ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিজনেসের জন্য কম খরচের মার্কেটিং আইডিয়া

ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিজনেসের জন্য কম খরচের মার্কেটিং আইডিয়া

বিগ ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলোর সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বাজেট থাকে বড়,  আর সেই বড় বাজেটের শক্তিতে তারা খুব সহজেই বিশাল একটি অডিয়েন্সকে রিচ করতে পারে। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মার্কেটিং বাজেট লিমিটেড। ফলে তাদের পক্ষে টাকা খরচ করে বড় অডিয়েন্স গ্রুপকে রিচ করা সম্ভব হয় না।

এমন পরিস্থিতিতে স্ট্র্যাটেজিক মুভমেন্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ মার্কেটিং মেথড।

কিন্তু এই ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের যথেষ্ট  ক্রিয়েটিভ হতে হয়। তাদের এমন কিছু অভিনব উপায় বের করতে হবে যা কাস্টমারদের অ্যাটেনশন গ্রাব করে। 

আমরা এমনই কিছু অভিনব মার্কেটিং আইডিয়া নিয়ে কথা বলবো যা উদ্যোক্তাগন কম খরচে করতে পারেন যা পোটেনশিয়াল অডিয়েন্স গ্রুপকে রিচ করে। 

সোশ্যাল মিডিয়া কম্পিটিশনের আয়োজন

বর্তমান সময়ে বিজনেসের মার্কেটিংয়ে সোশ্যাল মিডিয়া গুলোর ব্যবহার দারুন ভাবে লক্ষণীয়। এই প্রতিযোগিতায় ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামের পাশাপাশি টিকটক, ইউটিউব সমানতালে ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু সামাজিক মাধ্যমের দ্বারা অডিয়েন্স রিচ করা আগের মতো এতটা সহজ নয়। উদাহরণস্বরূপ, ফেসবুকে করা একটি পোস্ট ফেসবুক অডিয়েন্সদের মাত্র ৫.২% কে রিচ করে। আর তাই পেইড মার্কেটিং করার প্রয়োজন পড়ে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর জন্য টাকা খরচ না করে যদি অডিয়েন্সের এঙ্গেজ করতে চান?  তবে প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারেন।

এই প্রতিযোগিতায় কুইজ অথবা ফানপ্লের মাধ্যমে অডিয়েন্সদের যুক্ত হবার জন্য উৎসাহিত করবেন। স্বাভাবিকভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ কথা বলতে চায়, অংশগ্রহণ করতে চায়। ফলে তারা কুইজ অথবা এ ধরনের ইভেন্টের সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয়।

প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য আপনি পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখবেন, এই পুরস্কার অডিয়েন্সদের কুইজে উৎসাহিত করবে। 

পুরস্কারের মূল্যমান যত বেশি হবে অডিয়েন্স ততবেশি আগ্রহের সাথে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।

এতে করে পেইড মার্কেটিং এর জন্য খরচ কম করে অধিক পরিমাণে পোটেনশিয়াল অডিয়েন্সেস রিচ করতে পারবেন। 

মনে হতে পারে পুরস্কারের জন্য টাকা খরচ হচ্ছে?  কিন্তু এটি মার্কেটিং বাজেটের একটি অংশ এবং তা অবশ্যই পেইড মার্কেটিংয়ের খরচের তুলনায় যথেষ্ট পরিমাণ কম।

কোম্পানির প্রতিযোগিতার ধরন অডিয়েন্সের ক্যারেক্টারস্টিক্স অনুসারে ও পুরস্কার বিজনেসের অর্থনৈতিক সামর্থ্য অনুযায়ী হবে। 

নিচের চিত্রে খেয়াল করুন কিভাবে লোকা ফুড একটি ইনস্টাগ্রাম কনটেস্ট আয়োজন করেছেন।

 

ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট

ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট ছোট-বড় সব ধরনের বিজনেসের জন্য গেম চেঞ্জার। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। 

একটি গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় 79% কাস্টমার User-Generated কন্টেন দ্বারা দারুণভাবে প্রভাবিত।

ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট এর মাধ্যমে একজন কাস্টমার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিজেই প্রমোট করে। প্রোডাক্টের সাথে ছবি তুলে অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্র্যান্ডের নামে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে তাদের এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করে।

যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া কাস্টমারদের এঙ্গেজমেন্ট কি ম্যাট্রিক্স ফলে এই ধরনের কনটেন্ট খুব দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও যে ব্যাক্তি তার নিজ সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি শেয়ার করছে তার কানেকশনের বন্ধুরা এটি দেখতে পায়।

ফলে পেইড মার্কেটিংয়ে এক টাকা খরচ না করে কাস্টমারদের রিচ ও এঙ্গেজ করা যায়।

ভিডিও টিউটোরিয়াল

বিশেষ করে টেক কোম্পানিগুলোতে মার্কেটিং এর জন্য ভিডিও টিউটোরিয়াল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতে দেখা যায়।  যেখানে একজন রিভিউয়ার কোন একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের রিভিউ করে থাকেন এবং এটি বায়ারদের জন্য কতটুকু ভালো বা খারাপ তা বিশ্লেষণ করেন। একই সাথে প্রোডাক্টের বিভিন্ন ফিচার নিয়েও তারা কথা বলেন।

আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস যদি এমন হয়, তাহলে আপনিও সেটির ভিডিও টিউটোরিয়াল তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন।

ভাইরাল টপিক

আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত এমন সব ঘটনা ঘটছে যত ইন্টারেস্টিং কখনোবা শিক্ষণীয় অথবা বিস্ময়কর। আপনি যদি একজন ক্রিটিভ মাইন্ড হয়ে থাকেন তবে টপিকগুলোকে ব্যবহার করে বিজনেস এর মার্কেটিং করতে পারেন। 

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় বেশ কিছুদিন আগে বাংলাদেশ একটি লোকাল ফার্নিচার কোম্পানি একটি হাস্যকর বিজ্ঞাপন তৈরী করে চারিদিকে সাড়া ফেলে দিয়েছিল।

বিজ্ঞাপনটি নিতান্ত ভাবেই অপরিকল্পিত এবং কোন প্রকার গভীর চিন্তা ছাড়াই নির্মিত।

কিন্তু সেটি হঠাৎ করেই ভাইরাল হয়ে যায়। হ্যাঁ, আমি কাকলি ফার্নিচারের কথা বলছি।

এবং পরবর্তীতে তাদের এই বিজ্ঞাপনের হাস্যরস কে কাজে লাগিয়ে অনেক ব্র্যান্ড মিম মার্কেটিং করেছেন। ট্রেন্ডি টপিকগুলোর ইনস্ট্যান্ট রিটার্ন অনেক বেশি ফলে খুব সহজেই এটি অডিয়েন্সদের দৃষ্টিগোচর হয়। কিন্তু মনে রাখবেন এটি দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর নয়। 

চোখ রাখুন আপনার আশেপাশে কি ঘটছে সেগুলোর উপর। যদি এমন কোন টপিক আপনার চোখে পড়ে যা অডিয়েন্স পছন্দ করছে, তবে তার সাথে রিলেট করে মার্কেটিং ক্যাম্পেইন প্ল্যান করতে পারেন।

কাস্টমার ফিডব্যাক

আপনার বিজনেসের লয়াল কাস্টমার হলো আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। তারা আপনার বিজনেস নিয়ে কি চিন্তা করছে,  সেটি আপনার নিজের জানা এবং আপনার ভবিষ্যৎ কাস্টমারদের সেটি জানানো অত্যন্ত প্রয়োজন।

কাস্টমারদের মতামত সংগ্রহ করুন এবং সেটি রিভিউ আকারে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রদর্শন করুন। কেননা কাস্টমার রিভিউ বিজনেসের জন্য ট্রাস্ট ফ্যাক্টর।

লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড

অ্যাওয়ার্ড একটি প্রতিষ্ঠান ক্রেডিবিলিটি এবং অথরিটি ক্রিয়েট করে। এটি কাস্টমারদের মেসেজ দেয় যে আপনি তাদের যা অফার করছেন সেটি সেরাদের সেরা।

বিজনেস রিলেটেড যেসকল অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত হয় সেগুলোতে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করুন। বাংলাদেশে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠান এমন কিছু অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতার আয়োজন করে যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে।  

এছাড়া প্রোডাক্ট ইনোভেশন, নিউ বিজনেস মডেল ইত্যাদি বিষয়ের ওপর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান আয়োজন হয়ে থাকে।

আপনি সেই প্রতিযোগিতাগুলোর অংশগ্রহণ করুন এবং আপনার অর্জিত অ্যাওয়ার্ড কাস্টমারদের সম্মুখে উপস্থাপন করুন।

এতে কাস্টমার আপনাকে চিনবে, আপনার সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারবে। এতে আপনার ওপর তাদের আস্থা এবং বিশ্বাস তৈরি হবে। একই সাথে একটি বড় মঞ্চে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন হয় বলে বড় অডিয়েন্স গ্রুপ আপনি খুব সহজেই রিচ করতে পারবেন।

 

লোকাল ইভেন্টগুলো এটেন্ড করুন

আপনার আশেপাশে যে সকল লোকাল ইভেন্টগুলো হচ্ছে সেগুলোর এটেন্ড করুন।

যেমন লোকাল ফেয়ার, সাপ্তাহিক মার্কেট, নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট ইত্যাদি।

লোকাল এই ইভেন্টগুলোতে প্রচুর পরিমাণে স্থানীয় কাস্টমারের সমাবেশ ঘটে। ফলে আপনি খুব সহজেই একটি ছোট পরিসরের মধ্যে মোটামুটি একটি বড় ধরনের অডিয়েন্সকে রিচ করতে পারবেন।

সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার

 

আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের জন্য কোন ধরনের অডিয়েন্স সবচেয়ে বেশি ইফেক্টিভ সেটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। এর পরে যেসকল সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারদের নিকটে আপনার বিজনেসের  জন্য উপযুক্ত অডিয়েন্স রয়েছে তাদের খুঁজেবের করতে হবে। 

এবারে সেই ইনফ্লুয়েন্সের এর মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট রিভিউ করান অথবা প্রমোট করেন। এতে করে খুব সহজেই একজনের সোশ্যাল পাওয়ার কে কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের অডিয়েন্স গ্রুপ রিচ করতে পারবেন।

রেফারেল প্রোগ্রাম 

রেফারাল প্রোগ্রাম গ্রোথ মার্কেটিং এর একটি শক্তিশালী উদাহরণ। যেখানে একজন পটেনশিয়াল কাস্টমার আরো কয়েকজন পোটেনশিয়াল কাস্টমারকে নিয়ে আসে।

রেফারেল প্রোগ্রামের একজন কাস্টমার তার অফার বর ডিসকাউন্ট কোড টি অন্য কারো সাথে শেয়ার করলে যখন নতুন কাস্টমার কোন কিছু কেনাকাটা করবে তখন যিনি রেফার করেছেন তিনিও বেনিফিটেড হবেন।

এ ধরনের মার্কেটিং প্রোগ্রামগুলোতে কাস্টমার নিজে বেনিফিট পাবার জন্য নতুনদের মধ্যে সে প্রোডাক্ট প্রমোশন করে তাও আবার বিনামূল্যে। 

ক্রস বিজনেস প্রমোশন

ধরুন আপনার বইয়ের বিজনেস রয়েছে। তাহলে আপনি যদি কোন একটি স্টেশনারি বিজনেসের সাথে মার্জ হয়ে মার্কেটিং করেন বা তাদের অডিয়েন্স রিচ করেন সক্ষম হন। তাহলে আপনি আপনার বিজনেসের জন্য আইডিয়াল অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে পারবেন।

কারণ যারা বইয়ের প্রতি আগ্রহ রাখে তাদের স্টেশনারি প্রোডাক্টও দরকার হয়।

একইভাবে স্টেশনারি বিজনেস বুক ছেলেদের অডিয়েন্সের মধ্যে তার বিজনেসের প্রমোশন করতে পারে।

এই প্রক্রিয়ায় আপনি খুব সহজেই টার্গেট অডিয়েন্স এর কাছে পৌছাতে পারবেন এবং তার জন্য আপনাকে খুব বেশি পরিমাণে অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন হবে না।

পরিশেষে

বিজনেস এর মার্কেটিং করার অর্থ এই নয় আপনাকে প্রচুর অর্থ খরচ করতে হবে বা  দামি দামি এজেন্সির সাথে যুক্ত হয়ে বিগ বাজেটের অ্যাড তৈরি করতে হবে।

আপনি যদি আপনার অডিয়েন্সদের খুব ভালোভাবে জেনে থাকেন তবে তারা কি পছন্দ করে, কি করলে তাদের এটেনশন পাবেন এবং কোথায় প্রমোশন করলে অডিয়েন্স রিচ করতে পারবেন সেটি খুঁজে বের করা আপনার জন্য সহজ।

আর এভাবেই আপনার নতুন উদ্যোগটি সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবেন।

 

রেফারেল মার্কেটিংঃ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এগিয়ে থাকার সিক্রেট

রেফারেল মার্কেটিংঃ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এগিয়ে থাকার সিক্রেট

মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তার আশেপাশের মানুষ দ্বারা প্রভাবিত হয়। হতে পারে সে তার বন্ধু, প্রতিবেশী অথবা কোন একজন  সেলিব্রেটি। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে রেফারেল মার্কেটিং সেলস বৃদ্ধি করার জন্য সেরা একটি পদ্ধতি।  

এর কারণ হচ্ছে এই পদ্ধতিতে মানুষ অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। রেফারেল মার্কেটিং word-of-mouth এর আরেকটি রূপ। 

রেফারেল মার্কেটিং কি

সহজ ভাষায় বলতে গেলে রেফারেল মার্কেটিং হচ্ছে  একজন ক্রেতা যখন তার ক্রয় পরবর্তী অভিজ্ঞতা শেয়ারের মাধ্যমে আর একজনকে কেনাকাটায় উৎসাহিত করে এবং এটি অবশ্যই একটি কমিশনের ভিক্তিতে। 

সাধারণত আমরা যখন কোন মুভি দেখি বা রেস্টুরেন্টে যাই অথবা কোনো ব্র্যান্ডকে বেছে নিতে চাই, ঠিক সেই মুহুর্তে আশেপাশের মানুষ বা বন্ধুদের পরামর্শ আমাদের প্রয়োজন হয়। কারণ  আমরা জানতে চাই উল্লেখিত বিষয়ে কারো কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে কিনা।  

যদি তাদের অভিজ্ঞতা  ইতিবাচক তবে আমরা খুব সহজেই বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি।  আর এ কারণেই এটি সেরা মার্কেটিং মেথড। 

রেফেরেন্স মার্কেটিং কেন এত পাওয়ারফুল

মূলত তিনটি কারণে রেফারেল মার্কেটিং অত্যন্ত পাওয়ারফুল একটি মার্কেটিং স্ট্র্যাটিজি। 

সুপার লেজার টার্গেটিং

একটি সফল  ক্যাম্পেইনে দুটি বিষয় থাকতে হয়, প্রথমত গ্রেট মেসেজ এবং লেজার টার্গেটিং।  

আদর্শ কাস্টমারদের কাছে যখন আমরা সফলভাবে মার্কেটিং মেসেজটি পৌঁছে দিতে সক্ষম হই, তখন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বেচাকেনার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেল করার জন্য আমাদের অনেকেরই ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। যখন ফেসবুকে আমরা একটি অ্যাড চালিয়ে থাকি তখন প্রতিদিনই লক্ষ্য করি অ্যাডের খরচ কিভাবে বাড়তে থাকে। অনেক সময় এই অ্যাড ক্যাম্পেইন গুলো আমাদের ইতিবাচক ফলাফল এনে দেয়, আবার অনেক সময় সেগুলো ব্যর্থ হয়।

কিন্তু রেফারেল মার্কেটিং প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের সেল নিয়ে আনতে একটি অব্যর্থ পদ্ধতি, কারণ এখানে একজন প্রকৃত ক্রেতা এমন আরেকজনকে রেফার করে যার সেই প্রোডাক্টটির ডিমান্ড রয়েছে এবং সেটি কেনার জন্য সে আদর্শ প্রস্পেক্ট। একই সাথে সেই ব্যক্তিকে সেটি কেনার জন্য কনভেন্স করতেো পারেন।  

কারণ রেফারাল মার্কেটিংয়ের একটি উপাদান হচ্ছে যখন একজন ক্রেতা অন্য আরেকজন সম্ভাব্য ক্রেতাকে কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কেনার জন্য  রেফার করে এবং রেফারেন্সে প্রস্পেক্ট  কোন একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কেনে তখন তার বিপরীতে সেই রেফারার একটি কমিশন অথবা ডিসকাউন্ট পায়। 

অর্থাৎ  এই মার্কেটিং ক্যাম্পেইন তখনই সফল হবে যখন সত্যিকার অর্থে কেউ একজন  প্রোডাক্ট বা সার্ভিসটি কেনাকাটা করবে। 

ট্রাস্ট ফ্যাক্টর

আমরা এমন কারো কাছ থেকে কখনোই কেনাকাটা করি না যাদের আমরা বিশ্বাস করি না। আর রেফারেল মার্কেটিং বিশ্বাসযোগ্যতাকে  সেলিং ফ্যাক্টর হিসেবে ব্যবহার করে। 

রেফারেন্স মারকেটিং কখনো অপরিচিত মানুষদের দ্বারা করা হয় না,  এই পদ্ধতিতে এমন সকল মানুষদের ব্যবহার করা হয় যারা আপনার খুব পরিচিত বা ক্রেতা যাদেরকে  অনুসরণ করেন অথবা যাদেরকে তারা পছন্দ করেন। 

তাই এ কারণে একটি গবেষণায় উঠে এসেছে রেফারেল মার্কেটিং সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মার্কেটিং এর একটি অন্যতম পদ্ধতি। 

কিন্তু রেফারেল মার্কেটিং মানেই শুধু আত্মীয়ও, বন্ধু বা যাদের আপনি অনুসরণ করেন তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার বাইরেও  এর আরো অনেক ফ্রম রয়েছে। যেমন, 

  • ফ্রেন্ডস এবং ফ্যামিলি
  • নিউজ পাবলিশার
  • সেলিব্রেটি
  • ব্লগ ও  আর্টিকেল বা  চ্যানেল
  • রিভিউ
  • টেস্টিমোনিয়াল

কাস্টোমার রিচ

কিছুদিন আগেও সাধারন একজন ক্রেতার অডিয়েন্স রিচ করার ক্ষমতা অত্যন্ত কম এবং সীমাবদ্ধ ছিল।  কিন্তু বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে এই সীমাবদ্ধতা অসীমতায় পরিণত হয়েছে।  

