
একটি পরিকল্পিত ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার ফেসবুক মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের সফলতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ।
এই স্ট্রাকচার আপনাকে মার্কেটিং ফানেল তৈরি এবং কাস্টমারদের জার্নি স্টেজ অনুযায়ী সঠিকভাবে অ্যাড প্লেস করার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেয়।
যদিও বা ফেসবুক মার্কেটিং একটি ক্রমাগত শেখা এবং পরীক্ষা করার বিষয়, তবুও একটা পরিকল্পিত ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার আপনাকে পরীক্ষাগুলো সফলভাবে পরিচালনা ও বোঝার সুযোগ করে দেয়।
আপনি যদি প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের বিজ্ঞাপনের জন্য ফেসবুক অ্যাড পরিচালনা করে থাকেন, তবে পরবর্তী অ্যাড দেবার পূর্বে অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার সম্পর্কে জানুন। এতে করে আপনার অ্যাড ক্যাম্পেইনগুলো থেকে ভালো ফলাফল পাবেন।
কাস্টমার জার্নি
ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার তৈরি করার পূর্বে মাথায় রাখবেন কাস্টমার জার্নি স্টেজগুলো। একজন কাস্টমার একবার অ্যাড দেখেই কি কেনাকাটা সম্পন্ন করে? না করে না। তারা বেশ কিছু স্টেজের মধ্য দিয়ে যায়।
একজন কাস্টমার একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কেনার আগে ৪ টি স্টেজ পার করে।
প্রতিটি স্টেজ সম্পর্কে বোঝার পরে সে অনুযায়ী ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার তৈরি করলে সেখান থেকে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
যেহেতু ফেসবুক ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচারের প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এক্ষেত্রে এমন বিষয়ের অবতারণা করবো না যেগুলো সচরাচর এক্সপার্টরা বলে থাকেন।
এখানে আলোচনা করা হবে শুধুমাত্র সেই স্টেজগুলো সম্পর্কে যেটা জানলে আপনি প্রাথমিকভাবে অ্যাড ক্যাম্পেইন গুলোকে সঠিক নিয়মে সাজাতে পারবেন।
কোল্ড অডিয়েন্স
কোল্ড অডিয়েন্স হচ্ছে যারা আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে কিছুই জানে না, কখনো আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করেনি বা সোশ্যাল মিডিয়াতে এঙ্গেজ না।
ওয়ার্ম অডিয়েন্স
এই অডিয়েন্স গ্রুপ আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানে, আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করেছে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে এঙ্গেজ।
হট অডিয়েন্স
এই অডিয়েন্স গ্রুপ আপনার ব্র্যান্ডের স্ট্রং ফলোয়ার। তারা ওয়েবসাইটে আসে, প্রোডাক্ট দেখে, সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়মিত ফলোয়ার, ইনবক্স করে, নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করেছে।
লয়াল অডিয়েন্স
এই অডিয়েন্স গ্রুপ আপনার ব্র্যান্ডের রেগুলার কাস্টমার। ওয়েবসাইট থেকে তারা একের অধিকবার কেনাকাটা করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার ব্র্যান্ডকে ফলো করে।
এই চার প্রকারের অডিয়েন্স গ্রুপকে মাথায় রেখে আমরা ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচারগুলো তৈরি করবো। যেটাকে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার বলছি। বিজনেস শুরুর প্রথম দিকে এই ধরনের ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার আপনার অডিয়েন্সগ্রুপকে বুঝতে ও অ্যাড রেজাল্ট বিষয়ে সঠিক ধারনা পেতে সাহায্য করে।
