কিভাবে ই কমার্স বিজনেস ব্র্যান্ডিং করবেন (এবং ১০ টি এক্সপার্ট টিপস)

কিভাবে ই কমার্স বিজনেস ব্র্যান্ডিং করবেন (এবং ১০ টি এক্সপার্ট টিপস)

বিজনেস ব্র্যান্ডিং শুধু লোগো না বা একটি নাম না, এটি সারা বিশ্বব্যাপী প্রচারিত কোন বিজ্ঞাপনও না। এটি একটি কৌশল।  ব্র্যান্ডিং এমন একটি উপযোগিতা যা চোখে দেখা যায় না, হাতে ধরা যায় না। ব্র্যান্ডিং কেবলমাত্র অনুভব করা যায়। 

বিজনেস ব্র্যান্ডিংয়ের কথা যখন বলছি সে সময় বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কোম্পানিগুলোর কথা চিন্তা করুন,

  • কেন মানুষ এডিডাস অথবা নাইকির জুতোগুলো স্পোর্টস এর জন্য পছন্দ করে? 
  • কেন মানুষ সেরা টেকনোলজি প্রোডাক্ট বলতে অ্যাপেলের প্রোডাক্ট গুলোকে মনে করে?
  • কেন মানুষ ব্যয়বহুল mercedes-benz গাড়ি কেনার জন্য টাকা খরচ করে? 

এর উত্তর শুধুমাত্র ব্র্যান্ডিং নয়, ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত পাবার জন্য এর পেছনের সমস্ত পরিশ্রম এর মূল কারন যা তাদের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

ব্র্যান্ডিং বিজনেসের সাথে আবেগ, এনগেজমেন্ট এবং এক্সপেক্টেশনের সাথে মিলেমিশে থাকে। যার প্রভাবে একজন কাস্টমার একটি বিজনেসের সাথে এঙ্গেজ হাওয়া থেকে কেনাকাটা পর্যন্ত জার্নি সম্পন্ন করে। এবং প্রতিবার কেনাকাটায় সেই বিজনেস টিকেই বারবার বেছে নেয়।

এখানেই দুটি বিজনেসের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়। যেখানে কাস্টমার একটি ব্র্যান্ড কে গ্রহণ করে এবং অন্যটি কে ত্যাগ করে। 

ব্র্যান্ডিং একটি বিজনেসের জন্য প্রচলিত মুদ্রার মূল্যমানের মতই গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী উপাদান। এটি বিজনেসের অন্যতম কম্পিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ। কারন, মানুষ একটি প্রোডাক্ট কেনে কারণ তার পেছনে একটি গল্প রয়েছে যার সাথে সে ইমোশনাল কানেকশন অনুভব করে।

কিন্তু কিভাবে সেই ইমোশনগুলো সৃষ্টি হয়?  কিভাবে বিজনেসে ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য গল্পের জন্ম হয়?

এগুলো শুধুমাত্র কাল্পনিক গাল-গল্প নয়, এটি একজন কাস্টমারকে কেনাকাটায় শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা প্রদানের সুপরিকল্পিত কৌশল। কিভাবে আপনি সেটি করবেন? 

কাস্টমারদের শ্রেষ্ঠ সেবা নিশ্চিতকরণ

আপনার বিজনেসটি পরিচালিত হচ্ছে কাদের দ্বারা?  এটি সব সময় মনে রাখবেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায় একজন উদ্যোক্তা কেবলমাত্র তার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস প্রমোট করার জন্যই ব্যস্ত থাকেন। তারা ভুলে যান কাস্টমার কি চায়। 

একটু সময় নিয়ে কাস্টমারদের পারচেস অ্যাক্টিভিটি গুলো লক্ষ্য করুন।  দেখুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন তারা কি কিনছে, কিভাবে কিনছে, কেন কিনছে। 

কাস্টমার এক্টিভিটিসগুলো ফলো করার জন্য কয়েকটি উপায় রয়েছে,

আপনার যদি একটি ই কমার্স ওয়েবসাইট থাকে তাহলে সেখান থেকে প্রাপ্ত ডেটা দ্বারা কাস্টমারদের পারচেস বিহেভিয়ার বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

এছাড়াও গুগল এনালাইটিক্স ব্যবহার করেও আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের সাথে কাস্টমারদের আচরণের বিশ্লেষণধর্মী তথ্য পাবেন। যেখান থেকে আপনি পরিষ্কার একটি চিত্র দেখতে পাবেন, ঠিক কিভাবে কাস্টমার আপনার বিজনেসর সাথে যুক্ত হচ্ছে অথবা প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কেনার সময় তার কি ধরনের বিহেভিয়ার করছে।

এমন কিছু কাস্টমারদের এনালাইটিক্যাল ডাটা যেমন,

সেল বাই প্রোডাক্ট, সেল বাই কাস্টমার, পারচেস বাই কাস্টমার, কাস্টমার লওয়ালটি, রিপিট কাস্টমার ইত্যাদি। 

এই সকল ডেটা বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে বুঝতে পারবেন আপনার কাস্টমার আপনার বিজনেসের সাথে কীভাবে এঙ্গেজ হচ্ছে সেই ধরন সম্পর্কে।

এখন যে কাস্টমারটি কোন একটি নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট বেশি পরিমাণে কিনছে তাকে আপনি সেই প্রোডাক্ট গুলো আরো বেশি কেনার জন্য উৎসাহিত করতে পারবেন অথবা সেই রিলেটেড আর কি কি প্রোডাক্ট রয়েছে সেটি সম্পর্কে তাকে জানাতে পারবেন। 

যে কাস্টমার আপনার থেকে বেশি পরিমাণে প্রোডাক্ট কিনছেন তাকে আপনি রেওয়ার্ড দিতে পারেন যেন আরও বেশি কেনে। 

যে কাস্টমার আপনার থেকে সবথেকে বেশি বার অর্ডার করেছে তাকে আপনি আরও বেশি অর্ডার করার জন্য কৌশল নির্ধারণ করতে পারবেন।

অথবা যে কাস্টমার গুলো আপনার থেকে বারবার কিনছে তাকে আপনি দীর্ঘ সময় ধরে রাখার জন্য সচেষ্ট হতে পারেন।

এছাড়াও গুগল এনালিটিক্স ব্যবহার করলে বিজনেসের মার্কেটিং সফলতা ও কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট সম্পর্কে আরো ব্যাপক পরিসরে তথ্য পাওয়া সম্ভব।

এ তথ্যগুলো কেন প্রয়োজন?  

কারণ এ তথ্যগুলো থেকেই আপনি খুঁজে পাবেন আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ কাস্টমার কারা এবং তাদের জন্য আপনি কি ধরনের পদক্ষেপ নিলে তারা আরো বেশি সময় আপনার সাথে থাকবে বারবার কিনবে যা বিজনেসকে প্রফিটেবল করে তুলবে।

এ বিষয়টি একেবারেই কৌশলগত বিষয় যা আপনার ব্র্যান্ডকে স্টাবলিশ করতে অত্যন্ত সহায়ক এবং অনেকেই এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে অবহেলা করেন। 

আপনার বিজনেসের গল্পটি বলুন

একটি বিজনেস শুরু হওয়ার পেছনে একটি গল্প থাকে, কিছু কারণ থাকে, সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে।

গল্পটি আপনাকে বলতে হবে, তাহলে কাস্টমার আপনাকে বিশ্বাস করবে, আপনার ওপর আস্থা নিয়ে আসবে এবং আপনার বিজনেস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সাথে কাস্টমার সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

অনলাইনে হাজারো বিজনেস রয়েছে কেন কেউ একজন তাদের মধ্যে থেকে আপনাকে বেছে নিবে এবং সেখানে পয়সা খরচ করবে?

কাস্টমার তখনি আপনার বিজনেসকে গ্রহণ করবে ও আপনার থেকে কেনাকাটা করবে যখন আপনি তাকে বলবেন,

কেন আপনি বিজনেসটি শুরু করেছেন? 

আপনি কে?  

আপনি কোন বিষয়টিকে প্রতিনিধিত্ব করেন? 

আপনার বিজনেসটি কিসের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে? কেন দাঁড়িয়ে আছে? 

এবং সেই সমস্ত তথ্যগুলো যা কাস্টমারদের জন্য গুরুত্ব রাখে। 

কাস্টমার কেনাকাটার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গুলো নেয় তাঁর ইমোশোনাল অ্যাটাচমেন্ট থেকে।

চ্যাম্পিয়ন চেঞ্জ

আপনার বিজনেসটি কেন পরিচালিত হচ্ছে? আপনার বিজনেসের নর্মস ও ভ্যালু কি?  বিশ্বের জন্য আপনার বিজনেসের কন্ট্রিবিউশন কি?  

কাস্টমার মাত্রই মানুষ আর আপনার ব্র্যান্ড মানুষদের জন্য কি প্রতিজ্ঞা করছে তা একজন কাস্টমারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  তারা একটা বিজনেস কে কনসিডার করতে ও অন্যদের থেকে আলাদা করতে এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করে। 

মানুষ সাধারণত সেই ধরনের বিজনেসের সাথেই সম্পৃক্ত হতে চায় যাদের একটি পরিষ্কার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। থাকে সামাজিক দায়িত্ববোধ। 

নিচে এমনই কিছু কোম্পানি মিশনের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে,

FLEEPS’ Clear Company Mission

Fortress of Inca’s Clear Company Mission

উদাহরণগুলো খেয়াল করলে দেখবেন  ব্র্যান্ডগুলো একটি সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে ও তাদের ব্যবসার উদ্দেশ্যের সাথে সেটিকে সম্পৃক্ত করেছে এবং মানুষ এই পরিবর্তনগুলোকে ভালোবাসে।

অতিমাত্রায় প্রত্যাশা

কখনই কাস্টমারদের কাছে এমন কোন অঙ্গীকার করবেন না বা প্রতিশ্রুতি দেবেন না যেটি আপনি পূরণ করতে সক্ষম না বা অসত্য।

আপনি সেই সকল অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞাগুলো করুন যা আপনি প্রদান করছেন ও পূরণে সক্ষম। 

অনেক সময় লক্ষ্য করা যায় কিছু কিছু বিজনেস তাদের রিটার্ন এবং শিপিং পলিসির জন্য এমন ধরনের প্রতিজ্ঞা করে বসেন যা তারা পূরণ করতে সক্ষম না। 

ছোট ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে তাদের ডেলিভারি প্রসেস ও কাস্টমার সার্ভিস নিয়ে এমন সব আকাশচুম্বী প্রতিজ্ঞা করে বসেন যা পূরণ করা সম্ভব না ফলাফল কাস্টমারের কাছে দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব। 

নেগেটিভ ইমপ্রেসন কাস্টমারদের মাঝে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে।   

আপনি চাইলেই অ্যামাজন বা আলিবাবার  মত বিজনেস রাতারাতি দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারবেন না। এ সত্যটি আপনাকে বুঝতে হবে এবং সেই মাফিক প্রতিজ্ঞা করতে হবে। 

নিচের উদাহরণ গুলো খেয়াল করুন, ব্র্যান্ডগুলো তাদের রিটার্ন ও শিপিং পলিসি নিয়ে পরিষ্কার ও বিস্তারিত ভাবে তথ্য দিয়েছে যা তারা প্রদান করতে সক্ষম।

Northern Reflections’ Return & Exchanges Policy

Northern Reflections’ Shipping Policy

আপনি অন্যদের তুলনায় কাস্টমারদের কম সুবিধা দিতে পারেন, তবে যেটি দিবেন পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত করবেন। 

আপনার মার্কেট সম্পর্কে জানুন এবং ফোকাসড থাকুন

প্রতিটি ব্যবসায়ী সকল ধরনের কাস্টমারদের কাছে তার প্রোডাক্ট সেল করতে চায়। 

এটি একটি মারাত্মক ধরনের ভুল। 

যত বেশি পরিমাণে মার্কেট নেরো ডাউন করে নিয়ে আসতে পারবেন এবং সেই মার্কেটের কাস্টমারদের কনক্রিট মার্কেটিং মেসেজ পৌঁছে দিতে পারবেন ততবেশি বিজনেসে সফলতা পাবেন। 

সবাই আপনার টার্গেট মার্কেট না।  তাই তাদেরকে গুরুত্ব দিন যারা আপনার বিজনেসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো,

Nine Line’s (দেশপ্রেমিক অবস্থান) 

মার্কেটিং মেসেজগুলো অত্যন্ত পরিষ্কার এবং তাদের ওয়েবসাইট ও প্রতিটি ডিজিটাল মার্কেটিং প্লাটফর্মে সফলতার সাথে ছড়িয়ে দিয়েছে। 

তিনি প্রোডাক্ট তৈরি করেন সে সকল কাস্টমারদের জন্য যারা দেশকে ভালোবাসে দেশীয় প্রোডাক ভালোবাসে এবং দেশের সাথে সম্পৃক্ত ডিজাইনকে ভালোবাসে।

টার্গেট মার্কেট যখন পরিষ্কারভাবে ডিফাইন করা থাকে তখন তাদের জন্য মার্কেটিং মেসেজ তৈরি করা অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়।

Man Crate’s (সেন্স অফ হিউমার)  

এই ব্র্যান্ডটি পুরুষদের জন্য গিফট আইটেম বিক্রি করে।

তাদের মার্কেটিং মেসেজটি অত্যন্ত পরিষ্কার এবং ফোকাস। তাদের টার্গেট অডিয়েন্স হচ্ছে সেই মানুষ যারা ছেলেদের জন্য গিফট আইটেম কিনতে চায়।  সেটা হতে পারে তার বন্ধু, তার পরিবার, তার স্ত্রী বা তার বান্ধবী।

তারা কি প্রোডাক্ট তৈরি করে এবং কাদের জন্য তৈরি করছে সেটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রেখেছে তাই কিভাবে সেটি মার্কেটিং করবে সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট ভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম।

 

 

মতামত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন

আপনার আদর্শ কাস্টমারের মতামত গ্রহণ করুন এবং আপনার বিজনেসটিকে তাদের জন্য উপযোগী করে তুলুন।

কাস্টমার কি চায়?  তারা কি ধরনের সমস্যা বোধ করছে সে সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন। 

আপনার বিজনেসের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসুন এবং কাস্টমারদের কেনাকাটায় সেরা অভিজ্ঞতা প্রদান করুন।

ই-কমার্স বিজনেস নিয়ে ১০ এক্সপার্টদের পরামর্শ

Vladimir Gendelman, CEO,  Company Folders

প্রতিটি বিজনেসের নিজস্ব একটি গল্প রয়েছে কাস্টমারদের সেই গল্পটি বলুন। কাস্টমার কেন আপনাকে বিশ্বাস করবে? আপনার বিজনেসের উপর আস্থা আনবে তার জন্য যথার্থ কারণ উপস্থাপন করুন।

আজকে যে আপনার কাস্টমার সে যাতে করে অদূর ভবিষ্যতে আপনার বিজনেসের অবস্থান সম্পর্কে একটি কল্পনা তৈরি করতে পারে তার জন্য ধারাবাহিক ব্র্যান্ড স্টোরি তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Jason Quey, Founder, The Storyteller Marketer

কাস্টমার আপনার ব্র্যান্ডটির অবস্থানকে প্রতিযোগীদের থেকে কিভাবে আলাদা করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। মার্কেটিং এর ভাষায় এটাকে পজিশনিং বলে।

আপনার বিজনেসটির এমন কি ভ্যালু স্টেটমেন্ট রয়েছে যা প্রতিযোগিতা থেকে আপনাকে আলাদা করে তুলতে সহায়ক? 

Kunle Campbell, Founder, 2X Ecommerce

ব্র্যান্ডিং একটি লোগো অথবা শুধুমাত্র দৃষ্টিনন্দন কালারের ব্যবহার নয়। মানুষ আপনার বিজনেসটিকে কীভাবে দেখে, কি অনুভব করছে এবং কিভাবে যুক্ত হচ্ছে সেটি হচ্ছে ব্র্যান্ডিং।

তাই আপনার ব্র্যান্ডের একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখুন যা কাস্টমারকে ই-কমার্স কেনাকাটায় সেরা অভিজ্ঞতা প্রদান করবে এবং কাস্টমার আপনার ব্র্যান্ডের ফ্যানে পরিণত হবে।

Luke Hodgson, Commercial Director and Founder, Patchworks

অনলাইনে এমন হাজারো ব্র্যান্ড রয়েছে যারা একই ধরনের প্রোডাক্ট কেনা বেচা করছে। তাহলে কাস্টমার কেন আপনার ব্র্যান্ডটিকে প্রাধান্য দিবে?

তাই কাস্টমারদের এমন কিছু দিন যা আপনার ব্র্যান্ডের ওপর তাদের বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন করতে সাহায্য করে।

ধরুন, আপনার একটি কসমেটিকস শপ রয়েছে।  এখন কসমেটিকসের ব্যবহার নিয়ে আপনি অথেন্টিক এবং সত্য তথ্য দিচ্ছেন। 

কাস্টমার যখন বুঝবে আপনার ব্র্যান্ড সঠিক ও সত্য তথ্য দেয় তখন তারা যেকোনো কসমেটিকস রিলেটেড বিষয়ে আপনার মতামতকে গুরুত্ব দিবে।

Matt Phillips, President, Phillips & Co.

ই-কমার্স বিজনেসস কেবলমাত্র প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের ইনফর্মেশনকে ফোকাস করা যথেষ্ট নয়। আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের আবেগগুলোকে প্রাধান্য দিন। খুঁজে দেখুন আপনার বিজনেসের এমন কোন অর্থবহ বিষয় রয়েছে কিনা যা প্রকাশ করতে পারেন এবং তা কাস্টমারদের অনুভূতি গুলোর সাথে সম্পৃক্ত।

Alexei Alankin, Founder and CEO, Eventige

কাস্টমার কেনাকাটার আগে সেটি তাঁর চোখে দেখে। তাই ই-কমার্স বিজনেস এর ক্ষেত্রে ভিজুয়াল স্টাইল, টাইপোগ্রাফি, ফন্ট সিলেকশন, কালার কম্বিনেশন প্রত্যেকটি জিনিস গুরুত্বপূর্ণ।

Julie Wahl, Director of Product Marketing, Listrak

মিলেনিয়ালস কাস্টমার গ্রুপ একটি ব্র্যান্ডের প্রতি সবথেকে বেশি লয়াল থাকে কিন্তু তাদের প্রত্যাশা থাকে বেশি। তাই শুধুমাত্র অ্যাড দিয়ে তাদের আশা পূরণ করা সম্ভব নয়।

যদি আপনার অফার করা প্রোডাক্ট এর বাইরে তাদের জন্য এক্সট্রা ভ্যালু প্রদান না করেন,  তবে তারা আপনাকে গুরুত্ব দিবে না।

এজন্য এনগেজমেন্ট ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।  লাইফ স্টাইল ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে ভিডিও, ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট, টিউটোরিয়াল, লাইফস্টাইল আর্টিকেল, ব্লগ এসব অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

William Harris, CEO, Elumynt

হাজারো ব্র্যান্ডের ভিড়ে আপনার ব্র্যান্ডটির জন্য মার্কেটে জায়গা কোথায়?

মার্কেট রিসার্চ করতে হবে এবং কম্পিটিশন মার্কেটের মধ্যে আপনার ব্র্যান্ডের জন্য আদর্শ গ্যাপ খুঁজে বের করতে হবে।

Shayla Price, B2B Content Marketer

ই-কমার্স বিজনেস এর জন্য User-Generated Content এর সুবিধা নিতে পারেন।

আপনার কাস্টমারদের বা অডিয়েন্সদের উদ্বুদ্ধ করুন রিভিউ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট শেয়ার করতে। ই-কমার্স ব্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে User-Generated Content অডিয়েন্সদের কাছে সবথেকে বেশি গ্রহণযোগ্য।

Jeff Dyksen, President, Diztinct

আপনার ক্রেতাকে জানুন. তাদের চাওয়া, চাহিদা এবং পছন্দগুলি সম্পর্কে জানুন। তারপরে লেআউট, বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলি ডিজাইন করুন যা তাদের চাহিদা পূরণ করে এবং তাদের কেনাকাটায় আগ্রহী করে। 

পরিশেষে

একটি দুর্দান্ত ই-কমার্স ব্র্যান্ড তৈরি করা একটি শিল্প। আর শিল্প তখনই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় যখন মানুষের প্রত্যাশা ও আপনার বিজনেসের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে একই সুতোয় বুনতে সক্ষম হবেন।

প্রতিটি কমার্স বিজনেস পরিচালনার সময় উদ্যোক্তাদের নতুন কিছু অভিজ্ঞতা মুখোমুখি হতে হয় ই-কমার্স ব্র্যান্ডি নিয়ে। আপনার সেই অসাধারণ অভিজ্ঞতা গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

ফেসবুক বিজনেস পেজ: কিভাবে পেজের এনগেজমেন্ট বাড়াবেন

ফেসবুক বিজনেস পেজ: কিভাবে পেজের এনগেজমেন্ট বাড়াবেন

ফেসবুক বিজনেস পেজের এনগেজমেন্ট নিয়ে আপনি কি চিন্তিত? ফেসবুক ব্যবহার করে যে সকল উদ্যোক্তা তাদের বিজনেস পরিচালনা করছেন তারা অনেকেই বিজনেস পেজ বা পোস্টের এঙ্গেজমেন্ট নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বা হয়েছেন।

দেখা গেছে, তাদের পেজে একটি পোস্ট করলে খুব কম সংখ্যক অডিয়েন্স এঙ্গেজ হয়। ফলে তাদের পেইড অ্যাডের প্রতি নির্ভর করতে হয়।  

কিন্তু সেখানেও বাধে বিপত্তি। পেইড অ্যাড দিলেও পেজ বা পোস্টে আশানুরূপ এঙ্গেজমেন্ট হয় না। ফলাফল, অ্যাডের খরচ বেড়ে যায় । পেজে যদি পটেনশিয়াল অডিয়েন্স না আসে তবে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেল হবে কীভাবে?  

এই অবস্থায় অপর্যাপ্ত এঙ্গেজমেন্ট ও পেইড অ্যাডের উচ্চ খরচ আপনার ফেসবুক বিজনেস পেজ এর উদ্দেশ্যকে বিফল করে দিতে পারে।

ফেসবুক বিজনেস পেজের এনগেজমেন্ট ভালো না হবার অনেক গুলো কারণ রয়েছে। এই আর্টিকেলে সেই সকল কারণ গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা আপনার ফেসবুক বিজনেস পেজের এনগেজমেন্ট বাড়াতে সাহায্য করবে।

আপনার কাস্টমারদের পছন্দের কনটেন্ট পোস্ট করুন 

১৯৯৬ সালে বিল গেটস একটি রচনায় বলেছিলেন “Content is king” এবং ২০২০ সালের শেষ প্রান্তে এসেও “Content” still remains the king.

ফেসবুক বিজনেস পেজের এনগেজমেন্ট বাড়াতে হলে এমন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করুন যা আপনার টার্গেট অডিয়েন্সরা পছন্দ করে।

কিন্তু কি ধরনের কনটেন্ট আপনার টার্গেট অডিয়েন্সদের পছন্দ? সেটি খুঁজে বের করতে অনেকেই হিমশিম খান। এর একটি কারণ হতে পারে, তারা ঠিক বুঝে উঠেন না কিভাবে টার্গেট অডিয়েন্সদের পছন্দনীয় কনটেন্টের ধরন খুঁজে বের করা যায়।

একটি উদাহরণ,  Red bull বিশ্বের সবচেয়ে বহুল পরিচিত একটি এনার্জি ড্রিংক। তারা তাদের অডিয়েন্সদের জন্য এক্সট্রিম এক্টিভিটিস রিলেটেড কন্টেন্ট তৈরি করে। এর কারণ কি?

যারা সাধারণত এনার্জি ড্রিংকের কাস্টমার বা টার্গেট অডিয়েন্স তারা এক্সট্রিম এক্টিভিটিস করতে পছন্দ করে। আর এনার্জির প্রয়োজন তখনই হয়, যখন কোন কাজে আপনি লো এনার্জি ফিল করেন।

তাই Red bull তাদের বিজ্ঞাপনে  এক্সট্রিম এক্টিভিটিস উপস্থাপন করে যা একজন অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী মানুষকে সহজে আকৃষ্ট করে। 

আর এডভেঞ্জার এবং এক্সট্রিম এক্টিভিটিস পছন্দ করে এমন ধরনের অডিয়েন্সগুলোই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে Red bull এর কাস্টমার। 

তাই Red bull শুধুমাত্র তার প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেলিং পোস্ট করে না। তারা এমন ধরনের পোস্ট করে যা তাদের অডিয়েন্সদের পেজের সাথে এঙ্গেজড রাখে।

এবং যত বেশি এঙ্গেজমেন্ট ততবেশি সেল হবার সম্ভাবনা।

আরো পড়ুনঃ

ই কমার্স বিজনেস গ্রোথঃ সফলতা ও ব্যর্থতায় কনটেন্ট মার্কেটিং

 

ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কনটেন্ট পোস্ট করুন

আপনি যদি একজন ই-কমার্স উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন তবে আপনার পেজের দিকে একটু লক্ষ্য করে দেখুন? আপনি কোন ধরনের পোস্ট বেশি করছেন?

