ফেসবুক বুস্টিং – এর নিয়ম, সুবিধা ও খরচ

ফেসবুক বুস্টিং – এর নিয়ম, সুবিধা ও খরচ

ফেসবুকে বুস্ট পোস্ট (boost post) মানে কি?

ফেসবুকে Boost Post হলো এমন একটি ফিচার যা আপনাকে নির্দিষ্ট একটি পোস্টকে বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। এটি মূলত পেইড মার্কেটিং টুল, যেখানে আপনি কিছু টাকা খরচ করে আপনার পোস্টের রিচ (reach) বাড়াতে পারেন। এই ফিচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়স, লোকেশন, আগ্রহ বা অন্যান্য ডেমোগ্রাফিক অনুযায়ী টার্গেট করা যায়।

ফেসবুক বুস্টিং/ক্যাম্পেইনে এ কয়টি প্লেসমেন্ট পাওয়া যায়?

ফেসবুক বুস্টিং করার সময় বিভিন্ন প্লেসমেন্ট (যেখানে আপনার পোস্ট দেখানো হবে) নির্ধারণ করা যায়:

  • Facebook News Feed
  • Facebook Stories
  • Instagram Feed
  • Instagram Stories
  • Messenger
  • Audience Network

এই প্লেসমেন্টগুলো সঠিকভাবে বাছাই করলে বুস্টিং আরও কার্যকর হয়।

ফেসবুক পেজ বুস্ট বা এড ক্যাম্পেইন চালু করতে কত টাকা লাগে?

ফেসবুকে পোস্ট বা পেজ বুস্ট করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মূল্য নেই। এটি সম্পূর্ণ আপনার বাজেটের উপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত ফেসবুক বুস্টিংয়ের ক্ষেত্রে:

  • সর্বনিম্ন বাজেট: প্রতিদিন $1 থেকে শুরু করা যায়।
  • বাংলাদেশের ক্ষেত্রে: সাধারণত ১০০-২০০ টাকা দিয়েও বুস্ট শুরু করা সম্ভব।
  • বাজেট নির্ধারণ: আপনি চাইলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দৈনিক বাজেট সেট করতে পারেন অথবা নির্দিষ্ট সময় ধরে নির্দিষ্ট বাজেটে বুস্ট চালাতে পারেন।

ফেসবুক পেজ বুস্ট বা এড ক্যাম্পেইন চালু করতে কত টাকা লাগে?

ফেসবুকে পোস্ট বা পেজ বুস্ট করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মূল্য নেই। এটি সম্পূর্ণ আপনার বাজেটের উপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত ফেসবুক বুস্টিংয়ের ক্ষেত্রে:

  • সর্বনিম্ন বাজেট: প্রতিদিন $1 থেকে শুরু করা যায়।
  • বাংলাদেশের ক্ষেত্রে: সাধারণত ১০০-২০০ টাকা দিয়েও বুস্ট শুরু করা সম্ভব।
  • বাজেট নির্ধারণ: আপনি চাইলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দৈনিক বাজেট সেট করতে পারেন অথবা নির্দিষ্ট সময় ধরে নির্দিষ্ট বাজেটে বুস্ট চালাতে পারেন।

ফেসবুকে বুস্টিং বা এড ক্যাম্পেইনের খরচ অপ্টিমাইজেশনের নিয়ম

যারা বিজনেসের জন্য ফেসবুক অ্যাড চালাতে চান, তাদের একটি কমন প্রশ্ন হলো, ফেসবুকে বিজনেস অ্যাড দিতে কেমন খরচ হয়?

বিষয়টি বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে, কিভাবে ফেসবুক অ্যাডের জন্য চার্জ করে?

ফেসবুক বিজনেস অ্যাড বা বিজ্ঞাপনের অনেকগুলো ফ্যাক্টর রয়েছে যা একটি ফেসবুক অ্যাডের খরচকে প্রভাবিত করে। এর মধ্যে আমরা পাঁচটি মেজর ফ্যাক্টর সম্পর্কে আলোচনা করবো যেগুলোর উপর ভিত্তি করে অ্যাডের খরচ কম বেশি হয়।
বিষয় পাঁচটি হলো,

  1. Ads বিড – Bidding
    প্রতিবার ফেসবুকে অ্যাড দেখানোর জন্য আপনি কত টাকা খরচ করতে ইচ্ছুক।
  2. আপনার টার্গেট শ্রোতা- Target Audience
    যাদের অ্যাডটি দেখাতে চান
  3. অ্যাডের গুণগত মান এবং প্রাসঙ্গিকতা- Ad Quality and Relevance
    আপনার দেয়া অ্যাডটি টার্গেট অডিয়েন্স পছন্দ করছে কি না এবং অ্যাডটির সাথে কিভাবে তাঁরা সম্পৃক্ত হচ্ছে।
  4. আনুমানিক অ্যাকশন রেট (CTR)
    Impression/link click অর্থাৎ ফেসবুকে অ্যাডটি দেখানোর মোট পরিমানের বিপরীতে কতজন অ্যাডটি দেখার জন্য ক্লিক করেছে তাঁর অনুপাত।
  5. ফেসবুকের কোন অংশে ও কতগুলো স্থানে অ্যাডটি দেখানো হবে – Ads Placement
    অ্যাডটি ফেসবুকের কোন কোন অংশে ও স্থানে দেখানো হচ্ছে অর্থাৎ অ্যাড প্লেসমেন্টের স্থানের ভিন্নতা।

 

প্রথম কথা,
বিজনেস অ্যাড দেবার জন্য ফেসবুকের নির্ধারিত কোন চার্জ নেই। একটি অ্যাডের জন্য আপনার ঠিক কত টাকা খরচ হতে পারে তা উপরে উল্লিখিত ৫ টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।

উল্লেখকৃত ৫ টি বিষয়ের সঠিক অপটিমাইজেশন আপনার ফেসবুক অ্যাডের খরচ নিয়ন্ত্রণে ভুমিকা রাখে। অপটিমাইজেশন সঠিক না হলে অ্যাড খরচ বেড়ে যেতে পারে।

কিছু সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এজেন্সি তাদের দীর্ঘদিনের অ্যাড চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে ফেসবুক অ্যাডের একটি আনুমানিক গড় খরচ হিসেব করেছেন। সেখানে প্রোডাক্ট, ইন্ডাস্ট্রি, দেশ, কাস্টমার গ্রুপ ভেদে অ্যাডের খরচের ভিন্নতা দেখা গেছে।

নিচের চিত্রটি দেখুনঃ

Source :marketerknows 

মূল ৫ টি বিষয় যেভাবে ফেসবুক অ্যাডের খরচ নিয়ন্ত্রন করে

1. Ads বিড -Bidding

মনে করুন, আপনি একটি সংবাদপত্রে অ্যাড দিবেন। সংবাদপত্রে প্রথম পাতা বা ভিতরের পাতাগুলির জন্য একটি নির্ধারিত মূল্য রয়েছে। যদি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সবাই প্রথম পাতায় অ্যাড দিতে চায় তবে তাদের মধ্যে মূল্য নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা হবে।কারণ সবার অ্যাড একই সময়ে প্রথম পাতায় দেখানো সম্ভব না। প্রথম পাতায় স্থান পেতে যে সবার থেকে বেশি অর্থ পরিশোধ করবে তার অ্যাড প্রথম পাতায় স্থান পাবে। এই প্রক্রিয়াটিকে বিডিং বলে।

ফেসবুক ও এই bidding প্রক্রিয়াতে অ্যাড দেখায়। কিন্তু ফেসবুকে শুধুমাত্র অ্যাড বিডিং-এর মূল্য বিচারে একটি অ্যাড বিজয়ী হয় না। মানে বেশি টাকা দিলেই আপনার অ্যাড ফেসবুক দেখাবে – এমনটা নাও হতে পারে।

যার অ্যাড গুণগত মানসম্পন্ন, প্রাসঙ্গিক এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে সর্বাধিক পছন্দের হয় ( যেটি ব্যবহারকারীদের আনুমানিক ক্রিয়াকলাপ দ্বারা নির্ধারিত) সেই অ্যাডটি বিজয়ী হয়। বিজয়ী অ্যাডের জন্য ফেসবুক অন্যদের চেয়ে কম মূল্য চার্জ করে।

“গুণমান, প্রাসঙ্গিকতা এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আনুমানিক ক্রিয়াকলাপ দ্বারা বিডে বিজয়ী অ্যাড নির্ধারণ হয়।” 

2. অ্যাডের গুণগত মান এবং প্রাসঙ্গিকতা

অ্যাড কনটেন্ট বা বিষয়বস্তুর গুনগত মান ও প্রাসঙ্গিকতা যত ভালো হবে সেই অ্যাডের খরচ তত কম হবে।

বিজনেস অ্যাড এর মান এবং প্রাসঙ্গিকতা বলতে ফেসবুক বোঝে টার্গেট অডিয়েন্স কীভাবে সেটি গ্রহন করছে তাঁর উপর। দর্শকের কাছে এটি কতটা প্রাসঙ্গিক তার ভিত্তিতে ফেসবুক আপনার অ্যাডকে ১ থেকে ১০ এর মধ্যে একটি স্কোর দেয়। প্রাসঙ্গিকতার এই স্কোর যত বেশি, অ্যাড খরচ তত কম।

প্রাসঙ্গিকতা হলো অ্যাডটিতে দর্শকদের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক ক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে লাইক কমেন্ট শেয়ার করার গড় অনুপাত। যদি বেশি পরিমাণ দর্শক আপনার অ্যাডের বিষয়বস্তু লাইক করে, শেয়ার করে বা পজিটিভ কমেন্ট করে, তবে ফেসবুক সেই অ্যাড ইতিবাচক বা প্রাসঙ্গিক মনে করে। আর যদি কম সংখ্যক দর্শক লাইক করে, শেয়ার বেশি না হয় বা কেউ নেগেটিভ কমেন্ট করে বা আপনার পোস্ট হাইড করে বা আপনি কারো কমেন্ট ডিলিট করেন তবে ফেসবুক সেটি নেতিবাচক মনে করে। যার অর্থ দাঁড়ায় অ্যাডটি অডিয়েন্সদের জন্য প্রাসঙ্গিক নয়।

প্রাসঙ্গিকতা এবং গুণগত মান পোস্ট ক্লিকের হার দ্বারা গণনা করা হয়। অর্থাৎ এটি যতবার ফেসবুকে দেখানো হয়েছে তাঁর বিপরীতে কতবার ক্লিক করা হয়েছে তার অনুপাত দ্বারা অ্যাডের প্রাসঙ্গিকতা নির্ণয় করা হয়। যাকে CTR বলে।

“তাহলে দর্শক অ্যাডের বিষয়বস্তু যত বেশি ইতিবাচক ভাবে নেবে, অ্যাডটি তত প্রাসঙ্গিক বলে ফেসবুকের কাছে বিবেচিত হবে এবং সেই অ্যাডের জন্য খরচ তত কম হবে।” 

3. আনুমানিক অ্যাকশন রেট (CTR)

ফেসবুক অ্যাডের খরচকে প্রভাবিত করা তৃতীয় ফ্যাক্টরটি হ’ল অ্যাডের অডিয়েন্সদের আনুমানিক অ্যাকশনগুলির গড়।

ফেসবুক অনুমান করে বের করে, কোনো ব্যক্তি আপনার অ্যাডের সাথে এঙ্গেজ হলে তার জন্য এই অ্যাডের বিষয়বস্তুটি কতটা কার্যকর হতে পারে।
ফেসবুক এই অনুমান করে সেই ব্যক্তির অতীত ফেসবুক কার্যকলাপ থেকে। এরপরে আপনার টার্গেট করা অডিয়েন্সদের মধ্যে কোন কোন মানুষের কাছে আপনার অ্যাডটি প্রদর্শন হবে ফেসবুক সেই সিদ্ধান্ত নেয়।

