
- Scalability (সম্প্রসারণ যোগ্যতা): আপনার ব্যবসার পরিধি বাড়ার সাথে সাথে ওয়েবসাইট বিল্ডারেরও আরও বেশি ট্রাফিক, অর্ডার এবং ডেটা হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
- Seamless Integration (সহজ ইন্টিগ্রেশন): বিভিন্ন ধরণের প্লাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্যাপ, গুগল এনালিটিক্স বা ট্যাগ ম্যানেজার – এই টাইপ এর টুল গুলোর সাথে সহজেই সেটআপ করা যায় এমন কনফিগারেশন থাকতে হবে।
- Customer Support (গ্রাহক সহায়তা): ওয়েবসাইট বিল্ডার কোম্পানি থেকে একজন কাস্টমারের যেকোনো সমস্যা বা জিজ্ঞাসায় দ্রুত সহায়তা পাওয়ার অপশন থাকবে কিনা দেখে নিন।
বাংলাদেশে জনপ্রিয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডারসমূহ (২০২৫)
২০২৫ সালে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য জনপ্রিয় কিছু ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো।
১। Shopify
Shopify হলো একটি হোস্টেড ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনার অনলাইন স্টোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু আগে থেকেই সেটআপ করা থাকে। আপনাকে আলাদা করে হোস্টিং, সিকিউরিটি বা টেকনিক্যাল মেইনটেন্যান্স নিয়ে ভাবতে হবে না। Shopify-তে সহজে ব্যবহারযোগ্য ড্যাশবোর্ড, কাস্টমাইজেবল টেমপ্লেট, থার্ড পার্টি ডোমেইন ইনস্টলেশন, অ্যাপ ইন্টিগ্রেশন এবং সিকিউর পেমেন্ট গেটওয়ে রয়েছে।
Shopify এর খরচ:
Shopify এর মাসিক সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান শুরু হয় প্রায় $39/মাস* থেকে। এর পরের স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যান $79/মাস এবং অ্যাডভান্সড প্ল্যান $399/মাস। তবে কাস্টম ডোমেইন এবং কিছু প্রিমিয়াম অ্যাপ/থিমের জন্য অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
সুবিধা | অসুবিধা |
সহজ ইন্টারফেস এবং কোডিং ছাড়াই ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। | মাসিক খরচ অনেক বেশি। |
হোস্টিং, সিকিউরিটি, থিম ও অ্যাপ সব ফ্রিতে একসাথে পাওয়া যায়। | কাস্টমাইজেশনের জন্য ডেভেলপার হেল্প লাগে। |
বিভিন্ন ধরনের পেমেন্ট গেটওয়ে সাপোর্ট করে। | প্রিমিয়াম থিম ও অ্যাপ কিনতে বাড়তি খরচ হয়। |
২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্ট পাওয়া যায়। | SEO ফিচার তুলনামূলকভাবে সীমিত। |
বড় ব্যবসার জন্য স্কেলেবল সমাধান। | বাংলাদেশের লোকাল পেমেন্ট সাপোর্ট সীমিত। |
২। WooCommerce
WooCommerce হলো একটি জনপ্রিয় ওপেন-সোর্স ই-কমার্স প্লাগইন যা WordPress-এর সাথে ব্যবহার করা হয়। এটি ছোট থেকে বড় ব্যবসায়ীদের জন্য অনলাইন স্টোর তৈরি ও পরিচালনা করাকে সহজ করে তুলেছে। WooCommerce দিয়ে আপনি প্রোডাক্ট লিস্টিং, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, অর্ডার প্রসেসিং, পেমেন্ট গেটওয়ে ইন্টিগ্রেশন, এবং শিপিং অপশনসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে পারবেন।