খেয়াল করলে দেখবেন,  আপনার পেজে সেলিং পোস্ট এবং প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের  ছবি সবচেয়ে বেশি রয়েছে।  কিন্তু এটি পেজের এঙ্গেজমেন্টের জন্য কি যথেষ্ট? 

আপনাকে ফেসবুক পোস্টের ধরনের ভিন্নতা নিয়ে আসতে হবে। যেমনঃ  ব্লগপোস্ট, ছবি,  সেল পোস্ট,  প্রেস রিলিজ,  ভিডিও, অ্যানিমেশন ইত্যাদি।

একজন কাস্টোমার যে ব্লগ পোস্ট পড়তে ভালবাসে সে শুধু মাত্র ছবি কিংবা ভিডিও দ্বারা আকৃষ্ট হবে না।

অপরদিকে, যে কাস্টমারের মনোযোগ ধরে রাখার সময়কাল কম সে আপনার লম্বা ব্লগপোস্ট পড়বে না। তার জন্য আপনাকে ক্রিয়েটিভ গ্রাফিক্স বা ভিডিও কন্টেন দিতে হবে।

এবং কনটেন্টের প্রতিটি ধরন যদি  ব্যবহার করেন, তবে সকল ধরণের কাস্টমার আপনার পেজের সাথে এঙ্গেজ হবার উপায় খুঁজে পাবে।

পোষ্টের শেষে প্রশ্ন ছুড়ে দিন

ফেসবুক প্লাটফরমটি তৈরি করা হয়েছে মানুষের মধ্যে একে অপরের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য। আপনার একটি পোস্ট দেখার পরে অথবা পড়ার পরে কাস্টমার কি করবে?

আপনাকে তাদের বলে দিতে হবে, এই পোস্টটি পড়ে কাস্টমার কি করবে।  

তাকে প্রশ্ন করতে হবে, কারণ প্রশ্ন হচ্ছে কাস্টমারদের উত্তর পাবার সর্বোত্তম উপায়।

উত্তর পাওয়া মানেই কমেন্ট করা আর কমেন্ট করার অর্থই হচ্ছে সে পোষ্টের সাথে কাস্টমার এঙ্গেজ হচ্ছে।

এনগেজমেন্ট এর অনেকগুলো ইন্ডিকেটর রয়েছে। যেমন পেইজ লাইক, পোস্ট লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, লিংক ক্লিক, স্টোর ভিজিট ইত্যাদি।

প্রতিটি পোস্টের শেষে এমন একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিন যা আপনার কাস্টমারকে উপরের উল্লেখিত ইন্ডিকেটরগুলো যেকোনো একটি বা একের অধিক বিষয়ে অ্যাকশন নিতে উৎসাহিত  করবে।

সপ্তাহে কমপক্ষে একটি পোস্ট অবশ্যই করুন

অনেকের মনে একটি প্রশ্ন জাগে কত ফ্রিকুয়েন্টলি ফেসবুক পেজে পোস্ট করতে হয়। এটির নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই তবে ফেসবুক ব্যবহার করে যারা বিজনেস পরিচালনা করছেন তাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় প্রতিদিন একটি পোস্ট করা ভালো। 

এতে আপনি পেজে অ্যাক্টিভ রয়েছেন এটি আপনার কাস্টমারেরা বুঝতে পারে।  তবে সেটি সম্ভব না হলে সপ্তাহে কমপক্ষে একটি পোস্ট অবশ্যই করবেন।  

Hubspot দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, যাদের পেজে ১০,০০০ ফ্যান রয়েছে তারা যখন একদিনে একের অধিক পোস্ট করেন সেক্ষেত্রে পোষ্টের এনগেজমেন্ট রেট ৫০% কমে যায়।

উপরের দুই পদ্ধতি ফেসবুক বেস্ট প্রাক্টিস এর মধ্যে পড়ে। এর বাইরে কেউ যদি চান দিনে একাধিকবার পোস্ট করতে, তবে তিনি সেটি করতে পারেন তবে সমস্যা হচ্ছে, আপনি যে আগের পোস্টটি করেছিলেন সেটি নিচে চলে যাবে। 

এতে পেইজের একটি গুরুত্বপূর্ণ  পোষ্ট অনেক অডিয়েন্স পড়তে পারবে না।

তাই পটেনশিয়াল কাস্টমারদের পেজে এঙ্গেজড রাখতে হলে সপ্তাহে ন্যূনতম একটি পোস্ট করা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। 

ফেসবুকে কনটেস্টের আয়োজন করুন

মানুষ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কোন কিছু জিততে পছন্দ করে। আপনার ফেসবুক পেজের জন্য এমন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করুন, যেখানে কাস্টমার পেইজের সাথে এঙ্গেজ হবার শর্তে কিছু জেতার সুযোগ পাবে।

নিচে কিছু ফেসবুক কনটেস্টের আইডিয়া দেওয়া হল যা পেইজের এঙ্গেজমেন্ট বাড়িয়ে তোলে,

পোস্ট লাইক করুন এবং পুরুস্কার জিতুন

কাস্টমারদের আপনার পোস্টটি লাইক করতে বলুন এবং লাইক কারীদের মধ্যে থেকে একজন বিজয়ী কে পুরস্কৃত করার কথা উল্লেখ করুন।

পোস্টে কমেন্ট করুন এবং পুরুস্কার জিতে নিন

এই কনটেস্টে আপনি শুধুমাত্র তাদের পুরস্কৃত করবেন যারা কমেন্ট করেছে এবং সেটি লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হবে।

লাইক এবং কমেন্ট করুন, পুরুস্কার জিতুন 

এই কনটেস্টে অংশগ্রহণকারী কে লাইক এবং কমেন্ট দুটোই করতে হবে। তবে তাকে লটারির জন্য এলিজেবল বলে গণ্য করা হবে।

ক্যাপশন কনটেস্ট

আপনার করা পোস্টটির জন্য সবচেয়ে ভালো ক্যাপশন কি হতে পারে, এমন আইডিয়া চেয়ে কনটেস্ট করতে পারেন। এক্ষেত্রে বিজয়ীদের লটারির মাধ্যমে পুরস্কৃত করবেন। 

ফটো কনটেস্ট

আপনার যদি একটি ফেসবুক গ্রুপ থাকে সে ক্ষেত্রে কাস্টমারদের তোলা ছবি প্রাসঙ্গিক শেয়ার করার জন্য উৎসাহিত করতে পারেন। এক্ষেত্রেও বিজয়ী লটারির মাধ্যমে ঘোষণা করা যেতে পারে অথবা অভিজ্ঞ বিচারক প্যানেলের দ্বারা বিজয়ী নির্বাচন করতে পারেন।

কোশ্চেন এবং অ্যানসার কনটেস্ট ইত্যাদি

কাস্টমারদের প্রশ্ন করুন এবং সঠিক উত্তর কারীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করুন। 

পেজের জন্য এঙ্গেজিং কাভার ফটো ডিজাইন করুন

অনেকেই রয়েছেন, ফেসবুকে একটি কাভার ফটো আপলোড করার পর পরবর্তী এক বছরের মধ্যে পরিবর্তন করেছেন কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।

ফেসবুক কাভার একটি বিজনেস পেজের  জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এটিকে ফেসবুক পেজের বিলবোর্ড বলা হয়।

একজন অডিয়েন্স ফেসবুক পেজে আসার পর সর্বপ্রথম এই জিনিসটি দেখতে পান সেটি হচ্ছে তার কাভার ফটো

আপনার বিজনেস পেজ এর জন্য একটি আই ক্যাচি কাভার ফটো তৈরি করুন যা কাস্টমারদের আকৃষ্ট করবে।

 

 

কল টু অ্যাকশন

একটি  তথ্যবহুল বিজনেস পেজে কাস্টমার আসার পরে এঙ্গেজ হতে পারেনা কেন জানেন? কারন কাস্টমার জানে না তাকে কি করতে হবে।

প্রতিটি পোস্টের সাথে অথবা পেইজের শুরুতে এমন একটি কল টু অ্যাকশন জুড়ে দিন যেটি বিজনেস পেজের মূল উদ্দেশ্য সফল করতে সহায়ক।

যেমন ধরুন, একটি ফাইভ স্টার হোটেল কোম্পানি তাদের বিজনেস পেইজে কল টু অ্যাকশন হিসেবে “Book Now” বাটনটি জুড়ে দিয়েছে। 

এতে করে একজন কাস্টোমার যদি পেজের কনটেন্ট গুলো দেখে পছন্দ করে তাহলে “Book Now”বাটনে ক্লিক করে খুব সহজেই তার পছন্দের সার্ভিস প্যাকেজ অথবা রুমটি  রিজার্ভ করতে পারেন।

আপনার পেজের “কল টু অ্যাকশন” হিসেবে কি রয়েছে? আমাদের কমেন্টে জানিয়ে দিতে পারেন।   

ফেসবুক বিজনেস পেজের এবাউট সেকশনটি সঠিকভাবে পূরণ করুন

বিজনেস পেজটি কেন তৈরি করা হয়েছে?  বিজনেস এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য কি?  এসকল বিষয় এই অংশে উল্লেখ করুন।

আপনার অডিয়েন্স অথবা কাস্টমার যদি না জানে আপনি কে এবং কেন ফেসবুক বিজনেস পেইজটি তৈরি করেছেন, তবে তারা এই বিজনেস পেজ এর গুরুত্ব বুঝতে সক্ষম হবে না।

ফেসবুক পেজে পোস্ট করার সময়

ফেসবুক পেজ অথবা পোস্ট এঙ্গেজমেন্টের জন্য টাইম অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

ফেসবুকে প্রতিদিন ৩৫০ মিলিয়ন ফটো আপলোড হয় এবং ফেসবুকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬.১ মিলিয়ন। 

এই বিশাল কনটেন্টের সমুদ্রে আপনার কনটেন্ট অডিয়েন্সদের সফল ভাবে দেখানো একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়।

সাধারণত সেই সময়ে পোস্ট করুন যে সময় গুলোতে ফেসবুকে আপনার অডিয়েন্স বা কাস্টমার একটিভ থাকে।

আপনি সব সময় সঠিক টাইমে পোস্ট করতে সক্ষম নাও হতে পারেন। সে জন্য ফেসবুকের একটি চমৎকার ফিচার রয়েছে, সেটি হচ্ছে “শিডিউল পোস্ট”। 

এখন থেকে আপনি চাইলেই ভবিষ্যতে কোন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফেসবুক পোস্ট শিডিউল করে রাখতে পারবেন। এতে নির্ধারিত সময়ে আপনার পোস্টটি ফেসবুকে আপডেট হয়ে যাবে।

কিভাবে বুঝবেন কোন সময়গুলাতে পোস্ট করলে আপনার অডিয়েন্সদের সেটি দেখতে পাবার সম্ভাবনা বেশি?  এজন্য আপনার বিজনেস পেজের অডিয়েন্স ইন্সাইট ব্যবহার করতে পারেন।

সেখান থেকে খুঁজে বের করুন ঠিক কোন সময়গুলোতে পেজে সবথেকে বেশি মানুষ একটিভ থাকে এবং সেই সময়গুলোকে ফেসবুক পেজে পোস্ট আপডেট করার জন্য বেছে নেন।

আরো পড়ুনঃ 

কখন পোস্ট দিলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি এঙ্গেজমেন্ট পাবেন।

গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট গুলো পিন পোস্ট করে রাখুন

আপনার ফেসবুকের একটি পোস্ট আপনার কাস্টমারেরা খুব বেশি পছন্দ করেছে, আপনি চাইলে সে পোস্টটি পিন পোস্ট করে রাখতে পারেন। এতে করে পেজের প্রথমেই সে পোস্টটি দৃশ্যমান থাকবে।

যেহেতু এই পোস্টটি আপনার কাস্টমারেরা খুব বেশি পছন্দ করেছে তাই নতুন অডিয়েন্সরাও সেই পোস্টটি পছন্দ করার সম্ভবনা বেশি থাকে।

পোস্টে কমেন্টকারীদের রিপ্লাই করুন

ফেসবুকের একটি পোস্টে যখন কেউ কমেন্ট করে তখন সে কমেন্টের রিপ্লাই করুন। কমেন্টের রিপ্লাই দিলে দুটি জিনিস হয়।

১) আপনার কাস্টমার তার প্রশ্নের উত্তর পায় এবং সে আপনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে। 

২) যেহেতু আপনি একটি পোষ্টের কমেন্টের বিপরীতে রিপ্লাই দিচ্ছেন তাই ফেসবুক সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং বেশি বেশি কমেন্টের বিপরীতে সবগুলো রিপ্লাই দেওয়া হলে সেই পোস্টের এঙ্গেজমেন্ট আরো বাড়তে থাকে।

পরিশেষে

ফেসবুকের বিজনেস পেজের  এঙ্গেজমেন্ট বাড়াতে হলে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কৌশলের উপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে খুঁজে পেতে হবে সর্বোত্তম উপায়। 

আপনি আপনার ফেসবুক বিজনেস পেজের এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি করতে কি কৌশল অবলম্বন করেন? আমাদের জানিয়ে কমেন্ট করুন।  

ফেসবুক মার্কেটিং এ সেলস বা বিক্রয় ফানেল কী এবং কিভাবে কাজ করে?

ফেসবুক মার্কেটিং এ সেলস বা বিক্রয় ফানেল কী এবং কিভাবে কাজ করে?

সেলস ফানেল বিষয়ে বিস্তারিত বোঝানোর জন্য একটি গল্প বলি,

আমার বন্ধু রকি, শীতকালে তার বাবার ঠান্ডা পানিতে অনেক কষ্ট হয়। তাই সে চিন্তা করলো এবার শীতে সে তার বাবার জন্য সবসময় গরম পানির ব্যবস্থা করবে।

সে ফেসবুক ও গুগলে সার্চ করে প্রাথমিক ধারনা নেবার চেষ্টা করলো এবং কিছু গিজারের বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজে সে লাইক দিয়ে রাখলো। 

কয়েকদিন পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানোর মুহূর্তে তার চোখে পড়লো ABC কোম্পানির গিজারের বিজ্ঞাপন।সে যেহেতু তার গরম পানির জন্য গিজার প্রয়োজন, সে বিজ্ঞাপনটি দেখে আগ্রহী হল এবং সেই কোম্পানির ফেসবুক পেজে কিছু ভালো লাগা পোস্টে লাইক দিলো।  

এর একদিন পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ABC কোম্পানির গিজারের অ্যাড সে তাঁর নিউজফিডে দেখতে পেল। এরপর সে অ্যাডে ক্লিক করে গিজার নিয়ে আরও তথ্য জানতে সে তাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করলো। সেখানে আরও তথ্য জানতে রকি তাঁর ইমেল দিয়ে ABC গিজার কোম্পানির নিউজলেটার  সাবস্ক্রাইব করে রাখলো।

পরের দিন থেকেই রকি নিয়মিত ভাবে সেই গিজার বিক্রয়কারী থেকে গিজার কিভাবে ব্যবহার করবে, ভালো গিজারের বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি? গিজারের বিদ্যুৎ খরচ কেমন? ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যবহুল ইমেল পাওয়া শুরু করলো।  সে আরও কয়েকটি কোম্পানিকে পছন্দের তালিকায় রেখেছিলো। কিন্তু হাতে টাকা কম থাকায় পরের মাসে কেনার সিদ্ধান্ত নিলো।

এমন সময় ABC গিজার কোম্পানি থেকে আকর্ষণীয় ডিস্কাউন্ট অফারের ইমেল পেলো। যেহেতু রকি সেই কোম্পানি সম্পর্কে জানে আর সে বাজেটের মধ্যে গিজার পাচ্ছে তাই সে সিদ্ধান্ত নিলো ABC কোম্পানি থেকেই সে গিজার কিনবে।  দুইদিন পরে সে তার পছন্দের গিজারটি সেই কোম্পানি থেকে অর্ডার করলো। 

রকির গিজার কেনার প্রক্রিয়াটা মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করবেন। সে একটি গিজারের বিজ্ঞাপন দেখার পরপরই অর্ডার করে নি। একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবার পর সে পছন্দের গিজারটি অর্ডার করেছে।

এখানে গিজার বিক্রয়কারী ABC কোম্পানি তার প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য একটি পরিকল্পিত ‘Sales path’ বিক্রয় রাস্তা তৈরি করে রেখেছিলো, যেখানে রকি নতুন কাস্টোমার হয়ে আসার পরে চূড়ান্ত ক্রেতা হিসেবে তাঁর জার্নি শেষ করেছে।

প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেল করার জন্য কাস্টমারদের পরিকল্পিত ক্রয় অভিজ্ঞতা প্রদানের যে প্রসেস একটি কোম্পানি নির্ধারণ করে রাখে সেটিকে বলা হয় সেলস ফানেল।

সেলস (Sales) বা বিক্রয় ফানেল কি?

সেলস ফানেল হলো সেই প্রতিটি পদক্ষেপ বা ধাপ, যা আপনার থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন করার জন্য আপনার কাস্টমারকে নিতে হবে।

সেলস ফানেলের ভাগ

একজন কাস্টমার একটি বিজনেসের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে কেনাকাটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কেনাকাটা সম্পন্ন করা পর্যন্ত তিনটি স্তরে বিচরণ করে। 

এই তিন স্তর অনলাইন কিংবা অফলাইন প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হচ্ছে,

সেলস ফানেলের ধাপ প্রথমে TOFU তারপর MOFU শেষে BOFU
সেলস ফানেল

TOFU (Top of the Funnel)

আপনার দোকানের সামনে দিয়ে হেটে যাওয়ার সামান্য কিছু মানুষ আপনার দোকানের ভেতরে ঢোকে। এই স্তরটি হল TOFU 

ই-কমার্স বিজনেস এর ক্ষেত্রে আপনার এড দেখে কিছু মানুষ আগ্রহী হয় এবং আরও জানার জন্য আপনার সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোর সাথে এঙ্গেজ হয়। 

MOFU (Middle of the funnel)

যে মানুষগুলো আপনার দোকানে বিভিন্ন প্রোডাক্টগুলো দেখছে বা কোন একটি নির্দিষ্ট পণ্যের দিকে নির্দেশ করে আপনাকে সেটা দেখাতে বলছে। সে প্রোডাক্টটির কোয়ালিটি, ইউজকেস ইত্যাদি  প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে। এই স্তরটি কে বলা হয় Middle of the funnel. 

ই-কমার্স বিজনেস এর ক্ষেত্রে, কাস্টমারেরা আপনার অ্যাড দেখে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ অথবা ই-কমার্স ওয়েবসাইটে আসবে।  তারা বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট দেখবে, সে এসএমএস, ইমেইল, চ্যাট অথবা কমেন্টের মাধ্যমে আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে। তারা কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আপনার ব্র্যান্ডকে পছন্দের তালিকায় রাখবে। 

BOFU

এখন কাস্টমার আপনার ব্র্যান্ড ও প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানে এবং সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপনার থেকে সে কিনবে। সে কেনাকাটায় অফার বা ডিস্কাউন্ট প্রত্যাশা করে। পরিশেষে সে আপনাকে প্রোডাক্ট প্যাক করতে বলে এবং কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যায় টাকা পরিশোধ করার জন্য।এই স্তরটি কে বলা হয় Bottom of the funnel. 

ই-কমার্স এর ক্ষেত্রে, প্রোডাক্টটি কাস্টমারের পছন্দ হয়ে গেছে এবং সে এড টু কার্ট করে চেক আউট করবে।  

সেলস ফানেল কেন গুরুত্বপূর্ণ

আপনার ব্যবসার সেলস ফানেল বুঝে ফানেলর প্রতিতি স্তরে সঠিক সময়ে, সঠিক মানুষের কাছে, ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারলে আপনি সবচেয়ে কম খরছে সবচেয়ে ভাল ফলাফল পাবেন।

আপনি যখন সুনির্দিষ্ট ভাবে জানবেন কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানা থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন করা পর্যন্ত কী ধরনের আচরণ করে। তখনই সেই মাফিক প্রয়োজনীয় তথ্যের বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে কাস্টমারে পরিণত করতে পারবেন। 

ধরুন, একজন কাস্টমার শীতের জন্য জুতা কিনবে। আপনার দোকানে অথবা ওয়েবসাইটে এসেছে জুতো কেনার জন্য। 

কাস্টমার আসার পরপরই আপনি তাকে বললেন, কোন জুতোর দাম কত এবং কীভাবে সে টাকা পরিশোধ করবে।তাহলে কি সেই কাস্টমার আপনার থেকে জুতা কিনবে? যদি না কেনে, তবে কেন কিনলো না?

সকল কাস্টমারের প্রয়োজন সমান নাও হতে পারে। কেউ হয়তো শীতের সময় নিজের পা উষ্ণ রাখার জন্য জুতা কিনতে এসেছে। কেউ বা ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য জুতা কিনতে চায়।কিন্তু আপনি সবাইকে জুতার মূল্য সম্পর্কে বলছেন।  তাহলে সে কখনোই জুতা কিনবে না।

আবার একইভাবে, যখন কেউ সুনির্দিষ্ট ভাবে এসেছে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য জুতা কিনতে, তাকে আপনি ফরমাল ব্যবহার করার জন্য বিভিন্ন ধরনের জুতো দেখাচ্ছেন। তাহলে সে কাস্টমার জুতা কিনবে না।

যে কাস্টমার একটি নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট নির্ধারণ করেছে, তার অর্থ সে জুতো নিয়ে পূর্ব ধারণা নিয়ে এসেছে।  আপনার প্রয়োজন তাকে সেই নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট ও তাঁর প্রয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে কেনাকাটা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা।

এক্ষেত্রে তাকে কনফিউজ করে দিলে সে কখনোই আপনার ব্র্যান্ড থেকে কিনবে না।একইভাবে একজন কাস্টোমার যখন আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানে, প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানে এবং সে কি কিনবে সেটা নির্ধারণ করে রেখেছে। 

শুধুমাত্র সে পরিশোধ করে কিনতে চায়, তাকে যখন আবার পূর্বের অবস্থায় নিয়ে ব্র্যান্ড সম্পর্কে কথা বলবেন, কোন কোন জুতা কালেকশন রয়েছে সেগুলো বলবেন।  তখন সে বিরক্ত হয়ে আপনার দোকান অথবা ওয়েবসাইট ছেড়ে চলে যাবে।

আর এই কারণেই অধিকাংশ ই-কমার্স সেলারদের অভিযোগ, তারা অ্যাডে অনেক বেশি পরিমাণ টাকা খরচ করেও সেল করতে পারেন না। 

সেলস ফানেলের স্টেজ সমূহ

একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কিভাবে কাস্টমারের রুপান্তরিত  করবেন সে বিষয়ে একটি বিস্তারিত লেখা আমরা ইতিপূর্বে প্রকাশ করেছিলাম। যেখানে ধারনা দেয়া হয়েছিলো, একজন কাস্টোমার প্রথমবার আপনার বিজনেসে এসে কেনাকাটা সম্পন্ন করা পর্যন্ত যে পর্যায় ক্রমিক ধাপগুলো অতিক্রম করে সে প্রসঙ্গে।

আরো পড়ুনঃ

AIDA মডেল: একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কাস্টমারে রূপান্তরের পরীক্ষিত ফ্রেমওয়ার্ক

এই ধাপগুলিকে বলা হয় সেলস ফানেলের স্টেজ।

অর্থাৎ একজন কাস্টোমার আপনার বিজনেসের সাথে চারটি ভিন্ন ভিন্ন ধাপে যুক্ত হয়ে থাকে এবং প্রতিটি ধাপে একজন সেলারকে কাস্টমারের জন্য প্রয়োজনীয় ইনফর্মেশন প্রদান করতে হয় যা তাকে পর্যায়ক্রমে পরবর্তী স্টেজে নিয়ে যেতে উৎসাহী করে তোলে।

Awareness (অনুধাবন)

সম্পূর্ণ নতুন একজন কাস্টমার আপনার ব্র্যান্ড বা বিজনেস সম্পর্কে জানানো। এই ষ্টেজে কাস্টমার একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং তার সমাধান খুঁজতে থাকে। ঠিক এই মুহূর্তে একটি ব্র্যান্ড তার সামনে উপস্থিত হয় সেই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে।কাস্টমার তখন সেই ব্র্যান্ড সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তারা জানতে চায়, সেই ব্র্যান্ড তার জন্য কি ধরনের সমাধান অফার করছে। 

তখন কাস্টমারদের পেইন পয়েন্ট গুলো তুলে ধরুন আর তাঁর সাথে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসকে রিলেট করুন। প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিক ও ক্রিয়েটিভ তৈরি করুন। 

Interest (আগ্রহ)

এই ষ্টেজে এসে সেলার তাঁর কাস্টমারদের  প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে।তাঁর প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কাস্টমারের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করতে সক্ষম সে সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে। কাস্টমার একটি ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস এর প্রতি আগ্রহ বোধ করে। 

এই ষ্টেজে কাস্টমারদের আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে এমন সব বিস্তারিত কনটেন্ট প্রদান করুন। যা তাঁর সেই প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে আগ্রহকে বাড়িয়ে তুলবে। কাস্টমার তাঁর সমস্যাগুলোর সমাধানে আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিসকে রিলেট করতে পারবে। 

সেজন্য,   Email campaigns, Blog posts, Lead magnets, Free trials, Retargeting campaigns এই সকল ধরনের কনটেন্ট ডিজাইন করতে পারেন। 

 

 

Desire (আকাঙ্ক্ষা)

এই ষ্টেজে  কাস্টমার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কেনার জন্য প্রস্তুত থাকে। এ অবস্থায় কাস্টমার একের অধিক ব্র্যান্ড কে তার কনসিডারেশন এর মধ্যে রাখে।সে তার শর্ট লিস্টে থাকা ব্র্যান্ডগুলো থেকেই কেনাকাটা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। 

কি করবেন?

