ইমেইল মার্কেটিং কি? এর সুবিধা, অসুবিধা, ও ১০ টি জনপ্রিয় টুলস

ইমেইল মার্কেটিং কি? এর সুবিধা, অসুবিধা, ও ১০ টি জনপ্রিয় টুলস

একটি সফল অনলাইন ব্যবসার গোপন মার্কেটিং কৌশলটি কি? পরিমিত বাজেটে পরিমাপযোগ্য অনলাইন প্রচার প্রচারণায় ই-মেইল মার্কেটিং বিজনেসের জন্য গেইম চেঞ্জার টুলস। কিন্তু কেন ইমেল মার্কেটিং ই কমার্স ব্যবসায়ীদের কাছে এতো গুরুত্বপূর্ণ?

ইমেইল মার্কেটিং কি?

ইমেইল মার্কেটিং হলো একটি ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল, যেখানে ইমেইলের মাধ্যমে সম্ভাব্য বা বর্তমান গ্রাহকদের কাছে পণ্য, সেবা বা ব্র্যান্ডের প্রচার করা হয়। এটি গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি, বিক্রয় বৃদ্ধি এবং ব্র্যান্ড সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

ইমেইল মার্কেটিংয়ের ধরণ

১. প্রোমোশনাল ইমেইল – ডিসকাউন্ট, অফার, বা নতুন পণ্য প্রচারের জন্য।
২. ট্রান্সাকশনাল ইমেইল – অর্ডার কনফার্মেশন, রিসিপ্ট, শিপিং আপডেট ইত্যাদি।
3. নিউজলেটার ইমেইল – ব্লগ আপডেট, কোম্পানির খবর বা শিক্ষামূলক কনটেন্ট।
৪. ড্রিপ ক্যাম্পেইন ইমেইল – নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী গ্রাহকদের ইমেইল পাঠানো।

ইমেইল মার্কেটিং এর সুবিধাগুলো?

ইমেইল মার্কেটিং এর নিচে উল্লেখিত সুবিধা রয়েছে:

  1. ব্যক্তিগতকরন
  2. মতামত ও জরিপ
  3. বেচাকেনা বাড়ে
  4. কাস্টমারদের এনগেইজড রাখে
  5. ই কমার্স সাইটের ট্রাফিক বাড়ায়
  6. সঠিক সময়ে সঠিক মেসেজ দেওয়া যায়
  7. ইমেইল মার্কেটিং এর খরচ কম
  8. নিজস্ব অ্যাড মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়

নিচে প্রতিটি সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

১. ব্যক্তিগতকরন

অন্যান্য মিডিয়াগুলোতে অ্যাড দেবার সময় সবাইকে আলাদাভাবে ভাবে সম্বোধন করা সম্ভব হয় না। কিন্তু ইমেল মার্কেটিং-এ একটি ইমেইল কনটেন্ট প্রতিটি টার্গেট কাস্টমারকে ব্যক্তিগতভাবে সম্বোধন করে পাঠানো সম্ভব।

যেমন,
শুভ সকাল সুমন, দেশি কমার্সের ই কমার্স সল্যুশন ব্যবহারে আপনার অনলাইন বিজনেস ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময়।
শুভ সকাল আরিফ, দেশি কমার্সের ই কমার্স সল্যুশন ব্যবহারে আপনার অনলাইন বিজনেস ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময়।
শুভ সকাল মালিহা, দেশি কমার্সের ই কমার্স সল্যুশন ব্যবহারে আপনার অনলাইন বিজনেস ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময়।
মানুষ তাঁর নিজের নামে পাওয়া কনটেন্ট গুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়।

২. মতামত ও জরিপ

ইমেল মার্কেটিং দ্বারা শুধুমাত্র প্রোডাক্ট প্রোমোশন করা হয় এমন নয়।আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে কাস্টমারদের মতামত জানা যায়। কাস্টমার কীভাবে আপনার বিজনেসকে গ্রহন করছে সেই জরিপ চালানো যায়। এতে করে ক্রমাগত পরিবর্তন সাধন করে বিজনেসকে সফলতার দিকে ধাবিত করা সম্ভব হয়।

৩. বেচাকেনা বাড়ে

৫৯% ব্যবসায়ী মনে করেন ইনভেস্ট করা অর্থের বিপরীতে আয় বাড়াতে ই মেইল মার্কেটিং একটি কার্যকর পদ্ধতি। যে সকল ব্যবসায়ীরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছে তাদের বেচাকেনা ৭৬০% বেড়ে গেছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৯% মানুষ বলেছেন, ইমেল মার্কেটিং কাস্টমারদের কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে

একটি গবেষণায় দেখা যায়,  ক্রেতা তাদের পূর্ব পরিচিত ব্র্যান্ডগুলি থেকে বার বার পণ্য কিনতে পছন্দ করেন। এটি অবাক হওয়ার মতো কোন বিষয় নয়, অনলাইন কাস্টমার কেনাকাটার জন্য তাদের পরিচিত ওয়েবসাইটগুলি এবং ব্র্যান্ডগুলিকেই বেশি প্রাধান্য দেয়।

৪. কাস্টমারদের এনগেইজড রাখে

কাস্টমারদের নিয়মিত ভাবে এঙ্গেজ রাখতে ইমেল মার্কেটিং সফল একটি পদ্ধতি। বছরের সারাটা সময় কাস্টমারদের সাথে খুব সহজে যোগাযোগ রাখা যায়।

৫. ই কমার্স সাইটের ট্রাফিক বাড়ায়

ইমেইলে বিষয়বস্তু পছন্দ করলে পুরো কনটেন্টটি পড়তে বা জানতে আগ্রহী কাস্টমার ইমেলের বডিতে জুড়ে দেয়া একটি Call to action (CTA) বাটন ক্লিক করে মূল ওয়েবসাইটে আসে। এতে আপনার ই কমার্স সাইটে ট্রাফিক বেড়ে যায়।

৬. সঠিক সময়ে সঠিক মেসেজ দেওয়া যায়

ধরুন, আজ আপনার কিছু কাস্টমারের জন্মদিন। আপনি আগে থেকে শিডিউল করে রাখলে তাঁর জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে পারবেন।এতে করে আপনার কাস্টমার খুশি হবে।

বিজনেসে কাস্টমারদের সাথে সঠিক সময়ে সঠিক মেসেজ দিয়ে এঙ্গেজ রাখা খুব জরুরি বিষয় যা না জানার ফলে অনেক ব্যবসায়ী কাস্টমার হারান।

৭. ইমেইল মার্কেটিং এর খরচ কম

মার্কেটিং এর যেকোনো পদ্ধতির চেয়ে ইমেলের ব্যবহার খরচ বাঁচায়। নিউজ পেপারে একটি অ্যাড দিতে আপনাকে ইঞ্চি প্রতি টাকা খরচ করতে হয়, সাথে আছে গ্রাফিক ডিজাইন, কপি রাইটিং এর খরচ। প্রতিবার অ্যাড দিতে গুনতে হয় এই খরচ।

কিন্তু ইমেল মার্কেটিং এ শুধু কনটেন্ট থাকলেই ইচ্ছেমত পরিসরে কাস্টমারদের তথ্য প্রদান করা সম্ভব।যতবার ইচ্ছে আপনার অ্যাড কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন এর জন্য বাড়তি খরচ গুনতে হয় না।

মার্কেটিং এর সফলতা পরিমাপের একটি ইনডিকেটর হচ্ছে, অ্যাড দিতে কত কম পরিমাণ খরচ করে কত বেশি সেল করার সক্ষমতা।

৮. নিজস্ব অ্যাড মিডিয়া

ই মেইল মার্কেটিং নিজস্ব অ্যাড মিডিয়ার কাজ করে। ক্রমাগত কাস্টমার পর্যবেক্ষণ ও অ্যাড প্রবাহ নিশ্চিত করে বিজনেসের সর্বোচ্চ প্রমোশনাল সফলতা নিশ্চিত করা যায়।

ইমেইল মার্কেটিং এর ইতিহাস

ইমেইল মার্কেটিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে, যখন গ্যারি থুয়েরক (Gary Thuerk) নামের একজন মার্কেটার প্রথমবারের মতো ইমেইলের মাধ্যমে বাণিজ্যিক বার্তা পাঠান। তিনি DEC (Digital Equipment Corporation) কোম্পানির পণ্য প্রচারের জন্য প্রায় ৪০০ জন সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে একটি ইমেইল পাঠান, যা থেকেই আধুনিক ইমেইল মার্কেটিংয়ের সূচনা ঘটে। যদিও এই প্রচারণাটি আজকের দৃষ্টিতে স্প্যাম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে এটি বিপুল সাড়া ফেলেছিল এবং কোম্পানিটির বিক্রয়ে লক্ষণীয় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

পরবর্তী কয়েক দশকে ইন্টারনেটের প্রসার এবং ইমেইল ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইমেইল মার্কেটিং আরও কাঠামোবদ্ধ ও কার্যকর একটি মার্কেটিং টুলে রূপ নেয়। ১৯৯০ ও ২০০০ দশকে বিভিন্ন ইমেইল মার্কেটিং সফটওয়্যার ও অটোমেশন টুল তৈরি হয়, যার ফলে ব্যবসাগুলো ব্যক্তিগতকৃত, সময়োপযোগী এবং টার্গেটেড ইমেইল পাঠাতে সক্ষম হয়।

কেন ইমেইল মার্কেটিং ই-কমার্স বিজনেসের সাফল্যের চাবিকাঠি ?

ওয়েবসাইট ট্র্যাফিকের বাস্তবতা হলো, আপনি যখন সম্ভব্য কাস্টমারদের টার্গেট করে অনলাইনে অ্যাড চালান আর এতে করে আপনার ই কমার্স ওয়েবসাইটটিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন কাস্টমার আসে।

কিন্তু আপনি আবার নতুন অ্যাড দিলে পুনরায় টার্গেট কাস্টমার আপনার ই-কমার্স সাইটে আসবে সেই নিশ্চয়তা নেই। কারণ, ওপেন মিডিয়াতে আগ্রহী কাস্টমারদের নিয়মিতভাবে এঙ্গেজ রাখা ও পর্যবেক্ষণ করা সব সময় সম্ভব হয় না।

যদি কাস্টমারদের ইমেল লিস্ট আপনার কাছে থাকে এবং নিয়মিত বিরতিতে আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের তথ্য অথবা কাস্টমারদের জন্য প্রয়োজনীয় ও উপকারী তথ্য প্রদানের মাধ্যমে তাদের এঙ্গেজ রাখেন তবে আপনার ই কমার্স সাইটের প্রতি একসময় তাদের আগ্রহ তৈরি হয়।

এতে করে পরবর্তী কেনাকাটার জন্য তাঁরা আপনার ই কমার্স সাইটকে বেঁছে নেবার সম্ভবনা বাড়ে।

ইমেইল মার্কেটিং এর গুরুত্ব ও এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিভিন্ন ফ্যাক্ট ও ডেটা এর কার্যকারিতা এবং ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের সাক্ষ্য দেয়। দেখা গেছে, ইমেইল মার্কেটিং-এ বিনিয়োগকৃত প্রতি ডলারের বিপরীতে গড়ে $42 পর্যন্ত আয় ফেরত পাওয়া যায়, যা অন্যান্য অনেক মার্কেটিং চ্যানেলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। লিড জেনারেশনের ক্ষেত্রেও এর কার্যকারিতা প্রশ্নাতীত, যেখানে ৫৯% মার্কেটার এটিকে সোশ্যাল মিডিয়া এবং PPC-এর চেয়ে দ্বিগুণ কার্যকর বলে মনে করেন। ব্যক্তিগতকরণের মাধ্যমে ইমেইলের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়; ব্যক্তিগতকৃত ইমেইলগুলি সাধারণ ইমেইলের তুলনায় ৬ গুণ বেশি লেনদেন ঘটাতে সক্ষম। 

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিও ইমেইল মার্কেটিং-এর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎের ইঙ্গিত দেয়। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী এই বাজারের আকার প্রায় USD 0.93 বিলিয়ন ছিল এবং পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৩৩ সাল নাগাদ এটি USD 1.21 বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে, যা প্রায় ২.৯% CAGR হারে বৃদ্ধি পাবে। অন্য একটি পূর্বাভাসে ২০২৫ সালে বাজারের আকার USD 12.88 বিলিয়ন এবং ২০৩০ সালে USD 22.81 বিলিয়ন পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে CAGR ১২.১১% হতে পারে। 

ডিজিটাল যোগাযোগের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং উন্নত প্রযুক্তির সংযোজন এই বাজারকে আরও সম্প্রসারিত করছে। ই-কমার্স এবং অনলাইন রিটেইল সেক্টরের প্রসারও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তবে, ডেটা প্রাইভেসি সংক্রান্ত কঠোর নিয়মকানুন এবং স্প্যাম ফিল্টারের মতো কিছু চ্যালেঞ্জও মার্কেটারদের মোকাবিলা করতে হয়।

ই-কমার্স বিজনেসে ইমেইল মার্কেটিংএর সাফল্য

২০১৮ সালে DMA এর গবেষণায় দেখা গেছে ই-মেইল মার্কেটিং-এ খরচ করা প্রতি ডলারের বিপরীতে গড়ে ৩২ ডলার রিটার্ন আসে। টাকার অংকে প্রতি ৮৬ টাকায় ২৭৫২ টাকার বিজনেস হয় ( বর্তমান ডলার রেট অনুযায়ী)। বছরের পর বছর ধরে করা ই-মেইল মার্কেটিং সংক্রান্ত গবেষণাগুলো একই চিত্র তুলে ধরে।

এমারসিসের ২০১৮ এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৮০% প্রতিষ্ঠান তাদের কাস্টমার সংগ্রহ ও তাদের ধরে রাখার জন্য প্রাথমিক চ্যানেল হিসাবে ইমেলের উপর নির্ভরশীল।

তাই ক্রেতাদের কাছে বার বার আরও বেশি সেল করার জন্য ইমেল মার্কেটিং সবসময় নির্ভরযোগ্য ও কার্যকরী কৌশল বলে অনলাইন ব্যবসায়ীরা বিশ্বাস করেন।

ইমেইল মার্কেটিং শুরু করবেন কীভাবে?

