সেলস ফানেল কি? এর প্রকারভেদ- কাস্টমার কনভার্সন বৃদ্ধির অপটিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজি

সেলস ফানেল কি?  এর প্রকারভেদ- কাস্টমার কনভার্সন বৃদ্ধির অপটিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজি

২০২১ সালের এই সময়ে বিজনেস স্ট্র্যাটিজির জন্য সেলস ফানেল অপটিমাইজেশন অত্যাবশ্যক বিষয়। মার্কেটের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে একটি ব্র্যান্ডের সর্বোচ্চ কাস্টমার কনভার্সন রেট প্রয়োজন।  কিন্তু যে সময়ে আপনি একজন কাস্টমারকে এট্রাক্ট করার চেষ্টা করছেন সেসময়ে আপনার কম্পিটেটর ঠিক একই কাজ করছে। 

এমন একটি অবস্থায় আপনি যদি সেই কাস্টমারকে আপনার  বাকেটে নিয়ে আসতে চান  তবে আপনার বিজনেস এর সাথে এনগেজ হওয়া থেকে শুরু করে পারচেস করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আপনাকে সর্বোচ্চ  শ্রম দিতে হবে যাতে করে সেই কাস্টমার আপনার প্রতিযোগীর পরিবর্তে আপনাকে আদর্শ অপশন হিসেবে বেছে নেয়। 

এই কাজটি এতটা সহজ বিষয় নয় যতটা সহজ আমরা মনে করি। যদি একজন  উদ্যোক্তা অথবা মার্কেটিং স্ট্রাটেজিস্ট সেলস ফানেল তৈরি করে তার প্রতিটি  স্টেজে  কাস্টমারদের জন্য  ভ্যালু ক্রিয়েট করতে সক্ষম হোন, তবে নিঃসন্দেহে তিনি এই প্রতিযোগিতায় জিতে যাবেন।   

সেলস ফানেল সম্পর্কে আমরা বুঝি, একজন কাস্টমারকে আপনার বিজনেসের সাথে  ইনভল্ভ করা থাকে শুরু করে তাকে ক্লায়েন্টে পরিণত করা পর্যন্ত তার আচরণের উপর নির্ভর করে তৈরি স্টেজগুলোকে। 

একজন ক্রেতা সেলস ফানেলের স্টেজগুলো ধাপে ধাপে পার হবার পরে ফাইনাল গুডস বা প্রোডাক্টটি পারচেস করে।প্রতিটি স্টেজে তাদের সংযুক্ত হবার ধরন ভিন্ন। প্রাথমিক সেলস ফানেল ৩ টি স্টেজে বিভক্ত। 

সেলস ফানেল (Sales Funnel) কি?

সেলস ফানেল হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা একজন সম্ভাব্য ক্রেতাকে ধাপে ধাপে একজন আসল ক্রেতায় রূপান্তরিত করে। এটি মূলত ক্রেতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিটি ধাপ বিশ্লেষণ করে এবং সঠিক মার্কেটিং কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে কনভার্শন বাড়াতে সাহায্য করে।

সঠিক sales funnel কোনটি?

একটি কার্যকর Sales Funnel সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়:

  1. Awareness (সচেতনতা তৈরি): কাস্টমার প্রথমবারের মতো ব্র্যান্ড বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে পারে।
  2. Interest (আগ্রহ সৃষ্টি): কাস্টমার আগ্রহী হয় এবং আরও তথ্য খোঁজে।
  3. Decision (সিদ্ধান্ত গ্রহণ): কাস্টমার বিভিন্ন অপশন বিবেচনা করে।
  4. Action (ক্রয় করা): কাস্টমার চূড়ান্তভাবে পণ্য বা পরিষেবা কেনে।

একটি সফল Sales Funnel কাস্টমারকে প্রতিটি ধাপে সঠিকভাবে গাইড করে এবং সর্বোচ্চ কনভার্শন নিশ্চিত করে।

ফানেল কত প্রকার ও কি কি?

সেলস এর উপর ভিত্তি করে ফানেলকে  ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।

আর তা হলো-

  1. Top of the funnel
  2. Middle of the funnel
  3. Bottom of the funnel

আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরো বিস্তারিত উপায়ে কাস্টমারদের বায়িং প্রসেস ব্যাখ্যার জন্য এই সেলস ফানেল স্টেজকে আরো বেশি ভাগে ভাগ করে থাকেন। 

এই সেলস ফানেলকে পাঁচটি স্টেজে ভাগ করা হয়েছে, 

১। অ্যাওয়ারনেসঃ এই স্টেজে একজন কাস্টোমার আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে প্রথম জানে।  এটি হতে পারে অর্গানিক সার্চ পেইড অ্যাপ রেফারেল প্রোগ্রাম বিভিন্ন মাধ্যম থেকে।এটি টপ অফ দা ফানেল।  

২। কনসিডারেশনঃ এই স্টেজে একজন কাস্টোমার আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠে ।  সে তার পছন্দের প্রোডাক্ট গুলোর মধ্যে আপনার  প্রোডাক্ট গুলোকে স্থান দেয়।  এবং এই স্টেজে তারা প্রোডাক্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য কাস্টমার রিভিউ এসকল বিষয়গুলো জানতে চাই।  এটি মিডিল অফ দা ফানেল। 

৩। ডিসিশনঃ এই স্টেজে একজন কাস্টোমার আপনার প্রোডাক্ট কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  এবং কেনাকাটা সম্পন্ন করার লক্ষে তার কনসিডারেশন এর মধ্যে যে সকল প্রোডাক্ট রয়েছে তাদের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য করে।  এবং সেখান থেকে তার জন্য আদর্শ প্রোডাক্টটি সে বেছে নেয়। 

৪। পারচেসঃ এই  স্টেজে কাস্টমার প্রোডাক্টটি ফাইনালি পারচেস করে। সে তার জন্য মূল্য পরিশোধ করে।এইটি বোটম অব দ্যা ফানেল। 

৫। রিটেনশনঃ এই স্টেজে কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট টি ব্যবহার করে সন্তুষ্ট হয় এবং পরবর্তী কেনাকাটার জন্য আপনার কাছে আবার ফিরে আসে। 

এই পাঁচটি স্টেজে একজন কাস্টমার কোন একটি ব্র্যান্ডের সাথে যুক্ত হয়ে কেনাকাটা সম্পন্ন করে এবং পরবর্তী কেনাকাটার জন্য আবার ফিরে আসে।  এখন সেই ব্র্যান্ড যদি মনে করে তার সেলস নাম্বার বৃদ্ধি করতে হবে, তাহলে তাকে প্রতিটি স্টেজে কিছু অপটিমাইজেশন করার মাধ্যমে আরো বেশি কাস্টমার ফিল্টার করে ফাইনাল ক্লায়েন্টে পরিণত করতে হবে। 

সেলস ফানেলের এই স্টেজ গুলোতে একজন উদ্যোক্তা এমন কি করতে পারে, যার ফলে তার অ্যাভারেজ সেলস নাম্বার আগের তুলনায় বেড়ে যাবে? 

অ্যাওয়ারনেস স্টেজ অপটিমাইজেশন

এই স্টেজ একটি ব্র্যান্ডের জন্য প্রাইমারি গেইট। আপনি যত বেশি পটেনশিয়াল ট্রাফিক  এই স্টেজে যুক্ত করতে পারবেন,  ততবেশি সেলস নাম্বার বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু অ্যাওয়ারনেস স্টেইজে বেশি পরিমাণ ট্রাফিক নিয়ে আসা একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার।  এই চ্যালেঞ্জকে ফেস করতে হলে আপনাকে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

আপনি লুকালাইক কাস্টমার তৈরি করার মাধ্যমে আরও বেশি সিমিলার অডিয়েন্স আপনি নিয়ে আসতে পারেন।  ফেসবুক বিজ্ঞাপন এর ক্ষেত্রে লুকালাইক অডিয়েন্স ক্রিয়েট করার জন্য তিনটি সহজ ও দুর্দান্ত কার্যকরী উপায় রয়েছে সেগুলো হচ্ছে,

কাস্টমারদের ইমেইল লিস্টের মাধ্যমে লুকালাইক অডিয়েন্স তৈরি করা

যে সকল কাস্টমার আপনার ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করছে বিশেষ করে ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কেনাকাটা করছে তাদের ইমেইল লিস্ট আপনার কাছে রয়েছে। সেসকল ইমেইল লিস্টগুলো ব্যবহার করে আপনি যদি লুকালাইক অডিয়েন্স তৈরি করেন তাহলে একই ধরনের সম্ভাব্য অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। 

রিসেন্টলি যেসকল কাস্টমার ক্লাইন্টে কনভার্ট হয়েছে তাদের ডাটা গুলো ব্যবহার করে লুকালাইক অডিয়েন্স তৈরি করা

যারা আপনার ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করছে তারা আপনার বিজনেসের জন্য সবচেয়ে পোটেনশিয়াল অডিয়েন্স গ্রুপ। এমন অবস্থায় আপনি যদি কনভার্ট হওয়া কাস্টমারদের ডাটা ব্যবহার করে লুকালাইক অডিয়েন্স তৈরি করেন তবে আপনি সবচেয়ে আদর্শ অডিয়েন্স গ্রুপের কাছে পৌঁছাতে পারবেন।  

এক্ষেত্রে ফেসবুক তাদের কাছে আপনার প্রোডাক্টের অ্যাড গুলো পৌছে দেয়, যাদের এট্রিবিউট গুলো আপনার ক্লায়েন্টদের সাথে ম্যাচ করে। 

কনটেন্টের সাথে এঙ্গেজ হচ্ছে এমন কাস্টমারদের ওপর নির্ভর করে লুক লাইক অডিয়েন্স তৈরি করা 

আপনার ব্র্যান্ডের যে কনটেন্টগুলো অডিয়েন্স দেখছে সেসকল কনটেন্ট গুলো ওপর নির্ভর করে লুকালাইক অডিয়েন্স তৈরি করতে পারেন।  এটিও আপনাকে আপনার ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট গুলোর জন্য সম্ভাব্য পটেনশিয়াল অডিয়েন্স গ্রুপের কাছে নিয়ে যেতে সক্ষম।

কাস্টমারদের কুইরির ওপর নির্ভর করে গুগোল শপিং এর প্রোডাক্টগুলো অপটিমাইজ করুন । যেমনটি নিচের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, খেয়াল করুন কাস্টমার গুগলে সার্চ করেছে “ট্রাভেল ব্যাগপ্যাক” এই শব্দটি লিখে এবং সেই সকল সেলারদের প্রোডাক্টগুলো সামনে আসছে যারা তাদের এই প্রোডাক্টগুলো অপটিমাইজ করেছিলো “ট্রাভেল ব্যাগপ্যাক” এই কী-ওয়ার্ডটির  জন্য।  

Google Shopping results for backpack search

 ই-কমার্স বিজনেসের জন্য কিওয়ার্ড অপটিমাইজেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং কার্যকরী একটি পদ্ধতি যেটি সার্চ রেজাল্টে সব সময় আপনাকে সবার থেকে এগিয়ে রাখবে। 

রেফারেল প্রোগ্রাম

গ্রোথ মার্কেটিং হ্যাক সারা বিশ্বে জনপ্রিয় একটি মার্কেটিং ক্যাম্পেইন কৌশল। এই পদ্ধতিতে একজন ক্রেতা যখন অন্য ক্রেতাকে একটি প্রোডাক্ট রেফার করে, তখন তার রেফার করা প্রোডাক্ট কেউ কিনলে এর বিপরীতে তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে মূল্য ছাড় পান। 

অ্যাওয়ারনেস স্টেজে নতুন একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেল করার জন্য রেফারেল প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হলে কাস্টমার চেষ্টা করে যতটা সম্ভব তার প্রথম পারচেস এক্সপিরিয়েন্সের জন্য খরচ কমিয়ে আনতে, তাই সে স্বপ্রণোদিত হয়ে তার পরিচিত বন্ধুদের মাঝে প্রোডাক্ট রেফার করে যা প্রোডাক্ট অ্যাওয়ারনেস বাড়িয়ে তোলে। 

কনসিডারেশন স্টেজ অপটিমাইজেশন

প্রথমেই বলেছি এই স্টেজে একজন ক্রেতা কোন একটি ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট তার পরবর্তী কেনাকাটার জন্য ক্রয় সিদ্ধান্তের মধ্যে নিয়ে আসে। এই সময়ে আপনি যদি চান  সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের ক্রয় সিদ্ধান্তের মধ্যে আপনার প্রোডাক্টকে নিয়ে আসতে, তাহলে আপনার প্রোডাক্টের অথরিটি তৈরি করতে হবে, একই সাথে কাস্টমারদের আস্থা অর্জন করতে হবে। সে জন্য আপনি যা যা করতে পারেন,  

ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট

বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট আপনার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের রিচ এবং এনগেজমেন্ট বাড়াতে সবচেয়ে কার্যকরী একটি পদ্ধতি। এর কারণ হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমগুলো বিশেষ করে ফেসবুক দেখে আপনার ব্র্যান্ডে সম্পর্কে অন্য মানুষেরা কি বলছে এবং যত বেশি আপনার ব্র্যান্ড নিয়ে অডিয়েন্স কথা বলবে আপনার ব্র্যান্ড পেইজটি সামাজিক মাধ্যমে ততবেশি ট্রাকশন পাবে।

আর এখানেই ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট এর সফলতা। যেখানে একজন হ্যাপি কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে তার অভিজ্ঞতা অথবা মতামত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোতে শেয়ার করে। 

এতে করে অন্যান্য অডিয়েন্স জানতে পারে একজন সত্যিকার গ্রাহক আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে কি ধরনের চিন্তা পোষণ করছে। এটি সেই প্রোডাক্টটিকে তার বায়িং কনসিডারেশনর মধ্যে নিয়ে আসার জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। 

ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট নিয়ে আরো পড়ুন:

 UGC Campaign: বিনা খরচে বিজনেসের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

ভিভিও দেখতে ক্লিক করুনঃ

 Share A Coke India: Celebrating relationships!