কাস্টমার এই ষ্টেজে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে তাঁর এই প্রোডাক্টটি প্রয়োজন । এবার তাকে প্রমান দিন আপনার প্রোডাক্ট ব্যবহার করে অন্য সকলে কি ধরনের সুফল পেয়েছে, তারা আপনার প্রোডাক্ট ওঁ সার্ভিস নিয়ে কি বলে। আপনি কাস্টমারদের ফ্রি স্যাম্পল প্রোডাক্ট অফার করতে পারেন, সার্ভিসের ক্ষেত্রে ডেমো অফার করতে পারেন। 

এই ষ্টেজে যে ধরনের কনটেন্ট কাস্টমারদের প্রদান করবেন, 

  • Testimonials
  • Pricing pages
  • Case studies (here’s how to create them)
  • Discount codes
  • Customer reviews and product recommendations
  • Live demos or tutorial webinars
  • Consultations
  • Product comparisons

Action (পদক্ষেপ)

এই স্টেজে এসে কাস্টমার একটি নির্দিষ্ট ব্যান্ডকে পছন্দ করে কেনা সম্পন্ন করে। ঝামেলা হীন কেনা সম্পন্ন করার সেরা অভিজ্ঞতা প্রদানই হচ্ছে এই ধাপের এর উদ্দেশ্য।

কাস্টমারদের কেনাকাটার সময়সীমাকে এগিয়ে নিয়ে আসতে লোভনীয় অফার, ডিস্কাউন্ট বা কুপন দিন। আপনার মূল লক্ষ্য হবে কীভাবে কাস্টমারদের কেনাকাটা করার গতিকে তরান্বিত করা যায়। 

যে ধরনের কনটেন্ট প্রদান করবেন, 

  • Insider or customer success tips
  • Special offers
  • Product implementation or training webinars
  • Bundled packages
  • Follow-up email campaigns 

কিভাবে আপনি আপনার বিজনেসের জন্য সেলস ফানেল তৈরি করবেন? 

বিজনেসের ধরন বা প্রোডাক্ট ও সার্ভিস এর প্রকারভেদে সেলস ফানেল ভিন্নতা রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি একজন দক্ষ বিজনেস কনসালট্যান্ট এর পরামর্শ নিয়ে আপনার জন্য আদর্শ সেলস ফানেল তৈরি করতে পারেন। উদাহরন স্বরূপ একটি ই-কমার্স কোম্পানি ফ্যাশন আইটেম সেলস ফানেল তৈরি করার পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো।

Step 1

প্রথমেই ভালোভাবে একজন আদর্শ কাস্টমারের আচরণকে বিশ্লেষণ করুন। তাহলে সঠিক কৌশল নির্ধারণ করতে সক্ষম হবেন। তারা কি ধরনের কনটেন্ট, কোন কোন মিডিয়া ব্যবহার করে এঙ্গেজ হচ্ছে এই বিষয়গুলোকে লিপিবদ্ধ করুন।

Step 2

দেখলেন আপনার কাস্টমারের সোশ্যাল মিডিয়াতে একটিভ থাকে এবং ভিডিও কনটেন্ট বেশি পছন্দ করছে। তাহলে আপনাকে দারুন সব ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

Step 3

কাস্টমার যখন আপনার ব্যবসা সম্পর্কে জানবে, আপনার ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস গুলো নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করবে। তখন ল্যান্ডিং পেজ এর মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সম্পর্কে ডিটেলস তথ্য কাস্টমারদের প্রদান করবেন। আগ্রহী কাস্টমারদের প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ইনফর্মেশন সংগ্রহ করবেন। এটাকে লিড জেনারেশন বলা হয়।

Step 4 

কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস গুলো দেখেছে কিন্তু এখনও কেনাকাটা সম্পন্ন করে নাই। সে আপনার কথা ভুলে যাবে।তাই এই ধাপে ইমেইল বা এসএমএস দিয়ে বিভিন্ন অফার অথবা প্রয়োজনীয় এডুকেশনাল কন্টেন দিন। যা তাকে আপনার ব্র্যান্ডের কথা মনে করিয়ে দেবে।

সেলস ফানেল এর সফলতা নির্ণয় করবেন কিভাবে?

সেলস ফানেল এর চারটি ভিন্ন ভিন্ন ধাপের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতা নির্ণয় করা প্রয়োজন। তা না হলে আপনার সেলস ফানেল টি কার্যকর কিনা সে সম্পর্কে কখনোই বুঝতে পারবেন না।

দেখে নেই কিভাবে বুঝবেন আপনার সেলস ফানেলটি কার্যকর নাকি আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।

Awareness বা অনুধাবন ধাপ 

একটি ব্র্যান্ডের উদ্দেশ্য থাকে কাস্টমারদের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করা। এ ক্ষেত্রে সফলতা নির্ণয় করতে হয় আপনার মার্কেটিং ক্যাম্পেইনগুলো সর্বাধিক কতজন টার্গেট অডিয়েন্সকে রিচ করতে পারছে। যদি দেখেন পোটেনশিয়াল অডিয়েন্স সাইজ ১০ লাখ। কিন্তু মাত্র তিন লক্ষ মানুষকে আপনার অ্যাড গুলো দেখাছে, তবে ফানেল অপটিমাইজ করা প্রয়োজন।

Interest বা আগ্রহ ধাপ 

এই স্টেজের সফলতার নির্ণয় করতে হয় কাস্টমার আপনার দেয়া তথ্য গুলোর উপরে আস্থা রাখতে পারছে কিনা তার ওপরে। এটি বুঝবেন যখন তারা আপনার কনটেন্ট গুলার সাথে লাইক, শেয়ার বা কমেন্টের  মাধ্যমে যুক্ত হয়। যদি কাস্টমার কম এঙ্গেজ হয় অথবা নেগেটিভ কমেন্ট করে। তাহলে আপনার সেলস ফানেল ঘষামাজা করা প্রয়োজন।

Desire বা আকাঙ্ক্ষা ধাপ

আপনি বিভিন্ন ধরনের অফার এবং ডিসকাউন্ট প্রদান করছেন। তার মধ্যে কতজন কাস্টমার সেই অফার বা ডিসকাউন্ট ব্যবহার করছে, সেটির পরিমাণে বলে দেয় স্টেজে ফানেল কতোটা সফল। প্রমোশনাল অফারের বিপরীতে প্রাপ্ত কাস্টমার অর্ডার সংখ্যায় আকাঙ্ক্ষা স্টেজের সফলতার নির্ণায়ক।

Action বা পদক্ষেপ ধাপ 

কেনাকাটা সম্পূর্ণ করার জন্য কাস্টমার আপনার কল টু অ্যাকশন গুলার সাথে কিভাবে যুক্ত হচ্ছে সেটি এই স্টেজের সফলতা নির্ণয় করে। যদি লক্ষ্য করেন আপনার প্রোডাক্ট ওঁ সার্ভিসের অ্যাডের সাথে থাকা কল টু অ্যাকশনে কাস্টমার খুব বেশি যুক্ত হচ্ছে না তবে  অপটিমাইজেশন প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ বিক্রি বৃদ্ধির জন্য ফানেল অপটিমাইজেশন কৌশল

পরিশেষে

বর্তমান সময়ে কেনাকাটায় কাস্টমারদের সামনে প্রচুর অপশন রয়েছে। তাই আপনি যদি সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য তাদের না দেন তবে তারা আপনাকে কখনোই মূল্যায়ন করবে না।ঠিক এ কারণেই বেশিরভাগ অনলাইন বা অফলাইন বেচাকেনায় একটি ব্র্যান্ডের সমস্ত মার্কেটিং প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

শুধুমাত্র পরিকল্পিত সেলস ফানেল তৈরি করে কাস্টমারদের সঠিক সময়ে, সঠিক তথ্য গুলো সুসজ্জিত ভাবে সরবরাহ করলেই একজন কাস্টমারকে তা কেনার সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহ দেয়।

পরিকল্পনাহীন মার্কেটিং এর পেছনে লক্ষ টাকা ব্যয় করলেও সেখানে থেকে আপনি পরিমিত সেল পাবেন না এবং এই সত্যটি আপনাকে সবার প্রথমে জানতে হবে।

একবার ভাবুন তো, আপনি যখন বিজনেসের জন্য একটি অ্যাড দেওয়ার পরিকল্পনা করেন, তখন আপনি কি চিন্তা করেছেন সেই অ্যাড সেলস ফানেলের কোন স্টেজের  জন্য ডিজাইন করছেন? এবং আপনি সেখান থেকে কি লক্ষ্য অর্জন করতে চান?

যদি এই প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা না থাকে, তবে আপনার বিজনেসের সেলস ফানেল প্রয়োজন।

ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন (USP) কী? সঠিক USP এর ৬ টি উদাহরণ এবং এনালাইসিস

ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন (USP) কী? সঠিক USP এর ৬ টি উদাহরণ এবং এনালাইসিস

বিজনেসের মার্কেটিং সফলতায় ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন (USP) কেন প্রয়োজন জানেন কি? বাজারে একটি প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসের হাজার রকমের ব্র্যান্ড রয়েছে। প্রতিটি কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সেল করার জন্য মার্কেটিং-এ ইনভেস্টমেন্ট করছেন। 

তাহলে আমরা কি সবার কাছ থেকে কেনাকাটা করছি?  কেন কিছু নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট আমরা বেশিরভাগ সময় বায়িং কনসিডারেশন স্টেজ এর মধ্যে রাখি বা কেনাকাটার তালিকায় রাখি।

একটি কাস্টমারের পক্ষে হাজারো ব্র্যান্ডের প্রোডাক্টের মধ্যে থেকে প্রয়োজন সাপেক্ষে তার পছন্দের প্রোডাক্ট বেছে নেওয়া বেশ দুরূহ একটি ব্যাপার।

একজন সাধারণ কাস্টমার কখনোই এই জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে না। তবে কীভাবে আপনি সেই কাস্টমারকে বোঝাবেন যে, সেই প্রোডাক্টটি তার চাহিদা পূরণে সক্ষম? 

এখানেই ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন তাঁর কারিশমা দেখায়। 

ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন (USP) কি? 

“ কোন বিষয়টি আপনার বিজনেস কে প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করেছে?” 

উপরের প্রশ্নটির উত্তর খুঁজলেই USP পাওয়া যায়।  

এটি আপনার বিজনেস অথবা প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা আপনাকে আপনার প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে।

বলতে পারেন, এটি আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যা কাস্টমারদের নির্দিষ্ট কোনো সমস্যার সমাধান করে। ফলে, আপনার প্রতিযোগীদের থেকে আপনার সেই প্রোডাক্ট ও সার্ভিসকে কাস্টমারের সামনে সেরা ভাবে উপস্থাপন করে।

কোনটি ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন (USP) না 

মার্কেটিং অফার সমূহ যেমন, ৩০% ডিসকাউন্ট অথবা ফ্রি শিপিং, ২৪  ঘণ্টা কাস্টমার সার্ভিস অথবা একটি ভালো রিটার্ন পলিসি – এগুলো ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন এর মধ্যে পড়ে না। কারণ তারা ব্যতিক্রমী হলেও কোনভাবেই ইউনিক নয়।

অনেকেই বিজনেস মার্কেটিং করতে এই বিষয়গুলোর প্রতি জোর দিয়ে তাঁর প্রোডাক্ট বা সার্ভিসকে অন্যদের থেকে আলাদা করার চেষ্টা করেন। যা তাকে কোনো সুবিধা দিতে পারে না।

ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন এর একটি পরিষ্কার স্টেটমেন্ট থাকবে যা আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসকে বাজারের অন্যান্য প্রতিযোগীদের থেকে স্পষ্ট ভাবে আলাদা করে।

বর্তমান বাজারে শুধুমাত্র প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ডেভেলপ করে টিকে থাকা সম্ভব নয়। আপনাকে কাস্টমারদের প্রয়োজন ও সমস্যা গুলো খুজে বের করতে হবে।

আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসগুলো কিভাবে কাস্টমারদের সমস্যার সমাধান করবে সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসের মার্কেটিং করা প্রয়োজন।

এতে করে কাস্টমার বুঝতে পারবেন আপনার প্রোডাক্ট তার কি প্রয়োজনে আসতে পারে।

ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন এর কিছু উদাহরণ

Oppo মোবাইল ( Camera Phone) 

প্রায় ৫ বছর আগে এই চাইনিজ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ইন্ডিয়ার মার্কেটে তাদের বিজনেস প্রসারিত করে  এবং আজকে এটি ইন্ডিয়ার একটি অন্যতম সফল মোবাইল ব্র্যান্ড কোম্পানি।

বাংলাদেশেও তাদের একটি বড় বাজার। বাংলাদেশে যখন স্যামসাং, নোকিয়া, মাইক্রোসফট, এলজি, মটোরোলা মোবাইল ফোনের প্রচন্ড দাপট, তখন হাতে গোনা কিছু চাইনিজ ফোন বাজারের স্বল্প বাজেটের কাস্টমারদের ভরসার জায়গা ছিল।

“চায়না ফোন ভালো হয় না” এই প্রবাদ এদেশে লোকমুখে প্রতিষ্ঠিত, যদিও বিশ্বের অন্যতম সফল মোবাইল ব্র্যান্ড কোম্পানি অ্যাপেল চায়নাতে ম্যানুফ্যাকচার হয়।

তাই বাংলাদেশের মতো জায়গায় স্যামসাং কিংবা নোকিয়ার কাস্টমারদের পছন্দের তালিকায় চাইনিজ ব্র্যান্ড জায়গা দখল করে নিবে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অপ্পো মোবাইল ব্র্যান্ড কোম্পানি এই জায়ান্ট মোবাইল ব্র্যান্ড কোম্পানি গুলোর সাথে সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। তারা যেটি করেছে, শুধুমাত্র কাস্টমারদের একটি স্পেসিফিক প্রয়োজনকে সামনে নিয়ে এসেছে।

তাদের ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন (USP) হচ্ছে, “ক্যামেরা ফোন”।  

তাদের প্রতিটি বিজ্ঞাপনে তার এই স্লোগানটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতো।

কিছুদিন পরে দেখা গেল,  যারা মোবাইল ফোন কেনার জন্য ক্যামেরা কোয়ালিটি কে প্রাধান্য দেয় তারা অপ্পো ব্র্যান্ডকে তাদের বায়িং কনসিডারেশন মধ্যে নিয়ে আসতে শুরু করলো। 

দামে সাশ্রয়ী, দুর্দান্ত ক্যামেরা কোয়ালিটি এবং কাস্টমার সার্ভিস এই ৩ টি বিষয়ের  সমন্বয়ে অপ্পো খুব অল্প সময়ে ইন্ডিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ মার্কেট দখল নিতে সক্ষম হয়েছে।

ওয়ালটন ( আমাদের পণ্য)

ওয়ালটন ব্র্যান্ডের কথা বললেই মাথার মধ্যে আসবে “দেশি পণ্য”। এটি তাদের ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন। 

বাংলাদেশের একমাত্র সফল কোম্পানি যারা “আমাদের পণ্য” এই স্লোগান দিয়ে এদেশের মানুষের কাছে সফলভাবে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন এবং মানুষ তাদের গ্রহণ করেছে।

যখন বলা হয় “মেড ইন বাংলাদেশ” তখন স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় আসে এটির বাজারমূল্য কম হবে।

ওয়ালটন বলে তাদের প্রোডাক্ট অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত, উন্নত মানের এবং দামে সবচেয়ে সাশ্রয়ী।

দেশি পণ্যের মধ্যে ওয়ালটন সেরা এ বিষয়টি তারা খুব ভালোভাবেই সবার সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

মানুষ এখন দেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে সেরা ইলেকট্রনিক্স গুডস বলতে ওয়ালটন কে বোঝে।

Domino’s pizza (  delivery within 30 minutes or it free)

৩০ মিনিটের মধ্যে আপনার দরজায় পৌঁছে যাবে ফ্রেশ এবং গরম পিজ্জা।

ফুড ডেলিভারির ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী USP ছিল। যেখানে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে ঠিক কত সময়ের মধ্যে আপনি আপনার অর্ডারকৃত পিজ্জা হাতে পাবেন।

এখন ধরুন, কারো বাসায় মেহমান এসেছে সে বাইরে থেকে পিজ্জা অর্ডার করতে চায়, সে কাকে বেছে নিবে। নিশ্চয় Domino’s pizza কারন অন্য কেউ এই সময়ের প্রতিশ্রুতি দেয় না। 

এটি ডোমিনোস পিজ্জা কে সবার থেকে আলাদা করে তুলেছে তাদের পরিষ্কার অর্ডার ডেলিভারি টাইম ডিউরেশন।

Chaldal ( Groceries delivered in 1 hour)

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী এক ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি করা হয় – এটি অনলাইন গ্রোসারি শপ চালডাল কে বাংলাদেশ ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলেছে।

চাল-ডালে কাঁচা বাজার থেকে প্যাকেটজাত দ্রব্য সবকিছুই পাওয়া যায় এবং আপনি সেটি অর্ডার করলে এক ঘণ্টার মধ্যে আপনার বাসায় ডেলিভারি করতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।

বাংলাদেশ বর্তমান সময়ে বেশ কিছু অনলাইন গ্রোসারি শপ গড়ে উঠেছে। এরও আগে স্বপ্ন, মিনা বাজার, আগোরা এর মত প্রতিষ্ঠান অনলাইনে বেচাকেনার চেষ্টা করেছিল কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। অনলাইন কে তারা শুধুমাত্র প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতো।

কিন্তু চাল-ডালে ইউনিক বিজনেস স্ট্রাটেজি এবং এক ঘন্টার ডেলিভারি কনফার্মেশন মানুষকে অনলাইনে গ্রোসারী আইটেম কেনার জন্য উৎসাহিত করেছে।

তাই আমরা যখন অনলাইনে গ্রসারি আইটেম কেনাকাটা করে দ্রুত ডেলিভারি পেতে চায়, তখন  চালডালকে বেছে নেই।

Zappos ( have the best return policy ever)

আমরা যখন অনলাইনে কেনাকাটা করি তখন ক্রয়কৃত প্রোডাক্ট পছন্দ না হলে সেটি ফেরত দেওয়ার সময় আমাদের ঝামেলা পোহাতে  হয়। ফেরত দেয়া প্রোডাক্টের জন্য ডেলিভারি কোম্পানি পরিশোধ করা টাকার একটি অংশ কেটে রেখে দেয়।

কিন্তু আপনি যখন Zappos থেকে জুতা অর্ডার করবেন তখন আপনার সাথে এমন কিছুই হবে না।

একজন কাস্টমার Zappos থেকে একের অধিক জোড়া জুতা অর্ডার করতে পারে এবং সেখান থেকে তার যে জুতা গুলো পছন্দ হয় না সেগুলো ফেরত বা পরিবর্তন করে নিতে পারে। সেজন্য Zappos কাস্টমারকে কোন রকম চার্জ  করে না। 

Zappos প্রতিটি কেনাকাটায় সবচেয়ে কম প্রাইস অফার করে। তাই আপনি যদি প্রতিবার কেনাকাটায় ফ্রী শিপিং এবং রিটার্ন সুবিধা পেতে চান  তবে Zappos  ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

খেয়াল করুন, Zappos পরিচিত হয়েছে তাদের সেরা ফ্রি শিপিং এবং রিটার্ন পলিসি জন্য।

 

 

থার্ড লাভ (we have the right fit)

এটি মেয়েদের অন্তর্বাস ব্র্যান্ড। আন্ডার গার্মেন্টস বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি। তাদের USP হচ্ছে, সঠিক সাইজ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার। 

সাইজ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে তাদের রয়েছে একটি সাইজ চার্ট এবং তারা কিছু প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে কাস্টমারদের সঠিক সাইজ বের করে নিয়ে আসে।

ফলে একজন প্রথমবার কাস্টমার তার সঠিক সাইজের অন্তর্বাস কিনতে পারেন। এবং তাদের আরও একটি চমৎকার পলিসি হচ্ছে “ট্রাই বিফোর ইউ বায়” অর্থাৎ আপনি কেনার আগে সেটি ট্রায়াল দিয়ে দেখতে পারেন এবং ফিট না হলে সেটি রিটার্ন করতে পারেন।

সাইজ সংক্রান্ত পরিমাপের ক্ষেত্রে তারা বলে আপনি ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আপনার পছন্দের সাইজ বের করতে পারবেন।

সাইজ নিয়ে সমস্যায় কেবা পড়তে চায়, তাই অন্তর্বাস কেনার জন্য থার্ড লাভ ব্র্যান্ড কাস্টমারদের পছন্দের শীর্ষে থাকে। 

কিভাবে আপনার বিজনেসের ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন (USP) বের করবেন

ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়, এটি একটি প্রতিশ্রুতি যা আপনার বিজনেস বা আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস একজন কাস্টমারকে প্রদান করে।

আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন খুঁজে বের করার কিছু পদ্ধতি রয়েছে।

প্রথমে আপনার বিজনেস এবং আপনি যা সেল করছেন সেগুলোর সম্ভাব্য সকল পার্থক্যগুলো লিস্ট করুন।

এরপরে, আপনার প্রতিযোগিদের নিয়ে রিসার্চ করুন ও খুঁজে বের করুন তারা  প্রোডাক্ট সেল করার সময় কি প্রতিশ্রুতি প্রদান করছে বা প্রোডাক্টের কোন উপযোগিতা গুলোকে তুলে ধরছে। বের করুন আপনি তাদের থেকে আলাদা কি করতে পারেন।

এবার কাস্টমারদের প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এমন একটি প্রতিশ্রুতি করুন যা তাদের সমস্যার সমাধান করবে। বা আপনি সবার থেকে আলাদা একটি উপযোগিতা বেছে নিতে পারেন। 

এবার সমস্ত তথ্য একত্রিত করুন।

সবশেষে, আপনার প্রতিযোগীদের থেকে কীভাবে আপনি আলাদা, এই তথ্যটি  কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দেবার  পরিকল্পনা করুন।

উদাহরণ

ধরুন, আপনার প্রোডাক্ট হচ্ছে ফ্যাশন আইটেম। ফ্যাশন আইটেমের মধ্যে আপনি ক্লোদিং আইটেম নিয়ে বিজনেস করেন। ক্লোদিং আইটেমের মধ্যে আপনি টি শার্ট সেল করেন।

অর্থাৎ নিশ প্রোডাক্ট সিলেক্ট করুন। 

আপনি টি-শার্ট সেল করলেও আপনার বিজনেস এর বিশেষত্ব হচ্ছে আপনি কাস্টম কার্টুন প্রিন্ট করা টি শার্ট বিক্রি করেন ।

তাহলে আপনার ইউনিক স্পেলিং প্রপোজিশন বলা যায়, সবার জন্যে কাস্টম প্রিন্ট কার্টুন টি-শার্ট। 

এবার আপনি আপনার বিজনেসের  ইউনিক স্পেলিং প্রপোজিশন খুঁজে বের করুন। আর যদি এখনও বিজনেসের ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন না থাকে, তবে সেটি তৈরি করুন।

পরিশেষে

ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন কোন স্লোগান, ট্যাগলাইন অথবা ক্রিয়েটিভ অ্যাড কপি নয়। 

এটি কাস্টমারদের জন্য আপনার বিজনেসের  প্রোডাক্ট বা সার্ভিস গুলোর তুলনামূলক উপযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি যা কাস্টমারদের সুনিদৃষ্ট সমস্যা সমাধানে সক্ষম।

প্রতিটি বিজনেসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কাস্টমারদের সমস্যার সমাধান করা। আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কাস্টমারদের কোন সমস্যাটির সমাধান করে? 

আরো পড়ুনঃ

ইকমার্স বিজনেসে সেলস বাড়াতে ব্র্যান্ডিং কেন জরুরী?