অনলাইন বিজনেসের শুরুতেই ব্যবসায়ীদের মনোযোগ দিতে হবে কাস্টমারদের ই-মেইল লিস্ট তৈরিতে। বিজনেস শুরু করার আগে থেকে এই কাজ এগিয়ে রাখলে ভালো হয় তবে বিজনেস শুরুর প্রথমদিন হতে ই-মেইল লিস্ট তৈরি শুরু করতে পারেন।

ই-মেইল মার্কেটিং দ্বারা রেগুলার সেল নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন এমন ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তাঁরা প্রথম কবে কাস্টমারদের ই-মেইল লিস্ট তৈরি শুরু করেছিলেন? অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা উত্তরে বলেছিলো, “বিজনেস শুরুর প্রথম দিন থেকে।”

১০ টি জনপ্রিয় ইমেইল মার্কেটিং টুলস

 

কাস্টমারদের কাছে নিয়মিত বিরতিতে ইমেইল পাঠানোর জন্য প্রয়োজন একটি অটোমেটিক সিস্টেম।

নিচে দেয়া কতগুলো বেস্ট ইমেইল প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে থেকে আপনার বিজনেসের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মটি বেছে নিন।প্রয়োজনে এক্সপার্টদের পরামর্শ নিন।

  1. Constant Contact
  2. SendInBlue
  3. GetResponse
  4. MailChimp
  5. ConvertKit
  6. Drip
  7. AWeber
  8. Keap
  9. MailerLite
  10. ActiveCampaign

ইমেইল মার্কেটিং এর জন্য লিড জেনারেশন করবেন কিভাবে?

কীভাবে আপনি আরও নতুন নতুন কাস্টমারদের ই-মেইল এড্রেস পাবেন, কীভাবে কাস্টমারদের এঙ্গেজ করবেন সেই পরিকল্পনা করুন।লিড জেনারেশনের প্রচলিত কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে,

  • সাইনআপ ফর্ম
  • প্রতিযোগিতার আয়োজন
  • কাস্টমারদের প্রয়োজনীয় ফ্রি রিসোর্স অথবা টুলস অফার
  • বিজনেস ব্লগ

কাস্টমারদের এঙ্গেজ রাখতে প্রয়োজন কনটেন্ট প্ল্যান। কনটেন্ট প্ল্যান হলো আপনি টার্গেট কাস্টমারদের কি মেসেজ দিবেন, কীভাবে দিবেন তার খসড়া পরিকল্পনা।

লিড জেনারেশনে ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ব্যবহার

কাস্টমার আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করলে তার ই-মেইলটি আপনার ই কমার্স সাইটে অর্গানাইজড ভাবে স্টোর হয়ে যায়। সেই ই-মেইলগুলোতে পরবর্তী সময়ে নতুন নতুন প্রোডাক্টের প্রমোশনাল মেসেজ দিয়ে কাস্টমারদের আপডেট রাখা সহজ হয় যা রেগুলার সেল নিয়ে আসতে দারুণ সহায়ক।

ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করা যায় কিভাবে?

ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করা সম্ভব বিভিন্ন উপায়ে, যেমন:

  • ফ্রিল্যান্সিং – Fiverr, Upwork, Freelancer-এ ক্লায়েন্টদের জন্য ইমেইল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে আয় করা যায়।
  • ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি – নিজস্ব এজেন্সি খুলে ক্লায়েন্টদের ইমেইল মার্কেটিং সেবা দেওয়া যায়।
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং – ইমেইল লিস্ট ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট পণ্য বা পরিষেবা প্রচার করে কমিশন আয় করা যায়।
  • ই-কমার্স ও ড্রপশিপিং – ইমেইল মার্কেটিং ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করে আয় করা যায়।
  • SAAS কোম্পানির জন্য ইমেইল মার্কেটিং – সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর জন্য লিড জেনারেশন এবং কনভার্সন বাড়ানোর কাজ করা যায়।

ইমেইল মার্কেটিং কি বেশি বেতনের কাজ?

হ্যাঁ, ইমেইল মার্কেটিং একটি লাভজনক এবং উচ্চ বেতনের পেশা। দক্ষ ইমেইল মার্কেটারদের জন্য আয় অনেক বেশি হতে পারে, কারণ:

  1. উচ্চ ROI (প্রত্যাবর্তন হার) – ইমেইল মার্কেটিং ব্যবসার জন্য অত্যন্ত লাভজনক, তাই কোম্পানিগুলো এতে বিনিয়োগ করে।
  2. বিশেষজ্ঞদের চাহিদা – দক্ষ ইমেইল মার্কেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো সুযোগ রয়েছে।
  3. ফ্রিল্যান্স মার্কেটে উচ্চমূল্য – ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে ইমেইল মার্কেটিং সেবার দাম বেশ ভালো, প্রতি প্রজেক্টে $50 থেকে $5000 পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
  4. জব মার্কেটেও ভালো বেতন – একজন ইমেইল মার্কেটিং স্পেশালিস্টের গড় মাসিক বেতন $3000 থেকে $7000 পর্যন্ত হতে পারে।

সঠিক দক্ষতা অর্জন করলে ইমেইল মার্কেটিং দিয়ে ভালো পরিমাণ আয় করা সম্ভব।

ইমেইল মার্কেটিং এর সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সম্পর্ক

ইমেইল মার্কেটিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ডিজিটাল মার্কেটিং একটি ব্যাপক কৌশল, যা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পণ্য ও সেবার প্রচারের জন্য বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে, যেমন সোশ্যাল মিডিয়া, সাইট অ্যানালিটিকস, পেইড অ্যাডভার্টাইজিং এবং ইমেইল মার্কেটিং। ইমেইল মার্কেটিং এই ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে, যেখানে ব্র্যান্ডগুলি ইমেইল মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছায়, তাদের আকৃষ্ট করে এবং বিক্রয় বাড়ানোর জন্য কার্যকরী কৌশল প্রয়োগ করে।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম যেমন সোশ্যাল মিডিয়া বা ওয়েবসাইটের সমন্বয়ে ইমেইল মার্কেটিংকে আরও বেশি শক্তিশালী করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা ডেটা বা সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনগুলোর ফলাফলগুলো ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আরও নির্দিষ্ট, ব্যক্তিগতকৃত এবং লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণায় রূপান্তরিত করা সম্ভব। এই সম্পর্কটি ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য এক শক্তিশালী টুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পরিশেষে

ইমেল মার্কেটিং একটি সুনিয়ন্ত্রিত ও কার্যকরী পদ্ধতি যার দ্বারা অতি কম খরচ করে প্রোডাক্টের অ্যাড কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়। বেড়ে যায় প্রফিটের অংক। কাস্টমার এঙ্গেজ, লিড জেনারেশন ও রেগুলার সেল করতে আজকে থেকেই শুরু করুন ই মেইল মার্কেটিং।

আরো পড়ুনঃ

ইকমার্সের লোকাল মার্কেটিং: নিজ এলাকার কাস্টমারদের কাছে বিজনেস করার কৌশল

বারবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ

জিমেইল দিয়ে কি ইমেইল মার্কেটিং করা যায়?

জিমেইল সীমিত সংখ্যক ইমেইল পাঠাতে পারে, তবে ইমেইল মার্কেটিং টুল ব্যবহার করা ভালো।

ইমেইল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে?

সাধারণত ১-৩ মাসের মধ্যে শেখা সম্ভব।

Email marketing এর কাজ কি?

ইমেইলের মাধ্যমে পণ্য, সেবা বা ব্র্যান্ডের প্রচার ও গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ রাখা।

জিমেইল এ ইমেইল ব্লাস্ট কিভাবে করব?

গুগল ওয়ার্কস্পেস বা ইমেইল মার্কেটিং টুল (যেমন Mailchimp) ব্যবহার করতে হবে।

ইমেইল মার্কেটিং এর জন্য গুগল ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করা যাবে কি?

হ্যাঁ, তবে সীমিত সংখ্যক ইমেইল পাঠানো যায়।

ইমেইল মার্কেটিং রেজাল্ট দেখতে কতদিন লাগে?

সাধারণত ২৪-৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক ফলাফল দেখা যায়।

ইমেইল মার্কেটিং কারা করে?

ব্যবসায়ী, ডিজিটাল মার্কেটার, সংস্থাগুলো এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান।

একসাথে 2000 মেইল ​​পাঠানোর উপায়?

ইমেইল মার্কেটিং টুল (Mailchimp, SendinBlue) বা গুগল ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করতে হবে।

জিমেইল দিয়ে কি ইমেইল মার্কেটিং করা যায়?

সীমিতভাবে করা যায়, তবে বৃহৎ পরিসরের জন্য বিশেষ টুল দরকার।

ইমেইল যোগাযোগের জন্য গুগল ওয়ার্কস্পেস কোন টুল ব্যবহার করা হয়?

Gmail, Google Groups এবং Google Contacts।

গুগলের কি মেইলিং লিস্ট আছে?

হ্যাঁ, Google Groups ব্যবহার করে মেইলিং লিস্ট তৈরি করা যায়।

জিমেইল ইমেইল লিমিট বাড়ানোর উপায়?

গুগল ওয়ার্কস্পেস সাবস্ক্রিপশন বা তৃতীয় পক্ষের ইমেইল সার্ভিস ব্যবহার করতে হবে।

জিমাস কি গুগল থেকে?

না এটি গুগলের সেবা নয়। তৃতীয় একটি ইমেইল মার্কেটিং টুল যা জিমেইলের সাথে কাজ করে।

কিভাবে জিমেইল ক্যাম্পেইন তৈরি করব?

Gmass বা Mail Merge ব্যবহার করে জিমেইল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা যায়।

গুগল ওয়ার্কস্পেস কারা ব্যবহার করতে পারে?

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পেশাদার ব্যবহারকারীরা।

ইমেইল মার্কেটার এর কাজ কি?

ইমেইল কন্টেন্ট তৈরি, ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং বিশ্লেষণ করা।

বেশি এঙ্গেজমেন্ট পেতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার বেস্ট টাইম

বেশি এঙ্গেজমেন্ট পেতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার বেস্ট টাইম

বেশি এঙ্গেজমেন্ট পেতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার বেস্ট টাইম কখন ? সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি এই প্রশ্নটি আমাদের কাছে আসে।

অনলাইন বিজনেসে সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট পোষ্ট করলেই এঙ্গেজমেন্ট পাবেন না, জানতে হবে কোনদিন কোন সময়ে পোষ্ট করবো। কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট একটি উত্তর নেই তবে যে সময় ও দিনগুলিতে পোষ্ট করলে সর্বোচ্চ রিচ ও এঙ্গেজমেন্ট পাওয়া সম্ভব সেটি খুঁজে বের করতে হয়।

অনলাইন বিজনেসের প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত আপডেট বা খুব কম আপডেট দুটোই ক্ষতিকর। তবে মিনিংফুল পোষ্টগুলোর জন্য বেশি বেশি আপডেট সব সময়ে খারাপ না।সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি জানলে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়াতে সুফল বলতে আমরা বেশি রিচ ও এনগেজমেন্ট বুঝি।

বাংলাদেশে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৫ টি প্লাটফর্ম। চলুন জেনে আসি বিভিন্ন গবেষণায় এসব সোশ্যাল মিডিয়াগুলো ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে উঠে আসা তথ্য যা আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে কোন সময়গুলোতে কতবার পোষ্ট করা হলে বেশি পরিমাণ রিচ ও এনগেজমেন্ট আসে।

ফেসবুক বিজনেস পেজঃ

দিনে ১ থেকে ২ টি পোস্ট করা ভাল।

বাংলাদেশে এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। নভেম্বর ২০১৭ সালে বি.টি.আর.সি এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী অনলাইন টেকনোলজি প্লাটফর্ম Digiology একটি প্রতিবেদনে বলে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন।

যাদের মধ্যে ৭২% পুরুষ ও ২৮% মহিলা। এদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছরের ব্যবহারকারী সবচেয়ে বেশি। ব্যবহারকারীর মোট ৮৬% মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহার করে এর মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে ফেসবুক চালায় ৯০% ব্যবহারকারী ।

HubSpot’s তাঁদের একটি গবেষণায় বলছে, ফেসবুকে পোস্ট করার ক্ষেত্রে আপনার কত ফলোয়ার আছে সেটি একটি বিবেচ্য বিষয়। তবে অধিকাংশ ব্র্যান্ডের অনলাইন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে দিনে সর্বোচ্চ দুটোর বেশি পোস্ট করলে এনগেজমেন্ট কমে যায়। সপ্তাহের শেষের দিনে বেশি সংখ্যক মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে।

টুইটারঃ

দিনে ৫ থেকে ১০ টি পোস্ট করা ভাল।

বাংলাদেশের প্রফেশনালদের কাছে খুব সম্প্রতি এই প্ল্যাটফর্মটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে । গ্রামীনফোনের মত বড় প্রতিষ্ঠান অথবা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব কমবেশি সবাই বর্তমানে এই মিডিয়াতে সক্রিয়। গ্রামীনফোনের ফলোয়ার প্রায় ২ লাখ আর ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সাকিব আল হাসানের ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১.৫ লাখের ও বেশি। এই প্ল্যাটফর্মটিতে আপনি সারাদিনে যত বেশি সম্বব পোস্ট করুন।

দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১ টার মধ্যবর্তী সময়ে বেশি সংখ্যক একটিভ ইউজার থাকে।এই সময়ের মধ্যে পোস্ট করলে ভাল এনগেজমেন্ট পাওয়া যায়।

পিন্টারেস্টঃ

ছবির মাধ্যমে প্রোডাক্ট, সার্ভিস বা আইডিয়া শেয়ার করার জন্য সুপরিচিত এই প্ল্যাটফর্মটি। Buffer’s এর একটি গবেষণা মতে, আপনার যদি খুব বেশি পরিমান কন্টেন্ট না থাকে তবে সর্বনিম্ন ৫ টি ছবি পিন করে ব্যবহার শুরু করুন। ভাল এনগেজমেন্ট পেতে দিনে সর্বোচ্চ ৩০ টি ছবিও পিন করতে পারেন। যত বেশি পিন করবেন তত এনগেজমেন্ট বেড়ে যাবে।
এক্ষেত্রে ফেসবুক থেকে এটি ভিন্ন।

লিঙ্কেডিনঃ

একমাসে ২০টি পোস্টের বেশি না করা ভাল।

অফিস চলাকালীন দিনে ১ টি করে পোস্ট যদি নিয়মিত করা হয় তবে ৬০% ফলোয়ারদের কাছে পৌঁছানো সম্বব। এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত প্রফেশনালদের প্লাটফর্ম তাই ব্যবহারে মার্জিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

ইনস্টাগ্রামঃ

ছবি শেয়ারের জন্য জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম। প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশানের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে এটি ব্যবহার করুন।

Union Metrics এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে , যে সকল ব্র্যান্ড এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে সফল হয়েছে তাঁরা সারাদিনে গড়ে ১.৫ বার ছবি শেয়ার করে।