মানুষ চাইলেই এখন একটি ফেসবুক পোস্টের  মাধ্যমে দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে খুব সহজেই পৌঁছে যেতে পারে। 

আর এটি রেফারেল মার্কেটিংকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যেখানে একজন সেলিব্রেটি তার একটি পোষ্টের মাধ্যমে মুহুর্তেই তার সমস্ত ফ্যান ফলোয়ার্স থেকে শুরু করে সারাবিশ্বে দ্রুততম সময়ে তার মেসেজটি পৌঁছে দিতে পারেন। ফলে দিন দিন রেফারেল মার্কেটিং এর ব্যবহার বাড়ছে। 

রেফারেল মার্কেটিং এর উদাহরণ

রেফারেল মার্কেটিংয়ের এত গুরুত্ব একটি বোঝার জন্য আমরা এমন কিছু উদাহরণ দেখবো যা আপনাকে স্পষ্ট একটি ধারণা দেবে এই মার্কেটিং পদ্ধতি এবং তার ব্যবহার সম্পর্কে। 

 

সেবা বন্ধু । Sheba.xyz

Sheba.xyz  কে আমরা সকলেই চিনি,  এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ একটি সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম।  এই প্ল্যাটফর্মের খুব জনপ্রিয় একটি রেফারেল প্রোগ্রাম হচ্ছে সেবা বন্ধু।  

যেখানে আপনাকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে ও সেটিতে সাইন আপ করতে হবে এবং সেই অ্যাপের মাধ্যমে আপনার পরিচিত বন্ধু বান্ধবকে রেফার করতে হবে তার ফোন নাম্বার ওর নাম ব্যবহার করে। ফোন নাম্বারটি অবশ্যই সঠিক হতে হবে।

এরপরে যখন আপনার বন্ধু সেই রেফার করা লিংকটি ব্যবহার করে এই অ্যাপটি ব্যবহার শুরু করবে এবং সেখান থেকে অর্ডার করবে ঠিক তখনই আপনি একটি কমিশন পাবেন যেটির পরিমাণ ১০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। 

Repto | Online Education Center in Bangladesh


এটি বাংলাদেশি একটি এডুকেশনাল প্ল্যাটফর্ম যারা বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক কোর্স অনলাইনে সেল করে।  Repto এর রয়েছে একটি রেফারাল প্রোগ্রাম।  সেজন্য আপনাকে এই এডুকেশনাল প্লাটফর্মে  প্রথমে একাউন্ট ক্রিয়েট করতে হবে, তাহলে আপনি একটি রেফারেল লিংক পাবেন। যেটি আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধব বা মানুষদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন। 

এবারে আপনার রেফার করা লিংকটি ব্যবহার করে কেউ যখন এই প্লাটফর্ম থেকে কোন একটি কোর্স কিনবে তখন আপনি একটি ক্রেডিট পাবেন।  সর্বোচ্চ ২০০ ক্রেডিট পর্যন্ত পাবার সুযোগ রয়েছে যেখানে প্রতি ক্রেডিট অর্থাৎ ১ টাকা  সমমান। 

Pathao | Motorcycle, Cars Ride and Online Courier

পাঠাও বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং সার্ভিস হিসেবেই অধিক জনপ্রিয়।  এছাড়াও তাদের রয়েছে কুরিয়ার সার্ভিস এবং ফুড সার্ভিস।  খুব অল্প সময়ে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিটি বাংলাদেশের অত্যন্ত পপুলার হয়ে উঠেছে।  তাদেরও রয়েছে রেফারেল প্রোগ্রাম। 

বিভিন্ন সময়ে এসএমএস এর মাধ্যমে তারা কিছু রেফারেল কোড অফার করে। আপনি আপনার পরিচিত বন্ধু মহলে অথবা নিকট আত্মীয়দের সাথে সেটি শেয়ার করতে পারেন।  আপনার রেফার করা কোড ব্যবহার করে তারা যদি  রাইড শেয়ারিং সার্ভিস গ্রহণ করে তবে সর্বোচ্চ ৫০% পার্সেন্ট পর্যন্ত ডিসকাউন্ট আপনি পেতে পারেন। 

Uber Bangladesh | On-Demand Car Hiring Service Dhaka

উবার একটি গ্লোবাল রাইড শেয়ারিং সার্ভিস, পাশাপাশি উবার অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি তাদের সার্ভিস কোয়ালিটির জন্য সমাদৃত। বাংলাদেশের বাইরে ও বিভিন্ন দেশে উবারের সার্ভিসটি এক দশক ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। 

ইন্টারন্যাশনাল এই রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি রয়েছে রেফারেল প্রোগ্রাম,  যেখানে খুব সহজেই আপনি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পেয়ে যেতে পারেন।

সেজন্য আপনাকে উবার অ্যাপটি পরিচিত বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে রেফার করতে হবে এবং তারা যখন সে অ্যাপটি ব্যবহার করে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসটি গ্রহণ করবে তখন আপনি পরবর্তী তিনটি রাইডে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ডিসকাউন্ট পেয়ে যাবেন।

পরিশেষে,

রেফারাল প্রোগ্রাম হিতে বিপরীত হতে পারে যদি না আপনার সার্ভিস কোয়ালিটি ভালো না হয়। তাই রেফারাল প্রোগ্রাম ইম্প্লেমেন্ট করার আগে অবশ্যই সার্ভিস কোয়ালিটি উন্নত করার দিকে মনোযোগী হবেন।  

রেফারাল প্রোগ্রাম সফল করতে হলে কেন একজন ক্রেতা অন্য একজনকে সেটি রেফার করবেন তার কারণ দিতে হবে এবং সেটি অবশ্যই টাকার মূল্যমানে।

তাই রেফারেল প্রোগ্রামটি এমনভাবে ডিজাইন করবেন যাতে যে রেফার করছে সে কোন না কোন উপায়ে আর্থিক ভাবে মূল্যায়িত হয়।  আপনার বিজনেসের জন্য কি কোন রেফারেল প্রোগ্রাম রয়েছে? যদি থাকে তবে সেটি কি?  আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। 

কল টু অ্যাকশন (CTA): আরো বেশি কাস্টমার কনভার্শনের সিক্রেট

কল টু অ্যাকশন (CTA): আরো বেশি কাস্টমার  কনভার্শনের সিক্রেট

আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর শপিংকার্টে কেন প্রোডাক্ট অ্যাড (যোগ) করছে না? আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাফিক কিন্তু তারা কেউ কেনাকাটা করছে না।

এমন পরিস্থিতি যদি  আপনার সাথে ঘটে তবে আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর ঠিক ভাবে বুঝে উঠছে না ওয়েবসাইটে ল্যান্ড করার পরে কিভাবে তার পছন্দের প্রোডাক্টগুলো খুঁজে পাবে। 

ই-কমার্স বেচাকেনা চ্যালেঞ্জিং এখানে কাস্টমারদের সঠিকভাবে নেভিগেট করে আপনার প্রোডাক্ট কেনার উপায় এবং পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। তা না হলে কাস্টমার কেনাকাটা না করেই আপনার ওয়েবসাইট ছেড়ে চলে যেতে পারে।  

আর ঠিক এই কারণেই বেশিরভাগ ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বেচাকেনায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অর্জিত হয় না। কারণ তারা তাদের কাস্টমারদের সঠিকভাবে গাইড করতে সক্ষম হন না। 

সঠিক কাস্টমার নেভিগেশনের জন্য কল টু অ্যাকশন বাটন এখানে মূল ভূমিকা পালন করে।  

আপনি যদি একজন ই-কমার্স উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন, তবে কল টু অ্যাকশন বাটনটি আসলে কি সে সম্পর্কে নিশ্চয়ই আপনার ধারণা আছে। আপনাকে জানতে হবে কিভাবে এর ব্যবহার করলে কাস্টমারদের নেভিগেট করে প্রোডাক্ট শপিং কার্টে এড করা থেকে চেক-আউট প্রসেস সম্পন্ন করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিকে গাইড করা যায়। 

কল টু অ্যাকশন (CTA) বাটনটি হচ্ছে, কাস্টমার এখন কি পদক্ষেপ নেবে? কোথায় ক্লিক করবে? সেই সম্পর্কিত নির্দেশনা।  

অনেকে মনে করেন কল টু অ্যাকশন একটি বাটন হতে হবে বা অনুরূপ কিছু হবে। কিন্তু কল টু অ্যাকশন শুধুমাত্র একটি বাটন নয়, এটি হতে পারে একটি নির্দেশনা সম্পর্কিত চিহ্ন,  হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে গাইডলাইন, বা হতে পারে কাস্টমারের কাছে বিক্রেতার পরবর্তী চাওয়া। 

আর সেই কারণেই কল টু অ্যাকশনের ব্যবহার বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। এটি নির্ভর করে বিক্রেতা তার কাস্টমারদের একটি প্রোডাক্ট সম্পর্কে তথ্য প্রদান করার পর পরবর্তী কোন পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যেতে চায়। 

কিভাবে কল টু অ্যাকশন (CTA) বাটনকে ইফেক্টিভ করে তোলা যায়

অনেকেই অভিযোগ করেন কল টু অ্যাকশন বাটন আমরা ব্যবহার করি কিন্তু কাস্টমার তাতে ক্লিক করেন না। যদিও ক্লিক করেন কিন্তু প্রোডাক্ট কিনেন না। এই অভিযোগটি সত্য, কারণ  আপনার কল টু অ্যাকশন বাটনটি ইফেক্টিভ নয়।  কল টু অ্যাকশন বাটন ইফেক্টিভ হবে যদি একটি মেসেজ কাস্টমারদের কাছে ভ্যালুয়েবল মনে হয়।

তাহলে কিভাবে  কল টু অ্যাকশন  বাটনকে ইফেক্টিভ করে তোলা যায়? 

সেন্স অফ আর্জেন্সি তৈরি করতে হবে

যে প্রোডাক্টটি সীমিত সময়ের জন্য উপলব্ধ বা প্রোডাক্টের স্টক কম অথবা কোন একটি অফার নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত থাকবে এরপরে আর সেটি গ্রহণ করা যাবে না, এ সকল ক্ষেত্রে কাস্টমারদের মনে সেটি হারিয়ে ফেলার ভয় তৈরি হয়।  এটি তাঁর ক্রয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কালকে কমিয়ে নিয়ে আসে। 

এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় সেন্স অফ আর্জেন্সি। 

ConversionXL, একটি গবেষণায় দেখিয়েছে সেন্স অফ আর্জেন্সি তৈরি করার মাধ্যম দিয়ে তাদের কনভার্শন রেইট 332 শতাংশ পরিমাণ বৃদ্ধি  সক্ষম হয়েছে। 

কল টু অ্যাকশন (CTA) বাটনের কালার

অনেক সময় দেখা যায় ই-কমার্স ওয়েবসাইটে কল টু অ্যাকশন বাটনটি কোথায় সেটি খুঁজে পেতে কষ্ট হয় অর্থাৎ এটি পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায় না।  কল টু অ্যাকশন এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যেন এটি সহজেই দৃষ্টিগোচর হয়। 

চেষ্টা করবেন উজ্জ্বল কালারের  কল টু অ্যাকশন ব্যবহার করতে এবং একটি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপরে হলে আরো বেশি দৃষ্টিগোচর হয়। 

প্রোডাক্ট বা ব্যাকগ্রাউন্ডের কালারের সাথে কল টু অ্যাকশনের কালার যেন একই রকম না হয়ে যায় এবং কল টু অ্যাকশন বাটনটিকে সবার থেকে একটু আলাদা ভাবে উপস্থাপন করবেন।  খুব বেশি পরিমাণ টেক্সট বা হিজিবিজি বাটন কাস্টমারদের  মনের বিরক্তি জন্ম দেয়। 

সিম্পল বাটন,  সুইট টেক্সট 

কল টু অ্যাকশন বাটন খুব সাদামাটা কিন্তু সহজেই দৃষ্টিগোচর হয় এমন হওয়া বাঞ্ছনীয়। যেমন, BUY NOW, SHOP NOW, SIGN UP  এই ধরনের শর্ট এবং সুইট শব্দ ব্যবহার  করবেন। 

বাটন তৈরি বা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও খুব বেশি গ্রাফিকের ব্যবহার না করাই ভালো। যেটা ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর খুব ভালোভাবে ফুটে ওঠে এবং ছোট শব্দ যা অল্প কথায় বুঝিয়ে দেয় এমন  কল টু অ্যাকশনে  অডিয়েন্স বেশি হয়। 

হিরো ইমেজ  যখন কল টু অ্যাকশন

আপনার ওয়েবসাইটের ব্যানারে যে ছবিটি ব্যবহার করা হয় সেটিকে হিরো ইমেজ বলে। আপনি চাইলে পুরো ইমেজকেই কল টু অ্যাকশন বাটনে পরিনত করতে পারেন। 

যে ক্যাটাগরির প্রোডাক্ট আপনি বেশি পরিমাণে সেল করতে ইচ্ছুক সেগুলো দিয়ে অ্যাড তৈরি করে ব্যানার হিসেবে ওয়েবসাইটে আপলোড করবেন এবং সেইসাথে সেই নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির প্রোডাক্ট ট্যাগ করে দিবেন। এতে  কাস্টমার সেই ইমেজে ক্লিক করলে সরাসরি ক্যাটাগরিতে ল্যান্ড করবে। 

নটরডেম ইউনিভার্সিটির একটি রিসার্চে উঠে এসেছে ওয়েবসাইটের ব্যানারে প্রথম পাঁচটি ইমেজের মধ্যে  প্রথমটিতে  ক্লিক করার পরিমাণ প্রায় 84 শতাংশ বেশি। 

Keep it “above the fold”

এটির অর্থ আপনার  ওয়েবসাইটের প্রথম পেজের স্ক্রিন এন্ড পয়েন্ট।  আপনি যখনই কোন কল টু অ্যাকশন দিবেন  সেটি  above the fold এরিয়ার মধ্যে  রাখবেন,  কারণ এই এরিয়ার মধ্যে কল টু অ্যাকশন সবচেয়ে বেশি কার্যকর।  

একজন ভিজিটর প্রথমে আপনার ওয়েবসাইটে এসে প্রথম স্ক্রোলিং এন্ড পয়েন্ট এরিয়ার মধ্যে যা কিছু দেখতে পায়  সেটিতে সবার আগে মনোযোগ দেয়। তাই প্রথম পেজেই কাস্টমারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হলে আপনার প্রোডাক্টের সেল হওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। 

এবারে চলুন দেখি কল টু অ্যাকশন বাটন গুলোর ব্যবহার, 

Beastmode Apparel

উপরের চিত্রে খেয়াল করে দেখুন, বেস্ট মুড দারুন কিছু হুডির কালেকশন নিয়ে এসেছে এবং লিমিটেড এডিশন শব্দটি ব্যবহার করে  সেন্স অফ আর্জেন্সি তৈরি করেছে। 

তারা কল টু অ্যাকশন বাটনটি নিচের দিকে জুড়ে দিয়েছে। প্রোডাক্টের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ডে যা  ব্যানারটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।  কাস্টমার প্রথম পেজেই সবগুলো তথ্যের সাথে কোথায় ক্লিক করতে হবে  সে বিষয়ে পরিষ্কার। 

Sriracha 2 Go

এই ওয়েবসাইটের ফ্রন্ট পেজের ইমেজটি দেখুন যেখানে প্রোডাক্ট দেখতে কেমন সহজে বোঝা যায় এবং সেটি কি প্রোডাক্ট তা টেক্সটের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। একই সাথে কিনতে হলে কি করতে হবে সেটিও  একটি পরিষ্কার কল টু অ্যাকশন বাটনের মাধ্যমে বলা হয়েছে এবং সবকিছু করা হয়েছে above the fold এরিয়ার মধ্যে।

Bixbi Pet

এই ওয়েবসাইটের স্টোর ফ্রন্টে হিরো ইমেজের সাথেই প্রোডাক্ট এবং প্রোডাক্টের ডেসক্রিপশন একই সাথে  কল টু অ্যাকশন জুড়ে দেওয়া হয়েছে।  

প্রোডাক্টটি কার জন্য ব্যবহার উপযোগী সেটি ছবির মাধ্যমে দেখানো হয়েছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই ইমেজের মধ্যেই নিচের অংশে রিলেটেড প্রোডাক্ট এর কালেকশন প্রদর্শন করা হয়েছে। 

ব্যাকগ্রাউন্ড  কালার হিসেবে ইয়োলো রং এর ব্যবহার এটিকে আরো বেশি দৃষ্টিগোচর করে তুলেছে।  টপ সেলিং প্রডাক্ট এর পাশাপাশি প্রোডাক্টের কালেকশন নিয়ে তৈরি হিরো ইমেজটি  কল টু অ্যাকশনের দারুন একটি উদাহরণ। 

Department of Motivation

Department of Motivation  তাদের ওয়েবসাইটের স্টোর ফ্রন্টে হিরো ইমেজের কার্যকারিতাকে ব্যবহার করে তাদের প্রোডাক্ট সম্পর্কে কাস্টমারদের সচেতন করার জন্য একটি গ্রাফিক সাথে মটিভেশনাল টেক্সট এবং এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে কোথায় ক্লিক করতে হবে সেটি উল্লেখ করেছে। 

Carry on Cocktail Kit

কল টু অ্যাকশন নিয়ে আরো একটি দারুন  উদাহরণ হচ্ছে Carry on Cocktail Kit যেখানে হিরো ইমেজের মাধ্যমে প্রোডাক্টের ধারনা দেয়া হয়েছে এবং সে সম্পর্কে আরো জানতে কি করতে হবে সেটির জন্য  নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

কাস্টমারকে নেভিগেট করার মাধ্যমে  check-out পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি তাদের ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য  যথেষ্ট পজিটিভ মেসেজ বহন করে।  

 

Manpacks

এই ব্র্যান্ডটি হিরো ইমেজেই  স্পষ্ট বলে দিয়েছে তারা কি ধরনের প্রোডাক্ট বিক্রি করে এবং  প্রোডাক্ট সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য পেতে কাস্টমারদের কি করতে হবে।  

একই সাথে সেকেন্ডারি কল টু অ্যাকশন হিসাবে তারা ফেসবুক -কে জুড়ে দিয়েছে। কেউ যদি তাদের ফেসবুকে কানেক্ট হতে চায় সহজেই হতে পারবে। 

Grovemade

Grovemade  তাদের  ওয়েবসাইটে বড় একটি হিরো ইমেজ ব্যবহার করেছে, সাথে ফান টাইপ টেক্সট এর মাধ্যমে পুরো বিষয়টিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।  এখানে কল টু অ্যাকশন বাটনটি অত্যন্ত সিম্পল  হওয়া সত্ত্বেও খুব সহজেই দৃষ্টিগোচর হয়। 

এছাড়াও কাস্টমার যদি প্রোডাক্ট কেনাকাটা করতে চায় তবে ওপরের শপ অপশনটি জুড়ে দেয়া হয়েছে।  এতে করে কাস্টমার প্রথম পেজেই তার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো খুঁজে পায় এবং প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো খুঁজে নিতে পারে।  

পরিশেষে

কল টু অ্যাকশনের দারুন সব ব্যবহার সম্পর্কে আমরা জানলাম এখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য  ইফেক্টিভ অ্যাকশন গুলোর ব্যবহার  নিশ্চিত করার মাধ্যম দিয়ে আরো বেশি কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট এবং কনভার্শন তৈরি করুন।

উদাহরণে দেখানো সবগুলো পদ্ধতি আপনার জন্য সঠিক নাও হতে পারে, তাই প্রতিটি টেস্ট করার মাধ্যমে আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে কোন পদ্ধতিটি আপনার জন্য অধিক কার্যক

ফেসবুক বিজনেস পেজে প্রোডাক্টের পোস্ট দিলে কেন সেল হয় না

ফেসবুক বিজনেস পেজে প্রোডাক্টের পোস্ট দিলে কেন সেল হয় না

জানতে চান? আপনার ফেসবুক বিজনেস পেজের পোস্টগুলো কেন সেল জেনারেট করতে পারে না? কারণ, প্রোডাক্টের পোস্টগুলোর গ্রহণযোগ্য উপস্থাপনা হচ্ছে না।

যার ফলে প্রতিদিন ফেসবুক বিজনেস পেজে একাধিক পোস্ট করলেও সেটি কাস্টমারদের কাছে গুরুত্ব রাখে না। তাই আপনার সেল পোস্ট দ্বারা প্রোডাক্ট সেল হয় না। 

ফেসবুক সেল পোষ্টগুলো হতে হবে এমন,যেখানে কাস্টমার জানবে প্রোডাক্টটি কেন তার জন্য ভ্যালুয়েবল? 