বেনিফিট ড্রিভেন প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন

প্রোডাক্টটি আপনি কিভাবে তৈরি করেছেন অথবা এই প্রোডাক্টটি কত বেশি কোয়ালিটি সম্পন্ন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপনার প্রোডাক্ট একজন কাস্টমারের কেন প্রয়োজন। অর্থাৎ কাস্টমার জানতে চায় প্রোডাক্টের বেনিফিট। 

যখন প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লিখছেন তখন শুধুমাত্র ম্যাটেরিয়াল অথবা মেকিং প্রসেস উল্লেখ না করে বলুন প্রোডাক্টটি একজন কাস্টমারকে কি বেনিফিট প্রদান করবে।  

কনসিডারেশন স্টেজে একজন কাস্টমার তার পছন্দের সবগুলো অল্টারনেটিভ প্রোডাক্টের মধ্যে সেই প্রোডাক্টটি খুঁজে পেতে চায় যেটি তার সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম। আর আপনি যখন প্রোডাক্টের বেনিফিট গুলো বর্ণনা করার মাধ্যমে কাস্টমারের সমস্যার সমাধান করতে সহায়তা করবেন, তখন কাস্টমার আপনাকে গ্রহন করবে। 

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন নিয়ে আরো পড়ুন,

সফল ই-কমার্স বেচাকেনায় মনকাড়া প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার নিয়ম

ডিসিশন স্টেজ অপটিমাইজেশন

এই স্টেজে এসে কাস্টমার ফাইনালি তার  পছন্দের প্রোডাক্টটি কেনার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  খেয়াল রাখবেন যে একজন কাস্টমার সুনির্দিষ্টভাবে জানে সে কি কিনতে চলেছে।  আর সেই জন্য ডিসিশন স্টেজে আপনাকে কাস্টমারের বায়িং প্রসেস স্মুথ করতে হবে এবং আপনি কিভাবে সেটি করতে পারেন

কাস্টমার সার্ভিস

আপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে কাস্টমার সার্ভিস ও কাস্টমার কেয়ারে।  কাস্টমার যখন আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোতে মেসেজ দিচ্ছে সে গুলোকে গুরুত্বের সাথে রিপ্লাই করুন,  জানতে চান তার প্রয়োজন সম্পর্কে।  প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে তাকে আরো বেশি তথ্য প্রদান করুন।  কিভাবে কেনাকাটা সম্পন্ন করবে অথবা  আপনাদের রিটার্ন পলিসি, ডেলিভারি পলিসি এই সকল বিষয়গুলো নিয়ে তার সাথে আলোচনা করুন। সাধারণত ডিসিশন ষ্টেজে কাস্টমার প্রোডাক্ট কোয়ালিটি, এক্সপেরিয়েন্স এবং ট্রানজেকশন সিকিউরিটি তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়।  

আপনি যত বেশি তাদের এই সকল ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন তত বেশি তাদের  কেনাকাটা করার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

এক্সিট ইন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি

এই  কৌশলটি ই-কমার্স সেলারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশল।  কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে অধিকাংশ ই-কমার্সের আর এই কৌশলটিকে একেবারেই পাত্তা দেন না। ফলাফল তারা পটেনশিয়াল কাস্টমার গ্রুপকে হারিয়ে ফেলেন।  

এতে করে দিনের পর দিন তাদের মার্কেটিং খরচ বাড়তে থাকে। এক্সিট ইন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি দুই ভাবে আপনাকে সাহায্য করে। প্রথমত কাস্টমারদের কেনাকাটার জন্য ট্রিগার করে, দ্বিতীয়তঃ যদি সে কেনাকাটা সম্পূর্ণ না করে চলে যায় তবুও তাকে এনগেজ রাখা সম্ভব হয়।

উদাহরণ হিসেবে নিচের চিত্রটি দেখুন, 

exit intent pop-up example

 

এখানে বলছে ইমেইল লিস্টে জয়েন করলে প্রথম কেনাকাটায় ২০ % মূল্যছাড় এখন কেউ যদি ডিসিশন নিয়ে থাকে সে আপনার প্রোডাক্টটি কিনবেন, সে ক্ষেত্রে এই মেইল লিস্টে জয়েন করলে ইনস্ট্যান্ট ২০%  ছাড় পেয়ে যাচ্ছে।  এটি তাকে আরও দ্রুত পারচেস প্রসেস সম্পন্ন করতে ট্রিগার করবে।  

এবার ধরুন, সে কেনাকাটা না করেই চলে গেলো এবং যাবার সময় সে ইমেইল সাবস্ক্রাইব করে গেল, কারণ সে চায় পরবর্তী সময়ে প্রথমবার যখন কিনবে তখন যেন 20% ছাড় পায়।  

একবার যখন তার  ইমেইল এড্রেসটি পেয়ে গেছেন তাকে নিয়মিত ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে এঙ্গেজ রাখতে পারবেন। নতুন নতুন প্রোডাক্ট দেখাতে পারবেন।  আর যখনই সঠিক সময়ে সঠিক প্রোডাক্টটি তার সামনে আসবে কাস্টমার সেটি কিনবে। 

পারচেস স্টেজ অপটিমাইজেশন

পারচেস স্টেজে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কাস্টমারদের অর্ডার গিভিং প্রসেস অথবা পেমেন্ট প্রসেসটিকে সম্পন্ন করানো। দেখা গেছে প্রায় 21 শতাংশ কাস্টমার  check-out প্রসেস সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার জন্য কেনাকাটা সম্পূর্ণ না করেই চলে গেছে।  

বিশেষ করে ওয়েবসাইট লোডিং এর একটি অন্যতম কারণ।  আবার প্রায় 50% কাস্টমার হিডেন চার্জ অর্থাৎ ডেলিভারি  চার্জ, ভ্যাট ও ট্যাক্স এর কারণে কেনাকাটা সম্পন্ন না করেই শপিং কার্ট ছেড়ে চলে গেছে।

আপনাকে ট্র্যাক করতে হবে কারা কারা চেক আউট স্টেজ থেকে আপনার ওয়েবসাইটটি ছেড়ে গেছে অথবা সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে মেসেজে কানেক্ট হওয়ার পরেও কেনাকাটা সম্পন্ন না করে চলে গেছে।  তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী কৌশল হচ্ছে ফ্রী দেলিভেরি বা  ডিসকাউন্ট যা তাদের চেক আউট প্রসেস সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করবে।

রিটেনশন স্টেজ অপটিমাইজেশন

কাস্টমার প্রথমবারের জন্য আপনার ব্র্যান্ড পেজ থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন করেছে কিন্তু যদি তাদেরকে দ্বিতীয়বার ফেরত নিয়ে আসতে না পারেন তবে আপনার মার্কেটিং খরচ বাড়তে থাকবে প্রফিট কমতে থাকবে।  

কারণ ফাস্ট টাইম কাস্টমারদের চেয়ে সেকেন্ড টাইম কাস্টমারদের কাছে বেচাকেনা করা অধিক বেশি লাভজনক।  এই  স্টেজে এসে কাস্টমার রিটেনশন রেট  বাড়াতে  আপনি যা করতে পারেন।  

কাস্টমার একাউন্ট ক্রিয়েট করার জন্য উৎসাহিত করুন

কেনাকাটা সম্পন্ন করার পরে কাস্টমারদের উৎসাহিত করুন আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটে তার কাস্টমার অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে যেখানে তার সকল অর্ডার হিস্টরি থাকবে। কাস্টমার একাউন্ট এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কাস্টমার পারচেস প্যাটার্ন ট্র্যাক করার মাধ্যমে  লয়াল কাস্টমার খুঁজে পাওয়া।  

একটি বিজনেসের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নির্ভর করে রিপিট কাস্টমারদের উপরে। ফার্স্ট টাইম কাস্টমার সংখ্যা যতই বেশি হোক সেটি বিজনেসের সাকসেস ইন্ডিকেটর কখনোই নয়। 

যখন কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইটে একাউন্ট তৈরি করবে তখন তার সমস্ত পারচেস হিস্টরি আপনি পাচ্ছেন। তার পারচেস প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণ করে তাকে বেশি বেশি অফার, ডিসকাউন্ট বা কুপন দেবার মাধ্যমে কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু (CLV)  বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবেন। 

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু (CLV) বিষয়ে আরো পড়ুনঃ

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু (CLV) কী? এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে ক্যালকুলেট করতে হয়?

 

 আপসেল -ক্রসসেল

আপনি কি শুধুমাত্র একটি প্রোডাক্ট কেনাবেচা করেন নাকি আরো প্রোডাক্ট আপনার রয়েছে?  আপনার কাস্টমার কি শুধু একটি প্রোডাক্ট কেনাকাটা করে সন্তুষ্ট নাকি তার আরো অনেক ধরনের প্রোডাক্টের প্রয়োজন?  নিশ্চয়ই তার আরো অনেক ধরনের প্রোডাক্ট এর চাহিদা রয়েছে।

যে কাস্টমার আপনার থেকে বিউটি শোপ কিনেছে তার কাছে আপনি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির বিউটি শোপ বিক্রি করুন। যে আপনার থেকে ৫০ মিলি লিটার শ্যাম্পুর বোতল কিনেছে তার কাছে আপনি ২৫০ মিলি শ্যাম্পুর বোতল বিক্রি করুন।  এটিকে বলা হয় আপসেল। 

এখন একই কাস্টমার যে আপনার কাছ থেকে বিউটি সোপ কিনছে তার কাছে ড্রাই ফুড বিক্রি করুন,  তার কাছে হাউজহোল্ড এক্সেসরিজ বিক্রি করুন এটিকে বলা হয় ক্রসসেল।

কাস্টমার রিটেনশন স্টেজে এই আপসেল – ক্রসসেল স্ট্র্যাটেজি আপনার রেভিনিউয়ের পরিমাণকে বাড়িয়ে তুলবে কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু বাড়ানোর মাধ্যম দিয়ে। 

ফানেল মার্কেটিং করে সেলস বৃদ্ধির কৌশল

ফানেল মার্কেটিং সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে সেলস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। কিছু কার্যকর কৌশল হলো:

  • গুড লিড ম্যাগনেট তৈরি করুন: ফ্রি ইবুক, ওয়েবিনার, ট্রায়াল অফার দিয়ে কাস্টমারের আগ্রহ সৃষ্টি করুন।
  • ইমেল মার্কেটিং ব্যবহার করুন: অটোমেশন সেটআপ করে কাস্টমারদের ক্রমাগত ফলো-আপ করুন।
  • রিটার্গেটিং অ্যাড ব্যবহার করুন: ফেসবুক ও গুগল অ্যাডসের মাধ্যমে পুনরায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের টার্গেট করুন।
  • ওয়েবসাইট অপ্টিমাইজ করুন: কাস্টমারদের জন্য সহজ এবং ইউজার-ফ্রেন্ডলি চেকআউট প্রসেস নিশ্চিত করুন।
  • কনটেন্ট মার্কেটিং ব্যবহার করুন: ব্লগ, ভিডিও, কেস স্টাডি তৈরি করে কাস্টমারদের ব্র্যান্ড সম্পর্কে শিক্ষিত করুন।

ফানেল নিয়ে শেষ কথা

সেলস ফানেল তৈরি করেই আপনার কাজ শেষ হয়ে যায় না, আপনাকে প্রতিনিয়ত সেটি আপডেট করতে হবে। নিত্যনতুন কৌশল ইম্প্লেমেন্ট করার মাধ্যম দিয়ে প্রতিটি স্টেজে সর্বোচ্চ আউটপুট নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে টপ অফ দা ফানেলে যত বেশি ইনপুট দেওয়া হবে, বোটম অফ দা ফানেলে ততবেশি আউটপুট হিসেবে কাস্টমার কনভার্সন বাড়বে। কিন্তু মাঝের যেসকল স্টেজগুলো রয়েছে সেই সকল স্টেজে তাদেরকে কিভাবে আপনি নারচার করছেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ। 

কাস্টমার যেকোন সময় যে কোন স্টেজ থেকে আপনাকে ছেড়ে চলে যেতে পারেন, তাকে ধরে রাখার দায়িত্ব আপনার। 

৯টি বাজে কাস্টমার সার্ভিসের উদাহরণ ও তার প্রতিকারের জন্য করনীয়

৯টি বাজে কাস্টমার সার্ভিসের উদাহরণ ও তার প্রতিকারের জন্য করনীয়

বাজে কাস্টমার সার্ভিসের অভিজ্ঞতা কমবেশি অনেকের আছে।আবার কাস্টমার সার্ভিস টিম গ্রাহকদের সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে কখনও কখনও পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। সত্যিকার অর্থেই সেরা কাস্টমার সার্ভিস নিশ্চিতকরন বিজনেসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। কিন্তু মানুষতো ভুল করবেই। 

তাহলে কিভাবে এই  চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আপনার কাস্টমারদের একটি দারুন সার্ভিস অভিজ্ঞতা প্রদান  করবেন? 