১২ টি ওয়েবসাইট যেখানে আপনি হাই-কোয়ালিটি ফ্রি স্টক ফটো পাবেন

১২ টি ওয়েবসাইট যেখানে আপনি হাই-কোয়ালিটি ফ্রি স্টক ফটো পাবেন

বিজ্ঞাপন তৈরি, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, অথবা ওয়েবসাইটে ব্যবহারের জন্য আমরা অনেকেই ফ্রি স্টক ফটো ব্যবহার করি। গুগলে সার্চ দিলেই লক্ষ লক্ষ স্টক ফটো ওয়েবসাইট আমাদের সামনে এসে হাজির হয়। 

এগুলোর মধ্যে থেকে আমাদের জন্য আদর্শ কোনটি তা খুঁজে পাওয়া একটি চ্যালেঞ্জ।

ফ্রি স্টক ফটো সাইটের ইমেজ গুলো আমরা কোন কোন কাজে ব্যবহার করতে পারবো অথবা পারবো না, সে বিষয়ে সঠিকভাবে জানতে হবে। না হলে কপিরাইট সংক্রান্ত ঝামেলায় অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে জড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

এখানে ১২ টি বেস্ট স্টক ফটো ওয়েবসাইট ও সেগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে বলা হয়েছে, যেখান থেকে আপনি কমার্শিয়াল ও নন কমার্শিয়াল কাজে ব্যবহারের জন্য সঠিক ইমেজগুলো খুঁজে পাবেন। 

আর হ্যাঁ, এজন্য আপনাকে কোন প্রকার কপিরাইট সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হবে না।

Gratisography

এটি একটি ফ্রি স্টক ফটো সাইট যা, রায়ান ম্যাকগুইয়ার তৈরি করেছেন। তিনি নিজেই একজন গ্রাফিক্স ডিজাইন ফার্মের  মালিক।

তার সাইটের স্টক ফটো গুলোর বিশেষত্ব হচ্ছে, এখানে আপনি মজাদার ছবির সংগ্রহ পাবেন এবং এই ছবিগুলার পজিশনিং অ্যাঙ্গেল বেশ চমকপ্রদ।

তারা প্রতি সপ্তাহে নতুন ফটো তাদের সাইটে আপলোড করে।

এই সাইটটি CCO এর আন্ডারে লাইসেন্স করা। অর্থাৎ এই ছবিগুলো যে কেউ ব্যবহার করতে পারবে এবং তার জন্য ছবির মালিকের কোন বাধা নেই।

 অনুমতি রয়েছে, 

  • ছবিগুলো কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল প্রজেক্ট ব্যবহার করতে পারবেন
  • ছবিগুলো আপনার পছন্দমত এডিট করতে পারবেন
  • আপনার প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেই ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন

অনুমতি নেই,

  • ছবির মধ্যে দৃশ্যমান কোনো ব্যক্তিকে বাজে ভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন না
  • ছবিগুলো কোনোভাবেই বেআইনি মানহানিকর ঘৃণ্য অথবা অনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন না
  • আপনার প্রোডাক্টের গ্রহণযোগ্যতার পক্ষে এই ছবিগুলো কোন ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন না

ওয়েবসাইট ন্যাভিগেশন

Pexels

এই ওয়েবসাইটটিতে ফ্রি স্টক ফটো এবং ভিডিও-র প্রচুর কালেকশন রয়েছে এবং ক্যাটাগরি ওয়াইজ ছবি গুলো সাজানো তাই খুঁজে পাওয়া  অনেক সহজ।

ওয়েবসাইট লিডারবোর্ড পেজে প্রতি মাসে সবচেয়ে বেশি ভিউ হওয়া ছবিগুলো শেয়ার করা হয় যা পপুলার ইমেজ খুঁজে পেতে সাহায্য করে। 

এছাড়াও তাদের দারুন একটি ব্লগ রয়েছে, সাথে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।  যেখানে তারা ফটোগ্রাফি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের টিপস এবং তাদের অসাধারণ কাজ গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করে থাকেন।

এই সাইটটি CCO এর আন্ডারে লাইসেন্স করা।

অনুমতি রয়েছে,

  • ছবি ও ভিডিও গুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন তার জন্য কোন রকম পারমিশন এর প্রয়োজন হবে না
  • ছবি ভিডিও গুলো আপনার পছন্দমত এডিট করতে পারবেন

অনুমতি নেই,

  • ছবির মধ্যে দৃশ্যমান ব্যক্তিকে বাজে ভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন না
  • ছবিগুলো বেআইনি মানহানিকর ঘৃণ্য অথবা অনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন না
  • এই সাইটের ছবিগুলো পলিটিক্যাল বিষয়ে ব্যবহার নিষেধ
  • পুনরায় বিক্রয়ের জন্য ছবিগুলো রাতে ব্যবহার করতে পারবেন না

ওয়েবসাইটটির ন্যাভিগেশন

Pixabay

এই সাইটটিতে ফ্রি স্টক ফটো এর বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। হাই কোয়ালিটি ছবি, ভেক্টর এবং ইলাস্ট্রেশনের প্রায় ১.৮ মিলিয়ন এর বেশি ছবি এখানে আপনি পাবেন।

এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের ছবি রয়েছে তবে বিশেষ করে তারা বিজ্ঞাপনদাতা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষভাবে ছবির কালেকশন রেখেছেন যা ব্যবসায়িক বা মার্কেটিংয়ের  কাজে ব্যবহার উপযোগী। 

তাদের ওয়েবসাইটে ছবিগুলো খুব সহজেই মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম।

এই সাইটটি CCO এর আন্ডারে লাইসেন্স করা।

অনুমতি রয়েছে, 

  • ছবিগুলো কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল প্রজেক্টে ব্যবহার করতে পারবেন
  • ছবিগুলো আপনার পছন্দমত এডিট করতে পারবেন
  • আপনার প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেই ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন

অনুমতি নেই,

  • অন্য ওয়েবসাইটে পুনরায় বিক্রি করতে পারবেন না
  • হুবহু ছবি কপি করে সেল করতে পারবেন না
  • ছবির মধ্যে দৃশ্যমান ব্যক্তিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন না
  • ছবিতে ব্যবহৃত ব্যক্তি বা ব্র্যান্ডের সাথে আপনার প্রোডাক্টের সামঞ্জস্য বিধান করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবেন না

ওয়েবসাইট ন্যাভিগেশন

Unsplash

এটি অনলাইনের সবচেয়ে বড় ফ্রি স্টক ফটো সাইট।

এই ওয়েবসাইটটিতে ২ মিলিয়ন এর বেশি ছবি রয়েছে এবং কন্ট্রিবিউটার সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ। তারা প্রতি ১০ দিনে দশটি নতুন ছবি যোগ করে।

ওয়েবসাইটটি অত্যন্ত অর্গানাইজড তাই সঠিক ছবিটি খুঁজে পেতে কষ্ট করতে হয়না। 

এই সাইটটি CCO এর আন্ডারে লাইসেন্স করা।

 অনুমতি আছে, 

  • ছবিগুলো কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল প্রজেক্ট ব্যবহার করতে পারবেন
  • ছবিগুলো আপনার পছন্দমত এডিট করতে পারবেন
  • আপনার প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেই ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন

অনুমতি নেই,

  • বড় ধরনের পরিবর্তন না করে ছবি গুলো পুনরায় বিক্রি করতে পারবেন না
  • ছবিগুলো অন্য কোন সাইটে বিক্রি করতে পারবেন না

ওয়েবসাইটের নেভিগেশন

 

Brust

এটি ই-কমার্স ব্র্যান্ড শপিফাই এর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ওয়েবসাইট।

যারা  রিটেল বা ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রমোশনের উপযোগী ছবিগুলো খোঁজেন তাদের জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটে ছবিগুলো অত্যন্ত সুসজ্জিত ভাবে সাজানো রয়েছে। মূলত উদ্যোক্তাদের টার্গেট করেই ওয়েবসাইটটি নির্মিত।

এই ওয়েবসাইটের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে,  ছবিগুলো কমার্শিয়াল বা নন কমের্সিয়াল কাজে ব্যবহারের জন্য কিভাবে ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে দারুন সব টিউটোরিয়াল রয়েছে।

যেমন, ফেসবুক অ্যাড, প্রোডাক্ট ফটো, অনলাইন ভিডিও ইত্যাদি কাজের জন্য এই ওয়েব সাইটের কনটেন্ট গুলো কিভাবে ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে তারা আপনাকে প্রশিক্ষিত করে।

সাইটটির কিছু ইমেজ CCO এর আন্ডারে লাইসেন্স করা এছাড়া বাকি সব ছবিগুলো শপিফাই ফটো লাইসেন্স এর আন্ডারে অন্তর্ভুক্ত।

অনুমতি রয়েছে,

  • ছবিগুলো কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল প্রজেক্ট ব্যবহার করতে পারবেন
  • ছবিগুলো আপনার পছন্দমত এডিট করতে পারবেন
  • আপনার প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেই ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন

অনুমতি নেই,

  • অনৈতিক বা মানহানিকর কাজে ছবি গুলো ব্যবহার করতে পারবেন না
  • এমন কোন ভাবে ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন না যা ছবির মধ্যে দৃশ্যমান ব্যক্তিদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করে অথবা হেয় করে
  • আপনার প্রোডাক্টের এনডোর্সমেন্ট এর জন্য ছবি গুলো ব্যবহার করতে পারবেন না।
  • শফি ফাই এর লাইসেন্স ফটোগুলো কোনভাবেই বিক্রয় যোগ্য নয়
  • অন্য কোন স্টক ফটো ওয়েবসাইট বা সার্ভিস হিসেবে এই ছবিগুলো পুনরায় করতে পারবেন না

ওয়েবসাইটের ন্যাভিগেশন

Stocksnap.io

এই সাইটে স্টক ফটোর বিশাল কালেকশন রয়েছে এবং তারা প্রতি সপ্তাহে ১০০ এর বেশি ছবি এখানে আপলোড করে।

তাদের স্টক ফটোগুলো ব্রাইট এবং এনার্জেটিক যা সহজেই মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম।

বিভিন্ন ক্যাটাগরির ছবি তাদের ওয়েবসাইটে পাবেন, যেমন বিজনেস, বিচ, সিটি, ফুডস, ওয়ার্ক, হেলথ এবং আরো অনেক।

সাইটটি CCO এর আন্ডারে লাইসেন্স করা

অনুমতি রয়েছে,

  • ছবিগুলো কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল প্রজেক্ট ব্যবহার করতে পারবেন
  • ছবিগুলো আপনার পছন্দমত এডিট করতে পারবেন
  • আপনার প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেই ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন

অনুমতি নেই,

  • আপনার প্রোডাক্টের এনডোর্সমেন্ট এর জন্য ছবি গুলো ব্যবহার করতে পারবেন না।

ওয়েবসাইটটির ন্যাভিগেশন,

Life of pix 

হাই কোয়ালিটি এবং রেজুলেশনের ছবির জন্য এই সাইটটি অসাধারণ।

এই স্টক ফটো সাইটের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সার্চ ফিল্টারিং অপশন। যা আপনাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরি, কালার এবং ওরিয়েন্টেশন অনুযায়ী সার্চ করার সুবিধা দেয়।

তারা টপ ফটোগ্রাফারদের হাইলাইট করে যা থেকে দারুন সব ছবি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

সাইটটি CCO এর আন্ডারে লাইসেন্স করা। 

 

অনুমতি রয়েছে,

  • ছবিগুলো কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল প্রজেক্ট ব্যবহার করতে পারবেন
  • ছবিগুলো আপনার পছন্দমত এডিট করতে পারবেন
  • আপনার প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেই ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন

অনুমতি নেই,

  • ব্যাপকভাবে ছবি গুলো পুনরায় দিস্ট্রিবিউশন করতে পারবেন না এটা নিষিদ্ধ

ওয়েবসাইটটির ন্যাভিগেশন

New old stock

যারা একটু ভিন্টেজ টাইপের ছবি খুঁজছেন তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ ওয়েবসাইট।

এই ছবিগুলো সংগ্রহ করা হয় বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান থেকে, যারা ফ্লিকার কমন এর নিয়ম মেনে এই ছবিগুলো শেয়ার করতে ইচ্ছুক। 

ফ্লিকার কমনের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান সমূহের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই ওয়েবসাইটের সমস্ত ছবিগুলো পাবলিক ডোমেইনে এভেলেবেল।

অনুমতি রয়েছে,

  • কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল কাজে ব্যবহার করতে পারবেন

অনুমতি নেই,

  • প্রতিটি ইমেজের নিজস্ব রেস্ট্রিকশন রয়েছে তাই ব্যবহারের আগে পরীক্ষা করে নিন।

ওয়েবসাইট ন্যাভিগেশন

Picjambo

ব্লগার, ডিজাইনার এবং উদ্যোক্তাদের জন্য ওয়ালপেপার ও স্টক ফটোর বিশাল সংগ্রহ রয়েছে এই ওয়েবসাইটে।

তাদের ইমেজ কালেকশন এর মধ্যে রয়েছে বিজনেস, আবস্ট্রাক, ওয়ালপেপার, ট্রাভেল, নেচার, ভিন্টেজ এবং আরো অনেক ক্যাটাগরি।

এই ওয়েবসাইটের বেশিরভাগ ছবি ফ্রি, এছাড়াও তাদের পেইড মেম্বারশিপ রয়েছে যেখানে আরো দারুন এবং উচ্চ মানের ছবি সংগ্রহ করার অনুমতি দেয়।

এছাড়াও তাদের নিউজলেটার ব্লগ এবং ডিজাইন রিসোর্স রয়েছে যা আপনার ইমেজ সংক্রান্ত কাজে প্রয়োজন হতে পারে।

সাইটটি CCO এর আন্ডারে লাইসেন্স করা

অনুমতি রয়েছে,

  • ছবিগুলো কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল প্রজেক্ট ব্যবহার করতে পারবেন
  • ছবিগুলো আপনার পছন্দমত এডিট করতে পারবেন
  • আপনার প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেই ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন

অনুমতি নেই,

  • বিক্রয় এবং রি-ডিস্ট্রিবিউট করতে পারবেন না

ওয়েবসাইটে ন্যাভিগেশন

Rehost

এটি একটি ফটোগ্রাফি কমিউনিটি যাদের উদ্দেশ্য বিশ্বের সেরা ভিজুয়াল কন্টাক্ট গুলো একে অপরের সাথে শেয়ার করা।

এই ওয়েবসাইট থেকে বিশ্বের সেরা ফটোগ্রাফারদের ইউনিক সব ফটোগুলো  আপনি পেয়ে যাবেন

সাইটটি CCO এর আন্ডারে লাইসেন্স করা

অনুমতি রয়েছে,

  • ছবিগুলো কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল প্রজেক্ট ব্যবহার করতে পারবেন
  • ছবিগুলো আপনার পছন্দমত এডিট করতে পারবেন
  • আপনার প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেই ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন

অনুমতি নেই, 

  • বিক্রয় এবং রি ডিস্ট্রিবিউট করতে পারবেন না

ওয়েবসাইট ন্যাভিগেশন

Stockvault

আপনি যদি হাই কোয়ালিটি ইমেজ খুঁজে থাকেন তবে এটি আপনার জন্য আদর্শ হতে পারে।এই ওয়েবসাইটে প্রায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার স্টক ফটো। ভেক্টর ইমেজ এবং এইচডি ও ফোরকে রেজ্যুলুশনের দারুন দারুন ক্রিয়েটিভ রয়েছে। 

এছাড়াও এই ওয়েবসাইটে ফটোগ্রাফি নিয়ে ব্লগ ফ্রি টিউটোরিয়াল ও ফটোশপ ব্যবহার করে কিভাবে ইমেজ রিজাইন করবেন সে বিষয়ে দারুন সব রিসোর্স পাবেন।

ওয়েবসাইট CCO কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল লাইসেন্স এর অন্তর্ভুক্ত তাই প্রতিটি ইমেজ ব্যবহার করা যে পরীক্ষা করে নিবেন।

অনুমতি রয়েছে,

  • ছবিগুলো কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল প্রজেক্ট ব্যবহার করতে পারবেন
  • আপনার পছন্দমত এডিট করতে পারবেন
  • প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেই ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন

অনুমতি নেই,

  • কিছু ইমেজ কমার্শিয়াল কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না
  • ইমেজ গুলোর বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়া পুনরায় সেল বা নিজ নামে লাইসেন্স করতে পারবেন না
  • এই ছবিগুলো নিজ নামে ওনারশিপ নিতে পারবেন না, যদি না আপনি এর পরিবর্তন সাধন করেন

ওয়েবসাইট ন্যাভিগেশন

Picspree

এটি ইমেজ ক্রিয়েটারদের  একটি কমিউনিটি, যারা এখানে তাদের ছবিগুলো শেয়ার করেন অন্যদের ব্যবহার করার জন্য।

বিভিন্ন ক্যাটাগরির সম্বলিত তাদের বিশাল ইমেজ লাইব্রেরী রয়েছে এছাড়াও তারা প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ প্রোগ্রাম অফার করে।

অনুমতি রয়েছে,

  • ছবিগুলো কমার্শিয়াল এবং নন কমার্শিয়াল প্রজেক্ট ব্যবহার করতে পারবেন
  • ছবিগুলো আপনার পছন্দমত এডিট করতে পারবেন
  • আপনার প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেই ছবিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন

অনুমতি নেই, 

ছবিগুলো পুনরায় সেল করতে পারবেন না। 

ওয়েবসাইট ন্যাভিগেশন

 

পরিশেষে,

স্টক ফটো ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখবেন সেটি আপনাকে কি অনুমতি দেয় ও কি নিষেধ করে। স্টক ফটো ব্যবহার করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে এগুলো পুনরায় ব্যবহারের পূর্বে নিজের পছন্দমাফিক মডিফাই করে নেয়া। 

এই ব্লগটি বুকমার্ক করে রাখুন, আর যখনি আপনার স্টক ফটোর প্রয়োজন হবে লিস্টের স্টকফটো সাইটগুলো থেকে ডাউনলোড করে নিন আপনার পছন্দের ইমেজ।   

আরো পড়ুনঃ

ইকমার্স প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির আদ্যোপান্ত – কি, কেন, কীভাবে ?

কমপ্লিট ফেসবুক অ্যাড গাইড ২০২১ঃ কিভাবে ফেসবুকে অ্যাড দিতে হয়

কমপ্লিট ফেসবুক অ্যাড গাইড ২০২১ঃ কিভাবে ফেসবুকে অ্যাড দিতে হয়

কমপ্লিট ফেসবুক অ্যাড গাইড ২০২১ঃ ফেসবুক অ্যাড তৈরির  প্রাথমিক পর্যায় থেকে অ্যাডভান্স কৌশলের প্রতিটি ধাপ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই গাইডে। 

আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ অডিয়েন্সের একটি বড় অংশ সামাজিক মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার করে এবং  ফেসবুক তাদের সাথে আপনার ব্র্যান্ডকে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। 

সমসাময়িক সময়ে অর্গানিক ভাবে ফেসবুক অডিয়েন্সদের সাথে যুক্ত হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং – কারণ ফেসবুকের ক্রমাগত অ্যালগোরিদমের পরিবর্তন। 

তারপরও ফেসবুকের টার্গেটিং অপশন ব্যবহার করে আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ কাস্টমারদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। যার দ্বারা আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসগুলো আদর্শ কাস্টমারদের সামনে তুলে ধরা সহজ হয়। 

ফেসবুক ব্যবহার করে কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে হলে ফেসবুকের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। বুঝতে হবে আপনার অডিয়েন্সদের কাছে পৌঁছাতে এবং তাদের খুঁজে পেতে ফেসবুক কিভাবে কাজ করে ।

এই গাইডে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, 

 

  • ফেসবুক অ্যাড টাইপ
  • Step-by-step গাইড, কিভাবে ফেসবুকের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিবেন
  • ফেসবুকে অ্যাড স্পেস
  • ফেসবুক অ্যাড বিষয়ে স্মার্ট টিপস
  • ফেসবুক অ্যাড আইডিয়া

 

ফেসবুক অ্যাড টাইপ

ইমেজ অ্যাড

এটি ফেসবুকের খুব সাধারন অ্যাড টাইপ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর। তবে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।  প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবেন? 

আমরা সাধারন একটি ছবি পোস্ট করার মাধ্যমেই ফেসবুক অ্যাড দিয়ে থাকি। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, সেই সাধারণ ছবিটি দর্শকদের জন্য ইন্টারেস্টিং লাগে নাকি বোরিং মনে হয়। 

সাধারণত যে ভুলটি বিজ্ঞাপনদাতারা করে থাকে, সেটি হচ্ছে সাদামাটা একটি ছবি পোস্ট করা। 

আপনি যদি প্রোডাক্টের ছবিটা একটু ইন্টারেস্টিং ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন, তবে এটি আপনার দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। 

দেখুন হ্যাপি সকস কীভাবে তাঁর প্রোডাক্টের ইমেজ অ্যাড তৈরি করেছে। 


ভিডিও অ্যাড 

ভিডিও অ্যাডগুলো নিউজ ফিড, স্টোরি বা ইনস্ট্রিম অ্যাড হিসেবে দেখা যায়। আপনার প্রোডাক্টের রিয়েল লাইফ ব্যবহার দেখানোর জন্য এই ধরনের অ্যাডের কোন বিকল্প নেই। 

অনেকেই আছেন খুব ঘরোয়া পরিবেশে ডু ইট ইউর সেলফ টাইপ ভিডিও দেখতে চায়, আবার কেউ কেউ প্রফেশনাল মানের ভিডিও দেখতে পছন্দ করেন। অনেকেই গিফ অথবা অ্যানিমেটেড ভিডিও পছন্দ করেন।  কেউবা স্লাইডশো ভিডিও গুলো দেখতে পছন্দ করে।

ভিডিও অ্যাড নির্মাণের ক্ষেত্রে সব সময় আপনাকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও এন্ড নির্মাণের দিকে মনোযোগী হতে হবে। একই ধরনের ভিডিও অ্যাড দিয়ে সকল কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবেন না।

ভিডিও পোল অ্যাড

এটি ফেসবুকের ব্র্যান্ড নিউ অ্যাড ফরমেট গুলোর  মধ্যে একটি যা শুধুমাত্র পেইড এডভার্টাইজিং এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা সম্ভব।  

ফেসবুকের অ্যাড ক্যাম্পেইন গুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ভিডিও অ্যাড টাইপ ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমানিত।

কেরোজাল অ্যাড

একসাথে দশটি ছবি বা ভিডিও কে শোকেস করার জন্য এ ধরনের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

একটি মাত্র পোস্টের মাধ্যমে  প্রতিটি প্রোডাক্টের ভিন্ন ভিন্ন ছবি এবং তার বৈশিষ্ট্য গুলো বর্ণনা করা যায় । যেখানে, বাম থেকে ডানে আবার ডান থেকে বামে স্ক্রল করে অ্যাডের  প্রোডাক্ট গুলো  দেখা যায়।

স্লাইড শো অ্যাড 

এই অ্যাডটি ভিডিও ফরম্যাটেই তৈরি করা হয় তবে পার্থক্য হচ্ছে ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম স্টিল ইমেজ আকারে যায় অনেকটা ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মত।

প্রেজেন্টেশনের মত স্লাইডগুলো তৈরি করে সেগুলো একসাথে করে একটি ভিডিও তৈরি করতে পারেন অথবা ফেসবুকের স্টক ফটোতে থাকা লক্ষাধিক ছবি থেকে পছন্দের ছবিগুলো বেছে নিয়ে একটি স্লাইড তৈরি করতে পারবেন যেটাকে অনেকে এনিমেটেড অ্যাড বলে। 

কালেকশন অ্যাড

কালেকশন অ্যাড কাস্টমারের  মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে প্রোডাক্ট ক্যাটালগ দেখার অভিজ্ঞতাকে সহজ করে। যেখানে একটি কভার ইমেজ বা ভিডিও এর সাথে আরও চারটি প্রাসঙ্গিক প্রোডাক্ট একসাথে শোকেস করার ও কেনার  সুবিধা থাকে।

ইনস্ট্যান্ট এক্সপেরিয়েন্স অ্যাড

অনেকে এটিকে ক্যানভাস অ্যাড বলে থাকেন। এটি ফুল স্ক্রিন অ্যাড ফরমেটে তৈরি যা ফেসবুক বাইরে মোবাইল ওয়েবসাইট গুলোর  থেকেও 15 গুণ বেশি ফাস্ট লোড হয়।

প্রথমে, আপনি যখন  ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট এক্সপেরিয়েন্স অ্যাড দেখেন, তখন এটি একটি সাধারণ ভিডিও বা ছবি যুক্ত বিজ্ঞাপনের মতো মনে হয়, কিন্তু আপনি যখন এটিতে ক্লিক করবেন এটি একটি সম্পূর্ণ ইন্টারেক্টিভ পেজ আকারে খোলে যা পুরোপুরি কাস্টমাইজ করা যায়।  

ইমেজ বা ভিডিও বিজ্ঞাপনের চেয়ে আরও দৃষ্টিনন্দন উপায়ে আপনার অ্যাডটিকে  নেক্সট লেভেলে নিয়ে যাওয়ার এক দারুন উপায় এই অ্যাড ফরম্যাট। 

লিড অ্যাড

অডিয়েন্সদের ডেটা কালেকশনের জন্য এই অ্যাড ব্যবহার করা হয়ে থাকে যেখানে কেউ একজন যখন আপনার দেয়া অ্যাড পছন্দ করছে তাঁর তথ্য সংগ্রহ করার সুবিধা থাকে।

নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করার জন্য অথবা একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের ডেমো এক্সেস পেতে কাস্টমারদের তথ্য পাবার জন্য এই অ্যাড ফরম্যাট। 

ডায়নামিক অ্যাড

ওয়েবসাইটে বা অ্যাপে বা ইন্টারনেটে অন্য কোথাও কাস্টমার যখন আপনার প্রোডাক্ট  নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে, এমন অডিয়েন্সদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডায়নামিক অ্যাড আপনার প্রোডাক্ট প্রচার করে। 

ডায়নামিক অ্যাড গুলো হচ্ছে, ষ্টীল পিকচার অ্যাড বা ইমেজ অ্যাড, ক্যারোজেল অ্যাড  বা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক অ্যাড গুলোর মত দেখতে। 

প্রতিটি আইটেমের জন্য স্বতন্ত্রভাবে একটি অ্যাড তৈরি করার পরিবর্তে, আপনি এমন অ্যাড টেম্পলেট তৈরি করুন যা আপনার প্রত্যাশিত বিক্রয় আইটেমগুলোর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ক্যাটালগ থেকে চিত্র এবং ডেসক্রিপশন ব্যবহার করে অটোমেটিক ভাবে অ্যাড তৈরি করে। 

এই অ্যাড ফরম্যাট দ্বারা ইতিপূর্বে যারা আপনার অ্যাডে যুক্ত হয়েছে তাদের রি টার্গেট করতে পারবেন। 

মেসেঞ্জার অ্যাড

মেসেঞ্জারে প্রতিমাসে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মানুষ যুক্ত থাকে। তাদেরকে রিচ করার জন্য মেসেঞ্জারে এড অত্যন্ত কার্যকরী। এই অ্যাড আপনার মেসেঞ্জারের কনভারসেশন চ্যাট হেড গুলোর প্রদর্শিত হয়। 

আপনি কি ধরনের কল টু একশন বাটন ব্যবহার করেছেন সে অনুযায়ী অ্যাড আপনাকে নির্দিষ্ট পেজে ল্যান্ডিং করাবে।

স্টোরি অ্যাড

সাইন্টিফিক আমেরিকান তাদের গবেষণায় দেখেছেন ৭২% মিলেনিয়াম একটি ভিডিও ফুল স্ক্রিন দেখার জন্য তার মোবাইল রোটেট করে না।

এবং সেই সমস্যার সমাধানের জন্য ফেসবুক ভাটিকাল ভিডিও ফরমেট এর মাধ্যমে ম্যাক্সিমাইজ স্ক্রিন ব্যবহার করে আপনাকে অ্যাড দেখায়। যার জন্য আপনাকে মোবাইল স্ক্রিন রোটেট করা লাগে না। 

অগমেন্টেড  রিয়েলিটি স্টোরি অ্যাড 

ফেসবুক স্টোরিতে অগমেন্টেড  রিয়েলিটি ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যানিমেশন এবং ফিল্টারের মাধ্যমে একটু ভিন্ন রূপে অ্যাড দিতে পারবেন। 

এতে একটি প্রোডাক্টের কাল্পনিক ব্যবহার চিত্র দেখা যায়। 

প্লে-এইবল অ্যাড

আপনি খেলতে খেলতে অ্যাডের সাথে এঙ্গেজ হচ্ছেন বিষয়টা অনেক মজার না! 