এটি তাদের কি ধরনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে এবং এই প্রোডাক্ট দ্বারা তারা তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবে কিনা?

তারা যখন এই সকল প্রশ্নের সমাধান পাবেন, তখন কাস্টমার পেজে প্রোডাক্টের পোস্টগুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। তারা তাদের প্রশ্নগুলো আপনাকে জানাবে, উত্তর খুঁজবে, তৈরি হবে কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট। 

কাস্টমারদের কনভারসেশন গুলো ধীরে ধীরে বাড়বে একই সাথে বাড়বে প্রোডাক্টের অর্ডার।  

তথ্য উপস্থাপন করুন যা কাস্টমারদের প্রয়োজন

ফেসবুক মার্কেটিং এর জগতে সেলারদের চাওয়া তার পোস্টটি অধিক সংখ্যক অডিয়েন্সকে এঙ্গেজ করুন। এই উদ্দেশ্য নিয়ে প্রত্যেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এত এত ফেসবুক পোস্টের ভিড়ে আপনার প্রোডাক্টের পোস্টটি পড়ার জন্য মানুষের কাছে সময় খুব কম।

যে প্রোডাক্টটি আপনি বিক্রি করছেন সেটি কি? কাদের জন্য? এর প্রয়োজনীয়তা এবং এটি ব্যবহারকারির যে সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম, সেটি একটি সুইট ও শর্ট প্যারাগ্রাফের মাধ্যমে সর্বাধিক দুই থেকে তিন লাইনে উপস্থাপন করবেন।

উদাহরণ হিসেবে উপরের চিত্রটি দেখতে পারেন, যেখানে সিম্পল ভাবে একটি শর্ট প্যারাগ্রাফের মাধ্যমে প্রোডাক্টের বর্ণনা, গুনাগুন এবং কার্যকারিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

কাস্টমারদের চাওয়া বুঝতে হবে ও  কেয়ার করতে হবে

কাস্টমারদের চাওয়া জানলেই হবে না, একবার যখন জানতে পারবেন সেই মাফিক কনটেন্টগুলো ডিজাইন করবেন।

সেই সকল তথ্য উপস্থাপন করবেন যেগুলো বায়িং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।  ঠিক যেমনটি নিচের পোস্টটি দেখানো হয়েছে,

 

যেখানে একটি হেডফোনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে।

যেগুলো একজন কাস্টমারের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয়। আর এগুলো মূলত একটি প্রোডাক্ট কেনার সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে। 

কল-টু-অ্যাকশন, নো এক্সট্রা ডেসক্রিপশন

একটি প্রোডাক্টের বর্ণনা খুব চমৎকার হলেও কাস্টমারের সামনে  সেটি কেনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোন পরিস্কার তথ্য যদি না থাকে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খেয়াল করা গেছে তারা প্রোডাক্ট না অর্ডার করে চলে যান।

ফেসবুক পেজ পোস্টের ক্ষেত্রে ফেইক বাটন ব্যবহারের কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই সরাসরি Buy Now, Order Now  এই ধরনের বাটন পোস্টের পিকচারে ব্যবহার করবেন না।  

তাহলে কিভাবে আপনি কল-টু-একশন প্রমোট করতে পারেন?  যারা একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে নিচের পোস্টটি খেয়াল করুন,

যেখানে সরাসরি “Order Now” শব্দটি না উল্লেখ করে অর্ডার প্রক্রিয়ার জন্য কাস্টমার কি করতে পারেন সেটি বোঝার জন্য একটি প্রক্রিয়ার বর্ণনা করা হয়েছে।  এটি কল টু একশনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

যে প্রোডাক্টটি অলরেডি পপুলার ও ব্র্যান্ডেড সেই প্রোডাক্ট সেল করার জন্য সেলারকে এক্সট্রা ডেসক্রিপশনে না গিয়ে সরাসরি Clear-Cut কল টু অ্যাকশনে যাওয়াটাই যৌক্তিক। এক্ষেত্রে পারচেস প্রসেস বা অর্ডার প্রসেস নিয়ে কথা বলা সরাসরি কল টু একশনের হেভিওয়েট রিপ্লেসমেন্ট। 

ফটোগ্রাফি বা ভিডিও যখন কথা বলে

অনলাইন কেনাকাটায় মানুষ প্রোডাক্টটি হাতে নিয়ে অনুভব করতে পারে, না তাই অনলাইন সেলস একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়।

কিন্তু আপনি চাইলেই প্রোডাক্টটির অভিজ্ঞতা তাকে অনুভব করাতে পারবেন ফটোগ্রাফি অথবা ভিডিওর মাধ্যমে।

ভিজুয়ালাইজেশন একটি প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারণা পেতে এবং এক্সপিরিয়েন্স সম্পর্কে মনের মধ্যে অনুভূতি তৈরি করতে কার্যকর একটি পদ্ধতি।

উপরের চিত্রটি খেয়াল করলে দেখবেন একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যারা  ম্যাটারনিটি ক্লদিং সেল করেন, তারা একটি জাম্পস্যুট এর উপস্থাপনা করেছেন একজন প্রেগন্যান্ট মায়ের মাধ্যমে। 

যা থেকে টার্গেট অডিয়েন্স বা প্রেগন্যান্ট মায়েরা সহজেই বুঝতে পারবে প্রোডাক্টি তার জন্য কেমন হতে পারে। এটি তার বায়িং ডিসিশনকে প্রভাবিত করে। 

এবারে উপরের চিত্রটি খেয়াল করুন, একটি “কী হোল্ডার” এর ভিন্ন ভিন্ন কালার ভেরিয়েশন গিফ পিকচার এর মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। যেখানে আপনি পছন্দের কালারটি সিলেক্ট করলে ডিসপ্লের চিত্রটিতে সেইম কালারের “কী হোল্ডার” প্রদর্শিত হবে।

এটি আপনার পছন্দের কালার এর “কী হোল্ডার” টি দেখতে কেমন হতে পারে সে বিষয়ে সম্যক ধারণা প্রদান করে এবং সেল জেনারেট করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং শক্তিশালী একটি ফিচার যা আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

এই ধরনের কমার্শিয়াল পোস্ট তৈরি করতে ভিন্ন ভিন্ন কালারের প্রোডাক্ট গুলো নিয়ে স্লাইড, গিফ ইমেজ অথবা ভিডিওগ্রাফি তৈরি করুন। 

 

কাস্টমার রিভিউ পোস্ট আকারে প্রকাশ করুন

ফটো সোর্সঃ গেজেট এন্ড গিয়ার 

অনেকে মনে করেন শুধুমাত্র পেজে রিভিউ দিলেই কাজ শেষ কিন্তু সেটি প্রমোট করাও জরুরি। দেখা গেছে প্রায় 95% কাস্টমার পারচেস ডিসিশন  গ্রহণ করে কাস্টমার রিভিউ দেখে।

আক্ষরিক অর্থে আপনার বিজনেসের কাস্টমাররা আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে কি বলছে? পারচেস পরবর্তী সময়ে তাদের অভিজ্ঞতা কি? এবং তারা প্রোডাক্ট নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা? সেগুলো প্রমোট করুন। 

অথবা প্রোডাক্ট কাস্টমারদের একচুয়াল প্রবলেম সল্যুশনে সক্ষম কিনা এসব বিষয় নিয়ে কাস্টমারদের অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়মিতভাবে পোস্ট আকারে প্রকাশ করুন।

উপরের চিত্রে একটি পার্সোনাল কেয়ার ব্র্যান্ড তাদের কাস্টমারদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এটি অনলাইন সেলসের জন্য প্রমানিত পদ্ধতি।

সোশ্যাল প্রুফ এন্ড সার্টিফিকেশন

আপনার প্রোডাক্টের আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় ক্ষেত্রে কোন গুরুত্বপূর্ণ সার্টিফিকেশন বা আপ্রুভাল থাকলে সেগুলো প্রদর্শন করুন। এগুলো প্রোডাক্টের অথেন্টিসিটি সম্পর্কে আওারনেস ও অথরিটি তৈরি করে।

ঠিক যেমনটি নিচের বিউটি প্রোডাক্ট উপস্থাপন করেছে, 

ছবিটিতে নিচের দিকে খেয়াল করলে দেখবেন সেখানে বেশ কিছু ক্লিনিক্যাল এবং কমার্শিয়াল সার্টিফিকেশনের ব্যাজ উল্লেখ আছে। এগুলো কাস্টমারদের এটেনশন পেতে হেল্প করে।

একই উপায়ে প্রোডাক্টের ভালো এবং খারাপ দিকগুলো যদি গ্রাফিক্যাল ভিউের মাধ্যমে তুলে ধরেন। তাহলে  খুব সহজে সেগুলো কাস্টমারদের নজরে আসে এবং এই ছোটখাটো বিষয়গুলো কাস্টমারদের পারচেস ডিসিশনকে ট্রিগার পয়েন্ট নিয়ে যেতে হেল্প করে। 

নিচের ছবিটি খেয়াল করুন,

পরিশেষে

আপনার ফেসবুক বিজনেস পেজের পোস্টগুলো শুধুমাত্র সাধারন কোন পোস্ট হলে সেটি দ্বারা কখনই সেল জেনারেট করতে পারবেন না। 

প্রতিটি পোস্ট আপনার অডিয়েন্সের জন্য ভ্যালুয়েবল হতে হবে। আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে, কাস্টমারদের পেইন্ট পয়েন্ট নিয়ে এবং সেগুলোর সমাধান নিয়ে যত অল্প কথায় পরিষ্কার ধারণা প্রদান করতে পারবেন, তত বেশি সেল পোস্টগুলো কাস্টমারদের এঙ্গেজ করবে। 

কাস্টমার কমেন্টে প্রোডাক্ট গুলো নিয়ে কথা বলবে, বিস্তারিত জানতে চাইবে।  আর যখন আপনি সফলভাবে এটি করতে সক্ষম হবেন, ঠিক তখনই কাস্টমার অর্ডার করবে। 

 বিষয়গুলো অত্যন্ত ছোটখাট মনে হলেও অধিকাংশ সেলার এটি করতে সক্ষম হন না, কিন্তু ফেসবুক পেজে প্রোডাক্ট সেলের ক্ষেত্রে টপ সেলার ও ফেলিওরদের মাঝে এগুলো বড় ধরনের পার্থক্য গড়ে দেয়।

ম্যাক্সিমাম অর্গানিক রিচ পেতে ফেসবুক পোস্ট স্প্লিট টেস্টিং

ম্যাক্সিমাম অর্গানিক রিচ পেতে ফেসবুক পোস্ট স্প্লিট টেস্টিং

ফেসবুকে পেইড অ্যাডের জন্য টাকা খরচ না করে যদি বেশি পরিমান অর্গানিক রিচ পাওয়া যায় তবে সেটি সর্বাধিক উৎকৃষ্ট। কিন্তু অর্গানিক রিচ তো আর এমনি এমনি পাওয়া যায় না, তার জন্য জানতে হবে কিছু ট্রিকস।  

আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে ফেসবুক পোষ্টের কোন ধরনের কনটেন্টগুলো আপনার অর্ডিয়েন্সরা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করছে । 

ফেসবুক পোষ্টের পপুলারিটি চেক করার জন্য ফেসবুকের নিজের একটি চমৎকার টুলস রয়েছে, যেটিকে বলা হয় “পোস্ট টেস্টিং টুলস”। 

এটির মূল কাজ হচ্ছে সেই কন্টেনগুলোকে খুঁজে বের করা যা সেই পেজের অডিয়েন্সরা সবথেকে বেশি পছন্দ করে। ফেসবুকে বেশি পরিমান অর্গানিক রিচ পাবার মূলমন্ত্র হচ্ছে রেলেভান্ট কনটেন্ট পোস্ট করা। আপনি যত বেশি অডিয়েন্সদের জন্য রিলেভেন্ট কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন, তত বেশি সেই পোস্টগুলো ফেসবুকে রিচ পাবে।

ফেসবুকের পোস্ট টেস্টিং টুলসের মূল কাজটি হচ্ছে একটি পোষ্টের প্রতিটি এলিমেন্টের পপুলারিটি চেক করা অর্থাৎ পোষ্টের গ্রাফিক, ভিডিও, টেক্সট অথবা লিংক এর কোনটি সবচেয়ে বেশি অডিয়েন্স পছন্দ করছে সেগুলো টেস্ট করা।

একবার যদি পোস্ট এর জন্য সঠিক কন্টেন খুঁজে বের করতে পারেন তবে সেটি আপনাকে সর্বোচ্চ অর্গানিক রিচ এনে দিবে।  

অর্গানিক ফেসবুক ভিডিও পোস্ট টেস্টিং 

ফেসবুক পোস্ট টেস্টিং টুলস অ্যাক্টিভ করতে হলে আপনাকে ফেসবুকের পাবলিশিং টুলস থেকে Creator studio তে যেতে হবে।

Creator studio থেকে কন্টেন লাইব্রেরীতে যেতে হবে, সেখানে নিচের ছবির মত একটি উইন্ডো পাবেন।

এবারে সেখান থেকে ভিডিও পোস্ট অপশনটি সিলেক্ট করে নেবেন। 

এখন যে ভিডিওটি টেস্ট করতে চান সে ভিডিওটি আপলোড করতে হবে এবং ভিডিওর জন্য টাইটেল, ডেসক্রিপশন এবং ডিটেলস গুলো যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। 

যেহেতু আমরা ভিডিওগুলো টেস্ট করবো, তাই ভিডিওগুলোর কয়েকটি ভার্শন আপলোড করতে হবে। সেজন্য নিচে “নিউ” নামে একটা অপশন রয়েছে সেখানে ক্লিক করে আরেকটি ভিডিও  আপলোড করবেন এবং সেটার বিপরীতে তার টাইটেল, ডেসক্রিপশন সহ প্রয়োজনীয় ডিটেইলস পূরণ করবেন। 

এভাবে যতগুলো ভিডিও আপনি টেস্ট করতে চান সবগুলো আপলোড করে তার ইনফরমেশন গুলো পূরণ করতে হবে।

এরপর এই টেস্টের একটি নাম দিতে বলা হবে,  টেস্টটি কোন ম্যাট্রিক্স গুলোর উপর নির্ভর করে করতে চান সেটি নির্ধারণ করতে বলা হবে। 

যেমন ১ মিনিট ভিডিও ভিউ, লাইক, শেয়ার, রিয়াকশন ইত্যাদি এবং কত সময়ের জন্য এই টেস্ট পরিচালনা করতে চান সেটি নির্ধারণ করতে হবে। 

সর্বনিম্ন ১০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে টেস্ট করার সুযোগ রয়েছে।

যদি সর্বোচ্চ সময় বা ২৪ ঘন্টা টেস্টের জন্য নির্ধারণ করে দেন তবে এমনটি নয় যে আপনাকে পুরো সময়টাই অতিবাহিত করতে হবে। এর মধ্যে যেকোনো সময় আপনি ম্যানুয়ালি টেস্টটা শেষ করতে পারেন এবং পাবলিশ করতে পারেন। 

পাবলিশ করার ক্ষেত্রে আপনি সাথে সাথেই টেস্ট পাবলিশ করতে পারবেন অথবা আপনি চাইলে নির্দিষ্ট সময়ে শিডিউল করে রাখতে পারবেন। 

Creator studio থেকে একটি টেস্ট শেষ হবার সময় বা রিমেনিং টাইম দেখা যায়। 

যে পোস্টটি উইনার হবে সেটি পাবলিশ করে দিলেও বাকি পোস্টগুলো লাইব্রেরী থেকে যাবে। কিন্তু এটি সবার কাছে ভিজিবল হবে না। আপনি চাইলে বাকি কন্টেন্টগুলো পরবর্তী সময়ে পোস্ট করতে পারবেন।

অর্গানিক ইমেজ পোস্ট টেস্টিং

পূর্বের মত একই প্রক্রিয়ায় পাবলিশিং থেকে Creator studio তে যাবেন এবং সেখান থেকে ইমেজ টেস্টিং অপশনটিতে ক্লিক করবেন এবং আগের মত একটি উইন্ডো ওপেন হবে সেখানে শুধুমাত্র ভিডিও জায়গায় ইমেজ অপশন  ড্রপডাউন মেনু থেকে বেছে নেবেন।

এখন টেষ্ট করার জন্য ইমেজ টাইটেল, URL এবং ডিটেলস গুলো পুরন করবেন। এরপরে পাবলিশ টেস্ট অপশনে ক্লিক করলে আগের মত একটি উইন্ডো আসবে সেখানে আপনাকে পেজটার নাম ডেস্ক্রিপশন এবং কোন মেট্রিকগুলো টেস্ট করতে চান সেটি বেছে নিতে বলবে যেমন নিচের চিত্রে দেখা যাচ্ছে।  

এরপরে টেস্ট এর সময়কাল নির্ধারণ করতে বলা হবে।  

আগের মতই ডিউরেশন সিলেক্ট করে নেয়ার পরে নেক্সট এ ক্লিক করলে real-time পাবলিশ অথবা ভবিষ্যতে কোন একটা সময়ে পাবলিশ করতে চান সে অপশন আসবে এবং সেটি নির্ধারণ করে দিলেই ইমেজ টেস্টি রান হয়ে যাবে।

সাধারণত গ্রাফিক্যাল পোস্ট এর ক্ষেত্রে  ফেসবুক  পোষ্টের অবজেক্টিভ অনুযায়ী একেকজনের একেক ধরনের ম্যাট্রিক্স প্রয়োজন হতে পারে। যেমন ধরুন, কেউ ইউজার এনগেজমেন্ট বাড়াতে চায়, সে ক্ষেত্রে তার চাহিদা হচ্ছে তার পোস্টটি সবথেকে বেশি শেয়ার হোক। 

এক্ষেত্রে সে সেই পোষ্টটিকেই উইনার বলে ধরে নেবে, যেটি সবচেয়ে বেশি বার শেয়ার করা হয়েছে। 

কারো কাছে যদি পোষ্টের কমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে তবে সে সেই পোষ্টটি কেই বেছে নেবে যে পোস্টের জন্য সবচেয়ে বেশি কমেন্ট হয়েছে।

 

অর্গানিক লিংক পোস্ট টেস্টিং

আপনি চাইলে আপনার ফেসবুক পোস্ট হিসাবে যে লিঙ্কটি দিচ্ছেন সেটি টেস্ট করতে পারেন।

এই টেস্টের মাধ্যমে একই লিংক বা URLএর জন্য ভিন্ন ভিন্ন  টেক্সট অথবা একই টেক্সট দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন URLটেস্ট করতে পারেন. 