আমরা এমনই কিছু বাজে কাস্টমার সার্ভিসের গল্প ও টিপস আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, যা আপনাকে কাস্টমার সার্ভিস পরিচালনায় বাজে পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করবে।  

১। দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা 

কাস্টমারদের বাজে অভিজ্ঞতার মূলে রয়েছে এমন কিছু কোম্পানি যা কাস্টমারদের কাছে বেচাকেনা করে অর্থ সংগ্রহ করতে পারলেই খুশি, কিন্তু যখন একটি ভুল হয়ে যায় সেই দায়িত্ব তারা গ্রহণ করতে চায় না। 

যেমন, অ্যামাজন তার একজন কাস্টমারকে অস্বাভাবিক ডেলিভারি চার্জ ফেরত দিতে অস্বীকার করেছিলো। 

বারবারা ক্যারল অ্যামাজন থেকে ৮৮.১৭ ডলার মূল্যের টয়লেট পেপার অর্ডার করে, পরবর্তী সময়ে সে খেয়াল করে শিপমেন্ট বাবদ তার কার্ড থেকে ৭০০০ ডলার কেটে নেয়া হয়। যেটি মূলত একটি টেকনিক্যাল ভুল ছিলো। 

শিকাগো ভিত্তিক একটি ই-কমার্স লজিস্টিক কোম্পানি SEKO লজিস্টিকের মার্কেটিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান বোর্কে এই বিষয়ে তার মতামত দিতে গিয়ে বলেন,  

এয়ার শিপমেন্টের জন্য টয়লেট পেপার যে বক্সে প্যাকেজিং করে ডেলিভারি করা হয় তার ডেলিভারি চার্জ নির্ণয় করা হয়েছিলো ডাইমেনশনাল ওয়েটের উপর। কারন এয়ার শিপমেন্টের ডেলিভারি চার্জ নির্ধারণ করার এটি স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম। 

এখানে প্যাকেটের ভিতরের প্রোডাক্টের ওয়েট মুখ্য বিষয় না। প্রোডাক্টের ওজন যেটাই হোক মূল্য নির্ধারণ হবে বক্সের সাইজের উপর। কিন্তু তাই বলে কি  ৮৮.১৭ ডলারের টয়লেট পেপার কিনতে শিপমেন্ট খরচ ৭০০০ ডলার কেটে নেয়া যৌক্তিক? কখনোই না।

বারবারা ক্যারল এই নিয়ে সরাসরি জেফ বেজসের কাছে চিঠি লিখেন। কিন্তু তিনি তখনো কোন সমাধান না পেয়ে স্থানীয় টেলিভিশন মিডিয়ার ভোক্তা অধিকার সংস্থাকে জানান ও একটি প্রতিবেদন প্রচার করেন। এর পর পরেই অ্যামাজন তার সমস্যাকে আমলে নেন ও সমাধান করেন। কিন্তু ততক্ষনে পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়ে গেছে। 

অ্যামাজন চাইলেই এই পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে পারতো, কিন্তু তারা দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায় অপ্রীতিকর ঘটনার উদ্ভব হয়। শেষ পর্যন্ত এটি গণমাধ্যম পর্যন্ত গড়ায়। এরপরে অ্যামাজন এটি নিস্পত্তি করে।  

দায়িত্বশীল হোন:

  • গ্রাহকের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাকে দেখুন। আপনি যদি কাস্টমারদের কাছে কিছু বিক্রি করেন, তাহলে আপনি (অন্তত নৈতিকভাবে) তাদের অভিজ্ঞতার জন্য দায়ী।
  • একজন গ্রাহক অভিযোগ করবে তারপর সেটি সমাধান করবেন এই চিন্তা থেকে বের হয়ে আসুন।কাস্টমার সার্ভিস উন্নত করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করুন।
  • আপনার কাস্টমার সার্ভিস টিমকে ক্ষমা চাইতে শেখান । দোষ এড়িয়ে সমস্যার সমাধান করা যায় না এবং এটি গ্রাহককে নেতিবাচক ধারণা দেয়।

২। লেট রেসপন্স 

স্লো রেস্পন্স টাইম কাস্টমার অসন্তুষ্টি সবচেয়ে বড় ও সাধারণ কারণগুলির মধ্যে একটি। দেখা গেছে অধিক সময় অতিবাহিত করলে ছোট সমস্যাটিও একসময় প্রধান সমস্যাতে পরিণত হয়।

একজন লোককে অস্ট্রেলিয়ান এয়ারলাইন QANTAS এর কাস্টমার সার্ভিসের সাথে কথা বলার জন্য ১৫ ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। যা কিনা এডিলেড থেকে এনওয়াইসি যাওয়ার জন্য যে সময় প্রয়োজন হয় তার চেয়ে ২০ মিনিট বেশি।

QANTAS এয়ারলাইনস অস্বীকার করে যে তাদের দ্বারা এমনটি ঘটেছে। কিন্তু যারা অটোমেটিক ফোন সিস্টেম সম্পর্কে জানেন, তারা কাস্টমার সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার যে অভিজ্ঞতা সেটি একবার হলেও অর্জন করেছে। 

আপনার সেবার গতি বাড়ান:

কাস্টমার হিসেবে আপনার সার্ভিস কোয়ালিটি যাচাই করার জন্য একদিনের জন্য নিজ প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের কাস্টমার হওয়ার চেষ্টা করুন। আপনি আরও সহজেই সমস্যা গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।

৩। ফেইলর অফ ফ্লেক্সিবিলিটি

আপনার বিজনেস পলিসির কঠোর চর্চা করতে হবে। এমনকি যদি আপনাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা পলিসিতে লিপিবদ্ধ নই কিন্তু সেটি কাস্টমার সার্ভিসে মান ধরে রাখতে জরুরি, তবে সেটি করুন।   

ছয় মাসে পাঁচবার মাইক্রোওয়েভ মেরামতের ঘটনা

কাস্টমারের একটি মাইক্রোওয়েভ যা ছয় মাসে পাঁচবার মেরামতের প্রয়োজন হয়, কিন্তু দৃশ্যত সেটি যথেষ্ট পরিমাণে  ভাঙাচুরা না হবার ফলে Whirlpool এটিকে রিপ্লেস না করে বারবার রিপিয়ার করতে থাকে। পরবর্তীতে এই ঘটনা পাবলিক হয় এরপর তারা সেই মাইক্রোওয়েভটি রিপ্লেস করে দেয়। কিন্তু  Whirlpool সবার জানাজানি হবার আগেই যদি এটি সমাধান করে দিতো তবে এমনটি হতো না।  

কর্মীদের সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা দিন

  • ক্যাপ্টেন বারবোসার কাছ থেকে শিক্ষা নিন : আপনার নীতিগুলিকে প্রকৃত নিয়মের চেয়ে গাইডলাইনের মতো করে তুলুন।
  • আপনার ফ্রন্টলাইন টিমকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় যা করার প্রয়োজন তার ক্ষমতা দিন এবং তারপরে তাদের সিদ্ধান্তগুলোকে পর্যবেক্ষণ ও সমর্থন করুন।

৪। বিভ্রান্তিকর UI ডিজাইন

কখনও কখনও কাস্টমার সার্ভিস টিম টেকওভার করার আগেই বাজে কাস্টমার সার্ভিসের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। একজন ডিজাইনার এবং ম্যানেজার তাদের বিজনেস কেপিআই মিট করার জন্য সর্বদা বিকল্প উপায় খোঁজ করতে থাকেন। তারা কাস্টমারদের এমন কিছু করতে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন, যা তারা হয়তো স্বেচ্ছায় করবেন না।

লিঙ্কডইন এর বিভ্রান্তিকর UI ডিজাইন

পেশাদার নেটওয়ার্ক লিঙ্কডইন বিভ্রান্তিকর UI ডিজাইনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ড্যান শ্লোসার কয়েক বছর আগে তাদের এই বিষয়টিকে নজরে নিয়ে আনেন। এরকম একটি নকশা ডিজাইনের ফলে হাজার হাজার মানুষ “Join LinkedIn” এই ইমেলগুলি তাদের বন্ধুদের পাঠিয়েছে, যা ব্যবহারকারীরা করতে চায়নি।   

আলোর দিকে থাকুনঃ

আপনার বিজনেসের কোর ভালুকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের বাস্তব অংশ হিসেবে যুক্ত করুন। আপনি যদি নিজেদের কাস্টমার সেন্ট্রিক বলে দাবি করেন , তাহলে সেই মাফিক আপনার ডিজাইনগুলি পরীক্ষা করুন। 

যদি আপনার বিজনেসের কোর ভালু কাস্টমারদের কিছুই পরিবর্তন না করে তবে সেগুলি বিজনেসের প্রকৃত কোর ভালু না। 

আপনার প্রোডাক্ট কপিটি পর্যালোচনা করুন। এটি আপনার বিজনেসকে পরিষ্কার এবং সঠিকভাবে বর্ণনা করে কি না সেটি নিশ্চিত করুন। আপনার সাপোর্ট টিম দ্বারা এটিকে পর্যালোচনা করান, তারা হয়তো কিছু নির্দিষ্ট কাস্টমার বিভ্রান্তির পয়েন্ট নোট করতে সক্ষম হবে। কারন তারা  কাস্টমারদের সাথে কানেক্টেড থেকে কাজ করে। তারা জানে কাস্টমার কি পছন্দ করছে কি অপছন্দ করছে।  

৫। কাস্টমার সার্ভিসে অদক্ষ লোকবল নিয়োগ দিন 

যখন একজন কাস্টমার দক্ষকর্মীর থেকে সেবা গ্রহন করে, সেটি তার জন্য একটি দারুন অভিজ্ঞতা হয়। কিন্তু কাস্টমার সার্ভিসের বাস্তবতা ভিন্ন, অনেকটা এই chasing Ron Swanson’s swivel chair ভিডিও ক্লিপের মত। 

কাস্টমারদের টাচে থাকুন

  • কাস্টমার সার্ভিসে ইনভেস্ট করুন। কাস্টমারদের কল যদি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তবে তাদের কলের উত্তর দেবার জন্য খরচ করুন। 
  • বেটার সেলফ সার্ভিস রিসোর্স তৈরি করুন। কাস্টমার আপনাকে কল না করেই যেন নিজে থেকে উত্তর খুঁজে পায়। 

৬। চ্যাট বট যখন সমাধান নয়

রিয়েল মানুষের সাথে কথা না বলে চ্যাট বটের সাথে কথা বলা বিরক্তিকর। মানুষ সত্যিকারের মানুষের সাথে কথা বলতে পছন্দ করে। তাই কাস্টমার সার্ভিসে সত্যি কারের মানুষের উপস্থিত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

চ্যাটবটের সীমাবদ্ধতা 

কাস্টমার সার্ভিসে চ্যাটবট এর ব্যবহার করতে গিয়ে ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চ্যাটবট গুলো কাস্টমারদের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে সক্ষম হয়নি। উদাহরণ হিসেবে ফ্লেক্সোর চ্যাটবট স্ক্রিনশটটি দেখতে পারেন। 

A user asks a support chatbot a simple question and the chatbot says it can not answer that. At each question, the chatbot provides the same answer.

এই ক্ষেত্রে যা করণীয়

  • এমন একটি চ্যাটবট এর সন্ধান করুন যা আপনার সমস্যার সমাধান করতে পারে।
  • কিছু নির্দিষ্ট অপশন পছন্দের ক্ষেত্রে চ্যাটবট কার্যকর হতে পারে যেমন রেস্টুরেন্টের মেনু কার্ড অর্ডার ইন প্রসেস  অটোমেটিক পড়তে।
  • কাস্টমার সার্ভিসের ইফিসিয়েন্সি বাড়াতে AI প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে পারেন।

 

 

৭। অসম্মানজনক কথোপকথন 

অনেক ক্ষেত্রে একজন আনহ্যাপি কাস্টমার কাস্টমার সার্ভিস এজেন্টের কথা বলার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করে থাকেন। এমন মুহূর্তেও কাস্টমার সার্ভিস এজেন্টের কোনোভাবেই অসন্মানজনক আচরণ করা সঠিক হবে না 

“কমকাস্ট” তার একজন টিম মেম্বার কে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছিল। কারণ সেই কাস্টমার সার্ভিস এজেন্ট তার কোম্পানির একজন কাস্টমারের উপর বিরক্ত হয়ে তার আসল নাম পরিবর্তন করে অসম্মানজনক নাম রেখেছিল। 

কমকাস্ট তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীর এমন আচরণের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে, পরে সেই কর্মীর অপরাধের সত্যতা প্রমান হওয়ায় তাকে কাস্টমারের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।  

এমন পরিস্থিতিতে আপনি যা করতে পারেন

  • কাস্টমার সার্ভিস টিমের সাথে এমন ধরনের আচরণ করুন যেন নেগেটিভ কাস্টমারদের ডিল করার জন্য তাদের যথেষ্ট মানসিক এবং শারীরিক শক্তি অবশিষ্ট থাকে।
  • যথাযথ কারণ ছাড়া আপনার কোম্পানির কোন কর্মীকে কাস্টমারদের দ্বারা নিগৃহীত হতে দিবেন না ।
  • কাস্টমার সার্ভিসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি গুলো আরো সুন্দর ভাবে ম্যানেজ করার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা সেই লেভেলে না পৌঁছায়।

৮। লেজি লিসেনিং 

কিছু কিছু ক্ষেত্রে সার্ভিস পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হয় যদি আপনি কাস্টমারদের কথা মত কাজ করেন অর্থাৎ তারা যা বলছে ততটুকুই করা নিজের বুদ্ধি না খাটিয়ে। 

এ বিষয়ে “কেক” নিয়ে দারুন একটি আর্টিকেল রয়েছে, যেখানে কাস্টমার কেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কে যা ইনস্ট্রাকশন দিয়েছে তারা সেটাই করেছে কিন্তু সেটি হয়েছে সবচেয়ে বড় ভুল কিন্তু কেন জানার জন্য লিংকে ক্লিক করে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন। 

করণীয়ঃ 

  • কাজ শেষ করার জন্য তড়িঘড়ি না করে কাস্টমারদের ইন্সট্রাকশন গুলো পুরোপুরি ভাবে বোঝার জন্য প্রয়োজনে তাকে আরো প্রশ্ন করুন,
  • কর্মীদের কমনসেন্সের জন্য তাদের পুরস্কৃত করুন 