আপনি একটি গেম তৈরি করে কাস্টমারদের সেখানে এঙ্গেজ করাতে পারেন। টার্গেট অডিয়েন্স গেমটি খেলবে এবং এঙ্গেজড থাকবে পরবর্তীতে তাদের টার্গেট করে অ্যাড দিবেন যা আপনার ব্র্যান্ড এওয়ারনেস তৈরির জন্য যথেষ্ট সহায়ক।

কিভাবে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন 

আপনার যদি একটি ফেসবুক পেজ থেকে থাকে তবে এখনই আপনি অ্যাড একাউন্ট সচল করে ফেলুন।

এক্ষেত্রে আপনার অ্যাড ম্যানেজার ব্যবহার করুন এরপর নিচের স্টেপ গুলো ফলো করুনঃ

প্রথমে আপনার অ্যাড অবজেক্টিভ সিলেক্ট করুন। ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজার লগইন করার পর  প্রথমে আপনাকে বলবে ক্যাম্পেইন করুন। 

ফেসবুকের ১১টি মার্কেটিং অবজেক্টিভ থেকে আপনার বিজনেসের ও বিজ্ঞাপনের সাথে প্রাসঙ্গিক অবজেক্টিভ বেছে নিন। 

অ্যাড অবজেক্টিভ সিলেকশন

  • ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস যেখানে একটি ব্র্যান্ড কে নতুন অডিয়েন্সের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
  • রিচ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে একটা অ্যাড সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের নিউজ ফিডে পৌঁছে দেওয়া যায়। 
  • ট্রাফিক অবজেক্টিভিটি আপনার ওয়েবসাইটে অথবা অ্যাপে বা ফেসবুক মেসেঞ্জার কনভার্শনকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে
  • এনগেজমেন্ট অবজেক্টিভ ব্যবহার করা হয় আপনার পেইজ বা পোস্টে লাইক শেয়ার কমেন্ট এর পরিমাণ কে বাড়িয়ে তুলতে বা লাইক শেয়ার কমেন্ট করে তাদেরকে এঙ্গেজ রাখতে।
  • রয়েছে অ্যাপ ইনস্টলেশন ক্যাম্পেইন, যদি চান আপনার তৈরি করা আপটি  মানুষ ব্যবহার করুক তবে এই ক্যাম্পেইনটি রান করুন। 
  • ভিডিও অ্যাডঃ বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ ফেসবুক লাইভের  মাধ্যমে বিজনেস করছেন। অনেকে ভিডিও অ্যাড দিচ্ছেন এক্ষেত্রে যদি চান আপনার ভিডিও অধিক সংখ্যক মানুষ দেখুক তবে এই অবজেক্টিভ বেছে নিন। 
  • লিড জেনারেশনের মাধ্যমে সাধারণত আপনার সম্ভব্য আদর্শ কাস্টমারদের ডাটা কালেকশন করা হয় যা সেলস ফানেল  তৈরি করতে সাহায্য করে। 
  • কনভার্শন অ্যাড অবজেকটিভ নির্ধারণ করলে আপনার অ্যাড কাস্টমারদের স্পেসিফিক অ্যাকশন নিতে বাধ্য করায়। যেমন ওয়েবসাইট সাবস্ক্রিপশন বা আপ ইনস্টলেশন ইত্যাদি। 
  • ক্যাটালগ সেলের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট ক্যাটালগ গুলো যুক্ত করে কাস্টমারদের কেনার সুবিধা করে দিতে প্রমোট করতে পারেন। 
  • স্টোর ট্রাফিক অবজেক্টিভিটি  আপনার ই-কমার্স স্টোরে কাস্টমারদের ভিজিট করার পরিমান বাড়ায়। 

তাই যখনই আপনার অ্যাড অবজেক্টিভ নির্ধারণ করছেন তখন প্রথমে যেটা চিন্তা করবেন, কী উদ্দেশ্য নিয়ে আপনি অ্যাড দিচ্ছেন? 

এটি আপনাকে সঠিক অবজেক্টিভিটি নির্ধারণ করতে সহায়তা করবে। ধরুন আপনি চান পেইজ লাইক, তবে আপনার অ্যাড অবজেক্টিভ হবে এনগেজমেন্ট এবং সেখান থেকে অ্যাড অপটিমাইজেশন হিসেবে ফেসবুক পেজ লাইক সিলেক্ট করবেন। 

 

 

ক্যাম্পেইনের নাম নির্ধারণ করুন 

এই ধাপে আপনাকে ক্যাম্পেইনের একটি নাম দিতে বলবে।ক্যাম্পেইনের নাম এই কারনে প্রয়োজন যে, যদি একের অধিক অ্যাড সেট তৈরি করে থাকেন তবে কোন অ্যাডটি  সচল রাখবেন বা কোনটি বন্ধ করবেন সেটি সহজে খুঁজে পাওয়া যায়।

 

অডিয়েন্স টার্গেট করুন

আপনি কাদের কাছে আপনার অ্যাড দেখাতে চান তাদের টার্গেট করুন। 

আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস কেনার জন্য উপযুক্ত কাস্টমারদের বেছে নিতে লোকেশন, বয়স, জেন্ডার, ল্যাঙ্গুয়েজ সহ আরো অনেক ধরনের ইন্টারেস্ট টার্গেটিং অপশন থেকে প্রাসঙ্গিক টার্গেট ইন্টারেস্টগুলো বেছে নেয়ার মাধ্যমে আপনার অডিয়েন্স গ্রুপটি তৈরি করতে হবে। 

যখন অডিয়েন্স গ্রুপটি তৈরি করছেন তখন ডানদিকের ওপরে একটি আনুমানিক সংখ্যা দেখাবে এবং এই অ্যাড থেকে প্রতিদিন কি পরিমাণ রিচ এবং এনগেজমেন্ট পেতে পারেন তার একটি আনুমানিক ধারণা আপনাকে প্রদান করবে। 

তবে একটি বিষয় মাথায় রাখবেন আনুমানিক ধারণাগুলো পরিবর্তনশীল । যা বেশি বা কম হতে পারে। 

অডিয়েন্স সিলেকশনের সময় ডিটেইল টার্গেটিং করার সুবিধা এখানে রয়েছে। ডিটেল টার্গেটিং বলতে বোঝানো হয়েছে একজন অডিয়েন্সের ডেমোগ্রাফিক ইন্টারেস্ট এবং বিহেভিয়ার গত বিষয়টি মাথায় রেখে টার্গেট করা। 

এর মাধ্যমে আরও স্পেসিফিক ভাবে কাস্টমারদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। 

অডিয়েন্স সিলেকশনের আরো একটি উপায় হচ্ছে কানেকশনের উপর ডিপেন্ড করে সিলেকশন প্রক্রিয়া অর্থাৎ আপনি যদি চান যারা আপনার পেজের সাথে আগে থেকে যুক্ত আছে তাদের বাদ দিয়ে টার্গেট করবেন তবে সেটি করা সম্ভব। 

আবার যারা ইতিপূর্বে আপনার পেজের সাথে কোনো না কোনো ভাবে যুক্ত ছিল  তাদেরকে টার্গেট করেও অ্যাড চালাতে পারেন।

ফেসবুক অ্যাড প্লেসমেন্ট 

আমরা ফেসবুকে কতগুলো জায়গায় সাধারণত অ্যাড দেখি। সাধারনত অটোমেটিক প্লেসমেন্ট অপশন ব্যবহার করেই বেশিরভাগ বিজ্ঞাপনদাতা অ্যাড দিয়ে থাকেন। 

তবে চাইলে অ্যাড প্লেসমেন্ট সিলেক্ট করে দেয়া যায়। এটির সাথে ফেইসবুক বাজেট এবং অ্যাডের ক্রিয়েটিভগুলোর সাইজের যোগসূত্র রয়েছে। 

যখন ফেসবুকে একটি স্পেসিফিক জায়গাতে একটি দেখাতে চান, তখন যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়, 

  • ডিভাইস টাইপঃ এটা কি মোবাইল, ডেক্সটপ নাকি দুটোই?
  • প্লাটফর্ম টাইপঃ আপনি কি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম অডিয়াস নেটওয়ার্ক বা মেসেঞ্জারে দেখাতে চান?
  • প্লেসমেন্টসঃ ফেসবুক নিউজফিড স্টরি, ইনস্ট্রিম ফর ভিডিও, মেসেঞ্জার, ইন আর্টিকেল, অ্যাপস, সাইটস ইত্যাদি প্লেস
  • স্পেসিফিক মোবাইল ডিভাইস এবং অপারেটিং সিস্টেম যেমনঃ আইওএস, এন্ড্রয়েড, ফিচার ফোন অথবা সকল ধরনের ডিভাইস

অ্যাড বাজেট এবং টাইম সেট করুন

আপনি কত দিনের জন্য অ্যাড দিতে চান এবং প্রতিদিন অ্যাড দেওয়ার জন্য আপনার বাজেট কি পরিমান?

এছাড়া আপনি চাইলে অপশনাল ভাবে অ্যাডের খরচ এবং বিড কন্ট্রোল করতে পারেন। এছাড়াও অ্যাডের প্রতিটি স্পেসিফিক একশনের জন্য  এমাউন্ট ক্যাপ নির্ধারণ করে দিতে পারেন।

ডেইলি বাজেট এবং টাইমের বাইরে এই ডিটেলস বাজেট অপশন আপনাকে আরো স্পেসিফিকভাবে বাজেট অপশনগুলো নির্ধারণ করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। 

অ্যাড তৈরি করা

এবার আপনার অ্যাড ফরম্যাট থেকে বেছে নিন। ফেসবুকে অনেক ধরনের এভেলেবেল অ্যাড ফরমেট রয়েছে যা ইতিপূর্বে আমরা আলোচনা করেছি। 

নিচের ছবিতে আপনি তার একটি নমুনা দেখতে পাচ্ছেন সেখান থেকে আপনার অবজেক্টিভ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ফরমেট ব্যবহার করার নমুনা। 

ফেসবুক অ্যাড স্পেস

ফেসবুক অ্যাডের জন্য ইমেজ এবং ভিডিও তৈরি করার সময় আরো অনেক কিছু মাথায় রাখতে হয়। সেগুলো হচ্ছে ফেসবুকের একটি অ্যাড কতগুলো স্পেসে দেখানো যায়।

প্রায় ১৬ টি ভিন্ন স্পেসে ফেসবুকের অ্যাড দেখানো সম্ভব। 

ফেসবুক অ্যাডের জন্য টেক্সট এবং অবজেক্টিভ স্পেস

একটি সেরা ফেসবুক অ্যাড তৈরির জন্য টেক্সট কাউন্টের ব্যাপারে নলেজ রাখা জরুরি।  কারণ এটির  লিমিট আছে।

ইমেজ অ্যাড

  • হেডলাইন লিমিট ২৫ ক্যারেক্টার 
  • লিংক ডেসক্রিপশন ৩০ ক্যারেক্টার
  • বডি টেক্সট ১২৫ ক্যারেক্টার 
  • ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভসঃ ভিডিও ভিউ ছাড়া সকল ক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য

ভিডিও অ্যাড

  • হেডলাইন লিমিট ২৫ ক্যারেক্টার
  • লিংক ডেসক্রিপশন ৩০ ক্যারেক্টার
  • বডি টেক্সট ১২৫ ক্যারেক্টার
  • ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভসঃ ক্যাটালগস এছাড়া সকল ক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য

ফেসবুক স্টোরি অ্যাড

  • টেক্সট কাউন্টের কোন লিমিট নেই শুধু খেয়াল রাখবেন স্টোরির উপরে এবং নিচে ২৫০ পিক্সেল এরিয়া যাতে টেক্সট ফ্রি থাকে। 
  • ক্যাপ্টেন অবজেক্টিভঃ এনগেজমেন্ট, মেসেজ, ক্যাটালগ সেল, স্টোর ট্রাফিক

ক্যারোজেল অ্যাড

  • হেডলাইন ২৫ ক্যারেক্টার
  • লিংক ডেসক্রিপশন ২০ ক্যারেক্টার
  • বডি টেক্সট ১২৫ ক্যারেক্টার
  • ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভঃ এনগেজমেন্ট এবং ভিডিও ছাড়া সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

স্লাইড শো অ্যাড

  • হেডলাইন লিমিট ২৫ ক্যারেক্টার
  • লিংক ডেসক্রিপশন ৩০ ক্যারেক্টার
  • বডি টেক্সট ১২৫ ক্যারেক্টার
  • ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভঃ সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

কালেকশন অ্যাড 

  • হেডলাইন ২৫ ক্যারেক্টার 
  • লিংক ডেসক্রিপশনঃ প্রযোজ্য নয় 
  • বডি টেক্সট ৯০ ক্যারেক্টার 
  • ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভঃ  ট্রাফিক, কনভার্সন, ক্যাটালগ সেল 

ইনস্ট্যান্ট এক্সপেরিয়েন্স অ্যাড

  • প্রতিটি ব্লকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ ওয়ার্ড টেক্সট এবং ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভঃ লিড জেনারেশন, ক্যাটালগ সেল এবং মেসেজ বাদে সর্ব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

মেসেঞ্জার ইনবক্স অ্যাড

  • হেডলাইনঃ প্রযোজ্য নয় 
  • লিংক ডেসক্রিপশনঃ প্রযোজ্য নয় 
  • বডি টেক্সট ১২৫ ক্যারেক্টার  
  • ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভঃ ট্রাফিক, অ্যাপ ইনস্টল, কনভার্শন, ক্যাটালগ সেল, মেসেজ

 

ফেসবুক অ্যাড পরিচালনার জন্য পাঁচটি স্মার্ট টিপস

 (১) অডিয়েন্স টার্গেটিং নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করুন

অডিয়েন্স টার্গেটিং এর সময় ভিন্ন ভিন্ন টার্গেটিং অপশন গুলো নিয়ে অ্যাড সেট তৈরি করুন।   

ভিন্ন ভিন্ন অ্যাড সেট তৈরি করার মাধ্যমে অ্যাডের পারফরম্যান্স টেস্ট করতে থাকুন। যে টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপ  ভালো পারফর্ম করবে সেটিকে খুঁজে বের করুন এবং গুরুত্ব দিন। 

(২) ফেসবুক পিক্সেল  ব্যবহার করুন

ফেইসবুক পিক্সেল হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি কোড যা আপনার ফেসবুক ক্যাম্পেইন তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

পিক্সেল ব্যবহার করার সুবিধা হচ্ছে এর দ্বারা আপনি লুক এলাইক অডিয়েন্স তৈরি করতে পারবেন।  অডিয়েন্স ট্র্যাক করতে পারবেন এবং ওয়েবসাইট ভিজিট করার সংখ্যা পরিমাপ করতে পারবেন যা পরবর্তীতে অ্যাড চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অপটিমাইজেশন করতে আপনাকে সহায়তা করবে। 

(৩) হাই কোয়ালিটি ছবি এবং ভিডিও ব্যবহার  করুন

ফেসবুক অ্যাড তৈরি করতে আপনি যে ছবি এবং ভিডিও গুলো ব্যবহার করছেন সেগুলো অবশ্যই উন্নত মানের এবং ইন্টারেস্টিং হতে হবে যেন সহজে তা কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।

 

অনলাইনে এখন প্রচুর ওয়েবসাইট রয়েছে যারা ফ্রী হাই কোয়ালিটি ইমেজ ব্যবহার করার সুযোগ দেয়।  সেজন্য গুগলে  ফ্রী স্টক ফটো ওয়েবসাইট লিখে সার্চ দিলে আপনি এমন প্রচুর ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন। 

(৪)সবকিছু পরীক্ষা করুন

ফেসবুকে একটি অ্যাড শীর্ষ স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে পরীক্ষার কোন বিকল্প নেই। আপনাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে পরীক্ষা করতে হবে যেমন, অডিয়েন্স টার্গেটিং, বাজেট, প্লেসমেন্ট , অ্যাড রানিং টাইম ইত্যাদি।।

আপনি যত বেশি পরীক্ষা চালিয়ে যাবেন তত বেশি সঠিক পদ্ধতি আবিষ্কারের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে যা আপনার বিজনেসের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য উপযুক্ত।

(৫)ট্র্যাক এবং অপটিমাইজ করুন

ফেসবুক অ্যাড চলাকালীন সময়ে এবং পরবর্তী সময়ে ঠিক কী ধরনের এক্টিভিটিস হচ্ছে অ্যাড কেমন পারফর্ম করছে এগুলোকে মনিটর করতে হয়।

ছোট  বাজেট এবং অডিয়েন্স গ্রুপের মধ্যে আপনি কিছু অ্যাড চালিয়ে পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনীয় অপটিমাইজ করে বেস্ট পারফরম্যান্স নিশ্চিত করুন। 

একবার কোন একটি অ্যাড যদি কোয়ালিটি ভালো স্কোর করে তবে সেই ক্যাম্পেইনটিতে পরবর্তী সময়ে বিগ ইনভেস্ট করার জন্য প্রস্তুতি নিন।

ফেসবুক অ্যাড আইডিয়া

সাধারণ অ্যাড কপিকে ভিডিও অ্যাড-এ পরিনত করুন

প্রতিটি ব্র্যান্ডের এমন কিছু অ্যাড কপি থাকে যেগুলো সেই মাসের সর্বোচ্চ ট্রাফিক নিয়ে এসেছিল।

এমন অ্যাড কপি গুলো দ্বারা ভিডিও অ্যাড তৈরি করুন। এক্ষেত্রে সেই অ্যাডের মূল বিষয়বস্তুগুলো টেক্সট এবং ইমেজ আকারে ভিডিওতে উপস্থাপন করতে পারেন।

সরাসরি সেল পোস্ট করুন

যদি আপনার ব্র্যান্ডের এমন কিছু প্রোডাক্ট থাকে যেগুলোর মূল্য কম, সাধারণত সেগুলোর জন্য ডাইরেক্ট সেল পোস্ট করা অযৌক্তিক কিছু নয়।

অনলাইনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায় ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের প্রোডাক্ট কেনার জন্য মানুষ খুব বেশি চিন্তা করে না।  এর একটি অন্যতম কারণ হতে পারে কম মূল্যমানের কারণে লস হবার ঝুঁকি কম থাকা।  

এই ধরনের প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে আপনি সরাসরি সেলিং অ্যাড দিতে পারেন। 

ওয়েবসাইটের বাইরে সেল করুন

ফেসবুক মার্কেটিং শুধুমাত্র অনলাইনে সেল করার জন্যই নয় বরং অফলাইন সেল বাড়াতেও সাহায্য করে।

আপনার যদি একটি শোরুম থাকে এবং শোরুমের জন্য বিভিন্ন ইভেন্ট প্লান এবং প্রচার করতে চান, তবে সেজন্য ফেসবুক অ্যাডকে বেছে নিতে পারেন। 

লোকাল কাস্টমারদের আপনার শোরুমে নিয়ে আসতে চাইলে স্টোর ম্যাপ ন্যাভিগেশন অ্যাড  আশেপাশে কাস্টমারদের আপনার দোকান পর্যন্ত আসার রাস্তা সম্পর্কে ধারণা দেয়।

লুকালাইক অডিয়েন্স

আপনার কাছে কাস্টমারদের ইমেইল এবং ফোন নাম্বার রয়েছে সেই তথ্যগুলো দিয়ে ফেসবুকে লুকা লাইক অডিয়েন্স তৈরি করতে পারেন।

এটির সুবিধা হচ্ছে এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফেসবুক একই ধরনের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নতুন কাস্টমারদের কাছে আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসটি পৌঁছে দিবে। 

আরো পড়ুনঃ

ফেসবুক অ্যাড ফরম্যাট 101 : কত ভাবে ফেসবুকে একটি অ্যাড দেয়া যায়

পরিশেষে

ফেসবুকে সবাই একই ধরনের কনটেন্ট দেখে না কিন্তু হতে পারে তারা সবাই আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের জন্য আদর্শ কাস্টমার। 

তাই পরবর্তী সময়ে ফেসবুকে অ্যাড দেবার সময় সকল ধরণের অ্যাড টাইপ অনুযায়ী  অ্যাড তৈরি করবেন। তবেই খুঁজে পাবেন আপনার বিজনেস কাস্টমার আর সেল হবে বেশি বেশি।  

একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের জন্য ফেসবুক অ্যাড তৈরির টার্গেটিং কৌশল – (কেস স্টাডি)

একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের জন্য ফেসবুক অ্যাড তৈরির টার্গেটিং কৌশল – (কেস স্টাডি)

ফেসবুক অ্যাড তৈরির টার্গেটিং কৌশল নিয়ে অনলাইন সেলারদের পরীক্ষা নিরীক্ষার শেষ নেই। কীভাবে ফেসবুক অ্যাডের জন্য অডিয়েন্স টার্গেটিং করতে হয় যা কিনা ভালো ফলাফল এনে দিবে? এই জিজ্ঞাসা প্রায় সবার। 

সন্ধ্যা কালেকশান একটি অনলাইন ফ্যাশান ব্র্যান্ড। মেয়েদের প্লাস সাইজ ড্রেস সেল করার জন্য তারা সুপরিচিত। প্রোডাক্ট সেল করতে তারা ফেসবুক লাইভ ফিচারটি ব্যবহার করে আসছে। কিছু ক্ষেত্রে তারা সেলিং পোস্ট ও মেসেজ অ্যাড পরিচালনা করে। 

সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকের নতুন আপডেটের ফলে তাদের ফেসবুক বিজনেসে কিছুটা মন্দা ভাব দেখা  দেয়। কারন, অরগানিক রিচ কমে প্রায় শুন্য। কাস্টমার তাঁর প্রোডাক্ট নিয়ে করা লাইভ না দেখতে পেলে কিভাবে কিনবে।  

তাই ফেসবুক পেইড অ্যাড ছাড়া তাদের কাছে আর কোন রাস্তা নেই। এদিকে পেইড অ্যাড দিয়েও তারা তেমন সুবিধা করতে পারছে না। যাদের টার্গেট করছে তারা প্লাস সাইজ ড্রেসের প্রতি আগ্রহী হলেও এই মুহূর্তে সকলের প্লাস সাইজ ড্রেসের প্রয়োজন নেই। 

যাদের প্লাস সাইজ ড্রেস প্রয়োজন তাদের কাছে ব্র্যান্ডটি যেতে পারছে না। এতে করে ফেসবুক বুস্টিং এর খরচের বিপরীতে তাদের সেল অনেক কম।  কখনো আবার সেল একেবারেই নেই। কিন্তু ফেসবুক পেইড অ্যাড বিজনেসের প্রোমোশনে অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি।   

এই অবস্থায় তারা ফেসবুক অ্যাড তৈরির টার্গেটিং কৌশল নিয়ে এমন একটি সমাধান খুঁজে পাবার চেষ্টা করছিলো, যেখানে ফেসবুক পেইড অ্যাডের মাধ্যমে পটেনশিয়াল কাস্টমারদের কাছে পৌছাতে পারবে।

পেইড অ্যাড বা ফেসবুক বুস্টিং থেকে তাদের চাওয়া,

যারা প্লাস সাইজ ড্রেস কেনার জন্য পটেনশিয়াল অডিয়েন্স, কেবল তারাই লাইভ সেলিং পোস্ট দেখবে ।

অ্যাডে খরচ করা টাকার বিপরীতে সর্বোচ্চ রেজাল্ট নিশ্চিত করা ।  

এক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জঃ  সঠিক টাগেটিং কৌশল নির্ধারণ ও প্রাসঙ্গিক কন্টেন্ট তৈরি 

আরও পড়ুনঃ

কীভাবে আপনার ফেসবুক অ্যাড এর পারফর্মেন্স বাড়াবেন? 