এখন কোন ম্যাট্রিক্সটি টেস্ট রেজাল্টের জন্য নিতে চান সেটি নির্ধারণ করার পরে সময় নির্ধারণ করতে হবে এবং পোস্টটি পাবলিশ করে দেবেন।

অর্গানিক ফেসবুক টেক্সট পোস্ট টেস্টিং

অনেক সময় শুধুমাত্র একটি টেক্সট সম্বলিত পোস্ট ভিডিও গ্রাফিক্স ছাড়াও অনেক বেশি গুরুত্ব রাখে,  যদি আপনি এমন একটি পোস্ট টেস্ট করতে চান যেটির ভিডিও বা গ্রাফিক্স নেই তবে “টেক্সট পোস্ট” টেস্টিং অপশনটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

সেজন্য পূর্বের মতোই পোস্ট টেক্সটিং অপশন থেকে এবারে টেক্সট অপশনকে  বেছে নিতে হবে এবং একটি পোষ্টের জন্য কয়েকটি টেক্সট ভেরিয়েন্ট তৈরি করে নিতে হবে। 

এখন টেস্টিং এর জন্য কোন ম্যাট্রিক্সটি আপনি টেস্ট করতে চান সেটি নির্ধারণ করে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে হবে।

পরিশেষে

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর জন্য ফেসবুক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম এবং প্লাটফর্ম থেকে সর্বোচ্চ নিয়ে আসতে হলে আপনাকে এর প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে যার মধ্যে অন্যতম ফেসবুক টেস্টিং টুলস। 

এটি একটি ইফেক্টিভ ফেসবুক পোস্ট খুঁজে পাবার ও তৈরি করার জন্য গেম চেঞ্জার।  ফেসবুকে সফল হওয়ার মূলমন্ত্র রেলেভেন্ট কনটেন্ট তৈরি করা। আর ফেসবুকে আপনাকে সেই রেলেভেন্ট কন্টেন্টগুলো খুঁজে পেতে সাহায্য করে যা বেশি পরিমান অর্গানিক রিচ পাবার জন্য আদর্শ। 

আপনি কি আপনার বিজনেস পেজের জন্য পোস্ট গুলো টেস্ট করছেন? না করে থাকলে উপরে বর্ণিত স্টেপস গুলো ফলো করে পরীক্ষা করুন, কোন পোস্ট গুলো আপনার অডিয়েন্স সবচেয়ে বেশি পছন্দ করছে। 

 

 

ই কমার্স কনভার্সন বাড়াতে ৮ টি কার্যকরী কল টু অ্যাকশন

ই কমার্স কনভার্সন বাড়াতে ৮ টি কার্যকরী কল টু অ্যাকশন

ই-কমার্স কেনাকাটার প্রথম ধাপ শুরু হয় কল টু অ্যাকশন (CTA) বাটনে কাষ্টমারের ক্লিক করার মাধ্যমে। যদি বেশি পরিমাণে ই-কমার্স কনভার্শন চান তবে কল টু অ্যাকশন বাটনটিকে আরো বেশি চমকপ্রদক, ফোকাসড এবং ভ্যালুয়েবল করে তুলতে হবে।

কাস্টমার কেন আপনার ইকমার্স ওয়েবসাইট এর কম্প্যাকশন বাটনে ক্লিক করবে?  এই প্রশ্নটিই যদি নিজেকে করে থাকেন, এবং তার উত্তর আপনার কাছে স্পষ্ট নয় তবে বুঝতে হবে আপনার কয়েকটি একশন বাটন কাস্টমারদের প্রভাবিত করতে যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।

আপনাকে এমন একটি কল টু একশন বাটন ডিজাইন করার দিকে মনোযোগী হতে হবে যেটি দৃশ্যমান স্পষ্ট তথ্য প্রদান করে এবং কাস্টমারদের কেনাকাটায় ভ্যালু অ্যাড করে।

তাহলে কিভাবে ই-কমার্স বিজনেস এর জন্য একটি পাওয়ারফুল কয়টি একশন বাটন ডিজাইন করবেন? 

হারিয়ে ফেলার ভয় কে কাজে লাগান

মানুষকে বলুন এই মুহূর্তে যে  প্রোডাক্টটি  এভেলেবেল রয়েছে কিন্তু খুব বেশি সময়ের জন্য সেটি থাকবে না। এটি মানুষের মধ্যে সেন্স অফ আর্জেন্সি  তৈরি করে এবং মানুষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি অ্যাকশনে যায়। 

অনলাইন মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যখনই আপনি সেন্স অফ আর্জেন্সি  তৈরি করার চেষ্টা করবেন সেই সাথে আপনাকে এমন কিছু কল টু অ্যাকশন জুড়ে দিতে হবে যেটি কাস্টমারদের সামনে ভিজুয়াল থাকে। 

তবে কল টু অ্যাকশন যোগ করলেই হবে না অ্যাড করতে হবে উপযোগিতা বা ভ্যালু।

উপরের ছবিতে খেয়াল করে দেখুন কল টু একশনের ঠিক ওপরে লেখা আছে, only 1 item in stock.

আর এর মাধ্যম দিয়েই একটি প্রোডাক্ট কেনার জন্য কাস্টমারদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া কে প্রভাবিত করা যায়।

এবারে উপরের চিত্রটি খেয়াল করুন দেখবেন কয়েকটা একশনের ঠিক নিচে ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট অফার করা হয়েছে যার মাধ্যম দিয়ে কল টু অ্যাকশন এ ক্লিক করার জন্য কাস্টমারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এবারে অপরিচিত খেয়াল করে দেখুন সরাসরি প্রডাক্ট ডেসক্রিপশন লাইনেই উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে প্রোডাক্ট লিমিটেড এডিশন যেটি কাস্টমারদের কল টু অ্যাকশন এ ক্লিক করার জন্য প্রভাবিত করে ।

আর এভাবেই একটি CTA তে ক্লিক করার জন্য ভ্যালু অ্যাড করতে হয়।

সোশ্যাল প্রুফ এবং অথরিটি প্রদর্শন করুন 

মার্কেটিয়ারদের দুটি বিষয় মনে রাখতে হবে সেটি হচ্ছে

  • মানব মস্তিষ্ক অত্যন্ত অলস
  • এবং মানুষ সমাজের অন্যান্যদের দ্বারা প্রভাবিত

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে হিউম্যান ব্রেনের টেন্ডেন্সি থাকে যতটা সম্ভব জটিলতা এড়িয়ে সহজ সিদ্ধান্তে আসা।

এবং এই বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে আপনি CTA ডিজাইন করতে পারেন।

উপরের চিত্রটি খেয়াল করলে দেখবেন সেখানে কল টু অ্যাকশনের ঠিক ওপরে প্রোডাক্টের মূল্যের সাথে রিভিউ জুড়ে দেয়া হয়েছে।

আমরা সবাই জানি e-commerce কেনাকাটার জন্য কাস্টমার রিভিউ একটি শক্তিশালী প্রভাবক।

একই সাথে প্রোডাক্টের ছবির সাথে একটা এক্সট্রা ট্যাগ লাগানো হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে প্রডাক্টিভ বেস্ট সেলার।

একজন কাস্টোমার যখন এই দুইটি বিষয় খেয়াল করবে তখন দ্রুততম সময়ে কল টু অ্যাকশন এ ক্লিক করার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

মানব মস্তিষ্ক কে প্রভাবিত করার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে অথরিটি প্রদর্শন করা

চিত্রে লক্ষ্য করলে দেখবেন প্রোডাক্টের CTA- র ঠিক নিচে সেই প্রোডাক্টের সার্টিফিকেশন গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

আর এই বিষয়গুলো প্রোডাক্টের অথেন্টিসিটি সম্পর্কে কাস্টমারদের মনে পজেটিভ ধারণার তৈরি করে, এবং কাস্টমার এটি দ্বারা দারুন রকম ভাবে প্রভাবিত হয়।

অনিশ্চয়তা দূর করুন 

কাস্টমারদের সিদ্ধান্ত নেবার প্রক্রিয়াকে দ্রুত করার আরও একটি পদ্ধতি হচ্ছে পারচেস সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা’ গুলো কে সহজ করে দেওয়া।

একজন কাস্টোমার নতুন একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করার সময় অথবা একটি এক্সপেন্সিভ প্রোডাক্ট কেনার সময় কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে।

এগুলো মূলত পারচেস ডিসিশন নেবার জন্য অন্যতম প্রভাবক। যেমন প্রোডাক্টের শিপিং চার্জ কত, এক্সচেঞ্জ রিফান্ড অথবা রিটার্ন পলিসি আছে কিনা, একই সাথে প্রোডাক্টটি ওভার প্রাইস করা হয়েছে কিনা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি কিছুটা সংশয় থাকেন।

ই-কমার্স ওয়েবসাইট এ CTA পাওয়ারফুল করার জন্য আপনাকে এই সংশয় গুলোকে দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

কিভাবে সেটি করবেন নিচের চিত্র খেয়াল করুন,

Shoes.com কাস্টমারদের মেজর তিনটি সংশয় দূর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা ফ্রী শিপিং ফ্রী এক্সচেঞ্জ এবং প্রোডাক্ট এর প্রাইস এর যথার্থতা নিশ্চিত করতে আশ্বাস প্রদান করেছেন।

এটি একজন কাস্টমার কে কল টু অ্যাকশন বাটনে হিট করার জন্য নিঃসন্দেহে অনুপ্রাণিত করে।

প্রাইস এংকারিং করুন 

মানব মস্তিষ্ক প্রথম দেখা সংখ্যা দ্বারা দারুণরকম প্রভাবিত। আপনি তাকে পরবর্তীতে যতগুলো নাম্বার দেখান না কেন সে প্রতিবার প্রথম দেখার নাম্বারের সাথে সেটিকে কম্পেয়ার করতে থাকে।

উপরের চিত্রে খেয়াল করুন একটি প্রোডাক্ট এর প্রাইস প্রাথমিকভাবে 200 ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং সেটিকে পরবর্তী সময়ে ডিসকাউন্ট দিয়ে 140 ডলারে নিয়ে আসা হয়েছে।

এখানে প্রডাক্টিভ বিক্রি করার জন্য নির্ধারিত মূল্য 140 ডলার কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে মূল্যমান তাকে কিছুটা বাড়িয়ে 200 ডলার করা হয়েছে পরবর্তীতে যেটি কমিয়ে 140 টাকা নিয়ে আসা হয়।

কিন্তু কাস্টমার এর প্রোডাক্ট এর মূল্যমান বিচার করবে সেই 200 ডলার অনুসারেই।

এখানে ছাড়কৃত মূল্য তার জন্য অর্জন।

আরো পড়ুনঃ

প্রোডাক্ট প্রাইসিংঃ বিজনেসের বিক্রি বৃদ্ধিতে ৯টি রিসার্চ বেজড স্ট্রাটেজি

সঠিক ভাবে কল টু অ্যাকশন এর প্লেসমেন্ট করুন  

কল টু অ্যাকশন জুড়ে দিলেই হয় না নিশ্চিত করতে হয় এর আইডল প্লেসমেন্ট। এখানে প্লেসমেন্ট বলতে বুঝানো হয়েছে ঠিক কোথায় কল টু অ্যাকশন টি জুড়ে দিতে হবে।

উপরের চিত্রটি খেয়াল করলে দেখবেন CTA বাটনটি অনেক নিচে জুড়ে দেওয়া হয়েছে প্রডাক্ট দেস্ক্রিপশন কি অনেক বড় এবং ডানদিকে প্রোডাক্টের ছবি দেখানো হয়েছে।

কিন্তু আমরা যখন অন্যান্য ওয়েবসাইটের দিকে খেয়াল করি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রোডাক্ট এর ডিস্ক্রিপশন ডান দিকে রাখা হয় এবং বাম দিকে ছবি জুড়ে দেয়া হয়।

আপনি চাইলে বামদিকের পরিবর্তে ডানদিকে ছবি দেখাতে পারেন তবে কম্প্যাকশন বাতেন কি জানো প্রথম পেইজে সমস্ত ডিসক্রিপশন এর সাথে একসাথে প্রদর্শিত হতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

যদি কয়েকটি একশন বাটন প্রডাক্ট ইনফর্মেশন এর সাথে প্রদর্শিত না হয় তবে কাস্টমার একশন নেবার জন্য কল টু অ্যাকশন খুঁজে পেতে বাড়তি পদক্ষেপ নেবেন কিনা সেটি নির্ভর করে তার ডিসিশনে লেভেল এর উপরে।

কিন্তু আমরা যদি আরো বেশি কনভার্শন পেতে চাই তবে কল টু একশন বাটন গুলো তাদের সামনে রাখতে হবে।

 

কল টু অ্যাকশন বাটনগুলোর জন্য পরিষ্কার ম্যাসেজ ব্যবহার করুন 

কল টু অ্যাকশন বাটনগুলো কাস্টমারকে কি অ্যাকশন নিতে বলছে বা কেন অ্যাকশন নিতে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে কি মেসেজ দিচ্ছে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপরের চিত্রটি খেয়াল করলে দেখবেন ছেকআউৎ পেজ এ যাবার পরে কাস্টমারদের বলা হচ্ছে কন্টিনিউ করতে।

কিন্তু তিনি কি কন্টিনিউ করবেন সেটি সেই বাগানের টেক্সট দ্বারা পরিষ্কার নয়।

এবারে নিচের চিত্রটি খেয়াল করুন,

এখানে লক্ষ্য করলে দেখবেন কাস্টমারদের পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য রিভিউ করার জন্য কন্টিনিউ করতে বলা হচ্ছে এবং এটি খুব স্পষ্ট তথ্য। একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পোস্ট ও তথ্য কাস্টমারদের পারচেস এক্সপেরিয়েন্সকে সাবলীল করে তোলে।

কল টু অ্যাকশন বাটনকে দৃশ্যমান করে তুলুন

ই-কমার্স ওয়েবসাইটের প্রডাক্ট পেজ এ সমস্ত ইনফরমেশন এর মধ্যে আপনার কন্ঠ একশন বাটনটি হাইলাইটেড হতে হবে। কাস্টমার জন্য খুব সহজেই পরবর্তী একশন নেবার জন্য দরকারী বাটনটি খুঁজে পায়।

এক্ষেত্রে ফ্রন্ট সাইজ বড় করে বাটন এর কালার ভিন্ন রেখে এ ধরনের বিভিন্ন উপায়ে আপনি কল টু অ্যাকশন বাটনটিকে ব্যতিক্রমী করে তুলতে পারেন যা কাস্টমারের কাছে খুব সহজে দৃশ্যমান হবে যেমনটি নিচের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন।

যদি এমন হয় যে একটি পেজে একের অধিক কল টু একশন বাটন রয়েছে তবে প্রয়োজনীয় বাটনটিকে হাইলাইট করে অপরদিকে কিছুটা ডি ফোকাস করতে পারেন।

পপ-আপ কল টু অ্যাকশন

আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটে কাস্টমারের বিহেভিয়ার এর উপর নির্ভর করে পপ-আপ কল টু অ্যাকশন জুড়ে দিতে পারেন।

এক্ষেত্রে কাস্টমার যখন একটি নির্দিষ্ট সময় আপনার ওয়েবসাইটের কোনো একটি পেজে অবস্থান করবে তখন অটোমেটিকভাবে পপ-আপ একশন বাটন টি তে আসলে চলে আসবে।

ধরুন কোনো একজন কাস্টোমার আপনার প্রোডাক্ট পেইজে অবস্থান করছে।

 এখন আপনি যদি সেই পেজের জন্য একটি পপ-আপ কল টু অ্যাকশন ডিজাইন করে রাখেন, যেটি সেই পেজে কেউ যখন এক মিনিট অবস্থান করবে তখনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সামনে চলে আসবে যেমনটি নিচের চিত্রে দেখা যাচ্ছে।

পরিশেষে,

ই-কমার্স বিজনেস মার্কেটিং এর প্রতিটি খুটিনাটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকেই কল টু অ্যাকশন বাটনটিকে তেমন একটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করি না, কিন্তু আপনাকে ভাবতে হবে এই বাটনটির মাধ্যমে একজন কাস্টোমার পরবর্তী ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

তাই CTA ডিজাইনের জন্য আরো বেশি যত্নশীল হতে হবে। আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর কল টু অ্যাকশন বাটনটি কেমন এবং এটি কিভাবে আপনার প্রোডাক্ট পেজে ভ্যালু অ্যাড করে?  আমাদের সাথে শেয়ার করুন। 

মানুষের ১১টি কগনিটিভ বায়াস ও ই-কমার্স বেচাকেনায় এর ব্যবহার

মানুষের ১১টি কগনিটিভ বায়াস ও ই-কমার্স বেচাকেনায় এর ব্যবহার

আপনি কি জানেন? আমাদের কগনিটিভ বায়াস বা চিন্তার পদ্ধতিগত ত্রুটির কারনে একজন মানুষকে দলগতভাবে যতটা আকর্ষণীয় দেখায়, এককভাবে তাকে ততটা আকর্ষণীয় মনে হয়না।  

আমরা জানি মানুষ লজিক্যালি চিন্তা করে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। কিন্তু মানুষের চিন্তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, মানব মস্তিষ্ক সবসময়ই জটিল চিন্তাভাবনাকে সরলীকরণ করতে চায়। 

আর তাই যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় অল্টারনেটিভ আরো সহজ কোন পদ্ধতি আমাদের সামনে আসে, তখন মস্তিস্কের সেটি গ্রহণ করার প্রবণতা বেশি থাকে। 

একটি বিজনেসে যা কিছু ঘটে চলেছে তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে মানুষ, আর আপনি যখন মানুষের এই কগনিটিভ বায়াসের ত্রুটিগুলো নির্দিষ্ট করতে পারবেন। তখন সে অনুযায়ী মার্কেটিং প্ল্যান অপটিমাইজ করে আপনার বিজনেসকে প্রফিটেবল করে তুলতে সক্ষম হবেন। 

কিভাবে সেটি করবেন? সেই প্রসঙ্গেই আজকের আলোচনা। 

কগনিটিভ বায়াস কি ?