মনে করুন, আপনি চান মানুষ আপনার প্রোডাক্ট ই-কমার্স ওয়েবসাইটে এসে কেনাকাটা করুক। এখন আপনার অ্যাড দেখে মানুষ যদি আপনার লিংক করে দেয়া ই-কমার্স ওয়েবসাইটে আসে, তবে ফেসবুক দর্শকদের (অডিয়েন্স) অ্যাড দেখা ও লিংক ক্লিক করে ওয়েবসাইটে আসার সংখ্যার অনুপাতের একটি গড় বের করবে।

এটি যত বেশি হবে ফেসবুক তত বেশি সমগোত্রীয় মানুষের কাছে আপনার অ্যাডটি পৌঁছে দিবে। আপনার অ্যাডের খরচ কমবে।

যদি প্রোডাক্ট বিক্রয়ের জন্য আপনি কনভার্সন অ্যাড চালান আর বেশি বেশি ফেসবুকে অ্যাড দেন কিন্তু কোন ল্যান্ডিং পেজ বা ই কমার্স ওয়েবসাইট লিংক না থাকে, তবে অডিয়েন্স পোস্টে ক্লিক করে ল্যান্ডিং পেজ পায় না । ফেসবুক মনে করে আপনার অ্যাডটি দর্শক পছন্দ করছে না।

ফলে আপনার অ্যাডটির জন্য বেশি বাজেট দিলেও ভালো ফলাফল আসবে না। অ্যাডটি কম সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায়, অ্যাড খরচ বেড়ে যায়।

“ফেসবুকের যে অবজেক্টিভ নিয়ে অ্যাড দিচ্ছেন তাঁর সকল শর্ত পুরন ও সে মাফিক অ্যাড কনটেন্ট অপ্টিমাইজ করা না হলে আপনার ফেসবুক অ্যাড খরচ বাড়বে।”

আর শর্ত পুরন করে দর্শকদের পছন্দমতো অ্যাড কনটেন্ট তৈরি ও অপ্টিমাইজ করা হলে অ্যাডের খরচ কম হবে।

4. আপনার টার্গেট দর্শক (Targeted Audience)

চতুর্থ প্রভাবক হলো, টার্গেট অডিয়েন্স। আপনি কোন শ্রেণী/পেশার মানুষ আর কত সংখ্যক মানুষকে অ্যাডটি দেখাবেন সেটির উপর খরচের পরিমাণ নির্ভর করে ।

টার্গেট অডিয়েন্স যত বড় হবে মোট খরচ বা মোট বাজেট তত বেড়ে যাবে। কিন্তু এটি অ্যাড দেখানোর জন্য বিডের খরচকে প্রভাবিত করবে না ।
যাদের টার্গেট করেছেন যদি অন্য সকল অ্যাডদাতারাও একই শ্রেণীর অডিয়েন্স টার্গেট করে অ্যাড দেয় তবে টার্গেট অডিয়েন্সদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সবার মধ্যে প্রচুর প্রতিযোগিতা হয়। যা অ্যাডের বিডিং খরচ বাড়িয়ে তোলে । বিডের জন্য খরচ বেড়ে যাওয়া মানে অ্যাডের খরচ বেড়ে যাওয়া।

ধরুন, আপনি X টার্গেট গ্রুপকে লক্ষ্য করে অ্যাড দিয়েছেন। আপনি হলেন A অ্যাড দাতা, অন্যদিকে B,C,D অ্যাড দাতারাও আপনার টার্গেট করা একই গ্রুপ X কে লক্ষ্য করে অ্যাড দিয়েছেন।

এখন অ্যাডের বিষয়বস্তুর মানের উপর নির্ভর করে ফেসবুক অ্যাডগুলির স্কোর করবে। সেই স্কোর অনুযায়ী বিড হবে (অটোমেটিক) এবং অ্যাডের খরচ নির্ধারিত হবে ।

ধরুন স্কোরের ধরণ হলো, A এর জন্য=2, B এর জন্য=3, C এর জন্য= 4, D এর জন্য=6 । যেহেতু, স্কোর বেশি হলে ফেসবুক এটিকে দর্শকদের জন্য প্রাসঙ্গিক মনে করে, তাই D এর অ্যাড খরচ হবে সবথেকে কম , C এর খরচ হবে D থেকে বেশি , B এর খরচ হবে C থেকে বেশি আর A এর খরচ হবে সবার থেকে বেশি।

তাহলে বিজয়ী হবে D কিন্তু আরো চারজন অ্যাডদাতা বিড করায় (competition) তাঁর খরচ বাড়বে। যদি অ্যাডদাতা ২ জন হতো তবে D এর সামগ্রিক খরচ আগের চেয়ে কম হতো।

“যে অডিয়েন্স গ্রুপকে লক্ষ্য করে অ্যাডদাতারা বেশি বেশি অ্যাড দেয়, যে অডিয়েন্স গ্রুপের জন্য competition বেশি, সেই অডিয়েন্স গ্রুপের জন্য ফেসবুক অ্যাডের খরচ বেশি হবে।”

5. ফেসবুকের কোন অংশে ও কতগুলো স্থানে অ্যাডটি দেখানো হবে – Ads Placement

পাঁচ নম্বর ফ্যাক্টরটি হলো, বিজনেস অ্যাড ফেসবুকের কোন কোন স্থানে প্রদর্শিত হচ্ছে ।

ফেসবুকে একটি অ্যাড – নিউজ ফিড, ডান-হাতের কলাম, মোবাইল অ্যাপ , ইনস্টাগ্রাম এবং অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক, মেসেঞ্জার – এমন অনেকগুলি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দেখানো হয়। এগুলোকে প্লেসমেন্ট অপসন বলা হয়।

প্রতিটি প্লেসমেন্ট অপশনে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাড দেখানোর জন্য ক্লিক রেট ভিন্ন। তবে কোন একটি অ্যাড প্লেস বাদ দিলেই আপনার খরচ কমবে এমনটি নয়। অ্যাডটি সম্পূর্ণ হবার পর সকল প্লেসের ক্লিক রেটের গড় থেকে অ্যাডের খরচ নির্ণয় হয়। যেহেতু কিছু প্লেসের অ্যাড খরচ বেশি আর কিছু প্লেসের জন্য কম তাই এটি কিছুটা হলেও খরচের উপর প্রভাব ফেলে।

“তাহলে, অ্যাডের প্লেসমেন্টও খরচকে প্রভাবিত করতে পারে।” 

পরিশেষে,

ফেসবুক অ্যাডের মূল লক্ষ্য হলো আপনার ব্যবসা প্রসার করা এবং বিক্রি বৃদ্ধি করা। তাই যত কম খরচে “যত বেশি উপযুক্ত মানুষের” (eligible target audience) কাছে আপনার অ্যাড পৌঁছাতে পারবেন তত আপনার লাভ।

তাই, অ্যাডের খরচ নিয়ন্ত্রণে এই পাঁচটি ফ্যাক্টরের সঠিক অপটিমাইজেশন প্রয়োজন।

 

ফেসবুক পেজ বুস্ট করার নিয়ম

১. ফেসবুক পেজে প্রবেশ করুন।

  1. যে পোস্টটি বুস্ট করতে চান সেটি নির্বাচন করুন।
  2. Boost Post বাটনে ক্লিক করুন।
  3. অডিয়েন্স সেট করুন: আপনি টার্গেট অডিয়েন্স নির্ধারণ করতে পারেন, যেমন:

 

  • লোকেশন (বাংলাদেশ, নির্দিষ্ট জেলা বা শহর)
  • বয়স ও লিঙ্গ
  • আগ্রহ বা পছন্দ
  1. বাজেট ও সময়সীমা নির্ধারণ করুন:
  • প্রতিদিন কত টাকা খরচ করবেন?
  • কতদিন বুস্ট চালাবেন?
  1. পেমেন্ট পদ্ধতি নির্বাচন করুন।
  2. বুস্ট নিশ্চিত করুন এবং ফেসবুকের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন।

 

ফেসবুক পোস্ট বুস্ট করার নিয়ম

ফেসবুক পোস্ট বুস্ট করার নিয়ম প্রায় একই রকম:

  • পোস্ট নির্বাচন করুন।
  • Boost Post অপশনে ক্লিক করুন।
  • অডিয়েন্স নির্ধারণ করুন।
  • বাজেট ও সময় নির্ধারণ করুন।
  • পেমেন্ট করুন ও বুস্ট চালু করুন।

 

ফেসবুক বুস্ট করলে কি লাভ হয়?

ফেসবুকে বুস্ট করলে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো পাওয়া যায়:

  • ব্র্যান্ডের ভিজিবিলিটি বাড়ে।
  • অনেক বেশি মানুষ আপনার পোস্ট দেখবে।
  • টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে পোস্ট পৌঁছানো সম্ভব হয়।
  • সেলস ও লিড জেনারেশন বাড়ানো সম্ভব।
  • ওয়েবসাইট বা অন্য সোর্সে ট্রাফিক আনা যায়।


বুস্টিং নাকি এড ক্যাম্পেইন- কিভাবে বুস্টিং করলে বেশি সেলস ও কাস্টমার পাওয়া যাবে?

ফেসবুকে মার্কেটিং করতে চাইলে দুটি প্রধান অপশন আছে:

১. Boost Post: এটি সহজতর এবং দ্রুততর, তবে লিমিটেড কাস্টমাইজেশন অপশন রয়েছে।

২. Facebook Ad Campaign: এটি অ্যাড ম্যানেজার থেকে করা হয় এবং আরও উন্নত টার্গেটিং ও কন্ট্রোল পাওয়া যায়।

কখন Boost Post করবেন?

১. যদি আপনি অল্প সময়ে বেশি মানুষকে রিচ করতে চান।

২. যদি আপনি শুধু ব্র্যান্ডিং ও এঙ্গেজমেন্ট চান।

কখন Ad Campaign করবেন?

১. যদি আপনার নির্দিষ্ট কাস্টমার টার্গেট করা দরকার।

২. যদি আপনি লিড, মেসেজ বা ওয়েবসাইট কনভার্শন চান।

 

বেস্ট রেজাল্ট পেতে Ad Campaign বেশি কার্যকর কারণ এটি ডিটেইল টার্গেটিং, মাল্টিপল প্লেসমেন্ট ও অ্যানালিটিক্স সুবিধা দেয়।

বারবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি

ভিসা কার্ড দিয়ে ফেসবুক বুস্ট করা যায়?

হ্যাঁ, আপনি ভিসা কার্ড দিয়ে ফেসবুক বুস্ট করতে পারেন। আন্তর্জাতিক ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড যেমন Visa, MasterCard, American Express ব্যবহার করা যায়।

বুস্ট করার জন্য কি কার্ড ব্যবহার করা হয়?

ফেসবুক বুস্টিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করা যায়:

১. ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড (Visa, MasterCard, American Express)
২. PayPal (যদি অ্যাভেইলেবল থাকে)
৩. ফেসবুক অ্যাড ক্রেডিট (প্রোমো কোডের মাধ্যমে পাওয়া যায়)

সর্বনিম্ন কত ডলার বুস্ট করা যায়?

ফেসবুকে পোস্ট বুস্ট করার জন্য সর্বনিম্ন $1 (প্রতিদিন) বাজেট সেট করা যায়। তবে বাংলাদেশে ১০০-২০০ টাকা দিয়েও বুস্ট করা সম্ভব।

কীভাবে ইকমার্স ওয়েবসাইট দিয়ে প্রথম সেলটি নিয়ে আসবেন?

কীভাবে ইকমার্স ওয়েবসাইট দিয়ে প্রথম সেলটি নিয়ে আসবেন?
যে কোনো নতুন ইকমার্স সাইটের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ কী জানেন?

ইকমার্স সাইট দিয়ে প্রথম সেলটি নিয়ে আসা!

যারা অনলাইনে আগে থেকেই বিক্রি করেন বা বিক্রি শুরু করতে চান – একটি ইকমার্স সাইট বানানোর পর সবাই আশা করেন, খুব ভালো সেল হবে । বাস্তবে দেখা যায়, অনেকের কোনো সেলই হচ্ছে না, অথবা অনেক সময় লাগছে প্রথম সেলটি আসতে।

কারণ কী? 