WooCommerce এর খরচ:
WooCommerce নিজেই ফ্রি, তবে কাস্টম থিম, প্রিমিয়াম এক্সটেনশন, ডোমেইন এবং হোস্টিং খরচ আলাদাভাবে করতে হবে। হোস্টিং, থিম-প্লাগিন ও প্রয়োজনীয় এক্সটেনশন অনুযায়ী, সাধারণত মাসে $10 – $50 বা তার বেশিও খরচ হতে পারে।
সুবিধা | অসুবিধা |
ফ্রি এবং ওপেন-সোর্স প্লাটফর্ম | টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়া কাস্টমাইজ করা কঠিন |
WordPress-এর সাথে সহজ ইন্টিগ্রেশন | বেশি প্লাগইন ব্যবহার করলে সাইট স্লো হয়ে যেতে পারে |
যেকোনো ফিচার যুক্ত করতে প্রচুর ফ্রি ও পেইড এক্সটেনশন পাওয়া যায় | নিয়মিত মেইনটেনেন্স প্রয়োজন |
SEO ফ্রেন্ডলি | বড় স্টোরে পারফরম্যান্স ইস্যু হতে পারে |
ছোট থেকে বড় ব্যবসার জন্য উপযুক্ত | হোস্টিং ও প্রিমিয়াম এক্সটেনশনের খরচ বেশি |
৩। BigCommerce
আরো একটি জনপ্রিয় ই-কমার্স বিল্ডার প্ল্যাটফর্মের নাম হলো BigCommerce। এটি মূলত স্কেলেবল সমস্যা সমাধানে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। অর্থাৎ আপনার ব্যবসায় যত বড় হবে, BigCommerce তত সহজেই সেই অনুযায়ী ম্যানেজ করতে পারবে সবকিছু। Shopify-এর মতো এখানেও সহজে স্টোর তৈরি, ডিজাইন কাস্টমাইজেশন এবং পেমেন্ট গেটওয়ের সুবিধা রয়েছে। তবে BigCommerce এর অন্যতম সুবিধা হলো যে, এতে বিল্ট-ইন SEO এবং মাল্টি-চ্যানেল সেলস, যেমন Amazon, eBay, Facebook রয়েছে। ফলে যারা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসাকে বড় করতে চান তাদের জন্য এটি একটি ভালো সমাধান।
BigCommerce এর খরচ:
BigCommerce-এর Standard Plan প্রতি মাসে $29 থেকে শুরু, Plus Plan $79, Pro Plan $299, এবং বড় এন্টারপ্রাইজ ব্যবসার জন্য কাস্টম প্লানও রয়েছে।
BigCommerce এর সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা | অসুবিধা |
অনেকগুলো বিল্ট-ইন ফিচার রয়েছে, যেমন SEO ও মার্কেটিং টুলস | মোটামুটি টেকনিক্যাল কাজ জানতে হবে। ডেভেলপার পাওয়া একটু কঠিন |
কোনো অ্যাপ ছাড়াই স্কেলেবল সলিউশন | ডিজাইন কাস্টমাইজেশন Shopify এর তুলনায় সীমিত |
মাল্টি-চ্যানেল সেলিং (Amazon, eBay, Facebook ইত্যাদিতে বিক্রি) | মাসিক ফি তুলনামূলকভাবে বেশি |
আনলিমিটেড প্রোডাক্ট ও স্টোরেজ | ব্যবসায় বাড়াতে চাইলে প্ল্যান আপগ্রেড করতে হয়। |
৪। Wix
Wix মুলত drag-and-drop এডিটিং-এর জন্য পরিচিত। কোডিং না জানলেও Wix দিয়ে খুব দ্রুত প্রফেশনাল মানের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এটি ছোট ব্যবসায়, পার্সোনাল পোর্টফোলিও, ই-কমার্স কিংবা ব্লগ তৈরির জন্য বেশ কার্যকর। Wix-এ রয়েছে অসংখ্য প্রি-মেড টেমপ্লেট, SEO টুলস, এবং অ্যাপ মার্কেট থেকে একাধিক ফিচার যোগ করার সুবিধা।
Wix এর খরচ:
Wix এর প্রিমিয়াম প্ল্যান মাসে প্রায় $17 থেকে শুরু। এরপর ব্যবসায়ের ধরন অ ফিচার ভেদে সর্বোচ্চ $159/মাস পর্যন্ত প্লান রয়েছে।
সুবিধা | অসুবিধা |
Drag-and-drop এডিটরের মাধ্যমে সহজ ও দ্রুত ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। | কাস্টমাইজেশনে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। |
অসংখ্য টেমপ্লেট ও ডিজাইন অপশন পাবেন। | ফ্রি প্ল্যানে Wix-এর বিজ্ঞাপন দেখায়। |
SEO ও মার্কেটিং টুলস রয়েছে। | বড় সাইটের জন্য scalability সীমিত |
বিল্ট-ইন হোস্টিং সুবিধা। | থিম পরিবর্তন করলে আগের কন্টেন্ট নতুন থিমে এডজাস্ট হতে সমস্যা হতে পারে। |
৫। DeshiCommerce
DeshiCommerce হলো বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার প্ল্যাটফর্ম। এখানে ওয়েবসাইট বা অনলাইন শপ বানানো একেবারে সহজ। ফেসবুক ব্যবহার করা জানা থাকলে DeshiCommerce-ও ব্যবহার করা সম্ভব। এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে কোনো ধরণের কোডিং বা টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে না, কারণ সবকিছু তারাই ম্যানেজ করে দিবে।
DeshiCommerce-এ আছে সহজ কাস্টমাইজেশন, সিকিউরড ও মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট, ফাস্ট লোডিং স্পিড, সহজ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট, স্টক কন্ট্রোল এবং রিপোর্টিংসহ আরো অনেক ই-কমার্স রেডি ফিচার। এছাড়া DeshiCommerce-এর কাস্টমার সার্ভিস টিম প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে যেকোনো টেকনিক্যাল সমস্যায় সবসময় সহায়তা করে।
খরচ: DeshiCommerce-এর প্ল্যানগুলো বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বেশ সাশ্রয়ী। স্টার্টার প্ল্যান মাসে ৫০০ টাকা, স্টান্ডার্ড ২০০০ টাকা আর এডভ্যান্সড প্লান ৪০০০ টাকা। ১ বছরের জন্য নিলে ভালো ডিসকাউন্টও পাওয়া যায়।
DeshiCommerce এর সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা
- বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের জন্যই বানানো। কোডিং ছাড়া সহজে ওয়েবসাইট বানানো যায়।
- লোকাল পেমেন্ট গেটওয়ে যেমন – SSL Commerz, বিকাশ বিল্টইন কানেক্টেড। লজিস্টিক ইন্টিগ্রেশনও (pathao, redx, steadfast) রয়েছে।
- ফাস্ট লোডিং ও মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ডিজাইন।
- সহজ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট।
- সাশ্রয়ী মাসিক খরচ ও লোকাল সাপোর্ট।
- বিভিন্ন ধরণের প্লাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্যাপ, গুগল এনালিটিক্স বা ট্যাগ ম্যানেজার – এই টাইপ এর টুল গুলোর সাথে সহজ ইন্টিগ্রেশন।
অসুবিধা
- গ্লোবাল মার্কেটপ্লেস কানেকশন সীমিত যেহেতু বাংলাদেশের জন্য তৈরী।
- ৭ দিনের ট্রায়াল, কোনো ফ্রি প্ল্যান নেই।
- কাস্টমাইজেশন সম্ভব কিন্তু এক্সট্রা চার্জ দিতে হতে পারে।
কোন বিল্ডার কার জন্য উপযুক্ত?