কগনিটিভ বায়াস হচ্ছে মানুষের সিস্টেমেটিক থিঙ্কিং বা পদ্ধতিগত চিন্তাভাবনার সীমাবদ্ধতা, যেখানে একজন মানুষ লজিকের বাইরে তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং পছন্দকে গুরুত্ব দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

 

কগনিটিভ বায়াস কেন মার্কেটিং দুনিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ?

মার্কেটিং মহারথীরা সবসময়ই মানুষের কগনিটিভ বায়াসগুলোকে ট্রিগার করে সাকসেসফুল ক্যাম্পেইন রান করেছেন যা তাদেরকে এনে দিয়েছে কাঙ্খিত অর্জন।

যেহেতু মার্কেটিং মানুষের সাথে সম্পৃক্ত আর আপনি যখন মানুষের চিন্তার সীমাবদ্ধতার জায়গাগুলো খুঁজে বের করতে পারবেন, তখন মার্কেটিং এর এমন সব অভিনব উপায় বের করতে সক্ষম হবেন যা আপনার মার্কেটিং ক্যাম্পেইনকে সেলস মেশিনে পরিবর্তিত করে দিতে পারে। 

১) এভেইলেবিলিটি হিউরিস্টিক

যখন  রিসেন্ট কোন একটি  ঘটনা আমাদের সামনে আসে, তখন সেটির সাথে আমরা নিজেকে খুব দ্রুত রিলেট করে ফেলি। যা আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রসেসকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করে। 

যেমন ধরুন, আপনি টেলিভিশনে একটি লাকি  নাম্বার (মনে করুন সেটি 27)  লটারি জেতা কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেখলেন।  সেখানে দেখানো হলো লটারি জেতার পর কিভাবে সে লাক্সারি লাইফ লিভ করছে।  

এবং এটি দেখার সাথে সাথে আপনার মনেও এই ধারণার জন্ম হবে যে, যদি আপনি লটারি কেনেন তবে আপনার জেতার সম্ভাবনা ও অনেক বেশি।

যে বিষয়ে আপনি একেবারেই আগ্রহী ছিলেন না কিন্তু রিসেন্ট একটি  নিউজ আপনার সে আগ্রহকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রেডি করে ফেলেছে।

ঠিক এই মুহুর্তে আপনি পুরোপুরি ভাবে ভুলে যাবেন অতীতে শিখে আসা সম্ভাব্যতার সূত্র এবং লাকি নম্বর (27)  যুক্ত লটারি কেনার জন্য আপনি সব রকমের লজিক তুচ্ছ করে সেটি কিনবেন। 

একেই এভেইলেবিলিটি হিউরিস্টিক বায়াস বলে। 

কিভাবে ই- কমার্স বিজনেস এটি এপ্লাই করবেন? 

ইভেন্ট  ভিক্তিক সেলস স্ট্র্যাটিজি বা বিভিন্ন দিবসের সময় সেই দিবসের সাথে রেলেভান্ট প্রোডাক্টগুলোকে রিকল করিয়ে মার্কেটিং স্ট্র্যাটিজি তৈরি করা যেতে পারে। ।

ধরুন, আপনি শিশুখাদ্য বিক্রয় করেন, এক্ষেত্রে বিশ্ব শিশু দিবসে যখন শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। যেমন, তাদের পরিচর্চা, খাদ্যাভাস নিয়ে আলোচনা ইত্যাদি ঠিক সে সময় আপনি আপনার প্রোডাক্ট ব্যবহারে কোন একজন শিশুর বেড়ে ওঠা বিষয়ে তার মায়ের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। 

২) ব্যাক ফায়ার ইফেক্ট বা কনফার্মেশন বায়াস

 একটি পক্ষপাতমূলক তথ্য কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তার বিপরীতে তথ্য অনুসন্ধান করা, যা সেই পক্ষপাতমূলক তথ্যকে প্রতিষ্ঠা করবে।  

আমরা জানি জার্মানির গাড়ি নিরাপত্তার জন্য সেরা,  সুইস ঘড়ি এর ক্রাফটসমানশিপের জন্য বিখ্যাত, মানুষ বিশ্বাস করে বিশ্বের সেরা ওয়াইন তৈরি হয় ফ্রান্সে।  যেমন বাংলাদেশের মানুষের একটি বিশ্বাস কাশ্মীরের আপেল সবচেয়ে সেরা।

এগুলো হচ্ছে মানুষের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাস যা সে প্রতিষ্ঠিত বলে স্বীকার করে নিয়েছে।  আপনি যখনই এর বিপরীতে তথ্য দিয়ে বিশ্বাস করাতে যাবেন সে বিশ্বাস করবে না।

আর এই কারণে খেয়াল করবেন, আমরা যখন গুগলের সার্চ করি তখন আমাদের বিশ্বাসের পক্ষের তথ্যটিকে পজিটিভ ধরে নিয়ে সার্চ করি। 

যেমন,  কেউ যদি বাইক কিনতে চায় এবং আর যদি সে হোন্ডা ব্র্যান্ডের ফ্যান হয়ে থাকে তবে সে সার্চ করবে,

কেন হোন্ডা ব্র্যান্ডের বাইক বাজাজ বাইকের থেকে ভালো। 

অথচ সেটি না করে সে এভাবেও সার্চ করতে পারত যে, কেন বাজাজ ব্র্যান্ডের বাইক হোন্ডা ব্র্যান্ডের বাইকের থেকে ভালো। 

আর এটি হচ্ছে কনফার্মেশন বায়োসের আদর্শ ধারণ। 

 

কিভাবে এটিকে ই-কমার্স মার্কেটিং-এ ব্যবহার করবেন?

আপনাকে সেরাদের সাথে আপনার প্রোডাক্ট সার্ভিসের সমন্বয় ঘটাতে হবে।

ধরুন, আমরা যখন বিশ্বাস করি জার্মানির কার নিরাপত্তার জন্য সেরা, তখন আপনি যদি জার্মানির তৈরি অ্যাকেসরিজগুলো সেল করেন, তবে জার্মানদের কারিগরি শ্রেষ্ঠত্বকে কাজে লাগিয়ে আপনার প্রোডাক্টের মার্কেটিং করবেন।

৩) বার্নাম ইফেক্ট

এটি একটি এমন মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা যার ফলে কোন মানুষের সম্পর্কে দেয়া প্রেডিকশন বা সম্ভাব্য তথ্যগুলোকে সেই মানুষ সত্য মনে করে বা সর্বাধিক রেটিং দিয়ে থাকে।  

এই কগনেটিভ বায়াসটি সঠিকভাবে বোঝার জন্য সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে হরোস্কোপ সম্পর্কিত ব্যাখ্যা বোঝা।

প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় আমরা নিজের সম্পর্কে হরোস্কপ সম্পর্কিত আপডেট জানতে পারি। হরোস্কপে আমাদের জন্মসালের উপর ভিত্তি করে সবাইকে ভিন্ন ভিন্ন সেগমেন্টে ভাগ করা হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সেগমেন্টের জন্যে এমন কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয় যেগুলোকে ওই জন্মসালের সাথে সম্পর্কিত মানুষ সত্য বলেই মনে করে। 

সে মনে করে তার সাথে এই তথ্যের মিল আছে। আর এটি বার্নাম ইফেক্ট। 

কিভাবে বার্নাম ইফেক্ট আপনার ই-কমার্স বিজনেস এর ব্যবহার করবেন? 

মার্কেটিং কন্টেন্ট তৈরি করার সময় কমিউনিকেশনগুলো এমনভাবে ডিজাইন করবেন যেন আপনার টার্গেট অডিয়েন্স মনে করে আপনি প্রত্যেকের সাথে ব্যক্তিগতভাবে বা one-to-one কথা বলছেন।  

এবং আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসটি তার প্রব্লেম সলভ করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা।  এতে করে সে খুব সহজেই আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসটি কেনার সিদ্ধান্ত নিবে।  

৪) বেন ফ্রাঙ্কলিন ইফেক্ট

বিজনেসের জন্য এটি একটি মারাত্মক রকম কার্যকরী কগনিটিভ বায়াস। কারণ, মানব মস্তিষ্ক মনে করে যে তাকে একবার সাহায্য করেছে,  সে তাকে বারবার সাহায্য করবে এমন সম্ভাবনাই বেশি। তাই সাহায্যকারী মানুষের প্রতি লয়াল থাকার পক্ষে সে একটি যুক্তি তৈরি করে। 

 

বিজনেসে এই বায়াসের ব্যবহার

আপনি যখন কারো কাছে বেচাকেনা করছেন তখন তাকে অতি অল্প  মূল্যের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের জন্য বেশি পরিমাণে সুবিধা প্রদান করবেন বা ছাড় দিবেন।  এতে করে উক্ত ব্যক্তি ধারণা হবে পরবর্তী সময়েও কেনাকাটায় আপনি তাকে একই ভাবে ছাড় দিবেন। 

পরেরবার যখন সেই কাস্টমার আপনার থেকে কেনাকাটা করবে তখন তাকে উচ্চমূল্যের প্রোডাক্ট কেনাকাটায় উৎসাহিত করবেন এবং এক্ষেত্রে বিজনেসের জন্য লং টার্ম প্রফিটেবিলিটি চিন্তা করে ডিসকাউন্ট  প্রদান করবেন।

যেই মুহুর্তে কাস্টমারের মস্তিষ্কে আপনার সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তার জন্ম হয়ে যাবে, তখন সে আপনার লায়াল কাস্টমার হবে।পরবর্তী কেনাকাটায় আপনাকে বেছে নিবে। 

কিন্তু আপনি প্রতিবার কেনাকাটায় তাকে কি একই রকম সুবিধা প্রদান করা বা মূল্য ছাড় দিতে সক্ষম? সেটি কখনোই নয়। পরবর্তী সময়ে তাকে মূল্য ছাড় না দিলেও সে আপনার থেকে কিনবে।

৫) ডেকাই ইফেক্ট

আমরা প্রতিনিয়ত এই বায়াসের ফাঁদে পড়ি।  মানুষের সামনে যখন দুটি অপশন থাকে এবং তার মধ্যে থেকে একটিকে বেছে নিতে হয় এবং ঠিক সেসময় যখন তৃতীয় আকর্ষণীয় অপশনটি উপস্থিত করা হয়, তখন সে পরের দুটি অপশনের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   

কিভাবে মার্কেটিং এ এই পদ্ধতি ব্যবহার করবেন? 

আপনাকে একই ধরনের প্রোডাক্ট একই সারিতে দাঁড় করাতে হবে এবং সেখানে তাদের তিনটি ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করবেন।  আপনি যে প্রোডাক্টটি বেশি পরিমাণে বিক্রি করতে চান সেই প্রোডাক্টের আগের প্রোডাক্টটির মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করবেন, যেন কাস্টমার তৃতীয় অপশনটিকেই বেছে নেয়াকে লাভজনক মনে করে।

 

উপরের চিত্রে খেয়াল করে দেখুন, তিনটি বাকেটের প্রতিটি মূল্য ভিন্ন। কিন্তু মূল্য এবং পরিমাণের অনুপাতে মধ্যের এবং শেষের অপশন দুটি বেশি লাভজনক। এবং কাস্টমার শেষের দুটি অপশন থেকে যে কোন একটিকে নিতে চাইবে। অর্থাৎ আরো ৫০ সেন্ট বেশি দিয়ে সবচেয়ে বড় বাটিটি সে নিতে চাইবে।   

এখানে মধ্যের বাকেটের জন্য যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি ডেকোই বা ফাঁদ। 

 

৬) ফ্রেম ইফেক্ট 

এই বায়াস মস্তিষ্কের সেই ভুলগুলোকে অ্যামপ্লিফাই করে, যেখানে কোন একটি তথ্যের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উপস্থাপনার কারণে তার সিদ্ধান্ত নেবার প্রসেস প্রভাবিত হয়। 

উপরের চিত্রটি খেয়াল করে দেখুন একটিতে বলা হয়েছে ২০% ফ্যাট রয়েছে এবং অন্যটিতে বলা হয়েছে ৮০% ফ্যাট ফ্রি,  স্বাস্থ্য সচেতন হিসেবে আপনি অবশ্যই অধিক পরিমাণে ফ্যাট ফ্রি প্রোডাক্টটি বেছে নিবেন।  এখানে শুধুমাত্র তথ্যের ভিন্ন উপস্থাপনা ছাড়া আর কিছুই আলাদা নেই। 

কারণ দুটি জিনিসে একই পরিমাণে ফ্যাট ক্যারি করছে। 

ই-কমার্সে এর ব্যবহার

আপনি যখনই একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের প্রাইসিং করছেন এবং সেটার জন্য প্রমোশনাল অফার অথবা ডিসিশন মেকিং এ সাহায্য করে এমন কোন তথ্য শেয়ার করতে চান তবে ভাবুন, 

কিভাবে সেটি উপস্থাপন করবেন। যেমনটি নিচের চিত্রে দেখতে পাচ্ছেন। 

 

৭) হাইপারবোলিক ডিসকাউন্টিং

মানুষের মধ্যে দ্রুততম সময়ে কোন কিছু পাবার ইচ্ছা প্রবল,  আর তাই নিকটতম  সময়ের মধ্যে সে যে জিনিসটি পেতে পারে তার প্রতি মানুষের আগ্রহ সব সময় প্রকট থাকে। 

যদি কোন মানুষ কে বলা হয় আপনি ১০,০০০ টাকা ব্যাংকে জমা রাখলে ১০ বছর পরে ২০ হাজার টাকা পাবেন এবং একই ব্যক্তিকে যদি বলা হয় আপনি ১০,০০০ টাকা ব্যাংকে জমা রাখলে এক মাসে ৫০০ টাকা পাবেন, সেক্ষেত্রে মানুষ স্বল্প সময়ের অফারটিকে বেছে নিতে চাইবে। 

এটিকে বলা হচ্ছে হাইপারবোলিক ডিসকাউন্টিং। 

ই-কমার্সে এর ব্যবহার

Limited time offer এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী। এমন অফার তৈরি করবেন যার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে এবং কাস্টমার কেনাকাটা সম্পন্ন করার সাথে সাথে সেই ডিসকাউন্ট একাউন্টটি ফেরত পান।

 

৮) চয়েস সাপোর্টিভ বায়াস

মানুষ বেশিরভাগ সময়ই তার পছন্দের প্রতি সমর্থন ইতিবাচক সমর্থন চায় অর্থাৎ সে যা পছন্দ করেছে সেটি সঠিক বলে প্রতীয়মান করার পক্ষে যুক্তি খুঁজে। 

ধরুন, আপনি আইফোন ও স্যামসাং এর মধ্যে আইফোনকে বেছে নিয়েছেন। একই সময়ে খেয়াল করবেন স্যামসাং না নেওয়ার পক্ষে আপনার কিছু যুক্তি তৈরি হয়ে গেছে।

এবং আপনার সিদ্ধান্তই সঠিক সে বিষয়ে আপনি যুক্তি প্রমান উপস্থাপন করতে চাইবেন। 

একইভাবে কেউ যদি স্যামসাং পছন্দ করেন তবে সে অ্যাপেল এর বিপক্ষে যুক্তি খুজবে এবং তার নেয়া সিদ্ধান্ত সঠিক সেটি সে প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে। 

কিভাবে ই কমার্স বিজনেসে এটি ব্যবহার করবেন

মানুষের এই কমন বায়াসটি ট্রিগার করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পারচেস কনফার্মেশন মেসেজ সেন্ড করা অর্থাৎ কেউ যখন কেনাকাটা সম্পন্ন করে তখন তাকে একটি কনফারমেশন মেসেজ দিবেন। সেখানে তাকে এই ভরসা প্রদান করবেন যে, সে যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সেটি সঠিক। 

৯) হেলো ইফেক্ট

এটি একটি চমকপ্রদ কগনিটিভ বায়াস।  মানুষ সাধারণত কোন একটি সিদ্ধান্ত নেবার সময় আউটলুককে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, একটি সুন্দর আউটলুকের কোন একটি বস্তু সব সময় অসাধারণ হবে বা সেরা হবে। 

খেয়াল করে দেখবেন অ্যাপেল তার প্রতিটি প্রোডাক্ট যেমন টেকনিক্যালি অ্যাডভান্স করে তৈরি করে, একই সাথে তার প্রোডাক্টগুলো দেখতেও যথেষ্ট সুন্দর। 

আপনি যখন একটি  প্রিমিয়াম প্রোডাক্ট হিসেবে কোন কিছুকে গ্রহণ করবেন তখন তার টেকনিক্যালি অ্যাডভান্টেজ দেখার পাশাপাশি তার আউটলুককেও প্রাধান্য দিবেন, আর এটিকেই বলা হচ্ছে হ্যালো ইফেক্ট। 

Video: Explains halo effect and how most people are blind to it.

