ফেসবুক মার্কেটিং এর প্রধান ৫ টি চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলোর সমাধান

ফেসবুক মার্কেটিং এর প্রধান ৫ টি চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলোর সমাধান

মেরি স্মিথ একজন বিশ্ব বিখ্যাত ফেসবুক মার্কেটিং এক্সপার্ট, তাকে ফেসবুক মার্কেটিং এর রানী বলা হয়। তিনি খুব সম্প্রতি ফেসবুক মার্কেটিং বিষয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করেন – যাদের প্রত্যেককে একটি সাধারণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো।

আরও পড়ুনঃ

বিশ্ব সেরা ই-কমার্স এক্সপার্টদের কৌশল অনুসরণে সফল করে তুলুন আপনার ই-কমার্স উদ্যোগ

“ফেসবুক দ্বারা বিজনেস পরিচালনা বা বেচাকেনা করার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলো আপনাদের কাছে প্রধান বাধা বলে মনে হয়?” 

প্রায় দুই হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর উত্তর তিনি পেয়েছিলেন, সেখান থেকে যাচাই-বাছাইয়ের পরে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তিনি সামনে নিয়ে আসেন,

  1. আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করা
  2. সঠিক টার্গেট অডিয়েন্স খুঁজে বের করা 
  3. কমে যাওয়া অর্গানিক রিচের সাথে মানিয়ে নেওয়া
  4. কাস্টমারদের এঙ্গেজ করে রাখা 
  5. ক্রমাগত ফেসবুকের আপডেট এর সাথে আপটু-ডেট থাকা

এছাড়াও আরো ১৫ টি বিষয় এই জরিপে উঠে এসেছিল সেগুলো হচ্ছে,

  1. ফেসবুক অ্যাড থেকে সেল নিয়ে আসা
  2. ভিডিও অ্যাড তৈরি করা
  3. ফেসবুক লাইভ এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট সেল করা
  4. ফেসবুকের বিজনেস করতে গিয়ে হতাশ হয়ে পড়া
  5. ফেসবুকের কোন মেট্রিক্স গুলো বিজনেস বাড়াতে সহায়ক সেগুলো না বুঝে ওঠা 
  6. ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজার সম্পর্কে সঠিকভাবে না বোঝা
  7. ফেসবুক পোস্টগুলো  রিজেক্ট হওয়া
  8. সঠিক স্ট্রাটেজি সম্পর্কে না বোঝা
  9. অ্যাড এর খরচ বেড়ে যাওয়া
  10. ফেসবুকের অ্যালগরিদম চেঞ্জ হাওয়াতে সমস্যার সম্মুখীন হওয়া
  11. ফেসবুকের অ্যাড বাজেট সম্পর্কে ধারণা না থাকা 
  12. আদর্শ টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপ তৈরি করতে সক্ষম না হওয়া
  13. সেলস ফানেল তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়া
  14. নিয়মিত সেল ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া
  15.  ফেসবুক বিজনেসে নতুন হওয়ায় কোথা থেকে শুরু করতে হবে সে বিষয়ে ধারণা না থাকা

 প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত পাঁচটি প্রধান কারণ এবং এর সমাধান বিষয়ে আজকের আলোচনা। 

সমস্যা নম্বরঃ ১ 

কন্টেন্টঃ আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করা

ফেসবুক দিয়ে বিজনেস পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা প্রধান যে সমস্যাটির সম্মুখীন হন সেটি হচ্ছে আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করা। 

কন্টেন্ট তৈরি বিষয়ে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কিছু ব্যক্তিগত অভিমত নিম্নরূপ,

  • আমি জানিনা ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য কিভাবে আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করতে হয়।
  • ফেসবুকে অ্যাড দেবার ক্ষেত্রে কোন ধরনের কন্টেন আমি তৈরি করবো?  সেটিকে অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন হবে নাকি কনভার্শন? এগুলোর মধ্যে সঠিক ব্যালেন্স কিভাবে নির্ধারণ করা যায়? 
  • একটি দুর্দান্ত অফার কিভাবে তৈরি করা যায়, যেন কাস্টমার কেনাকাটায় উৎসাহিত হয়।
  • “অডিয়েন্স এঙ্গেজ হবে এমন ধরনের কনটেন্ট কিভাবে তৈরি করব?
  • আমার কনটেন্টের জন্য সঠিক হুক পয়েন্ট, ছবি এবং বিষয় কিভাবে নির্ধারণ করবো যেন কাস্টমার আমার  সেলস ফানেল এর সাথে যুক্ত হতে পারে?

প্রতিবারই ফেসবুকের জন্য এমন একটা কনটেন্ট তৈরি করতে হবে যেটি সম্পূর্ণ নতুন এবং অথেন্টিক। আপনাকে সত্যি কারের মানুষের গল্প বলতে জানতে হবে। 

কাস্টমারদের একটি জার্নির মধ্যে দিয়ে নিয়ে গিয়ে  প্রোডাক্টের সুবিধা-অসুবিধার সাথে ইমোশোনাল অ্যাটাচমেন্ট গড়ে তুলুন। 

এজন্য ভিডিও কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে ফেসবুক লাইভ দারুন একটি মাধ্যম ।

যখন কেউ একজন নিজেকে বিক্রেতা হিসেবে সামনে নিয়ে আসে, তখন তার ক্রেতারা তাকে ছেড়ে যায়, তাই প্রথমে আপনি একজন ক্রেতার মত চিন্তা ভাবনা করুন তারপরে বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত হোন।

এই কথাটি বলার থেকে করে দেখানো অনেক কঠিন। যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কন্টেন কাস্টমারদের কেনার জন্য জোর করে, তখন কাস্টমার সেটি কিনতে চায় না।  

এটি সকল ধরনের বিজনেসের জন্য সত্য। 

মার্ক জুকারবার্গ বলেছেন, ফেসবুক অ্যাড এর উদ্দেশ্য তখনই সাধিত হয়, যখন একটি কনটেন্ট অডিয়েন্সদের জন্য প্রাসঙ্গিক হয় এবং তারা সেটি পছন্দ করে।

ফেসবুক বিজ্ঞাপনের একটি বড় ভুল হচ্ছে বিক্রেতারা কাস্টমারদের সরাসরি সেলস পেজে নিয়ে আসে এবং তারা হতাশা পোষণ করে এই বলে যে কেন তাদের পেজে এনগেজমেন্ট এত কম?  

আপনি একবার ভাবুন তো, যাকে আপনি আগে থেকে জানেন না তার সাথে আপনি কি এঙ্গেজ হবেন?

এটি বোঝা দরকার, খুবই সামান্য সংখ্যক অডিয়েন্সই প্রথম বারেই একটি ফেসবুক অ্যাড দেখে কেনাকাটা করে।

অনেক সময় খেয়াল করবেন, ফেসবুকে কোন একটি কনটেন্ট দেখতে গিয়ে আপনার ভালো লেগেছে এবং সেটিতে থাকা সার্ভিস ফরম সাইনআপ করেছেন, কিন্তু যখনই  আপনার কাছে পেমেন্ট চাওয়া হয়েছে, আপনি সেটি সম্পন্ন না করেই সেখান থেকে বের হয়ে গেছেন।  

হয়তো কখনো কখনো কম মূল্যের জন্য কোন একটি অফার ফরম সাইনআপ করেছেন, কিন্তু আপনি প্রথমবারেই সেটির জন্য টাকা পরিশোধ করেন নি।

একটু ভেবে দেখুন যে অ্যাডগুলো আপনার জন্য প্রাসঙ্গিক, সেটিতে আপনি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এঙ্গেজ হয়েছিলেন, আর যেটি আপনার জন্য প্রাসঙ্গিক নয় সেই অ্যাডগুলো দেখে বিরক্ত বোধ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  

ই কমার্স বিজনেস গ্রোথঃ সফলতা ও ব্যর্থতায় কনটেন্ট মার্কেটিং

সমস্যা নম্বরঃ ২ 

অডিয়েন্সঃ আদর্শ টার্গেট কাস্টমার খুঁজে পাওয়া

ধরুন, আপনি একটি দারুন কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, তারপর? 

আপনার মেসেজটি যাদের কাছে পৌঁছে দিতে চান তাদেরকে কিভাবে খুজে বের করবেন? সেটি অর্গানিক অথবা পেইড মার্কেটিং যেভাবেই হোক না কেন। 

পরিচালিত জরিপে এই সম্পর্কে প্রাপ্ত সমস্যাগুলো সম্পর্কে একটু জানি, 

  • ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য কিভাবে টার্গেট ঠিক করতে হয়?
  • সঠিক টার্গেট অডিয়েন্স খুঁজে পাবো কীভাবে ? 
  • কিভাবে একটি কনটেন্টের জন্য সঠিক অডিয়েন্স খুঁজে পেতে পারি  ভুল অডিয়েন্স খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট না হয়? 
  • অ্যাড টার্গেটিং অপশন গুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে এবং সেটা নিয়ে আমরা খুবই হতাশ।
  • সঠিকভাবে টার্গেট অডিয়েন্স নির্ধারণ করা দুরূহ। প্রতিবার যখন অডিয়েন্স টার্গেট করা হচ্ছে, তখন সেটি হয় খুব বড় হয়ে যাচ্ছে অথবা ছোট  হয়ে যায়।  
  • বিজনেসের জন্য আদর্শ নিস খুঁজে পায় না। 

এ ধরনের সমস্যার অনেকগুলি কারণ রয়েছে,  প্রথমত আপনাকে জানতে হবে কাকে টার্গেট করতে চান। দ্বিতীয়তঃ আপনাকে জানতে হবে কিভাবে তাদের কাছে পৌঁছাবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কনসাল্টিং কাজ করতে গিয়ে স্মিথ এবং তার পার্টনার একটি বিষয় চিহ্নিত করেন।  সেটি হচ্ছে বিপণনকারীরা তাদের আদর্শ কাস্টমারদের বৈশিষ্ট্য গুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেন না। 

আপনার কাস্টমারদের সম্পর্কে যথাসম্ভব গভীর ভাবে জানতে হবে। অ্যাডের জন্য অডিয়েন্স টার্গেট করতে নিচের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,

ডেমোগ্রাফিকঃ  বয়স, শিক্ষা, পেশা, রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস, জব টাইটেল ইত্যাদি। 

লোকেশনঃ  শহর, বিভাগ, নগর ইত্যাদি

ইন্টারেস্টঃ  জীবনযাত্রা, শখ, পছন্দ ইত্যাদি 

বিহেভিয়ারঃ  কেনাকাটা সংক্রান্ত আচরণ, পূর্বের কেনাকাটার ধরন, নির্দিষ্ট কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের প্রতি আগ্রহ ইত্যাদি।  

আপনি যদি ১০০% অর্গানিক কনটেন্ট তৈরি করেন এবং ফেসবুক অ্যাড পরিচালনা করার পরিকল্পনা না থাকে, তারপরেও পরিস্কার ভাবে জানতে হবে আপনি কার জন্য কনটেন্ট তৈরি করছেন।

আপনি যখন পরিষ্কার ভাবে জানবেন, আপনি কাদের নিকট আপনার মেসেজ পৌঁছাতে চান, তাহলে সেটি আপনাকে দুর্দান্ত একটি কন্টেন্ট তৈরি করতে সহায়তা করবে। যা কাঙ্খিত টার্গেট অডিয়েন্সদের কাছে বিজনেসের বার্তাটি পৌঁছে দিতে সক্ষম।

সঠিক অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে এবং তাদের আগ্রহ সম্পর্কে জানতে একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।  আপনি ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজারে  লগইন করুন এবং সেখান থেকে অডিয়েন্স টার্গেটিং অপশনে যান।  

এবার একটি খাতায় আপনার অডিয়েন্সদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত কমন তথ্যগুলো লিখে ফেলুন। তারপর তাদের মিলে এমন  টার্গেটিং প্যারামিটার গুলো অ্যাড ম্যানেজার দ্বারা সিলেক্ট করুন।

এটি আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে, আপনার  টার্গেট অডিয়েন্স এর জন্য কি ধরনের টার্গেটিং প্যারামিটার সেট করবেন? যা আপনাকে আদর্শ অডিয়েন্স গ্রুপের কাছে নিয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ

অডিয়েন্স এনগেজমেন্টঃ কোন সময়ে ফেসবুক অডিয়েন্স সর্বাধিক একটিভ থাকে

সমস্যা নম্বরঃ ৩  

রিচঃ  ফেসবুকের লো-অর্গানিক রিচের সাথে মানিয়ে নেওয়া

২০১২ সালের পর থেকে ফেসবুকের অর্গানিক রিচ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। প্রথমদিকে এর গতি ধীর হলেও সম্প্রতি এটি রাতারাতি অনেক বেশি কমে যায়। 

বর্তমান সময়ে এসে বিজনেস পেজ গুলোর জন্য অর্গানিক রিচ মাত্র ১ থেকে ৬ শতাংশ।  বিপণনকারীরা একসময় লো অর্গানিক রিচের ফাঁদে আটকে যায়। কিন্তু বর্তমান সময়েও বেশি পরিমাণ অর্গানিক রিচ পাওয়া সম্ভব।

জরিপে কাস্টমারেরা এই সম্পর্কিত যে মন্তব্যগুলো করেছিলো,  

  • রিচ একেবারে কমে গেছে
  • দৃশ্যমানতার অভাবে পোস্টগুলাতে দর্শকদের কোন প্রতিক্রিয়া নেই। ফেসবুক এগুলো বেশি মানুষদের সামনে প্রমোট করছে না।  
  • আমাদের বিজনেস পোষ্টগুলো দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে 
  • লাইক, শেয়ার এবং ফলোয়ার পাওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই আমি এগুলোর জন্য সময় নষ্ট করা ছেড়ে দিয়েছি। এখন শুধুমাত্র আমার ফেসবুক  আইডি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করি।
  • কিভাবে আমি আমার পোস্টগুলো কাস্টমারদের নিউজফিডে নিয়ে যেতে পারি?
  • কোন ফলোয়ার গুলো আমার পোস্ট দেখছে এবং কারা দেখছে না সেটি জানা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

ফেসবুকে সাধারনত দুই ধরনের বিপণনকারী রয়েছেন

এক ধরনের বিপণনকারীরা কিভাবে অর্গানিক রিচ পেতে হয় সে সম্পর্কে ভালভাবে জানেন এবং অন্য শ্রেণির বিপণনকারীরা সঠিক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তাদের রিচ এবং এঙ্গেজমেন্টকে বাড়িয়ে তুলতে পারেন। 

তবে আদর্শ পদ্ধতি হচ্ছে, অর্গানিক এবং পেইড দুটি পদ্ধতি একই সাথে ব্যবহার করা। মেরি স্মিথ তার নিজস্ব পদ্ধতি মেরি মেথড প্রয়োগের মাধ্যমে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্গানিক রিচ  অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। 

তিনি এজন্য সুনির্দিষ্ট টপিকের উপরে আর্টিকেল লেখেন, নিয়মিত ভিডিও পোস্ট এবং ফেসবুক লাইভ করেন যা তার কাস্টমারদের বিজনেস পেজে এঙ্গেজ করে রাখে এবং ফেসবুক গ্রুপেও তিনি সক্রিয় থাকেন।

পাশাপাশি ফেসবুকে অ্যাডের জন্য আলাদা বাজেট তিনি নির্ধারিত রাখেন। সবগুলো পদ্ধতির সমন্বিত প্রক্রিয়া তার ফেসবুক পেইজের অর্গানিক রিচকে বাড়াতে সাহায্য করেছে।

আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, অর্গানিক রিচ পাবার জন্য ফেসবুক অ্যাডের বিপরীতে টাকা খরচ করা যৌক্তিক হবে কি? 

কিন্তু আপনি যদি সঠিকভাবে এই পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করেন,  তবে নিয়মিতভাবে রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট ধরে রাখতে পারবেন।

পরামর্শঃ  আপনি কি আপনার বিজনেস পেইজের সাথে ফেসবুক গ্রুপটি লিংক করে রেখেছেন?  যদি না করে থাকেন তবে এখুনি করে ফেলুন। 

আরও পড়ুনঃ

সফলদের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কৌশল: ফেসবুক বিজনেস পেজ

সমস্যা নম্বরঃ ৪  

কনভার্শনঃ এঙ্গেজ কাস্টমারদের ক্লাইন্টে পরিনত করা 

এটি ফেসবুক অ্যাড কনভার্শনের সাথে সম্পর্কিত। আপনি হয়তো লক্ষ্য করছেন, কাস্টমাররা আপনার পেজের পোষ্টগুলো দেখছেন, এঙ্গেজ হচ্ছে কিন্তু সেল হচ্ছে না।  

এই সম্পর্কিত যে মন্তব্যগুলো জরিপে উঠে আসে,

  • বিজনেস পেজের পোস্টগুলোর সাথে অডিয়েন্স এঙ্গেজ হচ্ছে কিন্তু তারা কেনাকাটা করছে না।
  • কাস্টমারদের এঙ্গেজ করা থেকে শুরু করে কাস্টমার বানানো পর্যন্ত একটি জার্নির মধ্যে তাদের রাখতে হবে।  যেখানে কাস্টমার ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই বিজনেসের ক্লায়েন্ট হিসেবে পরিণত হবে।
  • যৌক্তিক উপায় কাস্টমারদের সাথে যুক্ত থাকতে হবে, যেন তারা পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়ের জন্য আপনার কাস্টমারের পরিণত হয়। 
  • এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে কাস্টমারদের নিয়ে যেতে হবে তিনি যেন আপনার প্রোডাক্টটি ব্যবহার করে দেখতে আগ্রহী হন। শুধুমাত্র লাইক বা কমেন্ট করে এঙ্গেজ থাকলেই হবে না। 

পরামর্শঃ নিম্নে উল্লেখকৃত ৪ টি ধাপে আপনার মার্কেটিং এক্টিভিটিজ গুলো পরিচালনা করুন।

১। কোর ফেজঃ  নিয়মিতভাবে মানসম্মত কন্টেন্ট পাবলিশ করুন। আপনার কনটেন্টে উপযোগিতা যোগ করুন।  কমিউনিটি তৈরি করুন তাদের কথা শুনুন এবং সেখান থেকে আপনার আদর্শ অডিয়েন্স দের খুঁজে বের করুন।

২। বিল্ড আপ ফেজঃ  কাস্টমারদের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলুন।  নতুন কিছু হতে চলেছে, নতুন কিছু আসছে এমন ধরনের সাসপেন্স তৈরি করুন;  

৩। প্রমোশন ফেজঃ  আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসগুলোর প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যান।  কাস্টমারদের ফোন নাম্বার বা ইমেইল এড্রেস সংগ্রহ করুন। তাদের জন্য দারুন অফার ডিজাইন করুন।

৪। ফলোআপ ফেজঃ  শেষ পর্যন্ত ক্লায়েন্টের সাথে যুক্ত থাকুন, তাদের রিভিউ নিন, কেস স্টাডি তৈরি করুন।

উপরের চারটি ধাপের উপর নির্ভর করে সারা বছরের পরিকল্পনা সাজিয়ে নিন। 

প্রমোশনাল কনটেন্টগুলো যে ধরনের হোক না কেন যদি টার্গেট কাস্টমারদের জন্য আদর্শ হয় তবে সেগুলোতে অথেন্টিক এনগেজমেন্ট হবে। 

যখন কাস্টমার এঙ্গেজ হয়, সে সময় তাদেরকে বিভিন্ন অফারের মাধ্যমে কেনাকাটায় উৎসাহিত করতে থাকুন।  

তারা একসময় আপনার ক্লাইন্টে পরিণত হবে। কিন্তু যদি তাদের কাছে শুধুমাত্র সেল পোষ্ট দিতে থাকেন তবে তারা আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে।

আরও পড়ুনঃ

কখন পোস্ট দিলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি এঙ্গেজমেন্ট পাবেন।

সমস্যা নম্বরঃ ৫

পরিবর্তনঃ  প্রতিনিয়ত ফেসবুকের পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়া

 

প্রতিনিয়ত এই প্ল্যাটফর্মে কোন না কোন কিছু পরিবর্তন হয়ে চলেছে, একজন বিপণনকারী যখন ফেসবুকের এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে অভ্যস্ত হতে শুরু করেন ঠিক তখনই ফেসবুক আরো বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে।

ফেসবুকের ক্রমাগত পরিবর্তন নিয়ে জরিপে যে তথ্যগুলো উঠে আসে, 

  • ফেসবুকের অ্যালগরিদমের পরিবর্তনের সাথে ফেসবুক পেজ ও গ্রুপের যে পরিবর্তন ক্রমাগত হয়ে চলেছে তার সাথে আপ টু ডেট থাকা কষ্টকর।
  • অ্যাডভার্টাইজমেন্ট এর টার্ম এবং কন্ডিশন সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট থাকা চ্যালেঞ্জিং। 
  • প্রতিনিয়ত পরিবর্তনগুলোকে ফলো করা এবং মানিয়ে নেওয়া কষ্টসাধ্য।
  • কৌশলগত পরিবর্তনের সাথে নিয়মিত আপডেট থাকতে যেয়ে বেশিরভাগ সময়ই কাজ করার থেকে গবেষণায় মনোযোগী হয়ে পড়তে হয়।  

এই বিষয়ে মারি স্মিথ পরামর্শ দিয়েছেন,  ক্রমাগত পরিবর্তনের সাথে আপ টু ডেট থাকতে প্রয়োজনে আপনি দক্ষ কারো সহায়তা নিন অথবা প্রফেশনাল কোন এজেন্সির উপরে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারেন। 

এমন কাউকে খুজুন যারা ফেসবুক মার্কেটিং এর এই জটিল সমস্যাগুলোর নিয়ে নিয়মিত কাজ করে চলেছেন।

হতে পারে সেটি আপনার নিজেদের টিমের মধ্যে অথবা হতে পারে বাইরের কেউ।

কিন্তু এই কাজের জন্য কোন ফেসবুক পেজ বা গ্রুপকে আপনি বেছে নিবেন? 

এ কাজটি করার জন্য ফেসবুকে হাজারো পেজ রয়েছে। এক্ষেত্রে দেশি কমার্স আপনার জন্য আদর্শ একটি সমাধান।

দেরি না করে এখনি দেশি কমার্সের ফেসবুক পেইজটি লাইক করুন এবং সি ফাস্ট বাটনে ক্লিক করে রাখুন।

নতুন কন্টাক্ট পোস্ট করা মাত্রই আপনি সবার প্রথমে দেখতে পাবেন। 

দেশি কমার্স ফেসবুক পেজে ই-কমার্স মার্কেটিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে নিয়মিতভাবে তথ্যবহুল লেখা প্রকাশিত হয়।  

যার সঠিক প্রয়োগ আপনার বিজনেসকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।  

ফেসবুক মার্কেটিং পরিচালনায় আপনি কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন? জানিয়ে কমেন্ট করুন। 

কাস্টমার লয়াল্টি তৈরির কিছু বহুল পরিচিত কিন্তু অব্যর্থ কৌশল

কাস্টমার লয়াল্টি তৈরির কিছু বহুল পরিচিত কিন্তু অব্যর্থ কৌশল

কাস্টমার লয়াল্টি নিয়ে অ্যামাজনের একটি দারুণ উদাহরণ রয়েছে? যেখানে মাত্র ১৪ টাকার বিনিময়ে অ্যামাজন একবার একজন অনিয়মিত কাস্টমারকে তার লয়াল কাস্টমারে রূপান্তর করেছিলো।  

সেই কাস্টমার পরবর্তীতে যতবার অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন, অ্যামাজন থেকে কিনেছেন।  

বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদন মতে টপ ২০ ব্র্যান্ড – যাদের সবচেয়ে বেশি লয়াল কাস্টমার রয়েছে – তাদের মধ্যে অ্যামাজন সবার প্রথমে।

কিভাবে এটি হলো? 

কাস্টমার অ্যামাজন থেকে একটি বই অর্ডার করে । বইটি অর্ডার করার এবং ডেলিভারি সম্পন্ন হবার মধ্যবর্তী সময়ে বইটির মূল্য পরিবর্তিত হয়। 

এর কিছুদিন পরে অ্যামাজন সেই কাস্টমারকে একটি ইমেইল করে। 

যেখানে বলা হয়, যে বইটি কাস্টমার অর্ডার করেছিলো সেটির মূল্য কমেছে এবং মূল্যহ্রাস হবার পরে যে পরিমাণ টাকা কাস্টমার বেশি পরিশোধ করেছিল সেটি তার অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হয়েছে।  

মূল্য ফেরতের পরিমাণ ছিল .১৬  ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪ টাকা। সেই কাস্টমার তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সময় বলেন

“আমি ইতিপূর্বে অ্যামাজন থেকে খুব বেশি পরিমাণে কেনাকাটা করিনি । তাদের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে আমি যুক্ত নেই, তার পরেও এই ছোট্ট একটি ঘটনার কারণে আজ আমি অ্যামাজনের লয়াল কাস্টমার।”

তিনি মনে করেন, অ্যামাজনের স্বচ্ছ মূল্য নীতি ও সততা তাকে সেই ব্র্যান্ডের  প্রতি বিশ্বস্ত  বানিয়েছে। 

অ্যামাজনের এই কৌশল থেকে প্রতীয়মান হয়, তারা প্রতিটি কাস্টমারদের গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেন এবং কাস্টমারদের প্রতি তারা সৎ আর এই বিষয়টি তাদের অন্যান্য সকল ব্র্যান্ড থেকে আলাদা করেছে।

অ্যামাজনের আরো একটি পপুলার লয়ালটি প্রোগ্রাম হচ্ছে, অ্যামাজন প্রাইম। যেখানে অ্যামাজনের সাবস্ক্রাইব করা কাস্টমারেরা অ্যামাজন প্রাইমডে-গুলোতে সর্বোচ্চ ছাড়ে কেনাকাটার সুযোগ পায় এবং তার জন্য শিপিং খরচ ফ্রী। 

অনিয়মিত কাস্টমারকে লয়াল কাস্টমারে পরিনিত করতে হলে কি করবেন?  

কাস্টমারদের ই-মেইল ইনবক্সে থাকুন, টাচে থাকুন

ইমেলের মোট ওপেন রেট ২২.৩৩ শতাংশ।কেবল ই কমার্স বিজনেসেই ইমেলের ওপেন রেট ১৫.৬৮ শতাংশ। 

Omnisend এর একটি জরিপে বলা হয়েছে, কাস্টমারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পাঠানো ইমেলগুলির ওপেন রেট ছিল ৪২%।

 আরও পড়ুনঃ

সফল অনলাইন ব্যবসার গোপন মার্কেটিং কৌশল!