সন্ধ্যা কালেকশনের মার্কেটিং বাজেটের সীমাবদ্ধতা

পেইড অ্যাড দ্বারা কাঙ্খিত সেল নিশ্চিত করা সম্ভব তবে সেক্ষেত্রে উপযুক্ত বাজেট ও সময় প্রয়োজন, কিন্তু তাদের বাজেট সীমিত। অন্যদিকে দ্রুত পেজের রিচ ও এঙ্গেজমেন্টের পরিবর্তন প্রয়োজন। চাওয়া সেলিং লাইভগুলো যেন সঠিক কাস্টমারেরা দেখতে পান।

পদক্ষেপঃ

আমরা তাদের জন্য পেইড অ্যাডে খরচ করা প্রতিটি টাকার বিপরীতে উপযুক্ত কাস্টমার রিচ ও এঙ্গেজ করার পরিকল্পনা করি।

প্রথমে খুঁজে বের করি কারা পটেনশিয়াল অডিয়েন্স হতে পারে এবং তাদের পারসোনা তৈরি করি।

দ্বিতীয়ত, বায়ার পারসোনা এনালাইসিস সাপেক্ষে কিছু প্রিমিয়াম ইন্টারেস্ট টার্গেটিং টুলস ব্যবহার করে বায়ারের সাথে রিলেভেন্ট ইন্টারেস্ট গুলোর লিস্ট তৈরি করি।

তৃতীয়ত, বায়ার পারসোনা ও রিলেভেন্ট ইন্টারেস্ট গুলোর মাথায় রেখে প্রাসঙ্গিক কনটেন্ট ডেভেলপ করি।  

ফলাফল,

মিনিমাম বাজেটে অ্যাড পরিচালনা করে পটেনশিয়াল অডিয়েন্স রিচ ও এঙ্গেজ করতে সক্ষম হয়। এবং কিছু ইনস্ট্যান্ট সেলও তারা পায়।   

পরীক্ষামূলক ভাবে তাদের জন্য মাত্র ২৮ ডলারের দুটি অ্যাড চালানো হয়,

পেজ লাইক ক্যাম্পেইন 

টোটাল ডলার স্পেন্টঃ ৮.৭৯   

ডিউরেশনঃ ৩ দিন

পেজলাইকঃ ১,৬৬৮

রিচঃ ৩২,৬১৭

প্রতি রেজাল্ট খরছঃ ০.০১ 

কোয়ালিটি রাঙ্কিংঃ Above average

এঙ্গেজমেন্ট রাঙ্কিংঃ Above average

কনভার্সন রাঙ্কিংঃ  Above average

 

ভিডিও ভিউ ক্যাম্পেইন 

টোটাল ডলার স্পেন্টঃ ১৯.৯৫   

ডিউরেশনঃ ৭ দিন

পেজলাইকঃ ২,৪০৯

রিচঃ ১১,৫৮৮

প্রতি রেজাল্ট খরছঃ ০.০০৪  

কোয়ালিটি রাঙ্কিংঃ average

এঙ্গেজমেন্ট রাঙ্কিংঃ Above average

কনভার্সন রাঙ্কিংঃ  average

দেশি কমার্স যে কৌশল অবলম্বন করেছিলো

লক্ষ্য করলে দেখা যায় বেশিরভাগ বিজ্ঞাপনদাতারা শুধুমাত্র অ্যাডের রিচ, বাজেট ও রেজাল্ট এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

অনেকেই যে বিষয়টি এড়িয়ে যান সেটি হচ্ছে, কোয়ালিটি রাঙ্কিং,  এঙ্গেজমেন্ট রাঙ্কিং এবং কনভার্শন রাঙ্কিং

একটি অ্যাড কতটুকু ভালো পারফরম্যান্স করেছে, সেটি টার্গেট অডিয়েন্সদের জন্য কতটুকু রেলেভেন্ট সেটি চিহ্নিত করার জন্যই মূলত ফেসবুকের এই তিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ রাঙ্কিং প্যারামিটার দেয়া হয়েছে। 

যেটিকে অ্যাড রিলেভেন্স ডায়াগনস্টিক বলা হয়। ফেইসবুক পাঁচ ভাগে একটি অ্যাড রিলেভেন্স রাঙ্কিং আইডেন্টিফাই করে।

Source: facebook

একটি অ্যাড কোয়ালিটি রাঙ্কিংয়ে যদি এভারেজ অথবা এবোভ এভারেজ স্কোর করে তবেই সেটির জন্য সবচেয়ে কম খরচ হয় এবং ম্যাক্সিমাম রেজাল্ট পাওয়া যায়।

এটি  নিশ্চিত করে যে, আপনার অ্যাড ক্রিয়েটিভটি  টার্গেট অডিয়েন্স জন্য প্রাসঙ্গিক। কারন, ফেসবুক কেবল মাত্র অডিয়েন্সদের জন্য প্রাসঙ্গিক কনটেন্ট গুলো দেখায়।     

সন্ধ্যা কালেকশনের অ্যাডের এই রাঙ্কিং প্যারামিটার ছিলো,

তাই এই অ্যাড মিনিমাম খরচের ম্যাক্সিমাম রেজাল্ট আনতে সক্ষম হয়েছে।

 

 

ইন্টারেস্ট টার্গেটিং এর পেছনের রহস্য

সন্ধ্যা কালেকশন যখন তাদের ফেসবুক অ্যাড সংক্রান্ত এর সমস্যা নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলে তখন জানতে চাওয়া হয়েছিলো, তারা কিভাবে অ্যাডের ইন্টারেস্ট টার্গেটিং নির্ধারণ করে।

তারা বলেছিল এজ, লোকেশন ও কিছু কমন ইন্টারেস্ট যেমন, প্লাস সাইজ ফ্যাশন, উইমেন ফ্যাশন ব্র্যান্ড, উইমেন ক্লদিং ষ্টোর ইত্যাদি। 

এবারে তাদের এ কথার সূত্র ধরে আমারা অডিয়েন্স রিসার্চ এবং প্রোডাক্ট এনালাইসিস করি। 

দেখা যায় তাদের অ্যাডগুলো ভালো পারফরম্যান্স না করার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে,  তারা যে টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপ সিলেক্ট করেছে এবং  তাদের জন্য যে ইন্টারেস্ট প্যারামিটারগুলো আদর্শ তাঁর সাথে অ্যাড কন্টেন্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আমরা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করি। আলাদা আলাদা অডিয়েন্স গ্রুপের জন্য  টার্গেট ইন্টারেস্ট খুঁজে বের করি ও তাদের ফেসবুক অ্যাড তৈরির টার্গেটিং কৌশল নির্ধারণ করি। 

যেহেতু তাদের ড্রেসগুলো প্লাস সাইজ এবং এই সাইজের ড্রেসের একটি পটেনশিয়াল কাস্টমার গ্রুপ যাদের  মাতৃকালীন সময় ওজন বৃদ্ধি পায়।  

আমরা এই গ্রুপকে টার্গেট করি  এবং তাদের জন্য রিলেভেন্ট কনটেন্ট তৈরি করি।

যেখানে বলা হয় মাতৃকালীন সময় একজন মায়ের কি ধরনের পোশাক পরিধান করা প্রয়োজন এবং সন্ধ্যা কালেকশনের পোশাকগুলো কিভাবে তাদের জন্য উপযুক্ত।

এ টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপের জন্য আমরা যে ইন্টারেস্ট টার্গেটিং গুলোকে লক্ষ্য  করেছিলাম সেগুলো এমন, 

  • যারা বেবি ফুড আইটেমের প্রতি আগ্রহ রাখে 
  • যারা বেবি টয় শপের প্রতি আগ্রহী
  • যারা প্রেগনেন্সি নিয়ে আগ্রহী
  • যারা হেলদি ফুড আইটেমের প্রতি আগ্রহ রাখে 

এমন আরো কিছু টার্গেট ইন্টারেস্ট নিয়ে আমরা অ্যাড সেট তৈরি করি।

এবার তাদের জন্য তৈরি করা কন্টেন্ট দিয়ে অ্যাড পাবলিশ করে দেয়া হয়।

প্রেগনেন্সি পিরিয়ডে মেয়েরা সাধারণত একটু ঢিলেঢালা ড্রেস খোঁজে এবং এ সময় তারা হেলদি ফুড, বেবি ফুড আইটেমের প্রতি আগ্রহবোধ করে। 

আর অ্যাড কনটেন্টটি তৈরি করা হয়েছিল প্রেগনেন্সি পিরিয়ডের সময়ে মায়েদের টার্গেট করে। ফলে এটি সহজে তাদের এটেনশন গ্রাব করে। কারন অ্যাডের কনটেন্ট তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক বিধায় তারা অ্যাডের সাথে নিজেকে রিলেট করতে পেরেছে ফলে সেখানে এঙ্গেজ হয়েছে।

টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপ+ তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক ইন্টারেস্ট টার্গেটিং + অডিয়েন্স গ্রুপ ও ইন্টারেস্ট টার্গেটিং এর জন্য প্রাসঙ্গিক কন্টেন্ট = টপ অ্যাড রেলেভেন্স স্কোর  

অ্যাডের তৈরির প্রতিটি ধাপে পর্যায়ক্রমিক প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার ফলে এটি অ্যাড রিলেভেন্স ডায়াগনস্টিক স্কোরিং এ সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় যার ফলাফল আমরা শুরুতেই বলেছি।  

এটি সন্ধ্যা কালেকশনের পূর্ববর্তী যেকোনো পেইড অ্যাডের চেয়ে বেশি পারফর্ম করেছে।

(দৃষ্টি আকর্ষণঃ এই কেস স্টাডি শুধুমাত্র সন্ধ্যা কালেকশন তথা একটি ফ্যাশান ব্র্যান্ডের জন্য ফেসবুক অ্যাডের  অডিয়েন্স গ্রুপ ও ইন্টারেস্ট টার্গেটিং কৌশল নির্ধারণ বিষয়ে লেখা যা তাদের কাঙ্খিত সেল নিশ্চিত করার সাথে সম্পর্ক যুক্ত নয়। একটি বিজনেসের কাঙ্খিত সেল নিশ্চিত হবে কি না সেটি নির্ভর করে বিজনেসের কাস্টমার সার্ভিস, প্রোডাক্ট কোয়ালিটি, অ্যাড বাজেট, কৌশল ও সময়কাল ও আরও অনেক বিষয়ের উপর।)

AIDA মডেল: একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কাস্টমারে রূপান্তরের পরীক্ষিত ফ্রেমওয়ার্ক

AIDA মডেল: একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কাস্টমারে রূপান্তরের পরীক্ষিত ফ্রেমওয়ার্ক

বিজ্ঞাপনের প্রাচীন যুগ থেকেই বিক্রেতারা কিভাবে তাঁর প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য কাস্টমার খুঁজে পাবে সেই কৌশল নিয়ে ক্রমাগত গবেষণা করে চলেছে। 

১৮৯৮ সালে  এলিয়াস সেন্ট এলমো লুইস তিনি একজন আমেরিকান অ্যাডভেটাইজিং এডভোকেট,  বিজ্ঞাপনের নীতি সম্পর্কিত বিষয়ে বলেন যে, একটি সফল বিজ্ঞাপন নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলে। 

পরবর্তী সময়ে তাঁর এই বিজ্ঞাপন নীতি কার্যকর হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সফলতায় এই বিজ্ঞাপন নীতি ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এটি AIDA মডেল হিসেবে পরিচিত।

AIDA মডেল কি?

একজন কাস্টমার কেনাকাটা সম্পন্ন করতে যে কয়েকটি পর্যায়ক্রমিক ধাপ যা  অতিক্রম করে এবং প্রতি ধাপে বিজনেসের বিজ্ঞাপনের সাথে যেভাবে এঙ্গেজ হয় সেটিকেই AIDA (Attention, Interest, Desire, Action)  মডেল বলে।   

AIDA মডেল, কাস্টমার ক্রয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে  যে চারটি ধাপ অতিক্রম করে তার বর্ণনা দেয়। ধাপগুলো হলো, মনোযোগ আকর্ষণ, আগ্রহ তৈরি, ইচ্ছা প্রকাশ এবং একশন । 

এই চারটি ধাপে আপনার বিজনেস বা প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন আপনার ব্র্যান্ডের প্রতি কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে, আপনার প্রোডাক্ট বা পরিষেবায় তাদের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলবে, কেনার জন্য তাদের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলবে, এবং এটি কেনার প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করবে।

কাস্টমার জার্নির প্রতিটি পর্যায়ে  একটি ব্র্যান্ড তাদের টার্গেট অডিয়েন্সদের কাছে বিজ্ঞাপনের মেসেজ কীভাবে প্রদান করবে তা নির্ধারণ করতে  AIDA  মডেল ব্যবহার করে ।

বিজ্ঞাপনের কাজ কি?

কোনও একটি বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য হলো পাঠককে আকৃষ্ট করা, যাতে তিনি বিজ্ঞাপনটি দেখেন এবং এটি পড়তে শুরু করেন। 

তারপরে তাকে আগ্রহী করে তোলা, যাতে সে এটি পড়া চালিয়ে যেতে থাকে। তারপরে তাকে বোঝানো, যাতে তিনি বিজ্ঞাপনটি দেখলে ও পড়লে বিশ্বাস করবেন। 

যদি একটি বিজ্ঞাপনের এই তিনটি গুণ থাকে তবে এটি একটি সফল বিজ্ঞাপন। 

কারন কাস্টমার এরপরের ধাপেই আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিসটি কিনতে চাইবে। 

আরো পড়ুনঃ

 ফেসবুক বিজনেসে সফল হতে আপনাকে কী কী করতে হবে?

কীভাবে আপনার বিজনেসের বিজ্ঞাপনে এইডা মডেল প্রয়োগ করবেন

AIDA মডেলটি মাথায় রেখে বিজ্ঞাপন তৈরি ও পরিকল্পনা করলে আপনি কাস্টমারদের কেনাকাটার সিদ্ধান্ত গ্রহনকে নিয়ন্ত্রিত ভাবে প্রভাবিত করতে পারবেন। 

এই মডেলটির প্রতিটি পর্যায়ে এগিয়ে যাবার সাথে সাথে কাস্টমার আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে আরো জানতে থাকে। তারা আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সম্পর্কে অনুভুতি প্রকাশ করে যা শেষ পর্যন্ত তাদের সেটি কিনতে বাধ্য করে।

প্রথমঃ মনোযোগ আকর্ষণ করুন

বিজ্ঞাপনের প্রথম উদ্দেশ্য সফল হয় যদি কাস্টমার আপনার বিজনেস সম্পর্কে জানার ইচ্ছে প্রকাশ করে।  

কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হলে এবং তাদের গভীর ভাবে আপনার বিজনেস মেসেজের সাথে এঙ্গেজ করতে পারলে তারা আপনার বিজনেস সম্পর্কে জানতে কৌতূহলী হয়ে উঠবে।  

একটি পর্যায়ে আপনার বিজনেস নিয়ে কাস্টমারের মনে নানান প্রশ্নের জন্ম হবে। তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে, আপনার বিজনেসটি আসলে কি?

কাস্টমার তখনি আপনার কাছে বিজনেস সম্পর্কে জানতে চাইবে, যখন আপনার বিজনেসের ইনফরমেশন আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের দ্বারা তাদের সামনে উপস্থাপন করবেন।   

মার্কেটিং এর ভাষায় যেটিকে আমরা (brand awareness) ব্র্যান্ড সচেতনতা বলি।

তবে এটি কেবল কাস্টমারদের সাথে আপনার বিজনেসের সম্পর্কের শুরু। এখুনি সেল পাবার আশা মোটেও করবেন না। যদি কিছু সেল পেয়েও থাকেন তবে সেটি দ্বারা আপনার বিজনেসের ভবিষ্যৎ সম্ভবনা বিচার করা মোটেই সঠিক নয়।  

কি করবেন এ সময়

কমপক্ষে ৩ মাসের একটি বিজ্ঞাপন বাজেট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল, এসএমএস ও সম্ভব্য সকল প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে আপনার কাস্টমারদের কাছে আপনার বিজনেসের উপস্থিতি সম্পর্কে জানান দিবেন। 

আপনার বিজনেস রিলেটেড বিষয়ে কাস্টমারদের সমস্যাগুলি নিয়ে এই পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকুন।  

দ্বিতীয়ঃ আগ্রহ তৈরি করুন

আপনার টার্গেট অডিয়েন্স একবার আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠলে আপনার ব্র্যান্ড কিভাবে সেটি সমাধান করতে সহায়তা করে এবং সেটি তাদের জন্য উপযুক্ত হবে কিনা সেটি তারা জানতে চাইবে ।

এই পর্যায়ে, টার্গেট কাস্টমারদের চিন্তা হচ্ছে, “এটি আমার পছন্দ হয়েছে “

এই ধাপে কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস থেকে লাভবান হবার উপায় অনুসন্ধান করে। তাই আপনাকে এমন ধরনের কন্টেন্ট পরিকল্পনা করতে হবে যা তাদের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হয় ও আপনার দেয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিজনেসের সাথে এঙ্গেজ থাকে। 

এই সময়ও কাস্টমার আপনার থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন করবে না। কিন্তু আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সম্পর্কে সে আগ্রহ প্রকাশ করবে বিভিন্ন প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসার মাধ্যমে। 

কি করবেন এই ধাপে

আপনার টার্গেট কাস্টমার পছন্দ করবে এমন এঙ্গেজিং কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। হতে পারে সেটি গ্রাফিক বা ভিডিও কন্টেন্ট বা কপি রাইটিং। 

আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে গল্প তৈরি করুন। মানুষ গল্প পছন্দ করে কারণ গল্প দ্বারা তারা মনে মনে সেই প্রোডাক্ট ও সার্ভিস এর বাস্তব চিত্র কল্পনা করতে পারে।  

এই ধাপের মুল লক্ষ্য হচ্ছে ইন্টারেস্টিং ও ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট দিয়ে কাস্টমারদের এঙ্গেজ করে রাখা। মার্কেটিং এর ভাষায় এটিকে কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট বলে। 

তৃতীয়ঃ কেনার আকাঙ্খা তৈরি করুন

এখন আপনার টার্গেট অডিয়েন্স আপনাকে চেনে ও পছন্দ করে। একজন কাস্টমার তাদের থেকেই কেনাকাটা করে যাদের সে পছন্দ করে, বিশ্বাস করে ও আস্থা পায়।  

মনোযোগ আকর্ষণ ও আগ্রহ তৈরি করার ধাপ গুলোতে কাস্টমারদের মনে এই দুটি অবস্থার তৈরি হয়। 

এর পরেই কাস্টমারদের আপনার প্রোডাক্ট কেনার আকাঙ্খা তৈরি করতে হবে। কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস দেখে কাস্টমার যেন ইচ্ছে প্রকাশ করে, “হুম এটি আমি চায়”।

কাস্টমারের অবচেতন মনে এমন একটি অবস্থার তৈরি হবে যাতে সে বিশ্বাস করবে আপনার প্রোডাক্টই কেবলমাত্র তার সমস্যার সমাধানে সক্ষম ও তাঁর জন্য উৎকৃষ্ট। 

কোন কাস্টমারগুলো আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস পছন্দ করছে সেটি বুঝবেন, যখন কাস্টমার সামাজিক মাধ্যমগুলোতে আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে দেয়া অ্যাডে লাইক,  শেয়ার বা কমেন্ট করে। 

কাস্টমার যখন ইমেইলের মাধ্যমে দেয়া আপনার বিজনেসের নিউজলেটার সময় নিয়ে পড়ে ও তাদের মতামত প্রকাশ করে। 

অর্থাৎ কাস্টমার বেশি বেশি আপনার অ্যাড এর সাথে যুক্ত হবে কারণ এটি তারা পছন্দ করছে, আর তত বেশি তাদের মধ্যে কেনার আকাঙ্খা তৈরি হবে। 

 

 

চতুর্থঃ একশন গ্রহন 

প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে কাস্টমারের আগ্রহের জায়গা তৈরি হলে এর পরের ধাপে তাদের সেটি কেনার বা উপভোগ সুযোগ করে দিন।

কাস্টমারদের ব্র্যান্ড সচেতনতা, ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানার ইচ্ছে পোষণ, তাদের মনে প্রোডাক্ট কেনার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করার উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা যেন বলে,  “হ্যাঁ আমি এই প্রোডাক্টটি পেতে চাই”।

একজন কাস্টমারের একটি ব্র্যান্ডের সাথে যুক্ত হওয়া ও প্রোডাক্ট কেনার মধ্যবর্তী সময়ে যে বিষয়টি তাকে সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে, তা হচ্ছে কাঙ্খিত প্রোডাক্টটি নিশ্চিতভাবে তার সমস্যার সমাধান করবে এই আস্থা পাওয়া। 

কাস্টমার কিভাবে আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস টি পেতে পারে অথবা সেটি কিভাবে কিনবে সেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।

আপনার টার্গেট কাস্টমার এখন জানে আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে,  আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে,  আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কিভাবে তার সমস্যার সমাধান করবে সে সম্পর্কে। 

এখন আপনার শেষ কাজ হচ্ছে কাস্টমারকে কেনার সুযোগ করে দেয়া।

কি করবেন এই ধাপে,

আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস এর সেলিং অ্যাড দিন। কল টু একশন বাটন ব্যবহার করে আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে যান। ফেসবুক মেসেঞ্জার কনভার্সন অ্যাড দিন। ইত্যাদি পন্থা অবলম্বন করে কাস্টমারদের কিনতে উৎসাহিত করুন। 

অফার ও ডিসকাউন্ট দেয়ার জন্য এই স্টেপ আদর্শ কারণ এটি কেনাকাটাকে প্রভাবিত করে। অনেক উদ্যোক্তাদের দেখা যায় তারা একটি প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন শুরুই করেন অফার দেবার মাধ্যমে। এটি একটি ভুল এপ্রোচ। 

AIDA মডেল অনুসরনে কোকাকোলার তৈরি মার্কেটিং ক্যাম্পেইন

কোকাকোলার তুমুল জনপ্রিয়তা ও লাভজনক বিজনেসের মুলে এর পরিকল্পিত মার্কেটিং কৌশল। তাদের একটি বিজ্ঞাপনে AIDA মডেল অনুসরনে ধাপগুলো পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করা হলো।

হলিস্টিক মার্কেটিং এপ্রোচে তৈরি এই বিজ্ঞাপনটিতে  AIDA মডেল অনুসরন করে টার্গেট অডিয়েন্সদের ক্রয় সম্পন্ন করার মাধ্যমে কাস্টমারে পরিনিত করেছে। 

কোকাকোলার মার্কেটিং কৌশল নিয়ে আরো পরুনঃ

UGC Campaign: বিনা খরচে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

AIDA (Attention, Interest, Desire, Action)   

Attention

ব্র্যান্ড সচেতনতা (brand awareness) অর্জনের জন্য কোকা-কোলা  (কোক, ডায়েট কোক এবং কোক জিরো) এর বিজ্ঞাপনগুলি টিভি বিজ্ঞাপন, ইন্টারনেট, পেইড সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। এটি করতে কোকা-কোলা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞাপন প্রচারে ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

Interest

টার্গেট কাস্টমারদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য, কোক তার বিজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট সফট ড্রিংকসে ব্যবহার করা উপাদানগুলি উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে “জিরো সুগার কোক” এই ম্যাসেজটি হাইলাইট করেছে, তারা বলেছে যে এটি ক্যালরি ছাড়া কোকের মতো স্বাদযুক্ত। যা ওজন সচেতন ভক্তদের জন্য একটি বিশাল আগ্রহের বিষয়। 

Desire

দীর্ঘ সময় ধরে কোকা-কোলা তাদের বিজ্ঞাপনে প্রচার করে আসছে পরিবার, বন্ধু স্বজনদের সাথে উপভোগ করা আনন্দময় মুহূর্ত গুলি। তারা মানুষকে একত্রিত করার কথা বলে। জিরো সুগার কোক তরুন ও বয়স্ক সবার জন্য নিরাপদ এবং আনন্দময় সময়ে একসাথে দারুন উপভোগ্য।

এই মেসেজ টার্গেট কাস্টমারদের মনে কোক নিয়ে একটি খুশির অনুভুতি তৈরি করে যা তাদের কাছে আকাঙ্খিত হয়ে উঠে। আনন্দঘন পারিবারিক ও সামাজিক মুহূর্তে কাস্টমারদের মনে কোকাকোলা পান করে এই সুখানুভূতি অর্জনের প্রবল আকাঙ্খা তৈরি হয়।  

Action

আপনি যেকোনো  রেস্তোঁরা, ক্যাফে, ক্যাফেটেরিয়া, মুদি দোকান, কর্নার স্টোরে  কোক পাবেন। মূলত যে সকল জায়গায় সফট ড্রিংকস পাবার সম্ভবনা রয়েছে সেখানে আপনি নিশ্চিত ভাবে কোক কিনতে পারবেন। 

ব্র্যান্ডটি তাঁর প্রোডাক্টের ব্যাপক এক্সপোজার এবং সকল বিক্রয় পয়েন্টে এভেইলেবল প্রোডাক্ট নিশ্চিত করে বেশি পরিমানে সেল করতে সফল হয়। 

এ কারণে, কোকা-কোলা বিশ্বের অন্যতম বেস্ট সেলিং সফট ড্রিঙ্ক ব্র্যান্ড হিসাবে নিজের অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। 

পরিশেষে, 

আপনার প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপনে এই মডেলটি ব্যবহার করে সম্ভাব্য টার্গেট কাস্টমারদের ক্লাইন্টে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনাকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারেন। 

তবে শুধুমাত্র মডেল অনুসরণ করলেই হবে না, একটি শক্তিশালী ও সৃষ্টিশীল কন্টেন্ট এই মডেল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। 

AIDA মডেল ত্যার সাথে সৃষ্টিশীল কন্টেন্ট এই দুটির ভারসাম্য রক্ষা করে অ্যাড তৈরি ও পরিচালনা করলে আপনি নিশ্চিতভাবে বিজনেসের কাঙ্খিত সেল নিয়ে আনতে সফল হবেন। 

ক্রেতা ভ্যালু কি? এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে ক্যালকুলেট করতে হয়?