তাই এটি খুব স্পষ্ট যে প্রতিটি প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ভাল কাস্টমার এনগেজমেন্ট পেতে সময় ও পোস্ট শেয়ারের মধ্যবর্তী ব্যবধান জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

আপনি যখন অনলাইন বিজনেসের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং প্ল্যান তৈরি করবেন তখন অবশ্যই যে বিষয়গুলির উপর নজর দিতে হবে।

  • আপনি কি সত্যিকার অর্থে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলি সঠিক পরিচালনা করতে সক্ষম হচ্ছেন।
  • বেশি পরিমান মিনিংলেস পোস্ট দেবার থেকে কম কিন্তু মিনিংফুল পোস্ট দেয়া।

আপনার অডিয়েন্সের রেসপন্স পর্যবেক্ষণ করুন।

সোশ্যাল মিডিয়া এনালিটিক্স ব্যবহার করে নিশ্চিত হন আপনার অডিয়েন্স কোন পোস্টগুলিতে কেমন রেসপন্স করছে এবং সেই মোতাবেক আপনার পোস্ট শেয়েরের সময় ও কৌশল নির্ধারণ করুন।

বিজনেসে সোশ্যাল মিডিয়া ধারাবাহিক ব্যবহার নিশ্চিত করুন। 

সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে এক সপ্তাহ নিয়মিত আপডেট দিলেন পরের একমাস সব বন্ধ এমন হলে ভালো পরিমাণ এনগেজমেন্ট আশা করা বোকামি।

ফেসবুকের এলগরিদম মেশিন লার্নিং, তাই আপনার ব্যবহারের ধরণ ও অডিয়েন্সদের এঙ্গেজ হবার পরিমাণ অনুযায়ী সে তথ্য সংগ্রহ করে পোষ্টটিকে আরও বেশি পরিমাণ সঠিক দর্শকদের কাছে কি পৌঁছে দিবে কিনা বা কীভাবে পৌঁছে দিবে সেটি প্রতিনিয়ত পরিমাপ করে। তাই ব্যবহারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা খুব প্রয়োজন।

শুধু মাত্র আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের বাইরে আপনার কাস্টমারের জন্য উপকারী অথবা আপনার বিজনেসের সাথে রিলেটেড অন্যদের পোস্টগুলি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে শেয়ার করুন।তাঁদের পোস্ট নিয়ে আপনার নিজের চিন্তা রি-পোস্ট বা কমেন্ট করুন।

আপনার কাস্টমারদের দৈনন্দিন জীবনে উপকারে আসবে এমন কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে শেয়ার করুন । যখন কেউ প্রয়োজনীয় ও উপকারী তথ্য আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে খুঁজে পাবে তখন তাঁরা আপনার সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবার জন্য আগ্রহী হবে।

যে সকল সোশ্যাল মিডিয়াতে তথ্যের প্রবাহ খুব বেশি সেখানে একই পোস্ট কয়েকবার শেয়ার করুন।

যেমন টুইটারে প্রচুর পোস্ট যায়, আপনি যদি চান আপনার পোস্ট অধিক অডিয়েন্স দেখুক তাহলে দিনের বিভিন্ন সময় কয়েকবার শেয়ার দিন।

coschedule.com এর একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, একটি পোষ্টের লিঙ্ক একাধিকবার শেয়ারের ফলে সেটিতে ক্লিক হবার রেট ১৯২% বেড়েছিল।

আপনার পোস্টটি পোস্ট করুন যখন আপনার কাস্টমার অনলাইনে থাকে।কাস্টমারের অবসর সময়গুলি খুঁজে বের করুন। আপনার টার্গেট কাস্টমার যদি চাকুরীজিবি হন তবে অফিস ছুটির পর যখন বাসায় অবসর সময় কাটায় বা দুপুরে খাবার শেষে যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে একটু অলস সময় পার করে ঠিক সে সময়গুলি আপনি বেছে নিতে পারেন আপনার পোস্ট পাবলিশ করার জন্য।

প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে কাস্টমার প্রশ্ন করলে সেটির উত্তর অত্যন্ত যত্নের সাথে দিয়ে হয়

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কাস্টমারের বার বার প্রশ্ন করা সত্ত্বেও উত্তর না দেয়া বা ভুল তথ্য দেয়া আপনার বিজনেসের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।

আপনি যদি বিজনেসে ব্যস্ত সময় পার করেন আর সেজন্য সোশ্যাল অ্যাকাউন্টগুলো ম্যানেজ করা কঠিন হয়ে পড়ে তবে কিছু অনলাইন টুলস ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলি অটোমেটিক ভাবে শেয়ার করতে পারেন।

আপনি সপ্তাহে একদিন একটি ঘণ্টা সময় ব্যয় করে সেটআপ সম্পন্ন করে দিলেই কাজ শেষ।

আপনি যদি সঠিক পরিকল্পনা না করে বিজনেসে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের ব্যবহার শুরু করেন তবে এটি ম্যানেজ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তে পারে। কেবল মাত্র একটি কার্যকরী পরিকল্পনার মাধ্যমে খুব কম পরিশ্রমে ও কম সময় ব্যয় করে সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

এতক্ষন জানলাম সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার বেস্ট টাইম সম্পর্কে। মিলিয়ে দেখুন, আপনি ঠিক সময়ে পোস্ট করছেন কি? 

আরো পড়ুনঃ

ফেসবুক বিজনেস পেজ: কিভাবে পেজের এনগেজমেন্ট বাড়াবেন

৭ টি সেরা ফ্রি অনলাইন ফটো এডিটিং টুলস

৭ টি সেরা ফ্রি অনলাইন ফটো এডিটিং টুলস

আজ জানবো ৭ টি সেরা ফ্রি অনলাইন ফটো এডিটিং টুলস সম্পর্কে। আপনার যদি গ্রাফিক ডিজাইনের অভিজ্ঞতা না থাকে তবে অনলাইনেই কিছু দারুণ টুলস রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজে চাহিদা মতো পরিমাপ ও আকারের ছবি রিসাইজ করতে পারবেন।

ই কমার্স ওয়েবসাইট, বিজনেস ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর জন্য খুব সহজে ছবির সাইজ পরিবর্তন করতে পারবেন এই অনলাইন ফটো এডিটিং টুলসগুলো ব্যবহার করে।

 

কাস্টমারদের আস্থা অর্জন এবং অনলাইনে আরও বেশি বিক্রয় করার জন্য প্রোডাক্টের ছবির বিকল্প নেই। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, 93% ভোক্তা বলেছেন যে প্রোডাক্টের ভিজ্যুয়াল উপস্থিতি ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। কিন্তু সকল ই কমার্স সাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ছবির পরিমাপ ও আকার ভিন্ন।

গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ না জানলেও বিনামূল্যে অনলাইনে ছবির সাইজ, ফরম্যাট পরিবর্তন করা যায় এমন কিছু ফটো এডিটিং টুলস সম্পর্কে জানাবো।

BeFunky

দ্রুত ও সহজে ছবি রিসাইজ করার জন্য এটি দুর্দান্ত অনলাইন ফটোএডিটর ও ইমেজ রিসাইজার টুলস। ফ্রি ব্যবহার করতে পারবেন চাইলে মাসিক ফি দিয়ে অ্যাকাউন্ট আপগ্রেড করার সুযোগ আছে।

ফটো ফিল্টার এবং এফেক্টস, টাচআপস, ফ্রেম, টেক্সট সহ দারুণ সব ফিচার রয়েছে এই ফটোএডিটর ও ইমেজ রিসাইজার টুলস। ই কমার্স বিজনেস বা সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারদের জন্য এই টুলস অনন্য।

ছবির প্রস্থ বা উচ্চতা বা পারসেন্ট স্কেল অনুসারে পরিবর্তন করতে পারবেন। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবিকে বিকৃত না করে আপনার নির্দেশিত সাইজে আকার পরিবর্তন করতে সক্ষম।

ব্যবহার করুনঃ BeFunky

B.I.R.M.E

BIRME পুরনাঙ্গ অর্থ Batch Image Resizing Made Easy একসাথে অনেকগুলো ছবির আকার পরিবর্তন করতে এটি দারুণ কাজ করে ।

এই টুলস ব্যবহার করে ছবিতে বর্ডার যুক্ত করা যায়। আপনি শুধু দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও পিক্সেল নির্ধারণ করে দিলেই বাকি কাজ স্বয়ংক্রিয় ভাবে হয়ে যাবে।

BIRME বৈশিষ্ট্যগুলির অন্যতম হলো ছবিগুলি আকার পরিবর্তন শেষ হওয়ার আগেই আপনি এর প্রিভিউ দেখতে পারেন।

ব্যবহার করুনঃ B.I.R.M.E

Online Image Resize

খুব সাধারণ একটি ইমেজ রিসাইজার টুলস। অন্য সকল একটি ইমেজ রিসাইজার টুলস যদি ব্যবহার করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ না করেন তবে এটি ব্যবহার করতে পারেন। একটি বা একাধিক ছবি একসাথে সিলেক্ট করে আপনি আকার পরিবর্তন করতে পারবেন।

ফটো স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে পরিবর্তন, ছবির ফাইলের আকার পরিবর্তন, ক্রপিং, মিররিং সহ আরও বেশ কিছু কাজ করতে পারবেন। আপনি এগুলিকে একক ভাবে বা সবগুলো একসাথে একটি জিপ ফাইলে ডাউনলোড করতে পারবেন।

ব্যবহার করুনঃ Online Image Resize

Social Image Resizer Tool

সামাজিক মিডিয়া জন্য ছবির পরিমাপ পরিবর্তন করতে এটি দারুণ। সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ছবির নির্দিষ্ট একটি পরিমাপ রয়েছে। সবগুলো প্ল্যাটফর্মের জন্য সঠিক ছবির সাইজ মনে রাখা কষ্টকর।

এই অনলাইন ফটো এডিটিং টুলস এই সমস্যার সমাধান করে, একটি ড্রপডাউন মেনু রয়েছে যেখানে শুধু কাঙ্ক্ষিত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটি সিলেক্ট করে দিলেই আপনার ছবি সাইজ সেই মতো পরিবর্তন হয়ে যাবে।

ফেসবুক, লিংকডইন, টুইটার এবং গুগলের জন্য কাভার এবং প্রোফাইলের ফটো
Pinterest এবং ইনস্টাগ্রাম থাম্বনেল এবং লাইটবক্স চিত্র
ইউটিউব চ্যানেল আর্ট এবং কাস্টম ভিডিও থাম্বনেইল
এবং আরো অনেক

কেবল নিজের পছন্দটি বেছে নিন এবং টুলসটি আপনাকে আপনার ছবি ক্রপ এবং আকার সঠিকভাবে পরিবর্তন করে দিবে।

দ্রষ্টব্য: সর্বাধিক 2 এমবি আকারের ফাইলগুলো এই টুলস সাপোর্ট করে। আসল ছবিটি আরও বড় হয় তবে এটিকে প্রথমে 2 এমবি এর নীচে নিয়ে আসতে হবে পরে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য এটি সঠিক আকারে পরিবর্তন করতে পারবেন।

ব্যবহার করুনঃ Social Image Resizer Tool

Simple Image Resizer

এটিকে “সিম্পল ইমেজ রেসাইজার” নামকরণ করা সার্থক । ছবি নির্বাচন করুন, পিক্সেল অনুপাতে আকার পরিবর্তন করতে চাইলে সেটি নির্বাচন করুন বা পারসেন্টেজ নির্বাচন করুন তারপরে রিসাইজ বাটনে ক্লিক করুন, চাহিদা মতো ছবি রিসাইজ হয়ে যাবে।

ডাইমেনশন এর অনুপাত স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক হয় না তাই এই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। না হলে ছবি বিকৃত হতে পারে।

আপনি এই টুলস দিয়ে ছবি কেবল ছোট করতে পারেন, বড় করতে চাইলে সেটি সম্ভব নয়।

তাহলে কেন এই টুলসটি নিয়ে বলছি, যদি ছবির ফাইলের ফরম্যাট পরিবর্তন করতে চান তবে এটি সবচেয়ে সহজ টুলস।

ব্যবহার করুনঃ Simple Image Resizer

 

Photo Resizer

এই টুলসটি অনেকটাই সোশ্যাল ইমেজ রেজাইজারের মত , এটি সোশ্যাল মিডিয়াগুলো যেমন, ফেসবুক, টুইটার, Google+ এবং ইনস্টাগ্রামের জন্য ছবির পরিমাপ ঠিক করতে ব্যবহার করতে পারবেন।

এটি মাইক্রোসফ্ট পেইন্টের মতো কিছু ফিচার রয়েছে। ছবি ঘোরানো বা ফ্লিপ করতে পারেন, পাশাপাশি ছবিগুলির উপর পেইন্ট, বৃত্ত বা আয়তক্ষেত্র আঁকতে পারবেন।

ছবিতে ক্যাপশন বা ছবির কোনও নির্দিষ্ট অংশের দিকে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার প্রয়োজন পড়ে এই টুলস সেটির জন্য সহায়ক।

সরঞ্জামগুলি ড্রপডাউন মেনুতে শার্পেন বিকল্পটি অস্পষ্ট চিত্রটি আরও পরিষ্কার দেখাতে সহায়তা করতে পারে যা চিত্রের মানের সাথে সহায়তা করতে পারে।

ব্যবহার করুনঃ Photo Resizer

I Love IMG

একাধিক ছবির আকার একসাথে পরিবর্তন করতে এই টুলস ব্যবহার করুন। I Love IMG
তে সমস্ত ছবি একসাথে আপলোড করুন, তারপরে আপনি পিক্সেল বা পারসেন্টেজ কিভাবে আকার পরিবর্তন করতে চান কিনা তা নির্ধারণ করে দিন।

এই টুলস এর একটি সুবিধা হলো ছবি ঝাপসা হয় না, ভালো মানের ছবি পেতে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

একই সময়ে একাধিক চিত্রের আকার পরিবর্তন করতে চাইলে এই টুলস ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যবহার করুনঃ I Love IMG

 

এখন হতে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট দেবার সময় সঠিক সাইজের ছবি ব্যবহার করুন। উপরে উল্লেখকৃত অনলাইন টুলসগুলো পার্সেন্টেজ, পিক্সেল,কাস্টম সাইজ অনুযায়ী ছবি রিসাইজ করার সুবিধা দেয়। তবে আপনি যদি চান নির্দিষ্ট একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্য ছবি রিসাইজ করবেন তবে টুলসগুলো আপনাকে সঠিক মাপের ছবি মাত্র এক ক্লিকেই তৈরি করে দিবে।

 