অন্যতম কারণ হলো, ইকমার্স সাইটটি উপযুক্ত পরিকল্পনা না করে তৈরী করা এবং ইকমার্স এর উপযুক্ত মার্কেটিং পলিসি নিয়ে চিন্তা না করা । অনলাইন বিজনেসে সেল আনার জন্য দুইটা জিনিস অত্যাবশ্যক – ভালো একটি সাইট এবং ভালো মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ।   

অনলাইন বিজনেসে ইকমার্স সাইট সহ প্রয়োজনীয় টুলস ও টেকনোলজি ডেভেলপ করার আগেই আপনাকে চিন্তা করতে হবে – অনলাইন বিজনেসে আপনার লক্ষ্য কী? এরপর জানতে হবে আপনার অনলাইন বিজনেসের জন্য সঠিক টুলস ও টেকনোলজি কোনগুলি । সবশেষে, এগুলির সঠিক ব্যবহার।

ইকমার্স সাইট থাকলেই কেনাবেচা ভালো হবে এমন চিন্তা করা বাস্তব সম্মত নয়। তবে অবশ্যই সব ইকমার্স  উদ্যোক্তাই চান, দ্রুত তার প্রোডাক্টের সেল শুরু হোক । 

দীর্ঘমেয়াদি রেগুলার সেলের জন্য অনলাইন বিজনেস স্ট্রাটেজি একটি ই-কমার্স বিজনেসকে সফলতা এনে দেয়।  অনলাইনে অপরিকল্পিত মার্কেটিং কৌশল ও সঠিক গাইড লাইনের অভাব আপনার বিজনেসটিকে কখনোই লাভবান করবে না । 

তাহলে কিভাবে একজন অনলাইন উদ্যোক্তা নতুন তৈরি করা ই-কমার্স সাইট দিয়ে  সফলভাবে অনলাইন বিজনেস চালিয়ে যাবেন?

এই ব্লগটিতে কিছু পরীক্ষিত অনলাইন মার্কেটিং কৌশল তুলে ধরা হয়েছে – যেকোনো ই-কমার্স বিজনেসের জন্য এই কৌশলগুলি অব্যর্থ।

ব্লগ শুরু করুন এখুনি

ই-কমার্স সাইট বানানোর পরে সেখানে কি এমনিতেই মানুষ আসবে আপনার পণ্য দেখার জন্য? না, এমনটি বাস্তবে হয় না।

নিয়মিত ট্রাফিক নিয়ে আসতে হলে সঠিক পরিকল্পনা মাফিক এগোতে হবে। এই পরিকল্পনায় ব্লগ একটি অন্যতম উপাদান। 

ইকমার্স সাইট ‘লাইভ’ হবার দিন থেকেই একটি সমৃদ্ধ তথ্যবহুল ব্লগ থাকলে আপনি খুব সহজে কাস্টমারদের আকৃষ্ট করতে পারবেন এবং দ্রত সেল নিয়ে আসতে সক্ষম হবেন। 

অনলাইনে কাস্টমাররা যে সেলার থেকে তার পণ্য বা ব্যবসা সম্পর্কে যত বেশি তথ্য পায়, তাঁর অনলাইন শপ থেকেই সাধারণত বেশি কেনাকাটা করেন।   

ব্লগের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট বা ব্যবসার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশদ ভাবে আলোচনা করতে পারেন। কাস্টমাররা আপনার ব্লগ থেকে অনেক প্রয়োজনীয়/আকর্ষণীয় তথ্য পাবে এবং আপনার থেকে কিনতে উৎসাহিত হবে।

ইকমার্স সাইটে ট্রাফিক আসা মানেই সেল হবার সম্ভবনা তৈরি হওয়া। যত বেশি ট্রাফিক আসবে, সেল হবার সম্ভবনা তত বেড়ে যাবে। এক জরিপে দেখা গেছে, যেসব বিজনেস সাইটের ব্লগ থাকে, তারা – যাদের ব্লগ থাকে না তাদের চাইতে – ৫৫% বেশি ট্রাফিক পায়।

একবার ই-কমার্স সাইটের ব্লগে কাস্টমারকে নিয়ে আসতে পারলে বিভিন্ন উপায়ে তাকে প্রোডাক্ট পেজে নিয়ে যাওয়া যায়। 

একটি চমৎকার ব্লগের উদ্দশ্যে হলো কাস্টমারদের আপনার প্রোডাক্ট, ব্যবসা বা ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে জানানো ও  এবং আপনার কাজের মান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তাদের সামনে তুলে ধরা।   

একটি সমৃদ্ধ ব্লগ কাস্টমারদের কেনাকাটার ইচ্ছা না থাকলেও আপনার ই-কমার্স সাইটে আসার পথ তৈরি করে দেয়। তাই প্রতিটি ই-কমার্স সাইটে ব্লগ অপরিহার্য। 

ব্লগ আপনার ই-কমার্স সাইটের অরগানিক সার্চ রাঙ্কিং বাড়ায়, ফলে গুগল সার্চে আপনার সাইট থাকে সবার উপরে। উপরে থাকা মানে ট্রাফিক বেশি আসা, ট্রাফিক বেশি মানে সেল বেশি। সহজ হিসাব। তবে চ্যালেঞ্জ হলো বেশি পরিমান ট্রাফিক রেগুলার ধরে রাখা।  

ব্লগের একটি চমৎকার ব্যবহার হচ্ছে এটিকে প্রোডাক্ট প্রমোশন চ্যানেল হিসেবে ব্যবহার করা। আপনি যে প্রোডাক্টই সেল করেন না কেন সেটি নিয়ে ব্লগ লিখুন এবং শর্ট লিংক বা হাইপার লিংক ব্যবহার করে আপনার প্রোডাক্টের পেজে কাস্টমারদের ল্যান্ড করান। চাইলে প্রোডাক্ট থেকেও ব্লগে নিয়ে যেতে পারেন। 

কাস্টমার যখন একটি প্রোডাক্ট দেখে সেটি রিলেটেড ব্লগ পড়তে উৎসাহিত হয় তখন বুঝবেন তিনি প্রোডাক্ট কেনার সিদ্ধান্ত নিতে ৫০% এগিয়ে গেছেন।  

আপনি এই লিখাটি পড়া চালিয়ে যাচ্ছেন কারন আপনার ইকমার্স সাইট নিয়ে আগ্রহ আছে। আপনার প্রোডাক্টের কাস্টমারদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটে।  

আপনি কাস্টমারের কাছে আপনার প্রোডাক্ট এর প্রয়োজনীয়তা, গুরুত্ব বা সৌন্দর্য যথাযথ ভাবে তুলে ধরুন । কাস্টমার নিশ্চয় উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করবেন।   

ই-মেইল মার্কেটিং-এর জন্য কাস্টমার লিস্ট তৈরি করুন

কাস্টমাররা যদি না জানে আপনার বিজনেসে কি হচ্ছে তাহলে কিভাবে তাঁরা আপনার সাথে যুক্ত হবে?

নতুন একটি ই-কমার্স সাইট দ্বারা সেল নিয়ে আসতে হলে প্রথমে এটি সবার কাছে পরিচিত করতে হবে। আপনার পরিচিত কাস্টমারদের দিয়ে আপনি এটি শুরু করতে পারেন । 

ই-মেইল এড্রেস সহ কাস্টমার একটি লিস্ট বানিয়ে ফেলুন।প্রথম দিকে ইমেল লিস্ট অল্প হলেও হতাশ হবার কিছু নেই, সময় নিয়ে ধৈর্য সহকারে এই লিস্ট বাড়াতে মনযোগী হোন।

ই-কমার্স সাইটের জন্য কিভাবে ই-মেইল লিস্ট বাড়াবেন? 

  • ই-কমার্স সাইটে রেজিস্ট্রেশান করলে সাথে সাথে অফার, ডিস্কাউন্ট বা কুপন প্রদান করুন।
  • আপনার ইমেল নিউজলেটারটি অন্যদের সাথে শেয়ার করতে কাস্টমারদের উৎসাহিত করুন।
  • সোশ্যাল মিডিইয়াতে আপনার বিজনেস পেজের ফলোয়ারদের ইমেইল সাবস্ক্রাইব করতে বলুন।
  • ইমেইল সাবস্ক্রাইব করলে ফ্রী গিফট অফার করুন। 
  • আপনার প্রোডাক্ট, ব্যবসা বা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অজানা তথ্য দিন।   

সবকিছুর মুলে আপনার লক্ষ্য থাকবে কাস্টমারদের ফোন নম্বর ও ইমেইল সংগ্রহ করা। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন,  সেল বাড়ানোর দিকে মনযোগী হওয়ার পরিবর্তে কেন ই-মেইল লিস্ট বাড়াবো?

আমরা যা কিছু নিয়ে আলোচনা করছি তাঁর আউটপুট হলো সেলস।এখানে কৌশল হল, আপনি যদি ইমেল লিস্ট বাড়ানোর চেষ্টা করেন তাহলে সরাসরি কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। এতে অল্প মার্কেটিং খরচে অনেক বেশি অনলাইন সেল নিয়ে আসা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। 

কিভাবে?

একটি জরিপে উঠে এসেছে,  ইমেল মার্কেটিং ই-কমার্স বিজনেসে ৮১% নতুন কাস্টমার নিয়ে আসে আর তাঁদের মধ্যে ৮০% একের অধিক বার কেনাকাটা করে। 

কেউ যদি আপনার ই-মেইল গুলি পেতে মেইল বক্সে আপনার ই-মেইল সাবস্ক্রাইব করে রাখে তাহলে নিশ্চিতভাবে আপনার ব্র্যান্ড ও প্রোডাক্টের প্রতি তাঁর আগ্রহ আছে ।

তাঁরা কোন এক সময় আপনার প্রোডাক্ট কিনবেই। আপনি কত দ্রুত তাকে প্রোডাক্ট কিনতে উৎসাহিত করতে পারছেন এটি আপনার মার্কেটিং দক্ষতা। দক্ষ মার্কেটিং কাস্টমারদের কেনাকাটার রেট ও স্পিড বাড়িয়ে দেয়।

সোশ্যাল মিডিয়া

 

যদি ইতিপূর্বে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার না করে থাকেন তবে এখুনি একটি বিজনেস পেজ শুরু করুন। 

বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়াগুলির মধ্যে ফেসবুক অত্যন্ত জনপ্রিয়।  বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষ এই প্লাটফরম ব্যবহার করছে।

ফেসবুক বুস্টিং সুবিধা কাজে লাগিয়ে আপনার ই কমার্স সাইটি সবার কাছে পরিচিত করান। অনেকের ধারণা,  ফেসবুক বুস্টিং মানে ‘টার্গেট’ সেট করে কার্ডে ডলার পেমেন্ট করলেই হয়ে গেল। ফলে অনেকে হাজার হাজার টাকা খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিয়ে আসতে পারেন না। 

যদি চান সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সঠিক কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে তাহলে আপনার দরকার,

  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-এর সঠিক ও কার্যকারী পদ্ধতি সম্পর্কে জানা।
  • চমৎকার কনটেন্ট যা কাস্টমারদের প্রোডাক্ট কিনতে উৎসাহিত করে।
  • সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে কাস্টমারদের ধরে রাখার কৌশল। 
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-এ কাস্টমার ডেটার ব্যবহার। 

ফেসবুক বর্তমান সময়ে বিজনেস গ্রোথে দারুণ প্রভাব বিস্তার করে আছে। পরিকল্পিত উপায়ে এই মিডিয়া ব্যবহার করে খুবই অল্প খরচ করে অনেক বেশি প্রফিট করা যায় । সেজন্য জানতে হবে সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি। 

আপনার বিজনেস গ্রোথে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিন। 

সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধুদের দ্বারা অন্যদের প্রভাবিত করুন

 

এই কনসেপ্ট অল্প পুঁজির ই-কমার্স বিজনেসের জন্য খুবই কার্যকারী। বর্তমান সময়ে অনেক নামীদামী ব্র্যান্ড সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেলিব্রেটিদের দ্বারা তাঁর ফ্যান ফলোয়ারদের কাছে প্রোডাক্টের প্রমোশন করে।

এতে সেই সেলিব্রেটিকে মোটা অংকের পেমেন্ট করা লাগে। কিন্তু আপনি চাইলে খুব সীমিত খরচে বা বিনামূল্যে এই কৌশল ব্যবহার করে আপনার ব্র্যান্ডটিকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

কিভাবে করবেন?

সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার পরিচিত এমন কিছু কানেকশান খুঁজে বের করুন যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে খুব একটিভ এবং যাদের ফ্রেন্ডলিস্টে কয়েক হাজার মানুষ আছে। এবার আপনার একটি অ্যাড কনটেন্ট তাঁদের সোশ্যাল একাউন্ট থেকে পাবলিশ করতে বলুন।

বিনিময়ে আপনি তাদের ফ্রি স্যাম্পল প্রোডাক্ট ব্যবহার করার জন্য দিতে পারেন বা তাদের সাথে কোনো পেমেন্ট এর চুক্তিতে আসতে পারেন। 

নিয়মিত বিরতি দিয়ে তাঁরা বার বার নতুন কনটেন্ট পাবলিশ ও শেয়ার করতে থাকবে। ৫টি ভিন্ন সোশ্যাল একাউন্ট হতে আপনার পোস্ট পাবলিশ হলে যদি তাঁদের প্রত্যেকের গড়ে তিন হাজার বন্ধু থাকে তাহলে ১৫ হাজার মানুষের কাছে আপনার পোস্ট খুব সহজে পৌঁছে যাবে। 

এটি একটি উদাহরণ। আপনার বিজনেসের জন্য নিজের মত করে এরকম পরিকল্পনা করুন।  প্রশ্ন আসে, গ্রুপে শেয়ার করলেই হয়, তাহলে পার্সোনাল একাউন্ট থেকে কেন?

মানুষ অপরিচিত কারো গ্রুপ পোস্ট এর চাইতে ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা কারো পোস্ট বেশি বিশ্বাস করে এবং দেখতে আগ্রহী হয়। তাই এই কৌশল দারুণ কার্যকরী।

অনলাইন অর্ডারে ডিস্কাউন্ট অফার করুন

আপনার ই-কমার্স সাইটটি নতুন। কাস্টমার রিভিউ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ছাড়া কেন কাস্টমার আপনার সাইট থেকে কিনবে? 

আপনার রেগুলার কাস্টমারদের বলুন অনলাইন থেকে কিনতে, যদিও তাঁরা আপনার শোরুম বা সরাসরি স্টোর হতে কেনে। তাঁদের অনলাইন অর্ডারে ডিস্কাউন্ট দিন।

অনেকে বলেন, আমি অনেক কমে প্রোডাক্ট সেল করি। ডিস্কাউন্ট দিলে প্রফিট কিছুই থাকে না। আপনি এক্ষেত্রে ৫০০ টাকার প্রোডাক্ট ৭০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করুন এবার ২০০ টাকা ডিস্কাউন্ট দিয়ে ৫০০ টাকায় সেল করুন। 

নিশ্চিত থাকতে পারেন, কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট কিনবে, এটি অনেক পুরনো ও পরীক্ষিত পদ্ধতি। বিষয়টি যতটা যৌক্তিক, তারচেয়ে বেশি মনস্তাত্ত্বিক।

 

ইকমার্স ওয়েবসাইট ডিজাইন

অনেকে মনে করেন, ইকমার্স সাইটের ডিজাইন যত বেশি আকর্ষণীয় ও জাঁকজমক হবে তত ভালো। কিন্তু সত্যিটা সম্পূর্ণ আলাদা। 

ইকমার্স ওয়েবসাইটের দ্বারা প্রোডাক্ট দেখানোই ( শোকেস ) মূল উদ্দেশ্য। তাই নজর দিতে হবে প্রোডাক্ট প্রেজেন্টেশানের ছোট বড় বিষয়গুলির উপর। 

ইকমার্স সাইত যত বেশি সিম্পল আর ব্যবহারে সহজ হবে তত ভালো। আপনার প্রোডাক্ট এর ধরণ এবং সংখ্যা অনুযায়ী ইকমার্স সাইট ডিজাইন করা জরুরী। 

এক্ষেত্রে একজন ইকমার্স কনসালট্যান্ট আপনাকে সঠিক গাইডলাইন দিতে পারবে। তাঁরা জানে কেমন ডিজাইন আপনার বিজনেসের জন্য কার্যকারী। তাই ইকমার্স সাইট তৈরির আগে প্রফেশনাল ই-কমার্স সল্যুশন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে পরামর্শ করে নিলে উপকৃত হবেন। 

কীভাবে ফেসবুক বিজ্ঞাপনে খরচ করা টাকার ৪ গুন লাভ পেতে পারেন ?

কীভাবে ফেসবুক বিজ্ঞাপনে খরচ করা টাকার  ৪ গুন লাভ পেতে পারেন  ?

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) হিসাবে, বর্তমানে সারা দেশে ৯৫০ টি (ই-ক্যাব এর তালিকাভুক্ত) অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই ৯০০।

সারা দেশে ২ হাজারের বেশি ইকমার্স সাইট রয়েছে। এর বাইরে ফেসবুক পেজ ভিত্তিক শপ রয়েছে ২০ হাজারের বেশি।

এই বিপুল সংখ্যক অনলাইন উদ্যোক্তা তাদের পেজ কিংবা ওয়েবসাইটে কাস্টমার আনার জন্য প্রধান যে বিজ্ঞাপন মাধ্যমটি ব্যবহার করেন, সেটি হলো ফেসবুক।

কিন্তু অনেকেই আমাদেরকে বলেন, তারা ফেসবুক বিজ্ঞাপনের জন্য (যেটাকে facebook boosting/facebook paid advertising বলা হয়) যে পরিমান টাকা খরচ করছেন সেই পরিমান রিটার্ন পাচ্ছেন না। তারা এর কারণ সম্পর্কে জানতে চান।

এককথায়, ফেসবুক বিজ্ঞাপনে উপযুক্ত রিটার্ন না পাওয়ার কারন হলো আপনি সঠিক ভাবে বিজ্ঞাপন দিতে পারছেন না।

Facebook Boosting window

চলুন, ফেইসবুক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সফল একটি বিজনেসের কেস স্টাডি দেখি

অনলাইনে nutritional supplements বিক্রি করা GoSupps.com এর নাম শুনেছেন? 

২০০৫ সালে GoSupps.com ই-কমার্স বিজনেস শুরু করে।  প্রায় ১৪ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে অনলাইনে ব্যবসা করছে তাঁরা। তাঁদের মূলমন্ত্র হল – শতভাগ গ্রাহক সন্তুষ্টি, উৎকৃষ্ট প্রোডাক্ট ও সেরা দাম।

GoSupps.com অনলাইনে nutritional supplements বিক্রেতাদের মধ্যে সেরা, যার জনপ্রিয়তা এই niche এ প্রায় অ্যামাজনের সমতুল্য।

GoSupps তাদের মার্কেটিং বাজেট এর সবচেয়ে বড় অংশটি কোথায় খরচ করে জানেন? ফেসবুক বিজ্ঞাপনে।

ফেসবুককে বিজ্ঞাপন দেয়ার প্রধান মাধ্যম হিসাবে পছন্দ করার কারণ ?

যারা বডি বিল্ডিং করে তাঁরাই GoSupps.com এর মূল কাস্টমার। কিন্তু Gosupps এর লক্ষ্য ছিল এই গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতিটি স্বাস্থ্য সচেতন ও খেলাধুলা প্রেমী মানুষের কাছে তাঁদের পণ্য বিক্রয় করা।

খুব সহজে সকল স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য GoSuppsএর হাতে দুইটা বিকল্প ছিল: Facebook Advertising আর Search Engine Marketing

যেহেতু ফেসবুক এ স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজ গড়ে উঠছিলো, তাঁরা এই সুযোগ সফলভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করে।

একজন মানুষের কেন Nutritional supplements প্রয়োজন তা ক্রেতাদের জানানোর মাধ্যমে তারা বিক্রয় বাড়ানোর কৌশল নেয়।

কিভাবে তাঁরা এই লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল ?

একটি ইকমার্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে GoSupps.com অনলাইন প্রচারণা চালানোর প্রস্তুতি নেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল কাস্টমারদের সচেতনতা বাড়ানো ও nutritional supplements এর প্রতি তাঁদের আগ্রহী করে তোলা।

তাঁদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল, আগ্রহী ক্রেতাদের পছন্দমত প্রোডাক্ট দেখানো ও ব্যক্তিগত মতামত শেয়ার করে nutritional supplements কিনতে ক্রেতাদের উৎসাহিত করা।

প্রচারণা শেষ হলে তাঁরা সর্বাধিক পরিমান সাড়া পাওয়া প্রোডাক্টগুলির ছবি ও বিবরণ লিখে ফেসবুকের carousel format ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দেয়া শুরু করে।

“Lookalike Audiences” ফেসবুকের একটি বিজ্ঞাপন পদ্ধতি যার দ্বারা বর্তমান কাস্টমারদের বিভিন্ন বৈশিষ্টের অনুরূপ অন্যান্য মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়।এই পদ্ধতি ব্যবহার করে GoSupps.com আমেরিকা, কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের nutritional supplements প্রোডাক্টের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

“Facebook pixel”  GoSupps.com কে সাহায্য করে বিজ্ঞাপনে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া কি তা জানতে ও বুঝতে। ঠিক কোন কোন ব্যাপারগুলা ক্রেতাদের উৎসাহী করছে সে ব্যাপারগুলা তাঁরা গভীরভাবে লক্ষ্য রাখছিল ।

এটি তাঁদের পরবর্তী বিজ্ঞাপন পরিচালনার জন্য দারুণ ভাবে সাহায্য করে। কাস্টমার একবার GoSupps ইকমার্স সাইটে কোন প্রোডাক্ট দেখলে সেই ধরনের অন্যান্য প্রোডাক্টগুলি স্বয়ংক্রিয় ভাবে কাস্টমার এর ফেসবুক ওয়ালে প্রদর্শিত হতে থাকে।

এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে শুধু যে নতুন ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রয় করা যায় তা নয়, এর সাথে একই ক্রেতার কাছে অন্যান্য প্রোডাক্টও বিক্রি করা যায় । কারন তাঁরা জানে ক্রেতার কোন প্রোডাক্টের প্রতি আগ্রহ আছে।

ধরুন, কেউ পূর্বে ভিটামিন জাতীয়  supplements কিনেছে । তাকে যদি ভিটামিন এর পাশাপাশি প্রোটিন supplements দেখানো হয় তবে Upsell বা Cross Sell এর সম্ভাবনা বেড়ে যায় বহুগুন । আর Upsell বা Cross Sell এর মাধ্যমেই একটি ইকমার্স সাইটের রেভিনিউ এর সিংহভাগ আসে । 

সফলতা কি ছিল ?