প্রতিটি ব্যবসার ধরন ও আকার ভিন্ন, তাই ওয়েবসাইট বিল্ডারও বেছে নিতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী। নিচে ছোট উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় ব্র্যান্ড পর্যন্ত কার জন্য কোন বিল্ডার উপযোগী হতে পারে তার সাজেশন দেওয়া হলোঃ
ছোট উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ
যারা একদম নতুন শুরু করছেন, তাদের জন্য কম খরচ এবং লোকাল সাপোর্ট অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে DeshiCommerce বেছে নিতে পারেন, কারণ এটি ব্যবহার করা আসলেই পানির মতো সহজ। এতে লোকাল পেমেন্ট সিস্টেমও ইন্ট্রিগেশন করা পাবেন। এছাড়াও, চাইলে Wix বা Shopify-এর বেসিক প্ল্যান ব্যবহার করতে পারেন, তবে সেখানে লোকাল সুবিধা সীমিত এবং বাংলাদেশে ব্যবসা করার উপযোগী অনেক ফীচার নেই।
মিড-লেভেল বিজনেস
যারা ইতিমধ্যেই কিছু গ্রাহক পেয়েছেন এবং ব্যবসা স্কেল করতে চান, তাদের দরকার একটি শক্তিশালী ই-কমার্স সলিউশন। DeshiCommerce এখানেও দারুণ কাজ করছে। কারন এটা শুধু ওয়েবসাইটই নয়, বরং অর্ডার, ইনভেন্টরি, রিফান্ড, রিপোর্টিং সবকিছু এক জায়গায় ম্যানেজ করার একটা কম্পিলিট সিস্টেম। তবে আন্তর্জাতিক মার্কেটে কাজ করতে চাইলে WooCommerce বা BigCommerce বেছে নেয়াই ভালো।
বড় ব্র্যান্ড ও এন্টারপ্রাইজ
বড় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য দরকার স্কেল, কম্পিলিট কাস্টমাইজেশনসহ একাধিক প্রিমিয়াম ফিচার। এ ক্ষেত্রে Shopify, Woocommerce, BigCommerce-এর মতো প্লাটফর্ম ভালো হবে। তবে যদি ফোকাস থাকে শুধুমাত্র বাংলাদেশি মার্কেটের উপর, তখন DeshiCommerce এর কাস্টম প্ল্যান বড় ব্যবসাকেও সাপোর্ট দিতে সক্ষম।
ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার ব্যবহারের সুবিধাসমূহ
আজকের ডিজিটাল যুগে ছোট থেকে বড় ব্যবসা এখন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এই চাহিদার কারণে ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কোডিং জানা ছাড়াই সহজে ও কম খরচে একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন স্টোর তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে এই বিল্ডারগুলো। এর সুবিধাসমূহ হলোঃ
- টেকনিক্যাল দক্ষতা ছাড়াই ড্র্যাগ-এন্ড-ড্রপ সিস্টেমে দ্রুত ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।
- ডেভেলপারের খরচ ছাড়াই স্বল্প খরচে নিজের স্টোর শুরু করা যায়।
- রেসপন্সিভ ওয়েব ডিজাইন টেমপ্লেট পাওয়া যায়, যা মোবাইল ও ডেস্কটপ উভয়েই সুন্দরভাবে কাজ করে
- বিল্ট-ইন পেমেন্ট গেটওয়ে থাকায় সহজে বিকাশ, নগদ, কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করা যায়।
- SSL সার্টিফিকেট, ডেটা প্রোটেকশন ও সিকিউরড ট্রানজ্যাকশনের সুবিধা থাকে।
- ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, স্টক, অর্ডার ও ডেলিভারি সহজে ট্র্যাক করা যায়।
- গুগলে র্যাঙ্ক করতে দরকারি SEO ফিচার থাকে।
- অনেক বিল্ডার লাইভ চ্যাট বা হেল্পডেস্ক সাপোর্ট দিয়ে থাকে।
- ছোট ব্যবসায় থেকে বড় ব্র্যান্ড পর্যন্ত সহজেই স্কেল করা যায়।
আসলে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে, একটি ব্যবসায়ের দ্রুত অনলাইন উপস্থিতি তৈরি করতে ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার একটি কার্যকর সমাধান। এই প্লাটফর্মগুলো কম খরচে ব্যবসায়কে বহুগুনে বাড়াতে সহায়ক। তাই উদ্যোক্তাদের কাছে এই বিল্ডারগুলো এখন ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার ব্যবহারের অসুবিধাসমূহ
যদিও ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ও দ্রুত সমাধান দেয়, তবুও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে বড় ব্র্যান্ড বা যারা ইউনিক ও জটিল ফিচার চায়, তাদের জন্য সবসময় এটি যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাই একটি ই-কমার্স বিল্ডার ব্যবহারের আগে এর অসুবিধাগুলো জানা জরুরি।