এই ৭ টি সেরা ফ্রি অনলাইন ফটো এডিটিং টুলসগুলো পরবর্তীতে ব্যবহার করতে সংগ্রহে রাখুন। দারুণ সব ই কমার্স বিজনেসের টুলস ও টেকনোলজির তথ্য পেতে DeshiCommerce  ব্লগটি সাবস্ক্রাইব করুন।

ই কমার্স ওয়েবসাইটের বেচাকেনায় কাস্টমারদের প্রভাবিত করতে রঙ এর মনস্তত্ত্ব

ই কমার্স ওয়েবসাইটের বেচাকেনায় কাস্টমারদের প্রভাবিত করতে রঙ এর মনস্তত্ত্ব

ই কমার্স ওয়েবসাইটের বেচাকেনায় রঙ এর মনস্তত্ত্ব জানা প্রয়োজন। রং নির্বাচনের ধরন দেখে একটি ই কমার্স ওয়েবসাইট সম্পর্কে এমন অনেক ধারণা করা যায় যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সত্যি বলে প্রমাণিত।

পাবলো পিকাসো বলেছেন, “আবেগের পরিবর্তন অনুসরণই রঙের বৈশিষ্ট্য।” রঙের ব্যবহার এবং এর প্রতি মানুষের আকর্ষণ সেই প্রাচীনকাল হতে।বিশেষ রঙ বিশেষ অর্থও বহন করে। রঙ মানুষের মনকে দারুন রকম প্রভাবিত করে। কিছু রঙ প্রশান্তি দেয়, কিছু রং উত্তেজনা বাড়ায়, কিছু রং আবেগকে জাগ্রত করে।

“Color is a power which directly influences the soul.” ~Wassily Kandinsky

ই কমার্স ওয়েবসাইটের বেচাকেনায় কাস্টমারদের প্রভাবিত করতে রঙ এর মনস্তত্ত্ব

রঙের সঠিক, বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার করে খুব সহজে টার্গেট কাস্টমারদেরকে ই-কমার্স সাইটটির প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব।

রঙ এর মনস্তত্ত্ব

সিওল ইন্টারন্যাশনাল কালার এক্সপো দ্বারা পরিচালিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, ৯২% মানুষ বলেছেন, অনলাইনে প্রোডাক্ট কেনার সময় রং প্রভাবক হিসাবে কাজ করে।

বিশ্বাস করুন বা না করুন, কেবল ৬% মানুষ বলেছেন যে তাদের ক্ষেত্রে প্রোডাক্টটি হাতে নিয়ে দেখাতে বেশি পছন্দ, ১% গন্ধ এবং শ্রবণশক্তিকে গুরুত্ব দেয় তবে সেটি এয়ার ফ্রেশনার বা মিউজিক সিডি কেনার জন্য।

রং গবেষণা ইনস্টিটিউট দ্বারা পরিচালিত অন্য এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে কাস্টমার তাঁর অবচেতন মনে কোনো মানুষ, পরিবেশ বা পণ্যের প্রথম দর্শনের দুই মিনিটের মধ্যেই সেটি সম্পর্কে মতামত তৈরি করে ফেলে।

বিষয়টি রীতিমতো অবিশ্বাস্য যে, ৬০% থেকে ৯০% কাস্টমার কোনো কিছু মূল্যায়ন করেন কেবল রঙের উপর ভিত্তি করে। রঙের সঠিক ব্যবহার ইকমার্স সাফল্যের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। আসুন জানি, কোন রং কি প্রকাশ করে।

বাদামী (Brown)

ব্রাউন একটি শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য রং যা কাস্টমারের অবচেতন মনে আস্থার জায়গা তৈরি করে। এটির মধ্যে আত্মবিশ্বাসের আভা আছে। ই কমার্স বিজনেসকে আত্মবিশ্বাসী করে উপস্থাপন করতে এই রঙের ব্যবহার করতে পারেন।

কমলা (Orange)

কমলা রঙ উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং শক্তিশালী উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়। এটি আবেগ, মৌলিকত্ব এবং নতুন কিছুর সূচনা প্রকাশ করে। নীল রঙের শেডগুলির সাথে কমলা মিশ্রণ কাস্টমারদের মনে ইতিবাচক উত্তেজনা তৈরি করে।

হলুদ (Yellow)

হলুদ আনন্দের রঙ যা প্রবলভাবে গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে এটি সংযমের সাথে ব্যবহার করা উচিত কারণ অতিরিক্ত হলুদ রঙের ব্যবহার কাস্টমারদের নিকট বিরক্তিকর মনে হতে পারে।

সবুজ (Green)

সবুজ রঙে প্রকৃতির আভা থাকে, এটি চোখের জন্য খুব আরামদায়ক। কাস্টমার সবুজ ভালোবাসে কারণ রঙটি ইতিবাচকতা, প্রশান্তি, সুরক্ষা এবং সম্প্রীতির সাথে সম্পর্কিত।

গোলাপী (Pink)

গোলাপী রঙ নারীত্বের সাথে জড়িত তবে এটি পুরুষদের কাছেও সমান আকর্ষণীয় কারণ এটি আন্তরিকতা, রোম্যান্স এবং প্রেমকে ফুটিয়ে তোলে। কালো, বা লাল এর মতো বিষণ্ণ ও উগ্র রংগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করতে এর সাথে গোলাপী রঙের ব্যবহার করতে পারেন।

লাল(Red)

ক্রেতাদের গভীরতম আবেগের সাথে মিশে থাকা রংগুলির মধ্যে লাল সবার শীর্ষে।লাল প্রেম, জীবন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত। এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে কাস্টমারদের মনে প্রবল আবেগ ও উত্তেজনা তৈরি করা যায়। তবে খেয়াল রাখবেন, ই কমার্স ওয়েবসাইটের প্রথম পেজে খুব বেশি মাত্রায় লাল রঙের ব্যবহার ভীতিকর হতে পারে।

 

 

সাদা (White)

সাদা শুদ্ধতা, আভিজাত্য এবং পরিছন্নতা প্রকাশ করে। প্রোডাক্ট শোকেস করার সময় ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে সাদা রঙের কোন তুলনা হয় না।
ই কমার্স বিজনেসে সব ধরনের কাস্টমারের সাথে এই রঙ মানিয়ে নিতে পারে।

বেগুনি (Purple)

বেগুনি দীর্ঘকাল ধরে শক্তি, সমৃদ্ধি ও রাজকীয়তার প্রকাশে ব্যবহার হয়ে আসছে । ই কমার্স ওয়েবসাইটে এই রঙের ব্যবহার ব্যবসায়ীর রুচিবোধ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেয়।

নীল (Blue)

নীল আস্থা, শান্তি এবংউন্নয়নশীলতার অনুভূতি প্রকাশ করে। সাধারণত নীল ইন্টারনেটের দুনিয়ায় অন্যতম সাধারণ রঙ। আপনার ই কমার্স বিজনেস যদি ইলেক্ট্রনিক গেজেট বা সার্ভিস রিলেটেড বা রেস্টুরেন্ট বিজনেস হয় তবে এই রঙের ব্যবহার করতে পারেন।

কালো(Black)

কালো শক্তি এবং আধিপত্যের সাথে সম্পর্কিত। ইকমার্সে ওয়েবসাইটে এর ব্যবহার কাস্টমারদের কাছে আত্মবিশ্বাসের বার্তা প্রেরণ করে। তবে এই রঙের অতিরিক্ত ব্যবহার কাস্টমারদের মনে অবসাদ তৈরি করতে পারে তাই প্রয়োজন পরিমিত ব্যবহার প্রয়োজন।

ধূসর(Grey)

ধূসর গাম্ভীর্য ও রক্ষণশীল মানসিকতার প্রকাশ করে। ধূসর রঙের সাথে কমলা, লাল এবং রাজকীয় নীলের ব্যবহার প্রাণবন্ত পটভূমি তৈরি করে।

পরিশেষে, রং সাধারণ জিনিসকে করে তোলে আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। আমাদের মনের অনুভূতিগুলোকে বিনা বাক্যে প্রকাশ করতে পারে রং।

রং আমাদের মস্তিকে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম, খেয়াল করে দেখবেন পরীক্ষায় পাস ও ফেলের নম্বর যথাক্রমে কালো ও লাল কালিতে লেখা হয়। কারণ, কেউ পাস নম্বর লাল কালিতে দেখতে পছন্দ করে না।

মানুষ তাঁর ব্যক্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রঙকে বেছে নেই, তাই চাহিদামত টার্গেট কাস্টমারদের আকৃষ্ট করতে রঙের এই বহু মাত্রিক বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। জানতে হবে ই কমার্স বিজনেসে রঙ এর মনস্তত্ত্ব।

আপনার পছন্দের রং কোনটি? রঙটি কেন আপনার পছন্দের আমাদের জানাতে কমেন্ট করুন।

আরো পড়ুনঃ

কাস্টমার সাইকোলোজি: কীভাবে কাস্টমার অনলাইন কেনাকাটায় আকৃষ্ট হয়

ই কমার্স বিজনেস গ্রোথঃ সফলতা ও ব্যর্থতায় কনটেন্ট মার্কেটিং

ই কমার্স বিজনেস গ্রোথঃ সফলতা ও ব্যর্থতায় কনটেন্ট মার্কেটিং

ই কমার্স বিজনেসে কনটেন্ট মার্কেটিং একটি বিজনেসকে সফলতার পথে নিয়ে যায়। ই কমার্স ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর মাধ্যমে সেই কনটেন্ট টার্গেট কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দেয় হয়। কিন্তু আমাদের মধ্যে বিজনেস প্রমোশন বা প্রোডাক্টের মার্কেটিং এর জন্য উপযুক্ত কনটেন্ট তৈরির বিষয়ে অলসতা রয়েছে।

প্রোডাক্ট নিয়ে ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দু,লাইন নিরামিষ লেখা লিখে দিয়েই আমাদের সব কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ই কমার্স বিজনেস মার্কেটিং আরো ব্যাপক ও বিশাল ক্ষেত্র।

আমরা ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সেই সকল বিষয়গুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেবার প্রচেষ্টা করছি যার চর্চা সত্যিকার ভাবে ই-কমার্স বিজনেস গ্রোথে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

 

আজকে কথা বলবো, ই-কমার্স বিজনেস গ্রোথে কনটেন্ট মার্কেটিং কি ভুমিকা রাখে? এই বিষয়টি নিয়ে।

একটি গল্প দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি।

এক জন্মান্ধ ভিক্ষুক রাস্তার পাশে ভিক্ষার থালা সামনে নিয়ে বসে ভিক্ষা করছিলো। তার থালার পাশে একটি পোস্টার লাঠি দিয়ে দাড় করানো। তাতে লেখা ছিল, আমি অন্ধ আমাকে সাহায্য করুন।

রাস্তা দিয়ে অনেক মানুষ হেঁটে যাচ্ছিলো কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করছিল না বা ভিক্ষা দিচ্ছিলো না। এমন সময় রাস্তা দিয়ে এক ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছিলো সে সময় ভিক্ষুকটিকে সে দেখতে পেলো এবং তাকে সাহায্য করতে চাইলো। ব্যক্তিটি চাইলো সকল পথচারী যেন সেই ভিক্ষুকটিকে সাহায্য করে এমন কিছু করতে।

সে পকেট থেকে একটি মার্কারপেন বের করে সাদা কাগজে দুইপাশে বড় বড় করে কি যেন লিখলো। সেটি থালার সামনে থাকা পোস্টারটির উপর লাগিয়ে তার পরে সেখান থেকে চলে গেল।

এবার দেখা গেল, সেই ভিক্ষুকটির সামনে দিয়ে মানুষগুলো যাবার সময় তার সামনে থাকা থালাতে কিছু না কিছু টাকা দিয়ে যাচ্ছে।

সেই ব্যক্তিটি সাদা কাগজে কি লিখেছিল জানতে চান?

সেখানে লেখা ছিল, “আজকের অসাধারণ সুন্দর দিনটি আপনারা সবাই নয়ন ভরে দেখছেন। কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি না।”

 

আরো পড়ুনঃ

ই-কমার্স কি?

 

আপনার টার্গেট কাস্টমারদের আপনি কি মেসেজ দিচ্ছেন সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি কীভাবে সেই মেসেজ উপস্থাপন করবেন সেটি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ ।

কনটেন্ট ও তার উপস্থাপনা মুলত একটি লাভজনক ই কমার্স বিজনেস ও অলাভজনক ই কমার্স বিজনেসের মধ্যে দৃশ্যত তফাত তৈরি করে দেয়।

আমরা বিশ্বাস করি, একটি ই কমার্স বিজনেসের সার্বিক বিকাশে উপযুক্ত টেকনোলজি আবশ্যক তবে পরিকল্পিত কনটেন্ট মার্কেটিং কৌশল দিনশেষে কমার্স বিজনেসে বিজয়ী নির্ধারণ করে দেয়।

UGC Campaign: বিনা খরচে বিজনেসের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

UGC Campaign: বিনা খরচে বিজনেসের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

UGC Campaign নামক বিজনেস অ্যাডের দারুন একটি আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করবো। এই অ্যাড আইডিয়া সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি কিন্তু এর ব্যবহার, গ্রহণযোগ্যতা ও কৌশল সম্পর্কে পরিস্কার বুঝি না।

কাস্টমারদের কাছে একটি বিজ্ঞাপনের গ্রহনযোগ্যতা নির্ভর করে সেই বিজ্ঞাপনটি কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য তার উপর।

User Generated Content বা UGC Campaign

UGC হলো এমন একটি অ্যাড আইডিয়া যেখানে প্রোডাক্টটির ক্রেতা নিজেই সেই প্রোডাক্টের অ্যাড তৈরি করে ও সেটি সবার সাথে শেয়ার করে। এটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাডের জন্য অসাধারন একটি আইডিয়া।

Cocacola এর share a coke একটি UGC ক্যাম্পেইন। এই ক্যাম্পেইনটির রেজাল্ট কি ছিলো?

  • এই ক্যাম্পেইন যুবকদের Coke গ্রহনের পরিমাণ ৭ % বাড়িয়ে দিয়েছিলো।
  • এই ক্যাম্পেইন থেকে Coke ১৮.৩ লাখ মিডিয়া ইম্প্রেশন অর্জন করতে সক্ষম হয়।
  • ফেসবুক থেকে ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আসার পরিমাণ ৮৭০% বেড়ে গিয়েছিলো।
  • অনলাইনে ৭৬ হাজার Coke বোতলের ছবি শেয়ার হয়।
  • সারাদশে ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার কাস্টম coke এর বোতল প্রিন্ট করা হয়।
  • এই ক্যাম্পেইন Coke এর ব্র্যান্ড ইমেজে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছিলো।

কীভাবে এই অ্যাড ক্যাম্পেইনটি পরিচালিত হয়েছিলো?