জানুয়ারী ২০১৮ হতে জুন ২০১৮, এর মধ্যে  GoSupps.com বিপুল সংখ্যক নতুন কাস্টমারের কাছে পৌছাতে সক্ষম হয় আর তাঁদের বিজ্ঞাপনের জন্য খরচ করা টাকার বিপরীতে ৩ গুন লাভ তুলে নিয়ে আসে।

  • বিজ্ঞাপন প্রচারের শেষে তাঁদের রিটার্ন ছিল ৪ গুন
  • বিক্রয় বৃদ্ধি পায় ২৭ %
  • পূর্বের তুলনায় প্রতিবার বিজ্ঞাপন চালাতে খরচ কম হয় ৩০% 

ফেসবুকের যে ফিচারগুলোর ব্যবহার এই সফলতা নিয়ে আসে,

  • Carousel ads – বিজ্ঞাপনে  একটি প্রোডাক্টের দশটি পর্যন্ত ছবি পর্যায়ক্রমে দেখানো যায়  
  • Dynamic adverts- স্বয়ংক্রিয় ভাবে ক্রেতার আগ্রহ বুঝে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী প্রোডাক্ট দেখায়।
  • Photo ads- ছবি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দেয়া।
  • Facebook Insights- সঠিক কাস্টমার নির্ধারণ করার পদ্ধতি।
  • Custom Audiences- কাস্টমার ডেটা ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দেখানোর পদ্ধতি।
  • Lookalike Audiences- আপনার ক্রেতাদের সাথে মিল আছে এমন নতুন কাস্টমারদের খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
  • Facebook pixel- বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতা, পরিচালনা ও বিক্রয় ত্বরান্বিত করে এমন সব বিষয় মনিটর করে।

উপরোক্ত বিষয়গুলো যদি একজন উদ্যোক্তা ফেসবুক এ বিজ্ঞাপন দেয়ার সময় সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে ফেসবুক বিজ্ঞাপনে খরচ করা টাকার বিপরীতে উপযুক্ত রিটার্ন তুলে নিয়ে আসতে পারবেন । 

আপনার অনলাইন শপ বা স্টোর থেকে কাস্টমাররা পণ্য না কেনার ৭ টি কারণ

আপনার অনলাইন শপ বা স্টোর থেকে কাস্টমাররা পণ্য না কেনার ৭ টি কারণ

বেশ কিছু কারণে কাস্টমাররা একটি অনলাইন শপ হতে কেনাকাটা করতে চায় না ।

কাস্টমার আপনার কাছে  সর্বোত্তম প্রোডাক্ট ও সার্ভিস আশা করে। বর্তমান সময়ের কাস্টমারদের সন্তুষ্ট করা খুব একটা সহজ ব্যাপার না। অনলাইনে এখন অনেক সুযোগ রয়েছে যাচাই বাছাই করে কেনাকাটা করার।

আপনার অনলাইন শপের সাথে অন্যদের তুলনা করার জন্য কাস্টমারদের এখন আর খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না । তাই এক্ষেত্রে আপনার সামান্য একটি ভুল কাস্টমারদের মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট।

ভালো কাস্টমারদের পুরস্কৃত না করা

৬২% কাস্টমার চায় আপনি তাঁদের মূল্যায়ন করুন। তাঁরা দিনের পর দিন আপনার অনলাইন শপ হতে কেনাকাটা করছে, কিন্তু বিনিময়ে আপনি তাঁদের প্রশংসা বা পুরস্কৃত কোনটাই করছেন না!

আপনার প্রতিযোগীরা কিন্তু ক্রেতাদের  মূল্যায়ন করছে, ফলে আপনি কাস্টমার হারাচ্ছেন।

ধরুন, আপনি এই মুহূর্তে একজন কাস্টমার । আপনি শীতের পোশাক কিনতে চান। দুইটি অনলাইন শপ আপনার পছন্দের তালিকায় আছে, যারা একই ধরণের প্রোডাক্ট বিক্রি করছে ।

একটির নাম A অন্যটির নাম B.

আজ আপনি যখন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, আপনার মোবাইলে একটা এসএমএস এসেছে যেখানে বলা হয়েছে, আপনি ইতিপূর্বে A হতে কেনাকাটা করায় শীতের পোশাক কিনলে সেটির ডেলিভারি ফ্রী।

এখন আপনি কোন অনলাইন শপটি আগে ভিজিট করবেন?

নির্দ্বিধায় বলা যায় আপনি শপ A এর কথা ভাবছেন।

কথাবার্তায় সতর্ক এবং আন্তরিক না হওয়া

সততায় সর্বোত্তম পন্থা। আপনি আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কাস্টমারদের কাছে তুলে ধরার সময় সর্বদা সৎ থাকুন। অতিরঞ্জিত কিছু উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকাটাই শ্রেয়।

৯১% কাস্টমার এই কারনে আপনার অনলাইনশপ হতে কেনাকাটা পরিহার করে।

ধরুন,  অনলাইনে একটি প্রোডাক্ট দেখে আপনি শপ A তে ফোন দিয়ে বললেন, ভাই/আপা অনলাইনে যে রং দেখছি এটি কি বাস্তবেও এমন?

শপ A  বলল , জি হ্যাঁ, তবে ল্যাপটপ, ডেক্সটপ বা মোবাইলের স্ক্রীনে যা দেখছেন সামান্য এদিক ওদিক হতে পারে।

একই প্রশ্ন আপনি শপ B কে করলেন।

শপ B বলল, ভাই/আপা রং একদম হুবহু যা দেখছেন তাই।

শপ B হতে কেনার পর, আপনি দেখলেন রং হুবহু না, কিছু পার্থক্য আছে। শপ A এর কথাটাই সত্যি।

পরেরবার কিছু কেনার সময় কোন শপ থেকে কিনবেন?

আপনি শপ A -র কথা ভাবছেন!

কেনার পর যদি ক্রেতা দেখে আপনি যা বলেছেন তাঁর সাথে প্রোডাক্টের মিল নেই তবে সে আর কখনোই আপনার থেকে কেনাকাটা করবে না। এটা শুধুমাত্র একটি উদাহরণ। এই মূলনীতি টি আপনার বিজনেস এর যেকোনো পর্যায়ে ব্যবহার করুন । খুব দ্রুত ক্রেতার আস্থা অর্জন করতে পারবেন ।

কাস্টমারদের সময়কে গুরুত্ব না দেওয়া

বর্তমান সময়ে সবাই প্রচণ্ড রকম ব্যস্ত। সময়মত প্রোডাক্ট  না পেলে স্বাভাবিক ভাবেই কাস্টমার অসন্তুষ্ট হয়।

৬৬% কাস্টমার সময়মত প্রোডাক্ট না পেলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়।

আপনি শপ B হতে একটি প্রোডাক্ট অর্ডার করেছেন, বিক্রেতার কথা ছিল ৩ দিনের মধ্যে পৌঁছে যাবে। কিন্তু আপনি পেয়েছেন ৫ দিন পরে!

পরেরবার শপ A হতে প্রোডাক্ট অর্ডার করেছিলেন তারাও ৩ দিন সময় লাগবে বলেছিল এবং ঠিক ৩ দিনের মধ্যে আপনি প্রোডাক্ট হাতে পেয়েছেন।

যদি কারো জন্মদিন বা বিবাহ বার্ষিকীর জন্য অনলাইনে প্রোডাক্ট অর্ডার করতে চান, তাহলে আপনি কোন অনলাইন শপটিকে বেছে নিবেন?

নিশ্চয় শপ A আমি কি ঠিক বলেছি?

তাহলে কী হল? অনলাইন শপ B তাঁর কাস্টমার হারালো!

পূর্ণ যোগাযোগের ঠিকানা উল্লেখ না থাকা

৫১% কাস্টমার দেখে অনলাইন শপটির ঠিকানা সঠিক ভাবে দেয়া আছে কি না। অনেক অনলাইন শপ শুধু একটি মোবাইল নম্বার বা একটি ইমেইল দিয়ে এই কাজটি সেরে ফেলেন।পূর্ণ ঠিকানা এবং যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম না থাকলে কাস্টমাররা একটি অনলাইন শপের উপর আস্থা পায় না ।

মেসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপ, ইমো সহ সকল প্রকার যোগাযোগ মাধ্যম রাখা দরকার। যোগাযোগ যত সহজ হবে তত বেশি নতুন কাস্টমার পাবেন।

ধরুন, শপ A তে ঠিকানা, ফোন নম্বার, ই মেইল, মেসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপ, ইমো সহ সকল প্রকার যোগাযোগ মাধ্যম দেয়া আছে।

আর শপ B শুধু ফোন নম্বার ছাড়া আর কিছুই উল্লেখ করে নি।

এখন, আপনি বাসায় বসে অনলাইনে প্রোডাক্ট অর্ডার করবেন । ভাবলেন শপ B তে  কথা বলবেন প্রোডাক্টটির ব্যাপারে। কিন্তু ফোন করতে গিয়ে দেখলেন আপনার মোবাইলে ব্যাল্যান্স শেষ। আপনি পরে কথা বলবো ভাবলেন।

একই প্রোডাক্ট শপ A তে দেখতে পেলেন। আপনার ইন্টারনেট ডেটা থাকায় অনলাইনে শপ A তে কথা হল। সব ঠিক থাকায় আপনি তাঁর কাছেই প্রোডাক্ট টি কিনলেন।

মোবাইল নম্বার, ইমেইল, শোরুমের ঠিকানা, ইকমার্স ওয়েবসাইট, আপনার সার্ভিস বন্ধ ও খোলা থাকার সময় যদি সঠিক ভাবে উল্লেখ না থাকে, তবে আপনি ক্রেতা হারাবেন।

যোগাযোগে দ্রুত সাড়া না দেওয়া

প্রোডাক্ট অনলাইনে দেখার পর যদি কাস্টমার আপনার সাথে যোগাযোগ করে, তবে একটু সহযোগিতা তাকে কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এবং প্রোডাক্টটি বিক্রি হয়।

৬৬% কাস্টমার কিছু জানতে চাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর আশা করে।  

ধরুন, শপ B তে আপনি ফোন দিয়েছেন কিন্তু কেউ রিসিভ করছে না, ২ বার কল দেবার পর আপনি শপ A তে ফোন দিলেন সাথে সাথে রিসিভ করলো। আপনি তাঁদের সাথে আপনার পছন্দের প্রোডাক্ট নিয়ে কথা বললেন।

চোখ বন্ধ করে ভাবুন, দেখবেন শপ A আপনার কাছে বেশি ভালো মনে হচ্ছে।

আপনার সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে যদি কাস্টমার অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে বা আপনাকে সেই মুহূর্তে না পায় তবে সে অন্য বিক্রেতার দিকে নজর দেয়।

কাস্টমার এর সমস্যা সমাধানে দেরি বা ব্যর্থ হওয়া

প্রোডাক্ট বিক্রয়ের পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে । বিক্রেতা যদি এই সমস্যা সমাধানে দেরি করে বা ব্যর্থ হয় তবে কাস্টমার হারাতে হতে পারে।

আপনি শপ A এবং B উভয়ের কাছ থেকে প্রোডাক্ট কিনেছেন। শপ A হতে কেনা প্রোডাক্টটি আপনি পরিবর্তন করতে চান তাই তাঁদের জানালেন। তাঁরা সাথে সাথে আপনার চাহিদা মত সেটি পরিবর্তন করে দিলো।

অন্যদিকে শপ B হতে কেনা প্রোডাক্টটিতে ত্রুটি থাকায় আপনি তাঁদের বললেন সেটা ফেরত নিতে। কিন্তু তাঁরা কোন সাড়া দিলো না। ১ সপ্তাহ পরে তাঁরা আপনাকে বলল প্রোডাক্টটির স্টক শেষ আসলে তাঁরা জানাবে।

কি চিন্তা করছেন? শপ B হতে আর কিনবেন কোনদিন?