কীভাবে আপনি বিজনেস শুরু করলেন সেই গল্পটি কাস্টমারের সাথে শেয়ার করার মাধ্যমে প্রথম ইমেলটি পাঠিয়ে যোগাযোগের শুরুটা করতে পারেন। 

নতুন কাস্টমারদের একটি আলাদা লিস্ট করে নির্দিষ্ট সময় বিরতিতে বিজনেস ও প্রোডাক্টের আপডেট জানিয়ে এঙ্গেজ থাকুন। 

প্রথমবার কেনাকাটার সাথে সাথে কাস্টমারদের ডেটা সিস্টেমে আপডেট করে একটি অটো শুভেচ্ছা ইমেল পাঠান। চাইলে প্রতিবার কেনাকাটার পরে ধন্যবাদ জানিয়ে ইমেল করতে পারেন।

একটি ব্র্যান্ডের সাথে কাস্টমারদের আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তবে ইমেলের মাধ্যমে তাঁদের সাথে যুক্ত থেকে আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে তাঁদের মনে একটি শক্ত স্থান গড়ে তোলা যায়। 

এতে পরবর্তী কেনাকাটায় কাস্টমার আপনাকে সবার প্রথমে সার্চ করে। 

কীভাবে ব্র্যান্ড লয়ালটি তৈরি করবেন? সে বিষয়ে কিছু আইডিয়া শেয়ার করি, 

এডুকেশনাল কন্টেন্ট 

প্রোডাক্ট নিয়ে কাস্টমারদের অজানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা তাঁদের সমস্যাগুলির সমাধান বিষয়ক আর্টিকেল শেয়ার করুন। 

আপনি যদি জুট আইটেম নিয়ে বিজনেস করেন তাহলে কাস্টমারদের বলুন কেন তাঁরা জুটের প্রোডাক্ট ব্যবহার করবে। 

জুটের তৈরি প্রোডাক্টগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করলে সেগুলো নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে। কিভাবে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয় অনেকেই সে বিষয়ে ধারণা রাখেন না

তাঁদের বলুন, জুট প্রোডাক্টগুলি কিভাবে ব্যবহার করলে অনেক লম্বা সময় ব্যাবহারের উপযোগী থাকবে। কাস্টমার প্রোডাক্টটির জন্য পরিশোধিত মূল্যের সর্বোচ্চ উপযোগিতা পাবার টিপস পেলে সে আগ্রহী হয়ে উঠে।   

এভাবে আপনি যে ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে বিজনেস করুন না কেন সে প্রোডাক্টগুলোর বিভিন্ন সুবিধা অসুবিধা কার্যকারিতা নিয়ে নিয়মিতভাবে কনটেন্ট তৈরি করুন।  

বিনোদনমুলক কন্টেন্ট

এডুকেশনাল কন্টেন্ট সব বিজনেসের কাস্টমারের জন্য প্রযোজ্য না। 

ধরুন আপনি ফুড আইটেম নিয়ে বিজনেস করেন। আপনি ফুড নিয়ে তৈরি বিনোদন মূলক পোস্টগুলি কাস্টমারের সাথে শেয়ার করতে পারেন। 

খাবার নিয়ে মজার মজার প্রতিযোগিতার অনলাইন লিংক শেয়ার করতে পারেন। এতে ফুড লাভার কাস্টমার আপনার এই বিনোদন মূলক পোস্টগুলি দেখার মাধ্যমে আপনার সাথে এঙ্গেজ থাকবে। 

 আপনি যে ধরনের কনটেন্ট তৈরি করুন না কেন যে তথ্যগুলো কাস্টমারকে দিবেন তা এবং নিরপেক্ষ  হতে হবে।  সততা স্বচ্ছতা পেশাদারিত্বের  ছাড়া কাস্টমারকে একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা প্রদান করা কখনও সম্ভব না।

প্রোডাক্ট নিয়ে অভিজ্ঞতার গল্প বলুন

আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে এমন একটি গল্প বলুন যেটিকে কাস্টমার তাঁর নিজের গল্প বলে মনে করবে। 

প্রতিটি কাস্টমারের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার গল্প রয়েছে। আপনার বলা গল্পের মাঝে সে যখন নিজেকে আবিস্কার করতে পারে।তখন আপনার ব্র্যান্ডটি তার মনে স্থায়ীভাবে জায়গা পায়। 

ছুটির দিনে কাস্টমারের প্রত্যাশা পুরন করুন 

কিছু কাস্টমার আপনার অনলাইন শপটি হতে স্বল্প মূল্যের প্রোডাক্ট আশা করে । তাই সে আপনার দেয়া ছাড়ের সুবিধা পেতে অপেক্ষা করে। 

 আর সেটা যদি হয় ছুটির দিন তবে  তবে কাস্টমার এই দিনে  একটি বিজনেস থেকে মূল্য ছাড়  পাবার আশা করে। 

ছুটিরদিন বা উৎসবে তাঁদের এই প্রত্যাশা পুরন করতে পারেন বিভিন্ন প্রমোশনাল অফার দিয়ে।

 আপনি বিশেষ এই দিনগুলোতে তাঁদের জন্য অফার, ডিস্কাউন্ট ও কুপন দিয়ে কাস্টমারদের পছন্দের প্রোডাক্টটি কেনার সুযোগ করে দিন।  

অফার ফুরিয়ে যাবার আগেই নিয়মিত কাস্টমারদের জানান

ছুটির দিন বা বিশেষ দিনগুলোতে আপনি ছাড় দেবার আগেই আপনার কাস্টমারদের ইমেইল করে জানাতে পারেন।  কোন প্রোডাক্টে কেমন ছাড় দিচ্ছেন এবং সেগুলির আপনার স্টকে কি পরিমান আছে তাদের বলুন। 

কাস্টমার আপনার শপ হতে কেনাকাটার জন্য পরিকল্পনা করার সুযোগ পাবে। মনে রাখবেন, আপনি কাস্টমারকে গুরুত্ব দিলে তারাও আপনাকে গুরুত্ব দিবে।   

বিশেষ দিনে দৃষ্টি নন্দন সব ব্যানার বা পোস্টার  সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে একটা উৎসব মুখর আমেজ তৈরি করলে কাস্টমার আনুপ্রানিত হয় কেনাকাটায়। 

 

 

ডিসকাউন্ট, অফার এবং কুপন কার্ড ব্যবহারে কৌশলী হন

আপনার অনলাইন শপ হতে কাস্টমার একবার কেনাকাটা করলে তাদের পরবর্তী কেনার জন্য ডিসকাউন্ট, অফার বা কুপন উপহার হিসেবে দিন। 

সব প্রোডাক্টের জন্য গড়ে ছাড় না দিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন প্রোডাক্টের উপর ছাড় চালিয়ে যেতে থাকুন।

এতে কাস্টমারকে সারাবছর ধরে আপনার অনলাইন শপে মূল্য ছাড়ের সুযোগ পাবে, আর মূল্য ছাড় কাস্টমারদের বেশি বেশি কেনাকাটা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে অব্যর্থ কৌশল।

কাস্টমার লয়ালটি প্রোগ্রাম চালু করুন

কাস্টমার লয়ালিটি প্রোগ্রাম হলো, ধরুন আপনি আগোরা সুপার শপ থেকে নিয়মিত বাজার করেন। একদিন খেয়াল করলেন তারা অফার দিয়েছে যারা আগোরা সুপার শপ থেকে নিয়মিত বাজার করে শুধু তারা প্রতিটি প্রোডাক্টে ৫% ডিস্কাউন্ট সুবিধা পাবে। 

ব্যাপারটা দারুণ না। কাস্টমার সেই মুহূর্তে নিজেকে গুরুত্তপূর্ণ মনে করবে। 

কাস্টমারদের ক্রমাগত মূল্যায়ন ও প্রাধান্য দেবার মাধ্যমে বার বার কেনাকাটা করতে ও ভবিষ্যতের কেনাকাটায় উৎসাহিত করে আপনার রেগুলার কাস্টমারে পরিনিত করতে লয়ালটি প্রোগ্রাম দারুণ কৌশল।  

কাস্টমার লয়ালিটি প্রোগ্রাম কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট ও কনভার্সনে এতটাই শক্তিশালী ভুমিকা পালন করে, যে অনেক সময় কাস্টমারদের প্রয়োজন না থাকলেও কেনাকাটায় করে। 

কিছু কাস্টমার অন্যদেরকে তাঁর পাওয়া সুবিধা উপভোগ করতে আমন্ত্রন জানায়। এতে করে আপনার বিজনেসে সেল বেড়ে যায়।

2016 Bond Loyalty Report  অনুযায়ী দেখা যায়, কাস্টমার লয়ালটি প্রোগ্রামটি হতে সুবিধা উপভোগকারী প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কাস্টমার নতুন গ্রাহকদের সেই শপ হতে কেনাকাটা করতে  সুপারিশ করেছে। 

আরও পড়ুনঃ

অনলাইন স্টোরের সেলস বাড়াতে ৩৮ টি আকর্ষণীয় ‘অফার’ আইডিয়া

Retargeting ও Remarketing, সুপার গ্লু মার্কেটিং কৌশল

ফেসবুক পিক্সেল বা গুগল অ্যাডের মাধ্যমে আপনার অনলাইন শপে আসা কাস্টমারদের টার্গেট করে  retargeting ও remarketing অ্যাড দিন।

খেয়াল করে দেখবেন ফেইসবুকে কিংবা গুগলে আপনি একটি এড দেখার পর সেখানে ক্লিক করেছেন এর পরে আপনি যখনই গুগল কিংবা ফেসবুকে সময় কাটাচ্ছেন সেই অ্যাডটি বারবার আপনার সামনে আসবে। 

ফেসবুক ও গুগল স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনাকে এই অ্যাড গুলো দেখিয়ে থাকে। এতে ব্র্যান্ডটির এক্সপোজার বাড়ে এবং কাস্টমার আপনার অনলাইন শপটিকে.ভুলে যায় না। 

নতুন প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন

আপনার অনলাইন শপে নতুন প্রোডাক্ট আসলে সেটি কাস্টমারকে জানানোর জন্য রিচ এনগেজমেন্ট ক্যাম্পেইন চালু করুন।  প্রথমেই তাদের সেই প্রোডাক্ট গুলো কিনতে বলবেন না।  তাদের প্রয়োজন চাহিদা তৈরি হবার জন্য সময় দিন। 

কাস্টমারদের এসএমএস ও ইমেল  করে প্রোডাক্ট গুলো সম্পর্কে জানান। আপনি বিজনেসে নতুন কি করছে সেটি কাস্টমার না জানলে কিনবে কীভাবে।

কাস্টমারদের কেনাকাটার আচরণ পর্যবেক্ষণ করে অফার দিন

কাস্টমার আপনার শপ হতে যে প্রোডাক্টগুলি বেশি পরিমানে কেনাকাটা করছে  সে গুলোকে বেশি বেশি প্রমোট করুন। 

একটি প্রোডাক্ট বেশি বেশি কিনছে মানে সেটির চাহিদা বেশি। অফার পেলে তারা সেই প্রোডাক্টটি বেশি পরিমানে সংগ্রহে রাখতে চাইবে।  

সৃষ্টিশীল অ্যাডের বিকল্প নেই

সবসময় অফার বা ডিসকাউন্ট দেবার মাধ্যমে কাস্টমারদের লয়াল বানাতে হবে  এমন ধারনার বাইরে এসে সৃষ্টিশীল ও দারুণ সব অ্যাডের মাধ্যমে কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণ করুন। 

এমন ধরনের গ্রাফিক তৈরি করুন যা নিঃশব্দে কাস্টমারদের সাথে কথা বলে বা ভিডিও দেখার পরে তার মস্তিস্কে অনুরন হয়।তারা যেন আপনাকে সবার থেকে আলাদা করতে পারে।

দেখুনঃ Most Nostalgic Bangladeshi TVC (TV Commercial) or Advertisement

কাস্টমারের কাছে প্রোডাক্ট সেল করেই কাজ শেষ নয় 

কাস্টমারের কাছে প্রোডাক্ট সেল করার পরেই আসল কাজ শুরু। 

নতুন প্রোডাক্ট,আকর্ষণীয় মূল্য ও বিভিন্ন ছাড় প্রদানের মাধ্যমে আপনার অনলাইন শপের প্রতি তাদের আকৃষ্ট করা, আস্থা অর্জন ও সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত করতে ক্রমাগত নতুন নতুন কৌশল খুজতে হবে। 

কাস্টমারের চাহিদার প্রতি খেয়াল রাখলে ও তাদের সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হলে তাদের পুনরায় কেনাকাটায় প্রভাবিত করা সহজ। 

সুপরিকল্পিত পদ্ধতি আপনাকে এক্ষেত্রে সাহায্য করবে এবং অনলাইন সেলে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিবে।

নতুন কাস্টমারদের কেনাকাটায় উৎসাহিত করতে মার্কেটিং ক্যাম্পেইনগুলি চালানোর কৌশল নির্ধারণ বিজনেসের সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

জানতে হবে আপনার কাস্টমার আপনার বিজনেস থেকে কি আশা করে। তাদের আকাঙ্খা পুরন করতে হবে।  

লয়াল কাস্টমারদের জন্য আলাদা মূল্য নির্ধারণ করুন

লয়াল কাস্টমার তারাই যারা আপনার সবথেকে  কেনাকাটা করতে বার বার ফিরে আসে।  তাদের জন্য আপনি স্পেশাল মূল্য নির্ধারণ করুন।  আপনার বিজনেসের  রেগুলার সেল তাদের কাছ থেকেই আসে। 

স্পেশাল মূল্যে কেনা কাটা করতে পারলে সে নতুন কোন জায়গায় ফিরে যেতে চাইবে না, কারণ সেখানে সে মূল্য কম পাবে না। 

ধরুন, আপনার  প্রোডাক্টের ভ্যারিয়েশন অনেক বেশি। একজন কাস্টোমার সব ভেরিয়েশনের প্রোডাক্ট একসাথে কেনে না। কোন প্রোডাক্ট সে পরবর্তীতে কিনবে সে বিষয়ে সঠিক অনুমান করা যথেষ্ট কষ্টকর।

এমন অবস্থায় আপনি প্রথম কেনাকাটার পরে দ্বিতীয় কেনাকাটায় একটি সহনশীল পর্যায়ে ডিসকাউন্ট প্রদান করুন এবং বলুন পরবর্তী কেনাকাটায় যে কোন প্রোডাক্ট কিনলে নির্ধারিত মূল্য ছাড় পাবে। 

এভাবে দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ প্রতিটি কেনাকাটায়  কি হলো তার করার ব্যবস্থা করে দিন।  ই-কমার্স বিজনেস এর মূল্য অনেক বড় একটি ব্যাপার। 

সাথে যারা নিয়মিত কেনাকাটা করে এবং যারা অনিয়মিত কেনাকাটা করে তাদের উভয়ের জন্য একটি দ্বৈত মূল্য নীতি চালু করতে পারেন।  কাস্টমার তথা মানুষ নিজেকে সবার থেকে আলাদা ভাবে দেখতে চায়। 

কাস্টমার আপনার বিজনেসের প্রতি লয়াল থাকার কারণ তৈরি করে দিন

নিউরো সায়েন্টিস্টদের সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে আসে একজন কাস্টোমার যখন তার পছন্দের প্রোডাক্ট কি নিয়ে চিন্তা করে তখন তার মস্তিষ্কের সেই অংশগুলো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে যেগুলো কোন ব্যক্তি যখন তার সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে চিন্তা করে তখন উজ্জ্বল হয়ে  উঠতো।

কাস্টমার একবার যদি আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কে শ্রেষ্ঠ বলে গ্রহণ করে  সে ব্র্যান্ডটির প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ে যে সেই ব্র্যান্ড তার চিন্তায় সবার উপরে স্থান পায়। 

যেমনটি শুরুতে বলেছি, সেই কাস্টমারটি ভাবতে পারেনি অর্ডার প্লেস ও ডেলিভারি পাবার মধ্যবর্তী সময়ে সেই প্রোডাক্টের মূল্য কমেছে, কিন্তু অ্যামাজন বর্ধিত মূল্য ফেরত দিয়ে প্রমান করেছে তারা বিজনেসে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

আর এখানে সেই ফেরত পাওয়া ১৪ টাকা কাস্টমারটির  অ্যামাজনের প্রতি লয়াল হবার কারণ। 

পরিশেষে

অনিয়মিত কাস্টমার কেয়ার কাস্টমার বানাতে হলে অনেক টাকা পয়সা খরচ করতে  হয় এমন ধারণা সঠিক নয়। 

অ্যামাজন তার সেই কাস্টমার কে লয়াল কাস্টমার বানাতে মাত্র ১৪ টাকা খরচ করেছিল কিন্তু এই ১৪ টাকার মধ্যে ছিল সততা এবং স্বচ্ছতা।

একজন কাস্টমার কেন লয়াল হয়? কারণ আপনার বিজনেস তার কেনাকাটায়  আর্থিক ও  গুণগত মানের নিরাপত্তা প্রদান করে।  

কাস্টমার লয়ালিটি এমন একটি বিষয় যেখানে একটি ব্র্যান্ড যদি কোন কারণে তার কাস্টমারকে হতাশ  করে  তবে কাস্টমার তাকে ছুড়ে ফেলে দেয় না। 

এমন অবস্থায় কাস্টমার  সেই ব্র্যান্ডটিকে দ্বিতীয় সুযোগট দেয় এবং সেই সুযোগে  বিজনেসটি যদি তার সক্ষমতা ও যথার্থতা প্রমাণ করতে পারে, তবে কাস্টমার সেই হতাশাজনক অভিজ্ঞতাকে ভুলে যায়।

কৌশলগত বিষয়ের বাইরেও আপনাকে কোর সার্ভিস  ভ্যালু গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।  

কোন  প্রডাক্ট বাস সার্ভিস উপভোগ করার পরে কাস্টমারদের অভিব্যক্তি যদি এমন হয় যে তারা  অসাধারণ দারুণ চমৎকার নিরাপদ  এই শব্দগুলো আপনার সার্ভিসকে বর্ণনা করতে ব্যবহার করে তবে অন্যান্য কাস্টমার সেই প্রোডাক্ট বাস সার্ভিস কেনার প্রতি আগ্রহী হয়।

লয়াল কাস্টমার শ্রেণীর মাত্র ২০ শতাংশ বিজনেসের জন্য সর্বোচ্চ লাভজনক ভূমিকা রাখে, কিন্তু তাদের দ্বারা আরো অসংখ্য একই ধরনের কাস্টমার তৈরি হয় যা  বিজনেসের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যে সহায়ক। 

কাস্টমারদের আস্থা অর্জন করা খুবই শক্ত একটি বিষয়। কাস্টমারদের প্রতিদিনের কেনাকাটায় খুব সাধারণ বিষয় গুলির প্রতি খেয়াল করুন, সেই সাধারণ বিষয়গুলোর অনন্য ও অসাধারণ করে তুলে কাস্টমারদের আস্থা অর্জন করুন, তাদের খুশি করুন।

আপনার বিজনেসে কি ধরনের লয়ালটি প্রোগ্রাম রয়েছে? এ নিয়ে আপনার অনন্য অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করুন আমাদের সাথে। 

১১টি অজানা ফেসবুক অ্যাড টুলস

১১টি অজানা ফেসবুক অ্যাড টুলস

সারাবিশ্বের লাখো ব্যবসায়ী বিজনেসের প্রমোশনে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাড টুলস ব্যবহার করেন। ফেসবুকে এ পর্যন্ত ৯০ মিলিয়ন বিজনেস পেজ তৈরী হয়েছে ।  

বিজ্ঞাপন তৈরি, অপ্টিমাইজড এবং বিশ্লেষণ করতে প্রচুর থার্ড পার্টি ফেসবুক অ্যাড টুলস এবং প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।

তাদের বেশিরভাগই বিজ্ঞাপন তৈরি ও প্রচারের প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে চেষ্টা করেছেন।

ফেসবুক বিজ্ঞাপনের জন্য থার্ড পার্টি সফ্টওয়্যারের ব্যবহার ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজারের ফান্ডামেন্টালগুলি বুঝতে অসুবিধা তৈরি করে, যা ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য ক্ষতিকর। 

আমরা থার্ড পার্টি টুলসগুলো ব্যবহারে আপনাকে নিরুৎসাহিত করছি না।

যদি সেই টুলসগুলো  আপনার ব্যবসায়ের লক্ষ্য অর্জনের জন্য দরকারী প্রমানিত হয়, তবে সেগুলি ব্যবহার করুন। 

তবে সত্যিকারের এক্সপার্ট হবার জন্য ফেসবুক প্ল্যাটফর্মটির প্রতিটি ফিচার সম্পর্কে জানতে হবে।

ফেসবুকের নিজস্ব কিছু দারুণ অ্যাড টুলস রয়েছে, যা সঠিক অ্যাড ক্যাম্পেইন ডিজাইন করতে ও ফেসবুক অ্যাডের পারফর্মেন্সকে বাড়িয়ে তুলতে ভুমিকা রাখে। 

মজার বিষয় হলো, ফেসবুক বিজনেস উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অনেক বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানও ফেসবুকের এই অ্যাপ্লিকেশনগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে  জানেন না। 

আমরা এই নিবন্ধটি দিয়ে আপনাদের সেই তথ্যের অভাব পূরণ করার চেষ্টা করেছি। 

যে সকল ফেসবুক অ্যাড টুলস বিজ্ঞাপন পরিচালনায় সহজ করে, কিন্তু আপনি আগে সে সম্পর্কে জানতেন না। 

আরও পড়ুনঃ

অনলাইন বিজনেসের জন্য ভিডিও এডিটিং করার ৮ টি সেরা মোবাইল অ্যাপ

১। ফেসবুক পিক্সেল

ফেসবুক অ্যাডের জন্য ফেসবুক পিক্সেল ইনস্টল করে রাখা আবশ্যক। 

আপনার ওয়েবসাইটে একবার এটি ইনস্টল হয়ে গেলে, আপনার পিক্সেলটি কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি, অপ্টিমাইজড এবং পরিমাপ করার পাশাপাশি ডায়ানামিক অ্যাডগুলো তৈরি এবং অটোমেট করার জন্য ব্যবহৃত করা যায়। 

পিক্সেলের সাহায্যে ফেসবুক অডিয়েন্সদের এঙ্গেজ হবার ধরনের উপর ভিক্তি করে তাদের বার বার ওয়েবসাইটে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারেন। 

আপনার কাস্টমার যারা প্রোডাক্ট বা সার্ভিসগুলি অফলাইন এবং অনলাইনে কিনছে, তাদের আরো বেশি কেনায় উৎসাহিত করতে পিক্সেল কাস্টমারদের গুরুত্বপূর্ণ  ডেটা ট্র্যাকিং করে।  

যা দ্বারা সঠিক অডিয়েন্স টার্গেট করে বিজনেসের জন্য আদর্শ কাস্টমারদের খুঁজে বের করা যায়। পেজের অডিয়েন্সদের ডেটা ১০০% নির্ভুলতার সাথে  পিক্সেল দিয়ে ট্র্যাক করা সম্ভব। 

২। ফেসবুক অ্যানালিটিক্স মোবাইল অ্যাপ

  • iOS
  • Android

ফেসবুক অ্যানালিটিক্স মোবাইল অ্যাপ ডেস্কটপ সংস্করণের একটি সুবিধাজনক মোবাইল ভার্সন।

অ্যাপ্লিকেশনটি বিজনেস পেজের প্রয়োজনীয় সকল নোটিফিকেশন দেয় যাতে আপনি অপ্রত্যাশিত ভুলগুলো থেকে রক্ষা পেতে পারেন। 

এটি ফেসবুক অ্যাড পরিচালনার রিপোর্টগুলোর নোটিফিকেশন। পাশাপাশি অ্যাপস, ওয়েবসাইট এবং ইভেন্টগুলো তৈরি ও এগুলোর নোটিফিকেশন এই টুলস দেয়।   

আপনার বিজনেসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগুলো ও অন্যান্য মেট্রিক্স দেখার সুযোগ রয়েছে, যাতে আপনি ভ্রমণকালীন সময়েও বিজনেসের বিষয়ে আপডেট থাকতে পারেন।

৩। ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজার মোবাইল অ্যাপ

এই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি স্ট্যান্ডার্ড অ্যাড ম্যানেজারের একটি মোবাইল সংস্করণ।

অ্যাপ্লিকেশনটি আপনার বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতা গভীর-বিশ্লেষণ এবং রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এর দ্বারা আপনার অ্যাডগুলো অপ্টিমাইজড, এডিট এবং বন্ধ করাও যায়। 

অডিয়েন্স বাবস্থাপনা, অ্যাড পরিচালনা, অ্যাড ইমেজ তৈরি, স্টিকার এবং টেম্পলেট তৈরি এবং পোস্ট করা সহ আরও অনেক কাজ এটি দিয়ে করা যায়। 

৪। ফেসবুক পেজ ম্যানেজার অ্যাপ

ফেসবুক পেজ ম্যানেজার মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন আপনাকে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের সাহায্যে ৫০ টি পেজ একসাথে ম্যানেজ করা যায়। 

বারবার ফেসবুক ওয়েবে যেয়ে পেজের আপডেট জানার ঝামেলা থেকে বাঁচা যায়।

অ্যাপ্লিকেশনটি আপনাকে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টগুলো লিঙ্ক করতে দেয়, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের কমেন্টগুলোর উত্তর দেয়া, পড়া ও মেসেজ প্রেরণ করার সুবিধা দেয়। 

পেজের পরিসংখ্যান দেখতে, পেজের কার্যক্রম ট্র্যাক করতে, পুশ নোটিফিকেশন পেতে সাহায্য করে। এর দ্বারা স্টিল এবং ভিডিও অ্যাড তৈরি করার সুবিধাও রয়েছে।

৫। ক্রিয়েটিভ হাব

ক্রিয়েটিভ হাব একটি দরকারী ফেসবুক বিজ্ঞাপন অপ্টিমাইজেশন টুলস যা আপনার বিজ্ঞাপন তৈরির দক্ষতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। 

প্রথমত, টুলসটিতে অ্যাড তৈরি প্রক্রিয়া বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