ই-কমার্স এর ব্যবহার

কোন একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস প্রমোট করার সময় সৌন্দর্য বর্ণনার ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সাবধানী এবং স্পেসিফিক হবেন। আপনি মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন, কিভাবে এই প্রোডাক্টটি নান্দনিক হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। 

১০) ইনগ্রুপ বায়াস

মানুষ তার পছন্দের ক্ষেত্রে সব সময় গ্রুপে থাকতে ভালবাসে।  বিশেষ করে যখন জাতিগত, আদর্শগত অথবা ডেমোগ্রাফিক গ্রুপ সামনে আসে, তখন মানুষ তার গ্রুপের মধ্যে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

ধরুন, একটি স্টেডিয়ামে দুটি দলের খেলা হচ্ছে এবং এই দুইটি দল যদি একই বিভাগের হয়ে থাকে তাহলে অডিয়েন্স খুঁজবে কোন দলটি তার এলাকার নিকটবর্তী এবং সেই দলটিকে সে পছন্দ করবে। 

ই-কমার্স বিজনেস এর ব্যবহার

প্রোডাক্ট ও সার্ভিস ডিজাইন করার ক্ষেত্রে অথবা প্রমোশনাল অ্যাক্টিভিটিজ ডেভলপ করার ক্ষেত্রে  ডেমোগ্রাফিক গ্রুপগুলোকে টার্গেট করে মার্কেটিং মেসেজ ডেভলপমেন্ট করতে হবে। 

যাতে করে আপনি একটি শ্রেণীর, গোত্র বা একটি নির্দিষ্ট বয়সের অডিয়েন্স গ্রুপকে আকর্ষণ করতে পারেন। 

১১) হাই এন্ড পিক

মানুষ তার অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে বেশি মনে রাখে। এই অভিজ্ঞতা হতে পারে পজেটিভ অথবা নেগেটিভ।

কোন একটি সিচুয়েশনের দুইটি অবস্থান থাকে একটি হচ্ছে শুরুর অবস্থান এবং অন্যটি হচ্ছে  শেষের অবস্থান।

কোন একজন মানুষ যখন এই দুই অবস্থায় পজিটিভলি ট্রাভেল করে তখন তার ধারনা পজিটিভ থাকে কিন্তু যখন কোন একটি অবস্থান নেতিবাচক হয়, সেক্ষেত্রে কাস্টমার ডিসেটিস্ফাইড হবে কিনা তা নির্ভর করবে ঠিক কোন পয়েন্টে কাস্টমার সবচেয়ে বেশী সেনসিটিভ। 

ধরুন, আপনার একটি মোবাইল সিম কার্ড হারিয়ে গেছে এবং আপনি চাচ্ছেন এটি যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করতে।

কাস্টমার কেয়ারে ফোন দেওয়ার পর যদি সেই কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি আপনার ফোনটি রিসিভ করতে অনেক লম্বা সময় নেই কিন্তু খুব দ্রুত সিম কার্ডটি বন্ধ করে দেয়, তাহলে আপনি তাকে বেশি প্রাধান্য দেবেন।

কিন্তু অপরদিকে যদি একটি কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি আপনার ফোনটা দ্রুত রিসিভ করে কিন্তু সিম কার্ড বন্ধ করার জন্য অনেক লম্বা সময় নেই বা অন্য কাউকে রেফার করে তাহলে সেই অভিজ্ঞতা আপনার জন্য নেতিবাচক।

 ই-কমার্সেএর ব্যবহার

কাস্টমারদের চাওয়ার দিকে খেয়াল করুন, ই-কমার্স বিজনেসের  ক্ষেত্রে কাস্টমার যখন চেক আউট প্রসেস পর্যন্ত যায় এবং সেখান কোন একটি সেনসেটিভ ইনফর্মেশন চাওয়া হয়, যেমন, গেস্ট পারচেস অপশন না থাকা অথবা ডিজিটাল পেমেন্ট এর জন্য কার্ড নাম্বার যুক্ত করতে হবে ইত্যাদি শর্ত থাকে, তখন কাস্টমার অনেক ক্ষেত্রে কেনাকাটা সম্পন্ন না করে বের হয়ে যায়। 

আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে কাস্টমার যাতে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার পাশাপাশি চেক-আউট প্রসেস নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারে সেটি নিশ্চিত করা।  এমন কোনো শর্ত না দেওয়া যাতে তার পারচেস অভিজ্ঞতা নেতিবাচক হয়। 

পরিশেষে

কাস্টমার একটি প্রোডাক্ট কিনবে নাকি কিনবে না সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। এটিকে সবসময় সাদা বা কালো দিয়ে পার্থক্য করা যায় না, যখন প্রশ্ন আসে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের তখন কাস্টমারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা আপনার থাকতে হবে। 

আপনি যখন কাস্টমারের কগনেটিভ বায়াসগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকবেন এবং সে অনুযায়ী আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসকে একটি ভালো পজিশনে রাখতে পারবেন তখন কাস্টমারের সাথে আরও বেটার কম্মুনিকেট করা সম্ভব। 

যখন আপনার প্রতিযোগিরা লজিক এবং রিজনের বেড়াজালে আবদ্ধ রয়েছে ঠিক তখন আপনি কাস্টমার সাইকোলজি  আরো ভালভাবে বোঝার মাধ্যম দিয়ে মার্কেট প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবেন।

আপনার সাথে যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকে, যেখানে আপনার মনে হয়েছে কাস্টমার কেনাকাটার ক্ষেত্রে যুক্তির বাইরে গিয়ে আচরণ করে?  তবে সেই ঘটনাটি কি ছিলো জানিয়ে কমেন্টে করুন।

কীভাবে ফেসবুক অ্যাডে খরচ করা টাকার বিপরীতে রিটার্ন বৃদ্ধি করবেন

কীভাবে ফেসবুক অ্যাডে খরচ করা টাকার বিপরীতে রিটার্ন বৃদ্ধি করবেন

ফেসবুক বিজ্ঞাপন থেকে আরো লাভ পেতে চান? অ্যাড খরচের সাপেক্ষে আপনার রিটার্ন (ROAS) কীভাবে উন্নত করবেন তা নিয়ে ভাবছেন?

এই আর্টিকেলে, আপনার বিজ্ঞাপন খরচের বিপরীতে আরো বেশি রিটার্ন পাবার চারটি উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

কেন বিজ্ঞাপন ব্যয়ের বিপরীতে রিটার্ন বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ?

আপনার ফেসবুক ROAS বাড়ানোর উপায় প্রসঙ্গে যাবার আগে জানতে হবে,ROAS কী এবং কেন এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফেসবুক অ্যাড মেট্রিক? 

ROAS হল আপনার ফেসবুক অ্যাডের সাফল্যের পরিমাপ এবং আপনার বিজ্ঞাপন কতটা লাভজনক সেটি।  এটি হল অনলাইন বিজ্ঞাপনের সমতুল্য রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) এবং বেজ ম্যাট্রিক্স যা আপনার অ্যাড সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সরলীকরণ করে।

এটি অ্যাড অ্যাকাউন্ট লেভেল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসেব করা হয়, যা পারচেস কনভার্সন মেট্রিক এবং আপনার অ্যাডের ব্যয় দ্বারা ভাগ করে বের করতে হয়।

ধরা যাক, আপনার পারচেস কনভার্সন ভ্যালু ছিল $১০,০০০ এবং আপনার অ্যাডের খরচ ছিল $২,০০০ এখন ROAS পেতে, আপনি ১০,০০০ কে ২,০০০ দিয়ে ভাগ করবেন, যা ৫X রিটার্ন। 

সুতরাং আপনি আপনার Facebook অ্যাডে বিনিয়োগ করা প্রতি ১$ এর জন্য, আপনি ৫$ রাজস্ব তৈরি করেছেন।

আপনি অন এবং অফ ফেসবুক সেলিং এর মাধ্যমে আপনার ROAS বৃদ্ধি করতে পারেন। আমরা পালাক্রমে এই দুটি পদ্ধতি সম্পর্কে জানবো এবং আপনি কীভাবে উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার Facebook অ্যাড উন্নত করতে পারেন তা বের করবো। 

আপনার অ্যাড থেকে সেরা ফলাফল পেতে এবং সর্বোচ্চ ROAS উৎপন্ন করার জন্য আপনাকে উভয়ের উপর মনোযোগ দিতে হবে।

অন-ফেসবুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে ROAS বাড়ান

আপনার ফেসবুক অ্যাড এর ROAS বাড়ানোর জন্য যে কাজগুলি করতে পারেন, 

আপনার অ্যাড অ্যাকাউন্টের যে ম্যাট্রিক্স সেলের বিপরীতে অ্যাড খরচ কমিয়ে বিজনেসের ROAS বাড়ানোর সাথে সম্পর্কযুক্ত সেটি হচ্ছে ক্লিক-থ্রু রেট (CTR)

একটি বিজ্ঞাপনের CTR, প্রতি ক্লিকের খরচ (CPC) এবং ক্লিকের সংখ্যার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। আপনার দেয়া অ্যাডের সাথে এঙ্গেজমেন্ট বাড়ানোর মাধ্যমে, আপনি একই ধরনের অ্যাড বা বিজ্ঞাপন ব্যয়ের বিপরীতে আপনার ওয়েবসাইটে আরও বেশি মানুষকে নিয়ে যেতে পারেন, যা প্রতি লিঙ্ক ক্লিকের জন্য আপনার খরচ কমায়।

নীচের ছবিতে, আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে একটি অ্যাডের CTR যত বেশি হবে, আপনার CPC তত কম হবে এবং আপনার অ্যাডের খরচের বিপরীতে আপনার সাইটে আরো বেশি ট্রাফিক নিয়ে আনতে পারবেন।

Facebook একটি উচ্চ CTR সম্পন্ন অ্যাডের জন্য CPC কমিয়ে সক্রিয়ভাবে অ্যাড দাতাদের পুরস্কৃত করে৷ কারণ, আপনার দর্শকরা আপনার অ্যাডের সাথে আরো বেশি এঙ্গেজ হচ্ছে, একটি ইতিবাচক অ্যাড এক্সপিরিয়েন্স তৈরি করছে।

আপনার অ্যাডের CTR উন্নত করার জন্য আরো এঙ্গেজিং ফেসবুক অ্যাড তৈরির কিছু উপায় এখানে দেওয়া হলো,

ফেসবুক অ্যাড কপি উন্নত করার টিপস

অ্যাড কপির “স্ন্যাপ”  উন্নত করে আপনি আরো আকর্ষণীয় ফেসবুক অ্যাড কপি তৈরি করতে পারেন,  “স্ন্যাপ” হলো অ্যাড কপির প্রথম ১২৫ অক্ষর বা  প্রথম বাক্য । 

স্ন্যাপ দ্বারা আপনার দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে,  তারা অ্যাডটি পড়া শুরু করবে। তাদের হুক করতে হবে, যাতে তারা শুরুতেই বুঝতে পারে যে, অ্যাডটি তাদের জন্য এবং লারন মোর টেক্সটে ক্লিক করে এটির বাকি অংশ পড়ে। 

তিনটি প্রধান অ্যাড কপি স্ন্যাপ আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

প্রথমটি হল একটি কাস্টমারদের পেইন পয়েন্টের দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা এবং একটি ওপেনিং প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা, যেমন, “এখনো বেশি দামে নিম্নমানের হোম ফ্রেগ্নেন্স প্রোডাক্ট কিনছেন, কিন্তু সেটি লং টাইম ফ্রেসনেস দিচ্ছে না?”

আপনার টার্গেট অডিয়েন্স আপনার বিক্রি করা প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের সাথে সম্পর্কিত একটি সমস্যা দেখে তাদের সমস্যা সম্পর্কে ভাবতে শুরু করেন, তারা আপনার অ্যাড কপির সাথে একমত হন এবং আপনি সেই সুযোগে আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে একটি কমিটমেন্ট করেন।

দ্বিতীয় ধরনের স্ন্যাপ হল বেনিফিট-ফোকাসড অ্যাড কপি। এটি আপনার পণ্য বা সেবার সুবিধা এবং আপনার গ্রাহক যে ফলাফল অর্জন করবে তার সাথে জড়িত।

বাড়ির সুগন্ধি উদাহরণের সাথে অ্যাড কপিতে এমন কোনো পরিবর্তন সম্পর্কে কথা বলতে হবে, যেটি ঘটবে যখন কাস্টমার এই পণ্যগুলি ব্যবহার করবে। যেমন, তাদের বাড়িতে আশ্চর্যজনক সুবাস হবে, এমন ধরনের কিছু। 

আপনি অ্যাড কপির যে স্ন্যাপ ব্যবহার করতে পারেন তা হল একটি প্রশংসাপত্র, যা সম্ভাব্য গ্রাহকদের জন্য সামাজিক প্রমাণ এবং বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। 

এটি কোল্ড অডিয়েন্স এবং হট অডিয়েন্স উভয়ের জন্যই কাজ করে। মূলত অডিয়েন্স যখন সেলস ফ্যানেলের নিচে নেমে আসে এবং তাদের ওয়েবসাইট এক্তিভিটির উপর বেজ করে রি টার্গেটিং অ্যাড দেয়া হয় তখন সেটি  অধিক কার্যকরী ভুমিকা রাখে।

এই কৌশলে আপনি অ্যাড কপিতে সরাসরি প্রশংসাপত্র লিখুন। আমি প্রশংসাপত্রের শুরুতে স্টার  ইমোজি যোগ করার পরামর্শ দিচ্ছি, যা কেবলমাত্র পাঠ্যের চেয়ে আপনার দর্শকদের মনোযোগ আরো বেশি আকর্ষণ করতে সাহায্য করবে।

ফেসবুক অ্যাড ক্রিয়েটিভ উন্নত করার টিপস

CTR বাড়ানোর দ্বিতীয় উপায় হলো আপনার ফেসবুক অ্যাড ক্রিয়েটিভ উন্নত করা।

আপনার অ্যাডে আপনি যে ছবি এবং ভিডিওগুলি ব্যবহার করেন তার একটি প্যাটার্ন ইন্টারাপ্টের মাধ্যমে স্ক্রলটি বন্ধ করা প্রয়োজন। সঠিক সৃজনশীলতা মানুষকে আপনার বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার, আপনার ওয়েবসাইটে যাওয়ার এবং আপনার অ্যাডে আপনি কী বলছেন সে সম্পর্কে আরো জানতে সাহায্য করবে। 

নীচের দুটি বিজ্ঞাপন দেখে, আপনি কোনটির সাথে যুক্ত হবেন?

আপনার অ্যাড কপি এবং ক্রিয়েটিভ উন্নত করলে সেটি আপনার অন-ফেসবুক মেট্রিক্সকে উন্নত করতে পারে এবং প্রতিটি সেলের বিপরীতে অ্যাডের খরচ কমিয়ে আপনার ROAS বাড়াতে পারে। 

ভালো CTR অ্যাড খরচ কমাতে ওয়েবসাইটে আরো বেশি ট্রাফিক নিয়ে আসা ও ক্রেতাদের কেনাকাটার বিপরীতে অ্যাড খরচ কমানোটাই মূল্য বিষয়। 

 

অফ-ফেসবুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে ROAS বাড়ান

এখন দেখা যাক অফ-ফেসবুক আক্টিভিটি গুলো যা আপনি আপনার ROAS উন্নত করতে ব্যবহার করতে পারেন। 

এগুলো হলো আপনার ওয়েবসাইটের দ্বারা কনভার্সন রেট বাড়ানো এবং আপনার গড় অর্ডারের পরিমান বাড়ানোর লক্ষ্যে ঘটমান কর্মকাণ্ড। 

কনভার্সন রেট উন্নত করার টিপস

আপনার ওয়েবসাইটে কীভাবে কনভার্সন রেট উন্নত করা যায় তা দিয়ে আমরা শুরু করব। ইকমার্স ব্যবসার জন্য, সাধারণ কনভার্সন রেট প্রায় ২%। যাইহোক, সঠিক কৌশলের সাহায্যে আপনি আপনার ফেসবুকের অ্যাড থেকে সম্ভাব্য ৪% -৮% কনভার্সন পেতে পারেন।

হাই কনভার্সন রেটেড সেলস পেজ সফলভাবে একজন কাস্টমারকে তার সমস্যা ও সমাধানের বিষয়ে সচেতন করে ফলে কাস্টমার একটি দুর্দান্ত অফার মিস করতে চায় না। 

এটি তাদের সফলভাবে পারচেস ফানেলের মধ্য দিয়ে নিয়ে যায় ও সাকসেসফুল ভাবে সেলস ক্লোজ করে (পণ্যটি দেখা থেকে, এটি কার্টে যুক্ত করা, এবং অবশেষে চেক আউট এবং ক্রয় সম্পন্ন করা)।

কনভার্সন রেট উন্নত করার দ্রুততম উপায়গুলির মধ্যে একটি হল একটি দুর্দান্ত অফার তৈরি করা, কারণ অফার কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।

অডিয়েন্স আপনার ওয়েবসাইটের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করে তা বোঝার জন্য আপনি হটজারের মতো হিটম্যাপ সফটওয়্যার ইনস্টল করতে পারেন।  এটি আপনাকে দেখাবে যে লোকেরা কতদূর নিচে স্ক্রোল করে এবং আপনার ওয়েব পেজে কোথায় তারা ইন্টারঅ্যাক্ট করে। 

এতে আপনি ওয়েবসাইট এক্সপিরিয়েন্স উন্নত করতে এবং কনভার্সন রেট বাড়াতে সেই ডেটার উপর ভিত্তি করে আপনার ল্যান্ডিং পেজ অপ্তিমাইজ করতে পারেন।

এভারেজ অর্ডার ভ্যালু বাড়ানোর টিপস

আপনি আপনার এভারেজ অর্ডার ভ্যালু  (AOV) বাড়াতে চান। এই মেট্রিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  এটি  অ্যাড ম্যাট্রিক্স এর এমন একটি সমীকরণের যা অনেকে খেয়াল করে না কিন্তু এটি আপনাকে ৩X থেকে ৪X ROAS বা ৪X থেকে ৬X ROAS এনে দিতে পারে। আপনাকে শুধু কাস্টমারের প্রতিবারে কেনাকাটায় অর্ডারের মূল্যমান বাড়াতে হবে। 

আপনার AOV বাড়ানোর সর্বোত্তম উপায় হলো আপসেল ও ক্রসসেল বাড়ানো। 

প্রি-পারচেস আপসেলের একটি উদাহরণ হল বিগ ডিস্কাউন্ট অফার বা বিনামূল্যে শিপিং এর জন্য প্রোডাক্টগুলোকে একত্রিত করা। একজন সম্ভাব্য গ্রাহক তখন আপনার অফার পেতে তাদের অর্ডারে আরও প্রোডাক্ট যোগ করবেন, যা তাদের কার্টের এভারেজ ভ্যালু বাড়িয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, এভারেজ অর্ডার ভ্যালু  (AOV) বেশি হবে, যার অর্থ আপনার ROAS-ও বেশি হবে।

AOV বাড়ানোর অন্য পদ্ধতি হলো আফটার পারচেস  আপসেল ব্যবহার করা। এখানে আপনি ক্রেতাকে তাদের AOV বাড়ানোর জন্য পারচেস কনফার্মেশন পেজের ঠিক আগে কিছু এক্সট্রা প্রোডাক্ট যুক্ত করার জন্য সীমিত সময়ের অফার দিতে পারেন। 