উত্তর “না”

প্রশ্নের উত্তর বা প্রোডাক্ট এর জন্য অপেক্ষার সময়টি কাস্টমারদের জন্য খুব অসহনীয়।অধিকাংশ সময় বিক্রেতার উদাসীনতা কাস্টমারদের আগ্রহ নষ্ট করে।  

নিরাপদ অনলাইন পেমেন্ট অপশন না থাকা

অনলাইন বিজনেসে  অনলাইন পেমেন্ট অপশন থাকা মানে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে আপনি ৫০% এগিয়ে আছেন। অনলাইন পেমেন্ট অপশন চালু করতে একটা বিজনেস কে তার প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক কাগজপত্র ব্যাঙ্ক কে দিতে হয়।পাশাপাশি পেমেন্ট এর জন্য আপনার শপ এ বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং ওয়ালেট এর লোগো আপনার ব্যবসার বিশ্বস্ততা বাড়িয়ে তোলে বহুগুন।

বর্তমান সময়ে ক্রেডিট কার্ড , ভিসা কার্ড, বিকাশ , রকেট সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক অনলাইন পেমেন্ট সেবা চালু করেছে। তাঁরা নগদ টাকা লেনদেন থেকে সবাইকে উৎসাহিত করছে অনলাইন লেনদেন করতে।

Online Payment Gateway

অনলাইন পেমেন্টে আকর্ষণীয় ছাড়ের সুযোগ দিচ্ছে সবাই।

আপনি যদি আপনার কাস্টমারদের অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা দিতে ব্যর্থ হন ,তবে কিছু ভালো মানের কাস্টমার হারাবেন।

আপনার অনলাইন শপ এর উপর বার বার আস্থা রাখতে বলা

আস্থা অর্জন করতে হয়। আপনি যেভাবেই বলেন না কেন আপনার উপর আস্থা তৈরি হবে যদি কাস্টমার আপনার বিজনেসের অর্জন গুলা দেখতে পায়।

আপনার প্রোডাক্ট যদি ফ্যাশন আইটেম হয়, তাহলে প্রোডাক্টের কোয়ালিটি সার্টিফিকেট , যদি শোরুম বা ফ্যাক্টরি থাকে তাহলে প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট, কোন সংগঠন হতে পাওয়া পুরুস্কার বা স্বীকৃতি কাস্টমারদের আস্থা অর্জনে দারুণ সহায়ক।

বিশ্বের নামি দামি ব্র্যান্ডগুলা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আস্থা অর্জনের সূচনা করেছিল। আজ তাঁদের নামটাই কাস্টমারদের আস্থা অর্জনের জন্য যথেষ্ট।

পরিশেষে, 

যদি চান কাস্টমাররা নিয়মিত আপনার অনলাইন শপ হতে কেনাকাটা করুক, তাহলে তাঁদের প্রতি আপনাকে যথেষ্ট যত্নবান হতে হবে।আপনার প্রোডাক্ট কোয়ালিটি, সততা এবং আন্তরিকতাই দিন শেষে কাস্টমারদের আপনার কাছ থেকে কিনতে উৎসাহিত করবে।

কেন অনলাইনে বিজনেস করার জন্য আপনার একটি ইকমার্স সাইট থাকতেই হবে

কেন অনলাইনে বিজনেস করার জন্য আপনার একটি ইকমার্স সাইট থাকতেই হবে

অনলাইন বিজনেস করার জন্য ইকমার্স সাইট (Ecommerce website) এর মত ডিজিটাল প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই। কোন রকম জামানত, দোকান ভাড়া, বা কর্মচারীর জন্য টাকা খরচ না করেই আপনি ২৪ ঘণ্টা দেশে ও দেশের বাইরে বেচাকেনা চালিয়ে যেতে পারেন।

অনেকে মনে করেন, কোনো রকম একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট বা ফেইসবুক পেজ হলেই অনলাইনে বেচাকেনা করা যায়। এক অর্থে কথা সত্যি, অল্প কিছু বেচাকেনা হয় ঠিকই তবে যে পরিমান বিক্রি বা লাভ করা সম্ভব ছিল সেটা হয় না।

কেন সম্ভব হয় না? কেন অনলাইনে বিজনেস করার জন্য আপনার একটি ভালো ইকমার্স সাইট থাকতেই হবে? শুধু মাত্র ফেইসবুক পেজই যথেষ্ট নয় কেন?

দেখতে আকর্ষণীয় ও ব্যবহারে সহজ

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে: ‘আগে দর্শনধারী, তারপর গুণবিচারি‘ । আপনার পণ্য যত ভালোই হোক না কেন, আপনার সাইট যদি আকর্ষণীয় না হয়, কাস্টমাররা আপনার থেকে পণ্য কিনবে না ।

আপনার ইকমার্স সাইটকে আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী, আপনার লোগো বা ব্র্যান্ড কালারের সাথে মিল রেখে আকর্ষণীয় ভাবে তৈরী করতে পারেন । একটি আকর্ষণীয় ওয়েবসাইট আপনার ব্যবসায়ের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায় বহুগুন।

একটি জরিপে এসেছে, ৩০% কাস্টমার ইকমার্স ওয়েবসাইট ছাড়া একটি অনলাইন বিজনেসকে গুরুত্ব দেয় না । আবার শুধু একটি যেনতেন সাইট থাকলেই হবে না। ভালো একটি সাইট হতে হবে। 

একজন কাস্টমার প্রথমবার আপনার সাইটে এসে যদি ভালো অভিজ্ঞতা না পায় তবে দ্বিতীয়বার সে আসবে না। সাইট যদিও আপনি বানাবেন, কিন্তু সাইটটি ব্যবহার করবে কাস্টমার । তাই কাস্টমারদের কথা মাথায় রেখে আপনার সাইটটি যতটা সম্ভব ব্যবহারে সহজ করা প্রয়োজন। 

একটি আদর্শ ইকমার্স সাইট সেটি, যেটি দেখতে আকর্ষণীয় এবং ব্যবহারে সহজ হবার ফলে কাস্টমার খুব সহজে তার পছন্দের প্রোডাক্টটি খুঁজে পায়।

বাড়তি হিসাবে আপনি ওয়েবসাইটের হোমপেজ এ নতুন প্রোডাক্ট, পপুলার প্রোডাক্ট ও বেশি সেল হওয়া প্রোডাক্টের ক্যাটাগরিগুলো রাখতে পারেন। এতে কাস্টমার খুব সহজেই আপনার সবচাইতে ভালো প্রোডাক্টগুলি দেখতে পাবে। 

কাস্টোমাররা অফার ও  ডিসকাউন্ট পেতে ভালোবাসে। আপনার ই-কমার্স সাইটের হোমপেজ এগুলো প্রদর্শন করতে পারেন। এতে আপনার কাস্টমার কনভার্সন রেট বেড়ে যাবে ।

প্রোডাক্টের ছবি

কথায় বলে, একটি ছবি হাজার শব্দের সমতুল্য (A picture is worth thousands words)। অনলাইনে কাস্টমার প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে দেখে না, দেখে ছবি।

অনেকেই প্রোডাক্টের ছবি সৃষ্টিশীল ভাবে উপস্থাপন করেন, যা অপ্রয়োজনীয়। মনোযোগ দেয়া দরকার ছবিটির কোয়ালিটির দিকে। পরিস্কার ছবি, ফটোশপর ব্যবহার না করে অরিজিনাল ছবির ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ইকমার্স সাইটে প্রোডাক্টের ছবির উপর কার্সর নিয়ে গেলে জুম করে ছবিটি দেখা যায়। ছবি যত মানসম্মত হবে তত পরিস্কার ভাবে দেখা যাবে।

অনেকে  ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন অবজেক্ট ব্যবহার করেন যা কাস্টমারের মনোযোগ প্রোডাক্ট হতে সরিয়ে দেয়।এমন  ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার হতে বিরত থাকা ভালো।

প্রোডাক্টের বিভিন্ন এঙ্গেলের ছবি দেয়া খুব দরকারি।খেয়াল রাখবেন প্রোডাক্টের কালার ও ব্যাকগ্রাউন্ডের কালার যেন এক না হয়।

পণ্যের উপযুক্ত বর্ণনা

ইকমার্স সাইটের ক্ষেত্রে আপনাকে ছবি তো দিতেই হবে, সাথে ছবির যথোপযুক্ত বিবরণও দিতে হবে। 

কোন একটি প্রোডাক্টের ছবি দেখে ভালো লাগলে কাস্টমার প্রোডাক্টটি কেনার জন্য আরও তথ্য জানতে চায়।যেমন, কালার, সাইজ, স্টকে আছে কিনা, কি ধরনের ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার হয়েছে, ব্যবহার ও রক্ষনাবেক্ষন পদ্ধতি ইত্যাদি। ‘আকর্ষণীয় ছবির সাথে প্রোডাক্টের উপযুক্ত বর্ণনা‘ – এই দুয়ে মিলে কাস্টমারকে পণ্য কিনতে উৎসাহিত করে । 

পাশাপাশি, পণ্যের উপযুক্ত বর্ণনা অর্গানিক ট্রাফিক (যেমন Search Engine এ সার্চ করে যারা আপনার পণ্য বা ওয়েবসাইট খুঁজে পায়) পেতে সাহায্য করে। আর এসব কিছুই দিন শেষে আপনার বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করে।

আপ সেল (Upsell) এবং ক্রস সেল (Cross Sell)

কাস্টমারকে ওয়েবসাইটে ল্যান্ড করানোর পরে আসল কাজটি শুরু হয়। হতে পারে যে প্রোডাক্টটি দেখে কাস্টমার আপনার সাইটে এসেছিলো সেটি সে এই মুহূর্তে কিনতে চায় না বা বিস্তারিত দেখার পর সেটি আর তার ভালো লাগছে না । ইকমার্স সাইটের মাধ্যমে আপনি কাস্টমারকে রিলেটেড আরও কিছু প্রোডাক্ট দেখাতে পারবেন।

কাস্টমারকে প্রতিটি প্রোডাক্টের সাথে এক ই ক্যাটাগরির কিছু নতুন বা অন্যান্য প্রোডাক্ট দেখালে সে আগ্রহী হয়ে দেখতে থাকে।একটি সময়ে সে যে কোনো একটা প্রোডাক্ট কিনে ফেলে । অধিকাংশ অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে দেখা যায়, কাস্টমার শুরুতে যে প্রোডাক্ট টা দেখেছে শেষ পর্যন্ত সেটা কেনেনি, কিনেছে অন্য কোনো একটা। 

কালার, সাইজ, জেন্ডার – এই সকল ‘ট্যাগ’ ব্যবহার করে কাস্টমারকে যদি আপনার ইকমার্স সাইটের সমস্ত প্রোডাক্ট খুব সহজেই দেখাতে পারেন, তাহলে নিশ্চিত যে কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট কিনবেই। এখানেই একটি ইকমার্স সাইটের সবচেয়ে বড় সফলতা। আপনি খুব সহজে আপ সেল (Upsell) এবং ক্রস সেল (Cross Sell) করতে পারবেন।  

Upsell example

পৃথিবীর সবচাইতে বড় ইকমার্স সাইট Amazon সবসময় চেষ্টা করে আপ সেল (Upsell) এবং ক্রস সেল (Cross Sell) করার। Amazon এর প্রায় ৩৫% ইনকাম আসে আপ সেল (Upsell) এবং ক্রস সেল (Cross Sell) থেকে। আপনি যদি আপনার ecommerce বিজনেস এ আপ সেল এবং ক্রস সেল করতে না পারেন তাহলে আপনার বিজনেস কখনো বাড়বে না।

Search Engine Optimization (SEO)

দারুণ একটি ইকমার্স সাইট থাকলেই বিজনেস ভালো হবে এই ধারনা সঠিক না। বিজনেস ভালো হয় যদি কাস্টমার থাকে। আর কাস্টমারকে আপনার প্রোডাক্ট দেখানোর অন্যতম একটি উপায় হলো Search Engine Optimization বা SEO। ইকমার্স সাইটের SEO করলে আপনি যে ধরণের প্রোডাক্ট সেল করেন, সেই ধরণের প্রোডাক্ট কাস্টমার যখন অনলাইনে সার্চ করে  তখন আপনাকে সহজেই খুঁজে পায়। 

যেমন ধরুন, আপনি জুট প্রোডাক্টস তৈরী করেন। এখন কেউ চাচ্ছে জুট এর ব্যাগ বানাতে। সে অনলাইন এ ‘jute bag manufacturers in Bangladesh’ লিখে সার্চ দিলো। নিচের রেজাল্টটি দেখাবে (SEO এর কারণে এটি পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে)।

DeshiCommerce_Jute manufacturer search result

দেখুন, বাংলাদেশ এর Jute Manufacturers রা তাদের ওয়েবসাইট ঠিকমতো না করার কারণে Alibaba বাংলাদেশের সার্চ রেজাল্ট এ জায়গা করে নিয়েছে

বিজনেস এনালিটিক্স (Business Analytics)

আপনি অনলাইনে বিজনেস করছেন। যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, প্রতিদিন কত জন মানুষ আপনার প্রোডাক্ট দেখে? সব চাইতে বেশি মানুষ কোন প্রোডাক্ট টা দেখেছে? যারা আপনার প্রোডাক্ট দেখেছে তাদেরকে টার্গেট করে কি আপনি একটাএকটা বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন?