৯। দেক্লাইন টু  ডেএস্কেলেট

প্রত্যেকেই ভুল করে এবং এটি অত্যন্ত সাধারণ একটি ব্যাপার।  আপনার কাস্টমারের সাথে যখন ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে তখন হুট করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে আপনার বিজনেসের জন্য।

এসময়ে একটু স্থির হবার চেষ্টা করুন, দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিন এবং যখন নিজেকে শান্ত বোধ করবেন ঠিক সেই মুহূর্তেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

অস্ট্রেলিয়ান মোটেল কাহিনী

গ্রাহাম শ্যারন নামে একজন ভদ্রমহিলা অস্ট্রেলিয়ায় এক হোটেলে দুই রাত্রী যাপন করেছিলো এবং তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অনলাইন বুকিং সাইট booking.com একটি রিভিউ প্রদান করে। যেখানে সে বলে, মোটেল অত্যন্ত চমৎকার কিন্তু সামান্য নয়েজি। 

এটি দেখে মোটেল ওনার অত্যন্ত রাগান্বিত হয় এবং তার হোটেল বিলের সাথে এক্সট্রা ৫০ ডলার যুক্ত করে। মোটেল ত্যাগ করার জন্য শ্যারন প্রস্তুতি নিলে তাকে জানানো হয় এক্সট্রা ৫০ ডলার তাকে জরিমানা করা হয়েছে ভুল রিভিউ দেয়ার জন্য। যদি সে রিভিউটি মুছে দেয় তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ৫০ ডলার মওকুফ করা হবে।

 এ ধরনের আচরণ মোটেও কোন বিজনেস এর জন্য ইথিক্যাল প্রাক্টিস নয়। এতে ব্র্যান্ড ইমেজে দারুণভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আপনি কাউকে জোর করতে পারেন না। এটি বাজে কাস্টমার সার্ভিসের উদাহরণ। 

এ ধরনের মুহূর্তে কি করনীয়

  • যখনই এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন তখন প্রাথমিকভাবে নিজেকে স্থির রাখার চেষ্টা করবেন। উত্তেজিত হয়ে পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করবেন না।
  • নেগেটিভ রিভিউ মোকাবেলা করার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা রেডি করে রাখুন।  পরবর্তীতে যখন এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন তখন পরিকল্পনা মাফিক কাজ গুলো করবেন।

পরিশেষে

বিজনেস হারানোর জন্য বড় ধরনের ভুল করার প্রয়োজন হয় না, সামান্য একটি ভুল আপনার বিজনেসকে একেবারে নিচে নামিয়ে নিয়ে আসতে পারে। সেজন্য বিজনেসের ছোট ছোট ভুল গুলিতে নজর দিন। ছোট ভুলগুলি বড় হয়ে ওঠার আগেই সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করুন এবং সমাধান করার চেষ্টা করুন। 

আপনার একটি ভুল কর্মকাণ্ডের কারণে বিজনেস বিষয়ে খবরের কাগজে নেতিবাচক শিরোনামে পরিণত হবার চেয়ে আপনার কাস্টমার সার্ভিসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নিয়ে শিরোনাম হওয়া অনেক বেশি প্রফিটেবল। কারণ এই শিরোনাম আপনার ব্যালেন্সে যোগ করতে সহায়ক।  

 

আরো পড়ুনঃ

কাস্টমার লয়াল্টি তৈরির কিছু বহুল পরিচিত কিন্তু অব্যর্থ কৌশল

ফেসবুক অ্যাড পারফরমেন্স ভালো করতে Optimize Text Per Person এর ব্যবহার

ফেসবুক অ্যাড পারফরমেন্স ভালো করতে Optimize Text Per Person এর ব্যবহার

Optimize Text Per Person কি কারনে গুরুত্বপূর্ণ সেটি জানার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার ফেসবুক অডিয়েন্স কোন ধরনের অ্যাড কপি, ইমেজ, কল টু অ্যাকশন পছন্দ করে আপনি কি সেটি জানেন?  যদি সেটি না জেনে অ্যাড রান করেন তবে আপনি ভালো রেজাল্ট পাবেন না। ভালো রেজাল্ট বলতে আমরা অ্যাড অবজেক্টিভের সেরা আউটকামকে বুঝি। 

আর সেরা রেজাল্ট তখনই পাওয়া সম্ভব যদি জেনেন আপনার অডিয়েন্স কি ধরনের অ্যাডকপি পছন্দ করে। কিন্তু সেটি এ/বি টেস্ট বা স্প্লিট টেস্টের মত অ্যাড টেস্টিং ফিচার ব্যবহার করে বের করা সময় সাপেক্ষ। তাহলে সমাধান কি? 

ফেসবুক তার ব্যবহারকারীদের একটি রেজাল্ট ওরিয়েন্টেড অ্যাড প্ল্যাটফর্ম দিতে কাজ করে যাচ্ছে, যার ফলে ২০২১ সালের জুন মাসে তারা একটি নতুন ফিচার ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজারে সংযুক্ত করে। 

এটি ফেসবুকে টার্গেট অডিয়েন্সের বিহেভিয়ার ট্রেন্ড পর্যবেক্ষণ করে তার জন্য সেরা অ্যাড কপি এলিমেন্টগুলোর কম্বিনেশন ডেলিভারি করে।      

ফেসবুক অ্যাডের জন্য Optimize Text Per Person ফিচারটি কি?

এটি ফেসবুক অ্যাড লেভেলে থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি ফিচার। যখন এটি অন করা থাকে সেই সময় ফেসবুকের অ্যাড কপি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অটোমেটিকভাবে স্থানান্তরিত হতে পারে।

অর্থাৎ অ্যাডের হেডলাইন, প্রাইমারি টেক্সট ও ডেসক্রিপশন প্রতিটি অডিয়েন্সের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কম্বিনেশনে প্রদর্শিত হয়। 

যেমনটি উপরের চিত্রে দেখতে পাচ্ছেন। ফেসবুকের অ্যাড অ্যালগরিদম অডিয়েন্সদের ইতিপূর্বের অ্যাডের সাথে এঙ্গেজ হবার ধরন দেখে কাকে কোন ধরনের কম্বিনেশনে অ্যাড কপি প্রদর্শন করবে সেটি নির্ধারণ করে। 

এটি জটিল গানিতিক প্রক্রিয়া যা ফেসবুকের একটি দারুন ইনোভেশন। তবে এই প্রক্রিয়া পূর্বের অ্যাডিশনাল হেডলাইন, ডেসক্রিপশন ও প্রাইমারি টেক্সট অপটিমাইজেশন প্রক্রিয়ার মতই। 

পার্থক্য শুধু,  পূর্বে অ্যাড কপিগুলো একই ফিল্ডে অল্টারনেটিভ কম্বিনেশনে প্রদর্শিত হতো আর এখন এটি নিজ ফিল্ড থেকে অন্য ফিল্ডে সুইচ করে আরো অ্যাডভান্সড কম্বিনেশন তৈরি করে। 

Optimize Text Per Person বনাম  Multiple Ad Text Variations

ডায়ানামিক অ্যাড অপশনের জন্য একই অ্যাডে সেভারেল  হেডলাইন, ডেসক্রিপশন ও  প্রাইমারি টেক্সট দেবার সুযোগ থাকে। ফেসবুক অডিয়েন্সদের জন্য প্রতি ফিল্ডের জন্য বেস্ট অপশন সিলেক্ট করে অ্যাড কপি প্রদর্শন করে। এটি Multiple Ad Text Variations

 

অন্যদিকে Optimize Text Per Person এই কম্বিনেশন প্রসেসকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। এটি হেডলাইন, ডেসক্রিপশন ও প্রাইমারি টেক্সট কপিগুলোকে একে অপরের স্থানে রিপ্লেস করে কম্বিনেশন তৈরি করে একজন অডিয়েন্সকে এঙ্গেজ করার সেরা চেষ্টা করে।

যেহেতু ফেসবুক জানে কোন অডিয়েন্স কি ধরনের অ্যাড কপি বা কল টু একশন পছন্দ করে, সেই ডেটা ব্যবহার করে তাকে সেই কম্বিনেশনে অ্যাড প্রদর্শন করে। 

মনে রাখা প্রয়োজন, ডায়ানামিক ক্রিয়েটিভ ও Optimize Text Per Person আলাদা বিষয়। এর মূল পার্থক্য হচ্ছে, ডায়ানামিক ক্রিয়েটিভ ফিচারে অ্যাড এলিমেন্ট স্থান পরিবর্তন করেনা কিন্তু Optimize Text Per Person ফিচারে  এলিমেন্ট স্থান পরিবর্তন করে। 

ফেসবুক অ্যাডে Optimize Text Per Person এর বেনিফিট

ইফেক্টিভ অ্যাড মেকিং এর জন্য Optimize Text Per Person একটি দারুন উপকারি ফিচার। অ্যাড কপি ধাপে ধাপে টিউন করার ঝামেলাকে একেবারে দূর করেছে এই ফিচার। 

ক্যাম্পেইন সেটআপের সময় কমিয়ে আনে

এটি দ্বারা কম সময়ে দুর্দান্ত অ্যাড ক্যাম্পেইন সেট করা যায়। একটি ফাইন টিউন অ্যাড তৈরি করা সময় সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। প্রতিবার অ্যাড তৈরি করার সময়  একটি নির্দিষ্ট  অডিয়েন্স গ্রুপের জন্য  হেডলাইন ডেস্ক্রিপশন এবং প্রাইমারি টেক্সটের কি ধরনের কম্বিনেশন কাজ করে তা বের করা সহজ নয়।  

এক্ষেত্রে Optimize Text Per Person প্রতিবার অ্যাড প্লেস করার সময় অডিয়েন্সের এনগেজমেন্টের ধরনের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন কম্বিনেশনে অ্যাড প্রদর্শন করে।  এতে করে অতি অল্প সময়ে একটি দুর্দান্ত ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন সেট করা যায়।

অ্যাড কপির জন্য এ/বি টেস্টিং করার প্রয়োজন হয় না

অ্যাড তৈরি করার সময় সাধারণত এ/বি টেস্টিং এর মাধ্যমে আমরা সবচেয়ে সফল অ্যাড কপিগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে থাকি। সেজন্য আমাদের প্রতিটি অ্যাড কপির জন্য আলাদাভাবে এ/বি টেস্টিং করার প্রয়োজন পড়ে না।  

Optimize Text Per Person আমাদের এ/বি টেস্টিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেরা এক কপি বের করার প্রক্রিয়াকে লাঘব করে। শুধুমাত্র ভিন্ন ভিন্ন অ্যাড কপি একসাথে দিয়ে টেক্সট অপ্টিমাইজেশন ফিচার অন করে দিলে ফেসবুক নিজে থেকে সেরা অ্যাড কম্বিনেশন তৈরি করে অডিয়েন্সদের প্রদর্শন করে। এতে করে আলাদাভাবে এ/বি টেস্ট করার প্রয়োজন হয় না।

অডিয়েন্স রিসার্চ সহজ করে  

আপনি চান আপনার অডিয়েন্স সেরা মেসেজটি গ্রহণ করুক। আর সেজন্য আপনি তাদেরকে নিয়ে প্রচুর রিসার্চ করে থাকেন। তাদের ইন্টারেস্ট, ডেমোগ্রাফিক ক্যারেক্টারিস্টিক, তাদের এনগেজমেন্ট প্যাটার্ন ইত্যাদি নিয়ে আপনাকে প্রতিনিয়ত রিসার্চ করতে হয়।  Optimize Text Per Person এই প্রক্রিয়াকে আরো এক ধাপ ওপরে নিয়ে যায়। 

আপনাকে যা করতে হয় তা হচ্ছে, একটি অ্যাড এর জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের এক কপি তৈরি করে সেটি রান করতে হবে এবং সেজন্য Optimize Text Per Person অন করে দিবেন।  

ফেসবুক সেখান থেকে সেরা কম্বিনেশন তৈরি করে অডিয়েন্সের প্রদর্শন করবে।আপনি সেখান থেকে আপনি খুব সহজেই খুজে পেয়ে যাবেন সেরা অ্যাড কপির কম্বিনেশন যা আপনার অডিয়েন্স সবথেকে বেশি পছন্দ করছে। 

পরবর্তী সময়ে এই কম্বিনেশন গুলোকে মাথায় রেখে আরো ইফেক্টিভ অ্যাড তৈরি করা আপনার জন্য সহজ হয়। অর্থাৎ অডিয়েন্স সম্পর্কে জানার জন্য গবেষণা প্রক্রিয়াকে  ফেসবুকের এই ফিচার সহজ করে দেয়।  

সেরা ফলাফল পাওয়া যায়

Optimize Text Per Person ব্যবহারের ফলে ফেসবুক যেহেতু সেরা অ্যাড কপির কম্বিনেশন অডিয়েন্সের সামনে উপস্থাপন করে তাই সেই অ্যাড থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল নিয়ে আসা সম্ভব হয়। এতে করে মার্কেটিং এক্সপার্টদের জন্য সেরা অ্যাড কপি তৈরি এবং টেস্ট করার জন্য বেশি পরিশ্রম করতে হয় না।  

ইনক্রিজ রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট

যখন আপনার ফেসবুক অ্যাড কপি দুর্দান্ত পারফর্ম করে তখন সেখান থেকে ট্রাফিক, কনভার্শন ও এঙ্গেজমেন্ট সর্বোচ্চ পরিমাণে নিশ্চিত হয়। এতে করে ফেসবুক এড এর জন্য খরচ করা টাকার বিপরীতে আরো বেশি রিটার্ন 

 

ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইনের জন্য Optimize Text Per Person ব্যবহার করার নিয়ম