আপনি যে ধরনের অ্যাড ফরম্যাটগুলোর জন্য অ্যাড ক্রিয়েটিভ তৈরি করতে পারবেন, সেগুলি হচ্ছে

Facebook: Carousel, Collection, Slideshow, 360 Video, Instant Experience, Single Video, Single Image

Instagram: Stories, Stories Carousel, Carousel, Single Video, Single Image

এটি ব্যবহার করে অ্যাড তৈরির প্রক্রিয়া অনলাইন গেম খেলার মতো সহজ। ক্রিয়েটিভ হাব আপনাকে অ্যাড তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কাজ করার সুবিধা দেয়।

 

বিজনেসের জন্য একটি চমৎকার অ্যাড ক্রিয়েটিভ তৈরি করতে আপনাকে কারো উপর নির্ভর করতে হয় না। ঘরে বসে নিজেই প্রফেশনাল মানের অ্যাড  ক্রিয়েটিভ তৈরি করে ফেলতে পারবেন এই টুলস দিয়ে।

চাইলে অ্যাড ক্রিয়েটিভ সেভ করতে পারবেন, পর্যালোচনার জন্য অন্যের সাথে শেয়ার করতে পারবেন।

এমনকি তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট না থাকলেও এটি অ্যাড ম্যানেজারে ইমপোর্ট করা সম্ভব।

টুলসটিতে প্রতিটি অ্যাড ফরম্যাটের জন্য মেজারমেন্টগুলো যেমনঃ সাজেসটেড সাইজ, দিক ও অনুপাত এবং দৈর্ঘ্য (ভিডিওর জন্য) নির্ধারণ করা থাকে।

তাই প্ল্যাটফরমগুলোতে অ্যাড কন্টেন্টগুলোর পাবলিশ করতে aspect ratio নিয়ে আপনাকে অসুবিধায় পড়তে হয় না।

আপনার অ্যাড পারফর্ম করার জন্য ১০০% রেডি কিনা তা নিশ্চিত হতে এই ভিডিও টেস্টিং টুলস দেয়া আছে। 

আর আপনার নিজের মকআপগুলি তৈরি করার কোনও আইডিয়া না থাকলে, গেট ইন্সপাইয়ারড ট্যাবে ক্লিক করুন।  বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন টেম্পলেট থেকে আপনার পছন্দেরটি বেছে নিন। 

এখানে সবগুলো ফরম্যাট ব্যবহার করে অ্যাড তৈরির উদাহরণ রয়েছে, যা আপনাকে দ্রুততম সময়ে অ্যাড ক্রিয়েটিভ তৈরি করতে সহায়তা করবে।

৬। মোবাইল স্টুডিও

ফেসবুক মোবাইল অ্যাড কীভাবে তৈরি করা যায় তা শেখার জন্য ফেসবুক মোবাইল স্টুডিও সেরা জায়গা।

লোগো যুক্ত করতে, টেক্সট আনিমেট করতে, অ্যানিমেটেড কন্টেন্ট তৈরি করতে এবং অন্যান্য ডিজাইনের কাজগুলি করতে এখন আপনার স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে করতে পারবেন।  

মোবাইল স্টুডিও অ্যাপে, মোবাইল বিজ্ঞাপনের জন্য বেষ্ট প্র্যাকটিসগুলো দেয়া আছে। 

৭। অডিয়েন্স ইন্সাইট

অডিয়েন্স ইন্সাইট ফেসবুক পেজ দিয়ে বিজনেস পরিচালনায় অডিয়েন্স সংক্রান্ত সব রকম তথ্য সরবরাহ করে।

যা ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপন প্রচারে অ্যাড ম্যানেজার দ্বারা অডিয়েন্স টার্গেটিং করার জন্য দারুণ সহায়ক। 

আপনার পেজে কি ধরনের অডিয়েন্স রয়েছে এবং ফেসবুকে টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপের বিবরণ গুলো কেমন জানার মাধ্যমে  সম্ভব্য কাস্টমারদের খুঁজে এই টুলস ব্যবহার করা হয়।

তাই কে আপনার টার্গেট কাস্টমার হতে পারে সেটি নিজেই জানুন আর কাদের কাছে আপনার অ্যাডটি দেখাতে চান সেটি নির্ধারণ করুন।   

এই ইউজার ফ্রেন্ডলি টুলস দিয়ে অডিয়েন্সদের টেম্পলেট হিসাবে সেভ করে পরবর্তীতে ব্যবহার করা যায়। 

অডিয়েন্স ইন্সাইট ফেসবুক ইউজারদের বয়স, অবস্থান, লিঙ্গ, রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস, পেজ লাইক, ডিভাইস, শিক্ষা, আগ্রহ, চাকরি, রাজনৈতিক মতামত এবং আরও অনেক ধরনের তথ্য দেখায়।

যা কাস্টমারদের সম্পর্কে পরিস্কার প্রদান করে আপনাকে উপযুক্ত কাস্টমার পেতে এগিয়ে রাখে। 

 

 

৮। ইনসাইটস টু গো 

“ইনসাইটস টু গো” ফ্রি টুলস। এটি ফেসবুকের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগত ডেটাগুলি ভিজ্যুয়ালাইজ করে উপস্থাপন করে।

ইনসাইটস টু গো দিয়ে কাজ শুরু করতে আগে ফিল্টারগুলি চয়ন করুন:

অঞ্চলঃ গ্লোবাল, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্য প্রাচ্য এবং আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়া প্যাসিফিক

শিল্পঃ মোটরগাড়ি, বি টু বি, সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য, পানীয়, প্যাকেজজাত পণ্য, ই-বাণিজ্য, শিক্ষা, বিনোদন এবং মিডিয়া, আর্থিক পরিষেবা, খাদ্য, গেমিং, বিলাস, রেস্তোঁরা, খুচরা, প্রযুক্তি ও সংযোগ, ভ্রমণ

মানুষঃ সম্প্রদায়, শ্রোতা, জীবনধারা, মাইলফলক

মুহুর্তগুলিঃ সময়কাল ও ছুটি, বিনোদন, খেলাধুলা

প্রচারণাঃ সৃজনশীলতা, পরিমাপ, ডেটার ধরণ

প্ল্যাটফর্মগুলিঃ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ম্যাসেঞ্জার, অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক, চ্যানেল (মোবাইল, ইন-স্টোর, অ্যাপস, মেসেজ, টেলিভিশন, ভিডিও)

এই মানদণ্ডগুলো বেছে নেবার পরে আরও তথ্যের জন্য ডিটেইলসে ক্লিক করুন:

ইনসাইটস টু গো তথ্যগুলো বিপণনকারীদের সহকর্মী, ক্লায়েন্ট এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সাথে শেয়ার করতে স্লাইড আকারে যে কোনও কার্ড ডাউনলোড করার সুবিধা দেয়। 

আপনি যদি নিচের দিকে স্ক্রোল করেন, তবে আপনার কার্ড সম্পর্কিত আরও পরিসংখ্যান এবং আর্টিকেল দেখতে পাবেন।

লক্ষ্য করুন, ফেসবুকের অডিয়েন্সদের আচরনের তথ্য এখানে দেখানো হয়েছে।

আপনি আপনার পছন্দমতো উপরে দেয়া ফিল্টারগুলোর সাপেক্ষে ফেসবুক আডিয়েন্সদের আচরণের তথ্য পাবেন।

যা নতুন বিজনেস কৌশল তৈরি , বাজেট পরিকল্পনা, অডিয়েন্সদের বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞাপনের মান উন্নত করার জন্য সহায়ক হবে।

অন্যান্য সংস্থার সাফল্যের গল্পগুলি আপনাকে বিজনেসের অনুপ্রেরনা যোগাবে।  

৯। সাকসেস স্টোরি

ফেসবুকের সাকসেস স্টোরিতে ফেসবুক নির্ভর কোম্পানিগুলো  বিজনেসে সফলতা  নিয়ে আসতে কিভাবে সক্ষম হয়েছিল, সে বিষয়ে নিজস্ব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। 

ছোট অথবা বড় যে ধরনের প্রতিষ্ঠান হোক, প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাকসেস স্টোরিগুলো এখানে পাবেন।

আপনার বিজনেসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সাকসেস স্টোরিগুলো খুঁজে পেতে আছে ফিল্টারিং অপশন সুবিধা। 

যেমনঃ বিজনেসের আকার, অবজেক্টিভ,  প্রোডাক্ট, রিজিওন, ইন্ডাস্ট্রি ইত্যাদি

প্রতিটি সাফল্যের গল্পে বিজনেসের জন্য ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করতে কি ধরনের পদক্ষেপ একটি প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করেছিলো সে সম্পর্কে আপনাকে ধারণা দেয়। 

যা আপনাকে বিজনেসে একই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সচেতন রাখে।

কেস স্টাডিতে উল্লেখ থাকে, বিজনেসের লক্ষ্য অর্জনে কোন ধরনের অ্যাড ফরম্যাটগুলো তারা ফেসবুক অ্যাডের জন্য ব্যবহার করেছিল।  

ফেসবুক অ্যাড পরিচালনায় কি ধরনের অ্যাড কেম্পাইন আপনি তৈরি করবেন সে সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সমাধান জানতে হলে, কেস স্টাডিগুলো সময় নিয়ে পড়ুন।   

ফেসবুক আপনার বিজনেসের  সাথে রিলেটেড আরো অনেক ধরনের কেস স্টাডি রিকমেন্ডেড করে। যা একটি বিজনেস পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার ধারনা প্রদান করে।

সাকসেস স্টোরি থেকে খুঁজে পাবেন আপনার বিজনেসের জন্য উপযুক্ত বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্পগুলো।  সেই অভিজ্ঞতার আলোকে উৎসাহিত হয়ে, শিক্ষা নিয়ে বিজনেস পরিচালনা অনেকটা সহজ হয়।  

১০। ক্রসবর্ডার ইনসাইট ফাইন্ডার

এই সফটওয়্যারটি আপনার বিজনেস ফলাফলগুলো আরও অধিক পরিমানে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

নতুন নতুন মার্কেট অপারচুনিটি খুঁজে বের করার জন্য ক্রসবর্ডার ইন্সাইট ফাইন্ডার কোম্পানিগুলোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি টুলস। 

বর্তমান এবং পোটেনশিয়াল মার্কেটের সাথে তুলনামূলক পার্থক্য ও সমসাময়িক সময়ে কোন মার্কেটটি  বিজনেসের জন্য উপযুক্ত?  এই টুলস দ্বারা তা বুঝতে পারবেন।

যারা দেশের বাইরে বিজনেস করেন তারা এই টুলস ব্যবহার করে সেই দেশের একটি বিজনেসের বাজার সম্পর্কে আইডিয়া পেয়ে যাবেন ঘরে বসে মুহূর্তেই।    

এই টুলস তার নামের যথার্থতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এটি আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন দেশের জন্য অ্যাড পরিচালনায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং অডিয়েন্স ইন্সাইটস প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যকারিতা ও সফলতার তুলনামূলক পার্থক্য তুলে ধরে।

একটি দেশকে বেছে নেবার পরে, এই টুলস গ্লোবাল রেটিং  সাপেক্ষে  সেই দেশের তিনটি অবস্থান তুলে ধরে। 

  1. ব্যবহারকারীরা কত সহজে সেই দেশে কনভার্ট হয় 
  2. সেই দেশে বিজ্ঞাপন দেওয়া কত ব্যয়বহুল।
  3. কত ফ্রিকোয়েন্টলি সেই দেশের  মানুষেরা বিজ্ঞাপন দেখে 

তারপরে আপনার ইন্ডাস্ট্রি নির্বাচন করুনঃ

এবং বিজ্ঞাপনের চারটি অবজেক্টিভের মধ্যে একটি প্রথম করুনঃ রূপান্তর, ট্র্যাফিক, অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল, বা ভিডিও  ভিউ।

এরপরে ফাইন্ড অপারচুনিটি বাটনে ক্লিক করলে এনালাইজার কাঙ্খিত রিপোর্টগুলো  প্রদর্শন করবে।

বিশ্লেষণটি করা হয় সর্বোচ্চ রিচ, সর্বোচ্চ কনভার্সন, সর্বনিম্ন ব্যয় এবং সর্বনিম্ন প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে।

বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা ফলাফল পেতে আপনি দুটি বিকল্পের সুবিধাও নিতে পারেন: ১। ভৌগলিক  ২।  অর্থনৈতিক

বিশ্লেষণ করার পরে আপনার কাছে দুটি অপশন আসে,  যে অবজেক্টিভ আপনি বেছে নিয়েছেন সে গুলির উপর ভিক্তি করে অ্যাড ম্যানেজার আপনি এড ক্যাম্পেইন তৈরি করতে পারবেন । 

অথবা, দ্বিতীয়টি হচ্ছে আরো বেশি গবেষণার জন্য তথ্যের গভীরে যেতে পারবেন। 

কনভার্শন, ব্যয় এবং প্রতিযোগিতার তথ্য আরও বিস্তারিত চার্ট আকারে আপনি দেখতে পারবেন। 

গবেষণা কাজ শেষ করার পরে এই পেজ থেকে সরাসরি আপনি একটি এড ক্যাম্পেইন রান করার জন্য অ্যাড ম্যানেজারে  যেতে পারেন। 

১১। অ্যাড লাইব্রেরী

আপনি কি আপনার প্রতিযোগীদের অ্যাড ক্যাম্পেইনগুলো মনিটর করেন?

যদি না করে থাকেন, তবে এই টুলস আপনাকে প্রতিযোগীদের ড ক্যাম্পেইনগুলো মনিটর করার সুবিধা প্রদান করে। 

অ্যাডের সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে, মার্ক জুকারবার্গের টিম ফেসবুকের সমস্ত বিজ্ঞাপনদাতাদের  অ্যাড সম্পর্কিত তথ্যগুলো দেখানোর জন্য এই অনলাইন ডেটাবেজটি তৈরি করেছে।

পলিটিক্যাল ও ন্যাশনাল ইস্যুগুলোর জন্য পরিচালিত অ্যাডের সত্যতা, স্বচ্ছতা ও অরিজিন হাইলাইট করার জন্যই এই টুলসটি তৈরি করা।

যদি জানতে চান একটি প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপনগুলির জন্য কত ব্যয় করেছে তবে আপনি অ্যাড লাইব্রেরি রিপোর্ট ভিজিট করুন এবং দেখুন তাদের ওয়েবসাইটগুলোর মোট ও সাপ্তাহিক ব্যয়। 

চাইলে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি .csv ফরম্যাটে ডাউনলোড করতে পারবেন। 

পরিশেষে

ফেসবুক মার্কেটিং পরিচালনায় একটি বিজনেস পেজের জন্য এই টুলসগুলো অসাধারণ আবিষ্কার।

বিজনেসের পরিসংখ্যান সংক্রান্ত তথ্যের জন্য এনালাইটিক,  সৃষ্টিশীল অ্যাড তৈরি করতে ক্রিয়েটিভ হাব,  বিজনেস মোটিভেশন পেতে সাকসেস স্টোরি ও অ্যাড লাইব্রেরী এবং অ্যাডের পারফরম্যান্স বাড়িয়ে তুলতে রয়েছে ইন্সাইট টুলস। 

এই সবগুলো টুলস একটি বিজনেসকে রকেটের গতিতে সফলতার শীর্ষে পৌঁছে দিতে এবং  প্রতিযোগীদের পরাস্ত করতে দুর্দান্ত রকম ভাবে কার্যকরী। 

ফেইসবুক জানে কিভাবে তাদের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে একটি বিজনেসকে  সফল করা যায় এবং সেভাবেই তারা প্রয়োজনীয় টুলস এবং টেকনোলজি ডিজাইন করেছে।  

তাই ফেসবুককে বুঝতে তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যার নয়,  নির্ভর করুন ফেইসবুকের বিশ্বস্ত টুলসগুলো ওপর। 

যা আপনাকে বিজনেস পরিচালনায় নির্ভুল দিকনির্দেশনা প্রদান করতে  প্রমাণিত। 

আপনার ফেসবুক বিজনেস পরিচালনায় অকার্যকর টুলস ও টেকনোলোজি ব্যবহার করছেন না তো? 

কোন ধরনের থার্ড পার্টি টুলসগুলো ব্যবহার করে আপনি বিজনেসের অ্যাড ক্যাম্পেইন তৈরি করে থাকেন এবং কেন সেই টুলসগুলো আপনার জন্য আদর্শ মনে করেন। জানিয়ে কমেন্ট করুন। 

ফেসবুক বিজনেসে সফল হতে আপনাকে কী কী করতে হবে?

ফেসবুক বিজনেসে সফল হতে আপনাকে কী কী করতে হবে?

ফেসবুক বিজনেসে সফল হতে হলে কি করবেন? এই প্রশ্নের সমাধান এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেসবুক এর অ্যালগরিদমে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া  মার্কেটিং পরিচালনাকারীদের জন্য এই পরিবর্তনগুলো এখন মাথাব্যথার কারণ। 

২০১৮ সালের দিকে ফেসবুক তার অ্যালগোরিদমে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল  যে আপনারা  অনেকেই  জানেন। 

এই পরিবর্তনে  গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হলো ফেসবুক নিউজফিডে কোন পোস্টগুলি অগ্রাধিকার পাবে এবং এর ক্রমানুসার কি হবে? 

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে যখন মার্ক জুকারবার্গ ঘোষণা করেন, ফেসবুকে পরিচিত বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়, পরিবার এবং গ্রুপ থেকে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বেশি পরিমাণে পাওয়া উচিত।  

এবং বিজনেস, ব্র্যান্ড এবং মিডিয়া পেজগুলো থেকে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে কম যাওয়া উচিত।

পক্ষপাত দুষ্ট এবং ভুয়া খবর যেন কম ছড়ায় সে জন্যই ফেসবুক ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত পোস্টগুলির ওপর বেশি গুরুত্ব দেবার পরিকল্পনা করেন। 

একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেন নিউজ প্রকাশ করে সুবিধা করতে না পারে তাই তাদের নিরুৎসাহিত করতে এই পরিবর্তন।। 

এ পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ব্যবহারকারী যে সংবাদ বা তথ্যগুলো বেশি পছন্দ করবে ফেসবুক তাকে সেই ভালো নেই সংবাদগুলো  দেখাবে। 

এ পরিবর্তন নিয়ে আসায় ফেসবুকের অর্গানিক রিচের পরিমান বহুলাংশে কমে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ এবং ২০২০ সালে ফেসবুক তাদের কমিউনিটি পলিসিতে ক্রমাগত আরো পরিবর্তন করতে থাকেন। 

এতে করে ফেসবুকের মাধ্যমে  বিজনেস করা  ইতিপূর্বে যতটা সহজ ছিল বর্তমান তা কঠিন হয়ে পড়ে।  

তাহলে ফেসবুক দ্বারা বিজনেস পরিচালনায় সফলতা পাবেন কীভাবে?  

ফেসবুকের অর্গানিক রিচকে  ধরে রাখতে হবে 

 

ফেসবুক পেজের অর্গানিক রিচকে  বাড়িয়ে তুলতে হলে আপনাকে জানতে হবে ফেসবুক নিউজফিডে কীভাবে পোস্ট অগ্রাধিকার পায়।

নিউজফিড নিয়ে ফেসবুক অ্যালগরিদমের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি আসে ২০১৮ সালে।

ফেসবুকে ফ্রেন্ডদের পোস্টে অর্থপূর্ণ মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে এমন পোষ্ট গুলোকে ফেসবুক অগ্রাধিকার দেয়। 

অর্থপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া কোনগুলো যা ফেসবুক অগ্রাধিকার দেয়

নীচে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলোকে ফেসবুক অর্থপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া মনে করেন,

একটি পোস্ট পড়ার পড়ে বা ভিডিও দেখে কমেন্টে মানুষ যখন একে অপরের মতামত এর বিপরীতে তাদের নিজস্ব মতামত প্রদান করতে থাকে অর্থাৎ তারা একে অপরের সাথে কথোপকথনে যুক্ত হয়, তখন ফেসবুক মনে করে এই পোস্টটি অথবা ভিডিও কনটেন্টটি অর্থপূর্ণ।

পোস্টে লাইক, কমেন্ট, বা শেয়ার দিয়ে এঙ্গেজ হওয়া মানে সেটি অডিয়েন্স পছন্দ করছে। 

যে ধরনের পোস্টগুলো  মানুষকে আকৃষ্ট করে, যুক্ত করে, জানতে এবং কথা বলতে আগ্রহী করে তোলে, সেগুলোকে ফেসবুক অর্থবহ মনে করে এবং বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।  

নেতিবাচক কথা মিথ্যা তথ্য অথবা যা আমি শুনতে পছন্দ করছি না তা আমার কাছে যেন না আসে সেজন্য ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।

তাহলে আপনি যদি চান আপনার ফেসবুক পোষ্টের অর্গানিক রিচ বৃদ্ধি হোক তাহলে আপনাকে অবশ্যই এমন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতে হবে যে কনটেন্টগুলো মানুষকে এঙ্গেজ করে ও তাদের চিন্তাকে প্রকাশ করতে উৎসাহিত করে।

একটি পোষ্টের অর্গানিক রিচের পরিমাণ কম হচ্ছে তখন বুঝবেন আপনার ফেসবুক একাউন্ট অথবা ব্র্যান্ড পেজ থেকে যে ধরনের তথ্য অডিয়েন্স পেতে পছন্দ করে তা আপনি দিতে সক্ষম হচ্ছেন না। 

আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে ঠিক কি ধরনের কনটেন্ট আপনার পেজ থেকে বা আপনার একাউন্ট থেকে আপনার অডিয়েন্সরা পেতে পছন্দ করছে।

ফেসবুক এড এর ক্ষেত্রে  পেজের অর্গানিক ইম্প্রেশন কিভাবে নির্ধারণ করা হবে সে বিষয়ে ফেসবুকে পরিবর্তন নিয়ে আসে। এবং এই পরিবর্তনগুলো 17 থেকে 28 অক্টোবর 2019 থেকে কার্যকর হয়।   

এই পরিবর্তন ফেসবুকের অর্গানিক রিচ আরো বেশি কমিয়ে দেয়। 

এই পরিবর্তনে বলা হয়, ফেসবুক ভিডিও কনটেন্ট গুলিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিবে। বর্তমান সময়ে যার সত্যতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

কীভাবে ফেসবুক একটি ভিডিও কনটেন্টকে রাঙ্কিং করে?  সে বিষয়ে ফেসবুক পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে।

 

লয়ালিটি এবং ইনটেন্টঃ

যে সকল ভিডিওগুলি  বেশি সংখ্যক মানুষ দেখছে এবং সপ্তাহের পর সপ্তাহ বারবার নিউজফিডে ফিরে আসছে সেই সব ভিডিওগুলোর রাঙ্কিং ফেসবুকের কাছে সবচেয়ে বেশি। 

ভিডিও ভিউ এবং ডিউরেশনঃ 

যে ভিডিও কনটেন্টগুলো মানুষের মনোযোগ সর্বনিম্ন এক মিনিট সময় পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম এবং যে ভিডিওগুলোর ডিউরেশন কমপক্ষে তিন মিনিট সেই ভিডিও কনটেন্টগুলোর রাঙ্কিং সবচেয়ে বেশি। 

অরিজিনালিটিঃ  

যে ভিডিও কনটেন্ট গুলো অরিজিনাল নয়,  পূর্বের কোন ভিডিও বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে এ ধরনের ভিডিও গুলোর  ডিস্ট্রিবিউশন ফেসবুক অটোমেটিকভাবে সীমিত করে ফেলে।  

যে ভিডিওগুলা সম্পূর্ণ নতুন এবং বেশি পরিমাণে শেয়ার করা হচ্ছে সেই  ভিডিও কনটেন্টগুলো ফেসবুক সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

বর্তমান সময়ে ফেসবুক নিউজফিডকে আরো বেশি ব্যক্তিকরণ করে ফেলেছে। 2019 সালের মে মাসে ফেসবুক এই আপডেটটি নিয়ে আসে।   

আপডেট বলা হয়, একজন ব্যবহারকারী তার ফেসবুক ওয়ালে সেই কনটেন্ট গুলো দেখবে যেগুলো সে সবচেয়ে বেশি দেখতে পছন্দ করছে।

ফেসবুক কিভাবে বুঝবে একজন ব্যবহারকারী কোন কন্টেন্টগুলো সব থেকে বেশি পছন্দ করছে?

এজন্য ফেসবুক একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে।

সমীক্ষায় ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয় তারা যে গ্রুপ গুলোতে জয়েন করেছে সেই গ্রুপগুলো থেকে কোন ধরনের কনটেন্ট দেখতে পছন্দ করছে।  

তাদের উত্তরের ওপর নির্ভর করে ফেসবুক ব্যবহারকারীর পছন্দ সম্পর্কে ধারণা করে এবং সেই ধারণার ওপর ভিক্তি করে তার নিউজফিডে কনটেন্ট গুলো দেখানো হয়।

অনেক সময় আমাদের নিউজফিডে এমন কিছু কন্টাক্ট আসে যা আমরা পছন্দ করিনা, তখন আমরা সেটি হাইড করি কিংবা রিমুভ করে ফেলি।  

এগুলো ফেসবুকের কাছে সিগন্যাল হিসেবে পৌঁছাই। 

ফেসবুক মনে করে সেই কন্টেন্ট আপনি দেখতে পছন্দ করছেন না। আর এমন কনটেন্টগুলো ফেসবুক আপনাকে দেখাবে না।

আমরা যখন কোন গ্রুপে বা পেজের পোস্টগুলো লাইক কমেন্ট বা শেয়ার করি সেগুলো ফেসবুকের কাছে সিগন্যাল হিসেবে যায়। এখান থেকে ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অনুমান করে কোন ধরনের পোস্টগুলো আপনি পছন্দ করছেন।  পরবর্তী সময়ে সেই ধরনের পোস্টগুলো আপনাকে বেশি পরিমাণে দেখানো হয়।

মূলত আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্ট, কন্টাক্ট লিস্ট, ফটো ট্যাগ, লোকেশন ট্যাগ, পোস্ট শেয়ারিং বিহেভিয়ার এ ধরনের সিগনালগুলো থেকে আপনার পছন্দের ধরন অনুমান করতে সাহায্য করে। 

ফেসবুকের বিজনেসের সফলতায় পরিবর্তনশীল অ্যালগোরিদমের সাথে মানিয়ে নিয়ে অর্গানিক রিচ ধরে রাখতে হলে কি করতে হবে?