AOV বাড়ানোর প্রভাব তুলে ধরার জন্য একটি উদাহরণ দেখি।

ধরুন ফেসবুকে কাস্টমারের প্রতি পারচেসের বিপরীতে আপনার ১০$ গড় খরচ হয়।  যদি কোনো গ্রাহক আপনার একটি প্রোডাক্ট কেনার জন্য তাদের প্রথম লেনদেনে ৩০$ খরচ করে, তাহলে আপনার ROAS হল ৩০$/১০$, যা আপনাকে ৩X রিটার্ন দেবে। আপনি প্রতি ১$ এর জন্য, আপনি ৩$ ফেরত পাচ্ছেন।

আপনি যদি ৩X থেকে ৪X ROAS- এ যেতে চান, তাহলে কাস্টমারদের তাদের প্রাথমিক লেনদেনে ৪০ ডলার বা তার বেশি খরচ করানো আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায়।

সুতরাং যখন কাস্টমার আপনার ৩০$ মূল্যের একটি প্রোডাক্ট দেখে আর তখন যদি তাদের এমন একটি পরিপূরক প্রোডাক্ট দেখান বা কেনার জন্য ডিস্কাউন্ট অফার দেন যা AOV কে ৩০$  থেকে ৪০$ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে, তবে আপনি ৩X থেকে ৪X ROAS জেনারেট করতে সক্ষম হবেন। 

আপনার Facebook অ্যাডগুলো তখন আরো বেশি লাভজনক হয়ে উঠবে। 

আপনার AOV বাড়ানো লাভজনক ফেসবুক অ্যাড এবং লস করা ফেসবুক অ্যডের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে  পারে। 

প্রি পারচেস এবং পোস্ট পারচেস আপসেল হিসাবে কোন প্রোডাক্টগুলো অফার করতে পারেন সেটি নির্বাচন করতে সময় নিন। 

পরিশেষে

আপনি দুটি উপায়ে আপনার ROAS বাড়াতে পারেন, সেগুলো হচ্ছে অন-ফেসবুক এবং অফ-ফেসবুক অ্যাকশন।  অন-ফেসবুক অ্যাকশনগুলির লক্ষ্য হল কাস্টমারের প্রতি পারচেসের বিপরীতে অ্যাড খরচ কমিয়ে আপনার অ্যাডগুলোকে উন্নত করে। 

অফ-ফেসবুক অ্যাকশনগুলি ওয়েবসাইটের কনভার্সন রেট বাড়ানো এবং আপনার AOV বৃদ্ধি করে।  

আপনি উভয় অ্যাকশনগুলি সঠিক সমন্বয় করতে সক্ষম হলে উল্লেখযোগ্যভাবে আপনার ROAS বৃদ্ধি করতে পারবেন। 

প্রফিটেবল বিজনেস গ্রোথে ৬ টি কাস্টমার অ্যাকুইজিশন স্ট্র্যাটেজি

প্রফিটেবল বিজনেস গ্রোথে ৬ টি কাস্টমার অ্যাকুইজিশন স্ট্র্যাটেজি

কাস্টমার অ্যাকুইজিশন বা বিজনেসের জন্য একজন কাস্টমার খুঁজে পেতে আপনার কত টাকা খরচ হয়েছে? সেটি কি আয়ের তুলনায় বেশি? বিজনেসটিকে প্রফিটেবল করতে কিভাবে নতুন নতুন কাস্টমার খুঁজে পাবেন? 

যদি এই সকল প্রশ্নের উত্তর আপনার কাছে না থাকে তবে কবে নাগাদ আপনার বিজনেস প্রফিটেবল হবে সেটি ধারনা করা কষ্টকর। একটি স্টার্টআপ শুরু করার পরে তার বিজনেসের গ্রোথের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সেটি  মুখ থুবড়ে পড়ে, প্রয়োজন বেশি সংখ্যক পটেনশিয়াল কাস্টমার। 

আর তাই প্রয়োজন কাস্টমার অ্যাকুইজিশন স্ট্র্যাটেজি।

কাস্টমার অ্যাকুইজিশন হচ্ছে আপনার ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করার জন্য আদর্শ কাস্টমার খুঁজে পাবার প্রসেস। তবে অবশ্যই সে কাস্টমার রান্ডম কাস্টমার না, হতে হবে রিপিট কাস্টমার। এবং এই প্রসেসটি আবশ্যিকভাবে পরিমাপ যোগ্য।

একটি বিজনেস এর সফলতার জন্য আদর্শ কাস্টমার গ্রুপ খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শুধুমাত্র সেই কাস্টমার গ্রুপ খুঁজে পেলেই চলবে না তাদের কাছে বারবার বেচাকেনার মাধ্যমে  সেই পরিমাণ রেভিনিউ জেনারেট করতে হবে। রেভিনিউের পরিমান হতে হবে গ্রস মার্কেটিং খরচের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ কাস্টমার অ্যাকুইজিশন প্রসেস তার বিজনেস মারকেটিং স্ট্র্যাটেজির মধ্যে রাখেন না।  যার ফলে এলোমেলো কাস্টমার অ্যাকুইজিশন চলে এবং এর জন্য করা খরচ রেভিনিউের বিপরীতে পরিমাপযোগ্য না। 

ফলাফল খুব পরিষ্কার,  প্রতিবার নতুন কাস্টমার খুঁজে পেতে এবং পুরনো কাস্টমারের কাছে বেচাকেনা করতে আপনাকে যে পরিমাণ মার্কেটিং ইনভেস্ট করা লাগে তার পরিমাণ বিজনেসের রেভিনিউের চেয়ে অনেক বেশি।

অর্থাৎ আপনি লসে বিজনেস করছেন।

আর তাই আপনার প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে কাস্টমার অ্যাকুইজিশন এ মনোযোগী হতে হবে,  খুঁজে বের করতে হবে এমন কিছু মার্কেটিং কৌশল যা আপনাকে মার্কেটিং ব্যয় কমিয়ে এনে আরো বেশি পরিমাণে রেভিনিউ জেনারেট করতে সাহায্য করবে।

উপরের চিত্রটি খেয়াল করুন একজন কাস্টমার প্রোডাক্ট কেনাকাটার পূর্বে কতগুলো স্টেজ পার হয়ে আসে যেটিকে মারকেটিং ফানেল বলা হয়।

এবং প্রতিটা স্টেজের জন্য কাস্টমার অ্যাকুইজিশন খরচ ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়ে থাকে।  আপনাকে প্রতিটি মার্কেটিং ফানেল স্টেজে কাস্টমারদের জন্য ভ্যালু ক্রিয়েট করতে হবে।  যাতে করে কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট কে বেছে নেয়, একই সাথে পরিমাপ করতে হবে একজন কাস্টোমার যখন আপনার থেকে পণ্য কেনাকাটা করে তখন তাকে খুঁজে পেতে এবং তার কাছে বেচাকেনা করতে আপনাকে কি পরিমান মার্কেটিং ব্যয় করতে হয়েছে।

এবারে যখন মার্কেটিং খরচগুলো সম্পর্কে জানলেন এবারে হিসাব করতে হবে তার কাছে আপনি কি পরিমান বেচাকেনা করেছেন।  কাস্টমারকে খুঁজে পেতে মার্কেটিং ব্যয় এবং তার বিপরীতে আপনার টোটাল কতজন কাস্টমার খুঁজে পেলেন তার ভাগফল হচ্ছে  কাস্টমার অ্যাকুইজিশন খরচ। 

Marketing Spend ($500) / New Customers ($50) = CAC ($10 per customer)

এখন আপনার একজন কাস্টোমার আপনার জন্য কি প্রফিটেবল?  সেটা জানতে হলে আপনাকে আরেকটি হিসাব করতে হবে যার সূত্রটি নিচে দেয়া হয়েছে, 

Average Order Value ($50) x Gross Margin (50%) – Customer Acquisition Cost ($10) = Profit ($15)

একজন কাস্টমারের অ্যাভারেজ অর্ডার ভ্যালু গুণিতক গ্রস  মার্জিন,  এটি থেকে কাস্টমার অ্যাকুইজিশন খরচ বাদ দিতে হবে। তাহলেই বের হবে তার কাছে  বেচাকেনা করে আপনি কি পরিমান প্রফিট করেছেন। 

কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য

কাস্টমার অ্যাকুইজিশনের প্রথম ধাপ কখনোই প্রফিটেবল হয় না।  অর্থাৎ বিজনেসের প্রথমদিকে কাস্টমার অ্যাকুইজিশনের জন্য আপনাকে বেশি পরিমাণে খরচ করতে হয় এবং ধীরে ধীরে এই অ্যাকুইজিশন খরচ কমতে থাকে।  একটি পর্যায়ে আপনার বিজনেস ব্রেক ইভেন্ট পয়েন্ট পৌঁছায় যেখানে কাস্টমার অ্যাকুইজিশন খরচ এবং আপনার প্রফিট মার্জিন সমান হয়।  

এরপরে ধীরে ধীরে সে কাস্টমারের বিপরীতে মার্কেটিং খরচ কমতে থাকে এবং প্রফিট বাড়তে থাকে।

প্রশ্ন আসতে পারে কেন প্রথমদিকে  অ্যাকুইজিশনে খরচ বেশি হয় 

আপনার বিজনেসটা যখন একেবারেই নতুন সেসময় আপনাকে কেউ চেনেনা ফলে ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস এর জন্য আপনাকে একটি বড় এমাউন্ট ব্যয় করতে হয় কিন্তু সেই সময় আপন সেল জিরো থাকে ।

এরপরে কাস্টমার এঙ্গেজ হতে থাকে কিন্তু তখনও আপনার মার্কেটিং খরচ করতে থাকতে হয় এঙ্গেজমেন্ট  পিরিয়ডে কিছু সেল যদি ও আসে তবে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম।

এরপরেই কাস্টমার কনভার্শন এবং এই স্টেজে কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট  কেনে কিন্তু সেই সময় তাকে প্রোডাক্টটি দেখাতে এবং তার জন্য সেটি উপযোগী কিনা সেটি বোঝাতে আপনাকে এডভার্টাইজিং এর খরচ করতে হয়।

খেয়াল করে দেখুন, মার্কেটিং ফানেলের তিনটি স্তর আপনাকে পার করতে হচ্ছে প্রতিটি স্তরে আপনাকে মার্কেটিং বাজেট খরচ করতে হচ্ছে ফলে স্বাভাবিকভাবে একজন কাস্টমারের  বিপরীতে আপনার মার্কেটিং খরচ বাড়তে থাকে।

এরপর যখনই সে কাস্টমার আপনার থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন করে, তখন আপনার প্রোডাক্ট আপনার সার্ভিস কোয়ালিটি সম্পর্কে অবগত হয়।  

পরবর্তী সময়ে তাকে শুধুমাত্রই রিটার্গেট করেই বেচাকেনা করতে পারেন। এতে করে দুই স্তরের মার্কেটিং খরচ কমে যাচ্ছে এবং এই সময় আপনি ব্রেক ইভেন্ট পয়েন্ট যেতে পারবেন।  এবং যত বেশি সে কাস্টমার কেনাকাটা করবে  কাস্টমার অ্যাকুইজিশন খরচ কমতে থাকবে এবং এর বিপরীত আপনার  বেচাকেনার পরিমাণ বাড়তে থাকবে। 

কাস্টমার অ্যাকুইজিশনের জন্য কি পরিমান ব্যয় করা যৌক্তিক? 

প্রশ্ন আসতে পারে আমি ঠিক কি পরিমান মার্কেটিং খরচ করব একজন কাস্টমারকে পাবার জন্য?  এ বিষয়টি নির্ভর করবে আপনার প্রোডাক্টের প্রাইস কাস্টমারদের পারচেজ ফ্রিকোয়েন্সি এবং প্রতিটা পারচেসে আপনার জেনারেট করার রেভিনিউের পরিমাণ।

বিশেষ করে হাই ভ্যালু প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে কাস্টমার অ্যাকুইজিশন খরচ ফার্স্ট টাইমে অনেক বেশি থাকে কিন্তু হাই ভ্যালু প্রোডাক্ট পারচেস করলে একটি সেলে সেই হেলদি প্রফিট করা যায়।

অপরদিকে মিড রেঞ্জের প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে কাস্টমার অ্যাকুইজিশনের খরচ তুলনামূলক বেশি থাকে কিন্তু সে অবস্থা থেকে প্রফিটেবল পর্যায়ে যেতে হলে কাস্টমার পারচেস ফ্রিকুয়েন্সি বাড়াতে হয়।  

তাই প্রতিটি সেল থেকে আপনি কি পরিমান প্রফিট জেনারেট করতে পারেন এবং সেটি স্বল্পমেয়াদী নাকি দীর্ঘমেয়াদী তার উপর নির্ভর করবে আপনার কাস্টমার অ্যাকুইজিশনের খরচ কতটুকু পর্যন্ত আপনি চালিয়ে যাবেন।

কাস্টমার অ্যাকুইজিশন প্রসেস

প্রতিটি বিজনেসের জন্য তার আদর্শ কাস্টমার খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বিষয় এবং এর পিছনে প্রতিটি ব্যান্ড সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে থাকে।  বিভিন্ন সময়ে কাস্টমার অ্যাকুইজিশনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে কিন্তু মূল বক্তব্য সেই একটিই টার্গেট অডিয়েন্স খুঁজে পাওয়া।

পেইড মার্কেটিং

 

কাস্টমার অ্যাকুইজিশনের জন্য পেইড মার্কেটিং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ইফেক্টিভ প্রসেস।  বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ নিয়মিতভাবে টার্গেট গ্রুপকে  এঙ্গেজ রাখতে হবে।

খুঁজে বের করুন আপনার কাস্টমার কোথায় থাকে তারা কোন চ্যানেল গুলো ব্যবহার করে এবং সেই চ্যানেলগুলোতে পেইড মার্কেটিং পরিচালনা করুন।

 যেমন ধরুন, আপনার কাস্টমার ফেসবুক ব্যবহার করে সেক্ষেত্রে আপনি ফেসবুকে মার্কেটিং করতে পারেন। যদি আপনার কাস্টমার গুগোল ইকোসিস্টেমের মধ্যে থাকে তবে আপনি গুগলে এড দিতে পারেন এবং ওয়েব ট্রাফিকের জন্য এই দুটিই বর্তমান সময়ে অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। 

Influencer স্পন্সরশিপ

কাস্টমার অ্যাকুইজিশন খরচ কমিয়ে নিয়ে এসে ইফেক্টিভ ভাবে আইডিয়াল কাস্টমারদের এঙ্গেজ করার জন্য Influencer স্পন্সরশিপ প্রোগ্রাম বর্তমান সময়ে অনেক জনপ্রিয়।

তাহসান-মিথিলার ব্র্যান্ড এনগেজমেন্ট ক্যাম্পেইন অথবা সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর দিয়ে প্রোডাক্টের রিভিউ এবং আনবক্সিং এগুলো এখন বাংলাদেশে বহুল পরিমাণে চর্চা হচ্ছে। 

এর মূল সুবিধাটি হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া Influencer দের অডিয়েন্স বেজ অনেক বড় থাকে এবং নিস মার্কেটের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া Influencer অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে যেখানে তার মাধ্যম দিয়ে কোন একটি প্রোডাক্ট প্রমোট করলে সহজেই একটা বড় পরিমাণ অডিয়েন্স গ্রুপের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। 

যদিও পেইড মার্কেটিং দ্বারা  কাজটি করা সম্ভব কিন্তু সেটি ব্যয়বহুল।  এক্ষেত্রে  Influencer স্পন্সরশিপ কার্যকরী। .

আমরা দেখি, বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পানিগুলো সোশ্যাল মিডিয়া Influencer দের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকে এবং তাদের দ্বারা মোবাইল ফোনের আনবক্সিং ও রিভিউ করিয়ে থাকে। 

সুবিধা

  • নিস টার্গেট  অডিওতে কাছে পৌঁছানো যায়
  • মার্কেটিং খরচ কম থাকে 
  • ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস তৈরি হয়

 অসুবিধা

  • রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট ট্র্যাক করা সহজ হয় না
  •  সোশ্যাল মিডিয়া Influencer দের ওপরে ব্র্যান্ড ইমেজ অনেকটাই নির্ভর করে 

ট্রেন্ডি ব্র্যান্ড প্রোডাক্ট এবং প্রোডাক্ট দেমনস্ট্রেশন এর জন্য  এই কৌশল ব্যবহার করতে পারেন। 

 

ইমেইল মার্কেটিং

কাস্টমার অ্যাকুইজিশন এর আরেকটি কার্যকরী এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতি হচ্ছে ইমেইল মার্কেটিং। ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনি একবার কাস্টমারের ই-মেইল এড্রেসটি পেয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে আপনি নিজস্ব প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বারবার তাকে টার্গেট করতে পারেন এবং তার কাছে আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসের তথ্যগুলো পৌঁছাতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে খরচ অনেক কম হয়। পাশাপাশি সরাসরি কাস্টমারের ইনবক্সে পৌঁছে যাওয়া যায়। 

যেহেতু এই পদ্ধতিতে মার্কেটিং খরচ কম এবং তার চেয়ে এভারেজ সেলসের পরিমাণ বেশি থাকে ফলে প্রফিটেবল কাস্টমার অ্যাকুইজিশন সম্ভব।

সুবিধা

  • রিকারিং কাস্টমার গ্রুপ তৈরি হয়
  • কাস্টমারদের একটি ডাটাবেজ থাকে

অসুবিধা

  • অনেক সময় ক্যাম্পেনগুলো কাস্টমারের স্প্যাম ফোল্ডারে চলে যায়

 বি-টু-বি বিজনেসের ক্ষেত্রে ইমেইল মার্কেটিং পরীক্ষিত পদ্ধতি।

 

রেফারেল প্রোগ্রাম

 

 

কাস্টমার অ্যাকুইজিশনের আরেকটি প্রসেস হচ্ছে রেফারাল  প্রোগ্রাম যেখানে একজন পটেনশিয়াল  কাস্টমার একজন নতুন পোটেনশিয়াল  কাস্টমারকে রেফার করে,  এতে করে দুই পক্ষই বেনিফিট  পেয়ে থাকে।

রেফারেল প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে  উবার এবং পাঠাও উদাহরণ হিসেবে নেয়া যায়।

বাংলাদেশের প্রথম যখন রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলো পারফর্ম করা শুরু করলো ঠিক সেই মুহূর্তে তারা সার্ভিস  গ্রহীতাদের  যারা একটি রাইড সম্পূর্ণ করেছে তাকে একটি প্রমো কোড দিতো এবং তাকে বলা হতো যদি তার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে এবং সেই বন্ধু যদি সেই কোড ব্যবহার করে সার্ভিসটি গ্রহণ করে তবে তার বন্ধু ডিসকাউন্ট পাচ্ছেই তার বিপরীতে সে নিজেও ডিসকাউন্ট  পাবে।  রেফারেল প্রোগ্রামের একটি পাওয়ারফুল টুলস।