- সব প্ল্যাটফর্মে ইউনিক বা কমপ্লিকেটেড কোনো ফিচার কাস্টমাইজ করা যায় না।
- বিল্ডার যে সার্ভার বা হোস্টিং ব্যবহার করে, তার ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয়। আলাদা করে কন্ট্রোল পাওয়া যায় না।
- ছোট বা মাঝারি ব্যবসার জন্য ভালো হলেও খুব বড় এন্টারপ্রাইজের জটিল প্রয়োজন মেটাতে সবসময় উপযুক্ত নাও হতে পারে।
- অনেক সময় অন্য প্ল্যাটফর্মে ওয়েবসাইট মাইগ্রেট করা ঝামেলাপূর্ণ।
- অতিরিক্ত ফিচারের জন্য আলাদা অ্যাপ/এক্সটেনশন ব্যবহার করতে হয়।
ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার উদ্যোক্তাদের জন্য দারুণ একটি সমাধান হলেও সীমাবদ্ধতাগুলো মাথায় রাখা জরুরি। যারা ছোট বা মাঝারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের জন্য এগুলো যথেষ্ট কার্যকর। তবে বড় ব্র্যান্ড বা কমপ্লিকেটেড সিস্টেম দরকার হলে কাস্টম সলিউশনে যাওয়াই ভালো।
ভবিষ্যতে এই সেক্টরের সম্ভাবনা
২০২৫ সালের পর বাংলাদেশের ই-কমার্স সেক্টর আরও গতিশীল আকারে সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রসার এই খাতকে শক্তিশালী করবে। এক্ষেত্রে লোকাল টেক সাপোর্ট কোম্পানিগুলো পেমেন্ট সল্যুশন, এআই-ভিত্তিক লজিস্টিক ম্যানেজমেন্ট ও নিরাপদ ট্রান্সেকশনের মাধ্যমে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া গ্লোবাল ট্রেন্ড যেমন ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স, এবং পারসোনালাইজড শপিং এক্সপেরিয়েন্সও বাংলাদেশে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হবে। নতুন ব্র্যান্ড গড়ে তোলা ও দেশীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক মার্কেটে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য এখানে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হবে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের ই-কমার্স ভবিষ্যৎ শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং গ্লোবাল মার্কেটের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে।
শেষ কথা: কোনটি আপনার জন্য সেরা?
এই ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে ব্যবসায়ীরা এখন চায় নিরাপদ ও ইউজার-ফ্রেন্ডলি একটি অনলাইন স্টোর, যেখানে প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, অর্ডার প্রসেসিং, পেমেন্ট, ডেলিভারি সবকিছু সহজে করা সম্ভব।
লোকাল ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে লোকাল পেমেন্ট সিস্টেমের পাশাপাশি, ফাস্ট লোডিং, মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ডিজাইন এবং সাশ্রয়ী খরচ হওয়ায়টা বেশ জরুরি। এক্ষেত্রে ছোট এবং স্টার্টআপ বা মিড লেভেল ব্যবসায়ীদের জন্য DeshiCommerce একদম সেরা সলিউশন হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক মার্কেটে ব্যবসায় প্রসার বা কাস্টমাইজড ফিচারের প্রয়োজন হলে ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্মগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে। আবার খুব বড় এন্টারপ্রাইজ হলে ওয়াবসাইট বিল্ডারের দিকে না গিয়ে কাস্টম মেড কোডিং ওয়েবসাইট বেছে নেয়াই ভালো হবে। তবে তা ম্যানেজমেন্ট যেমন ঝামেলা তেমন ব্যায়বহুল।
সর্বোপরি, ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার বেছে নেওয়ার মূল কারণ হলো সহজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও স্বল্প খরচে দ্রুত তৈরী করে ফেলার সুবিধা । আশা করি উপরে আলোচ্য দিকগুলো বিবেচনা করে আপনি আপনার ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক প্ল্যাটফর্মটি বেছে নিতে পারবেন।
সবার আগে মন্তব্য করুন
আপনার মূল্যবান মতামত দিন
মন্তব্য করতে হলে আপনাকে লগ ইন করতে হবে।