আপনি হয়তো পারবেন কিন্তু অধিকাংশ সেলারই পারবে না। এর কারণ হলো তাদের কাছে এনালিটিক্স ডাটা নেই। আর যথাযথ এনালিটিক্স ডাটা না থাকলে অনলাইনে আপনার বিজনেস কখনো টিকবে না। শুধু মাত্র সেল এর ডাটা এর উপর নির্ভর করে আপনি বুঝতে পারবেন না আপনার  বিজনেস আসলেই ভালো করছে কিনা বা আপনার প্রোডাক্ট কাস্টমাররা পছন্দ করছে কিনা ।

যথাযথ এনালিটিক্স ডাটা পেতে অবশ্যই আপনার একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট থাকতে হবে ।

পরিশেষ

যে কোনো বিজনেসে সাফল্যের মূলমন্ত্র একটাই: আপনাকে সবসময় নতুন কাস্টমার খুঁজতে হবে এবং পুরানো কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে । যারা শুধুমাত্র শোরুম বা দোকান কেন্দ্রিক বিজনেস করছেন তারা জানেন, এটা কতটা কঠিন একটা কাজ! কিন্তু এ কাজটি আপনি খুব সহজে করতে পারেন যদি আপনার একটা ইকমার্স ওয়েবসাইট  থাকে। আপনি আপনার কাস্টমারদের কাছে ইমেইল বা এসএমএস মার্কেটিং করতে পারবেন,  SEO এবং Ads এর মাধ্যমে সম্ভাব্য কাস্টমারদের আপনার প্রোডাক্টের প্রতি আকর্ষণ করতে পারবেন, আপনার বিভিন্ন অফার সম্পর্কে তাদের জানাতে পারবেন ।

তাই এখনো যদি আপনার বিজনেসের ইকমার্স ওয়েবসাইট করে না থাকেন, তাহলে দেখুন ইকমার্স ওয়েবসাইট না থাকার ফলে কীভাবে আপনার বিজনেস ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে!

শুধু ফেসবুক দিয়েই ভালো বিজনেস করছেন? যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে আপনার বিজনেস!

শুধু ফেসবুক দিয়েই ভালো বিজনেস করছেন? যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে আপনার বিজনেস!

ব্যক্তিগত কিছু কারণে প্রাইভেট ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে বাড়িতে বসে আছেন মিথিলা আপা (ছদ্ম নাম) । ব্যাংকের চাকরি তাঁর ভাল লাগছিল না, কিন্তু এখন কাজ ছাড়া বসে থাকতেও তাঁর ভালো লাগছে না।

কি মুশকিল?

কাজের মানুষেরা বসে থাকতে পারে না, কিছু না কিছু তাঁদের করা লাগবেই। মেজাজ দিন কে দিন খিটমিটে হয়ে যাচ্ছে।

বাবুল ভাই ব্যাপারটা লক্ষ্য করলেন। কিন্তু বউয়ের মেজাজ দেখে কিছু বলার সাহস তিনি জোগাড় করতে পারছেন না।

আপার দেবর পাইলট। একদিন সে তাঁর ভাবিকে মনমরা হয়ে বসে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করলো, “কি হয়েছে?”

মিথিলা আপা উত্তর দিলো, “কি আর হবে ভাই, ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে মনে হয় খুব ভুল করলাম। এখন তো দেখি বসে থাকা আরও বড় কষ্ট।”

– “আপনি এক কাজ করতে পারেন ভাবি। অনলাইন বিজনেস শুরু করে দিন, সময় কাটবে ইনকামও হবে। আর আপনি সেই টাকা দিয়ে আমার বউয়ের জন্য গিফট কিনে দিবেন। আইডিয়াটা ভালো না?” বলে হাসতে হাসতে সে বের হয়ে গেল।

সকালে ঘুম থেকে উঠে আপা দেখেন, তাঁর বেড রুমে একগাদা মেয়েদের নতুন জামা কাপড়। ব্যাপার কি!

বাবুল কি পাগল হয়ে গেছে? গেল বাজার করতে, নিয়ে আসল কাপড়।

– বাবুল

-কি?

– এত কাপড়চোপড় কার?

-তোমার।

– মশকরা করো না তাই না, জীবনে কোন দিন কিছু কিনেছ আমার জন্য?!

– তুমি না অনলাইন বিজনেস করবা, ছোট বলল। তাই কিছু ড্রেস নিয়ে আসলাম, আমাদের গ্রামের মেয়েদের হাতে তৈরি পোশাক। কেমন বেচতে পারো এগুলো দেখি।

আপা রেগে গেলেও, ভিতরে ভিতরে খুশিই হলেন । নিজের বিজনেস দাঁড় করানোর সুপ্ত একটা ইচ্ছা তার সবসময়ই ছিল ।

পরের দিন ফেসবুকে একটি পেজ খুলে তাঁর প্রোডাক্টগুলোর ছবি আপ করলেন, ফেসবুক লাইভ করা শুরু করলেন।  তিনদিনের মাথায় পরিচিতদের থেকে অর্ডারও পেলেন।কিন্তু তিনি জানতেন না তাঁর জন্য আরও বড় চমক অপেক্ষা করছিলো !

১০ দিন পর একটি ফোনকলে ঘুম ভাঙে আপার।

একজন কাস্টমার তাঁর প্রোডাক্ট নিতে চায়, আপাতত ৫ টা ড্রেস্‌ ….ভালো লাগলে আরও অর্ডার করবে তাঁরা।

আপা কাস্টমারের পছন্দ অনুযায়ী ড্রেস কুরিয়ার করে দিলেন। এর ঠিক ৭ দিন পর সেই লোক আবার কল করে, কিন্তু এবার তিনি অর্ডার দেন প্রায় ২ লক্ষ টাকার ড্রেস।

আপা প্রথমে বিশ্বাস করছিলেন না, ভেবেছেন ফ্রড হবে! কিন্তু কথা বার্তায় তিনি তেমন কিছু অনুমান করতে পারেন নি কি করবেন না করবেন এমন সাত পাঁচ সব ভাবতে ভাবতে তিনি অ্যাডভান্সড চান। ভদ্র লোক তাঁকে ১ লক্ষ্ টাকা অ্যাডভান্স দেন।

আপা তো মহা খুশি, তিনি সব প্রোডাক্ট ঠিকঠাক ডেলিভারি দেন এবং বাকি টাকাও হাতে পান নিরাপদে।

এবার তিনি প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে নেমে পড়লেন বিজনেসে। অনেক টাকা ইনভেস্ট করলেন। ফেসবুকে তাঁর বিজনেস তুঙ্গে।

সবকিছু ভালই চলছিল।

প্রতিদিনের মত সেদিনও তিনি ফেসবুকে ছবি আপলোড দিতে গিয়ে দেখেন তাঁর আইডি টা ওপেন হচ্ছে না। অনেক চেষ্টার পর তিনি হাল ছেড়ে দিলেন। কোনভাবেই তিনি আর আইডি টি উদ্ধার করতে পারলেন না।

হঠাৎ তিনি অসহায় বোধ করা শুরু করলেন। তাঁর কাছে তার রেগুলার কাস্টমারদের কোন ডেটা নাই। অধিকাংশ কাস্টমার তার সাথে যোগাযোগ করতো তার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে। কিভাবে তিনি তাঁদেরকে ফেরত পাবেন? ফর্সা মুখটা মুহূর্তে লাল হয়ে উঠলো।

স্টকে অনেক টাকার মালামাল। এখন তিনি কি করবেন?

তিনি নতুনভাবে ফেসবুকে পেজ খুললেন।পেজ বুস্ট করতে অনেক টাকা খরচও করলেন, কিন্তু আগের পেজটির মত সাড়া পেলেন না। সেল এর জন্য শুধু মাত্র ফেসবুক এর উপর নির্ভর করার কারণে তার পুরো ব্যবসাটাই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো।

—————————————–

আসুন জেনে নিই মিথিলা আপা কী কী ভুল করেছিলেন…

শুধুমাত্র ফেসবুকের উপর নির্ভর করে অনলাইন বিজনেস চালিয়ে যাওয়া

নিঃসন্দেহে ফেসবুক প্রোডাক্টের অনলাইন প্রচারণার জন্য আদর্শ মাধ্যম।

ফেসবুক আপনার নিজস্ব কোন সিস্টেম না, আপনি চাইলেই আপনার মত করে ফেসবুককে ব্যবহার করতে পারবেন না।

সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিকৃত তথ্যের অবাধ প্রচার বন্ধে বিভিন্ন সময়ে এই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।

ফেসবুক বন্ধ মানে বিজনেসও বন্ধ।

ইচ্ছেমত তথ্য প্রচারে নিয়ন্ত্রণ আনতে ফেসবুক বিভিন্ন সময়ে তাঁদের সিস্টেমে আপডেট নিয়ে আসে। তাঁদের নীতিমালারা সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অনেক পেজ ফেসবুক বন্ধ করে দেয়।

পোস্ট দেবার ক্ষেত্রে ফেসবুকের একটি গাইডলাইন আছে, আপনার কোন একটি ভুলের জন্য সাময়িক বা একেবারে আপনার পেজটি বন্ধ করে দিতে পারে ফেসবুক।

এককথায় আপনি আপনার কোন প্রকার নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বিজনেস পরিচালনা করছেন। কোন এক পরিস্থিতিতে যদি এই যোগাযোগ মাধ্যমটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তবে সাথে সাথে আপনার বিজনেস বন্ধ হয়ে যাবে!

ফেসবুকের নির্মাণ পদ্ধতি কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগের জন্য আদর্শ, বেচাকেনার জন্য না। দীর্ঘ মেয়াদে বিজনেস করতে আপনার নিজস্ব একটি সিস্টেম অবশ্যই থাকতে হবে।যেটি হতে পারে একটি ইকমার্স সাইট।

সিস্টেমেটিক উপায়ে কাস্টমারের ডেটা সংরক্ষণ ও এর ব্যবহার না করা

অনলাইন বিজনেসে কাস্টমার ডেটা বিজনেসের প্রাণ।যদি আপনি ডেটা সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ না করেন তাহলে আপনার অনলাইন বিজনেসটির কোন ভবিষ্যৎ নেই।

মার্কেটিং গুরুরা বলেন, নতুন কাস্টমারদের কাছে সেল করার চেয়ে পুরানো কাস্টমারদের কাছে সেল করা সহজ ।কারণ তারা ইতিমধ্যেই আপনার প্রোডাক্ট এর মান সম্পর্কে জানে।

কিন্তু শুধু ডেটা থাকলেই হবে না সেটাকে ব্যবহারের সঠিক নিয়মও জানতে হবে। যেমন আপনি কি জানেন, পুরানো কাস্টমার ডাটা দিয়ে ফেসবুক এ lookalike audience ও custom audience তৈরী করা যায়? lookalike audience ও custom audience কে টার্গেট করে বুস্টিং করলে আপনার বিক্রি শতভাগ বৃদ্ধি পেতে পারে।

পুরনো কাস্টমারদের লয়াল কাস্টমার হতে সহায়তা না করা

পুরনো কাস্টমার মাত্রই পরীক্ষিত, যেকোনো বিজনেসের রেগুলার সেলের একটি বড় অংশ আসে তাঁদের থেকে।

কিন্তু আপনি যদি সেই কাস্টমারদের মূল্যায়ন না করেন তাহলে সে আপনার কাছে থাকবে না।

আমরা লয়াল কাস্টমার বলতে বুঝি সেই সকল কাস্টমার যে কেনার ক্ষেত্রে আপনার শপটিকে অগ্রাধিকার দেয়।