ক্রেতা ভ্যালু কি? এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে ক্যালকুলেট করতে হয়?

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু সম্পর্কে জানা একজন উদ্যোক্তার বিজনেস গ্রোথের জন্য লাভজনক। আমাদের বিজনেসে প্রতিদিন কাস্টমার আসে আবার চলে যায়, কিন্তু কোন কাস্টমারগুলো বিজনেসের জন্য সবথেকে বেশি রেভিনিউ নিয়ে আসে? আমরা সেটা জানি না।  

কোন কাস্টমারগুলো আমাদের বিজনেসকে সফল করে তুলতে সাহায্য করে?  কোন কাস্টমারগুলো আমাদের বিজনেসে আগামী দিনে আরো বেশি প্রফিট করতে সাহায্য করবে? আমরা কি সেটা জানি?

অফলাইন কিংবা অনলাইন প্রতিটি বিজনেসের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নিশ্চিত করতে হলে আপনাকে জানতে হবে আপনার কাস্টমারদের লাইফ টাইম ভ্যালু।    

ক্রেতা ভ্যালু কি?

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু বা ক্রেতা ভ্যালু বলতে বোঝায়, বিজনেসে একটি কাস্টমারের সাথে ভবিষ্যতে একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে ব্যবসায়িক সম্পর্কের ফলে কোম্পানির নিট আয়ের  পূর্বাভাস। 

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু সম্পর্কিত কিছু পরিসংখ্যান

  • মাত্র ৫% রিটেনশন রেট বেশি হলে ২৫% বেশি প্রফিট হয়
  • পুরনো কাস্টমারদের থেকে নতুন কাস্টমার পেতে ৫ থেকে ২৫ গুণ বেশি খরচ করতে হয়
  • পুরনো কাস্টমারদের কাছে সেল হবার সম্ভাবনা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ
  • নতুন কাস্টমারদের চেয়ে পুরনো কাস্টমার ৬৭ শতাংশ বেশি কেনাকাটায় খরচ করে
  • ৭৬% কোম্পানি তাদের বিজনেসের জন্য কাস্টমার লাইফটাইম  ভ্যালুকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে 

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু কেন গুরুত্বপূর্ণ? 

ই-কমার্স বিজনেসে সকল কাস্টমার একই সমান কেনাকাটা করে না।  দেখা যায়, বিজনেসে  মাত্র ১% কাস্টমার বারবার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কেনাকাটা করে যার মূল্য মান এভারেজ কাস্টমারদের চেয়ে ১৮ গুণ বেশি।

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু বিজনেসের জন্য কোন কাস্টমারগুলো অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে বিজনেস বাড়াতে কোন কাস্টমারগুলোকে ধরে রাখতে হবে সে বিষয়ে একটি তুলনামূলক পার্থক্য সামনে তুলে ধরে। 

অনেক সময় আমরা  কাস্টমার খুঁজে পেতে টাকা খরচ করি, কিন্তু তাদের থেকে খুব বেশি প্রফিট নিয়ে আসতে পারিনা। নির্দিষ্ট সময় পরে  হিসেবে শেষে দেখা যায় কাস্টমার খুঁজে পেতে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে তার চেয়ে প্রফিট অনেক কম।

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু আমাদের সেই সব কাস্টমারকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে যারা একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে আমাদের সবচেয়ে বেশি বিজনেস দিয়েছে এবং এর জন্য তাদের বিপরীতে খুব সামান্যই খরচ করতে হয়েছে।

অনেক সময় আমরা খেয়াল করি কিছু কাস্টমার খুব অল্প পরিমাণে কেনাকাটা করলেও তারা বারবার কেনাকাটা করতে থাকে।  

প্রতিবার অল্প পরিমাণে কেনাকাটা করায় আমরা তাদেরকে গুরুত্ব দেই না। আমরা গুরুত্ব দিয়ে থাকি তাদের যারা বেশি টাকার  কেনাকাটা করেছে।

যখন নির্দিষ্ট সময় পরে প্রতিটি কাস্টমারের থেকে প্রাপ্ত গড় প্রফিটের হার গণনা করি, দেখা যায় সেই অল্প পরিমাণে বেশি বেশি কেনাকাটা করা ব্যক্তি বা কাস্টমারগুলাই আমাদের সব থেকে বেশি প্রফিট অর্জন করতে সাহায্য করেছে।

যেহেতু কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু সম্পর্কে আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা খুব বেশি সচেতন নয়। তারা তাদের বিজনেসের জন্য উপযুক্ত ও ভালো মানের কাস্টমারদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় না।

তারা ভাল মানের কাস্টমারদের হারিয়ে ফেলে এবং বিজনেসে নিয়মিত প্রফিট ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু শুধুমাত্র বর্তমান কাস্টমারদের অবস্থা সম্পর্কে  ধারণা প্রদান করে না বরং এটি জানতে সাহায্য করে কোন কাস্টমার গুলো ভবিষ্যতে আমাদের কে সবথেকে বেশি প্রফিট এনে দিবে।  

কিভাবে কাস্টমার লাইফটাইম হিসাব করবেন?
ক্রেতা ভ্যালু

কাস্টমার লাইফটাইম হিসেব করতে হলে প্রথমে কাস্টমারদের এভারেজ পারচেস ভ্যালু ও এভারেজ  পারচেস ফ্রিকোয়েন্সি বের করতে হবে। 

কাস্টমারের এভারেজ পারচেস ভ্যালু 

আপনার বিজনেসে কাস্টমারেরা ১ বছরে যতবার প্রোডাক্ট অর্ডার করেছে সেই মোট সংখ্যা দ্বারা তাদের থেকে আপনি যে পরিমান বার্ষিক রাজস্বকে আয় করেছেন সেই এমাউন্টকে ভাগ দিলে আপনার বিজনেসে কাস্টমারদের এভারেজ পারচেস ভ্যালু পাওয়া যায়। 

মোট বার্ষিক রাজস্ব / মোট  অর্ডার সংখ্যা 

এভারেজ  পারচেস ফ্রিকোয়েন্সি

১ বছরের মোট অর্ডার সংখ্যাকে সেই সময়ের মোট কাস্টমার সংখ্যা (যারা কেনাকাটা করেছিলো) দ্বারা ভাগ দিলে কাস্টমারদের এভারেজ  পারচেস ফ্রিকোয়েন্সি পাওয়া যায়।

বছরে মোট অর্ডার সংখ্যা /  মোট কাস্টমার সংখ্যা (যারা কেনাকাটা করেছিলো)

এভারেজ কাস্টমারদের জীবনকাল  

কাস্টমারদের প্রথম অর্ডার ও শেষ অর্ডার প্লেস করার মধ্যবর্তী সময়কালের এভারেজ। 

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু কিভাবে হিসেব করা হয় তাঁর একটি উদাহরণ দেয়া হল, এখানে ব্যবহার করা ডেটা একটি কাল্পনিক বিজনেসের যা বোঝার সুবিধার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। 

আপনি আপনার বিজনেসের ডেটা ব্যবহার করে আপনার কাস্টমারদের লাইফটাইম ভ্যালু হিসেব করবেন। 

ধরুন, কাস্টমার “এ” , কাস্টমার “বি”  ও কাস্টমার “সি” একটি ই কমার্স বিজনেস থেকে নিয়মিত কেনাকাটা করে আসছে।

কাস্টমার “এ”  এক বছরের মোট ৫ বার অর্ডার করেছে। প্রতিবার অর্ডার করার সময় অর্ডার ভ্যালু ছিল নিম্নরূপ,

১ ম বার = ১০০ টাকা

২য় বার = ৫০০ টাকা

৩য় বার = ৩০০ টাকা

৪থ বার = ৪০০ টাকা

৫ম বার = ২০০ টাকা

তাহলে তাঁর ১ বছরের মোট অর্ডার ভ্যালু দাঁড়ায় ১০০+ ৫০০+ ৩০০+ ৪০০+ ২০০= ১৫০০ টাকা

এবং এভারেজ  অর্ডার ভ্যালু= ১৫০০ / ৫ =  ৩০০ টাকা

ধরে নেয়া যাক, কাস্টমার প্রতি বছরে ১০ বার কিনবে, সেই কাস্টমারের সাথে বিজনেস করার সময়কাল হবে ৫ বছর। 

তাহলে কাস্টমার এ, এর লাইফ টাইম ভ্যালু= ৩০০ * ১০ * ৫ = ১৫, ০০০ টাকা 

আপনার বিজনেস থেকে কাস্টমার “এ”  নির্ধারিত সময় কালের মধ্যে  ১৫, ০০০ টাকার কেনাকাটা করবে। 

এভাবে কাস্টমার বি ও কাস্টমার সি এর জন্য কাস্টমার এ এর লাইফ টাইম ভ্যালু বের করবেন। 

ধরুন  কাস্টমার বি এর লাইফ টাইম ভ্যালু = ১৩,০০০ টাকা ও  কাস্টমার সি এর লাইফ টাইম ভ্যালু ২০,০০০ টাকা। 

এখান থেকে দেখা যায়,  আপনার বিজনেসের জন্য কাস্টমার সি অধিক লাভজনক 

তাহলে এভারেজ কাস্টমার ভ্যালু হবে,

১৫,০০০ + ১৩,০০০ + ২০,০০০ = ৪৮,০০০ টাকা 

৪৮,০০০ / ৩ = ১৬,০০০ টাকা

অর্থাৎ আগামী ৫ বছরে আপনি প্রতিটি কাস্টমারদের থেকে এভারেজে ১৬, ০০০ টাকার বিজনেস পাবেন।   

যে ৮ উপায়ে কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু বাড়াতে পারবেন

১. নতুন কাস্টমার নিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে অপটিমাইজ করে

কাস্টমার চলে যাওয়ার হারকে যত বেশি কমিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন, ততবেশি কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু বাড়বে।

একজন কাস্টমার প্রথমে যখন আপনার বিজনেস এর সাথে যুক্ত হচ্ছে তখন তাকে কেনাকাটায় ভালো অভিজ্ঞতা প্রদান করুন।

ধরুন, প্রথমবার  কাস্টমার আপনার কাছ থেকে কেনাকাটা করছে। প্রথম কেনাকাটায়  তাকে গিফট প্রদান করুন।   মানুষ  গিফট পেতে ভালোবাসে তাই এটি তাঁর স্মৃতিতে আপনার বিজনেসকে একটি স্থায়ী জায়গা করে দিবে। 

কাস্টমারের প্রথমবারের অভিজ্ঞতা একটি বিজনেস এর সাথে লম্বা সময় থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

একটি বিজনেস থেকে কাস্টমার প্রথমবারই কেনাকাটা করতে চায় না, সে প্রথমে  আপনার বিজনেস ও প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে চায়। 

চাহিদার প্রোডাক্টটি তার জন্য কতটুকু উপযুক্ত এবং কিভাবে সেটি তার সমস্যার সমাধান করবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এসময় কাস্টমার যাচাই-বাছাই করে।

যখন সে কেনাকাটায় নিরাপত্তার আস্থা পায়, ঠিক তখনই কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই প্রথমবারে একজন কাস্টমার যেন কোনভাবেই আপনার বিজনেস থেকে খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন না হয় সে বিষয়ে নজর দেয়া জরুরি।

দেখা যায় বেশিরভাগ নতুন কাস্টমার প্রথমবারেই একটি বিজনেস পেজ থেকে খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে কেনাকাটা না করে চলে যান।

২. লয়ালটি প্রোগ্রাম

যে কাস্টমারটি আপনার থেকে বারবার কিনছে আপনার রেভিনিউের একটি বড় অংশ যার কাছ থেকে আসে সে আপনার বিজনেস থেকে প্রায়োরিটি ডিজার্ভ করে।

নিয়মিত কেনাকাটায় এভারেজ কাস্টমারদের থেকে এক্সট্রা সুবিধা পাওয়া যেমন, উপহার, অফার ও ডিসকাউন্ট ইত্যাদি সেই ব্যান্ডের প্রতি  কাস্টমারকে বিশ্বস্ত করে। 

বিশ্বস্ত কাস্টমার প্রতিবার কেনাকাটায় সেই ব্র্যান্ডকেই প্রাধান্য দেয় যা একটি বিজনেসের কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু কে বাড়িয়ে তোলে।

“দারুণ সব অফার আইডিয়া পেতে পড়ুনঃ অনলাইন স্টোরের সেলস বাড়াতে ৩৮ টি আকর্ষণীয় ‘অফার’ আইডিয়া”

৩. দুর্দান্ত কাস্টমার সার্ভিস

এক-তৃতীয়াংশ কাস্টমার একটি ব্যান্ডকে ছেড়ে যায় শুধুমাত্র খারাপ কাস্টমার সার্ভিসের জন্য। একটি ভাল কাস্টমার সার্ভিস হচ্ছে ভাল মানের কাস্টমার অভিজ্ঞতার সমানুপাতিক।  

আপনি কীভাবে সেরা কাস্টমার সার্ভিস প্রদান করতে সক্ষম হবেন,  যা কাস্টমারদের ধরে রাখবে এবং কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু বৃদ্ধি করবে? 

এখানে কয়েকটি পরামর্শ রয়েছে যা আপনার বিবেচনা করা উচিতঃ

৪. ওমনি-চ্যানেল কাস্টমার সাপোর্ট অফার করুন

আপনার ক্লায়েন্টরা কোন চ্যানেলগুলি সর্বাধিক ব্যবহার করছে সেটা দেখা উচিত । আপনি তাদের  ইমেল এবং ফোনে কাস্টমার সার্ভিস অফার করছেন কিন্তু কাস্টমার ফেসবুক এবং টুইটারে বেশি সক্রিয়। 

যদি একবার কাস্টমারদের চ্যানেল ব্যবহারের ধরন আপনি জানতে পারেন, তবে কাস্টমার সার্ভিস টিমকে ঐ সমস্ত চ্যানেল ব্যবহার করে কাস্টমার সার্ভিস নিশ্চিত করতে প্রস্তুত করে তুলুন। 

৫. 24/7 কাস্টমার সার্ভিস প্রদান করুন

বিজনেস টু কাস্টমার নির্ভর বিজনেস থেকে কাস্টমার  দ্রুত প্রতিক্রিয়া আশা করে। কাস্টমার সার্ভিস অফার করার সর্বোত্তম উপায়গুলির মধ্যে একটি হলো ২৪ ঘন্টা সার্ভিস অফার করা। যদিও এটি ব্যয়বহুল কিন্তু অতি মূল্যবান। 

যদি 24/7 কাস্টমার সাপোর্ট  সরবরাহ করতে না পারেন তবে নিশ্চিত করুন যেন আপনার কাস্টমার সার্ভিস টিম  কাস্টমারদের জিজ্ঞাসাগুলোর দ্রুততম সময়ে  প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে ।

৬. সোশ্যাল মিডিয়া  মনিটর করুন নিয়মিত

কিছু কাস্টমার রয়েছে যারা আপনার  সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট গুলো নিচে কমেন্টের মাধ্যমে সাহায্য চায়। এক্ষেত্রে তাকে কাস্টমার সার্ভিস প্রদানের বিলম্ব হলে অন্য কাস্টমাররা সেটি দেখতে পায়। 

এটি একটি নেতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। সে ক্ষেত্রে নিয়মিত আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ রাখুন। 

৭. লাইভ চ্যাট সার্ভিস অফার করুন

প্রায় ৮০% কাস্টমার একটি বিজনেস থেকে রিয়েল টাইম সার্ভিস পেতে চায়।  সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইট কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াতে কাস্টমারদের সাথে সরাসরি লাইভ চ্যাট যুক্ত হবার সুবিধা রাখুন।

যে সকল কাস্টমার আপনার বিজনেসের লাইভ চ্যাট সার্ভিস ব্যবহার করে তারা সাধারণ কাস্টমারের থেকে ৪.৫ গুণ বেশি  গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমার।

৮. আপ সেল ক্রস সেল

আপসেল ও ক্রসসেল পদ্ধতি হচ্ছে একটি বিজনেসের কাস্টমারদের লাইফ টাইম ভ্যালু বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী কৌশল। 

আপসেল  চলছে অপেক্ষাকৃত অধিক মূল্যবান প্রোডাক্ট কিনতে উৎসাহিত করা, অপরদিকে ক্রস সেল হচ্ছে  সেই প্রোডাক্ট রিলেটেড অন্যান্য প্রোডাক্ট কিনতে কাস্টমারদের উৎসাহিত করা।

যেখানে সাধারন সেলস থেকে মাত্র ৫% থেকে ৩০%  রেভিনিউ আসে সেখানে আপসেল ও ক্রসসেল দ্বারা ৭০% থেকে ৯৫% পরিমাণ রেভিনিউ নিয়ে আসা যায়।  

কাস্টমার সেগমেন্টেশনে  আরএমআফ (RMF) মডেল

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু তে মনোযোগ দেওয়ার আগে আসুন কাস্টমারদের মান বিশ্লেষণের  উপাদানগুলি যেমনঃ রিজেন্সি, ফ্রিকোয়েন্সি এবং আর্থিক মান (আরএফএম)  দেখে নেওয়া যাক।

  • রিসেন্সি– বলতে বোঝায় কাস্টমারের সর্বশেষ কেনাকাটা বা সাম্প্রতিক শেষ কেনাকাটাকে। যিনি দীর্ঘ সময় ধরে ক্রয় করেননি তারচেয়ে যে কাস্টমার সম্প্রতি একটি কেনাকাটা করেছেন তাঁর ক্রয় করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে ।
  • ফ্রিকোয়েন্সি– একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাস্টমার কতবার কেনাকাটা করেছে তা বোঝায়। যে কাস্টমার প্রায়শই কেনাকাটা করেন তার ফিরে আসার সম্ভাবনা যে কম কেনাকাটা করেন তাঁর থেকে বেশি থাকে।
  • মানিটরি ভ্যালু– বলতে  বোঝাই  কাস্টমার  একটি সময়ের মধ্যে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন  সেটি।  

যে কাস্টমার বেশি টাকার কেনাকাটা  করেছে তার ফিরে আসার সম্ভাবনা যে কম টাকার কেনাকাটা করেছে তার চেয়ে বেশি। এই আরএমএফ মডেল থেকে বের করা সহজ আপনার কোন কাস্টমার গ্রুপটি আপনাদের সবচেয়ে বেশি রেভিনিউ নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। 

পরিশেষে

বিজনেসে সাফল্য মানে কাস্টমার খুঁজে পাওয়া নয় বরং সঠিক কাস্টমারদের খুঁজে বের করা। আর কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু  আপনাকে সেই সকল কাস্টমারদের খুঁজে বের করতে সাহায্য করে যারা আপনার বিজনেসের গ্রোথের জন্য সত্যিকারের অবদান রাখে। 

আপনার বিজনেসে কোন কাস্টমারগুলো সবার থেকে বেশি কেনাকাটা করে? জানেন কি? 

অনলাইন স্টোরের সেলস বাড়াতে ৩৮ টি আকর্ষণীয় ‘অফার’ আইডিয়া

অনলাইন স্টোরের সেলস বাড়াতে ৩৮ টি আকর্ষণীয় ‘অফার’ আইডিয়া

২০১৩ সালে RetailMeNot “অফার” বিষয়ে একটা সার্ভে পরিচালনা করে, যেখানে ১০,০০৯ জন অংশগ্রহন করেছিলেন।  এদের মধ্যে ৫১ % বলে অনলাইন কেনাকাটায় সিদ্ধান্ত গ্রহনে ডিস্কাউন্ট অফার তাদের প্রভাবিত করেছে।

কাস্টমারকে অফার দেবার আগে জানতে হবে কাস্টমার ভ্যালু জার্নি সম্পর্কে। একজন কাস্টোমার তাঁর বায়িং স্টেজের কোন কোন ধাপে কি ধরনের অফার পেলে প্রোডাক্ট কিনবে এবং আপনার লয়াল কাস্টমারে পরিণত হবে।

বাংলাদেশের হাতেগোনা কয়েকটি কর্পোরেট বাদে প্রায় অধিকাংশ ই-কমার্স উদ্যোক্তা কাস্টমার ভ্যালু জার্নি না বুঝেই ডিসকাউন্ট অফার দিয়ে থাকেন।

ফলে তাদের সেলস বাড়ে না উল্টো প্রফিটের পরিমাণ কমে যায়।

উপরের ছবিটি খেয়াল করুন, একজন ফার্স্ট টাইম কাস্টমার একটি ব্র্যান্ডের লয়াল কাস্টমার হওয়া পর্যন্ত যে ধাপগুলোর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তার একটি চিত্র দেওয়া হয়েছে। 

প্রতিটি ধাপে কাস্টমারদের প্রত্যাশা এবং চাহিদার মাত্রা ভিন্ন থাকে। তাদের আচরণে ভিন্নতা ও প্রত্যাশা বুঝে অফার দিলে সেটি অধিক কার্যকরী হয়। 

কাস্টমারদের এখনই কিনতে উৎসাহিত করতে চাইলে কি ধরনের অফার দিবেন।

(এই অফারগুলো কাস্টমার ভ্যালু জার্নির যে ধাপগুলোকে প্রভাবিত করে )

  • Convert- কাস্টমার প্রথমবারের মতো কেনাকাটা করে  
  • Aware- মনোযোগ আকর্ষণ করে
  • Ascend – বর্তমান কাস্টমারও অফারগুলো পছন্দ করে 

ট্রিপওয়ার অফার

এই অফারটি ফার্স্ট টাইম কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে দুর্দান্ত এবং বরাবরই এটি তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।

কাস্টমারদের বেশি দামি প্রোডাক্টগুলো কম দামে অফার করা হয়।  এতে করে কাস্টমার সেটি কিনতে উৎসাহিত বোধ করে। 

সাধারনত এমন ধরনের প্রোডাক্ট অফার করা হয়, যে প্রোডাক্টগুলো সম্পর্কে তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। যেহেতু সে কম দামে প্রোডাক্ট পাচ্ছে তাই কাস্টমার অফারটি হারাতে চায় না।

এখানে এই অফারটি হচ্ছে কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণের কৌশল। এই অফারের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে প্রথমবারের জন্য কাস্টমারকে স্টোরে নিয়ে এসে কেনাকাটা করানো। 

লোভনীয় অফার প্রদানের মাধ্যমে কাস্টমারের মনোযোগ আকর্ষণ করে কেনাকাটা সম্পন্ন করতে উৎসাহী করানো। 

১। শুধুমাত্র শিপিং চার্জ পরিশোধ করার মাধ্যমে ফ্রী প্রোডাক্ট অফার

এই অফারে কাস্টমার শুধুমাত্র শিপিং চার্জ পরিশোধ করে ফ্রী প্রোডাক্ট পায়। ফ্রী প্রোডাক্টটির মূল্যমান এমন হয় যা বিজনেসের প্রমোশনাল ক্যাম্পেইনে জন্য নির্ধারিত বাজেটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থাৎ উদ্যোক্তা একজন কাস্টমারের  বিপরীতে সেই অর্থ খরচ করতে সক্ষম।

কাস্টমার এখানে তার বেনিফিট দেখে।  সে বিনামূল্যে প্রোডাক্ট পাচ্ছে তাই শিপিং চার্জ পরিশোধ করার জন্য তার দ্বিধা থাকে না। 

২। নিত্য প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট কম মূল্যে অফার 

কিছু প্রোডাক্ট রয়েছে যা আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি এবং সে জন্য অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। 

যখন সেই প্রোডাক্টগুলো আমাদের স্বল্পমূল্যে প্রদান করা হয় তখন আমরা সেটি কিনতে আগ্রহী হয়।

এটি মূলত প্রথমবার  কাস্টমারকে একটি ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটায়  প্রলুব্ধ করে।

৩। “ফ্রী  ট্রায়াল” অফার

ডিজিটাল প্রোডাক্টের বিপননের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি জনপ্রিয়। একজন কাস্টমারকে  একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রথমবার বিনামূল্যে সার্ভিসটি উপভোগের জন্য দেয়া হয় এবং তাকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে পেইড কাস্টমারে কনভার্ট করানো হয়। 