প্রথমেই আপনাকে অ্যাড ম্যানেজারের ক্যাম্পেইন লেভেল থেকে দুটি অবজেক্টিভ থেকে যেকোনো একটি সিলেক্ট করে নিতে হবে।  বর্তমানে শুধুমাত্র ট্রাফিক এবং কনভার্শন অবজেক্টিভ এর জন্য Optimize Text Per Person ফিচারটি ব্যবহারযোগ্য। ফেসবুকের মোট ১১ টি অবজেক্টিভ এর সবগুলর জন্য এখনও একটি কার্যকর হয়নি।

অ্যাড সেট লেভেলে প্রয়োজনীয় প্যারামিটারগুলো নির্ধারণ করুন 

অবজেক্টিভ নির্ধারণ করার পরের ধাপে অ্যাড সেট লেভেল আসে যেখানে টাইম, ডিউরেশন, বাজেট, প্লেসমেন্ট, রেজাল্ট অপটিমাইজেশন ইত্যাদি বিষয়গুলোর সেট করতে বলা হয়। এই লেভেলে আপনাকে ডিটেলস টার্গেটিং সেট করার অপশন দেয়। আপনাকে অবজেক্টিভের উপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় প্যারামিটারগুলো সেট করে নিতে হবে।

লক্ষনীয় যে, এই লেভেলে ডায়নামিক অ্যাড অপশন রয়েছে। যখন আপনি চিন্তা করবেন Optimize Text Per Person ফিচার ব্যবহার করার সেই মুহূর্তে ডায়নামিক অ্যাড অপশনটি অবশ্যই বন্ধ রাখবেন।

এবারে অ্যাড সেটআপ করুন

এখন আপনাকে ইমেজ, টেক্সট এবং কল টু একশন বাটন সেট করতে বলা হবে। এ পর্যায়ে এসে আপনার অ্যাড কপিগুলো নির্দিষ্ট স্থানে সেট করে নিন। লক্ষ্য করলে দেখবেন প্রতিটি পর্যায়ে একটি অপশনাল ফিল্ড রয়েছে। আপনাকে কমপক্ষে একটি অপশনাল ফিল্ড অবশ্যই ব্যবহার ব্যবহার করতে হবে, এর বেশি করলে আরো ভালো।

 গ্রাফিক, টেক্সট কল টু অ্যাকশন সবগুলো সঠিকভাবে ফিলাপ করার পরে Optimize Text Per Person বাটনটি অন করে দিবেন।

এখন আপনার অ্যাড ক্যাম্পেইনটি অপটিমাইজ টেক্সট পার পারসনের সাথে অ্যাড কপিগুলোকে সেরা কম্বিনেশনে ডেলিভারি করার জন্য রেডি। 

ফলাফল দেখুন 

অ্যাড ক্যাম্পেইনটি রান হবার পর সেটি কয়েকদিন চলতে দিন। এরপরে অ্যাড ম্যানেজারে গিয়ে  অ্যাড ক্যাম্পেইনটি সিলেক্ট করুন, 

এখন রিপোর্ট অপশনে যান এবং সেখান থেকে অ্যাড কপির টেক্সট, হেডলাইন বা ডেসক্রিপশন যেটি আপনার প্রয়োজন সেটি সিলেক্ট করে সে সম্পর্কে তথ্য দেখুন। 

খেয়াল করবেন ভিন্ন ভিন্ন অ্যাড কপির কম্বিনেশনগুলোর মধ্যে কোন কম্বিনেশনগুলো সব থেকে বেশি ফলাফল নিয়ে এসেছে,  সেই কম্বিনেশনগুলো পরবর্তী অ্যাড ক্যাম্পেইনের  জন্য ব্যবহার করুন। 

এতে করে আপনি ফেসবুক অ্যাড থেকে আরো ভালো ফলাফল নিয়ে আসতে সক্ষম হবেন। 

ফেসবুক অ্যাডের জন্য কখন Optimize Text Per Person ব্যবহার করবেন

প্রথমত চারটি কারণে ফেসবুক অ্যাড এর জন্য Optimize Text Per Person ফিচারটি ব্যবহার করতে পারেন।

১) যদি আপনার অ্যাডের মেসেজটি ফ্লেক্সিবল হয় । অর্থাৎ একটি অ্যাডের মাধ্যমে দিয়ে যদি কোনো একটি মেসেজ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইলে।  সেক্ষেত্রে সেই মেসেজটি কোথায় প্রদর্শিত হবে সে বিষয়ে আপনার বাঁধাধরা বিধিনিষেধ না থাকে তবে এ ফিচারটি ব্যবহার করা উপযুক্ত। 

২) যদি শুধুমাত্র অ্যাড কপি টেস্ট করার প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আপনি এই ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। যেমন ধরুন, আপনি জানেন আপনার অডিয়েন্স কোন কল টু একশন এবং গ্রাফিক পছন্দ করে, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র অ্যাড কপির টেস্ট করার  জন্য এই অপশনটি আদর্শ।  

৩) আপনি যদি আপনার অ্যাড কপিগুলোর জন্য একটি পারফেক্ট কল টু একশন খুঁজে বের করতে চান, তাহলে Optimize Text Per Person ফিচারটি আপনার জন্য আদর্শ। 

৪) এই মুহূর্তে কোন ধরনের কন্টেন্ট ট্রেন্ড অডিয়েন্স বেশি পছন্দ করছে সেটি খুঁজে বের করতে হলে Optimize Text Per Person ফিচারটি আপনার জন্য দারুন অপশন। 

পরিশেষে,

দ্রুততম সময়ে কোন ধরনের অ্যাড এলিমেন্টগুলোর কম্বিনেশন সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করছে সেটি জানতে Optimize Text Per Person আদর্শ উপায়। ফেসবুকের এই উইনিক ফিচারটি অডিয়েন্সদের জন্য সবচেয়ে রেলেভেন্ট অ্যাড কপি ডেলিভারি করার মাধ্যমে অ্যাড থেকে সেরা রিটার্ন নিয়ে আসতে সাহায্য করে। 

আপনি কি আপনার ফেসবুক অ্যাডের জন্য এই ফিচারটি ব্যবহার করেছেন? আপনার মতামত জানিয়ে কমেন্ট করুন। 

Facebook Brand Safety Tools: ব্র্যান্ড ইমেজের সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রিত অ্যাড প্লেসমেন্ট

Facebook Brand Safety Tools: ব্র্যান্ড ইমেজের সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রিত অ্যাড প্লেসমেন্ট

Brand Safety Tools এমন একটি ফিচার যা আপনাকে আরো নিয়ন্ত্রিত উপায়ে ফেসবুক অ্যাড পরিচালনার সুযোগ দেয়। ফেসবুকের লাখো পেজ, ওয়েবসাইট ও কন্টেন্টের মাঝে আপনার অ্যাডগুলো রান্ডম উপায়ে প্রদর্শিত হতে থাকে। 

ধরুন, একটি ধর্মীয় অনুভুতির সাথে সম্পর্কিত প্রোডাক্টের অ্যাড যদি কোন নৃশংস হত্যাকাণ্ড বা নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত হয় তবে নিশ্চয় সেটি আপনি চাইবেন না। 

যদি চান আপনার ব্র্যান্ড ভ্যালুর সাথে ম্যাচ করে না এমন স্থানগুলোতে আপনার ফেসবুক অ্যাডগুলো প্রদর্শিত না হোক, তাহলে কি উপায়?  

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি জানবেন, কিভাবে Brand Safety Tools অনাকাঙ্ক্ষিত স্থান গুলোতে আপনার অ্যাড প্রদর্শন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

আপনি দেখতে পাবেন অ্যাড গুলো ফেসবুকের কোন কোন স্থান গুলোতে প্রদর্শিত হয়েছে এবং যদি চান অ্যাডগুলো ফেসবুক ইকোসিস্টেমের কিছু নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে না দেখাতে, তবে সেগুলো খুব সহজেই ব্লক করতে পারবেন।

কিভাবে Brand Safety Tools এক্সেস করবেন

আপনি যখন জানবেন আপনার ফেসবুক অ্যাড গুলো কোথায় কোথায় প্রদর্শিত হচ্ছে, ঠিক তখনই আপনি সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন। সেজন্য আপনাকে প্রথমে যেটি করা লাগবে তা হচ্ছে, ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজারে গিয়ে “নাইন ডট” মেনুতে ক্লিক করে সেখান থেকে ব্র্যান্ড সেফটি অপশনটি ক্লিক করবেন। 

তাহলে নিচের ছবির মত একটি ট্যাব আপনার সামনে ওপেন হবে।

 

 

ALT

ব্যান্ড সেফটি ড্যাশবোর্ডে ডান দিকের অংশে আপনি দেখতে পাবেন, ওভারভিউ, কন্ট্রোল, ব্লক লিস্ট, পাবলিশার লিস্ট, এবং ডেলিভারি রিপোর্ট। যেমনটি নিচের ছবিতে দেখা যাচ্ছে। 

ALT

Brand Safety Tools আপনার বিজনেস ম্যানেজারের অ্যাড অ্যাকাউন্ট লেভেল থেকে পরিচালিত হয় অর্থাৎ আপনি যদি মাল্টিপল অ্যাড একাউন্ট ম্যানেজ করে থাকেন তাহলে কোন অ্যাড একাউন্ট এর বিপরীতে Brand Safety Tools টি ব্যবহার করতে চান তা ড্রপ ডাউন মেনু থেকে সিলেক্ট করে নিবেন।

ALT

এখন চলুন দেখে নেয়া যাক, কিভাবে এটি ব্যবহার করে আপনার অ্যাড প্লেসমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করবেন।  

সেনসিটিভ কনটেন্টগুলোতে আপনার অ্যাড দেখানো বন্ধ করতে 

যখন আপনি কন্ট্রোল ট্যাবটি ওপেন করবেন তখন “কারেন্ট ইনভেন্টরি ফিল্টার” অপশনটি দেখতে পাবেন। 

সেখানে “স্ট্যান্ডার্ড ইনভেন্টরি ফিল্টার” নামে একটি অপশন পাবেন যেটি সাধারণত Brand Safety Tools এর জন্য ডিফল্ট সেটিং। এর বাইরে আরও দুটি অপশন রয়েছে যেখান থেকে আপনি পছন্দমত অপশন বেছে নিতে পারবেন। 

এখন আপনি যদি চান আপনার অ্যাড ফেসবুকের আগ্রেসিভ ভিডিও কনটেন্ট গুলোতে ওভারলে হিসেবে না প্রদর্শিত হোক, সে ক্ষেত্রে আপনি “লিমিটেড ইনভেন্টরি সেটিংস” অপশনটি সিলেক্ট করে দিবেন। 

কোন অ্যাড প্লেসমেন্টগুলোতে অ্যাড দেখানো ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য ক্ষতিকর সে বিষয়ে যদি আপনার সঠিক ধারনা না থাকে, তাহলে “ফুল ইনভেন্টরি অপশন” সিলেক্ট করুন।

ALT

আপনি যদি মাল্টিপল অ্যাড একাউন্ট ম্যানেজ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে “ইনভেন্টরি ফিল্টার ওভারভিউ” ট্যাব থেকেই দ্রুত আপনি ইনভেন্টরি ফিল্টার অপশনগুলো সেট করে নিতে পারবেন। 

ALT

নির্দিষ্ট ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে আপনার অ্যাড দেখানো বন্ধ করতে 

অ্যাড দেখানো বন্ধ করতে, আপনি যদি ইতিপূর্বে অ্যাড প্লেসমেন্টের জন্য একটি ব্লক লিস্ট করে থাকেন, সেক্ষেত্রে কন্ট্রোল অপশনে আপনার সেই ব্লক করা স্পেসিফিক পেজগুলো প্রদর্শিত হবে। 

যদি একটি ব্লক লিস্ট তৈরি করতে চান, সেই ক্ষেত্রে TXT, CSV ফাইলের মাধ্যমে ব্লক করতে চাওয়া ওয়েবসাইটের ডোমেইন এবং অ্যাপ স্টোর Url গুলো ইনক্লুড করে একটি লিস্ট করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ফেসবুক পেজের ইনস্ট্রিম ভিডিও, ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল গুলোতে অ্যাড দেখানো বন্ধ করতে সেই পেজের Url গুলিও যুক্ত করতে পারবেন।

আপনি যদি না জেনে থাকেন কোন স্থানগুলোতে অ্যাড দেখানো বন্ধ করবেন, তাহলে ফেসবুক পাবলিশার লিস্ট ডাউনলোড করে নিতে পারেন। যেখানে ফেসবুক অ্যাডগুলো কোথায় কোথায় প্রদর্শিত হয় তার একটি সম্পূর্ণ তালিকা আছে।

এটি করার জন্য পাবলিশার লিস্ট ট্যাবে গিয়ে “ডাউনলোড পাবলিশার লিস্ট” এ ক্লিক করে তালিকাটি ডাউনলোড করে নিবেন। 

ALT

আপনি যখন ব্লক লিস্ট এর জন্য ফাইল তৈরি করে নিবেন এরপরে সেটি ফেসবুকের আপলোড করতে হবে।

ALT

সেজন্য ব্র্যান্ড সেফটি টুলসের “ব্লক লিস্ট ট্যাবে” যাবেন সেখান থেকে “ক্রিয়েট ব্লকলিস্ট অপশন” এ ক্লিক করে সেখানে ড্রাগ অ্যান্ড ড্রপ এর মাধ্যমে ফাইল গুলো আপলোড করে দিবেন।  তারপর “ক্লিক টু আপলোড” বাটনে ক্লিক করে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবেন। 

ALT

 

 

কোন নির্দিষ্ট ভিডিওতে কিভাবে আপনার অ্যাড দেখানো বন্ধ করবেন

ব্র্যান্ড সেফটি ড্যাশবোর্ডের কন্ট্রোল ট্যাবে আপনি খুঁজে পাবেন কোন কোন বিষয়গুলো আপনি এক্সক্লুড করতে চান।