আমরা জানি অফার, ডিসকাউন্ট, কুপনের মাধ্যমে লয়াল কাস্টমার ধরে রাখতে হয়, আজকাল সবাই এধরনের অফার, ডিসকাউন্ট, কুপন হরহামেশা দিচ্ছে কিন্তু কাস্টমার তারপরেও কিনছে না।

আসল কারন পরিকল্পিতভাবে অফার, ডিসকাউন্ট, কুপনের ব্যবহার না করা। কখন, কাকে, কি অফার করবেন । কোন প্রোডাক্টে ডিসকাউন্ট দিবেন। কাদের জন্য কুপন দিলে বেচাকেনা বাড়বে এটি আমরা না জেনে অনুমান নির্ভর হয়ে অফার, ডিসকাউন্ট দিয়ে বসি।

কিন্তু এর সঠিক ও পরিকল্পিত ব্যবহার আপনার পুরনো কাস্টমারদের বার বার কিনতে উৎসাহিত করতে পারে ।

দেশিকমার্স সল্যুশন দিয়ে আপনার অনলাইন বিজনেসের সকল প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি যেমন- কাস্টমার ডেটা, অর্ডার ট্র্যাকিং, অনলাইন পেমেন্ট, স্টক, পারচেজ রেকর্ড, প্রফিটস ও লসের হিসাব,  সেলস রেকর্ড, অফার, কুপন, ডিসকাউন্ট, সবকিছু সহজে ম্যানেজ করা যায়।

আপনার অনলাইন বিজনেসকে নিরাপদ ও লাভজনক করতে, গড়পড়তা অনলাইন বিজনেস থেকে আলাদা করে কাস্টমারের কাছে সেরা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে দেশি কমার্স সল্যুশন আপনার পাশে আছে সবসময় ।  

আপনার অনলাইন বিজনেস সম্পর্কিত যে কোনো প্রশ্ন বা সমস্যা সমাধানে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে 0176668138 অথবা 01729241499 অথবা [email protected]

কীভাবে অনলাইনে আপনার প্রোডাক্ট কিনতে কাস্টমারকে উৎসাহিত করবেন?

কীভাবে অনলাইনে আপনার প্রোডাক্ট কিনতে কাস্টমারকে উৎসাহিত করবেন?

যদি চান কাস্টমার আপনার পণ্যটি ক্রয় করুক, তাহলে আপনাকে জানতে হবে কোন বিষয়গুলি একজন কাস্টমারকে আপনার থেকে পণ্য কিনতে উৎসাহিত করে।

পণ্যের কোয়ালিটি, ভালো কাস্টমার সাপোর্ট, বিক্রেতার সুনাম – এসব আপনি জানেন । কিন্তু যখন প্রোডাক্ট কোয়ালিটি,  কাস্টমার সাপোর্ট ও আপনার উপর আস্থা – সবই ঠিক আছে, তখনও কি যথেষ্ট পরিমান ক্রেতা আপনার থেকে পণ্য ক্রয় করছে?

আপনি কি জানেন একজন কাস্টমার অনলাইনে কোনো একটি পণ্য কেনার আগে কোন কোন বিষয়গুলি বিবেচনা করে?

 

অন্য কাস্টমারদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার রিভিউ

অনলাইনে নিয়মিত কেনাকাটা করেন এমন একজনকে প্রশ্ন করেছিলাম, “যখন অনলাইনে কিছু কেনার সিদ্ধান্ত নেন, তখন আপনি কোন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন?”

তিনি বলেন, “আমি রিভিউ দেখি। তবে সবার রিভিউ দেখি না। আমি যে পণ্যটি কিনতে চায় সে পণ্যটি যদি কোন ক্রেতা ব্যবহার করে থাকেন তবে তাঁর অভিজ্ঞতা আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে করতে সাহায্য করে।”

খেয়াল করুন,

সব রিভিউ না, যে পণ্যটি সে কিনতে চায় সেই পণ্য  ব্যবহারকারির রিভিউ।

অনলাইন বিজনেস যারা করেন, তাঁদের ধারনা নেগেটিভ রিভিউ খারাপ। এই ধারনাটি সত্যি নয়। যদি বিক্রেতা সেই নেগেটিভ রিভিউ দানকারীর সমস্যা সুন্দর ভাবে সমাধান করতে পারেন, তবে সেটি আরও বেশি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কাস্টমার আশ্বাস পায় যে, কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে বিক্রেতা তার সমাধান করবে।

আমাদের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি ।

হঠাৎ একদিন আমরা নোটিফিকেশন পেলাম, আমাদের গুগল লিস্টিং পেজে কোনো এক ভদ্রলোক ১ ষ্টার দিয়েছেন।

আমরা তৎক্ষণাৎ কারন অনুসন্ধান শুরু করলাম। আমাদের রেকর্ডস খুঁজে দেখলাম, ওই ভদ্রলোকের সাথে আমাদের কোনো ধরণের কোনো লেনদেন হয়নি।  খোঁজ নিয়ে দেখা গেলো সেই বাক্তি উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে কোন প্রকার বিজনেস করে নি, এবং তাঁদের সম্পর্কে জানেও না।

তখন আমরা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে উনার কাছে জানতে চাইলাম, ঠিক কি কারণে উনি আমাদের কে নেগেটিভ রিভিউ দিয়েছেন এবং উনার জন্য আমরা কি করতে পারি?

ওই ভদ্রলোক আমাদেরকে কোনো উত্তর দেননি, কিন্তু উনি উনার রিভিউ টি পরিবর্তন করে ৫ ষ্টার করে দিয়েছিলেন!

আপনি যদি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হন আর কাস্টমারদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হন, তবে তাঁর ফলাফল আপনি অবশ্যই পাবেন।

 

বিভিন্ন উৎস থেকে আপনার সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য

অনলাইনে কেনাকাটা শুরু হয় পণ্যটি গুগলে সার্চ করার মধ্যদিয়ে। সত্যিকার অর্থে ৭৩% কেনাকাটার সিদ্ধান্ত গ্রহন করার জন্য এই গুগল সার্চ প্রধান ভুমিকা রাখে।

সাধারণত একজন কাস্টমার অনলাইনে কারো থেকে পণ্য কেনার আগে তাঁর নাগালের মধ্যে সব রকম উৎস হতে বিক্রেতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। যেমন,

  • ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ থেকে
  • বিক্রেতার ওয়েবসাইট থেকে
  • বন্ধু বা পরিবারের সদস্য হতে
  • অনলাইন পত্রিকা হতে
  • বিক্রেতার সাথে সরাসরি কথা বলে

এমন আরও অনেক ভাবে ক্রেতা তথ্য অনুসন্ধান করে।

একটি জরিপের রিপোর্ট অনুযায়ী,

  • ৩৯% ক্রেতা ই কমার্স ওয়েবসাইট হতে তথ্য সংগ্রহ করে
  • ৫৯% ক্রেতা বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে অনলাইনে কিনতে প্রভাবিত হয়

তথ্যসূত্র: Harvard Business School (The daily Star)

পূর্বের অভিজ্ঞতা ক্রেতাদের অনলাইনে পণ্য কেনাকাটায় দারুণ প্রভাব বিস্তার করে।

কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার আগে ক্রেতা কি করে?

সব রকম পণ্য কেনার ধরন একই রকম হয় না, তবে ক্রেতারা সাধারনত যেভাবে কেনার জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় তার একটা উদাহরণ দেই:

দেখা গেছে, ৭২% ক্রেতা  স্মার্ট ফোন কেনার জন্য দুটি ভিন্ন মডেল পছন্দের তালিকায় রাখে আর ৫৭% ক্রেতা ৫ টির ও বেশি ব্র্যান্ডের ই কমার্স সাইটে গিয়ে স্মার্ট ফোনটির তথ্য নেয়। ৬০% ক্রেতা স্মার্ট ফোন কেনার জন্য ২ সপ্তাহ আগে থেকে অনলাইনে সে সম্পর্কে তথ্য খুঁজতে থাকে।

তাই বুঝতেই পারছেন, অনলাইনে বিভিন্ন জায়গায় আপনার পণ্যের বা ব্র্যান্ডের সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য একজন কাস্টমারের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ।

 

সহজ সরল উপস্থাপনা

কোন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে মানুষের স্বাভাবিক আচরণ হল, সে যত সহজভাবে পণ্যটি সম্পর্কে জানতে পারবে পণ্যটি কেনার সম্ভবনা তাঁর তত বেশি।

তাই পণ্যের অফার ও ডিস্কাউন্ট দেবার ধরন খুব সাধারন হওয়া ভালো। একটা অফার দেখে মানুষ ১৭ মিলি সেকেন্ড সময়ের মধ্যে সে সম্পর্কে একটি ধারনা তৈরি করে।

মানব মস্তিস্কের একটা ধরন হল সে পুরনোকে আঁকড়ে রাখতে চায়। খেয়াল করলে দেখবেন, অধিকাংশ মানুষ যখন কোনো নতুন রেস্টুরেন্টে যায়, তখন আগেই খেয়েছে এমন মেনু অর্ডার করে।যদি রেস্টুরেন্টেটি পূর্ব পরিচিত হয় আর আগেও সেখানে খাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকে, তবে নতুন ডিস অর্ডার করতে কাস্টমার স্বস্তি বোধ করে । কিন্তু সে নতুন কোন রেস্টুরেন্টে সেই স্বস্তি পায় না।

কেনাকাটার ক্ষেত্রে পার্থক্য হল সে একবার আপনার শপ হতে পণ্য অর্ডার করলে পরেরবার কেনার সময় আপনাকেই প্রাধান্য দিতে চাইবে।

পণ্যের ছবি ন্যাচারাল হলেই ভালো, এডিট করা ছবি ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তবে ইকমার্স সাইটের জন্য ভালো মানের ছবি হতে হবে, ক্রেতা অনেকসময় ছবি ডাউনলোড করে অবসর সময়ে জুম করে দেখে। আর ছবির মান যদি খারাপ হয়, তবে আপনার পণ্য না কেনার সম্ভবনা ৯০%।

 

কাস্টমারের আবেগকে প্রাধান্য দেয়া

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ কিছু কেনার সিদ্ধান্ত নেয় আবেগ হতে, এরপর সেটি কেনার পক্ষে যুক্তি খোঁজে।

একদল ক্রেতাকে খোলা পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে পালিত কিছু মুরগী দেখানো হল, আর বলা হল এগুলো স্বাস্থ্যকর কিন্তু কম সুস্বাদু । অন্য আরেকদলকে খামারে পালিত এমন কিছু মুরগী দেখানো হল, আর বলা হল এগুলো খুব সুস্বাদু কিন্তু স্বাস্থ্যকর না।

দেখা গেল, কিছু ক্রেতা খোলা পরিবেশে পালিত মুরগী কেনার পক্ষে।আর কিছু ক্রেতা খামারে পালিত মুরগী কেনার পক্ষে।

প্রথম দল মনে করে খোলা পরিবেশে পালিত মুরগী খাওয়া উচিত, কারণ স্বাদ কম হলেও এটি ‘স্বাস্থ্যকর’। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দল খামারে পালিত মুরগী খাবার পক্ষে, কারণ একটু কম স্বাস্থ্যকর হলেও এর স্বাদ ভালো।

খেয়াল করুন, দুই দলই কিন্তু তাদের পছন্দের জন্য নিজের মত যুক্তি দেবার চেষ্টা করেছে।যারা স্বাস্থ্য সচেতন তারা স্বাস্থ্যকর খাবার প্রাধান্য দিয়েছে । যারা ভোজনপ্রিয় তারা স্বাদকে প্রাধান্য দিয়েছে ।  

তাই পণ্যের মার্কেটিং করার সময় আমাদের অবশ্যই কাস্টোমারদের আবেগকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং পণ্যকে টার্গেটেড কাস্টোমারদের আবেগের/পছন্দের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।

আপনার অনলাইন বিজনেস সম্পর্কিত যে কোনো প্রশ্ন বা সমস্যা সমাধানে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে 0176668138 অথবা 01729241499 অথবা [email protected]

লাইক-ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় পোস্ট