৪। কেনাকাটায় ফ্রী গিফট

ফ্রী পেতে কে না ভালবাসে আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে মার্কেটিয়ারেরা কাস্টমারদের কেনাকাটায় প্রলুব্ধ করে। আপনি যখন কিছু ফ্রী পাচ্ছেন অর্থাৎ সেটির জন্য মূল্য পরিশোধ  করছেন না।

কাস্টমার এটিকে তার বেনিফিট হিসেবে দেখে।  যদিও সবাই একই ধরনের প্রোডাক্ট বিক্রি করছে এবং আপনিও একই ধরনের প্রোডাক্ট বিক্রি করছেন পাশাপাশি কাস্টমারদের ফ্রী গিফট দিচ্ছেন। 

তখন কাস্টমার আপনাকে সবার থেকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে। 

৫। নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট কিনলে গিফট

ধরুন,  আপনি চান নির্দিষ্ট একটি ক্যাটাগরির প্রোডাক্ট সেল করতে। সেক্ষেত্রে সেই প্রোডাক্টগুলো কেনাকাটায় গিফট অফার করুন। 

৬। কেনাকাটায় পছন্দের গিফট বেছে নেওয়ার সুযোগ

নিজে পছন্দ করার স্বাধীনতা কাস্টমারকে কেনাকাটায় সাচ্ছন্দ্য দেয়।  কাস্টমার যখন আপনার স্টোর থেকে কেনাকাটা করে আপনি তাদের জন্য নির্ধারিত গিফটের অপশনটি খুলে দিন।  যেন সে তার পছন্দের গিফটটি বেছে নিতে পারে। 

৭। যেকোনো কেনাকাটায় গিফট

আপনি কাস্টমারদের বলুন স্টোরের যেকোনো প্রডাক্টের কিনলে তার জন্য রয়েছে গিফট। এটি আপনাকে প্রতিযোগিদের থেকে এগিয়ে রাখবে। 

৮। টু-স্টেপ গিফট

এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক  বায়াস। কাস্টমার প্রথমবার কেনাকাটা করলে কম গিফট পাবে, পরেরবার আবার কেনাকাটা করলে তার থেকে আরও বেশি গিফট পাবে। 

দ্বিতীয়বার কেনাকাটায় গিফটের পরিমাণ বাড়িয়ে তার প্রথমবার কেনাকাটাকে নিশ্চিত করা যায় এবং দ্বিতীয়বার কেনাকাটায় তাকে আরও বেশি উৎসাহিত করা যায়। 

অর্থাৎ আপনি একটি অফার ডিজাইনের মাধ্যমে দ্বিতীয় সেলটি নিশ্চিত করে নিতে পারেন।

ডিসকাউন্ট অফার

ডিসকাউন্ট অফারগুলো বরাবরই কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এসেছে এবং এটি এখনো কার্যকরী ভাবেই ব্যবহার হচ্ছে।  কিন্তু কিভাবে ডিসকাউন্ট দিবেন সে প্রক্রিয়াটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

৯। ডিসকাউন্ট কোড

কাস্টমারদের সকল কেনাকাটার উপরে ডিসকাউন্ট কোড দিন। সেই কোডটি এপ্লাই করলে মোট মূল্যের উপর ডিসকাউন্ট পাবে।

১০। পার্সেন্টেজ বেইজড ডিসকাউন্ট

ডিসকাউন্টের পার্সেন্টেজ উল্লেখ করে দিন।  এক্ষেত্রে সে যত বেশি বা কম কেনাকাটা করুক, একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে ডিসকাউন্ট পাবে। 

১১। উপলক্ষ নিয়ে ডিসকাউন্ট

বিভিন্ন উৎসব ও উপলক্ষে ডিসকাউন্ট দিন। যেমন হলিডে শপিং, ফেষ্টিভেল ডিসকাউন্ট অফার ইত্যাদি।  যেহেতু  মানুষ বিভিন্ন উপলক্ষে কেনাকাটা করতে পছন্দ করে তাই এই উৎসব ও উপলক্ষে তারা কেনাকাটায় অফার পেলে আপনার স্টোরটি বেছে নিবে।

১২।  গ্রুপ ডিসকাউন্ট

একই ধরনের প্রোডাক্ট কেনাকাটায় ডিসকাউন্ট দিন। যেমন ধরুন টয়লেট্রিজ আইটেম বা কিচেন আইটেম । যার টুথপেস্ট প্রয়োজন তার টুথব্রাশও প্রয়োজন হয়। আবার সে মাউথ ওয়াশও ব্যবহার করে। 

এই তিনটি প্রোডাক্ট একসাথে করে গ্রুপে ডিসকাউন্ট দিন।  

১৩। আগে আসলে আগে পাবেন

কাস্টমারদের মধ্যে  কেনাকাটার প্রতিযোগিতা তৈরি করার মানসিকতা তৈরি করতে এই ডিসকাউন্ট কাজ করে।  

আপনি প্রথম কাস্টমারের জন্য সর্বোচ্চ ডিসকাউন্ট অফার  ঘোষণা করলে বেশি ডিসকাউন্ট পেতে কাস্টমার সবার আগে আপনার স্টোরে কেনাকাটা করতে প্রতিযোগিতা শুরু করে।

১৪।  লিমিটেড টাইম ডিসকাউন্ট অফার

“ফিয়ার অফ মিসিং আউট” কৌশলের একটি দুর্দান্ত অফার, লিমিটেড টাইম ডিসকাউন্ট।  শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় কাস্টমারদের দ্রুত কেনাকাটা করাকে ত্বরান্বিত করে। 

FOMO মার্কেটিং কৌশল বিষয়ে আরো পড়ুনঃ

FOMO (Fear of Missing Out) মার্কেটিং স্ট্রাটেজিঃ কীভাবে ই কমার্স সেলস বৃদ্ধি করতে পারেন?

১৫।  ফ্রী শিপিং অফার

শপিং কার্ট ত্যাগ করার প্রবণতা কমাতে এই অফার যেখানে কাস্টমার শেষ মুহূর্তে এসে ডিসকাউন্টের মোহে পড়ে এবং কেনাকাটা সম্পন্ন করেন।

১৬। যেকোনো অর্ডারে ফ্রী শিপিং

প্রথম কাস্টমার আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাই যেকোনো কেনাকাটায় তাকে ফ্রী শিপিং অফার করতে পারেন। 

১৭। নির্দিষ্ট মূল্যের কেনাকাটায় ফ্রী শিপিং

অনেকে নির্দিষ্ট করে দেয় একটি অ্যামাউন্ট যার উপরের যেকোন কেনাকাটায় শিপিং চার্জ ফ্রি করে দেওয়া হয়। এটি মূলত  কাস্টমারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকার কেনাকাটা করাতে ডিজাইন করা। 

১৮। নির্দিষ্ট প্রোডাক্টে ফ্রী শিপিং

অনেক সেলার নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট ক্যাটাগরির উপরে ফ্রী শিপিং অফার করে অর্থাৎ তিনি চান সেই প্রোডাক্টগুলোই কাস্টমার বেশি বেশি কেনাকাটা করুক। 

১৯। হারিয়ে ফেলার ভয় বাড়াতে করে অফার প্রদান

কাস্টমার তাঁর পছন্দের প্রোডাক্ট হারাতে চায় না। যদি তার অবচেতন মনে এই ধারণার উদ্ভব হয় যে, সে তার চাহিদার জিনিসটি হারিয়ে ফেলতে পারে তবে তার কেনাকাটার গতি তরান্বিত হয়। 

ফ্ল্যাশ সেল,  লিমিটেড টাইম অফার, লাস্ট স্টক, শেষ সুযোগ ইত্যাদি  ধরনের অফার কাস্টমারের মনে হারিয়ে ফেলার প্রবণতাকে বাড়িয়ে  তোলে। এর ফলে কাস্টমার দ্রুততম সময়ে  কেনাকাটা সম্পন্ন করে। 

এভারেজ অর্ডার ভ্যালু বাড়াতে যে ধরনের অফার দিবেন 

(এই অফারগুলো কাস্টমার ভ্যালু জার্নির যে ধাপগুলোকে প্রভাবিত করে )

  • Convert – প্রথমবার কেনাকাটার পরিমাণ বাড়াতে 
  • Excite – পূর্বের কেনাকাটা তুলনায় বেশি কেনাকাটা করাতে 
  • Aware – মনোযোগ আকর্ষণ করতে

বান্ডেল অফার

একের অধিক প্রোডাক্ট একসাথে মিলিয়ে একটি অফার তৈরি করা হয় যা কাস্টমারের এভারেজ সেলস ভ্যালু বাড়িয়ে তোলে। 

একবার আমি শপিংমলে বাজার করতে গিয়ে  ঢুকতেই লক্ষ্য করলাম ডানপাশের থরে থরে প্রোডাক্ট সাজানো যার প্রতিটি প্রোডাক্ট অফারের। 

কাছে গিয়ে দেখতেই খেয়াল করলাম,  তিনটি, চারটি ও পাঁচটির নুডুলস প্যাকেট একসাথে বান্ডেল করে অফার দেওয়া হয়েছে। যত বেশি প্যাকেট এর বান্ডেল ততবেশি সেভিংস। 

একটি নুডুলস এর প্যাকেট কিনলে খরচ করত ২৫ টাকা কিন্তু পাঁচটি নুডুলস এর প্যাকেট একসাথে অফার করা হয়েছে ৮৫ টাকা। ৪০ টাকার সেভিংস!  আমি অফারটি নিলাম।

পরে ভেবে দেখলাম  আমি এক প্যাকেট নুডুলস কিনতে গিয়ে ৫ প্যাকেট কিনে নিয়ে এসেছি। যা আমার এভারেজ এক্সপেন্ডিচার বাড়িয়ে দিয়েছে।  

আর বিক্রেতা আমার কাছে একটির জায়গায় ৫ প্যাকেট নুডুলস বিক্রী করে তার এভারেজ সেলস ভ্যালু বাড়িয়েছে। 

সাধারণত একই ধরনের প্রোডাক্টের কেনাকাটার পরিমাণ বাড়াতে এ ধরনের অফার ডিজাইন করা হয়। 

কনজুমার আইটেমের  ক্ষেত্রে এ ধরনের অফার বেশি প্রচলিত। 

 

 

২১। আপসেল/ ক্রসসেল বান্ডেল অফার

ধরুন, কেউ একজন ব্রন নিরাময়ের লোশন কিনবে তাকে  তাকে ফেসওয়াশ  অফার করলেন। এটি  ক্রস সেল বান্ডেল অফার।  

একইভাবে লোশনের ভিন্ন ভিন্ন প্রাইস বা টাইপ একসাথে অফার করতে পারেন এটি আপসেল অফার। 

২২। ওকেশনাল বান্ডেল

বিভিন্ন উৎসবে আমাদের গিফট পাওয়া ও দেয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়।  সে ক্ষেত্রে ওকেশনাল বান্ডল অফার আমাদের এই ঝামেলা থেকে মুক্তি দেয়। 

ধরুন হলিডে বান্ডেল অফারে একই ধরনের আইটেম একসাথে কম মূল্য প্রদান করছেন। একজন কাস্টোমার অফারটির মাধ্যমে প্রোডাক্ট কিনলে তার গিফট দেবার খরচ অনেকটাই কমে যায়। 

২৩।কোয়ান্টিটি ডিসকাউন্ট

আপনি যত বেশি কেনাকাটা করবেন, তত বেশি ডিসকাউন্ট পাবেন। 

২৩। বিভিন্ন স্তরে অফার

কেনাকাটার একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি অতিক্রম করলে  পাবেন কেনাকাটার পরিমাণ ভেদে ডিস্কাউন্ট।

যেমন, আপনি ১০% ডিসকাউন্ট পাবেন যদি ২০০ টাকার কেনাকাটা করেন,  ২০% পাবেন যদি ৪০০ টাকার কেনাকাটা করেন,  ৩০% দিস্কাউন্ট পাবেন যদি ৮০০ টাকার কেনাকাটা করেন। 

অর্থাৎ আপনাকে ডিসকাউন্ট পাবার পরিমাণ বাড়ার হলে  কেনাকাটার পরিমাণ বাড়াতে হবে।

২৪। কেনাকাটার পরিমাণের সাথে ফ্রী গিফট

যদি কেউ একটি আইটেম কেনেন তবে একটি মগ ফ্রী। যদি দুইটি আইটেম কেনে তবে মগের সাথে কম্প্লিমেন্টারি কফি। যদি তিনটি আইটেম কেনে তবে একটি হ্যান্ডব্যাগের  সাথে একটি মগ ফ্রী।

 এ ধরনের অফার গিফট পাবার আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে কেনাকাটার পরিমাণ কে বাড়িয়ে তোলে। 

২৫। কমিউনিটি বেজড ডিসকাউন্ট 

এ ধরনের অফার ডিজাইন করা হয় কাস্টমারদের বেশি পরিমাণে কেনাকাটা করাতে।  

অফারের ধরন হয় এমন, যদি আপনি ২০টি আইটেম একসাথে কেনেন তবে আপনার দাম পড়বে প্রতি আইটেমের জন্য ১০ টাকা। যদি আপনি ৪০টি  আইটেম কেনাকাটা করেন তবে প্রতিটি আইটেমের জন্য আপনার দাম পড়বে ৫ টাকা।  

অর্থাৎ পরিমানে যত বেশি কেনাকাটা করবেন প্রোডাক্টের ইউনিট প্রাইস তত কমতে থাকবে। কাস্টমারকে প্রোডাক্টের ইন্ডিভিজুয়াল প্রাইস কম দেখিয়ে কেনাকাটা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। 

২৬। মূল্য এবং ফিচারে অনুপাতে ডিসকাউন্ট

মোবাইল ফোনে এ ধরনের অফার আমরা প্রায়ই দেখে থাকি। ধরুন একটি মোবাইল কোম্পানি একটি হ্যান্ডসেট লঞ্চ করেছে যার মূল্য ১০,০০০ টাকা কিন্তু আপনি যদি ১২০০০  টাকা খরচ করেন তবে তার থেকে বেশি ফিচার সম্বলিত আরেকটি হ্যান্ডসেট পাবেন। 

সেক্ষেত্রে আপনাকে আরও ২ হাজার টাকা বেশি খরচ করতে হবে এবং তার বিপরীতে আপনি আরো কি কি অতিরিক্ত ফিচার পাবেন সেটি প্রদর্শন করা হয়।  

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু বাড়াতে হলে কি ধরনের অফার দিবেন? 

(এই অফারগুলো কাস্টমার ভ্যালু জার্নির যে ধাপগুলোকে প্রভাবিত করে )

  • Ascend – কাস্টমারদের বারবার কেনাকাটা করতে আগ্রহী করে তুলতে 
  • Advocate – কাস্টমার রিভিউ পেতে এবং আরো বেশি কেনাকাটা করাতে 
  • Promote – রেফারেল প্রোগ্রাম সফল করতে এবং আরো বেশি কাস্টমার পেতে

রবিন একটি কফিশপে গিয়েছিল প্রতিদিনের মতোই কফি পান করার জন্য।  সে একটি  কফি অর্ডার করলো এবং সেটি উপভোগ করলো।  বিল দেওয়ার সময় ওয়েটার বিলের সাথে তাকে একটি ভাউচার কার্ড দিয়ে গেল।

রবিন  ওয়েটারকে জিজ্ঞেস করল ভাউচার  কার্ড কেন?   ওয়েটার জবাবে  বলল আমাদের কফি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তবে এর পরের বার যখন আসবেন ভাওচার দেখালে  ১৫% ছাড় পাবেন।

এভাবে,  রবিন যতবার সেই কফি শপে গিয়েছিল তাকে বিভিন্ন এমাউন্টের কোন ভাউচার দেওয়া হয়েছিল।  এবং সে তার কফি খাবার খরচ বাঁচাতে সেই কফি শপকেই বারবার বেছে নিয়েছে। 

২৭। সাবস্ক্রাইব এবং সেভ

এ ধরনের অফার এমন হয়, আপনি পুরো টাকা পরিশোধ করে কেনাকাটা করবেন অথবা সেলারের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল লাইক সাবস্ক্রাইব করলে আপনি ডিসকাউন্ট পাবেন।  

এটি মূলত করা হয় সেলস চ্যানেলগুলোর সাথে কাস্টমারদের এঙ্গেজ করে রেখে বিভিন্ন অফার ডিসকাউন্ট প্রমোশনাল অ্যাক্টিভিটিজ চালিয়ে তাকে বারবার কেনাকাটা করতে আগ্রহী করে তুলতে।

২৮। লয়ালটি প্রোগ্রাম

কাস্টমারদের দীর্ঘ সময় ধরে ব্র্যান্ডের প্রতি আগ্রহী করে রেখে বারবার কেনাকাটা  করাতে লয়ালটি প্রোগ্রামের  কোন বিকল্প নেই।  এক্ষেত্রে অফার ডিজাইন করা হয় এমনভাবে যেখানে কাস্টমারদের দীর্ঘমেয়াদি কেনাকাটা করার জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়া হয়। 

যেমন ফ্রী ডেলিভারি চার্জ। কাস্টমারদের কেনাকাটায় ডেলিভারি চার্জ লাগবে না, এটি একটি কাস্টমারকে বারবার কেনাকাটা করতে আগ্রহী করে তুলতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।  

২৯। কাস্টমার অ্যাপ্রিসিয়েশন

এ ধরনের অফারে সাধারণত বলা হয় নতুন কোন অফার আসার সাথে সাথে নির্দিষ্ট কিছু কাস্টমার সবার আগে সেটি গ্রহণ করতে পারবে, তারপরে অন্যরা সে অফারের সুবিধা পাবে। 

এখানে কাস্টমারকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় অফার কালীন সময়েও কাস্টমার বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে। যেমন ফ্লাশ সেল চলাকালীন সময়ে কেনাকাটা করলেও তার জন্য ডেলিভারি চার্জ ফ্রি। 

কাস্টমারদের কেনাকাটায় ঝুঁকি কমিয়ে যে সকল অফার দেয়া হয় 

(এই অফারগুলো কাস্টমার ভ্যালু জার্নির যে ধাপগুলোকে প্রভাবিত করে )

  • Engage – ঝুঁকি কমানো ও নিরাপত্তা প্রদান 
  • Convert –  প্রতিশ্রুতি প্রদান করতে
  • Ascend – বিশ্বাস এবং অনুগত তৈরি করতে

একটি কম্পিউটার মনিটর কেনার জন্য একসাথে ৪০,০০০ টাকা খরচ করা সবার জন্য সহজ হয়না। যখন কাস্টমারদের কিস্তি সুবিধা প্রদান করা হয়,  তখন সবার জন্য কেনা তুলনামূলকভাবে আরো সহজ হয়ে যায়। 

পাশাপাশি যদি মানিব্যাক গ্যারান্টি বা এক্সচেঞ্জ অফারের মত সুযোগ থাকে, তবে কাস্টমারদের কেনাকাটার  ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

৩০। কিস্তিতে পরিশোধ

অনেক ব্র্যান্ড তাদের কাস্টমারের জন্য কিস্তি সুবিধা অফার করে। এর কারণ হচ্ছে কেনাকাটার কাস্টমারদের পারচেস পেইন কমানো। খরচকে সহজ করে  একসাথে বেশি খরচের ঝুঁকিকে কমিয়ে ফেলা। 

৩১। মানিব্যাক গ্যারান্টি

এই অফারটিও কাস্টমারদের ঝুঁকির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। একটি প্রোডাক্ট কেনার পরে যদি আপনার সেটি কাজে না আসে বা সেটা থেকে কোন উপযোগিতা না পান তবে সেটি ফেরত দিয়ে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাবার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়। 

এটি কেনাকাটায় কাস্টমারের ঝুঁকি নেওয়ার ভয়কে প্রশমিত করে এবং কেনাকাটায় স্বস্তি প্রদান করে। 

৩২। ফ্রী এক্সচেঞ্জ

এই অফারটিও কাস্টমারদের কেনাকাটার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।  একটি প্রোডাক্ট কেনার পর যদি মনে হয়, সেটি নয় বরং অন্য একটি প্রোডাক্ট আপনার প্রয়োজন ছিল, তবে অনায়াসেই শর্তসাপেক্ষে প্রোডাক্ট পরিবর্তন করে নিতে পারেন। 

৩৩। দীর্ঘমেয়াদী গ্যারান্টি এবং ওয়ারেন্টি

টাকা খরচ করে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কিনলাম কিন্তু এর সুফল আমি কতদিন পাব? এ ধরনের চিন্তা থেকে অনেক সময় আমরা কেনাকাটা তে আগ্রহ বোধ করিনা। 

কিন্তু যখন একটি ব্র্যান্ড আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি গ্যারান্টি এবং ওয়ারেন্টি প্রদান করে, ঠিক সে সময় কাস্টমার সেটি কিনতে সাহসী হয়ে ওঠে। কারণ কাস্টমার সেই প্রোডাক্টের  বিপরীতে অর্থের নিরাপত্তা পায়। 

আপনার ই-মেইল লিস্ট সমৃদ্ধ করতে হলে যে ধরনের অফার গুলো দিবেন 

(এই অফারগুলো কাস্টমার ভ্যালু জার্নির যে ধাপগুলোকে প্রভাবিত করে )

  • Subscribe – কাস্টমার অফার পেতে চ্যানেলটি সাবসস্ক্রাইব করে
  • Convert – কাস্টমার কেনাকাটা করে এবং অফার পায়
  • Ascend – কাস্টমার আপনার ব্র্যান্ডকে ভালবাসে এবং বারবার কেনাকাটা করে

৩৪। ওয়েলকাম ইমেইলে সাইন আপ করলে ডিসকাউন্ট

কাস্টমার যখন আপনার প্রথম ওয়েলকাম ইমেইলটি পাই তখন কমিউনিটি তে যোগ দিলে তাঁর জন্য ডিসকাউন্ট থাকে। এ ধরনের ডিসকাউন্ট অফার আপনার ফ্যান বেজ বা কাস্টমার কমিউনিটিকে বাড়াতে সহায়তা করে। 

৩৫। কুইজ বা গেমের মাধ্যমে অফার

অনেক কাস্টমার ইমিডিয়েটলি আপনার স্টোর থেকে কেনাকাটা করবে না বা এখনো করেনি তাদের ফিউচারে কেনাকাটা করাতে আগ্রহী করতে  বিভিন্ন কুইজ গেম এর মাধ্যমে বিজয়ীদের ডিসকাউন্ট দিতে পারেন।  

এতে তারা যখনই কেনাকাটা করবে আপনাকে বেছে নেয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি থাকবে।

৩৬। প্রতিযোগিতা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফলোয়ার বা ইমেইল লিস্টে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বাড়াতে প্রতিযোগিতা অনন্য ভূমিকা পালন করে।  

যেখানে বিজয়ীদের পুরস্কার ঘোষণা করা হয় তবে অবশ্যই সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হলে ব্র্যান্ডটির সামাজিক মাধ্যম বা ইমেইল সাবস্ক্রাইব করতে হবে।  

এতে আপনার ব্র্যান্ড এক্সপোজার অনেকাংশে বেড়ে যায়।  

রেফারেল প্রোগ্রামকে উন্নত করতে যে ধরনের অফার দেয়া হয়

(এই অফারগুলো কাস্টমার ভ্যালু জার্নির যে ধাপগুলোকে প্রভাবিত করে )

  • Advocate – কাস্টমারদের প্রশংসা করে, যা অন্য কাস্টমারদের কেনাকাটার সাহসী করে
  • Promote – কাস্টমার তার নিজস্ব নেটওয়ার্কে আপনার বিজনেস প্রমোট করে 
  • Ascend – কাস্টমার নিয়মিত পরিচিতদের পরামর্শ পায় এবং কেনাকাটায় উৎসাহিত হয়
  • Aware – কাস্টমার একটি ব্র্যান্ড নিয়ে তার পরিচিতদের থেকে মতামত, অভিজ্ঞতার পোস্টগুলো দেখতে পায় ও সেই ব্র্যান্ড সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।  

 

৩৭। টেস্টিমোনিয়াল অফার

কাস্টমারদের বলা হয় সেই ব্র্যান্ড সম্পর্কে পজিটিভ মতামত প্রদান করতে তাহলে  সে অফার বা ডিসকাউন্ট পাবে। 

এটি করা হয় কারণ কাস্টমার টেস্টিমনিয়াল সবথেকে পাওয়ারফুল প্রমোশনাল অফার ও কাস্টমারের কাছে সহজে বিশ্বাসযোগ্য। 

৩৮। রেফারেল কোড 

রেফারেল কোড ব্যবহার করা হয় যখন একজন কাস্টমার সার্ভিসে সন্তুষ্টি পোষণ করে এবং সে চায় তার পরিচিত সকলে এই প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ব্যবহার করুক। 

তার রেফারেন্সে অন্য কেউ প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কিনলে  বিপরীতেও সে নিজেও লাভবান হয় । 

পরিশেষে,

কাস্টমার  ভ্যালু জার্নি সম্পর্কে বোঝা  অফার ও ডিসকাউন্ট দেয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ব্র্যান্ডের সাথে কাস্টমারের এঙ্গেজমেন্টের ধরন অনুযায়ী ডিজাইন করা অফার সবচেয়ে কার্যকরী ফলাফল নিয়ে আসে। 

আপনি কী অফার দেবার সময় কাস্টমার ভ্যালু জার্নি বিবেচনা করেন? কোন অফারগুলো থেকে আপনি সবচেয়ে ভালো সাড়া পেয়েছিলেন?  আপনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে কমেন্ট করুন। 

লাইক-ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় পোস্ট