যেখানে আপনি দেখতে পাবেন, ইনস্ট্রিম ভিডিও রিলেটেড গেমস, নিউজ, পলিটিক্স অ্যান্ড রিলিজিয়ন এবং স্পিরিচুয়ালিটি বিষয়ক টপিক। 

এখান থেকে কোন কোন টপিকগুলোতে অ্যাড ব্লক করতে চান সেগুলো ক্লিক করে নির্দিষ্ট করে দিবেন।

ALT

ফেসবুক অ্যাডগুলোর প্লেসমেন্ট সম্পর্কে অবগত হতে ডেলিভারি রিপোর্ট ডাউনলোড করুন 

আপনার অ্যাড গুলো পূর্ববর্তী সময়ে কোথায় কোথায় প্রদর্শিত হয়েছে সেটি দেখার জন্য এই রিপোর্টটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

ALT

যেখানে সেসকল ডাটাগুলো উল্লেখ করা রয়েছে যেখানে আপনার অ্যাডগুলো ইতিপূর্বে প্রদর্শিত হয়েছে।

প্রথম ড্রপডাউন লিস্টে ক্লিক করে প্লেসমেন্টগুলো ফিল্টার করুন। যেমন, ফেসবুক ইন-স্ট্রিম ভিডিও, ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল, অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক ভিডিও ইত্যাদি। 

ALT

এবারে লিস্টগুলো মনোযোগ সহকারে খেয়াল করুন এবং সেখানে আপনি যদি এমন কোন প্লেস দেখতে পান যেখানে আপনার অ্যাডগুলো দেখানো হয়েছে কিন্তু আপনি সেটি চান না, তবে ব্লক লিস্টে সেটি অ্যাড করে নিন। 

ALT

পরিশেষে,

ফেসবুক ব্র্যান্ড সেফটি টুলসের মাধ্যমে আপনার অ্যাডগুলো কোথায় কোথায় দেখানো হবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এখান থেকে আপনি নির্ধারণ করতে পারবেন কোন ধরনের কনটেন্ট, ওয়েবসাইট, পেজ অথবা কোন স্পেসিফিক টপিক যেখানে আপনি আপনার অ্যাডগুলো দেখাতে চান না।

পাশাপাশি ইতিপূর্বে আপনার অ্যাড গুলো কোথায় প্রদর্শন করা হয়েছিল সেটি ডেলিভারি রিপোর্টের মাধ্যমে জানতে পারবেন। এতে করে আপনার অ্যাডগুলো এমন কোন স্থানে দেখানো হবে না যা আপনার ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য ক্ষতিকর। 

আরো পড়ুনঃ

A/B Testing: খুঁজে নিন বিজনেসের জন্য সবচেয়ে ইফেক্টিভ ফেসবুক অ্যাড আপ্রোচ

A/B Testing: খুঁজে নিন বিজনেসের জন্য সবচেয়ে ইফেক্টিভ ফেসবুক অ্যাড আপ্রোচ

A/B Testing: খুঁজে নিন বিজনেসের জন্য সবচেয়ে ইফেক্টিভ ফেসবুক অ্যাড আপ্রোচ

ই-কমার্স মার্কেটিং জগতে A/B Testing একটি সুপরিচিত শব্দ। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার পূর্বে বর্তমান সময়ের ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজস এর একটি উক্তি দিয়ে শুরু করবো।  

অ্যামাজনের সফলতার বিষয়ে বলতে গিয়ে জেফ বেজস বলেছিলেন, “অ্যামাজনে আমাদের সাফল্য হলো, আমরা প্রতি বছর, প্রতি মাসে, প্রতি সপ্তাহে, প্রতিদিন কতগুলি পরীক্ষা করি তার একটি সমন্বিত কর্মপদ্ধতি” 

কেন তিনি তার বিজনেসের সফলতার জন্য পরীক্ষা করে দেখা বিষয়টিকে এতো গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন? 

পরীক্ষা করা জরুরি কারণ আমরা সবাই ভুল করি। সেই ভুলগুলির মধ্যে কিছু ভুল খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাখে না, তবে কিছু ভুলের জন্য আপনাকে মূল্য দিতে হতে পারে।তাই আমরা যা তৈরি করছি, যা কিছু পরিচালনা করছি তা সব পরীক্ষা করতে হবে। 

মানুষ যে কোন সময় ভুল করতে পারে। আর যেখানে প্রশ্ন ফেসবুক কমার্শিয়াল অ্যাডের, ভুলের জন্য আপনি কোম্পানির টাকা কোনভাবেই জলে ফেলতে চাইবেন না। 

আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে, আপনার কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে।

A/B Testing কি? 

এটি হচ্ছে আপনার ফেসবুক অ্যাডের বিভিন্ন ভার্সনের তুলনামূলক পার্থক্য করার কৌশল, যা ভবিষ্যতের অ্যাড ক্যাম্পেইনগুলো পরিকল্পনায় কোনটি সবচেয়ে ভালো কাজ করছে বুঝতে সাহায্য করে।

কেন ফেসবুক অ্যাড টেস্টিং প্রয়োজন?

ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও মার্কেটিয়ারগন একটি অভিযোগ প্রায়ই করে থাকেন, “তাদের ফেসবুক অ্যাড ভালো পারফর্ম করে না।” 

তারা যখন ডিফারেন্ট অ্যাড ক্যাম্পেইন রান করে, তখন আগের অ্যাড থেকে পরের অ্যাডে একসাথে অনেকগুলো বিষয়ে পরিবর্তন নিয়ে আসেন। যার ফলে অ্যাডের ইফেক্টিভ অ্যাডজাস্টমেন্টগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা তারা কখনোই পান না। 

এর জন্য প্রয়োজন অ্যাড টেস্টিং, যা আমাদের খুঁজে পেতে সাহায্য করে সেই স্মল ইফেক্টিভ অ্যাডজাস্টমেন্টগুলো যা কারনে একটি ফেসবুক ক্যাম্পেইনের রেজাল্টে বিশাল পার্থক্য তৈরি হয়। 

ফেসবুক অ্যাডের কি কি টেস্ট করা প্রয়োজন?  

একটি সেরা ফেসবুক অ্যাড তৈরি করতে প্রথমে খুঁজে পেতে হবে আপনার অ্যাডের কোন বিষয়গুলো কাজ করছে আর কোনগুলো করছে না। এর জন্য প্রয়োজন অ্যাড টেস্ট। আর এই টেস্ট পরিচালনায় একটি অ্যাডের প্রতিটি পার্টিকুলার আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে টেস্ট করে দেখতে হবে। 

তাহলে আপনি অ্যাডের কোন পার্টিকুলারগুলো টেস্ট করবেন?

সেরা অ্যাড তৈরির জন্য ১১ টি অ্যাড পার্টিকুলার সম্পর্কে আলোচনা করবো যা আপনি টেস্ট করতে পারেন। এর বাইরেও আপনি আপনার দরকার মাফিক প্রয়োজনীয় পার্টিকুলার পরীক্ষা করতে পারেন যা হয়তো এই আলোচনায় নেই। 

১) হেডলাইন

অ্যাডের জন্য হেডলাইন টেস্ট করা অত্যাবশ্যক, কেন? হেডলাইনের উপর নির্ভর করা ৫০০% পর্যন্ত ট্রাফিক উঠানামা করে। একটি অ্যাড কপির জন্য ভিন্ন ভিন্ন হেডলাইন লিখুন, সেগুলো টেস্ট করুন, দেখুন কোন ধরনের হেডলাইনে কাস্টমার বেশি পরিমান এঙ্গেজ হচ্ছে। 

 

২) বডি কপি

অ্যাডের বডি কপি পরীক্ষা করে দেখুন। কেউ শর্ট কপি পড়তে ভালোবাসে, কেউ আবার লং কপি পছন্দ করে। কেউ ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট চায় তো আবার কেউ ফানি কন্টেন্ট পছন্দ করে। প্রয়োজন ভিন্ন ভিন্ন বডি কপি টেস্ট করে আপনার অডিয়েন্সদের জন্য আদর্শ ফরম্যাট খুঁজে নেয়া।

৩) কল টু একশন

অডিয়েন্সদের এঙ্গেজ করতে কল টু একশন অন্যতম একটি প্রভাবক।learn more, sign up, Send message ইত্যাদি কল টু একশনগুলো নিয়ে পরীক্ষা করে বের করতে হবে আপনার অডিয়েন্স কোন কল টু একশনে বেশি এঙ্গেজ হচ্ছে।

৪) এইজ গ্রুপ

ভিন্ন ভিন্ন এইজ গ্রুপে অ্যাড পরিচালনা করে দেখুন কোন গ্রুপটি আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে বেশি আগ্রহী ও ইফেক্টিভ। 

৫) মোবাইল ডিভাইস টাইপ

ফেসবুক ইউজারদের ডিভাইস টাইপ ইডেন্টিফাই করে পারে, যেমনঃ অ্যান্ডরয়েড, আই ও এস, উইনডোজ ইত্যাদি। পরীক্ষা করুন কোন ধরনের ডিভাইস ইউজার আপনার ব্র্যান্ড নিয়ে বেশি আগ্রহী।

৬) জেন্ডার

পুরুষ নাকি মহিলা? কোন জেন্ডারগ্রুপ আপনার অ্যাডে বেশি এঙ্গেজ হচ্ছে, জানা প্রয়োজন।

৭) মাল্টিপল বিহেভিওর

অডিয়েন্সদের বিহেভিওরগুলো নিয়ে পরীক্ষা করুন। দেখুন কোন ধরনের অডিয়েন্স বিহেভিওর আপনার অ্যাডের জন্য বেশি ইফেক্টিভ। 

৮) রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস

এটি পরীক্ষা করা জরুরি। ধরুন, আপনি উইডিং ফটোগ্রাফার। তাহলে আপনার টার্গেট কাস্টমার হবে তারা যারা রিলেশনশিপে আছে বা এঙ্গেজড। তবে এর বাইরে সিঙ্গেল স্ট্যাটাস ভুক্ত অদিয়েন্সও আপনার জন্য পটেনশিয়াল হতে পারে। কিন্তু কনফার্ম কিভাবে হবেন যে কোন রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস আপনাকে বিজনেস এনে দিবে? 

সহজ উত্তর, A/B testing 

৯) ইমেজ টেস্ট

আপনার কাস্টমার কোন ধরনের ইমেজ দেখতে পছন্দ করছে? সেটি কি সিম্পল ইমেজ নাকি টেক্সটযুক্ত ইমেজ। জানার উপায় হচ্ছে পরীক্ষা করে দেখা। 

১০)  কী ওয়ার্ড

ধরুন আপনি মেয়েদের ডিজাইন ড্রেস সেল করেন। ডিটেইল টার্গেটিং করার সময় আপনি অনেকগুলো টার্গেট কী ওয়ার্ড পাবেন যা মেয়েদের ডিজাইন ড্রেস সেল করার জন্য ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ Women’s clothing, Online shopping, Shopping and fashion ইত্যাদি। 

রিলেভেন্ট কী ওয়ার্ডগুলো A/B testing এর মাধ্যমে পরীক্ষা দেখতে হবে কোন কী ওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনি বেশি পরিমান সেল পাচ্ছেন। 

 

 

১১) অ্যাড ক্রিয়েটিভ টাইপ

ফেসবুক অ্যাডের জন্য ইমেজ অ্যাড ও ভিডিও অ্যাড ক্রিয়েটিভ ব্যবহার করতে পারেন। ফেসবুক দাবি করে, ভিডিও অ্যাডের পারফর্মেন্স সবচেয়ে ভালো, তবে আপনার অডিয়েন্স কোন ধরনের অ্যাড ক্রিয়েটিভে বেশি এঙ্গেজ হচ্ছে সেটি টেস্ট করার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। 

A/B Test এর বেস্ট প্র্যাকটিস

ভালো ফলাফলের জন্য শুধুমাত্র একটি বিষয়ের পরিবর্তন পরীক্ষা করুন 

আপনি যে ভেরিয়েবল পরীক্ষা করছেন সেটি বাদ দিয়ে আপনার বাকি অ্যাড সেটআপগুলি যদি একই হয়, তবে পরীক্ষার ফলাফল আরো স্পষ্ট জানা যায়।  

মেজারেবল হাইপোথেসিস এর উপর ফোকাস করুন

নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি অ্যাডের জন্য কি পরীক্ষা করতে চান? কোন ভেরিয়েবল গুলো পরীক্ষা করতে চান? কি ফলাফল প্রত্যাশা করেন? 