তারা প্রতিটি coke-এর বোতলে আলাদা আলাদা নামকরন করে। ধরুন, আসিফ, সুমন, আরিফ, কবির ইত্যাদি( USA) , বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তারা ভাই, বন্ধু, দাদা, নানা, বাবা, মা, ইত্যাদি নামকরন করে। এতে করে যে দাদার জন্য coke কিনবে সে “দাদা” লিখা বোতল কিনে। এতে করে দাদা খুশি হয়ে যায়। আবার যেহেতু দাদা লিখা বোতল অন্য ব্র্যান্ড দেয় না ফলে এটি তরুণদের কেনার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

 

Coke ক্রেতাদের অনুপ্রাণিত করে, তারা যেন বোতলে লেখা নামের ব্যক্তির সাথে coke পান করার সময়ের বোতল সহকারে ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া নিজেকে মেলে ধরার জায়গা আর এর ব্যবহারকারীরা এতে অভ্যস্ত ফলে ক্রেতারা আনন্দের সাথে ছবিগুলো শেয়ার করতে থাকে।

অ্যাড ক্যাম্পেইনটির ভিভিও দেখতে ক্লিক করুনঃ Share a coke campaign

এতে করে Coke এর তৈরি একটি অ্যাডের বিপরীতে সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্রেতা দ্বারা Coke নিয়ে অসংখ্য পোস্ট হতে থাকে। ফেসবুক ভালো এনগেজমেন্ট প্রাপ্ত পোষ্টগুলোকে বেশি পরিমাণ রিচ দেয়। ফলে অর্গানিক রেজাল্টও ভালো হতে থাকে। Coke আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌছাতে সক্ষম হয়।

 

কেন UGC অ্যাড ক্যাম্পেইনগুলো সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত?

ডিজিটাল বা ট্র্যাডিশনাল উভয় ক্ষেত্রে Words of mouth হলো বেস্ট মার্কেটিং পলিসি। UGC অ্যাড ক্যাম্পেইনগুলো সর্বাধিক বিশ্বাসযোগ্য হবার একটি কারণ এই যে, এটি ভোক্তা দ্বারা স্বীকৃত।

৯২% মানুষ সেই ব্র্যান্ডের অ্যাডগুলোর প্রতি আস্থা রাখে যেগুলো সরাসরি ভোক্তা দ্বারা সুপারিশপ্রাপ্ত।

‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ একটি ব্র্যান্ডের জন্য খুবই গুরুত্তপূর্ণ সম্পদ । কারণ অদূর ভবিষ্যতে কাস্টমার তাদের প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট কেনার জন্য কমার্শিয়াল অ্যাড দ্বারা কম ‘অনুপ্রানিত’ হবে। তারা তাদের পছন্দমত আস্থাশীল ব্র্যান্ড খোঁজ করবে। সময় এখন কাস্টমার টু বিজনেস (C2B) মডেলের।

 

 

জরিপ বলছে, প্রফেশনাল অ্যাড ক্যাম্পেইনের সাথে UGC অ্যাড ক্যাম্পেইনের মিশ্রণ ঘটলে সেই অ্যাড ক্যাম্পেইনটির কার্যকারিতা ২৮% বেড়ে যায়।

৮৬% একবিংশ শতাব্দীর তরুণেরা মনে করে UGC অ্যাড ক্যাম্পেইন তৈরির সক্ষমতা একটি ভালো মানের ব্র্যান্ডকে নির্দেশ করে।

২০০৯ সালে Burberry’s art of the trench campaign সফল UGC অ্যাড ক্যাম্পেইন তৈরি করতে সক্ষম হয়। তারা ক্রেতাদের অনুপ্রানিত করে তাদের ব্র্যান্ডের তৈরি কোট পরে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি শেয়ার করতে।

ভিভিওটি দেখতে ক্লিক করুনঃ Burberry’s art of the trench campaign

পরিশেষে, একটি বিজনেস লাভবান হবে যদি কম মার্কেটিং খরচ করে বেশি সেল করা সম্ভব হয়।আর UGC অ্যাড ক্যাম্পেইনএই লক্ষ্য অর্জনে আদর্শ মডেল। ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তারা বিনা খরচে এই অ্যাড মডেলটি তাদের বিজনেসে ব্যবহার করতে পারেন।

আপনি যদি আপনার বিজনেসে UGC অ্যাড ক্যাম্পেইন মডেল ব্যবহার করেন বা এ রকম অন্য কোনো ক্যাম্পেইন সম্পর্কে আপনার জানা থাকে তাহলে কমেন্টে শেয়ার করুন আপনার অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশে ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা খরচ হয়?

বাংলাদেশে ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা খরচ হয়?

বাংলাদেশে ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা খরচ হয়? আপনি সর্বনিম্ন কত টাকা খরচ করে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড হিসেবে ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন? নতুন বিজনেস শুরু করতে যাওয়া প্রত্যেক উদ্যোক্তাই এই প্রশ্নগুলি করে থাকেন। অনেকে আবার মনে করেন, ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার জন্য প্রোডাক্ট আর একটা ওয়েবসাইট ছাড়া আর তেমন কোন খরচ নেই। সত্যি বলতে ই-কমার্স ব্যবসা করতে তুলনামূলক কম খরচ হলেও, যথেষ্ট পরিমান বিনিয়োগ প্রয়োজন। চলুন বিস্তারিত জানি বিষয়গুলো সম্পর্কে।

প্রাথমিকভাবে ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে ৫ টি খাতে খরচ করতে হয়

  1. ওয়েবসাইট ডোমেইন নাম
  2. ওয়েবসাইট হোস্টিং
  3. ই-কমার্স ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট
  4. অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা
  5. প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি

বাৎসরিক ই-কমার্স ওয়েবসাইট ডোমেন নাম ক্রয় ও নবায়ন খরচ ৯০০ – ২,০০০ টাকা

ডোমেইন নেম হলো আপনার ওয়েবসাইট বা ব্র্যান্ড এর নাম। ইন্টারনেটে আপানর ওয়েবসাইট খুজে প্রবেশ করতে এটির প্রয়োজন পরে। ইন্টারনেট ব্রাউজার এড্রেস বার এ ডোমেইন নাম লিখে আমরা একাটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারি।

ব্রাউজারের এড্রেস বারে ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম লেখা www.thisisyourdomain.com

ধরুন একটি ওয়েবসাইট www.thisisyourdomainname.com। এই ওয়েবসাইটের নামের ৩টি অংশ আছে। যথাঃ

  1. www – সাব ডোমেইন
  2. thisisyourdomain – ব্র্যান্ড নেম বা আপনার ওয়েবসাইটের নাম
  3. .com – টপ লেভেল ডোমেইন (Top level Domain)

ইকমার্স ব্যবসা শুরু করতে চাইলে আপনার বিজনেস ওয়েবসাইটের জন্য আপনার ডোমেন নাম কিনতে হবে। ডোমেইন নিতে খুব বেশি খরচ কর হয় না। আপনি ৳৯০০ থেকে ৳২০০০ দামের এর মধ্যে পছন্দমতো ডোমেন নাম পেয়ে যাবেন। সতর্ক থাকবেন কারন, এই ডোমেইন নাম প্রতি বছর সময়মত টাকা দিয়ে আবার নবায়ন করতে হয়। যদি না করেন ডোমেইন নাম এর মালিকানা চলে যাবে আর আপনার এতো দিনের সুনাম নষ্ট হবার যথেষ্ট সম্ভবনা তৈরি হবে। ডোমেইন এর টপ লেভেল (.com .net .org) এবং কোম্পানি অনুযায়ী সাধারণত দামের পার্থক্য হয়।  GoDaddy.com , namecheap.com অথবা আমাদের কাছ থেকেও ক্রয় করতে পারেন।

ওয়েবসাইট হোস্টিং করতে খরচ – বাৎসরিক ৫,৫০০ – ১৫,০০০ টাকা

অনলাইনে আপনার ওয়েবসাইটটি সক্রিয় রাখতে হোস্টিং প্রয়োজন। হোস্টিং ছাড়া আপনার ওয়েবসাইট ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হবে না এবং কেউ সেটি দেখতেও পাবেনা।

ওয়েবসাইট হোস্টিং মডেল
সহজ ভাষায়, একটি ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট ও ফাইলগুলো রাখার জন্য যে জায়গা প্রয়োজন সেই নির্ধারিত জায়গাকে বলা হয় ওয়েবসাইটের হোস্টিং বা ওয়েব হোস্টিং। আপনি শেয়ার্ড হোস্টিং বা ডেডিকেটেড হোস্টিং – যে কোনো একটি পছন্দ করতে পারেন। শেয়ার্ড হোস্টিং এর দাম কম, ডেডিকেটেড হোস্টিং এর দাম বেশি । ব্যবসার শুরুতে ভালো মানের শেয়ার্ড হোস্টিং-ই যথেষ্ট। google cloud hosting বা namecheap.com এর মত বহু প্রতিষ্ঠান ওয়েব হস্টিং সেবা দিয়ে থাকে। দেশীকমার্স এর মোট SaaS প্ল্যাটফর্ম দিয়ে ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করলে আলাদা করে হস্টিং কেনার প্রয়োজন পরে না।

ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে এককালীন খরচ – ২৫ হাজার থেকে ২ লক্ষ টাকা

ইকমার্স বিজনেসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মানসম্মত ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি। সহজে ব্যবহার যোগ্য লাইটওয়েট ই-কমার্স ওয়েবসাইট কাস্টমার পছন্দ করে। সহজে নেভিগেশন করা যায় এমন ইকমার্স ওয়েবসাইট ই-কমার্স সেল বৃদ্ধি করতে কার্যকরী ভুমিকা রাখে। আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে কাস্টমারদের সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত তথ্য প্রদান, সহজে পছন্দসই প্রোডাক্টটি খুঁজে পেতে সহায়তা, অর্ডার প্রক্রিয়া সহজ হলে ই কমার্স ওয়েবসাইট থেকে বেচাকেনার পরিমাণ বেড়ে যায়।

ইকমার্স ওয়েবসাইট ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট খরচ হিসাব
ই কমার্স বিজনেসে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি থাকে বিধায় একজন কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করতে সমস্যা বোধ করলে দ্রুত অন্য শপে চলে যেতে পারে। তাই ই-কমার্স ওয়েবসাইটটি যতটা রিস্পন্সিভ এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি হবে তত ভাল।

প্রতিটি বিজনেসেই ষ্টকের হিসেব থাকা আবশ্যক আর বিশেষ করে অনলাইন বিজনেসে সেটি অপরিহার্য। একটি মানসম্মত ই-কমার্স ওয়েবসাইট এই সুবিধা দেয়। সাথে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট ও কাস্টমার ম্যানেজমেন্ট থাকা প্রয়োজন। আপনি যদি সস্তা কোন ই-কমার্স সাইটের কথা চিন্তা করেন তবে এই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন। মানসম্মত ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলো অটো প্রোডাক্ট জুম, প্রোডাক্টের শর্ট ডেসক্রিপ্সন সুবিধা প্রদান করে যা দামে সস্তা ওয়েবসাইটগুলোতে পাবেন না।

চেকআউট করার সময় কাস্টমার অতিরিক্ত তথ্য দেবার জটিলতায় শেষ পর্যন্ত চেকআউট প্রসেস শেষ না করেই ওয়েবসাইট থেকে বের হয়ে যায়। গেস্ট চেকআউট অপশন থাকলে এই অসুবিধা দূর করা সম্ভব – যেখানে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য দিয়েই কাস্টমার কেনাকাটা সম্পন্ন করতে পারেন।

দেশি কমার্স ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বনিম্ন ৫০০/- মূল্য থেকে একটি মানসম্মত ই কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে। প্যাকেজগুলো দেখতে DeshiCommerce ওয়েবসাইট ভিজিত করুন।

ই কমার্স ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজি / প্ল্যাটফর্ম

আপনি আপনার ই কমার্স ওয়েবসাইটটি তৈরিতে কি টেকনোলজি ব্যবহার করছেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠিত সিএমএস যেমন ওয়ার্ডপ্রেস, মাজেন্টো ব্যবহার করে তৈরি সাইট কম ব্যয়বহুল। এগুলো আবার নিয়মিত আপডেট রাখতে হয়। কিন্তু কাস্টম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে ইচ্ছেমত ফিচার ও ডিজাইনের সমন্নয় সাধন করা সম্ভব হয় । এগুলো আপনার চাহিদামত সময়ে আপডেট করতে পারেন। কিন্তু সেটা সাধারনত অনেক ব্যবহুল হয়।

এতসব ঝামেলা এড়িয়ে কম খরচে সহজ এবং পেশাদার ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির উপায় হল দেশীকমার্স অথবা শপিফাই এর মত সাস ইকমার্স প্ল্যাটফর্ম (SaaS e-commerce platform) এর সেবা নেয়া। এই সার্ভিস ব্যবহার করে আপনি কোন কোডিং এর ঝামেলা ছাড়াই ফেসবুক ব্যবহারের মত করে ই-কমার্স ওয়েবসাইট সহজে তৈরি এবং পরিচালনা করতে পারবেন।

একটা জিনিস অবশ্যই খেয়াল রাখবেন বর্তমানে মোবাইল ডিভাইস ও ইন্টারনেট ব্যবহার করেই ৯০ ভাগ কাস্টমার কেনা-কাটা করে। তাই ই-কমার্স ওয়েবসাইটটি হতে হবে মোবাইল ফ্রেন্ডলি ও রেস্পন্সিভ। যেই সেবা নিয়েই আপনি ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করুন না কেন, মোবাইল ফ্রেন্ডলি ও রেস্পন্সিভ যেন অবশ্যই হয়।

অনলাইনে অনেক ফ্রি টুলস ব্যবহার করে ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় কিন্তু সেগুলো মানহীন। সবসময় মনে রাখবেন বিনা পয়সা খরচ করে কোন ব্যবসা হয় না। ভাল ব্যবসা করতে আপনাকে উপযুক্ত প্রযুক্তির জন্য ইনভেস্ট করতে হবে।

বর্তমানে একটি মানসম্মত ই কমার্স ওয়েবসাইট ডেভেলপের জন্য আপনাকে দেড় থেকে ২ লক্ষ টাকা গুনতে হয়। কিছু ই-কমার্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অনলাইন বিজনেসের শুরুতেই বড় খরচ না করে সীমিত খরচের বিনিময়ে আপনাকে একটি দামি ও মানসম্মত ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে।