সঠিক টার্গেট অডিয়েন্সের জন্  ভ্যালুয়েবল ও ইউনিক কন্টেন্ট তৈরি করার কোনো বিকল্প নেই।  কিন্তু কীভাবে করবেন কাজটি?

পাঁচটি পরামর্শ, যা অর্গানিক রিচকে ধরে রাখতে সহায়তা করবে পাশাপাশি কন্টেন্টের রাঙ্কিং বাড়িয়ে তুলবে। 

ইমোশনকে  ফোকাস করুনঃ

ইমোশনাল কন্টেন্ট অডিয়েন্সদের এঙ্গেজ করতে অত্যন্ত কার্যকর। এমন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করুন যা  অন্যকে এডুকেট করে, এন্টারটেইন করে এবং ইন্সপায়ার করে ।

এ ধরনের কনটেন্ট গুলোতে মানুষ বেশি পরিমাণে এঙ্গেজ হয় তাদের প্রশ্ন ও মতামত প্রকাশ করার মাধ্যমে। অধিক অডিয়েন্স এর সাথে যুক্ত হবার ফলে কনটেন্টগুলোর ফেসবুক রাঙ্কিং বেশি হয়। 

হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ এ প্রকাশিত একটি গবেষণা মতে ৬ ধরনের ইমোশনাল কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমগুলোতে সবথেকে বেশি শেয়ার হওয়ার প্রবণতা থাকে।

সেগুলো হচ্ছে,

  1. প্রশংসা
  2. বিস্মিত
  3. বিস্ময়
  4. কৌতূহল
  5. স্বার্থ
  6. অনিশ্চয়তা

একটি ফেসবুক পেজের কন্টেন্ট থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল পেতে চাইলে এই ইমোশনগুলো ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করুন।  

“ফেসবুক বিজনেসে সফল হতে হলে একটি দুর্দান্ত কন্টেন্ট তৈরির কোন বিকল্প নেই” 

এঙ্গেজমেন্ট বাইট থেকে সাবধান

আমরা অনেক সময় কনটেন্টের সাথে লাইক করুন, শেয়ার করুন, কমেন্ট করুন এ ধরনের শব্দগুলো ব্যবহার করি।

ফেসবুক এ ধরনের শব্দকে ফিল্টার করে এবং এই ধরনের শব্দ যুক্ত পোস্টগুলোর ডিস্ট্রিবিউশন লিমিট করে দেয়।  

তাই কনটেন্ট তৈরির সময় এ ধরনের শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। 

মনে প্রশ্ন আসতে পারে, সবাইতো ব্যবহার করছে শব্দগুলো, তাহলে আমি করলে ক্ষতি কি?  

শুনুন বিজনেসটা আপনার, তাই এই বিজনেসের লাভ-ক্ষতিও আপনার একান্ত ব্যক্তিগত।  অন্যের সাথে তুলনা করে আপনার বিজনেসকে নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইবেন না। 

ফেসবুকে পোস্ট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কোটেশন ব্যবহার করুন

গুরুত্বপূর্ণ এবং রিলেটেড কোটেশন সম্বলিত পোস্ট  শেয়ার হওয়ার প্রবণতা 19 শতাংশ বেশি থাকে। 

তাই কার্টেসি মেনটেন করে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় কোটেশন ব্যবহার করে পোস্ট তৈরী করুন। এ ধরনের পোস্ট এঙ্গেজমেন্ট বাড়াতে সহায়ক।

ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করুন

বর্তমান সময়ে ফেসবুকের সবচেয়ে বেশি রাঙ্কিং পাচ্ছে ভিডিও কনটেন্ট। জানলে আশ্চর্য হবেন, বর্তমান সময়ে প্রতিদিন এই প্লাটফর্মে 8 বিলিয়ন ভিডিও ভিউ হয়। 

ফেসবুকে ভিডিও কনটেন্টগুলোর রিচ ও এনগেজমেন্ট সবচেয়ে বেশি।  একটি স্থির ছবি থেকে একটি ভিডিও কনটেন্ট 135 শতাংশ বেশি পরিমাণে অর্গানিক রিচ নিয়ে আসে। 

ভিডিও তৈরি করার সময় ভিডিওর সাথে ক্যাপশন দিতে ভুলবেন না। দেখা গেছে 82% ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিও কনটেন্ট এর সাউন্ড অফ করে  ভিডিও দেখে। 

ভিডিও মধ্যে ক্যাপশন থাকলে সেই ভিডিওটি 367 শতাংশ বেশি এনগেজমেন্ট নিয়ে আসতে সক্ষম। 

আরও পড়ুনঃ 

ফেসবুক লাইভঃ অডিয়েন্স এবং ফলোয়ারদের সাথে যুক্ত হবার শক্তিশালী মাধ্যম

শান্ত থাকুন এবং নিয়মিত ফেসবুকে অ্যাড দিন

ফেসবুকে অ্যাড দেওয়া মাত্রই বেশি পরিমাণে রিচ এবং ইংগেজমেন্ট পাবেন এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। 

ফেসবুক বিজনেস পেজের  মাধ্যমে বিজনেসে (ROI) পেতে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন কনটেন্ট নিয়ে পরীক্ষা করতে হবে।

খুঁজে বের করতে হবে কোন ধরনের কনটেন্টগুলো  অডিয়েন্স সবথেকে বেশি পছন্দ করছে এবং সেই কনটেন্টগুলো জন্য আপনাকে ইনভেস্ট করতে হবে।

কনটেন্ট গুলোর সাথে যে অডিয়েন্স গুলো এঙ্গেজ হচ্ছে তাদেরকে যথাযথভাবে নারচারিং করার মাধ্যমে আপনার বিজনেস পেজের প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা তৈরি করে ধরে রাখতে কৌশলী হতে হবে। 

অর্গানিক রিচের মাধ্যমে একটি পেজকে জনপ্রিয় করে তোলা বর্তমান সময়ে খুবই কষ্টসাধ্য এবং প্রায়  দুরূহ ব্যাপার।

আপনার কনটেন্ট সৃষ্টিশীল না হয় তবে গড়পড়তা টাইপ কন্টেন্ট দিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় অডিয়েন্স গ্রুপকে রিচ করা সম্ভব নয়।

তাই পেইড ক্যাম্পেইন আদর্শ, এতে অল্প সময়ে বড় একটি  টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপকে রিচ করা সম্ভব হয়।  

তাই, বর্তমান সময়ে বেশি রিচ পেতে হলে আপনাকে পেইড এডভার্টাইজিং করতে হবে।

ফেসবুক সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক

  • মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহার করে মোট 2.26 বিলিয়ন মানুষ  এবং ডেক্সটপ দিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করে 1.47 বিলিয়ন মানুষ
  • ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে 54% মেয়ে এবং 47% পুরুষ
  • ফেসবুকে 7 মিলিয়ন বিজ্ঞাপনদাতা  রয়েছে
  • ফেসবুকে প্রতিদিন 100 মিলিয়ন ঘন্টা ভিডিও ভিউ হয়
  • প্রতি 60 সেকেন্ডে,  317,000 স্ট্যাটাস আপডেট হয়; 400 নতুন ব্যবহারকারী  যুক্ত হয়; 147,000 ফটো আপলোড হয়; এবং 54,000   লিংক শেয়ার হয়ে থাকে।
  • ফেসবুকে 120 মিলিয়ন  ফেক ইউজার রয়েছে

ফেসবুক বিজনেসে সফল হতে

যে সকল গুণাবলী থাকতে হয়

 

সফলতা কোন একটি নির্দিষ্ট বিসয়ের উপর নির্ভর করে না। অনেকগুলো  বিষয়ের সমন্বয় একজন মানুষকে, একটি বিজনেসকে সফল করে। 

অনলাইন বা অফলাইন সব ধরনের বিজনেসে সফল হতে হলে যে বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিকাংশ এক্সপার্টরা যেগুলোর সাথে একমত হয়েছেন সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

শক্তি এবং উৎসাহ

বিখ্যাত একটি উক্তি রয়েছে, যে কাজটি করতে আপনি ভালোবাসেন সেই কাজটি আপনি করুন।  এতে আপনি কখনোই কাজের মধ্যে থাকবেন না ।

একজন সফল উদ্যোক্তা তার কাজটি করতে ভালোবাসেন। তিনি তার কাজের মধ্যে শক্তিপান, তিনি সর্বদা উদ্যমী এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ তার মধ্যে  সর্বদা থাকে।

বিজনেস অনলাইন হোক কিংবা অফলাইনে, আপনাকে কঠোর নিষ্ঠার সাথে পরিশ্রম করে যেতে হবে এবং সেই পরিশ্রম সার্থকতা পায়, যে পরিশ্রম সর্বোচ্চ শক্তির উৎস দ্বারা পরিচালিত।

ধৈর্য

ধৈর্য সকল গুনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।  ধৈর্যশীল মানুষের কাছে সফল ধরা দেয়। বিজনেস শুরু করার পরপরই রাতারাতি কেউ সফল হয় না।  

বিজনেসে কখনো সফলতা থাকে, কখনো ব্যর্থতা থাকে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করে যারা এগিয়ে যেতে পারে তাদের জন্যই সফলতা পুরস্কার হয়ে আসে।

অনলাইন বিজনেসের  ক্ষেত্রে ধৈর্য সবার প্রথমে প্রয়োজন। মানুষ আপনাকে সরাসরি না দেখে শুধুমাত্র আপনার প্রোডাক্ট এর ছবি এবং তার বর্ণনা পড়ে কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 

তাই অনলাইন বিজনেস পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপে আপনাকে হতে হবে ধৈর্যশীল।

 

 

হতে হবে আত্মবিশ্বাসী

আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারে না তাকে অন্যরা কখনোই বিশ্বাস করবে না।

আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে, আপনি যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন সেটিতে নিশ্চয়ই সফলকাম হবেন। সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, লক্ষ্য স্থির করে সেদিকে আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যাবেন।

অনলাইন বিজনেসের প্রথমদিকে পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়া ও কাস্টমারদের নেগেটিভ কমেন্ট অথবা নিন্দুকদের সমালোচনায় অনেকেই শুরুতেই হতাশ হয়ে ছিটকে পড়ে যায়।  

আপনাকে জানতে হবে কিভাবে নেতিবাচক ভাবনা পরিহার করে আত্মবিশ্বাসী হওয়া যায়। 

অধ্যবসায়

একবার না পারিলে দেখো শতবার।  আজকে আমি বিফল হয়েছি তাই কালকে আমি সফল হবো না,  এমনটি কেউ বলে দিতে পারে না।  

পৃথিবীর অনেক বড় বড় বিজনেস কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করে সফল হয়েছে। অধ্যবসায় তাদের অন্যতম অস্ত্র।  এই মহান গুনটি আপনাকে অর্জন করতে হবে।

অভিযোজন ক্ষমতা

এই পৃথিবীতে তারাই সফলকাম হয় যারা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। 

একজন সফল উদ্যোক্তা মার্কেটের পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রতি সব সময় সচেতন, নতুন টেকনোলজি নতুন নতুন সমস্যা নিত্যনতুন কৌশল ও মার্কেট প্রতিযোগিতার বিষয়ে সর্বদা সচেতন থাকে।

তারা খুব দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়, প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সফলকাম হয়।

ঝুঁকি সহনশীলতা

বিজনেসে ঝুঁকি থাকবেই।  আপনাকে জানতে হবে  বিজনেসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো  কি কি।  

থাকতে হবে ব্যাকআপ প্ল্যান,  প্ল্যান রেডি করার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে,, করতে হবে মার্কেট এনালাইসিস।

ঝুঁকি সহনশীলতা মানে এমন নয় আপনি সব সময় ঝুঁকিকে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখবেন। আপনি উদ্বুদ্ধ ঝুঁকিকে কৌশলগতভাবে কতটা কমিয়ে আনতে পারেন সেটি মুখ্য।

সৃষ্টিশীলতা

একজন ভাল উদ্যোক্তার মধ্যে সৃষ্টিশীলতা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে প্রোডাক্টের লাইফ সাইকেল ক্রমাগত কমে আসছে। কারণ প্রচুর নতুন নতুন প্রোডাক্ট খুব স্বল্প সময়ে বাজার দখল করছে, প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হলে হতে হবে সৃষ্টিশীল। 

পুরনো সৃষ্টিকে নতুনরূপে বারবার ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা রাখতে হবে।

দৃষ্টিশক্তি

যেখানে সাধারন মানুষেরা কিছুই দেখতে পায় না ব্যবসায়ীরা সেখানে সুযোগ দেখেন। 

তারা প্রতিনিয়ত মার্কেটের অবস্থা, প্রোডাক্ট রেনোভেশন, কাস্টমারদের পছন্দ-অপছন্দ ও চাহিদার কথা চিন্তা করেন।

যখনই কোন একটি সম্ভাবনার রাস্তা  খুঁজে পান সেটিকে কাজে লাগানোর জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা এবং সঠিক সময়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ব্যবসায় মুনাফা অর্জন করেন। 

সুযোগ কারো জন্য অপেক্ষা করে না। দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ সম্ভাব্য সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।  

দৃষ্টিভঙ্গি

সাধারণ মানুষ এবং একজন উদ্যোক্তার মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি।  বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে দেখার ধরন। 

প্রশ্ন আসতে পারে দৃষ্টিভঙ্গি বিজনেসের জন্য কি ধরনের গুরুত্ব রাখে।  একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে খুঁজে পাই তার  দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে।  একজন রুচিশীল মানুষ সর্বদা রুচিশীল মানুষকে আকৃষ্ট করে।

বিজনেস পরিচালনার ক্ষেত্রে, আপনি কাস্টমারদের জন্য প্রোডাক্ট ও সার্ভিস ডিজাইন করছেন। তাই সঠিক প্রোডাক্ট ও সার্ভিসটি তৈরি করতে হলে আপনাকে বুঝতে হবে কাস্টমারদের রুচি এবং পছন্দ। 

এক্ষেত্রে তাদের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বিজনেসের মূল পার্থক্য তৈরী করে দেয়।

নেতৃত্ব দেবার যোগ্যতা

সবাই নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয় না। একজন মানুষ তার দক্ষতা এবং যোগ্যতার  দ্বারা অন্যকে অনুপ্রাণিত করে, উৎসাহিত করে তাদের মধ্যে কাজ করার উদ্দীপনা তৈরি করে। 

একজন ভাল উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে নেতৃত্ব দেবার যোগ্যতা

পরিকল্পনা

কিছু করার পূর্বে সে সম্পর্কে চিন্তা করাকেই পরিকল্পনা বলে। প্রতিটি কাজের জন্য পরিকল্পনা প্রয়োজন, পরিকল্পনা যত সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পীত হবে ততই  সফল হবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। 

কোন সফলতাই পরিকল্পনা ছাড়া হঠাৎ করে পাওয়া সম্ভব নয়.

দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা

সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হলে পিছিয়ে পড়তে হয়। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আবশ্যক।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় অবশ্যই স্থির থাকবেন, ফোকাসড থাকবেন। অনেক সময় সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে। ভীতসন্ত্রস্থ হবার কিছু নেই। 

আপনি যত দ্রুত এবং সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন বিজনেসের জন্য ততই মঙ্গল।

আত্মউন্নয়ন

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেকেই বিশেষ পরিচালনার জন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকে। একসময় সেই প্রতিষ্ঠান যদি তাকে সহায়তা করতে অসম্মতি প্রকাশ করে তবে ব্যবসায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হন। 

আমরা বিশ্বাস করি আত্ম-উন্নয়নে। বিজনেস সম্পর্কে আপনি নিজে জানুন, শিখুন এবং প্রয়োজনে অন্যের সহায়তা নিন। তাহলে পরিস্থিতির কারণে কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠান যদি আপনাকে ছেড়ে যায়, আপনি থেমে থাকবেন না।  

অনলাইন বিজনেসে সফল হতে হলে যে পাঁচটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে

 

২০২০ সালের শেষ দিকে এসে আপনার অনলাইন বিজনেসকে সফল করে তুলতে হলে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হবে। 

আপনার প্রতিযোগিরা ই-কমার্স বিজনেসে এক নম্বর স্থান দখলের জন্য ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছে তার বিপরীতে আপনি কি করছেন? নিজেকে প্রশ্ন করুন?

৮০% ই-কমার্স বিজনেস সফল হতে পারে না। কারণ তারা জানে না যে তারা কি করছে কেন, করছে এবং তারা তাদের কাস্টমারদের এটি দারুণ অভিজ্ঞতা দিতে ব্যর্থ।

আপনার ই-কমার্স বিজনেসটিকে সফল করে তুলতে হলে নিচে উল্লেখ করা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে নজর দিতে হবে।

ব্র্যান্ড হোক বিজনেসের উদ্দেশ্য

আপনার ব্র্যান্ড হচ্ছে আপনার বিজনেসের পরিচয় তাই আপনার ব্র্যান্ড ঠিকই প্রকাশ করছে সে বিষয়ে আপনাকে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।

যখন mercedes-benz গাড়িটির কথা বলা হয় তখন আপনার মাথায় কি আসে?  

এটি একটি লাক্সারি কার এবং অনেক ব্যয়বহুল। যখন টয়োটা  গাড়ির কথা বলা হয় তখন আপনার মাথায় কি আসে? এটি মধ্যম দামি গাড়ি এবং মধ্যম আয়ের মানুষদের জন্য। 

কেউ যখন mercedes-benz গাড়িটা কিনছে তখন সে শুধু একটি গাড়ি কিনছে না।  সে তার সাথে মর্যাদা কিনছে। তাই আপনি যখন একটি ব্র্যান্ড তৈরি করছেন তার অর্থ আপনি একটি গোষ্ঠীর মানুষকে আকৃষ্ট করছেন।

লো বাজেট গাড়িতে সমস্ত ফিচার পরিপূর্ণভাবে থাকেনা। যদি আপনি পাওয়ার চান তবে আরাম পাবেন না, যদি আরাম চান তাহলে কন্ট্রোলিং পাবেন না, যদি কন্ট্রোলিং চান তাহলে আউটলুক পাবেন না।

কিন্তু আপনি যখন একটি লাক্সারি কার কিনবেন সেখানে সমস্ত ফিচারের সাথে কন্ট্রোল, কমফোর্ট, আউটলুক, পাওয়ার একসাথে পাবেন।

mercedes-benz শব্দটি পরিচিত হচ্ছে তার উপযোগিতা দ্বারা। যা চাহিদার সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে। 

একজন মানুষ যখন প্রথমবার সেই গাড়িটি ব্যবহার করবে সে তার অনুভূতি কখনো ভুলবে না এবং প্রথম অনুভূতি তারা তাকে যদি আবিষ্ট করতে সক্ষম হন তবে সে আপনার প্রতি লয়াল থাকবে।

ব্র্যান্ড তৈরির ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন। বিষয়টি কি?  

আপনার ব্র্যান্ডটি কেন অন্যদের থেকে আলাদা সেটিই মূলত ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন।

বাজারে মোবাইল ব্র্যান্ডের মধ্যে কিছু জনপ্রিয় ব্র্যান্ড যেমন স্যামসাং,  হুয়াওয়ে,  অপ্পো, রিয়েল মি ইত্যাদি।  এখন আমি যদি অপ্পো মোবাইলটির নাম উচ্চারণ করি, তবে মাথার মধ্যে আসবে ক্যামেরা ফোন বা সেলফি এক্সপার্ট।

বাজারের সবগুলো ফোনের কাজ একই, কথা বলা যায়, ছবি তোলা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় কিন্তু এর মধ্যে থেকেও অপ্পো নিজেকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে। 

কারণ সবার মোবাইলে ছবি তোলা গেলেও তারা দাবি করে তাদের মোবাইলে সবথেকে চমৎকার সেলফি তোলা সম্ভব।

আপনার বিজনেসকে প্রতিযোগিতা থেকে যতবেশি আলাদা করে তুলতে পারবেন,  ততবেশি আপনি সবার কাছে সমাদৃত হবে।  আপনাকে মনে রাখবে এবং পরবর্তী কেনার সময় কাস্টমার আপনার কথা চিন্তা করবে।

এক্ষেত্রে কাস্টমার রিভিউ খুব গুরুত্বপূর্ণ।  দেখা গেছে কাস্টমার যখন কোনো একটি প্রোডাক্ট অনলাইনে কেনার পর খুশি হয় সে পরবর্তী পাঁচ জনকে পরামর্শ দেয় অনলাইনে কেনাকাটার জন্য।  

কিন্তু কেউ যখন প্রতারিত হয় তখন সে অগণিত মানুষকে অনলাইনে কেনাকাটা না করতে উপদেশ দিতে থাকে।

তাই আপনার ব্র্যান্ডটির মূল উদ্দেশ্য হতে হবে আপনি যেটি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সেটিকে বাস্তবায়ন করুন। 

খেয়াল করবেন অপ্পো ফোনে যদি চার্জ কম থাকে কিন্তু তারা যেহেতু ক্যামেরা ফোন বলছে আর সেটি যদি নিশ্চিত হয়, তবে আপনি নিঃসন্দেহে বাকি দুর্বলতাগুলোকে মেনে নিবেন।

আর এজন্যই শুধু প্রোডাক্ট নয় ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।  

যেখানে আপনি সবার থেকে আলাদা ভাবে নিজেকে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাজারে একটি অনন্য বিজনেস হিসেবে পরিচিতি লাভ করবেন এবং কাস্টমার আপনাকে আপনার প্রতিষ্ঠানে গ্রহণ করবে। 

আর সেটি না করে শুধুমাত্র প্রোডাক্টের কোয়ালিটি দিয়ে বাজার দখলের চেষ্টা করেন তবে এর ফলাফল সবসময় সুখকর হয় না। 

বাজারে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত হয়ে গেছে শুধুমাত্র তারা প্রতিযোগীদের থেকে নিজেকে আলাদা করতে সক্ষম হয়নি যদিও তাদের প্রোডাক্ট কোয়ালিটি অসাধারণ ছিল।

 ১৯৯০ সালের পরবর্তী সময়ে সিটিজেন, নিপ্পন টেলিভিশন ব্র্যান্ড বাংলাদেশ পপুলার হতে থাকে। কারণ তাদের প্রোডাক্টের কোয়ালিটি ভালো ছিল আর সে সময় সনি টেলিভিশন ছিল সবার রাজা । যারা ৯০ দশকের জেনারেশন ছিল তার একটু খেয়াল করলেই দেখবেন প্রতিটি বাড়িতেই সেসময় সিটিজেন, নিপ্পন এবং সনি টিভির প্রচন্ড দাপট ছিল। সনি টিভি দামি তাই সবাই এটি কিনতে পারতো না।

তবুও সিটিজেন বা নিপ্পন টেলিভিশন তাদের মার্কেটে অবস্থান তৈরি করতে পারে নাই কারণ তারা কোয়ালিটিতে গুরুত্ব দিলেও মার্কেটিংয়ে যথেষ্ট দুর্বল ছিল।

তাই প্রোডাক্টের পাশাপাশি আপনার মূল উদ্দেশ্য হোক ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত করানো যেন মানুষের কাছে আপনার মূল্যায়ন এবং চাহিদা দুটোই চলমান থাকে। 

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

অনেকেই ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করার পর পরেই বলেন আমার ওয়েবসাইটটি গুগলে সবার উপরে নিয়ে আসেন। বিষয়টিকে তারা খুব সহজেই বলে ফেলেন কিন্তু আপনি কি জানেন সারাবিশ্বে 24 মিলিয়নেরও বেশি ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে এবং এটি প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। 

এরা সবাই গুগলের প্রথম পেজে আসতে চায় কিন্তু গুগলের প্রথম পেজে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ টির বেশি রেজাল্ট আনা সম্ভব নয় তাহলে একবার চিন্তা করুন, গুগলের সার্চে প্রথমে আসতে হলে আপনাকে কতটা পরিশ্রম করতে হবে।

প্রয়োজন সঠিক এসইও, সেজন্য আপনাকে তৈরি করতে হবে একটি এসইও ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট। এক্সপার্টদের দ্বারা প্রতিনিয়ত সেটি অপটিমাইজ করতে হবে এবং এটি খরচ সাপেক্ষ ব্যাপার।

প্রশ্ন আসতে পারে এটি কেন করবো চিন্তা করেন তো, আপনি যখন গুগলে কোন কিছু  সার্চ করেন তখন কি লিখে সার্চ করেন।  

আরেকটু সহজ করে দেই, ধরুন আপনি জুতা কিনবেন তাহলে কি লিখবেন?  বেস্ট সু সেলার ইন বাংলাদেশ অথবা আপনি একটি ট্রাস্টেড ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুঁজে পেতে চাইলে কি লিখবেন?  বেস্ট ই-কমার্স ওয়েবসাইট ইন বাংলাদেশ বা টপ ই-কমার্স ওয়েবসাইট ইন বাংলাদেশ।

এই  শব্দগুলি আমরা লিখছি এগুলো  একেকটি কিওয়ার্ড, যেমন বেস্ট ই কমার্স একটি কিওয়ার্ড, টপ ই কমার্স ওয়েবসাইট ইন বাংলাদেশ একটি কি ওয়ার্ড। 

অর্থাৎ আপনি গুগলে যখন কোন কিছু সার্চ দিচ্ছেন তখন কিওয়ার্ড রিসার্চ দিচ্ছেন।  তাই অবশ্যই এটির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। 

কাস্টমার অভিজ্ঞতা ভালোবাসে

কাস্টমার যখন অনলাইনে কেনাকাটা করছে তখন তার কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কোন ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে এসে ঝামেলা মুক্তভাবে এবং সহজে কেনাকাটা সম্পন্ন করতে পারছে

যদি আপনার প্রোডাক্ট কোয়ালিটি ভালো হয় কিন্তু আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা কষ্টসাধ্য,  তবে কখনোই কাস্টমার আপনার থেকে কিনবে না।

আপনাকে এমন একটি ই কমার্স কেনাকাটা অভিজ্ঞতা কাস্টমারদের দিতে হবে, যেন তারা কোনো রকম বাধা ছাড়াই আপনার ই-কমার্সের ওয়েবসাইটে ল্যান্ড করা থেকে শুরু করে চেক-আউট প্রসেস পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারে।

আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট আসার পর দেখা গেল প্রোডাক্টের ইমেজ পেজ লোড হয় না,  কি মনে হয়? কাস্টমার কি আপনার ওয়েবসাইটে সেই ছবিটি লোড হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য নিয়ে বসে থাকবে। কখনোই না। আপনি হলে কি করতেন? 