যদি এই প্রশ্নগুলো আপনি নিজেকে করেন, তবে আরো সফল ভাবে পরীক্ষা করা ও প্রতাশিত ফলাফল অর্জনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়েও সুস্পষ্ট ধরনা পাবেন। 

ধরুন, আপনি এইজ গ্রুপ পরীক্ষা করতে চান? তাহলে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন এইজের জন্য আলাদা অ্যাড সেট তৈরি করে সেই ভেরিয়েবলগুলো পরীক্ষা করতে হবে। এবার পরীক্ষা করার জন্য ২৫ থেকে ৩৫ ও ৩৫ থেকে ৪৫ দুটি আলাদা এইজ নিয়ে অ্যাড সেট করে পরীক্ষা করলেন। তাহলে আপনি স্পষ্টভাবে কোন এইজ গ্রুপ ভালো ফলাফল এনে দিচ্ছে সেটি জানতে পারবেন।

টেস্ট করার জন্য একটি আইডিয়াল অডিয়েন্সগ্রুপকে বেছে নিন

অ্যাড ভেরিয়েবলগুলো টেস্ট করার পূর্বে অবশ্যই একটি বড় অডিয়েন্সগ্রুপকে বেছে নিবেন। সেই গ্রুপকে টার্গেট করে ভিন্ন ভিন্ন ভেরিয়েবল টেস্ট করলে ঐ নির্দিষ্ট অডিয়েন্স গ্রুপের জন্য অ্যাডের কোন পরিবর্তনগুলো ভালো কাজ করছে সেটি বের করা সহজ হয়।

সময়সীমা নির্ধারণ করুন  

A/B Test করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা দরকার। সর্বনিম্ন ৭ দিন ও ঊর্ধ্বে ৩০দিন সময়কে বেছে নিন তবে এর বেশি নয়। আপনার প্রোডাক্টের ধরন ও কাস্টমারদের বায়িং বিহেভিওরের নির্ভর করে টেস্টের সময় নির্ধারণ করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি ফাস্ট সেলিং গুডস হয় তবে কম সময়সীমা নির্ধারণ করবেন আর যদি স্লো সেলিং গুডস হয় তবে বেশি সময়সীমা। 

আদর্শ বাজেট সেট করুন

বাজেটের জন্য অ্যাডের ফলাফলে বিশাল পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। তাই যখন একটি ভেরিয়েবল টেস্ট করবেন সেই সময় বাজেট হতে হবে আদর্শ। এখন আদর্শ বাজেট কোনটি? যদি বাজেট নিয়ে আপনার ধারনা না থাকে তবে ফেসবুকের সাজেস্ট করা বাজেট সেট করে পরীক্ষা করতে পারেন। আর যদি আপনার অ্যাড বাজেট বিষয়ে পূর্ব ধারনা থাকে, তবে সেটি ব্যবহার করে অ্যাড পরীক্ষা করুন।

১ লাখের উপরে অডিয়েন্স গ্রুপে পরীক্ষা চালানোর জন্য মিনিমাম ৫ ডলার ডেইলি বাজেট দিয়ে শুরু করুন। অবজেক্টিভ যদি মেসেজ কনভার্সন হয় তবে ৫ ডলারের বেশি কিন্তু ১০ ডলারের কম ডেইলি বাজেট দিয়ে পরীক্ষা করুন। 

(নোটঃ উল্লেখিত বাজেট ধারনা দেবার জন্য প্রদত্ত। অবজেক্টিভ, অডিয়েন্স গ্রুপ সাইজ ও টাইমের উপর নির্ভর করে বাজেট নির্ধারণ করা আদর্শ পদ্ধতি)

A/B Testing এর সাকসেস স্টোরি

জার্মান ফ্যাশান ব্র্যান্ড “পিটার হান” নতুন কাস্টমারদের সাথে এঙ্গেজ হবার জন্য A/B Test ব্যবহার করার পরে তাদের  সেরা অ্যাড ক্রিয়েটিভ আপ্রোচ খুঁজে পায়, যা তাদের অ্যাড খরচ ৫৫% কমিয়ে আনে।

তাদের অর্জনগুলো হচ্ছে, 

  • অর্ডার প্রতি ৫৫% খরচ কমিয়ে নিয়ে আসা
  • অ্যাড বাজেটের বিপরীতে ৯৮% বেশি রিটার্ন পাওয়া
  • ১৮% বেশি ক্লিক থ্রু রেট পাওয়া

তাদের বিজনেস শুরুর গল্প 

পিটার হান ১৯৬৪ সালে বিজনেস শুরু করেছিলেন।তারা বিদেশী লামা ফাইবার থেকে তৈরি জ্যাকেট, কোট এবং কম্বল তৈরি এবং বিক্রি করতেন। আজকের সময়ে কোম্পানিটি ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ধনী মহিলাদের জন্য উচ্চমানের ফ্যাশন এবং এক্সসেসরিজ বিক্রয়কারী শীর্ষস্থানীয় ইউরোপীয় মাল্টিচ্যানেল রিটেলারদের মধ্যে অন্যতম একটি কোম্পানি।পিটার হান নিজেদের একটি প্রাকৃতিক ফাইবার বিশেষজ্ঞ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তাদের লক্ষ্য

পিটার হান তার রেগুলার কাস্টমারদের সংখ্যা আরো প্রসারিত করতে এবং নতুন অডিয়েন্সদের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে তারা রেগুলার কাস্টমারদের ছাড়াও অল্প বয়স্ক কাস্টমারদের এঙ্গেজ করতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। 

সমাধান

নতুন কাস্টমারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তারা ইমোশনাল স্টোরি টেলিং আপ্রোচ ব্যবহার করে ফেসবুক ও ইন্সট্রাগ্রামে  ভিডিও অ্যাড দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। 

ইমোশনাল স্টোরি টেলিং অ্যাড তৈরি করার জন্য “পিঁটার হান” তাদের মার্কেটিং পার্টনার এবং মোবাইল ভিডিও বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞ “শাটলরক” এর সহযোগিতায় সেরা অ্যাড ক্রিয়েটিভ আপ্রোচ খুঁজে পেতে  A/B Test করার পরিকল্পনা করে।

তারা তিন ধরনের অ্যাড ফরম্যাট টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়।

  1. ইমেজ অ্যাড
  2. ইমেজ+টেক্সট
  3. ইমেজ+টেক্সট+ মিউজিক

তারা ১০৮ দিনের এঙ্গেজ কাস্টমারদের জন্য ১% লুকালাইক অডিয়েন্সকে টার্গেট করেন ও অবজেক্টিভ নির্ধারণ করেন “কনভার্সন।” যেখানে কাস্টমার ক্লিক থ্রু এর মাধ্যমে নতুন কালেকশন এক্সপ্লোর করবে। 

তাদের সফলতা 

স্প্লিট টেস্টিং ব্যবহার করে পিটার হান নতুন কাস্টমারদের এঙ্গেজ এবং সেরা কার্যকরী অ্যাড ক্রিয়েটিভ চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। 

২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর এর মধ্যেকার চার সপ্তাহের ক্যাম্পেইনে দেখা যায়, ইমেজ+টেক্সট+ মিউজিক অ্যাড ফরম্যাট অন্যান্য অ্যাড ক্রিয়েটিভগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ফলাফল নিয়ে এসেছে। 

তারা এই  ক্যাম্পেইন থেকে যা অর্জন করেন তা হলো, 

  • অর্ডার প্রতি ৫৫% খরচ কমিয়ে নিয়ে আসেন
  • অ্যাড বাজেটের বিপরীতে ৯৮% বেশি রিটার্ন আনতে সক্ষম হোন
  • ১৮% বেশি ক্লিক থ্রু রেট অর্জন করেন 

পিটার হান ফেসবুকের যে প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার করেন তা হচ্ছে,

  • ভিডিও অ্যাড
  • ইন্সট্রাগ্রাম
  • অ্যাডস ইন স্টোরি
  • লুকালাইক অডিয়েন্স
  • অডিয়েন্স ইন্সাইট
  • ফেসবুক মার্কেটিং পার্টনার

“পিটার হান” এর অনলাইন মার্কেটিং ম্যানেজার “মারা কেলচ” A/B Testing বিষয়ে বলেন,  

A/B Testing দ্বারা শাটলরকের সাথে পরিকল্পনা করা গল্প দিয়ে তৈরি অ্যাড আমাদের অনেক মূল্যবান ইন্সাইট প্রদান করে। ফেসবুকের মোবাইল ওয়ার্কস প্রোগ্রাম আমাদের দেখিয়েছে কিভাবে গল্প নির্ভর অ্যাড তৈরি করতে হয়, যা কাস্টমারের আবেগকে ছুঁয়ে যায়। একই সাথে এই অ্যাড আমাদের টার্গেট গ্রুপকে কেনাকাটায় উৎসাহিত করে। এখন আমরা আরো কার্যকর অ্যাড ক্যাম্পেইন চালাতে পারি এবং নতুন কাস্টমারদের নিয়ে আসতে পারি।

পরিশেষে,

একই ধরনের অ্যাড মেকিং ফর্মুলা সব বিজনেসের জন্য কার্যকর হবে এমনটি ভাবা ঠিক না। আপনাকে ক্রমাগত প্রতিটি বিষয়ে পরীক্ষা করতে হবে, আর খুঁজে বের করতে হবে আপনার বিজনেসের জন্য উপযুক্ত অ্যাড ক্যাম্পেইন তৈরির ফর্মুলা। 

যদি ফেসবুক অ্যাডের জন্য কম খরচে অধিক কার্যকর পদ্ধতি খুঁজে পেতে চান তবে অ্যাডের সকল পার্টিকুলার আলাদা ভাবে পরীক্ষা করে দেখুন যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে না পারেন। এটি একটি সফল অ্যাড তৈরি করার মূলমন্ত্র যা সেরা ব্র্যান্ডগুলো অনুসরণ করে। 

প্রোডাক্ট প্রাইসিংঃ বিজনেসের বিক্রি বৃদ্ধিতে ৯টি রিসার্চ বেজড স্ট্রাটেজি

প্রোডাক্ট প্রাইসিংঃ বিজনেসের বিক্রি বৃদ্ধিতে ৯টি রিসার্চ বেজড স্ট্রাটেজি

প্রোডাক্ট প্রাইসিং নিয়ে দারুন কিছু কৌশল জানার পূর্বে চলুন “চয়েস” নিয়ে একটি রিসার্চ সম্পর্কে জানবো। বলা হচ্ছে, কাস্টমারদের অনেক বেশি চয়েস দেয়া হলে, তাদের কেনার সম্ভাবনা ১০ গুণ কমে যায়।

কলম্বিয়ার অধ্যাপক, Sheena Iyengar “চয়েস” নিয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে পড়াশোনা করছেন। তিনি তার গবেষণাপত্র  “When Choice is Demotivating বা “ চয়েস যখন নিরুৎসাহিত করে” এর জন্য একটি চমৎকার পরীক্ষা চালান ।  

একটি গ্রোসারি স্টোরে তারা একটি ফ্রি টেস্টিং বুথ স্থাপন করেন, সেখানে তারা ছয়টি ভিন্ন ধরনের জ্যাম রাখেন। দেখা যায়,  ৪০% কাস্টমার সেই বুথে আসে ও জ্যাম টেস্ট করে। তাদের মধ্যে ৩০% কাস্টমার জ্যাম কিনে। 

এক সপ্তাহ পরে, আবার তারা ঐ একই স্টোরে ফ্রি টেস্ট বুথ স্থাপন করে, কিন্তু এবার তারা ২৪ টি ভিন্ন ধরনের জ্যাম রাখেন। দেখা যায়, এবারে প্রায় ৬০% কাস্টমার সেই বুথে এসে জ্যাম টেস্ট করেন, কিন্তু মাত্র ৩% কাস্টমার সেখান থেকে জ্যাম কেনেন। 

তাহলে কাস্টমার বেশি থেকেও কেন ২৪ টি ভিন্ন ধরনের জ্যাম পূর্ণ বুথে কম সেল হলো? 

এই গবেষণা আমাদের যে সিদ্ধান্তে পৌছাতে সাহায্য করে তা হলো, 

১. বেশি চয়েস করার অপশন দিলে তা কাস্টমারদের আকর্ষণ করে। যে কারনে ২৪ টি ভিন্ন ধরনের জ্যাম বুথে মানুষের ভিড় বেশি ছিলো।

২. কম চয়েস করা অপশন দিলে কাস্টমার বেশি কিনে। ফলে ৬ ভিন্ন ধরনের জ্যাম বুথে কাস্টমার কম থাকলেও সেল বেশি ছিলো। 

প্রোডাক্ট প্রাইসিং স্ট্রাটেজি ইচ্ছেমাফিক হবার চেয়ে সাইন্টিফিক হওয়া বেশি জরুরি। বিজনেসের প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের প্রাইস নির্ধারণে কিছু রিসার্চ বেজড প্রাইসিং স্ট্রাটেজি নিয়ে বলবো। যা প্রোডাক্ট প্রাইসিং এর মানদণ্ডে আপনাকে প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে রাখবে।         

৯ টি রিসার্চ বেজড প্রোডাক্ট প্রাইসিং কৌশল 

কঞ্জুমার বিহেভিওরের উপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে প্রোডাক্ট প্রাইসিং এর এই ৯ টি স্ট্রাটেজি। কিভাবে প্রোডাক্টের ইফেক্টিভ প্রাইস নির্ধারণ করা যায় সে সম্পর্কে এই রিসার্চ বেজড স্ট্রাটেজিগুলো আপনাকে ক্লিয়ার ইন্সাইট দিবে। 

১) একই রকম সেলস প্রাইস  

একই প্রোডাক্টের অনেকগুলো বিকল্প প্রাইস কাস্টমারদের কেনাকাটায় ডিমোটিভেট করে। তাই অনেকে হয়তো ভেবে নিবেন, একই ধরনের প্রোডাক্টের জন্য অভিন্ন প্রাইস নির্ধারণ কৌশল আদর্শ সমাধান, না সকল ক্ষেত্রে এটি ঠিক না।

Yale University এর একটি রিসার্চ পেপারে উঠে এসেছে, যদি দুটি কাছাকাছি ধরনের প্রোডাক্টের প্রাইস একই হয় তাহলে, ক্রেতাদের সেটি কেনার প্রবনতা ভিন্ন প্রাইসের একই ধরনের অন্য দুটি প্রোডাক্টগুলোর চেয়ে কম। 

একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, 

যখন ৬২ সেন্ট মূল্যের দুটি গামের প্যাকেটের মধ্যে থেকে কাস্টমারদের একটি পছন্দ করতে দেয়া হয়, তখন মাত্র ৪৬% কাস্টমার সেটি কিনেছে। বিপরীতে, গামের প্যাকেটগুলোর প্রাইস যখন আলাদা ছিল, যেমন, একটি ৬২ সেন্ট ও অন্যটি ৬৪ সেন্ট তখন ৭৭% কাস্টমার সেটি কিনেছে। 