যেহেতু এই ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার খুব ছোট পরিসরের ও সরল হয়, ফলে অ্যাড সেটের কার্যকারিতা, অ্যাডের পারফর্মেন্স ও কতগুলো কনভার্শন প্রত্যেক স্টেজ থেকে হচ্ছে সেটি জানা ও বোঝা সম্ভব হয়।
এই ধরনের অ্যাড স্ট্রাকচার তৈরি করতে অনেক কম সময় প্রয়োজন হয়। ফলে আপনি আরো পাওয়ারফুল ল্যান্ডিং পেজ, অ্যাড কন্টেন্ট এবং প্রোডাক্ট ডিজাইনের জন্য সময় ব্যয় করতে পারেন।
এবারে প্রতিটি স্টেজের জন্য কিভাবে অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার তৈরি করবেন সেই বিষয়ে আসি
কোল্ড অডিয়েন্স
এই স্টেজে অ্যাড ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য থাকে নতুন কাস্টমারদের আকর্ষণ করা এবং তাদের ব্র্যান্ডের সেলস ফানেল এর মধ্যে নিয়ে আসা।
যখনই কোল্ড অডিয়েন্স টার্গেট করবেন অবশ্যই আপনার পেজের বা বিজনেসের প্রিভিয়াস যে ভিজিটররা থাকবে তাদেরকে সে ক্যাম্পেইন থেকে এক্সক্লুড করে দিবেন।
কোল্ড অডিয়েন্সে মার্কেটিংয়ের জন্য দুইটি ডিফারেন্ট ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার ব্যবহার করতে পারেন,
এক, ডায়নামিক ক্রিয়েটিভ টেস্টিং
ডায়নামিক ক্রিয়েটিভ টেস্টটিং করার জন্য আপনাকে শুধু মাল্টিপল কন্টেন্ট ও ইমেজ দিতে হয়। ফেসবুক আপনার দেয়া সবগুলো কন্টেন্ট ও ইমেজগুলোর সেরা কম্বিনেশন তৈরি করে প্রতিবার নতুনভাবে কাস্টমারদের প্রদর্শন করে।
এ জন্য শুধুমাত্র অ্যাড সেট লেভেল থেকে আপনাকে ডায়নামিক ক্রিয়েটিভ অপশনটি অন করে দিতে হবে।
এই ক্যাম্পেইন চালানোর সময় আপনি বড় বাজেটে না গিয়ে ছোট বাজেট সেট করে শুরু করুন, লারনিং ফেজ সম্পূর্ণ হবার সময় দিন ও ধীরে ধীরে অপ্টিমাইজ করে সেরা ফলাফলের দিকে নিয়ে যান।
লো বাজেটের সাথে প্রতিটি অ্যাডে একসাথে সর্বোচ্চ পাঁচটি ইমেজের বেশি টেস্ট করতে যাবেন না।
দুই, লুকালাইক অডিয়েন্স ও ব্রড ইন্টারেস্ট টার্গেটিং
কোল্ড অডিয়েন্স টার্গেটিং এর জন্য আরেকটি ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার হচ্ছে লুকালাইক অডিয়েন্স এবং ব্রড ইন্টারেস্ট টার্গেটিং।
কোল্ড অডিয়েন্সে অ্যাড দেবার সময় লুকালাইক অডিয়েন্স এবং ডিটেলস ইন্টারেস্টিং টার্গেটিং একসাথে না করে আলাদা দুটি ক্যাম্পেইন তৈরি করে করুন।
কেন এই অ্যাড সেটগুলো একসাথে টেস্ট করবেন না?
কারন, একটি ক্যাম্পেইন লুকালাইক অডিয়েন্স এবং ডিটেলস ইন্টারেস্টিং টার্গেটিং অ্যাড সেট তৈরি করলে অ্যাড সেট ও অ্যাড গুলোর ফলাফল আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা সহজ হয় না। অ্যাড সেটের আডিয়েন্স সাইজের ভিন্নতার কারনে অ্যাড অবজেক্টিভের জন্য অ্যাড সেটগুলোর পারফর্মেন্স বিষয়ে আলাদাভাবে সঠিক সিধান্তে পৌঁছানো যায় না।
কোল্ড অডিয়েন্স ষ্টেজে অ্যাড ক্যাম্পেইন ডিজাইন করার সময় যে বিষয়গুলো ফলো করবেন,
- প্রতিটি ক্যাম্পেইনে অ্যাড সেটের সংখ্যা কম রাখবেন এবং যতটা সম্ভব সরলীকরণ করার চেষ্টা করবেন।
- বাজেটের উপর নির্ভর করে প্রতিটি অ্যাড সেটের অডিয়েন্সের সাইজ নির্বাচন করবেন। বাজেট বেশি হলে বড় অডিয়েন্স টার্গেট করতে অসুবিধা নেই।
- প্রতিটি অ্যাড সেটে ৩ থেকে ৫ টির বেশি অ্যাড যুক্ত করবেন না।
- ভিন্ন ভিন্ন ফরমেটের অ্যাড কপি তৈরি করবেন। চেষ্টা করবেন প্রতিটি অ্যাড সেটে অন্তত একটি সিঙ্গেল ইমেজ, একটি ভিডিও ও একটি কেরোজাল অ্যাড রাখতে।
ওয়ার্ম অডিয়েন্স
এই অডিয়েন্স গ্রুপের মেম্বারদের আপনার ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করার সম্ভবনা খুব সামান্য থাকে। কারন তারা আপনার বিজনেস সম্পর্কে খুব সামান্য জানে।