স্বচ্ছতা ও আস্থার জায়গা তৈরি করুন 

দুটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের কথা চিন্তা করুন, একটিতে শুধুমাত্র ফোন নাম্বার দেওয়া আছে সেলারের সাথে যোগাযোগের জন্য আর অন্য ওয়েবসাইটে আছে সেলারের ফোন নাম্বার, অফিস এড্রেস এবং সেটি গুগল ম্যাপে দেখানো হয়েছে কিভাবে সেখানে আপনি পৌঁছাবেন। 

প্রথম ই কমার্স ওয়েবসাইটে শুধু মূল্য  ছাড়া অন্য কিছু দেয়া নাই। শিপিং চার্জ কত ডিসকাউন্ট আছে কিনা কিছু জানা যায়না। 

অপর ওয়েবসাইটটিতে  দেখলেন ডিসকাউন্ট যদি থাকে সেটি বাদ দিয়ে মূল্য দেখাচ্ছে এবং কত টাকা ডিসকাউন্ট পেয়েছেন সেটিও সেখানে উল্লেখ রয়েছে। 

বাসায় ডেলিভারি পেতে কত টাকা শিপিং চার্জ বা ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে সেখানে উল্লেখ রয়েছে। যদি আপনার কোনো অভিযোগ থাকে বা পরামর্শ থাকে তবে সেটি প্রদানের জন্য ডেডিকেটেড ফোন নাম্বার এবং ইমেইল দিয়ে রেখেছে। আর বাকি সব এড্রেস তো আছেই

আপনি কোনটি বেছে নিতেন?  

নিশ্চয়ই যে তার সমস্ত যোগাযোগ মাধ্যম ওপেন রেখেছে তাকে।  

আপনি যত বেশি স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা প্রদান করবেন কাস্টমারদের।  ততবেশি তারা আপনার প্রতি আস্থা রাখবে। আর যত বেশি আস্থার জায়গাটা শক্ত করতে পারবেন তত বেশি কাস্টমারদের ওয়েবসাইটে ধরে রাখতে পারবেন। বারে বারে বেশি বেশি বেচাকেনা করতে পারবেন।

এঙ্গেজমেন্ট

অনেক সেলার রয়েছেন যারা শুধুমাত্র প্রোডাক্টের ছবি পোস্ট করে ডেসক্রিপশন লিখে দিয়েই শেষ। 

কাস্টমার একবার কেনাকাটা করার পর পরবর্তীতে আর কেনাকাটা করতে আসবে কিনা সে বিষয়টি তিনি আর ভাবেন না । অথচ তিনি চান তার বিক্রয় বেশি হোক। কিভাবে এটি সম্ভব যদি না আপনি কাস্টমারদের  ক্রমাগতভাবে আপনার সাথে এঙ্গেজ রাখতে না পারেন।

ফেসবুকে পোস্ট করছি আবার এঙ্গেজমেন্ট এর কি দরকার?  এমন প্রশ্ন অনেকেই করেন।  ফেসবুকে পোস্ট বুস্ট করা মানে এঙ্গেজমেন্ট নয়।  ফেসবুক বুষ্টিং এর অনেকগুলো উদ্দেশ্য রয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে এঙ্গেজমেন্ট।

সেলিং অ্যাড এর পাশাপাশি এঙ্গেজমেন্ট ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিভাবে সেটি করবেন?  একটু ধারনা দেয়া যাক।

আপনি ফ্যাশন ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করছেন আপনার প্রোডাক্ট হচ্ছে ডিজাইন ড্রেস।  ফেসবুকে পোস্ট করলেন কাস্টমার কিনলো,  এর পরে কি?

কাস্টমার কি পরবর্তী সময়ে প্রতিদিন আপনার পেজে বারবার আসবে?  

তাদের নতুন কোনো চাহিদা এখন নেই এই মুহূর্তে আপনাকে যেটা করতে হবে সেটি হচ্ছে, ডিজাইন ড্রেসগুলো কিভাবে তারা রক্ষণাবেক্ষণ করবে, কোন পরিবেশের সাথে কোন ধরনের ড্রেস মানানসই,  ব্যক্তিত্বের সাথে মানিয়ে কোন কালারগুলো একজন বেছে নেবেন সে বিষয়গুলো নিয়ে আপনি ব্লগ আকারে অথবা টেক্সট আকারে ফেসবুক অথবা আপনার বিজনেস ব্লগে লেখালেখি করতে পারেন।

এতে যে সুবিধাটি হবে, কাস্টমার গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য আপনার সাথে এঙ্গেজ থাকবে। ফলে আপনার বিজনেস এক্সপোজার বহুগুণে বেড়ে যাবে এবং পরবর্তী সময়ে যখনই তার কোন কিছুর প্রয়োজন হবে প্রথমেই আপনাকে বেছে নেবে।

আর এজন্যই ই-কমার্স বিজনেস ক্রমাগত কাস্টমারদের এঙ্গেজ করে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনস্বীকার্যভাবে প্রয়োজন।

ফেসবুক বিজনেসের জন্য কি ধরনের প্ল্যান প্রয়োজন

বিজনেস কিংবা প্রতিদিনের জীবন  প্রতিটি জায়গায় পরিকল্পনা প্রয়োজন।  তবে প্রশ্ন যখন সোশ্যাল মিডিয়ার, তখন আপনাকে একটি পরিকল্পিত কর্মপদ্ধতি তৈরি করতেই হবে নচেৎ পিছিয়ে পড়বেন প্রতিযোগিতার এই বাজারে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং প্ল্যান তিনটি মূল ভাগে ভাগ করা যায়

  1. এট্রাকশন
  2. প্রমোশন
  3. সেলস

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং প্ল্যানের আরো অনেক শাখা রয়েছে তবে একটি মূল বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,

এট্রাকশন

 প্রথমে বিজনেস পেজ এর জন্য অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে, একটি পেইজ নতুন করার পরপরই আপনি লক্ষ লক্ষ অডিয়েন্স পেয়ে যাবেন না।  আপনাকে সময় নিয়ে ধৈর্যের সাথে আপনার শ্রোতা তৈরি করতে হবে।

কিভাবে সেটি করবেন?  কাস্টমারদের সমস্যার জায়গাগুলোর চিহ্নিত করবেন।  সে বিষয়ে সম্ভাব্য পরামর্শ দিয়ে তাদের পাশে থাকবেন।  অর্থাৎ আপনি কাস্টমারদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এতে করে যারা কোন বিষয় নিয়ে জানতে আগ্রহী বা সমস্যার সম্মুখীন হবেন তারা আপনার প্রতি মনোযোগী হবে।

প্রোমোশন

কাস্টমারদের সমস্যা ও চাহিদাগুলোকে কিভাবে আপনি পূরণ করছেন বা কোন প্রোডাক্ট গুলো সেটি পূরণ করতে সক্ষম সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।  

অর্থাৎ  কাস্টমারদের সমস্যা এবং চাহিদার বিপরীতে তাদের সমাধানের পদ্ধতি নিয়ে আপনি কথা বলবেন এবং খুব সুকৌশলে আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসগুলো কে সবার সামনে তুলে ধরবেন।  পক্ষান্তরে আপনি আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের প্রচারই করছেন। 

সেলস

এই ধাপে আপনি প্রোডাক্ট ও সার্ভিসগুলো কেনার জন্য কাস্টমারদের উৎসাহিত করবেন এবং একশন গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কল টু একশন প্রদান করবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর এই তিনটি প্রধান অংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বটে। 

ফেসবুক বিজনেসের  সফলতায় কি ধরনের অ্যাকশন প্ল্যান করবেন?

২ বিলিয়ন অ্যাক্টিভ ইউজারদের মধ্যে থেকে আপনার টার্গেট কাস্টমারদের খুঁজে বের করা এবং তাদের সাথে বিজনেস করা মোটেও সহজ কাজ নয়। 

ফেসবুকে একটা ছবি দিলেই  বা একটা পেজ থাকলেই সে কাজটি হয়ে যায় না।  আপনাকে প্রতিক্রিয়াশীল হতে হবে সৃষ্টিশীল হতে হবে, সক্রিয় হতে হবে।

ফেসবুক পেজ অপটিমাইজেশন

আপনি কোন ধরনের বিজনেস সার্ভিস নিয়ে কাজ করছেন সে মোতাবেক আপনার ফেসবুক পেজ টেমপ্লেট এবং কীওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে যেন কাস্টমার সহজেই আপনাকে খুঁজে পেতে পারে।

কোয়ালিটি কাভার পেজ

ফেসবুক বিজনেসের জন্য কাভার ফটো খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেউ একজন আপনার পেজে আসার পরপরই সবার প্রথমে যেটা দেখতে পায় সেটি হচ্ছে কভার পেজ।  এটি অনেকটা বিলবোর্ড অ্যাড এর মতো কাজ করে।

একটি সৃষ্টিশীল ও উন্নত মানের কাভার ফটো সহজেই কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম

কল টু অ্যাকশন

পেজে যাবার পর কাস্টমার আপনার সাথে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে কী করবে?  সে কি আপনাকে মেসেজ দিবে?  আপনাকে ফোন করবে?  

আপনি কি ধরনের যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ আপনার কাস্টমার কোন ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম দ্বারা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে এবং এটিকে মাথায় রেখেই কল টু অ্যাকশন নির্ধারণ করবেন। 

অরিজিনাল পোস্ট তৈরি করুন

কাস্টমারদের জন্য প্রতিদিন নতুন নতুন পোস্ট তৈরি করুন এবং সেটি ফেসবুকের মাধ্যমে শেয়ার করুন।  একই পোস্ট বারবার দেখতে কেউ পছন্দ করেনা। 

পোস্ট তৈরী করার ক্ষেত্রে অবশ্যই  সৃষ্টিশীলতা ও রুচিশীলতাকে প্রাধান্য দেবেন।  আপনি যেমন পোষ্ট করবেন সে ধরনের মানুষকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবেন।

কনটেন্টের ধরন সম্পর্কে সচেতন হোন

আপনি কি জানেন?ফেসবুক এর সবথেকে বেশি এঙ্গেজমেন্ট যে ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আসে সেটি হচ্ছে ভিডিও কনটেন্ট।  

তাই শুধুমাত্র স্টিল পিকচার বা এনিমেশনের উপর নির্ভর না করে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করুন। 

কাস্টমার রিভিউ

ফেসবুক বিজনেস কিংবা ই কমার্স বিজনেস সবক্ষেত্রেই কাস্টমার রিভিউ পার্থক্য তৈরি করে দেয়

কাস্টমার রিভিউ নিয়ে 2017 সালে একটি জরিপে দেখা যায়

  • ৮৫% কাস্টমার ব্যক্তিগত রিভিউ থেকে অনলাইনের কাস্টমার রিভিউকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখে।
  • একজন কাস্টমার অনলাইনে কেনাকাটায় একটি বিজনেসকে ট্রাস্ট করার আগে কমপক্ষে সাতটি রিভিউ পর্যালোচনা করে।
  • কাস্টমার রিভিউ এর ফিডব্যাক দেয়াকে ৩০% কাস্টমার ইতিবাচকভাবে দেখেন।

ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন চালানো

বর্তমান সময়ে ফেসবুকের অর্গানিক রিচ অলমোস্ট জিরো অর্থাৎ আপনি ফেসবুকে টাকা না দিলে আপনার পোস্টটি আর আগের মত রিচ করবে না। 

এজ, জেন্ডার, লোকেশন সিলেক্ট করে বুস্ট রান করে দিলেন তাহলেই অ্যাড হয়ে  গেল বিষয়টি কিন্তু এমন নয়।

আপনার প্রোডাক্টের ধরনের উপর নির্ভর করে কয়েক প্রকার ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন চালানো যায়। যেমন    ক্যারোজেল অ্যাড,  অফার অ্যাড,  ভিডিও অ্যাড এমন  অনেক ধরনের অ্যাড তৈরি করার মাধ্যমে অ্যাড ক্যাম্পেইন তৈরি করবেন।

এছাড়াও নির্দিষ্ট লক্ষ্য উদ্দেশ্য পূরণের জন্য রয়েছে উদ্দেশ্যভিত্তিক অ্যাড ক্যাম্পেইন।  

আপনি কি অর্জন করতে চাচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে বেছে নিবেন আপনার অ্যাড ক্যাম্পেইনের টাইপগুলো।

পরিশেষে

ফেসবুক বিজনেসে সফল হতে হলে প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় গুরুত্বসহকারে খেয়াল রাখতে হবে।  যদি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বিজনেস সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকে তবে হুটহাট করে ঝোঁকের বশে অথবা অন্যের দেখে বিজনেস আরম্ভ করা আপনাকে মারাত্মক রকম ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে।

প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানুন, বিজনেস সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা রাখুন , কাস্টমার সম্পর্কে জানুন, পরিকল্পনা করুন,  কৌশলী হোন আর বেশি বেশি বেচাকেনা করুন।

আপনার ফেসবুক বিজনেসের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?  জানিয়ে কমেন্ট করুন।

ফেসবুক পেজ লাইক: কী, কেন, কীভাবে?

ফেসবুক পেজ লাইক: কী, কেন, কীভাবে?

ফেসবুক পেজ লাইক: ফেসবুক দিয়ে যারা বিজনেস পরিচালনা করছেন তাদের প্রত্যেকের কাছে এই শব্দটির অত্যন্ত পরিচিত। কিন্তু ফেসবুক দিয়ে বিজনেস পরিচালনার ক্ষেত্রে এবং বেচাকেনার জন্য পেজ লাইক কেন প্রয়োজন?  

সে সম্পর্কে অনেকেরই সুস্পষ্ট ধারণা নেই।

অনেকে মনে করেন ফেসবুকে পেজ লাইক বাড়লে বেচাকেনা বাড়বে,  কিন্তু পেজ লাইক বাড়লে কিভাবে বেচাকেনা বাড়বে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট জানেন না।

আসুন জানি,

  • ফেইসবুক পেইজ লাইক কি?  
  • পেইজ লাইক আপনার বিজনেস পেজের জন্য কেন ও কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?
  • কিভাবে আপনার ফেসবুক বিজনেস পেজের জন্য পেজ লাইক নিয়ে  আসবেন?
  • কোন ধরনের পেজ লাইক  আপনার জন্য আদর্শ?

পেজ লাইক কি?

কেউ যখন একটি ফেসবুক পেজ পছন্দ করে, তখন সে পেইজটি লাইক দিয়ে রাখে। যার অর্থ সে পেজটির কন্টেন্টগুলো পছন্দ করছে এবং অনুরুপ কন্টেন্ট দেখতে চায়।  

আবার কেউ একজন একটি পেজ ফলো করছে তার অর্থ সে পেজটির কনটেন্ট তার নিউজফিডে দেখতে চায়।

একটি বিজনেস পেজে কতগুলো লাইক বা ফলোয়ার রয়েছে সেটি বিজনেস পেজের বামদিকের কলামে দৃশ্যমান থাকে। 

এখানে কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে,

  • কেউ যখন একটি বিজনেস পেজ লাইক করছে তখন সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি ফলো করতে শুরু করেছে।
  • একটি বিজনেস পেজে লাইক দিয়ে রাখলেও একই সাথে সে চাইলে পেজটি আনফলো করে রাখতে পারে।
  • লাইক দেয়া অবস্থায় আনফলো করে রাখলে ব্যক্তি সেই বিজনেস পেজ এর কোন আপডেট তার নিউজফিডে পাবেনা। কিন্তু সে পেজের সাথে তখনো যুক্ত আছে।
  • আবার একটি পেজ লাইক না করেও সেটি ফলো করা যায়। 

 

পেইজ লাইক আপনার বিজনেস পেজের জন্য কেন ও কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

গত ৫ বছর আগেও ফেসবুক ব্র্যান্ড পেজের জন্য পেজ লাইক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একটি বিজনেস পেইজের লাইক সংখ্যা যতবেশি হবে,  সেই পেজের পোষ্টগুলো অডিয়েন্স সবার আগে দেখতে পাবে।  

এভাবেই বিগত বছরগুলোতে অনেক এফ কমার্স বিজনেস সফলভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করেছে। কারণ ফেসবুকের শুরুর দিকে পোষ্টের অর্গানিক রিচের পরিমাণ বেশি ছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকের  অ্যালগরিদমে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসায় পেজের অর্গানিক রিচ তলানিতে নেমে এসেছে। 

বর্তমান সময়ে আপনার পেইজে যদি ১ লক্ষ অডিয়েন্স থাকে, তাহলে সবাই আপনার পেজের পোস্ট দেখতে পাবে এমনটি হয় না। 

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ফেসবুকে ব্র্যান্ড পেজের পরিমান বহুগুণে বেড়ে গেছে। প্রায় ২ বিলিয়ন অ্যাক্টিভ অডিয়েন্সের এই বিশাল প্লাটফর্মে শুধুমাত্র বেশি সংখ্যক লাইক থাকা পেইজকে অডিয়েন্সের নিউজফিডের প্রথমে স্থান দেবার পদ্ধতি থেকে ফেসবুক বের হয়ে এসেছে।

কারণ এটি দ্বারা মানুষ অনেক ভুল তথ্য পাচ্ছে। শুধুমাত্র পেইজ লাইক বেশি হবার জন্য আমার পছন্দ না হওয়া সত্তেও অনেক ধরনের পোষ্ট আমরা দেখতাম।

কিন্তু অ্যালগরিদমে পরিবর্তনের কারনে আমরা ঠিক যে ধরনের কন্টেন্ট দেখতে পছন্দ করি, সেই পোষ্টগুলো আমাদের নিউজফিডে প্রদর্শিত হয়।  

ফেইসবুক এই জায়গায়  অডিয়েন্সদের পছন্দ ও অভিজ্ঞতাকে  গুরুত্ব দিয়েছেন

ফেসবুকের এই নতুন পরিবর্তনের একটি মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে,  একটি বিজনেস পেইজের কোন পোস্টে অডিয়েন্স যত বেশি এঙ্গেজ হবে,  সেই পোস্টটিকে ফেসবুক অডিয়েন্সের জন্য প্রাসঙ্গিক মনে করবে এবং সেটিকে আরো বেশি মানুষের নিউজফিডে পৌঁছে দিবে।

একসময় ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখা বেশিরভাগ অডিয়েন্সদের নিউজফিডে  অর্গানিক ভাবে পোষ্টগুলো রিচ করতো। 

কিন্তু ফেসবুক ব্যবহারকারীদের পছন্দ ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে অ্যালগোরিদমে পরিবর্তন নিয়ে আসায়, অর্গানিক ভাবে পেজের পোষ্ট অডিয়েন্সদের কাছে আগের মতো রিচ হয় না।

বর্তমান সময়ে অনেকেই এই অভিযোগ করছেন যে, তাদের ফেসবুক বিজনেস পেজের রিচ  এবং এনগেজমেন্ট অনেক কমে গেছে।  এর কারণ মূলত ফেসবুকের অ্যালগোরিদমের পরিবর্তন।

আরও পড়ুনঃ

ফেসবুক মার্কেটিং রহস্য – কী করবেন আর কী করবেন না

ফেসবুক বর্তমানে পেইড মার্কেটিংকে গুরুত্ব দিচ্ছে, ফলে ফেসবুকে একটি ব্র্যান্ড পেজকে পপুলার করতে হলে অবশ্যই  টার্গেট অডিয়েন্সদের উদ্দেশ্য করে নিয়মিতভাবে পেইজ লাইক এড ক্যাম্পেইন চালিয়ে যেতে হবে। 

ফেসবুক পোস্টের রিচ বেশি হবে না কম হবে সেটি এখন পেজের লাইক সংখ্যার উপর নির্ভর করে না। পেজ রিচ হবার পরিমান নির্ণয় হয় অডিয়েন্স পোষ্টে কীভাবে এঙ্গেজ হচ্ছে সেই বিষয়টির উপর।

তাই আপনার প্রশ্নটি যদি এমন হয়, আমার পেজে ৫০হাজার বা এক লক্ষ পেজ লাইক রয়েছে তার পরেও কেন আমার পেইজের পোষ্টগুলো অডিয়েন্স রিচ করছে না?  তবে আশা করি উপরের আলোচনা থেকে সে বিষয়ে ধারণা পেয়েছেন। 

একটি বিজনেস পেজে লাইক দিয়ে রাখা মানে সেই পেজের পোস্ট গুলো নিউজফিডে দেখবেন এমন নয়? 

আপনার ফেসবুক পেজে যদি ১ লক্ষ লাইক থাকে এর অর্থ এই নয় যে, ১ লক্ষ মানুষ আপনার বিজনেস পেজের পোস্টগুলো পছন্দ করছে এবং নিউজফিডে চায় অথবা আপনার বিজনেস পেজ থেকে প্রোডাক্ট কিনবে বলে সম্মত হয়েছে।

যদি এমন হয় আপনার কোন পোস্টে কেউ রিভিউ  দিয়েছে বা পোস্টে কেউ কমেন্ট  করেছে  অথবা পোস্টটি শেয়ার  করেছে তবে সেই ইন্টারঅ্যাকশন গুলোকে ফেইসবুক মূল্যায়ন করে। 

ফেসবুক মনে করে এই পোস্টটি তার জন্য উপকারী  কারন অডিয়েন্স সেটি পছন্দ করছে এবং ফেইসবুক সেই পোস্টটিকে আরো বেশি সমবৈশিষ্ট্য  অডিয়েন্সদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। 

তাই আপনি যদি ফেসবুক বিজনেস পেজ লাইক থেকে সুবিধা আদায় করতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই শুধু মাত্র পেজ লাইক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে  চলবে না, অডিয়েন্সদের পোষ্টের সাথে এঙ্গেজ রাখতে হবে লাইক, শেয়ার বা কমেন্ট করতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে। 

আপনার ফেসবুক পেজের অডিয়েন্স সংখ্যা যতই কম হোক না কেন তারা যদি আপনার  পেজের পোস্টগুলো পছন্দ করে এবং সেটিতে এঙ্গেজ হয়,  তবেই আপনার বিজনেস পেইজটিকে ফেসবুক অন্যদের থেকে অধিক জনপ্রিয় মনে করবে। 

তাহলে  আমরা যা বুঝতে পারছি,  শুধুমাত্র পেইজ লাইক বাড়িয়ে তুললেই হবে না,  গুরুত্ব দিতে হবে পেইজ বা পোস্টে অডিয়েন্সদের এঙ্গেজমেন্টের কোয়ালিটির উপর।  

ফেসবুকের পেজ লাইকের পরিমান আপনার বিজনেসের বেচাকেনার পরিমাণকে বাড়িয়ে তোলে না

জানলে অবাক হবেন একটি গবেষণায় দেখা গেছে একটি ব্র্যান্ড পেজের মোট লাইক সংখ্যার মাত্র ১%  অডিয়েন্স সেই পেজটি ভিজিট করে, যদিও একজন ফেসবুক ইউজার তার সারাদিনের  বেশ বড় একটি সময় ফেসবুক নিউজফিড কাটিয়ে দেয়। 

তাই ফেসবুক পেইজ লাইক বাড়লে আপনার পেজের বেচাকেনা বাড়বে সেই ধরনের চিন্তা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে থাকবেন না। 

তাহলে কি আমরা ফেসবুক পেইজ লাইক বাড়ানোকে গুরুত্ব দিবো না? 

অবশ্যই আমরা ফেইসবুক পেজ লাইক বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দিবো, কারণ এর কিছু সুবিধা রয়েছে।  

পেইজ লাইক আপনার বিজনেস পেজের জন্য কেন ও কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ? 

  •  ফেসবুক পেইজ লাইক  বিজনেসের সোশ্যাল প্রুফ হিসেবে কাজ করে

আপনি একটি  দীর্ঘ সময় ফেসবুক ব্র্যান্ড পেজ পরিচালনা করছেন এবং মানুষ আপনার বিজনেস টিকে পছন্দ করছে। কতজন মানুষ আপনার বিজনেসটি পছন্দ করছে এটি  বোঝা যায় পেজের লাইক সংখ্যা দেখে।  

যার যত বেশি পেইজ লাইক এবং ফলোয়ার সংখ্যা, সামাজিক মাধ্যমে তার স্বীকৃতি ততবেশি বলে মনে করা হয়।

টপ টেন ফেসবুক বিজনেস পেজ ইন বাংলাদেশ লিখে গুগলে সার্চ দিলে প্রথম পেজে সবার উপরে চিত্রের রেজাল্টগুলো পাবেন।

এই ক্রমানুসার নির্ধারণ হয়েছে তাদের ফেসবুক ফলোয়ারদের সংখ্যার উপর ভিক্তি করে,

বিসিবি এর ফলোয়ার সংখ্যা সবার চেয়ে বেশি প্রায়,  9,093,529

প্রথম আলোর ফলোয়ার সংখ্যা  8,732,244 যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ,

সাকিব আল হাসানের ফলোয়ার সংখ্যা 8,555,307 যা তৃতীয় সর্বোচ্চ।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বিবিসি বাংলা যার পেজ লাইক  7,714,552

সুতরাং একটি ফেসবুক পেজের লাইক বা ফলোয়ারের সংখ্যা দ্বারা. অনুমান করা হয় সেই পেজের গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব।  

অনলাইন কেনাবেচার ক্ষেত্রেও এটি একইভাবে প্রয়োজন, আপনি নিশ্চয়ই ৩০০ লাইক আছে এমন কোন বিজনেস পেজ থেকে কেনাকাটা  করতে চাইবেন না। 

যে বিজনেস পেজটির পেজ লাইক সংখ্যা সর্বনিম্ন ১০ হাজার রয়েছে এমন একটি পেজকে বেছে নিতে চাইবেন। 

যদিও ফেসবুক পেইজ লাইক সরাসরিভাবে বিজনেসের রেভিনিউ এর সাথে সম্পর্কিত না, কিন্তু একটি  ব্র্যান্ড পেজের অথরিটি তৈরিতে এটি  সাহায্য করে।

  • ব্র্যান্ড পেজের কমিউনিটিকে চাঙ্গা রাখতে

একটি ফেসবুক ব্র্যান্ড পেজে লাইক দেবার পর শেষ কবে সেই পেইজটি আপনি ভিজিট করেছেন?  মনে করতে পারবেন? 