দেশীকমার্স একটি ই-কমার্স সল্যুশন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। দেশি কমার্স কম খরচে কাস্টমারদের  PHP লারাভেল দিয়ে একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরী করে দেয়। এর সাথে দেয়া হয় সার্বক্ষণিক কাস্টমার সেবা এবং হাতে কলমে ই-কমার্স প্রশিক্ষন।

ই-কমার্স অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে খরচ ০- ১৫,০০০ টাকা

শুধু ক্যাশ অন ডেলিভারি ব্যবস্থায় ব্যবসা করলে কোন পেমেন্ট গেটওয়ে খরচ লাগবে না। কিন্তু প্রফেশনাল ব্যবসা করতে হলে অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা রাখা উত্তম। পেমেন্ট গেটওয়ে দ্রুত, সহজ ও নিরাপদ অনলাইন মূল্য পরিশোধের মাধ্যম যা কাস্টমারদের দৈনন্দিন জীবনকে আরো সহজ করে তুলেছে। বর্তমান সময়ে অনেকেই শপিংমলে বা অনলাইন কেনাকাটায় অনলাইন পেমেন্ট করাকে পছন্দ করছে। এই অর্থ লেনদেনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাথে অনলাইন পেমেন্ট সেবাদানকারী কোম্পানি গুলোর বাণিজ্যিক চুক্তি থাকে।

বাংলাদেশে ই কমার্স ওয়েবসাইট অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কোম্পানির লোগোসমূহ

কাস্টমার ক্রেডিট,ডেবিট, ভিসা,মাস্টার কার্ড সহ বিকাশ রকেট ব্যবহার করে অনলাইনে মূল্য পরিশোধ করতে পারে। কাস্টমার, সেলার ও পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস দাতাদের মধ্যে সকল লেনদেন ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলে এটি নিরাপদ।  এসএসএল কমার্স, ইজিপে, আই পে সহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই সেবা প্রদান করছে। এজন্য আপনাকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা গুনতে হবে।

পেমেন্ট গেটওয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র,

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট (শুধুমাত্র লিমিটেড কম্পানির জন্য প্রযোজ্য)
  • কম্পানির ই-টিন সার্টিফিকেট (শুধুমাত্র লিমিটেড কম্পানির জন্য প্রযোজ্য)
  • মালিক বা মালিকদের ই-টিন সার্টিফিকেট
  • মালিক বা মালিকদের ছবি
  • মালিক বা মালিকদের সই
  • আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন (শুধুমাত্র লিমিটেড কম্পানির জন্য প্রযোজ্য)

প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি খরচঃ ০ থেকে ২৫,০০০ টাকা

প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি নিয়ে আলাদাভাবে বলার কিছু নেই। অনলাইনে কাস্টমার প্রোডাক্ট কেনে “ছবি “দেখে। একটি সঠিক ছবির গুনগতমান বেশ ভালো হয় ও রঙের অতিরঞ্জিত ব্যবহার থাকে না। আপনি নিজেই ভালো কোন মোবাইল অথবা ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনার কোন খরচ ই হবে নাহ।

প্রফেশনাল প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফারের এই বিষয়গুলো ভালো জানেন। প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির জন্য প্রোডাক্টের ফটোশুটের বিপরীতে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে লক্ষ টাকারও বেশী গুনতে হয়। মডেলের জনপ্রিয়তা, ফটোগ্রাফারের সুনামের উপর মূল্যের পার্থক্য নির্ভর করে। আপনি কম জনপ্রিয় পেশাদার মডেল এবং ফটোগ্রাফার দিয়ে ১০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে ই-কমার্স প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করিয়ে নিতে পারেন।

পরিশেষে

এবার যদি সবগুলো খরচ একসাথে হিসেব করলে, বাংলাদেশে মান সম্পন্ন ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে খরচ প্রায় ৩,০৭,০০০ টাকা (তিন লক্ষ সাত হাজার টাকা)। এটি নতুন অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় পরিমান অর্থ যা অনেকের পক্ষে খরচ করা সম্ভব নয়।

টেবিলঃ ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে মোট খরচের হিসাব

ওয়েবসাইট তৈরির খরচের খাতসমূহ সর্বনিম্ন খরচ সর্বোচ্চ খরচ
বাৎসরিক ই-কমার্স ওয়েবসাইট ডোমেন নাম ক্রয় এবং নবায়ন খরচ ৯০০ ২,০০০
বাৎসরিক ওয়েবসাইট হোস্টিং খরচ ৫,৫০০ ১৫,০০০
এককালীন ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে খরচ ২৫,০০০ ২,৫০,০০০
অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে খরচ ১৫,০০০
প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি খরচ ২৫,০০০
মোট খরচ ৩১,৪০০ ৩,০৭,০০০

 

দেশি কমার্স অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য সুলভ মুল্যে ই-কমার্স ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট সুবিধা দিচ্ছে। আর সে কারনে দেশীকমার্স বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় একটি একটি ই-কমার্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।

প্রফেশনাল ই-কমার্স সল্যুশন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আপনাকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। কম খরচ বা বেশি খরচ এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আপনার বিজনেসের জন্য উপযুক্ত ইনভেস্টমেন্ট কত হওয়া উচিৎ।আপনার বিজনেসের প্রযুক্তিগত ও মার্কেটিং পর্যালোচনা ও কীভাবে আপনার ইকমার্স বিজনেস টিকে বড় করে তুলবেন সেই বিষয়ে পরামর্শ পেতে আমাদের ই কমার্স কনসালট্যান্টদের সাথে কথা বলুন।

বিশেষ দ্রস্টব্যঃ ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে খরচ এবং ডলারের দাম প্রতিনিয়ত প্রবর্তন হয়। তাই সকল খরচ এই ব্লগ পোস্টের হিসাবের সাথে হুবহ মিল নাও হতে পারে। কিন্তু মোটা দাগে আপনার ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরিতে কত খরচ হবে সেটা এখান থেকে ধারনা নিতে পারবেন।

ই-কমার্স কেনাকাটাঃ কীভাবে কাস্টমার কেনাকাটার সিদ্ধান্তগুলো গ্রহন করে

ই-কমার্স কেনাকাটাঃ কীভাবে কাস্টমার কেনাকাটার সিদ্ধান্তগুলো গ্রহন করে

ই-কমার্স কেনাকাটাঃ কীভাবে কাস্টমার প্রতিদিনের কেনাকাটার জন্য সিদ্ধান্তগুলো গ্রহন করে? আমাদের প্রতিদিনের কেনাকাটার সিদ্ধান্তগুলো আপাত দৃষ্টিতে সরল মনে হলেও প্রতিবার কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেবার সময় আমরা একটি কাঠামোর মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হই।

কারণ, মানুষ প্রথমে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে পরে সেই কাজটি সম্পাদন করে। কেনাকাটায় সিদ্ধান্ত গ্রহনের এই কাঠামো সম্পর্কে একজন বিক্রেতা  পরিষ্কার ধারণা রাখলে বেশি পরিমাণ কেনাবেচা করতে পারে।

৬৪% কাস্টমার কেনাকাটার জন্য সরল প্রক্রিয়া আশা করে।
 

Consumer Behavior বলতে কি বুঝি?

একজন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান ইমোশনাল, মেন্টাল ও আচরণগত যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে তাকে Consumer Behavior বলে। 

কেন Consumer Behavior একজন ব্যবসায়ীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

কোন প্রোডাক্ট কেনার সময় কাস্টমার  যে আচরণগুলো করে Consumer Behavior একজন বিক্রেতাকে সেগুলো চিহ্নিত করতে ও বুঝতে সাহায্য করে। আরও বুঝতে সাহায্য করে কাস্টমার কেন প্রোডাক্টটি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। 

কাস্টমার কি কিনছে? কেন কিনছ? কেনার সময় কোন বিষয়গুলো কাস্টমারদের সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করছে, বিক্রেতার সেটি পরিষ্কার জানা প্রয়োজন। এতে করে একটি ব্র্যান্ড সর্বাধিক সংখ্যক কাস্টমারদের কাছে পৌঁছতে পারে ও তাদের প্রোডাক্টটি কাস্টমারদের সামনে সঠিক ভাবে উপস্থাপনে সক্ষম হয়। বিক্রেতা প্রোডাক্ট সেল করতে কাস্টমারদের সিদ্ধান্ত গ্রহনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন।

Consumer Behavior যে প্রশ্নগুলো সামনে নিয়ে আসে,

  1. মার্কেটে উপস্থিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রোডাক্টগুলো নিয়ে কাস্টমার কি চিন্তা করছে? 
  2. অনেকগুলো ব্র্যান্ডের মধ্যে কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট পছন্দ করার জন্য কোন কোন বিষয়গুলো কাস্টমারদের প্রভাবিত করছে? 
  3. পছন্দের প্রোডাক্ট সার্চ করার সময় ও কেনার সময় তাঁরা কেমন আচরণ করেন? 
  4. আশেপাশের পরিবেশ যেমন বন্ধু, পরিবার, মিডিয়া কিভাবে কাস্টমারদের কেনার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।   

কোন কারণগুলি কাস্টমারদের নির্দিষ্ট একটি ব্র্যান্ড হতে প্রোডাক্ট কেনার সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে?

ব্যক্তিগত কারণঃ ব্যক্তিগত পছন্দ, চিন্তা, বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম এগুলো একজন মানুষের কেনার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। 

মনস্তাত্ত্বিক কারণঃ  উপলব্ধি, মনোভাব, বিশ্বাস একজন কাস্টমারের সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। 

সামাজিক কারণঃ সামাজিক স্তর, মর্যাদা, শিক্ষা, আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি। 

একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, কাস্টমারদের সিদ্ধান্ত গ্রহনের কারণগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহনের কারণগুলোর বিপরীতে উপযুক্ত তথ্য প্রদান করে তাদের প্রভাবিত করতে পারি। 

Consumer Behavior এর প্রকারভেদ

একটি নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট কেনার সময় ভিন্ন ভিন্ন কাস্টমার একে অপরের থেকে আলাদা আচরণ করে। 

Complex Buying Behavior- জটিল ক্রয় আচরণ

খুব দামি প্রোডাক্ট কেনার সময় কাস্টমার এই ধরনের আচরণ করে।এই সময় তারা অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করে।সিদ্ধান্ত গ্রহনের প্রতিটি ধাপে সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকে। 

দামি গাড়ি কেনার সময় কাস্টমারদের মাঝে Complex buying behavior লক্ষ্য করা যায়। 

Dissonance Reducing Buying Behavior – অসংগতি বা অসংলগ্ন আচরণ 

অনেক সময় কাস্টমার অনেকগুলো ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট থেকে কোনটি কিনবে তা বুঝে উঠতে পারে না। আবার কিনে নেবার পরে সেটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কিনা সেটি নিয়ে সংশয়ে থাকে, অন্যের কাছে মতামত চায়। এই আচরণকে Dissonance reducing buying behavior বলে। 

যেমন, রাইস কুকার, কার ওয়াসার এই ধরনের প্রোডাক্ট কেনার সময় কাস্টমার দ্বিধান্বিত থাকে। 

Habitual Buying Behavior-  অভ্যাসগত আচরণ 

কিছু প্রোডাক্ট কেনার সময় কাস্টমার খুব বেশি ভাবে না। প্রয়োজন হলে দ্রুত একটি প্রোডাক্ট কিনে ফেলে। এই ধরনের আচরণকে Habitual buying behavior বলে। ব্র্যান্ড নিয়ে এসময় কাস্টমার খুব সামান্যই চিন্তা করে আবার কখনো মোটেও চিন্তা করে না। 

যেমন, বাসন মাজা সাবান, মুড়ি চানাচুর ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। 

Variety Seeking Behavior- বৈচিত্র্যময় আচরণ

অনেক সময় কাস্টমার পছন্দের ব্র্যান্ড স্বেচ্ছায় পরিবর্তন করে। এর কারন এই নয় যে সে আগের ব্র্যান্ডে সন্তুষ্ট ছিলো না, সে বৈচিত্র্য চায়।   

যেমন ধরুন, পারফিউম। 

যে বিষয়গুলো কাস্টমারদের এই আচরণকে প্রভাবিত করে?

Marketing Campaigns

মার্কেটিং ক্যাম্পেইন কাস্টমারদের ক্রয়সিদ্ধান্তকে দারুণ ভাবে প্রভাবিত করে।কাস্টমারদের মার্কেটিং মেসেজ দিয়ে প্রভাবিত করার অনেক ধরনের কৌশল রয়েছে। মার্কেটিং ক্যাম্পেইনগুলোর একটি অন্যতম উদ্দশ্যে হলো, কাস্টমারদের প্রোডাক্টগুলা সম্পর্কে নিয়মিত ভাবে আপডেট রাখা। 

Economic Conditions

অর্থনৈতিক সচ্ছলতা কাস্টমারদের দামি প্রোডাক্ট কিনতে উৎসাহী করে তোলে। আবার অনেক সময় অর্থনৈতিক সচ্ছলতা না থাকায় প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রোডাক্ট কাস্টমার কিনতে পারে না। 

Personal Preferences

ক্রয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কাস্টমারদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সবসময় অগ্রাধিকার পায়। আপনি যদি চিকেন পছন্দ করেন তবে যতই দারুণ দারুন বিফের অ্যাড আপনাকে দেখানো হোক, আপনি পছন্দ করবেন শুধুমাত্র চিকেন আইটেমগুলো। 

Group Influence

আশেপাশের পরিবেশ ও আত্মীয় স্বজন কাস্টমারদের ক্রয় সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলে। আপনার বন্ধু কারা, আপনি কোথায় পড়াশুনা করেছেন, আপনি কোন সামাজিক  স্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন এসব কিছু বিবেচনা করে একজন কাস্টমার ক্রয় সিদ্ধান্ত নেয়। 

Purchasing Power

সামর্থ্য একটা শক্তিশালী প্রভাবক। আপনি যদি শীর্ষ ধনীদের কাতারে না পড়েন তবে কেনাকাটার জন্য আপনার বাজেট নির্ধারিত থাকে। একজন কাস্টমারকে প্রভাবিত করতে হলে তার ক্রয় সক্ষমতা বা বাজেট সম্পর্কে জানতে হয়। 

Customer Behavior Patterns বা কাস্টমারদের আচরণের ধরণ

Place of Purchase

কাস্টমার যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল হয় তবে সে কোন একক শপ থেকে প্রোডাক্ট কেনাকাটা করবে না।ভিন্ন ভিন্ন জিনিস কেনার সময় সে ভিন্ন শপগুলোকে বেছে নেয়। কিন্তু যখন আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকে তখন তাঁরা বাজেটের মধ্যে সব প্রয়োজন সেরে ফেলতে ও পরবর্তী সময়ে সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট একটি শপের সাথে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে সজাগ থাকে। 