এদের জন্য দুই ধরনের অ্যাড সেট করে অ্যাড রান করবেন।
এক, ওয়েবসাইট ভিজিটর
যারা আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করেছে বা ওয়েবসাইতে কোন একটি প্রোডাক্ট দেখেছে।
দুই, সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা এঙ্গেজ
যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার ব্র্যান্ড পেজের সাথে লাইক, শেয়ার বা কমেন্টের মাধ্যমে এঙ্গেজ আছে।
আপনি যখন এই দুটি অডিয়েন্স সেট নিয়ে ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার তৈরি করবেন, তখন একটি থেকে অপরটি এক্সক্লুড করে দিবেন। তা না হলে সম্ভবনা থাকে দুই অ্যাড সেটের অডিয়েন্স একে অপরের সাথে ওভারল্যাপ করবে।
হট অডিয়েন্স
এই অডিয়েন্স গ্রুপটি মূলত আপনার বিজনেসের রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট নিয়ে আসে।
এই স্টেজে দুটি আলাদা সেট তৈরি করবেন।
একটি হচ্ছে যারা আপনার ওয়েবসাইটে প্রোডাক্ট ভিউ করেছে কিন্তু শপিং কার্টে প্রোডাক্ট এড না করেই ছেড়ে গেছে এবং অন্যটি হচ্ছে যারা শপিং কার্টে প্রোডাক্ট এড করেছে কিন্তু check-out প্রসেস সম্পন্ন না করেই ওয়েবসাইট ছেড়ে গেছে।
ডায়নামিক রি-মার্কেটিংঃ
যখন প্রোডাক্ট ভিউ করেছে কিন্তু শপিং কার্টে প্রোডাক্ট এড না করেই ছেড়ে গেছে।
এদের জন্য ডায়নামিক রি-মার্কেটিং এড ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবেন। ফলে যারা আপনার ওয়েবসাইটে কোন একটি প্রোডাক্ট দেখেছে কিন্তু শপিং কার্টে এড না করেই চলে গেছে, ফেসবুক পিক্সেল সেই অডিয়েন্সদেরকে তাদের দেখা প্রোডাক্টগুলো কাস্টমাইজড ভাবে প্রতিবার ইম্প্রেশন করে।
এতে বার বার তার পছন্দের প্রোডাক্ট সামনে আসতে থাকলে সেটি শপিং কার্টে যোগ করার প্রবনতা বাড়ে।
কুপন
শপিং কার্টে প্রোডাক্ট এড করেছে কিন্তু check-out প্রসেস সম্পন্ন না করেই ওয়েবসাইট ছেড়ে গেছে তাদের জন্য ডিস্কাউন্ট দিয়ে অ্যাড তৈরি করুন। এটি তাদের check-out প্রসেস সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করবে।
রেগুলার কাস্টমার
যে সকল কাস্টমার আপনার থেকে বার বার কেনাকাটা করে তাদের জন্য আপনি দুই ধরনের ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার তৈরি করে অ্যাড পরিচালনা করবেন।
সিভিএস লিস্টঃ কাস্টমারদের ডাটা আপলোড করে অ্যাড সেট তৈরি করবেন।
পিক্সেল ইভেন্টঃ ফেসবুক পিক্সেল ইভেন্ট থেকে প্রাপ্ত ট্র্যাকিং ডাটা থেকে ইনফরমেশন নিয়ে যারা বিগত ৩০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে কেনাকাটা করেছে তাদের অ্যাড দেখাবেন।
এই পদ্ধতি সাধারনত যে সকল প্রোডাক্ট নিয়মিত কেনাকাটা করা হয় সেই সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা আদর্শ। যেমনঃ ফুড, সাপ্লিমেন্ট, কসমেটিক্স ইত্যাদি।
পরিশেষে,
ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার মার্কেটিয়ার ভেদে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ডিজাইন করেন। সবাই একই ধরনের ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার করে না। তবে আপনাকে খুঁজে নিতে হবে, কোন ধরনের ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ।
ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার নিয়ে আপনার যদি কোন জিজ্ঞাসা থাকে তবে কমেন্টে জানাতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ
ফেসবুক অ্যাড পলিসিঃ কন্টেন্ট, ক্রিয়েটিভ এবং টার্গেটিং বিষয়ে যা অবশ্যই জানা উচিত
একটি মন্তব্য লিখুন