এটি মনে করা সত্যি কষ্টকর। কারণ আমরা হয়তো সেই ব্র্যান্ড পেজটি পছন্দ করি,  কিন্তু সক্রিয়ভাবে সেটির সাথে যুক্ত থাকিনা।

নতুন পেইজ লাইকের অর্থ নতুন  ফ্যানবেজ তৈরি হওয়া।  নতুনরা  প্রথমদিকে বেশ একটিভ থাকে।

একটি পেইজের  অডিয়েন্স সংখ্যা যখন বাড়ছে পাশাপাশি পুরনো  অডিয়েন্সদের  অ্যাক্টিভ থাকার  পরিমাণ কমে যাচ্ছে। 

ফেইসবুক পেইজের অ্যাক্টিভ অডিয়েন্সের ভারসাম্য বজায় রাখতে আপনাকে অবশ্যই নতুন ফ্যান ফলোয়ার্স  বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। 

যার প্রধান  উপায় হলো পেজ লাইক।  

  • দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে রাখতে সাহায্য করে

খেয়াল করে দেখবেন আপনি যখন একটি পেইজে লাইক করেন তখন রিলেটেড কিছু পেজের রেকমান্ডেশন আপনার পেজে অটোমেটিক ভাবে চলে আসে।

অর্থাৎ আপনার  পছন্দের ধরনের উপর নির্ভর করে ফেসবুক আপনাকে কিছু রিলেটেড ফেসবুক পেজ রিকমেন্ডেড করে।

ঠিক একই ভাবে  কেউ যখন আপনার পেইজটি লাইক করছে তখন তার মিউচুয়াল ফ্রেন্ড এর নিউজফিডে আপনার লাইক করা পেজগুলো ফেসবুক তাকে সাজেস্ট করবে। 

যেহেতু আপনি সেই পেজগুলো পছন্দ করেন  তাই আপনার মিউচুয়াল ফ্রেন্ড হিসেবে বন্ধুদেরও সেই পেজ গুলো পছন্দ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ফেসবুক মনে করে।  

এতে করে  আপনার ফেসবুক পেজের দৃশ্যমানতা বেড়ে যায়।

যত বেশি নতুন কাস্টমারদের আপনি নিয়ে আসতে সক্ষম হবেন ততবেশি একই ধরনের  বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন  অডিয়েন্সদের কাছে  আপনার পেজটিকে ফেসবুকে  রিকমেন্ড করবে।

 

 

কিভাবে আপনার ফেসবুক বিজনেস পেজের জন্য পেজ লাইক নিয়ে  আসবেন?

অর্গানিক রিচ কমে গেছে, নতুন কাস্টমারদের  রিচ করা আগের চেয়ে অনেক কঠিন। এমন একটি পরিস্থিতিতে কীভাবে নতুন পেজ লাইক নিয়ে আসবেন।

এখানে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো,  যা আপনার ফেসবুক পেইজের জন্য নতুন পেইজ লাইক নিয়ে আসতে সাহায্য করবে।

  • ফেসবুক এড এর মাধ্যমে

যদি আপনি প্রশ্ন করেন বর্তমান সময়ে ফেসবুক পেজে নতুন অডিয়েন্স নিয়ে আসার জন্য কি উপায়? তবে নিঃসন্দেহে ফেসবুক এড উৎকৃষ্ট সমাধান।

ফেসবুক এড এর বিভিন্ন রকম অবজেক্টিভ রয়েছে যার মধ্যে একটি হচ্ছে এঙ্গেজমেন্ট। সাধারণত ফেসবুক পেইজ লাইক বাড়ানোর জন্য এই অবজেক্টিভ সিলেক্ট করে অ্যাড  চালানো হয়ে থাকে। 

  • ইনভাইট 

ফেসবুকে এড যাওয়ার পরে অনেকেই এড এর সাথে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করে এঙ্গেজ হলেও সবাই পেইজে লাইক দেয় না। পোস্ট পছন্দ আর পেজ পছন্দ এক বিষয় নয়।  

সে ক্ষেত্রে আপনি তাদেরকে ম্যানুয়ালি পেইজ লাইক দিতে ইনভাইট করতে পারেন।  

  • ভাইরাল কন্টেন্ট তৈরি করুন

ফেসবুকের কল্যাণে ইদানিং ভাইরাল শব্দটি আমাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি শব্দ। হুটহাট করে ফেসবুকে অনেকেই ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে,  তারা কিভাবে ভাইরাল হচ্ছে?

ফেসবুকে যে কনটেন্টগুলো ভাইরাল হচ্ছে তা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি এবং একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর অডিয়েন্সদের  টার্গেট করে বানানো। 

ভাইরাল হয়েছে তাই পছন্দ করছে বিষয়টি এমন নয়,  পছন্দ করে বলেই কনটেন্টটি ভাইরাল হয়েছে।

অনেকে সেটি পছন্দ করে তাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করছে যার ফলে সেই কনটেন্ট গুলো ফেসবুকে দুর্দান্ত ট্রাকশন  পাচ্ছে।

ভাইরাল কন্টেন্টের একটি বড় সুবিধা হচ্ছে, খুব অল্প পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে অথবা কখনো অর্থ ব্যয় না করেই ফেসবুকে বড় একটি অডিয়েন্স গ্রুপকে রিচ করা যায় এবং এঙ্গেজ করা যায়। 

ফেসবুকের কোন ধরনের অডিয়েন্স এই কন্টেন্ট গুলোর সাথে এঙ্গেজ হবে সেটি নির্ভর করছে কনটেন্টের কোয়ালিটির কেমন হবে তার উপর। 

  • দৃষ্টিনন্দন ক্রিয়েটিভ

ফেসবুক পোষ্টের কন্টেন্ট যদি সৃষ্টিশীল হয় এবং আপনার টার্গেট অডিয়েন্সদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়, তবে আপনার পেজটিকে পছন্দ করার জন্য তারা বেছে নিবে।

বর্তমান সময়ে অনেকেই তাদের ফ্যান ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য একটি চমৎকার সৃষ্টিশীল  কনটেন্ট  তৈরীর দিকে মনোযোগী হচ্ছে। কারণ, একটি পেজকে পছন্দনীয় করে তুলতে এটিই প্রধান উপকরণ । 

আপনাকে কাস্টমারদের কাছে পরিচিত হতে হলে অবশ্যই  তারা পছন্দ করে এমন কনটেন্ট গুলো সৃষ্টিশীল উপায় উপস্থাপন করতে হবে। 

  • ফেসবুক লাইভ

ফেসবুক লাইভ বর্তমান সময়ের ট্রেন্ড। সকল ব্র্যান্ড পেজ লাইভ এর মাধ্যমে তাদের প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসকে প্রমোট করছে। 

ফেসবুকে ভিডিও কনটেন্ট এর জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি তাই অনেকেই লাইভকে বেছে নিচ্ছেন প্রমোশনের একটি অন্যতম উপায় হিসেবে।

লাইভ এর মাধ্যমে সরাসরি কাস্টমারদের সাথে যুক্ত থাকা যায় এবং তাদেরকে আপনার পেইজটি লাইক করার জন্য উৎসাহিত করা অনেক সহজ ।

  •  ইনফ্লুয়েন্সার

আপনি কি ফেসবুকে  সমসাময়িক সময়ে কিছু এডভারটাইজিং কৌশল খেয়াল করেছেন?  

যেমন, রিয়েলমি মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড তাদের প্রোডাক্টের প্রমোশনের জন্য ফেইসবুক ইনফ্লুয়েন্সারদের শরণাপন্ন হয়েছে।

বেশ কিছু জনপ্রিয় ফেইসবুক ইন্টারটেইনার,  যেমন, কিটো ভাই,  আতিক ভাই  অথবা  শামস  থটস এর মতো  সোশ্যাল এন্টারটেইনারদের ব্যবহার করে রিয়েলমি তাদের টার্গেট অডিয়েন্সদের কাছে  পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। 

ইনফ্লুয়েন্সার ক্যাম্পেইনগুলো দেখুন,  

কিটো ভাইয়ের রিয়েলমি ক্যাম্পেইন

 

আতিক ভাইয়ের রিয়েলমি 6 রিভিউ

অন্যের পরিচিতি-কে ব্যবহার করে ফেসবুক পেজে ট্রাফিক নিয়ে এসে পেজ লাইক ও সেল বাড়াতে কাস্টোমারের কাছে পৌঁছানোর এটি একটি অন্যতম কৌশল।

  • ইমেইল মার্কেটিং

অনলাইন বিজনেস এর ক্ষেত্রে ইমেইল মার্কেটিং কার্যকরী একটি পন্থা। আপনি যখন ইমেইলের মাধ্যমে আপনার অডিয়েন্সের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছেন তখন সেখানে আপনার ফেসবুক পেজের লিংকগুলো যুক্ত করে রাখুন।

এভাবে আপনার বিজনেস পেজ এর জন্য নতুন পেইজ লাইক নিয়ে আসতে পারেন। 

  • এসএমএস মার্কেটিং

এটি ইমেল মার্কেটিং এর মতই যেখানে আপনি একজন অডিয়েন্সকে সরাসরি তার  ফোনের মেসেজ ইনবক্সে  একটি তথ্য পৌঁছে দিতে সক্ষম হন।  

যদি আপনার কাছে কাস্টমারদের ফোন নাম্বারের লিস্ট থেকে থাকে তবে তাদের টার্গেট করে আপনার ফেসবুক পেইজটি লাইক করার জন্য একটি এসএমএস মার্কেটিং  ক্যাম্পেইন  চালাতে পারেন। 

কোন ধরনের পেজ লাইক আপনার প্রয়োজন আপনার জন্য আদর্শ

দৃষ্টিনন্দন ও সৃষ্টিশীল  কনটেন্ট তৈরি করলেন, পেইজ লাইক নিয়ে আসার জন্য অভিনব কৌশল অবলম্বন করলেন।

তাহলে কি আপনি আপনার বিজনেস পেজের জন্য আদর্শ অডিয়েন্স পাবেন?

এইখানে অধিকাংশ f-commerce ব্যবসায়ীরা যে ভুলটি করেন। সেটি হচ্ছে তারা শুধুমাত্র পেজ লাইক নিয়ে আসার দিকে মনোযোগী হন।

এটি একটি বড় রকম ভুল। 

আপনার প্রয়োজন বিজনেসের জন্য সঠিক এবং আদর্শ কাস্টমার যারা আপনার পেজের সাথে যুক্ত থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে আপনার থেকে কেনাকাটা করবে। 

অনেকে মনে করেন পেজে লাইক  আসলেই হলো, কেউ কেউ প্যাকেজ পেইজ লাইক ও ফেক পেজ লাইকের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন।

তাতে তার পেজের লাইক সংখ্যা  হয়তো বাড়ে কিন্তু সেই পেজ লাইক কোনো কাজে আসে না।

একটি কাস্টমার গ্রুপ চিন্তা করুন, যারা রুচিশীল, সৌখিন এবং স্বচ্ছল।

পাশাপাশি দ্বিতীয় আরেকটি কাস্টমার গ্রুপ চিন্তা করুন, যাদের পছন্দ কম দামি প্রোডাক্ট, কাজ চললে হয় মানসিকতায় বিশ্বাসী এবং সীমিত আয়ের।

এখন আপনি দ্বিতীয় কাস্টমার গ্রুপের কাছে দামি  ও সৌখিন প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন দিলেন করলেন, তারা দেখবে, পছন্দ করবে, লাইক করবে কিন্তু কিনবে না।

আবার একইভাবে আপনি যদি প্রথম কাস্টমার গ্রুপের কাছে কমদামি বা এভারেজ প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন প্রচার করেন, তবে তারা হয়তোবা দেখবে কিন্তু সেটি পছন্দ করবে না এবং কখনোই কিনবে না।

একবার ভেবে দেখুন তো,  ফেসবুকে অনেক সময় আমাদের নিউজফিডে mercedes-benz কিংবা ল্যান্ড রোভার  গাড়ির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন আসে।  

আমরা বিজ্ঞাপনগুলো দেখি, লাইক করি, শেয়ার করি কিন্তু একজন মধ্যম বা নিম্ন মায়ের মানুষের ক্ষেত্রে কি এই লাক্সারি গাড়ি কিনতে আদর্শ।  

যদি সেটা না হয় তবে আমাদের নিউজফিডে সেই বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করতে বিজ্ঞাপনদাতার যে খরচ হয়েছে তার বিপরীতে সেল নিয়ে আসতে কোন কাজে আসেনি। 

ফেসবুক পেইজের লাইক বাড়াতে গিয়ে আপনি ঠিক একই ভুল করছেন না তো?  

মনে রাখবেন, ভুল টার্গেটিং মানে ভুল অডিয়েন্স গ্রুপকে এঙ্গেজ করা। 

আর ভুল  টার্গেটিং এর মাধ্যমে  যে পেইজ লাইক আপনি নিয়ে আসছেন তা আপনার প্রোডাক্ট বিক্রির ক্ষেত্রে কোন কাজেই আসবে না। 

এক কথায় এটি অর্থের অপচয়।  

তাই পেইজ লাইক ক্যাম্পেইন চালানোর ক্ষেত্রে  টার্গেট কাস্টমারদের সম্পর্কে  গবেষণা করা আবশ্যক। 

বর্তমান সময়ে প্রফেশনাল সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি গুলো ফেইসবুক বিজ্ঞাপন দেয়ার ক্ষেত্রে কাস্টমারদের রিকোয়ারমেন্ট বুঝে সে মোতাবেক অডিয়েন্স টার্গেট করে।  

এই কাজটি করতে তারা বিভিন্ন ধরনের টুলস ও টেকনোলজি ব্যবহার করে থাকে। যা কাস্টমারদের ফেসবুক বিজ্ঞাপনের জন্য খরচ করা অর্থের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত সেলস নিশ্চিত করে। 

পরিশেষে,

পেইজ লাইক বেশি হবার মানে আপনার  বিজনেসের বেচাকেনা বেড়ে যাবে অথবা সবাই আপনার প্রোডাক্ট গুলো পছন্দ করবেন এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। 

আপনার  প্রোডাক্টের জন্য আদর্শ কাস্টমার গ্রুপ খুঁজে বের করে তাদেরকে বিভিন্ন কৌশলে আপনার  ফেসবুক বিজনেস পেজটির সাথে  এঙ্গেজ রাখা এবং এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রোডাক্ট কেনার  আকাঙ্ক্ষা তৈরি করতে হবে। 

তাদের কাছে সেল করতে হলে খুঁজে বের করতে হবে ঠিক কোন ধরনের  অডিয়েন্স আপনার জন্য আদর্শ।

আপনি যখন জানবেন কোন কাস্টমার গ্রুপ আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ তখন তাদের সঠিকভাবে টার্গেট করতে সক্ষম হবেন এবং তারা আপনার পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকবে।   

যাদের কাছে পরবর্তী সময়ে আপনার ফেইসবুক পেইজ দ্বারা কেনাবেচা  চালিয়ে যেতে পারবেন। 

আপনি আপনার ফেসবুক বিজনেস পেজের  পেজ লাইক ক্যাম্পেইনে চালানোর ক্ষেত্রে কিভাবে টার্গেট অডিয়েন্স নির্ধারণ করেন?  

ফেইসবুক পেইজ লাইক সংক্রান্ত আপনার জিজ্ঞাসা  ও মতামত  জানিয়ে কমেন্ট করুন। 

দুর্দান্ত ই-কমার্স শপিং অভিজ্ঞতার জন্য শপিং কার্ট পেজে যে ফিচারগুলো থাকতে হয়

দুর্দান্ত ই-কমার্স শপিং অভিজ্ঞতার জন্য শপিং কার্ট পেজে যে ফিচারগুলো থাকতে হয়

শপিং কার্ট পেজ ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কেনাকাটা সম্পন্ন করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

অনলাইন শপিং-এ কাস্টমার জার্নির ক্ষেত্রে এই ধাপ ই-কমার্স কেনাকাটায় প্রভাব ফেলে। 

প্রোডাক্টের শোকেস পেজের সাথে চেকআউট পেজের ব্রিজ হিসেবে এই শপিং কার্ট পেজ কাজ করে।

একজন কাস্টোমার যখন একটি প্রোডাক্ট শপিং কার্টে বা বাস্কেটে যুক্ত করে করে,  তখন তার চিন্তা থাকে সেটি ক্রয় করতে যাচ্ছে।

অনেকক্ষেত্রে এই পেজের কিছু ভুলের কারণে কাস্টমার কেনাকাটা সম্পন্ন না করেই বের হয়ে যান।

আবার অনেক সময় এই পেজে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হয়েও কেনাকাটা সম্পন্ন না করেই কাস্টমার ই-কমার্স সাইট ত্যাগ করেন।

এ আর্টিকেলে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে একজন ক্রেতা শপিং কার্ট পেইজে ঠিক কোন বিষয়গুলো দেখতে পছন্দ করেন সেটি সম্পর্কে আপনাকে ধারণা দেবে।

আরও পড়ুনঃ

কীভাবে ইকমার্স ওয়েবসাইট দিয়ে প্রথম সেলটি নিয়ে আসবেন?

প্রোডাক্ট টাইটেল

প্রোডাক্ট টাইটেল ঠিক যেভাবে শোকেস পেজে দেখানো হয়েছিল, সেভাবেই একজন কাস্টোমার শপিং কার্ট পেজেও এটি দেখতে চায়।

এতে করে সে সঠিক প্রোডাক্টটি কিনতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।

প্রোডাক্টের মূল্য

 

শপিং কার্ট পেজে টাইটেল এর পাশাপাশি প্রোডাক্ট এর মূল্য থাকতে হবে।

কাস্টমার প্রোডাক্ট কেনাকাটা করার জন্য শপিং কার্টে যখন প্রোডাক্ট অ্যাড করে, তখন সে প্রতিটি প্রোডাক্টের মূল্যকে আলাদা আলাদাভাবে বিবেচনা করে। 

এরপরে সামগ্রিক বা টোটাল মূল্য কত হলো  সেটি সে দেখতে চায়। তাই ব্যক্তিগত মূল্যের পাশাপাশি টোটাল মূল্য চেকআউট পেজে তুলে ধরতে হবে।

প্রোডাক্টের ইমেজ

শপিং কার্ট পেজে শুধু প্রোডাক্টের টাইটেল বা মূল্য থাকলেই হবে না, থাকতে হবে প্রোডাক্টের ছবি। 

প্রোডাক্টের ছবি কেনাকাটায় কাস্টমারের অবচেতন মনে এক উদ্দীপনার সঞ্চার করে।তার পছন্দের প্রোডাক্টটি চোখের সামনে দৃশ্যমান হলে সে সুখ অনুভব করে। 

পরিমাণ সংক্রান্ত তথ্য

কাস্টমার যখন একটি প্রোডাক্ট শপিং কার্টে যোগ করে এবং চেক আউটের জন্য ফাইনাল ডিসিশন নেয়, তখন সে শেষবারের মতো দেখে যে কতগুলো প্রোডাক্ট সে অর্ডার করতে যাচ্ছে।

এই তথ্য নিশ্চিত হবার পরে সে চেক আউট ধাপে যায়। 

এডিট অপশন

পূর্বে

এডিট করার পরে

শপিং কার্ট পেজে এডিট অপশন অবশ্যই থাকতে হবে। কাস্টমার যদি মনে করে যতগুলো প্রোডাক্ট সে শপিং কার্ট পেজে যোগ করেছে সেখান থেকে কিছু পরিবর্তন করতে চায় বা যোগ করতে চায় যেন সে অনায়াসে করতে পারে।

বাধাগ্রস্ত হলে কেনাকাটা না করেই কাস্টমার চলে যেতে পারে।

কল টু অ্যাকশন

শপিং কার্ট পেজে সমস্ত প্রোডাক্ট ঠিকঠাক ভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরে কাস্টমার কি করবে? পরবর্তী ধাপ কি হবে?  সে সম্পর্কে তাকে বলতে হবে।  সেজন্য পরিষ্কার কল-টু-একশন বাটন দিয়ে তাকে পরবর্তী স্টেপে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাইড করা জরুরি।

কল টু অ্যাকশন বাটনগুলো হতে হবে এমন যেটি সহজে দৃশ্যমান ও বোধগম্য। 

টার্ম ও কন্ডিশন এবং রিটার্ন পলিসি

 

টার্ম ও কন্ডিশন এবং রিটার্ন পলিসি শপিং কার্ট পেজে থাকলে প্রোডাক্ট কেনাকাটা পরবর্তী সময়ে, প্রোডাক্ট রিটার্ন, চেঞ্জ অথবা পেমেন্ট সম্পর্কিত বিষয়ে আপনি প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন না এবং কাস্টমার কেনাকাটায় আস্থা পাবে।

যোগাযোগের তথ্য

 

আপনার সাথে যোগাযোগের জন্য সকল ধরনের কন্টাক্ট অ্যাড্রেস বা ফোন নাম্বার উল্লেখ রাখবেন। এটি খুবই জরুরি। 

একজন কাস্টমার যেকোনো মুহূর্তে আপনার সাথে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে শপিং কার্ট কেনাকাটায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার শেষ ধাপ। 

এই ধাপে অবশ্যই যোগাযোগের তথ্য রাখবেন, এটি কাস্টমার দেখতে চায়।

 

 

হেল্প অপশন

 

শপিং কার্ট থেকেই অনেক কাস্টমার চেক-আউট প্রসেসে যাওয়ার আগেই শপিং কার্ট ত্যাগ করেন। এর মূল কারণ উনি হয়তো কোন বিষয়ে কনফিউশনে ভুগছেন। 

তার কনফিউশন যেন না থাকে সেজন্য আপনার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ওপেন রাখবেন। এ জন্য সবথেকে ভাল পদ্ধতি হচ্ছে হেল্প লাইন বা হট লাইন অপশন রাখা। 

কাস্টমার একটি প্রবলেম ফেস করার সাথে সাথে ইনস্ট্যান্ট যেন সাহায্য পেতে পারে।

পেমেন্ট অপশন

 

শপিং কাটে আপনি কোন কোন পেমেন্ট মেথড গ্রহণ করছেন সেটি উল্লেখ রাখবেন। কাস্টমার কোন কোন মাধ্যম দিয়ে পেমেন্ট করতে পারবে সেটি জানতে চায়।

অনেক সময় কাস্টমার যে পেমেন্ট অপশন ব্যবহার করছে সেটি সেলার গ্রহন করবে কিনা সে বিষয়ে কনফিউশনে থাকে। কাস্টমারদের কনফিউশন দূর করুন। 

কন্টিনিউ শপিং এর লিংক যুক্ত রাখা

শপিং কার্টে কাস্টমার কি কি প্রোডাক্ট অ্যাড করলো দেখার পরে সে যদি মনে করে আরো কিছু প্রোডাক্ট তার যোগ করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে সে যেন সেখান থেকে সরাসরি কন্টিনিউ শপিং অপশন ব্যবহার করে মূল সাইটে ফিরে গিয়ে আবার প্রোডাক্ট শপিং কার্টে যোগ করতে পারে সেই সুবিধা রাখতে হবে।

প্রোমো কোড বা কুপন কোড বক্স

প্রোমো কোড বা কুপন কোড ই-কমার্স বিক্রয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রমো কোড এপ্লাই করার জন্য শপিং কার্ট পেজ আদর্শ। 

আপনি যখন প্রমো কোড এপ্লাই করছেন তখন ঠিক কত টাকা সেভ করলেন সেটি প্রদর্শন করাটা প্রয়োজন। 

এতে কাস্টমার খুশি হয় যখন সে দেখে কত টাকা সে কেনাকাটা করে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে।

 

পরিশেষে, 

শপিং কার্ট পেজটির সঠিক ব্যবহার আপনার ই কমার্স সাইটে কাস্টমারদের কার্ট ছেড়ে যাবার প্রবণতাকে অনেকাংশে কমিয়ে দিতে সক্ষম।

সেজন্য আপনাকে উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে যা দেশি কমার্স সল্যুশনের প্রতিটি কাস্টমারের ই-কমার্স ওয়েবসাইটে নিশ্চিত করা হয়েছে। 

আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের শপিং কার্টে কি উপরের উল্লেখ করা বিষয়গুলো রয়েছে? 