Items Purchased

কোন ধরনের প্রোডাক্ট সংখ্যায় কি পরিমাণ কিনছে। যদি নিত্য প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট হয় তবে কাস্টমার বেশি পরিমাণ একসাথে কেনে আর যদি বিলাসবহুল প্রোডাক্ট হয় তবে সংখ্যায় কম কেনে। 

Time and Frequency of Purchase

সময় একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছুটির দিনে কাস্টমার বেশি কেনাকাটা করে। সাধারণ দিনে প্রয়োজনীয় পরিমাণ কেনে। কর্মজীবীরা অফিসের পরে বা দিনের শেষে কেনাকাটা করে। কেউ কেউ একসাথে সারা মাসের বাজার করে, কেউ কয়েকবারে করে। কিন্ত বর্তমানে ই-কমার্স বিজনেসের প্রসারে এই সময়ের সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কমে এসেছে। কাস্টমার এখন ইচ্ছে হলেই প্রোডাক্ট কেনাকাটা করতে পারে যেকোনো সময়ে। 

Method of Purchase

কেউ সরাসরি দোকানে হতে কেনাকাটা করে কেউ অনলাইনে কেনে। এখানেও রয়েছে আচরণের পার্থক্য। 

Customer Behavior এর বিন্যাস

কেনার ধরনের উপর নির্ভর করে ৬ টি ভাগে কাস্টমারদের আচরণকে বিন্যাস যায়।  

Benefits Sought

প্রোডাক্ট হতে প্রাপ্ত সুবিধার ভিক্তিতে কাস্টমার ক্রয় সিদ্ধান্ত নেয়।ধরুন প্রোডাক্টটি  টুথপেস্ট। এই প্রোডাক্টটি কেনার সময় কেউ দেখে স্বাদ, কেউ দেখে উপকারিতা। অনেকে ব্যথা উপশমের জন্য কেনে আবার কেউ কেনে দাঁত সাদা করার জন্য। 

Occasion or Timing Based

এই ভাগের তিনটি স্তর রয়েছে। 

Universal Occasions:  যখন বেশি ভাগ মানুষ নির্দিষ্ট একটি উপলক্ষে কেনাকাটা করে। যেমন ঈদ, পহেলা বৈশাখ। 

Recurring Personal Occasions: এই ভাগে ব্যক্তিগত উপলক্ষের জন্য মানুষ কেনে। জন্মদিন,বিবাহ বার্ষিকী ইত্যাদি। 

Rare-Personal Occasions: এই ভাগের কাস্টমার তার পছন্দমত সময়ে কেনাকাটা করে। এই সময়গুলো অনুমান করা জটিল। 

Usage Rate

কত দীর্ঘ সময় বা কত স্বল্প সময় পর পর কাস্টমার কেনাকাটা করছে Usage Rate সেটি বুঝতে সাহায্য করে। 

Brand Loyalty Status

এই ভাগে কাস্টমার নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ডকে কেনাকাটায় প্রাধান্য দেয় । এটি একটি বিজনেসের গ্রোথে দারুণ সহায়ক। সব ব্যবসায়ীরা তার বিজনেসের জন্য লয়াল কাস্টমার চায়।  

User Status

ব্র্যান্ডের সাথে কাস্টমারদের সম্পৃক্ততার ভিক্তিতে যে বিন্যাস। যেমন রেগুলার কাস্টমার, পুরনো কাস্টমার,  নতুন কাস্টমার, সম্ভব্য কাস্টমার। 

Customer Journey Stage

বিজনেসের প্রতিটি ধাপে কাস্টমার কিভাবে আপনার ব্র্যান্ডের সাথে যোগাযোগ রাখছে।গতানুগতিক ধারনার বাইরে বিষয়টি বুঝতে RFM মডেল ব্যবহার করা হয়। 

RFM= Recency, Frequency and Monetary Value. 

Recency= কাস্টমার সর্বশেষ কবে তার শেষ অর্ডারটি করেছিলো। 

Frequency= কতবার ও কত সময় পর পর কাস্টমার প্রোডাক্ট অর্ডার করছে। 

Monetary Value= প্রথম অর্ডার হতে শেষ পর্যন্ত সে মোট কত টাকার প্রোডাক্ট অর্ডার করেছে। 

 

আরো পড়ুনঃ

AIDA মডেল: একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কাস্টমারে রূপান্তরের পরীক্ষিত ফ্রেমওয়ার্ক

 

পরিশেষে,

কি, কেন, কিভাবে, কখন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার মাধ্যমে কাস্টমারদের চাহিদা বুঝতে ও তা পূরণে ভোক্তাদের আচরণ সম্পর্কে জানতে হয়। 

বাজারে প্রতিযোগীদের থেকে নিজের প্রোডাক্টটিকে এগিয়ে রাখতে হলে বিজনেসে অবচেতন ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার রীতি থেকে বের হয়ে এসে ভোক্তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন, তাদের চাহিদা সম্পর্কে জানুন, সেইমত বাজার পরিকল্পনা করুন। 

আপনার অনলাইন বিজনেসে কীভাবে কাস্টমারের আস্থা অর্জন করবেন?

আপনার অনলাইন বিজনেসে কীভাবে কাস্টমারের আস্থা অর্জন করবেন?

আপনার অনলাইন বিজনেসে কীভাবে কাস্টমারের আস্থা অর্জন করবেন ? প্রচণ্ড গরম বা হাড় কাঁপানো শীতে মার্কেট ঘোরাঘুরির ক্লান্তি, দরকষাকষি করতে গিয়ে যুদ্ধে জড়ানো বা পছন্দের প্রোডাক্ট খুঁজে না পাবার ভোগান্তি এড়িয়ে ইচ্ছেমতো কেনাকাটা করার সুবিধা অনলাইন বিজনেসকে দারুণ জনপ্রিয় করে তুলেছে।

এই সুযোগে বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খুলে বসেছে অনলাইন প্রতারণার নানান রকম ফাঁদ, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা।

মনে রাখবেন, ফেক অনলাইন শপ কখনোই তাদের বিজনেসের তথ্য সম্পূর্ণরুপে প্রকাশ করে না। থাকে না কাস্টমারদের সাথে সম্পৃক্ততা।একটু সচেতন হলেই তাদের ধরে ফেলা যায়।

অনলাইনে কাস্টমারের আস্থা অর্জন করতে হলে আপনাকে জানতে হবে একটি আস্থাশীল অনলাইন শপ খুঁজে পেতে কোন বিষয়গুলো একজন কাস্টমার পর্যবেক্ষণ করেন ।

তাহলে কিভাবে কাস্টমার একটি আস্থাশীল অনলাইন শপ খোঁজে?

পেজের দেয়া তথ্য পর্যবেক্ষণ করে

কাস্টমার শুরুতে দেখে সেলারের ফেসবুক বিজনেস পেজ আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে পেজের about অপশনে গিয়ে তার ফোন নম্বর,ই-কমার্স ওয়েবসাইট, ইমেইল, বিজনেস এড্রেস ও বিজনেস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ আছে কিনা খেয়াল করে।

যদি সকল তথ্য দেয়া থাকে তাহলে, সিরিয়াস কাস্টমারেরা তথ্য যাচাই করার জন্য পেজে দেয়া নম্বরে কল করে নিশ্চিত হন, দেখেন নম্বরটি চালু আছে কিনা এবং এদের কেউ কেউ সেলারের সাথে কথা বলে।

কাস্টমারের আস্থা অর্জন করতে আপনার করনীয়ঃ

পেজের সমস্ত তথ্য যেমন, ইমেইল, ফোন নম্বর, ঠিকানা, বিজনেসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন।

কাস্টমার মেসেঞ্জারে সেলারের সাথে যোগাযোগ করে

কিছু কাস্টমার পেজের মেসেঞ্জারে টেক্সট করে, সেলারের থেকে প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে চায়। আসলে তাঁরা এর মাধ্যমে সেলারের আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব যাচাই করে। তাই কাস্টমার যখন মেসেঞ্জারে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে, চেষ্টা করবেন দ্রুততম সময়ে সঠিক তথ্যটি দিতে।

যদিও আপনার পেজে বা ই কমার্স সাইটে প্রোডাক্টের তথ্য থাকে তবুও কাস্টমার জানতে চাইলে প্রোডাক্টের গুনাগুন, ব্যবহার বিধি ও প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন। তাদের প্রোডাক্টটি কেনার জন্য তাগাদা দিবেন না। তা,না হলে কাস্টমার সন্দেহপ্রবণ হতে পারে।

কাস্টমার আপনার পেজের রিভিউ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে

বিজনেস পেজের রিভিউগুলো খুব সতর্কতার সাথে মনিটরিং করুন। টাকা দিয়ে কাস্টমারদের রিভিউ লিখাবেন না।

রিভিউ ভেরিফিকেশন সাইট যেমন www.yelp.com অথবা www.tripadvisor.com এর মতো রিভিউ সাইটগুলো বেশ কিছু ইনডিকেটর ব্যবহার করে ফেক রিভিউ নির্ণয় করতে সক্ষম। কিছু লোকাল কাস্টমার এইগুলি সম্পর্কে না জানলেও আন্তর্জাতিক বায়ার বিষয়গুলো নিয়ে বেশ সচেতন।

প্রোডাক্ট কেনার কিছুদিন অতিবাহিত হবার পরে ব্যবহারকারীর রিভিউ চাইতে পারেন। এতে আপনি তাদের কেয়ার করছেন ভেবে তাঁরা খুশি হবে। অন্যদিকে আপনার পেজের জন্য দেয়া রিভিউগুলো অথান্টিক হবে। মনে রাখবেন সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য সকল মানুষ ধরতে পারে।

অনেকে রিভিউ দেবার সময় সেলারের গুনগান করেন। যা একজন কাস্টমারের কাছে খুব কম গুরুত্ব বহন করে। অনেকসময় এটি সন্দেহের কারণ তৈরি করে। প্রোডাক্টের মান ও গুনাগুন নিয়ে লেখা রিভিউ কাস্টমারদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কমপক্ষে ১০টি রিভিউ আছে কাস্টমার এমন অনলাইন সেলারদের গুরুত্ব দেয়- www.business2community.com

১ টি বা ২ টি রিভিউ কাস্টমারদের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। কমপক্ষে ১০ টি রিভিউ থাকা সন্তোষজনক বলে কাস্টমারেরা মনে করেন। ১০টির মধ্যে ৭ টি রিভিউ পজিটিভ হলে কাস্টমার শপটি থেকে কেনাকাটা করতে স্বস্তি বোধ করে।

কেউ নেগেটিভ রিভিউ করলে সেটি ডিলিট করবেন না। নেগেটিভ রিভিউদাতারা সেলার সম্পর্কে কি নেগেটিভ বলছে এবং সেলার তাঁদের বাজে অভিজ্ঞতার জন্য কি ধরনের সমাধান দিয়েছে সেটি কাস্টমার গুরুত্বদিয়ে খেয়াল করে।

কাস্টমার একটি অনলাইন বিজনেসে পজিটিভ রিভিউের চেয়ে নেগেটিভ রিভিউকে বেশি বিশ্বাস করে।

কাস্টমারের আস্থা অর্জন করতে হলে নেগেটিভ রিভিউকে দক্ষতার সাথে ফেস করুন।এটি আপনার অনলাইন বিজনেসকে পজিটিভ করে তুলতে বেশি কার্যকর। তা না হলে কাস্টমার আপনাকে ফেক অনলাইন সেলার ভাবতে পারে।

ই কমার্স ওয়েবসাইট আছে এমন শপগুলো থেকে কেনাকাটায় কাস্টমার আস্থা পায়।

চূড়ান্তভাবে কেনার সিদ্ধান্ত নিতে কাস্টমার ই কমার্স ওয়েবসাইট আছে এমন শপগুলোকে প্রাধান্য দেয়। কাস্টমার মনে করেন ওয়েবসাইট ছাড়া অনলাইন কেনাকাটা বুদ্ধিমানের কাজ নই।

সেলার হিসেবে আপনার করনীয়,

কাস্টমারদের অনলাইন কেনাকাটায় মানসম্মত ওয়েবসাইট নিশ্চিতকরণ। জন্মগত ভাবেই মানুষের পছন্দ তার রুচিবোধ দ্বারা পরিচালিত। তাই আপনি ওয়েবসাইটির লুক ও এর কাঠামো নিয়ে আপনাকে সচেতন হতে হবে । ই কমার্স সেক্টরে দক্ষ এমন কোনো প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠান হতে ওয়েবসাইটি তৈরি করবেন।

যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী ও অনলাইন বিজনেস নিয়ে সিরিয়াস তাঁরা কখনোই ই কমার্স ওয়েবসাইটটি তৈরি করতে প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কারো হতে নিম্নমানের সাইট তৈরি করে না।

পলিসি

নীতি বা পলিসি ছাড়া মানুষ ও বিজনেস কোনোটির মূল্য নেই। ই কমার্স বিজনেসের প্রাইভেসি পলিসি, রিফান্ড পলিসি, রিটার্ন ও এক্সচেঞ্জ পলিসি থাকতে হবে। পলিসি না থাকলে ভালো মানের কাস্টমার গ্রুপ দামদিয়ে আপনার শপ থেকে কেন প্রোডাক্ট কিনবে? তাদের বিক্রয়কালীন ও বিক্রয় পরবর্তী সেবার নিরাপত্তা কি?