রেফারেল প্রোগ্রামের  সুবিধা

  •  এই মার্কেটিং পদ্ধতি খরচ কম  
  • এই পদ্ধতিতে রিপিট পারচেজ করা সম্ভাবনা বাড়ে
  •  লায়াল কাস্টমার বেশি তৈরি হয়

অসুবিধা

  • এনগেজমেন্ট এর পরিমাণ অনেক কম থাকে
  • ধীরগতিসম্পন্ন প্রক্রিয়া

ট্রেডিশনাল মার্কেটিং

 

যদিও বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং অত্যন্ত পাওয়ারফুল ভূমিকা পালন করছে তারপরও যদি আপনার বাজেট অনুকূলে থাকে তবে কিছুটা হলেও টেনশনের মার্কেটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলোতে পদচারণা করতে পারেন

একটা আইডিয়া শেয়ার করি

ধরুন, আপনার একটি ই-কমার্স বিজনেস রয়েছে এবং তার জন্য একটি চমৎকার ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ রয়েছে।  আপনি চাচ্ছেন আপনার কাস্টমার মোবাইল অ্যাপটি ডাউনলোড করুন এবং সেখান থেকে কেনাকাটা করুন এর জন্য আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং ইনভেস্ট করছেন।

একই সাথে আপনি একটি বিলবোর্ড এড দিলেন এবং সেখানে একটি বড় কিউআর কোড প্রিন্ট করে প্রচার করলেন। 

এখন রাস্তায় চলাচলকারী অডিয়েন্স যদি মনে করে আপনার অ্যাপটি ডাউনলোড করতে চাই তাকে শুধুমাত্র দূর থেকে কিউআর কোডটি স্ক্যান করলেই চলবে এবং তার ফোনে মোবাইল অ্যাপে ডাউনলোড হয়ে যাবে। 

অর্থাৎ বিজনেস মার্কেটিংকে আরো বেশি শক্তিশালী করে তুলতে ট্রেডিশনাল মার্কেটিং আপনি ব্যবহার করতে পারেন এবং ট্রেডিশনাল মার্কেটিং সবসময়ই এভারগ্রীন।

ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এর সুবিধাগুলো হচ্ছে 

  • এখানে ওয়ান টাইম ইনভেসমেন্ট লং টাইম এক্সপোজার 
  • কাস্টমার সহজে এটিকে বিশ্বাস করে

অসুবিধা

  •  এই মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি পরিমাপ যোগ্য নয়
  •  এবং ইনভেস্টমেন্ট এর বিপরীতে রিটার্ন ক্যালকুলেশন করা সম্ভব হয় না 

এটি লোকাল বিজনেস এবং হাই ভ্যালু প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকারী পদ্ধতি। 

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে গুগল এবং একই সময়ের সাথে সাথে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। প্রায় ৫৬.৬  বিলিয়ন ওয়েবসাইট রয়েছে গুগল  নেটওয়ার্কে যার মধ্যে 200 মিলিয়ন অ্যাক্টিভ ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া যায়।

এমন একটি বিশাল ডিজিটাল মিডিয়াকে ব্যবহার না করা আপনার বিজনেসের জন্য কখনই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। 

জানলে অবাক হবেন গুগল সার্চ ইঞ্জিন প্রতি সেকেন্ডে  ৬৩০০০ সার্চ কুইরি প্রসেস করে এবং প্রতিদিন ৫.৬ বিলিয়ন সার্চ কুইরি ট্রান্সলেট করে। 

তাই গুগল সার্চের শীর্ষে আপনার বিজনেসকে রাখতে হলে এসইও প্রয়োজন

এস-ই-ও এর সুবিধা

  • এটি অর্গানিক ট্রাফিক পেতে সাহায্য করে
  • এটি একটি এভারগ্রীন মার্কেটিং স্ট্রাটেজি

এর অসুবিধা গুলো হচ্ছে

  •  এস-ই-ও থেকে রেজাল্ট পেতে অনেক দেরি হয়
  •  এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া

পরিশেষে

একটি বিজনেসের বেড়ে ওঠার জন্য নতুন কাস্টমার এবং রিপিট কাস্টমার দু’টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  কাস্টমার যখন আপনার ব্র্যান্ড থেকে বারবার কেনাকাটা করতে থাকবে তখন আপনার মার্কেটিং ব্যয় গুলো কমতে থাকবে এবং তার বিপরীতে আপনি কাঙ্খিত রেভিনিউ জেনারেট করতে সক্ষম হবেন।

কাস্টমার অ্যাকুইজিশন একটি চলমান প্রক্রিয়া প্রতিনিয়ত বিজনেসের জন্য নতুন নতুন কাস্টমার তৈরি হচ্ছে আবার কিছু কাস্টমার নষ্ট হচ্ছে।  

নতুন কাস্টমারদের  আকর্ষণ করার জন্য নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করা এবং রিপিট কাস্টমারদের কে ধরে রাখার জন্য মারকেটিং প্রসেস কে অপটিমাইজ করা ও তাদের এঙ্গেজ রাখা প্রয়োজন।  আরে প্রকৃতির মাধ্যমেই আপনি একটি প্রফিটেবল ই-কমার্স বিজনেস এ পরিণত হতে পারবেন। 

বিশ্বের সেরা ৬টি ব্র্যান্ডের অনন্য কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স এর গল্প

বিশ্বের সেরা ৬টি ব্র্যান্ডের অনন্য কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স এর গল্প

কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে বিশ্বের সেরা ৬টি ব্র্যান্ডের গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করব যা সেই ব্র্যান্ডগুলোকে তার নিজস্ব সীমারেখা ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।

অনলাইন অথবা অফলাইন কেনাকাটায় কাস্টমার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় কেনাকাটায় তার নিজের অভিজ্ঞতাকে।

আপনি যখন কাস্টমারকে এমন একটি অভিজ্ঞতা প্রদান করতে সক্ষম হবেন যা তার মস্তিষ্কে দীর্ঘ সময় ধরে আপনার ব্র্যান্ড নিয়ে ইতিবাচক আবহ তৈরি করবে ঠিক সেই মুহূর্তে আপনি মার্কেটে হাজারো ব্র্যান্ডের ভিড়ে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন।

বিশ্বের সেরা ব্যান্ড গুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় তাদের শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে যা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে সেটি হচ্ছে তাদের কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স। অর্থাৎ তাদের ব্র্যান্ড বিষয়ে কাস্টমার কি অনুভব করে সেটি।  

Zappos

Zappos

কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে Zappos এর যে বিজনেস পরিচালনার নীতি নিঃসন্দেহে বিসশ সবার কাছে অনুকরণীয়।

একবার একজন কাস্টমার Zappos এর কাস্টমার কেয়ারে রাত 2 টার দিকে ফোন করে বলে তাকে পিজা অর্ডার এর সহযোগিতা করার জন্য।

কিন্তু Zappos একটি ফুটওয়ার কোম্পানি। তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভ কি সে ব্যক্তিকে পিজা অর্ডার করতে সাহায্য করবে?

আশ্চর্য হলেও সত্য, কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভ সেই ব্যক্তিকে পিজা অর্ডার করতে সাহায্য করেছিল।  রাত 2 টায় তার টার্গেট কাস্টমারের বাইরের কাউকে প্রাধান্য দেয়া এক অনন্য কাস্টমার সার্ভিসের উদাহরণ। 

শুধুই কি তাই,  Zappos কেন ই-কমার্স বিজনেসে বহুল প্রচারিত একটি ব্র্যান্ড তার আরো কয়েকটি উদাহরণ আপনাদের দেওয়া যাক। 

Zappos এ যদি কোন একটি প্রোডাক্ট স্টকে না থাকে, তবে সে কাস্টমারকে সরাসরি তার প্রতিযোগীর ওয়েবসাইটে ডাইভার্ট করে দেয়া হয়।  Zappos যদি প্রোডাক্ট নিজে দিতে ব্যর্থ হয় তবে সেটি কাস্টমারদের অন্য সোর্স থেকে পেতে সাহায্য করে। 

রিপিট কাস্টমার যদি  তাদের মধ্যরাতের মধ্যে অর্ডার করে তবে তারা সেটি গ্রহণ করে এবং তাকে সকালে ডেলিভারি দেয়। 

ধরুন কাল সকালে আপনার বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে যাচ্ছে এবং আপনি একজোড়া জুতা কিনতে চান। Zappos এ নির্দ্বিধায় অর্ডার করুন, পরের দিন সকালে আপনার বাসার দরজায় সেটি পৌঁছে যাবে এ বিষয়ে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন।

যারা মনে করেন, বিজনেস শুধুমাত্র প্রফিট বা লসের বাইরে আরো বেশি কিছু তাদের জন্য কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স গুরুত্ব অনেক। 

রিটজ কার্লটন হোটেল

Ritz-Carlton Hotels

রিটজ কার্লটন হোটেলের ম্যানেজমেন্ট বিশ্বাস করে তারা যদি তাদের কর্মীদের ক্ষমতায়ন করতে পারেন তাহলে কর্মীরা সর্বোচ্চ কাস্টমার সার্ভিস নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

তারা কর্মচারীদের এমন অনুভূতি প্রদান করার চেষ্টা করেন যাতে করে তারা মনে করে, তারা সেই প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র কর্মচারী নয় তারা প্রতিষ্ঠান অংশীদার।

একজন অংশীদার কখনো তার প্রতিষ্ঠানকে নিচে দেখাতে চায় না। আর সেজন্যই তাদের প্রতিটি কর্মচারীদের এমনভাবে ট্রেইন্ড করা হয় যেন তারা কিছু সিদ্ধান্ত নিজে থেকেই নেয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান তাদেরকে সমর্থন করেন।

রিটজ কার্লটন হোটেলের ম্যানেজমেন্ট মনে করেন আপনি একজন কাস্টমার কে ইমপ্রেস করার জন্য সেকেন্ড টাইম পাবেন না। আপনাকে দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কিভাবে তাদের সেবা নিশ্চিত করেছেন এবং সে ক্ষেত্রে কর্মচারী হচ্ছে প্রথম টাচপয়েন্ট।

ওয়ালমার্ট

Walmart Scan & Go in use

বিশ্বের নামিদামি এবং সেরা বিজনেস ব্র্যান্ড গুলোর মধ্যে ওয়ালমার্ট অন্যতম।

তাদের প্রতিটি স্টোরে এমন একটি সিস্টেম ডেভলপ করা রয়েছে যেখানে একজন কাস্টমার তার মোবাইলের মাধ্যমে QR কোড স্ক্যান করে কেনাকাটা চালিয়ে যাবে অর্থাৎ ফিজিক্যাল স্টোরে তাদেরকে ডিজিটাল কেনাকাটার একটা সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

মোবাইল হাতে পছন্দের প্রোডাক্ট গুলোর QR কোড স্ক্যান করে সেটি তাঁদের শপিং কার্টে যোগ করবে। যখন ফাইনাল চেক আউট এর জন্য কাউন্টারে যাবেন তখন তখন তিনি শুধুমাত্র পেমেন্ট করবেন। চাইলে ডিজিটাল পেমেন্টও করতে পারেন। স্টোরের কর্মীবৃন্দ তার প্রোডাক্টগুলো প্যাকেজিং করে তাকে দিয়ে দিবে। 

এতে করে কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিল পেমেন্ট করা এবং প্রোডাক্ট বুঝে নেয়ার জন্য বিড়ম্বনা থেকে সে মুক্তি পায়। এছাড়াও যাদের হাতে স্মার্টফোন নেই তাদের জন্য kiosks ডিভাইস দেয়া আছে। যেখান থেকে কাস্টমার শুধুমাত্র কয়েকটি বাটন প্রেস করেই তার পছন্দের প্রোডাক্ট গুলো কিনতে পারে।

একদিকে ফিজিক্যাল স্টোরে প্রোডাক্টগুলো লাইভ দেখার সুযোগ, অপরদিকে ডিজিটালি সেগুলো কেনার পদ্ধতি কাস্টমারদের শপিং অভিজ্ঞতাকে সহজ সাবলীল করে তুলেছে।

আর এই বিষয়টিই তাদেরকে মার্কেটের অন্যান্য ব্র্যান্ড থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে পজিশনিং করতে সহায়তা করেছে।

ক্যাডবেরি চকলেট

ক্যাডবেরি চকলেট তার মালয়েশিয়ান কাস্টমারদের জন্য একটি অনন্য কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স তৈরি করার কথা চিন্তা করলো। তারা কোকাকোলার “শেয়ার এ কোক” ক্যাম্পেইনের আদলে প্রতিটি ক্যাডবেরি চকলেটের মধ্যে পার্সোনালাইজড মেসেজ দেওয়ার কথা চিন্তা করে। 

এই পদ্ধতিতে একজন কাস্টমার স্টোরে গিয়ে কেনাকাটা করলে তার পছন্দমতো বার্তা সে ক্যাডবেরি চকলেটের উপরে লিখে নিতে পারতো এবং সেটি করা হতো একটি বিশেষ মুদ্রণ যন্ত্রের মাধ্যমে।

এটি তাদের সেলস নাম্বার কে যতটুকু বাড়িয়েছিল তার চেয়ে বেশি বাড়িয়েছিলো তাদের ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি এবং ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস। 

তাদের এই ক্যাম্পেইন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে কথা হচ্ছিল এবং একে অপরের সাথে এক ক্যাম্পেইনটি শেয়ার করছিলো।

যার ফলে তারা খুব অল্প সময়ে প্রচুর কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে যেতে সক্ষম হয় এবং নিঃসন্দেহে ব্যক্তিগত মেসেজগুলোর জন্য কাস্টমার তাদেরকে সবার থেকে আলাদা ভাবে গ্রহণ করে।

 

স্পটিফাই

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অনেকেই স্পটিফাই সম্পর্কে জানেন। কিন্তু কিছুদিন আগেও এই অনলাইন ভিত্তিক মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মকে কেউ চিনতেন না। বিশেষ করে আমেরিকায় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সার্ভিস। একবার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মজা করে বলেছিলেন, তিনি স্পটিফাইে চাকরি করতে চান। 

স্পটিফাইের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে তাদের প্রতিটি অডিয়েন্সের ব্রাউজ করা এবং স্ট্রিম করা মিউজিকগুলো ট্র্যাক করে এবং সেগুলো এনালাইসিস করে।

এবং এই এনালাইসিস এর উপর ভিত্তি করে তাদেরকে একটি সাপ্তাহিক বা দৈনিক প্লে-লিস্ট সরবরাহ করা হয় যে গানগুলো তারা শুনতে পছন্দ করে। 

যেমন ধরুন, আপনি কোন একটি নির্দিষ্ট সংগীত শিল্পীর গান শুনতে পছন্দ করেন অথবা একটি নির্দিষ্ট ধরনের মিউজিক আপনি পছন্দ করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে সিমিলার ক্যাটাগরির আরো নতুন সব মিউজিক ট্র্যাক দেখাবে যেটি আপনার স্ট্রিম করা মিউজিকের সাথে রিলেটেড।

এবং এ কারণে স্পটিফাই ব্যবহারকারী কাস্টমারদের স্ট্রিমিং করার সময় কাল আরো বেড়ে যায় এবং খুব কষ্ট করে তাদের পছন্দের গানগুলো সার্চ অপশনে খুঁজতে হয় না।

এছাড়া প্রতি সপ্তাহে বা মাসে যে ট্র্যাকগুলো নতুন আসছে সে বিষয়ে তারা নোটিফিকেশন পায়। এটি কাস্টমারদের অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম গুলো ব্যবহার করতে আরো বেশি উৎসাহিত করে

অ্যামাজন

অ্যামাজন মিলেনিয়ালদের জন্য বিশেষভাবে তাঁদের বিজনেস প্রসেসকে মডিফাই করছে। মিলেনিয়াল কাস্টমার কুইক রেস্পন্স পছন্দ করে, তারা অপেক্ষা করতে চায় না। 

Custober Experience

অ্যামাজনে কেনাকাটা সহজ, নির্দিষ্ট মেম্বারশিপ ফি দেবার মাধ্যমে তারা বছরব্যাপী কেনাকাটা করার সুযোগ পায়। আর তাই গ্লোবাল মার্কেটিং কনসালটেন্সি দ্বারা প্রকাশিত  ব্র্যান্ড রেলেভেন্স ইনডেক্সের একটি রিপোর্টে উঠে আসে সেরা ব্র্যান্ড হিসেবে অ্যামাজনের নাম। কাস্টমার সেন্ট্রিক আপ্রোচ তাঁদের এই শীর্ষ স্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।  

কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স উন্নত করতে কিছু টিপসঃ 

  • প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসগুলো যতটা সম্ভব কাস্টমারদের জন্য পার্সোনালাইজড করুন
  • কাস্টমারদের বিহেভিয়ার বুঝতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনাকে আরো বেশি স্পেসিফিক ইন্সাইট প্রদান করবে।
  • কাস্টমারদের মতামতকে গুরুত্ব দিন এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর তাদের ফিডব্যাকগুলোকে একত্রিত করে সেগুলো বিশ্লেষণ করুন। 
  • লয়াল কাস্টমারদের পুরস্কৃত করুন
  • শুধুমাত্র বেচাকেনার বাইরে একজন কাস্টমারকে পরিচিত মানুষ হিসেবে গ্রহণ করুন
  • তাদের সাথে মানসিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন

পরিশেষে

দিনশেষে কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স আপনার বিজনেসের অগ্রগতির সীমারেখা নির্ধারণ করে দেয়। বিজনেস মানুষের সাথে সম্পর্কিত এবং আপনি একজন মানুষকে যত বেশি সহজ এবং সাবলীল অভিজ্ঞতা প্রদান করতে সক্ষম হবেন তারা তত বেশি আপনাকে গ্রহন করবে।

উপরে উল্লেখিত প্রতিটি উদাহরণে একটি বিষয় কমন, তারা কাস্টমারদের মূল্যায়ন করেছে, প্রাধান্য দিয়েছেন। তাদের কথা বিবেচনা করে এমন একটি বিজনেস মডেল তৈরি করার জন্য চেষ্টা করেছে যা সহজ সাবলীল।

বাংলাদেশের পেক্ষাপটে বর্তমান সময়ে ই-কমার্স বিজনেস খুব চ্যালেঞ্জিং এবং নিঃসন্দেহে সম্ভাবনাময়। এখন প্রয়োজন আপনার ব্র্যান্ডকে মেলে ধরার। আপনার ব্র্যান্ডকে পরিচিত করুন কাস্টমার সেন্ট্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে যা দীর্ঘমেয়াদে প্রফিটেবল বিজনেস ঘরে তোলে। 

লাইক-ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় পোস্ট