কোন বিষয়গুলো নেই এবং আরও কোন বিষয় আপনি শপিং কার্ট পেজে যোগ করতে চান?  আমাদের জানিয়ে কমেন্ট করুন।

ই-কমার্স বিজনেসে প্রোডাক্টের মূল্য নির্ধারণ কৌশল

ই-কমার্স বিজনেসে প্রোডাক্টের মূল্য নির্ধারণ কৌশল

ই-কমার্স বিজনেসের জন্য সঠিক মূল্য নির্ধারণ কৌশল খুঁজে পাওয়া খুব সহজ নয়।এজন্য মূল্য নির্ধারণের কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। 

যার মাধ্যমে আপনি আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ মূল্য নির্ধারণ কৌশল খুঁজে পাবেন।এই আর্টিকেলে ই-কমার্স কেনাবেচায় সঠিক মূল্য নির্ধারণের কিছু কৌশল এবং টিপস বর্ণনা করা হয়েছে। 

যার মাধ্যমে আপনার ই-কমার্স বিজনেস জন্য উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ কৌশল নির্ণয় সাপেক্ষে বিজনেসের প্রফিট বাড়িয়ে তুলতে পারবেন।

অনলাইন বিজনেসে আপনাকে প্রতিযোগীতা করতে হয় বিশ্বের বড় থেকে ছোট সকল ই-কমার্স প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে।

এই মার্কেটে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হলে শুধুমাত্র কম মূল্যে প্রোডাক্ট অফার করার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

মূল্য নির্ধারণের কৌশলটি হতে হবে এমন যা কাস্টমার আকৃষ্ট করে এবং প্রোডাক্টটির জন্য পরিশোধিত মূল্যের সমানুপাতিক উপযোগিতা নিশ্চিত করবে।

তাহলে আপনাকে জানতে হবে, মূল্য নির্ধারণের কৌশলগুলি।

যা আপনার ই-কমার্স বিজনেসের প্রোডাক্টের মূল্যের সাথে প্রোডাক্টের উপযোগিতার সমন্বয় তৈরির মাধ্যমে অনলাইন বিজনেসে সফলতা নিয়ে আসে। 

ই-কমার্স বিজনেসের মূল্য নির্ধারণ কৌশল 

ই-কমার্স মূল্য নির্ধারণ কৌশল এর ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। প্রতিটি বিজনেসের জন্য মূল্য নির্ধারণ কৌশল বিভিন্ন রকম হতে পারে। 

যদি না আপনি খুব বড় পরিসরে প্রোডাক্ট বেচাকেনা করেন, তবে অল্প পরিমাণ প্রোডাক্টের জন্য সামান্যতম মূল্যের পার্থক্য বিজনেসের মূলধনে বড় ধরনের ইম্প্যাক্ট করে।

তাই মূল্য নির্ধারণ কৌশল নিয়ে পরীক্ষা করার আগে যে বিষয়গুলো আপনার বিক্রয় মূল্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং লাভ লসের পরিমাণ কে প্রভাবিত করে সেই সকল কারণগুলো খুঁজে বের করা আবশ্যক।

কেন প্রোডাক্টের মূল্য ৯৯ নির্ধারণ করা হয়

মূল্য নির্ধারণ কৌশলে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো প্রধান ভূমিকা পালন করে।

অনেক সময় খেয়াল করবেন একই প্রোডাক্ট এর মূল্য নির্ধারণের সময় ১০০ টাকার পরিবর্তে ৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ১০০ সংখ্যাটির চেয়ে ৯৯ সংখ্যাটি কম শোনায়,যদিও পার্থক্য খুব সামান্য।

আপনার কাস্টমার যদি প্রাইস সেনসিটিভ হয়ে থাকে, তবে এই মূল্য নির্ধারণ কৌশলটি দ্বারা সে নিশ্চিতভাবে প্রভাবিত হবে।

আর এই কারনেই অধিকাংশ ই-কমার্স বিজনেসে প্রোডাক্ট এর জন্য মূল্য নির্ধারণে রাউন্ড ফিগারের থেকে কিছু পয়েন্ট কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়।

মূল্যের ক্রমানুসার

খেয়াল করে দেখবেন, একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটে উচ্চমূল্য থেকে নিম্ন মূল্য দিকে ক্রমানুসারে পেজে প্রোডাক্ট আপলোড করা থাকে।

এর মূল কারণ, কাস্টমার একটি ওয়েবসাইটের প্রথম পেজ থেকেই তার প্রোডাক্টটি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে এবং সবগুলো পেজ ভিজিট করার আগেই সে সম্ভব্য একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ফলে পেজের প্রথমদিকে উচ্চমূল্যের প্রোডাক্টগুলো শোকেস করা থাকলে কাস্টমার প্রথম পেজের প্রোডাক্ট থেকে অর্ডার করলে এটি বিজনেসের অ্যাভারেজ সেলস ভলিউম বাড়িয়ে দেয়।

আবার অনেক ই-কমার্স সাইটে ফিল্টারিং অপশনে হাই থেকে লো এবং লো থেকে হাই মূল্য ক্রমানুসারে প্রোডাক্ট সাজিয়ে রাখেন। 

অনেক কাস্টমার কমমূল্যের প্রোডাক্ট কিনতে পছন্দ করে।

সেক্ষেত্রে সে কম মূল্য থেকে ক্রমানুসারে তার বাজেট অনুসারে বেশির দামের প্রোডাক্টের দিকে ধাবিত হওয়া সুযোগ থাকে।

মূল্য ছাড়

কাস্টমার আসল মূল এর থেকে কম দামে প্রোডাক্ট কিনতে পারলে খুশি হয়।কারণ কাস্টমার জিততে চায়। 

একটি প্রোডাক্টে যখন মূল্য ছাড় দেওয়া হয় কাস্টমার মনে করে তার জন্য এই ডিলটি উপযুক্ত এবং সেক্ষেত্রে সে তার বাজেটের থেকে বেশি পরিমাণ কেনার চিন্তা করে।

অনেক ই-কমার্স সাইটে মূল্য ছাড় দেয়া প্রোডাক্টের জন্য আলাদা মেনু দেওয়া থাকে।

যে সকল কাস্টমার মূল্যছাড়ের প্রোডাক্ট কিনতে পছন্দ করেন তারা চাইলেই সবগুলো মূল্যছাড়ের  প্রোডাক্ট একসাথে দেখতে পায়।

এই অংশে মূল্য নির্ধারণের কিছু অনৈতিক চর্চা অনেকে করে থাকেন।

দেখা যায় একটি প্রোডাক্টের আসল মূল্য থেকে বেশি মূল্য নির্ধারণ করে সেটিকে ডিসকাউন্টে আসল মূল্যের কাছাকাছি রেখে বিক্রয় করে।

এই চর্চাটি কমার্স বিজনেস এর জন্য কখনোই সুফল বয়ে নিয়ে আসে না।

বিজনেসের ইথিক্যাল চর্চার ক্ষেত্রে আপনি অবশ্য একটি প্রোডাক্ট পূর্বনির্ধারিত প্রাইস উল্লেখ সাপেক্ষে ছাড়কৃত মূল্য নির্ধারণ করবেন। 

এটি একদিকে যেমন আপনার ই-কমার্স বেচাকেনা বাড়িয়ে দেয় অন্যদিকে কাস্টমারদের মনে আপনার উপর আস্থার জায়গা তৈরি হয়। 

“মূল্য ছাড়” কিভাবে প্রদর্শন করবেন

মূল্য ছাড় দেবার সময় কাস্টমার যেন পরিস্কার বুঝতে পারে সে ঠিক কত টাকা সেভ করল।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি মূল্য ছাড় কৃত প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে একজন কাস্টোমার কত শতাংশ অথবা কত টাকা সেভ করল সেটি উল্লেখ করে দেন।

মূল্যবৃদ্ধি যখন কাস্টমারদের নজরকাড়ে

সব সময় মূল্য ছাড় কাস্টমারদের আকর্ষণ করে এমনটি নয়। অনেক সময় মূল্যবৃদ্ধি করলে কাস্টমারদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। 

যদি ৫০% তারও বেশি মূল্য ছাড় দিয়ে একটি প্রোডাক্ট সেল করেন, তবে বিজনেসের সেল বাড়বে এমনটি নিশ্চিত ভাবে বলা যাবে না।

খেয়াল করলে দেখা যায়, পরিমিত মূল্যছাড়ের প্রোডাক্টগুলোর প্রতি কাস্টমারদের আগ্রহ বেশি। 

তারা মনে করে ৫০% বা তার চেয়ে বেশি পরিমান মূল্য ছাড় দেয়া প্রোডাক্টগুলো মানহীন অথবা রিজেেক্টড। যে কারণে এগুলো বিক্রি করতে এত পরিমাণ মূল্য ছাড় দিচ্ছে।

অপরদিকে, যখন আপনি সামান্য মূল্য ছাড় দিচ্ছেন হয়তো সেটি ৫ শতাংশ অথবা ২০ শতাংশ পরিমান।

সেক্ষেত্রে কাস্টমারদের মনে এ ধারণা জন্মে যে, আপনি শুধুমাত্র কাস্টমারদের বেনিফিটের কথা ভেবে মূল্য ছাড় দিয়েছেন।

আবার আপনি যখন একটি প্রোডাক্ট এর মূল্য বাড়িয়ে দিবেন, এটি প্রকাশ করে সে প্রোডাক্টটির ডিমান্ড মার্কেটে অনেক বেশি এবং যোগান কম যার কারণে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। 

এই কৌশলে হয়তোবা ই-কমার্স সেলস অর্ডার এর সংখ্যার পরিমান কিছু কমে যেতে পারে।

কিন্তু প্রফিট বেশি হবার কারনে কম সংখ্যক অর্ডারেও আপনি বেশি পরিমান প্রফিট নিয়ে আসতে সক্ষম হবেন।

মূল্যের সাথে প্রোডাক্টের কোয়ালিটির একটি সম্পর্ক রয়েছে। অনেক কাস্টোমার মনে করেন মানসম্পন্ন প্রোডাক্ট এর মূল্য সর্বদা বেশি হয়ে থাকে।

প্রাইস এংকরিং (Price Anchoring)

প্রাইস এংকারিং ই-কমার্স বিজনেসের পপুলার একটি প্রাইস কৌশল

একটি কমার্স ওয়েবসাইটে প্রথমে উচ্চমূল্যের প্রোডাক্ট এবং তার পরেই একই ধরনের প্রোডাক্টগুলোর কম মূল্যের ভ্যারিয়েশন পাশাপাশি থাকলে, কাস্টমার প্রথমেই উচ্চমূল্যের প্রোডাক্টটি দেখে ফলে বাকি প্রোডাক্টগুলো তুলনামূলকভাবে তার কাছে সস্তা মনে হয়।

রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং ডিস্কাউন্ট প্রাইসিং 

রিপিট কাস্টমারদের জন্য এই কৌশলটি আদর্শ।

একজন কাস্টমারের ই-কমার্স কেনাকাটার উপরে পুরুস্কার পয়েন্ট, ডিসকাউন্ট অফার, বোনাস অথবা ফ্রী ডেলিভারি অফার করলে পরবর্তী কেনাকাটায় ছাড়কৃত প্রোডাক্ট অথবা সাধারণ প্রোডাক্ট এর ওপর এক্সট্রা একটি বেনিফিট পেয়ে থাকে।

যা তাদের পরবর্তী কেনাকাটায় আগ্রহী করে।

ধরুন, আপনি একটি কমার্স ওয়েবসাইট থেকে হেডফোন কিনেছেন।

যেটির মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা, এর ফলে আপনি ১০০ টাকা বোনাস পেয়েছেন।

পরবর্তী সময়ে, আপনি আবার সেই ই-কমার্স সাইট থেকে কিছু কেনাকাটা করতে গেলে আপনার ক্রয় কৃত মূল্যের সাথে পূর্বের পাওয়া ১০০ টাকা বাদ দিয়ে মূল্য পরিশোধ করলেন।

যদি সে প্রোডাক্ট এর মূল্য অন্যান্য ওয়েবসাইটে ১০০০ টাকা হয়ে থাকে এবং আপনি বোনাস প্রাপ্ত ওয়েবসাইট থেকে প্রোডাক্টটি কেনেন, তবে সেটি ৯০০ টাকায় কিনতে পারবেন।

কাস্টমার এটি ইতিবাচকভাবে নিয়ে থাকে।কারণ সে নিশ্চিত ভাবে কম মূল্যে জিনিস কিনতে পারবে। 

আরও পড়ুনঃ

অনলাইন স্টোরের সেলস বাড়াতে ৩৮ টি আকর্ষণীয় ‘অফার’ আইডিয়া

চ্যানেল অনুসারে মূল্য নির্ধারণ

অনেক সময় দেখা যায় একটি প্রোডাক্ট ই-কমার্স সাইট থেকে যে মূল্যে কিনছেন সেটি অন্য একটি ই-কমার্স সাইটে তুলনামূলকভাবে আরো কম দামে অফার করছে।

এক্ষেত্রে, একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ী সেই প্রতিষ্ঠানের সাথে মিউচুয়াল বিজনেস বেনিফিট সাপেক্ষে এক্সক্লুসিভ ভাবে অফার দেয়।

কাস্টমার আপনার বিক্রয় করা প্রোডাক্ট কেনার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেটার অফার এবং ডিল গ্রহণ করে।

যদিও বা চ্যানেল সেল ভিন্ন হয় কিন্তু সামগ্রিক অর্থে আপনার টোটাল সেল ভলিউম বেড়ে যায়।

 

 

ক্যাটাগরি অনুসারে মূল্য নির্ধারণ

ক্যাটাগরি অনুসারে মূল্য নির্ধারণ ই-কমার্স সাইটের আরেকটি কৌশল।

অনেক ই-কমার্স সাইটে দেখা যায় তারা দামি আইটেম যেমন ল্যাপটপ অথবা মোবাইল ফোন এর সব প্রোডাক্টের প্রাইস মার্জিন খুব কম রাখে। 

অন্যদিকে তারা এক্সেসরিজ যেমনঃ কেবল, সফটওয়্যার হেডফোন এই সকল প্রোডাক্ট প্রফিট মার্জিন বেশি রাখে।

যে সব প্রোডাক্ট সচরাচর কাস্টমার সব জায়গা থেকে কিনতে পারে সে সকল প্রোডাক্ট সম্পর্কে তারা কমবেশি জানে।

এই সকল প্রোডাক্টের প্রাইস মার্জিন ও প্রফিট মার্জিন কম হলে কাস্টমার মনেকরে সাইটের রিকমেন্ডেড সকল প্রোডাক্টের প্রাইস কম হবে।

এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক বায়াস। 

প্রোডাক্টের খরচ এবং প্রফিট মার্জিন নির্ধারণ করুন

প্রতিটি প্রোডাক্টের জন্য উৎপাদন খরচ নির্ণয় করুন।

এই খরচের মধ্যে আপনার প্রোডাক্ট তৈরির উপাদান থেকে কর্মীর বেতনভাতা সহ প্রাসঙ্গিক যাবতীয় খরচ হিসেব করে সেই অনুপাতে প্রতিটি প্রোডাক্টের মূল্য বের করুন।

এবার নির্ধারণ করুন আপনি কি পরিমান প্রফিট করতে চান।

সে অনুপাতে আপনার প্রোডাক্টের মূল্যের সাথে বাড়তি মূল্য যোগ করে বাজার মূল্য নির্ধারণ করুন। 

যে বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরী, আপনি যদি নতুন বিজনেস শুরু করেন তাহলে আপনার জন্য প্রফিট ধরে রাখা প্রয়োজন তাই সে অনুপাতে মূল্য নির্ধারণ করুন।

কিন্তু যদি বিজনেস একটি লম্বা সময় ধরে পরিচালিত করে থাকেন তাহলে, প্রতিযোগিতার বাজারে সর্বোচ্চ বেচাকেনায় মূল্য নির্ধারণ করতে বিগত দিনগুলিতে কি পরিমান প্রোডাক্ট বেচাকেনা করেছেন সেটিও বিবেচনায় রাখুন।

সংখ্যায় বেশি পরিমান প্রোডাক্টের বেচাকেনা হলে প্রফিট মার্জিন অল্প করুন এতে একদিকে বেচাকেনা বাড়বে অপরদিকে আয়ের পরিমানও বাড়বে।

বিজনেসে মূল্য নির্ণয় সংক্রান্ত যেকোনো পরিকল্পনায় এই অনলাইন ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করতে পারেন –https://www.omnicalculator.com/finance  

মার্কেটে প্রোডাক্টের চাহিদা বিবেচনা করুন

বাজারে প্রোডাক্টের সহজলভ্যতা ও চাহিদা ভিত্তিক মূল্য নির্ণয়ের কৌশলে মনযোগী হন।

আপনার প্রোডাক্টের চাহিদা বাজারে প্রচুর, এক্ষেত্রে আপনি প্রোডাক্টের মূল্যে কিছুটা বেশি নির্ধারণ করতে পারেন।

আবার যদি এমন হয়, আপনার প্রতিযোগী একই ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে বাজারে ভাল অবস্থানে আছে তাহলে তার কাছাকাছি মূল্য নির্ণয় করে করুন। 

তবে প্রতিযোগিতা মূলক মার্কেটে মূল্য নির্ধারণে প্রোডাক্টের উপযোগিতাকে প্রাধান্য দেয়া জরুরি ।

বাজারে আপনার প্রোডাক্টের অবস্থান কি পর্যায়ে তাঁর উপর মূল্য নির্ণয় বিজনেসে সফলতা নিয়ে আসে।    

ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন বিবেচনায় মূল্য নির্ণয়

একটি প্রোডাক্টের মার্কেটিং ক্যাম্পেইন তৈরি করার সময় ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন নির্ণয় করা হয়।

এবং সেই প্রোডাক্টটি বিশেষ উপযোগিতা আদর্শ কাস্টমারদের কাছে সবার থেকে আলাদা করে।   

কিন্তু মূল্য নির্ধারণেও এটির গুরুত্ব রয়েছে।

কিছু কাস্টমার আছেন যারা প্রোডাক্টের দ্বারা কিভাবে উপকৃত হবেন এই বিষয়টি সেলারের দেয়া বার্তা থেকে পরিস্কার ধারণা পেলে তাঁর জন্য স্বাচ্ছন্দ্যে উচ্চ মূল্য পরিশোধ করেন।

বিশ্বখ্যাত স্পোর্টস ব্র্যান্ড নাইকি বলে, তাঁদের প্রোডাক্ট তৈরি করে শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের জন্য।

তাঁদের প্রতিটি প্রোডাক্ট খেলোয়াড়দের আরাম আর কর্মদক্ষতাকে বাড়িয়ে দেয় । 

এই বার্তা একজন খেলোয়াড় গুরুত্বের সাথে দেখে।

পেশাদার খেলোয়াড় তাঁর লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় জিনিসের কেনাকাটায় কার্পণ্য করেন না। 

তাই এখানে কম দামি প্রোডাক্ট তেমন কোন সুবিধা করতে পারে না।

কিন্তু আপনার প্রোডাক্টটি যদি তাঁর চাহিদা পূর্ণ করতে পারে তবে আপনার নির্ধারিত মূল্যেই সে প্রোডাক্ট কিনবে।

এই কারনে ব্র্যান্ডেড প্রোডাক্টগুলো উচ্চমূল্যে বিক্রয় সম্ভব হয়।  

আরও পড়ুনঃ

UGC Campaign: বিনা খরচে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং 

কিছু প্রচলিত কার্যকরী মূল্য নির্ণয় কৌশল 

Charm Pricing: এই কৌশল কাস্টমারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য কার্যকরী ভাবে প্রমানিত।

প্রোডাক্টের মূল্য রাউন্ড ফিগার না করে কিছুটা কমিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয় এই পদ্ধতিতে। 

উদাহরনঃ ( ২০০ এর পরিবর্তে ১৯৯) কেন এই কৌশলে কাস্টমার সাড়া দেয়?

সেটি জানার থেকে এটি জানুন কাস্টমার এই পদ্ধতিতে প্রতিবারই আকৃষ্ট হয়  ।  

Skim Pricing: একটি নতুন প্রোডাক্ট বাজারে নিয়ে এলে তাঁর মূল্য অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়, কিন্ত নির্দিষ্ট একটি সময় বিজনেস করার পর এর মূল্য কমানো হয় এই কৌশলে। 

কিছু কাস্টমার আছেন যারা নতুন প্রোডাক্ট সবার আগে ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।

আবার কিছু কাস্টমার আছেন সামাজিক ভাবে নিজের পদমর্যাদাকে উপরে দেখতে ভালবাসেন।

 এই শ্রেণীর কাস্টমার দামি প্রোডাক্ট সবার আগে ব্যবহার করতে বেশি মূল্য পরিশোধ করতে খুব বেশি চিন্তা করেন না। 

তাই এই কৌশলে আপনি লিমিটেড ক্রেতাদের কাছে অল্প পরিমান এক্সক্লুসিভ প্রোডাক্ট সেল করে অধিক প্রফিট করার পর প্রোডাক্টের মূল্য কমিয়ে বাকি সকল কাস্টমারদের কাছে সেল করার মাধ্যমে আপনার বিজনেসে ভাল প্রফিট ধরে রাখতে পারবেন। 

Loss Leader Pricing: এটি কৌশলে একটি প্রোডাক্ট বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে সেল করা হয়।

উদ্দেশ্য সেই প্রোডাক্টের মাধ্যমে কাস্টমারকে আকর্ষণ করে তাঁর অন্য সব প্রোডাক্ট সেল করা। সুপার শপে এই ধরনের মূল্য নির্ধারণ কৌশল লক্ষ্য করা যায়। 

Discounts and Promotional Price: বর্তমান সময়ে কাস্টমার মূল্য ছাড় পেতে এতো অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রোডাক্টের মূল্য ছাড় দিতেই হয়। 

তাই এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করুন যেটির উপর বিভিন্ন সময় মূল্য ছাড় দিতে আপনার অসুবিধা না হয়।

একজন কাস্টমার পরিশেষে আপনার প্রোডাক্টটি মূল্য পরিশোধ করেই কেনে।

আপনার নির্ধারণ করা মূল্য কাস্টমার পছন্দের প্রোডাক্টের জন্য তখনই সঠিক বলে মনে করে যদি সে প্রোডাক্টটি তাঁর চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে সে আশ্বাস পায়। 

পরিশেষে,

মূল্য নির্ধারণের একটি নির্দিষ্ট কৌশল সবার জন্য কাজে আসবে না।

কিন্তু প্রতিটি বিজনেসের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রাইস কৌশলের দ্বারা কাস্টমারের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে বিজনেসের সফলতা আনা সম্ভব।

মূল্য নির্ণয় কৌশলকে একটি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব যদি আপনি চান, তবে সেজন্য আপনার কাস্টমারদের চাহিদা সম্পর্কে যথাযথ ভাবে বুঝতে হবে।

আপনি আপনার ই-কমার্স বিজনেসের প্রোডাক্টের জন্য কীভাবে মূল্য নির্ধারণ কৌশল নির্ণয় করেছেন। আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করুন।   

চমৎকারভাবে প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার ৯ টি পদ্ধতি যা কাস্টমারকে কিনতে উদ্বুদ্ধ করে

চমৎকারভাবে প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার ৯ টি পদ্ধতি যা কাস্টমারকে কিনতে উদ্বুদ্ধ করে

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন পণ্যের প্রচার প্রচারণার একটি অংশ যা একটি প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বর্ণনা করে এবং কেন কাস্টমার সেটি কিনবে সে সম্পর্কে ধারণা দেয়।

এর মূল উদ্দেশ্য কাস্টমারদের প্রোডাক্টের ফিচার এবং সুবিধা সম্পর্কে ধারণা দেয়া যা সেই প্রোডাক্টটি কিনতে তাদের উৎসাহিত করে।

অনেক বিক্রেতা তাদের প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার সময় কিছু কমন ভুল করেন। এমনকি যারা পেশাদার ব্যবসায়ী তারাও বেশিরভাগ সময়ে ভুলটি করে থাকে। ভুলটি হচ্ছে, তারা শুধুমাত্র প্রোডাক্টের বর্ণনা করেন।

কেন এটি ভুল? 

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন আপনার ক্রেতার সাথে কথোপকথন করে, তাদেরকে বোঝায় কেন প্রোডাক্টটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু আমরা কি করি? শুধুমাত্র প্রোডাক্ট সম্পর্কে বর্ণনা করি, যেটা হয়তো কাস্টমের আগে থেকেই জানে।

অনেকেই আবার প্রোডাক্ট  ডেসক্রিপশন লেখার সময় SEO কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। অবশ্যই SEO প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মনে রাখতে হবে শুধুমাত্র ডেসক্রিপশন বেইজ প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন মূল কথা নয়।

আজকে আমরা প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন এর সেই বিষয়গুলি সম্পর্কে জানবো, যেটি পড়ে একজন কাস্টমার একটি প্রোডাক্ট কিনতে উৎসাহিত বোধ করে।

আদর্শ ক্রেতার উপর ফোকাস করুন

আপনি যখন একটি বিশাল গ্রুপকে টার্গেট করে প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লিখছেন তখন সেটি শুধুমাত্র বর্ণনামূলক, যা নির্দিষ্ট  কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখা নয়।

একটি আদর্শ প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লিখতে হলে আপনার টার্গেট কাস্টমারদের সরাসরি সম্মোধন করুন। আপনি এমনভাবে প্রশ্ন ও উত্তর চালিয়ে যান যা একজন কাস্টমার নিজের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারে এবং অবশ্যই যখন প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লিখছেন তখন আপনি, আপনাকে, অথবা আপনার শব্দগুলো ব্যবহার করবেন।

যখন একটি প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লিখছেন, তখন মনে করবেন আপনি আপনার কাস্টমারের সাথে সরাসরি কথা বলছেন। তারা কি ধরনের শব্দ শুনতে পছন্দ করে, কোন শব্দগুলোতে অপছন্দ করে সেই বিষয়গুলো মাথায় রেখে কথোপকথন চালিয়ে যাবেন প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন এর মাধ্যমে।

প্রোডাক্ট বেনিফিটের উপর জোর দিন

আমরা যখন একটি প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন  লিখি, তখন প্রোডাক্টের ফিচারগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। বর্তমান সময়ে কাস্টমার ইচ্ছে করলেই অনলাইনে সার্চ দিয়ে একটি প্রোডাক্ট এর মূল ফিচারগুলো সম্পর্কে জানতে পারে। কিন্তু সেই প্রোডাক্টটি কেন তার জন্য উপযুক্ত?  প্রোডাক্টের গুনাগুন কি?  কিভাবে সেই প্রোডাক্ট থেকে কাস্টমার উপকৃত হবে? সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে তেমন কোনো পরিষ্কার ধারণা তাদের থাকে না।

আপনি যখন একটি প্রোডাক্টের উপকারিতা ও উপযোগিতা সম্পর্কে গুরুত্ব আরোপ করবেন এবং কেন সেই প্রোডাক্টটি কাস্টমারদের জন্য উপযুক্ত?  কেন তারা কিনবে?  সেটি যখন বলবেন কাস্টমার বেশি আকৃষ্ট হবে।

যে উদ্দেশ্যে তারা প্রোডাক্টটি কিনতে চায়, আপনার বর্ণনা থেকে সেটি সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাবে।

উদাহরণ স্বরূপ নিচের ইনফোগ্রাফিক দেখুন,

টেলিভিশন অ্যাডগুলো খেয়াল করলে দেখবেন, একটি সাধারণ বাসন মাজা সাবান কে তারা যখন উপস্থাপন করে তখন কিভাবে উপস্থাপন করে।

খেয়াল করবেন, বাসন মাজার সাবানের মূল কাজ আপনার প্রতিদিনের ব্যবহার্য বাসনগুলোকে পরিষ্কার এবং জীবনেমুক্ত করা।

কিন্তু অ্যাডে বলা হয় কত দ্রুত কার্যকরীভাবে আপনার বাসনগুলো পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে পারে সেই সাবান। 

নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সেই বাসন মাজার সাবানটি ব্যবহারের ফলে বাসন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হবার সাথে সাথে ব্যবহারকারীর হাতও সুরক্ষিত থাকবে।

এখন আপনি নিশ্চয়ই শুধুমাত্র একটি বাসন মাজার সাবান থেকে অ্যাডের সেই সাবানকে  আলাদা করতে পারছেন। 

যদিও সাধারণ একটি বাসন মাজা সাবান এবং টেলিভিশনে বর্ণনা করা গুণাগুণ সমৃদ্ধ সাবানটির কার্যকারিতা একই রকম।

কিন্তু সাবানটির কার্যকারিতা ও উপকারিতা প্রকাশ করার কারণে আপনি সেটি কিনতে আগ্রহী বোধ করেন।

অতিরিক্ত ও অবাঞ্চিত লোকাল শব্দ পরিহার করুন

আমি অনেক সময় প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লিখার মধ্যে হ্যাঁ, কিন্তু, কেন, অথবা  এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করি। অনেকেই আবার আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করেন।

আপনাকে অবশ্যই এই শব্দগুলি পরিহার করতে হবে। 

কাস্টমারদের যখন প্রোডাক্টের গুনাগুন ও উপকারিতা সম্পর্কে বলছেন, তখন শুধুমাত্র সেই শব্দগুলোর ব্যবহার করবেন যেগুলো একটি প্রোডাক্টের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত।

সংযুক্তি মূলক অথবা আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করে একটি লাইনকে লম্বা করার কারণে প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনটি কাস্টমারদের কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

মূল যে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিবেন, কখনো একটি প্রোডাক্টকে সরাসরি প্রশংসা বা সেই প্রোডাক্টটি শ্রেষ্ঠ প্রোডাক বলে  প্রচার করবেন না।

গুরুত্ব দিবেন সেই প্রোডাক্টের প্রতিটি ম্যাটেরিয়ালের কোয়ালিটি সম্পর্কে এবং সেই মেটিরিয়াল কোয়ালিটি কিভাবে কাস্টমারদের সমস্যাগুলো সমাধান করে সে বিষয়গুলো উল্লেখ করবেন।

সুপারলেটিভ শব্দ ব্যবহারে যৌক্তিক হওয়া

আমরা বেশিরভাগ সময় প্রোডাক্ট উপস্থাপন করতে বেস্ট প্রোডাক্ট অথবা হাই কোয়ালিটি প্রোডাক্ট, বা অ্যাডভান্স প্রোডাক্ট এ ধরনের কিছু শব্দ ব্যবহার করি।

এগুলো সুপারলেটিভ শব্দ। একটি প্রোডাক্টের গুণগতমানকে শ্রেষ্ঠ বলে ব্যাখ্যা করতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করতে হয়।

যখন সুপারলেটিভ শব্দ ব্যবহার করছেন তখন কেন আপনি সেটাকে শ্রেষ্ঠ ও সবথেকে উপযুক্ত বলছেন তার পেছনে ব্যাখ্যাটা দিতে হবে।

কিনলে পেপার হোয়াইট বিশ্বের সবথেকে অত্যাধুনিক ই-বুক রিডার, অ্যামাজন সেটিকে কিভাবে উপস্থাপন করেছে?  