আপনার অনলাইন বিজনেসের জন্য রিটার্ন, রিফান্ড পলিসি তৈরি করুন এই অনলাইন অ্যাপ দিয়ে, Termly

কাস্টমার সবসময় তাদের প্রাধান্য দেয় যারা কাস্টমারদের স্বার্থ রক্ষা করে বিজনেস করে। তাই প্রকৃত অনলাইন ব্যবসায়ী হতে হলে থাকতে হবে বিজনেস ও কাস্টমার সার্ভিস পলিসি।

অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা প্রকৃত অনলাইন বিজনেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডিকেটর।

যে সকল অনলাইন শপ অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা দেয় তাদের থেকে লেনদেন করতে কাস্টমার নিরাপদ বোধ করে। অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা চালু করতে একটি অনলাইন শপের ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট, ব্যবসায়ীর এন আই ডি কার্ড প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ তাকে ট্র্যাক করার সহজ। একজন ফেক অনলাইন সেলার কোন সময় এসকল তথ্য কাস্টমারদের সাথে শেয়ার করতে চাইবে না।আর এটি প্রকৃত অনলাইন ব্যবসায়ী ও ফেক অনলাইন ব্যবসায়ীর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।

এছাড়াও অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা এখন সময়ের চাহিদা।শহুরে মানুষদের ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিং এখন দারুণ জনপ্রিয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অক্টোবর ২০১৯ থেকে নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত Mobile Financial Services (MFS) এর একটি তুলনামূলক স্টেটমেন্টে প্রমান করে ইলেক্ট্রনিক লেনদেনের গুরুত্ব।

টাকা খরচ করলেই অনলাইনে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবেন এমন কল্পনা থেকে বের হয়ে এসে আপনার অনলাইন শপটির উপর আস্থা রাখার মতো যথেষ্ট কারণ কাস্টমারদের সামনে উপস্থাপন করুন।

কাস্টমারদের আস্থা অর্জন করতে হলে বিজনেসের সচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। জানতে হবে কোন কারণগুলি সত্যিকারভাবে একটি বিজনেসকে সবার কাছে আস্থাশীল করে তোলে।

যদি গড়পড়তা অনলাইন শপগুলোর মতো বিজনেস পরিচালনা করেন তবে হতে পারে অসাধু অনলাইন বিজনেসের তালিকায় আপনার স্থান হয়েছে। যা আপনি কোনদিনও জানবেন না।

আপনার অনলাইন বিজনেস সম্পর্কিত যে কোনো প্রশ্ন বা সমস্যা সমাধানে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে:

0176668138 অথবা 01729241499 অথবা [email protected]

 

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কি? পাসওয়ার্ড কি ও কিভাবে পাসওয়ার্ড সংরক্ষন করবেন

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কি? পাসওয়ার্ড কি ও কিভাবে পাসওয়ার্ড সংরক্ষন করবেন

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার আপনার অ্যাকাউন্টগুলির জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করে এগুলি এনক্রিপ্ট করে ভল্টে সংরক্ষণ করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার জন্য ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার লগইন ফর্মগুলি পূরণ করে।আলাদা ভাবে পাসওয়ার্ড লগইন বক্সে লিখার প্রয়োজন হয় না ।

ডেক্সটপ ও মোবাইলে এই পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা যায়। মোবাইলে ব্যবহার করার জন্য প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে প্রয়োজনীয় অ্যাপটি নামিয়ে নিতে হবে।

সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে।আপনার নোটবুকে,খাতায়  গোপনীয় পাসওয়ার্ড লিখে রাখার দরকার হবে না

অনলাইন দুনিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ও ওয়েবসাইটগুলির সুরক্ষায় পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়। ভিন্ন ভিন্ন সাইটের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড মনে রাখা কষ্টকর বিধায় অনেকে একটি পাসওয়ার্ড একাধিক সফটওয়্যার ও ওয়েবসাইটগুলি জন্য ব্যবহার করেন।

একটি পাসওয়ার্ড অনেকগুলো সাইট বা সফটওয়্যারের জন্য ব্যবহার করা হলে সবগুলো সাইট নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে। কারণ সেই পাসওয়ার্ড হ্যাক হলে সেটি দিয়ে বাকি সবগুলো সাইটে প্রবেশ করা যায়।

আবার নোটবুকে পাসওয়ার্ড লিখে রাখা খুবই অনিরাপদ। তাহলে কি করবেন? সমাধান পাসওয়ার্ড ম্যানেজার।

   

 

পাসওয়ার্ড কি

পাসওয়ার্ড হলো একটি গোপন সাংকেতিক কোড বা স্ট্রিং, যা একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট বা সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের সমন্বয়ে গঠিত হয়, যা অনুমোদিত ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারে না।

পাসওয়ার্ড কেন ব্যবহার করা হয়?

পাসওয়ার্ড ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এটি নিম্নলিখিত কারণগুলোতে ব্যবহৃত হয়:

  • ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা – সামাজিক মাধ্যম, ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করে।
  • সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধ করা – হ্যাকারদের হাত থেকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।
  • অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা – শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যক্তিরাই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারে।
  • গোপনীয়তা রক্ষা করা – আপনার ইমেইল, ফাইল এবং অন্যান্য সংবেদনশীল ডেটা সুরক্ষিত থাকে।

অটো সেভ পাসওয়ার্ড

অটো সেভ পাসওয়ার্ড হলো এমন একটি ফিচার, যা ব্রাউজার বা পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করে। এটি বিশেষভাবে গুগল ক্রোম, মাইক্রোসফট এজ, ফায়ারফক্স ও অন্যান্য ব্রাউজারে পাওয়া যায়।

অটো সেভ পাসওয়ার্ড ব্যবহারের সুবিধা:

  • লগইন করার সময় বারবার পাসওয়ার্ড টাইপ করতে হয় না।
  • পাসওয়ার্ড ভুলে গেলেও সহজেই পুনরুদ্ধার করা যায়।
  • বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলেও এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করে রাখে।

পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে করণীয়

আপনার পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে আপনি পুনরুদ্ধারের বিকল্প ব্যবহার করে এটি পুনরুদ্ধার করতে পারেন।

পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করবেন কিভাবে?

  • ব্রাউজারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করুন: গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স এবং এজ-এর মতো ব্রাউজারে লগইন করার সময় “Save Password” অপশন ব্যবহার করুন।
  • পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন: বিশেষ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার (যেমন LastPass, Bitwarden) ব্যবহার করে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করুন।
  • নোট বা ফিজিক্যাল কপি সংরক্ষণ করুন: জরুরি পাসওয়ার্ডগুলোর জন্য নিরাপদ স্থানে লিখে রাখুন।
  • রিসেট অপশন ব্যবহার করুন: ইমেইল বা ফোন নম্বর সংযুক্ত থাকলে, “Forgot Password” অপশনের মাধ্যমে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করুন।

৯ টি সেরা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার

১. lastpass

আপনার সমস্ত অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ম্যানেজ করতে পারবেন এই ফ্রি পাসওয়ার্ড ম্যানেজারটি দিয়ে। 

লাস্টপাস ফ্রি এবং প্রিমিয়াম দুটি উপায়ে ব্যবহার করতে পারবেন।আপনার সমস্ত পাসওয়ার্ডগুলো এখানে সেভ হয়ে থাকবে আর সেগুলি একটি  মাস্টার পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত থাকবে। 

আপনি মাস্টার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এই সফটওয়্যার লগইন করলে এরপর আর কোন সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইটে লগইন করার জন্য আলাদা ভাবে পাসওয়ার্ড লেখার প্রয়োজন পড়বে না। 

উইন্ডোজ, ম্যাক, আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে এটি ব্যবহার করা যাবে। গোপনীয় নোট টেক্সট ফরম্যাটে রাখার সুবিধা পাবেন।   

সফটওয়্যারটির ডাউনলোড লিংক, Download LastPass

 

২. Dashlane

 

এটি একটি দুর্দান্ত ওয়েব পাসওয়ার্ড ম্যানেজার।  

ড্যাশলেন লাস্টপাসের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং লাস্টপাসের মতো এটিতেও পাসওয়ার্ড জেনারেশন,নোট রাখার সুবিধা পাবেন।  
এটি কেবল একটি উইন্ডোজ ডেস্কটপ প্রোগ্রাম নয়; এর ব্রাউজার প্লাগইন এবং মোবাইল সংস্করণ রয়েছে।

ফ্রি সংস্করণে সমস্ত প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজ, অটোফিল এবং ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাড করার সুবিধা পাবেন। এর সবগুলো ফিচার উপভোগ করতে হলে প্রিমিয়াম সংস্করণটি ব্যবহার করতে হবে। সেজন্য আপনাকে সার্ভিস ফি দিয়ে হবে।  

সফটওয়্যারটির ডাউনলোড লিংক, Download Dashlane

৩. Keeper Security

পাসওয়ার্ডগুলোর সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। 

পাসওয়ার্ড ম্যানেজারগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে পুরানো।বাজারে সর্বাধিক পরীক্ষিত এবং ব্যবহারকারীদের রেফার করা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার। এটির কোন ফ্রি ভার্সন নেই তবে প্রিমিয়াম ভার্সনটি সাশ্রয়ী যা বড় বড় সংস্থা, শিক্ষার্থী, পরিবার এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারকারী সবার সামর্থ্যের মধ্যে। 

সফটওয়্যারটির ডাউনলোড লিংক, Download Keeper Security

৪. RoboForm

মোবাইল অ্যাপ সহ একটি দুর্দান্ত ফ্রি ডেস্কটপ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার। 

রোবফর্ম দাবি করে তাঁরা বিশ্বের সেরা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার।ফ্রি সংস্করণে আনলিমিটেড পরিমাণ লগইন সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে।সবমিলিয়ে এটি আপনার জন্য খুব ভাল একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এবং এর ফ্রি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি দুর্দান্ত। 

এটির পাসওয়ার্ড জেনারেটর ফিচার অত্যন্ত শক্তিশালী। উইন্ডোজ, ম্যাক, আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ব্যবহার উপযোগী । 

সফটওয়্যারটির ডাউনলোড লিংক, Download RoboForm

৫. KeePass

অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি কাস্টমাইজযোগ্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার। 

কিপাসের  পাসওয়ার্ড জেনারেটর চমৎকার ভাবে নতুন সাইটগুলোর জন্য উপযুক্ত লগইন ফরম  তৈরি করতে পারে এবং পাসওয়ার্ডকে দুর্বল করে দেয় এমন বিষয়গুলো ইন্ডিকেট করতে পারে।  

পাসওয়ার্ড ম্যানেজারটির  আরও একটি সুবিধা হলো এটি পোর্টেবল। পিসিতে ইনস্টল না করেও USB থেকে চালানো যায়। 

সফটওয়্যারটির ডাউনলোড লিংক, Download KeePass Password Safe

৬. Sticky Password

এভিজি অ্যান্টিভাইরাস টিম এই পাসওয়ার্ড ম্যানেজার তৈরিতে কাজ করেছে, তাই এর সুরক্ষা ব্যবস্থা  নিয়ে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন।

স্টিকি পাসওয়ার্ডের দুটি সংস্করণ রয়েছে: ফ্রি এবং প্রিমিয়াম। এটি ব্যবহারে সহজ, তবে এটির কাস্টমাইজেশন সুবিধা কম। 

অ্যাপটি পিসি, ম্যাক, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএসে কাজ করে, মোবাইল ব্যবহারকারীরা   ফিঙ্গারপ্রিন্ট সুবিধা পাবেন। এটির পোর্টেবল ইউএসবি সংস্করণ রয়েছে।

সফটওয়্যারটির ডাউনলোড লিংক, Download Sticky Password

৭. Iolo ByePass

এটি আইলোর প্রিমিয়াম পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। 

আইওলো বাইপাসের মূল সংস্করণটি একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ম্যানেজার যা বাকি সব পাসওয়ার্ড ম্যানেজারগুলোর মতই সকল সুবিধা দেয়। এর একটি দারুণ ফিচার হলো, আপনার ব্রাউজিংয়ের হিস্টরি পরিষ্কার এবং খোলা ট্যাবগুলি রিমটলি বন্ধ করতে পারে।
এর ফ্রি সংস্করণটি আপনাকে কেবল পাঁচটি অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করার সুবিধা দিবে।

সফটওয়্যারটির ডাউনলোড লিংক, Download Iolo ByePass

৮. Firefox Lockwise

ফায়ারফক্সের জন্য একাধিক ডিভাইস সিঙ্ক করতে পারে। 

ফায়ারফক্স লকওয়াইয়াস একটি দারুণ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার। এটি মোবাইল অ্যাপ এবং ডেস্কটপ ব্রাউজ এক্সটেনশান হিসাবেও পাওয়া যায়। ফায়ারফক্স অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ডেস্কটপ এবং মোবাইল ডিভাইসগুলো লগইন করে সিঙ্ক করা যায়।

লকওয়াইস কেবল তখন কার্যকর হবে যদি আপনি ফায়ারফক্সকে আপনার সমস্ত ডিভাইসে আপনার প্রধান ব্রাউজার হিসাবে ব্যবহার করেন।

সফটওয়্যারটির ডাউনলোড লিংক, Download Firefox Lockwise

৯. Google Password Manager (ফ্রি)

  • গুগল ক্রোম এবং অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য বিল্ট-ইন।
  • স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ ও পূরণ করে।
  • passwords.google.com থেকে পাসওয়ার্ড ম্যানেজ করা যায়।

কিভাবে গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড সংরক্ষন করবেন?

আপনার সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড দেখতে বা পরিচালনা করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. Google Chrome:
    • ব্রাউজারে যান এবং Settings > Passwords এ যান।
    • সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড দেখতে eye icon এ ক্লিক করুন।
  2. গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন:
    • passwords.google.com এ যান।
    • লগইন করুন এবং সংরক্ষিত পাসওয়ার্ডগুলোর তালিকা দেখুন।
  3. পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ ব্যবহার করুন:
    • LastPass, 1Password বা Bitwarden-এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড দেখুন।

পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের এর সুবিধা সমূহ

  • সমস্ত অ্যাকাউন্টের জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করতে পারেন।
  • একক মাস্টার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সমস্ত সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড পরিচালনা করতে পারেন।
  • বিভিন্ন ডিভাইস থেকে নিরাপদে লগইন করতে পারেন।
  • অটো-ফিল ফিচারের মাধ্যমে সহজে লগইন করতে পারেন।

 একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরির পদ্ধতি ও তার উদাহরন

একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করতে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করুন:

  1. কমপক্ষে ১২-১৬ অক্ষরের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
  2. বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন (যেমন @, #, $, %) অন্তর্ভুক্ত করুন।
  3. সহজে অনুমানযোগ্য তথ্য (যেমন জন্মতারিখ, নাম, 123456) ব্যবহার করবেন না।
  4. প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
  5. নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের উদাহরণ:

  • J#8kZ@9pQ!xP3
  • bY$45%G&h1Lm!
  • 1P@q8#vZ%W$7T

এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার পাসওয়ার্ড আরও নিরাপদ হবে এবং অনলাইনে নিরাপত্তা বজায় থাকবে।

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার নিয়ে শেষ কথা 

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করার সুবিধা হলো আপনাকে একটি মাত্র পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয় যা ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সফটওয়্যারটি লগইন করবেন। তার পরে প্রয়োজন মাফিক সাইটের জন্য পাসওয়ার্ডগুলো অটোমেটিক ভাবে লগইন বক্সে ফিল হয়ে যায়।

এখন থেকে আপনাকে কষ্ট করে কঠিন সব পাসওয়ার্ডগুলো মনে রাখতে হবে না।   

লাইক-ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় পোস্ট