যখন সে বলছে তাদের তৈরি এই ডিভাইসটি বিশ্বের সবথেকে আধুনিক।

খেয়াল করুন, সেই ডিভাইসটির অত্যাধুনিক হবার পেছনের কারণগুলো তারা কীভাবে ব্যাখ্যা করছে।

প্রোডাক্টটি সম্পর্কে কাস্টমারদের কল্পনা করার সুযোগ তৈরী করে দিন

গবেষণায় বলা হচ্ছে, একজন কাস্টমার যখন একটি প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে দেখে, তখন সেটি কেনার আগ্রহ বেড়ে যায়।

যখন অনলাইনে কিছু সেল করছেন তখন সে প্রোডাক্টটি কাস্টমার হাতে নিতে পারছে না। কিন্তু আপনি  একটি উন্নত মানের পরিষ্কার চিত্র ব্যবহার করে অথবা একটি সুন্দর ভিডিও করে দেন সেই প্রোডাক্টের, তবে কাস্টমার সেটিকে অনেক বেশি নিজের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারে।

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার টেকনিক এমন হতে হবে, যেখানে একজন কাস্টমার ডেসক্রিপশনটি পড়ার সময় মনে মনে ভাববে, আমি হাতে নিয়ে দেখছি।

প্রোডাক্ট নিয়ে গল্প বলুন

গল্প একজন মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা। 

বরাবরই মানুষ গল্প শুনতে পছন্দ করে। তাই আপনি এমনভাবে প্রোডাক্টটি সম্পর্কে গল্প বলুন যেখানে বিক্রির কথা না বলেও কাস্টমারদের মনে সে প্রোডাক্ট কেনার আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে পারেন।

আমরা অনেকেই ডিসকভারি চ্যানেল দেখি। খেয়াল করবেন কিছু কিছু প্রতিবেদন দেখানো হয় নির্দিষ্ট একটি ইন্ড্রাস্ট্রি কিংবা প্রোডাক্ট এর ওপর যেখানে সেই প্রোডাক্টটি তৈরীর পুরো প্রক্রিয়াটা দেখানো হয়। ইউটিউবে সার্চ করে প্রচুর এধরনের ডকুমেন্টরি পাবেন।

নিচের লিংকে ক্লিক করে এমনই একটি ডকুমেন্টরি দেখে নিতে পারেন। 

Porsche: High-Level Car Manufacturer | Mega Manufacturing | Free Documentary

কিভাবে প্রোডাক্টটির জন্ম হলো?  কি প্রসেসের মধ্যে দিয়ে প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে? কাদের জন্য প্রোডাক্ট তৈরি করা হচ্ছে? সেই প্রোডাক্ট বিক্রির অর্থ থেকে তাদের পরিকল্পনা কি? তারা ভবিষ্যতে কি করতে চায়? পুরো বিষয়টিকে একটি ডকুমেন্টারি আকারে দেখানো হয়।

কাস্টমার এই বিষয়গুলোকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তারা মনে করে একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি প্রোডাক্ট নিঃসন্দেহে ভালো।

 

 

সংবেদনশীল শব্দ চয়ন

কিছু শব্দ এমন রয়েছে যা মস্তিষ্কে অনুরন তৈরি করে।

আমরা যখন বলি চকলেট তখন শুধু বুঝি চকলেট, কিন্তু যখন বলা হয় “ডার্ক চকলেট” তখন আমাদের মধ্যে সে চকলেট সম্পর্কে একটি কল্পনা তৈরি হয়।

ক্রিম বিস্কুট আমরা সবাই চিনি, কিন্তু যখন বলা হচ্ছে স্মুথ এন্ড ক্রাঞ্চি ক্রিম বিস্কুট তখন আমরা সেটিকে বেশি শুনতে চাচ্ছি।

আকর্ষণীয়, রঙিন, উজ্জল, মসৃণ, চকচকে এ ধরনের শব্দ প্রতিবারই আমাদের মস্তিষ্কে অনুরন সৃষ্টি করে। তাই একটি সেরা প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার সময় শব্দগুলোর ব্যবহার করা প্রয়োজন।

সোশ্যাল প্রুফ

এটি অনলাইন কেনাকাটার জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ পন্থা। 

রাস্তাঘাটে চলাফেরা সময় আপনারা অনেকেই সিমেন্ট প্রস্তুতকারী কোম্পানির বিশাল বিশাল বিলবোর্ড দেখি। সেখানে খেয়াল করলে দেখবেন স্ক্যান সিমেন্ট বলছে তাদের সিমেন্ট পদ্মা সেতুতে ব্যবহার করা হয়েছে।

কিন্তু কেন তারা এমনটি বলছে? বিষয়টা কি কখনো ভেবেছেন?

আপনি হয়তো বাড়ি তৈরি করার জন্য সিমেন্ট কিনবেন, তাতে পদ্মা সেতুর সাথে তুলনা করে লাভ কি?

এখানেই পার্থক্য তৈরি হয়। পদ্মা সেতুর মতো একটি মেগা প্রজেক্ট যে সিমেন্ট ব্যবহার করতে পারে অবশ্যই সেটির গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে সন্দেহ থাকার কথা নয়।

তারা  সুকৌশলে আপনার অবচেতন মনে তাদের প্রোডাক্ট এর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে ধারণা ঢুকিয়ে দিচ্ছে।

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন হতে হবে পরিচ্ছন্ন এবং পড়ার উপযোগী

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার সময় খেয়াল করবেন হেডলাইনটা যাতে সবার প্রথমে চোখে পড়ে। তারপরে প্রোডাক্ট সম্পর্কে সংক্ষেপে একটি বর্ণনা, এর পরেই মূল ফিচারগুলোর বুলেট আকারে প্রদর্শন।

একটি প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন যত বেশি পরিচ্ছন্ন ও পাঠযোগ্য করতে পারবেন, ততবেশি কাস্টমার  পড়তে আনন্দ বোধ করবে।

আরও পড়ুনঃ

সফল ই-কমার্স বেচাকেনায় মনকাড়া প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার নিয়ম

পরিশেষে

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখা ও এটির উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া যার  কোন অন্ত নেই।

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখা নিয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করুন।

যদি এমন কোন প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন আপনি দেখে থাকেন যা আপনার মধ্যে চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে তবে সেটি কি ছিল? আমাদের বলতে পারেন। 

বিশ্ব সেরা ই-কমার্স এক্সপার্টদের কৌশল অনুসরণে সফল করে তুলুন আপনার ই-কমার্স উদ্যোগ

বিশ্ব সেরা ই-কমার্স এক্সপার্টদের কৌশল অনুসরণে সফল করে তুলুন আপনার ই-কমার্স  উদ্যোগ

বিশ্ব সেরা ই-কমার্স এক্সপার্টদের কৌশল অনুসরণে আপনার ই-কমার্স বিজনেসটিকে সফল করে তুলতে হলে জানতে হবে, সেই সকল গোপন রহস্য যা তাদের বিজনেসে সফল হতে সাহায্য করেছে। 

ই-কমার্সের দুনিয়ায় একটি বিজনেসকে বড় করে তোলার অনেক রকম কৌশল রয়েছে।

কেউ মনে করেন প্রোডাক্টের উচ্চমূল্য মানুষের মনে এর কোয়ালিটি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেয় এবং প্রচুর পরিমাণে প্রফিট অর্জন করা যায়। 

আবার অনেকে মনে করেন মার্কেটে যেসব প্রোডাক্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি সেসকল প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যবসা করলে সফল হওয়া যায়।

এক্ষেত্রে কে সঠিক বা কে ভুল করছেন – সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ না।

যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে, কোন কৌশলে আপনি আপনার ই-কমার্স বিজনেসটিকে সফল করছেন।

বিশ্ব সেরা ই-কমার্স বিজনেস উদ্যোক্তাগন শেয়ার করেছেন সেই সকল কৌশল যা তাদের বিজনেসকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ।

চিন্তা করুন কাস্টমারের দৃষ্টিকোণ থেকে

কেটি মেলিসা ঘড়ি এবং সানগ্লাস জাতীয় প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছেন। তিনি এই পর্যন্ত অনেকগুলো প্রডাক্ট ড্রপশিপ করেছেন। তিনি সবসময় ভালো ডিজাইনকে গুরুত্ব দেন।

কেটি মেলিসা মনে করেন, নিজেকে সেই ভাবে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে, যেন আমি একজন কাস্টমারের দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করতে পারি।

দিনশেষে, একজন কাস্টমারের পছন্দই শেষ কথা। আপনি একজন বিক্রেতা হিসেবে কি পছন্দ করছেন আর কি করছেন না, সেটি কাস্টমারদের কাছে গুরুত্ব রাখে না।

পাশাপাশি তিনি এও বলেন, আপনাকে অবশ্যই আপনার স্টক ম্যানেজমেন্ট এর প্রতি নজর দিতে হবে।

ব্যবসা যখন দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলছে ঠিক সেই মুহূর্তে প্রোডাক্ট স্টক শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা কাস্টমারদের অর্ডার করা প্রোডাক্ট সঠিকভাবে ডেলিভারি না হওয়া মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়।

দেশি কমার্স, কেটি মেলিসার সাথে সম্পূর্ণ একমত। আমরা মনে করি, কাস্টমার সন্তুষ্টি সবার প্রথমে।

ইমেইল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হতে হবে সক্রিয়

ফ্রাংক হ্যাচেট, তিনি অনলাইন ডাইমস নামে একটি রিসোর্সফুল অনলাইন বিজনেস কোর্স পোর্টাল পরিচালনা করেন।

এই বিজনেস কোর্সে শেখানো হয় কিভাবে একজন উদ্যোক্তা তার ই-কমার্স বিজনেসটি বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

এছাড়াও তার রয়েছে অনলাইন সামুরাই নামে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

যেখানে মার্কেটিং এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তিনি বলেন, একজন ই-কমার্স বিজনেস উদ্যোক্তাকে ফেসবুক এবং ইমেইল এর দ্বারা ক্রস টার্গেটিং কৌশল ব্যবহার করা জানতে হবে।

তিনি বিশ্বাস করেন, একটি ই-কমার্স বিজনেসে সর্বোচ্চ কনভার্শন রেট অর্জন করা যায় ইমেইল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কৌশলগত টার্গেটিং ব্যবহার দ্বারা।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যখন আপনার টার্গেট কাস্টমারকে ইমেইল করছেন একই সময়ে তাদের ইমেইল এড্রেসগুলো ব্যবহার করে ফেসবুকে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করে অ্যাড দিলে ফেইসবুক সেই কাস্টমারের তথ্য থেকে ধারণা নিয়ে একই ধরনের নতুন কাস্টমারদের খুঁজে বের করে।

অনুশীলনের মাধ্যমে শেখা

রিচার্ড লাজজ্জেরা শপিফাই (shopify.com) টিমের একজন প্রাক্তন সদস্য। তিনি বর্তমানে আ বেটার লেমোনেড স্ট্যান্ড নামে একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ই-কমার্স ওয়েবসাইট ডেভলপিং প্লাটফর্ম পরিচালনা করছেন।

তিনি তার এডুকেশনাল “ব্লগ বিল্ড লঞ্চ গ্রো” এর মাধ্যমে ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

তিনি মনে করেন অনুশীলনের মাধ্যমে দিয়ে শেখা সবচেয়ে কার্যকরী। অনেক ইকমার্স উদ্যোক্তা ব্যবসা শুরুর আগেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। 

তারা ভয় পান ও সন্দিহান থাকেন বিজনেস এর সফলতা অর্জন নিয়ে।

কিন্তু আপনি যখন শুরু করবেন তখন কিছু বিষয় সঠিক হবে, কিছু ভুল হবে। কখনো সফলতা আসবে, কখনও ব্যর্থতা আসবে।

কিন্তু দিনশেষে আপনার ভুলগুলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত দ্বারা প্রতিস্থাপিত করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সফলতার অভিমুখে এগিয়ে যেতে হবে।

দেশি কমার্স সলিউশন কাস্টমারদের একেবারে প্রথম থেকে ফিজিক্যালি এবং ভার্চুয়ালি সহযোগিতা করে থাকে।

এতে করে বিজনেস পরিচালনায় আপনি যেখন থমকে যাবেন, সেখান থেকে উত্তরণের জন্য সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে দেশি কমার্স তাদের কনসালটেন্সি সেবা নিয়ে আপনার পাশে সব সময় রয়েছে।

কাস্টমারদের ক্লাইন্ট হিসেবে পরিণত করতে বাড়াতে হবে ইমেইল এর ব্যবহার

সুজান ব্রাডলি, একজন দক্ষ ইকমার্স উদ্যোক্তা যিনি তার ই-কমার্স স্টোর “উই স্কুইক” এর মাধ্যমে একটি বিজনেসকে বাড়িয়ে তোলার কৌশলগুলো নিয়ে কাজ করেন।

তিনি “দ্য সোশ্যাল সেলস গার্লস” নামে একটি প্রোগ্রাম দ্বারা উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

ইনফিউশনসফট নামে একটি টুলস রিকমেন্ডেড করেন যার মাধ্যমে একটি ক্ষুদ্র বিজনেসকে সম্পূর্ণ রকমভাবে অটোমোশন করা যায়।

বিঃদ্রঃ দেশি কমার্সের ই-কমার্স ওয়েবসাইট সলিউশন একটি বিজনেস কে বাড়িয়ে তুলতে বিজনেস সম্পর্কে কাস্টমারদের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ প্রদান করে।

ফানেল অ্যাপ্রচ গুরুত্বপূর্ণ

টেরি আর্সেনালট, Shopidd নামে একটি লিডিং ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি পরিচালনা করেন। পাশাপাশি তাদের নিজের  একটি কমার্স স্টোর রয়েছে।

তিনি ফেসবুকে শপিফাই কমার্স গ্রুপ পরিচালনা করেন যেখানে ১০ হাজারেরও অধিক মেম্বার রয়েছে।

টেরি আর্সেনালট মনে করেন, ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের সফলতা পেতে হলে ফানেল অ্যাপ্রচে এগোতে হবে।

ফানেল অ্যাপ্রচে হলো মার্কেটিং এর এমন একটি কৌশল, যেখানে একজন কাস্টমারকে প্রথমে আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে পরিচিত করাতে হয়, তারপরে তাকে এঙ্গেজ করতে হয় এবং এর পরবর্তীতে তার কাছে সেল করতে হয়।

একজন কাস্টমার আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য না পেয়ে কখনো কেনাকাটা করবে না।

এমন খুব কমই হয় যেখানে একজন কাস্টমার প্রথমবারেই একটি ই-কমার্স স্টোর থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন করেন।

দেশি কমার্স কাস্টমারদের মার্কেটিং স্ট্রাটেজি নির্ধারণ করার সময় ফানেল এপ্রোচ কে প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

কাস্টমার জার্নি ম্যাপ

ক্যাথরিন হাওয়েল, তিনি একটি ফানেল ক্রিয়েশন এজেন্সি পরিচালনা করেন যার নাম “এইট লুপ সোশ্যাল”

তিনি পরামর্শ দেন, প্রথম থেকেই একজন কাস্টমারের জার্নিম্যাপ পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

কাস্টমার জার্নিম্যাপ হলো, একজন কাস্টমার কতভাবে আপনার সাথে এঙ্গেজ হতে পারে এবং তারা কোথায় কোথায় অবস্থান করছে এবং একটি বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে তারা কোন কোন ধাপ অতিক্রম করছে পুরো বিষয়টিকে পর্যবেক্ষণ করা।

ব্যতিক্রমী উপায় সেল করা

আসলে রাইট  একজন ই কমার্স উদ্যোক্তা। তিনি বেশ কিছু অনলাইন স্টোর পরিচালনা করেন যার মধ্যে খুব পপুলার একটি ফেসবুক গ্রুপ যার নাম “ফেসবুক অ্যাডস এন্ড শপিফাই স্ট্র্যাটেজি”

তিনি মনে করেন, আপনাকে ব্যতিক্রম হতে হবে, যদি কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চান।

কাস্টমারের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য অবশ্যই ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসকে দেখার চেষ্টা করতে হবে। এবং সেই মোতাবেক উপস্থাপনা করতে হবে একটি চমৎকার ক্রিয়েটিভ এর মাধ্যমে।

 

 

থাকতে হবে সর্বদা আপটুডেট

শাবিস্তান গোমেজ, ড্রপ শিপিং এর জন্য একজন পৃথিবী বিখ্যাত সেরা ই-কমার্স এক্সপার্ট

তার দেওয়া প্রধান টিপস হচ্ছে সর্বদা আপ টু ডেট থাকতে হবে।

একটি অ্যাডভার্টাইজমেন্ট যখন আর ভালো পারফর্ম করছে না, ঠিক সেই সময়ে আপনাকে সে এডভার্টাইজিং টিকে অপটিমাইজ করতে হবে।

খুঁজে বের করতে হবে কোন ধরনের অ্যাডসগুলো আপনাকে সর্বোচ্চ ফলাফল এনে দিচ্ছে।

কাস্টমারদের আচরণ ও চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। তাদের এই দ্রুত পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেবার সক্ষমতা বিজনেসে সফলতার রাস্তা সুগম করে দেয়।

ফেসবুকের জন্য ভিডিও অ্যাডস ব্যবহার করতে হবে

লরেন্স আপনতে, যিনি তার কোচিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে অন্যদেরকে অনুপ্রাণিত করে থাকেন।

তার পরামর্শ, একজন উদ্যোক্তাকে প্রথম একটি ভিডিও অ্যাড চালাতে হবে। সেই ভিডিও অ্যাডে যে সকল কাস্টমার এঙ্গেজ হচ্ছে পরবর্তী সময়ে তাদেরকে রি-টার্গেট করে অ্যাড দিতে হবে।

তিনি ভিডিও অ্যাডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, কারণ ফেইসবুক ভিডিও অ্যাডকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয় এবং ফেসবুকে ভিডিও অ্যাডের পারফরম্যান্স রেট সবচেয়ে বেশি।

উদাহরণস্বরূপ, দেশি কমার্সের এই ভিডিওটি দেখতে পারেন যেখানে ৪৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রায় ২০ হাজার মানুষ দেখেছে এবং এটি ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

ভিডিওটি ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখতে ক্লিক করুনঃ ই-কমার্স বিজনেস শুরু করা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন কি?

অথবা এখানেই দেখুন,

পরিশেষে,

বিভিন্ন ই-কমার্স এক্সপার্টরা তাদের বিজনেসের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রকম কৌশলকে বেছে নিয়েছেন। এবং সময়ের সাথে সাথে তারা সেটি উন্নত করে চলেছেন।

উপরের আলোচনা থেকে খেয়াল করলে দেখবেন, প্রত্যেকেই তার বিজনেসের জন্য যে কৌশলটি আদর্শ সেটিকেই খুঁজে নিয়েছেন এবং তার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

আপনার ইকমার্স বিজনেসের জন্য কোন কৌশল টি আপনার কাছে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়?

থাকতে দেশি কমার্স, ই কমার্স অর্ডার ম্যানেজমেন্ট এখন কোন ঝামেলাই নয়

থাকতে দেশি কমার্স, ই কমার্স অর্ডার ম্যানেজমেন্ট এখন কোন ঝামেলাই নয়

ই কমার্স অর্ডার ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বেশিরভাগ ই কমার্স ব্যবসায়ীরা টালি খাতায় লিখে এই কাজটি সম্পাদন করেন।

খাতায় লিখে অর্ডার ম্যানেজ করার বেশ কিছু লিমিটেশন রয়েছে। সবচেয়ে বড় যে অসুবিধা সেটি হচ্ছে অর্ডার ফিল্টারিং।

কতগুলো অর্ডার পেন্ডিং রয়েছে, কতগুলো অর্ডার ডেলিভারি হয়েছে, কতগুলো ক্যাশ অন ডেলিভারি তে হবে, কতগুলা অর্ডার প্রিপেড রয়েছে সেগুলো তালিকা থেকে খুঁজে বের করে ম্যানেজ করা বেশ কষ্টকর একটা ব্যাপার। 

অল্প কিছু অর্ডার ম্যানেজ করার জন্য টালিখাতা কার্যকর হলেও অনেক সংখ্যক অর্ডার ম্যানেজ করার জন্য এটি বেশ কষ্টসাধ্য।

দেশি কমার্সের ই-কমার্স সলিউশন এই সমস্যার সমাধান করে দেয়।

অর্ডার লিস্ট ম্যানেজমেন্ট

আপনি একটি ক্লিক করেই বের করে ফেলতে পারবেন নির্দিষ্ট মাসের অথবা সারা বছরের অর্ডার লিস্ট রেকর্ড।

রয়েছে ডেটা ফিল্টারিং অপশন যেখান থেকে পেন্ডিং ক্যাশ অন ডেলিভারি অথবা কতগুলো প্রশাসনের মধ্যে রয়েছেন কতগুলো সম্পূর্ণ হয়েছে পুরো তথ্য নিমিষে পেয়ে যাবেন।

একজন কাস্টমার আপনার ইকমার্স সাইট এ অর্ডার প্লেস করা মাত্র অর্ডার লিস্টে তার অর্ডার সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য চলে আসবে।

আপনি চাইলে পুরো অর্ডার লিস্ট প্রিন্ট করেও সংরক্ষণ করতে পারবেন ভবিষ্যৎ রেফারেন্সের জন্য।

দেশি কমার্স প্ল্যাটফর্মের অর্ডার ম্যানেজমেন্ট ফিচার থেকে অনায়াসে ম্যানেজ করতে পারবেন অর্ডার এর পুরো প্রক্রিয়া।

 ম্যানুয়াল অর্ডার

রয়েছে ম্যানুয়াল অর্ডার অপশন।যেখান থেকে আপনি নিজেও একজন কাস্টমারের হয়ে একটি অর্ডার তৈরি করতে পারবেন।

কাস্টমার লিস্ট

ই-কমার্স বিজনেস এর জন্য এটি একটি অপরিহার্য ফিচার। একজন কাস্টমারের ব্যক্তিগত তথ্য এখানে অরগানাইজ ভাবে সংরক্ষিত থাকে।

ম্যানুয়াল উপায় কাস্টমারদের তথ্য ম্যানেজ করলে সেটি পরবর্তী সময়ে বিজনেসের ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন এর জন্য ব্যবহার করার উপযোগী থাকে না।

দেশি কমার্স কমার্স ওয়েবসাইট আপনি পাচ্ছেন কাস্টমার লিস্ট সুবিধা। যেখানে খুব সুসজ্জিত ভাবে কাস্টমারদের তথ্য রেকর্ড থাকে।

আপনি চাইলে এসএমএস মার্কেটিং বা ইমেইল মার্কেটিং এর জন্য এই তথ্যগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়াও প্রতিটি কাস্টমারের বিপরীতে নোট রাখার সুবিধা রয়েছে।

 

 

সহজ ইউজার ইন্টারফেস

 

দেশি কমার্সের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের অর্ডার ম্যানেজমেন্ট ফিচারটি অত্যন্ত আধুনিক। এর ইউজার ইন্টারফেস পরিচ্ছন্ন ও সহজে বোধগম্য।

ই কমার্স বিজনেস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ফিচার সম্বলিত দেশিকমার্স ই-কমার্স ওয়েবসাইট সল্যুশন ব্যবহার করে অরগানাইজড ভাবে মানেজ করুন বিজনেসের অনলাইন অর্ডারগুলো। 

কাস্টমারদের প্রদান করুন সেরা কাস্টমার সার্ভিস অভিজ্ঞতা। 

আপনি কীভাবে আপনার ই কমার্স বিজনেসের কাস্টমার অর্ডারগুলো ম্যানেজ করেন?  শেয়ার করুন আপনার অভিজ্ঞতা।

লাইক-ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় পোস্ট