অর্থাৎ প্রাইসের ভিন্নতায় সেল বাড়ে। 

প্রোডাক্ট প্রাইসিং

২) প্রাইস অ্যাংকরিং

কল্পনা করুন, আপনার শহরের কোন বাড়িটি সবচেয়ে ছোট। খেয়াল করবেন এটি কল্পনা করার সময়ে আপনি সেই ছোট বাড়িটিকে কোন একটি বড় বাড়ির সাপেক্ষে তুলনা করছেন। এটি হচ্ছে প্রাইস অ্যাংকরিং এর খেলা।

যদি ২০০০ টাকা মূল্যের ঘড়ি সেল করতে চান তবে সেটি ১০,০০০ টাকা মূল্যের ঘড়ির পাশে রাখুন। তাহলে, আপনার ২০০০ টাকা মূল্যের ঘড়ি সেল বেড়ে যাবে। 

মানুষ যখন সিদ্ধান্ত নেবার জন্য চিন্তা করে তখন একটি তথ্যকে রেফারেন্স হিসেবে ধরে নিয়ে বাকি তথ্যের পর্যালোচনা করে। আর রেফারেন্স হিসেবে সে সবচেয়ে প্রথমে প্রাপ্ত তথ্যকে স্মরণ রাখে। আর এই তথ্য তার সিদ্ধান্ত গ্রহনের প্রক্রিয়ায় সিরিয়াস প্রভাব ফেলে।

প্রোডাক্ট প্রাইসিং

উপরের চিত্র লক্ষ্য করুন, প্রোডাক্টের মূল্য যখন প্লেইন থাকে তখন এটি আমাদের চিন্তায় তেমন কোন ইফেক্ট করে না। এবারে পাশের চিত্রটি দেখুন, একই প্রোডাক্টের মূল্য ৫০০ ডলার উল্লেখ করে যখন সেটি ডিস্কাউন্ট দেয়া হয়েছে, সেটি আমাদের বেশি প্রভাবিত করতে সক্ষম। কারন, আমরা ডিস্কাউন্ট প্রাইসকে অরিজিনাল প্রাইসের সাপেক্ষে তুলনা করছি।

অবচেতনমনে সেই প্রোডাক্টের আসল মূল্য যে ৫০০ ডলার সেটা আমরা মেনে নিয়েছি।

প্রাইস অ্যাংকরিং এর এখানেই মূল গেম। এটি আমাদের সিদ্ধান্ত নেবার জন্য প্রাপ্ত তথ্যকে ম্যানুপুলেট করে, বিকল্প তথ্যের মাঝে একটিকে মেনে নেবার জন্য যুক্তি তৈরি করে। 

যারা ভেবে নিয়েছেন ই-কমার্স বিজনেস তেমন কোন কঠিন বিষয় না,তাদের জন্য বার্তা, শুরু থেকেই প্রতিটি বিষয়ে নলেজ রাখা জরুরি না হলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে আপনার উদ্যোগ। ই কমার্স একই সাথে আর্ট ও সাইন্স এই কথা বিশ্বাস করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।  

৩) ওয়েবার ল

এই সূত্রটি অনেক ইন্টারেস্টিং, একটি প্রোডাক্টের মূল্য কতখানি বাড়ালে সেটি কাস্টমারদের আলোড়িত করে বা করে না। এক্ষেত্রে, আপনি আনুমানিক একটি সংখ্যা বলে দিতেই পারেন তবে সেটি যুক্তি নির্ভর না। 

আপনার প্রোডাক্টের মূল্য কত বাড়াবেন বা কমাবেন সেটি আপনার বিষয়, তবে কাস্টমার কিভাবে সেটিকে গ্রহন করবে তা আপনার বিষয় না। তাহলে এরপর যখন প্রোডাক্টের নতুন মূল্য নির্ধারণ করবেন কতটুকু পরিমান মূল্য বৃদ্ধি বা কম করতে হবে কিভাবে নির্ধারণ করবেন?

ওয়েবার ল বলে, একটি স্টিমুলাসের পরিবর্তন যে মাত্রায় লক্ষণীয় হয় তা মূল স্টিমুলাসের একটি ধ্রুবক অনুপাত। 

উদাহরণ দিয়ে বুঝি, 

ধরুন, চোখ বাধা অবস্থায় আপনি ডান হাতে একটি ২ কেজি ওজনের বস্তু তুলে ধরলেন, আপনাকে বলা হলো আপনি ২ কেজি ওজন নিয়ে আছেন। এবারে সেটি নামিয়ে অন্য একটি ওজন দেয়া হলো যেটি আগের চেয়ে .০৫ কেজি বেশি অর্থাৎ ২.০৫ কেজি।তাহলে সেই ব্যক্তি পরিবর্তিত ওজন অনুভব করবে না। তবে ১.২ কেজি দিলে বুঝতে পারবে।

একই ভাবে তাকে যদি এবারে ৫ কেজি ওজন দেয়া হয়। কিছুক্ষন পরে সেই ৫ কেজি সরিয়ে ৫.০৫ কেজি ওজন দিলে সে পার্থক্য বুঝতে পারবে না। কিন্তু যদি ৫.২ কেজি ওজন দেয়া হয় তবে পার্থক্য বুঝবে।

এই “ল” প্রোডাক্টের মূল্য পরিবর্তনের পার্থক্য কাস্টমারদের কাছে লক্ষণীয় করতে ব্যবহার করা হয়। একটি প্রোডাক্টের মূল্য ৩১০০ টাকা সেটি মূল্য ছাড় দিয়ে যদি ৩০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, এটি কাস্টমারের নজরে আসবে না বা আসলেও সেটি আমলে নিবে না। 

যদি ৩০০০ টাকার প্রোডাক্ট মূল্য ছাড় দিয়ে ২৯৯৯ টাকা করা হয়, তবে এটি লক্ষণীয়। প্রোডাক্টের অরিজিনাল মূল্যে বেশি হলে, এই পরিবর্তন বা ছাড়ের পরিমান একই অনুপাতে বাড়বে অর্থাৎ লক্ষণীয় পরিবর্তন সংখ্যা হবে কন্সটান্ট।

নিচের চিত্রটি খেয়াল করলে বিষয়টি আরো পরিস্কার বোঝা যায়। দেখুন, দুটি ক্ষেত্রেই মূল্যে ছাড়ের পার্থক্য ১ ডলার কিন্তু প্রথমটির বেজ মূল্য কম এবং পরেরটির বেজ মূল্য বেশি। 

অর্থাৎ পরিবর্তন হতে হবে লক্ষণীয়। 

৪) পেইন পয়েন্ট কমানো

কার্নেগি মেলন, স্ট্যানফোর্ড এবং এমআইটি -র গবেষকদের মতে, মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত না ব্যথা অনুভব করে, ততক্ষণ অর্থ ব্যয় করে। বিষয়টি বেশ ইন্টারেস্টিং।

গবেষণাটি “নিউরন” জার্নালে প্রকাশিত হয় এবং এটি নিউরো ইকোনোমিক্সের উদীয়মান ফিল্ডে সবচেয়ে সাম্প্রতিক বিষয়, যেখানে মানুষের এমন মানসিক প্রক্রিয়াগুলি পর্যবেক্ষণ করা হয় যা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে পরিচালনা করে। 

গবেষকরা মনে করেন, তাদের এই গবেষণা দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায় যে, মানুষ কেন নগদ অর্থের চেয়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বেশি ব্যয় করে। আপনি যদি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তবে খুব সম্ভবত আরো পরিস্কার ভাবে এই বিষয়টি অনুভব করবেন।

‘জর্জ লোয়েনস্টাইন” যিনি কার্নেগি মেলনে সোশ্যাল অ্যান্ড ডিসিশন সাইন্স (এসডিএস) বিভাগের প্রফেসর ও এই গবেষণা পেপারের সহ-লেখক  “। তিনি বলছেন,“ক্রেডিট কার্ড মানুষের অর্থ প্রদানের যন্ত্রণাকে চেতনানাশক করে তোলে,”। 

আপনি যখন  কার্ডে পেমেন্ট করেন তখন এই অনুভুতি হয় না যে আপনি সেটি কেনার জন্য টাকা খরচ করছেন। কিন্তু নগদ অর্থ বা ফিজিক্যাল কারেন্সি প্রদানের ক্ষেত্রে এই অনুভুতি বিপরীত। 

এই গবেষণায় ২৬ জন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিকে ২০ ডলার করে দেয়া হয় ও বলা হয়, তাদের কিছু প্রোডাক্ট দেখানো হবে তারা চাইলে সেটি কিনতে পারবে। আর কিনতে না চাইলে ডলার নিজের কাছেই রেখে দিতে পারবে। 

তাদেরকে “ফাংশানাল ম্যাগনেটিক রিজনান্স ইমেজিং স্ক্যানার” এর মধ্যে শুইয়ে রেখে প্রোডাক্টগুলো দেখানো হয়। জানার চেষ্টা করা হচ্ছিলো, তারা যখন প্রোডাক্টগুলি দেখে সেটি কেনা বা না কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন তখন মস্তিস্কের কোন অংশগুলি সক্রিয় হয়ে উঠে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের পেইন সেন্টারগুলো সক্রিয় হয় কিনা, সেটি জানাটাই মূল লক্ষ্য।

লোয়েনস্টাইন বলেন, “যখন আমরা প্রথম স্ক্যানের ফলাফল পেয়েছিলাম তখন আমরা খুব উত্তেজিত ছিলাম এবং দেখেছিলাম সেই ব্যক্তি যখন প্রোডাক্টের প্রাইস দেখেছে তখন তার  “ইনসুলা” যা ব্যথা প্রক্রিয়াকরণের সাথে যুক্ত মস্তিষ্কের একটি অংশ সেটি সক্রিয় হয়েছে। এটি জানা আমাদের জন্য একটি অসাধারণ মুহূর্ত ছিল।

গবেষণা অনুযায়ী, আপনার প্রোডাক্ট প্রাইসিং করতে হবে এমনভাবে যাতে গ্রাহক পেইন অনুভব না করে। কিন্তু কিভাবে সেটি করেন?

প্রোডাক্টের মূল্যকে ভিন্ন উপায়ে সাজিয়েঃ 

ধরুন, একটি সফটওয়্যারের সাবস্ক্রিপ্সন ফি বছরে ১২,০০০ টাকা । আপনি যদি এটিকে মাসিক কিস্তিতে ভাগ করে দেন, যেমনঃ মাসিক ফি ১০০০ টাকা তাহলে এটি দেখে আপনার কাস্টমার পেইন অনুভব করবে না। যদিও বছরের হিসেবে এটি পূর্বের মূল্যের সমান। 

প্যাকেজ আকারে

ধরুন, একটি গাড়ি কেনার পরে সেটিতে সাউন্ড সিস্টেম লাগানো, সিট কাভার লাগানো বা অন্যান্য ডেকোরেশন সামগ্রী লাগানোর খরচ ক্রেতার উপর আলাদাভাবে না দিয়ে এগুলা আগে থেকেই যুক্ত করে একসাথে মূল্য নির্ধারণ করলে কাস্টমার পেইন ফিল করবে না। অর্থাৎ প্রোডাক্ট প্যাকেজ একচুয়াল খরচের পেইন কমায়। 

এপিল টু ইউটিলিটি

ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন এনে কাস্টমারদের খরচের জন্য তৈরি পেইন কমানো যায়। যেমন ধরুন, আপনি ব্যাক মেসেঞ্জার সেল করেন। প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনে লিখেছেন, “ব্যাক মেসেঞ্জার আপনার ব্যাক পেইন দূর করে” এর পরিবর্তে যদি লিখেন, “ব্যাক মেসেঞ্জার আপনাকে প্রশান্তি এনে দেয়” তবে এটি কাস্টমার তার সমস্যার সমাধানে মস্তিস্কে প্রশান্তি অনুভব করে। যা তার খরচের জন্য মস্তিস্কে তৈরি পেইন দূর করবে। কারন, এই বাক্য কাস্টমারের কাছে প্রোডাক্টের প্রাইসের চেয়ে তার উপযোগিতাকে বেশি ফোকাস করে।

ফ্রি শব্দের ব্যবহারে 

আপনি প্রোডাক্ট ফ্রি দিতে পারবেন না কিন্তু সেটি ডেলিভারি ফ্রি করে দিতে পারবেন। আর এই “ফ্রি” দারুন রকম শক্তিশালী শব্দ। এটি কাস্টমারের মনে জেতার অনুভুতি তৈরি করে। 

 

৫) নাম্বার ৯

প্রাইসের শেষ সংখ্যা ৯ নির্ধারণ সেলসের একটি প্রাচীনতম পদ্ধতি, কিন্তু এটি কি আসলে কাজ করে? 

কোয়ান্টিটেটিভ মার্কেটিং এবং ইকোনোমিক্স জার্নালের গবেষণা অনুসারে উত্তর হচ্ছে,  হ্যাঁ। মূল্যের শেষ সংখ্যা ৯ দিয়ে নির্ধারিত প্রোডাক্টের সেল বেশি হবার প্রমান পাওয়া গেছে, এমনকি যদি সেই প্রোডাক্টের মূল্য তার চেয়ে কম হয় তারপরেও ৯ দ্বারা শেষ মূল্য বেশি সুবিধা করেছে।

বিক্রয়মূল্য – “৬০ ডলার, কিন্তু এখন মাত্র ৪৫ ডলার!”  এমন মূল্য নির্ধারণ সংখ্যার পারফর্মেন্স ভালো দেখা গেছে। কিন্তু যখন ৪৫ এর পরিবর্তে সেই মূল্য ৪৯ করা হয়েছে তখন দেখা গেছে কাস্টমার সেটি আরো বেশি গ্রহন করেছে।

এই মডেল পুরনো, কিন্তু ইফেক্টিভ। যদি বলেন কেন এমন হয়েছে, আসলে সবকিছুর ব্যাখ্যা পরীক্ষা দ্বারা করা সম্ভব না।

৬) সময়ের মূল্য 

সান ফ্রান্সিসকোতে কোন এক শনিবার বিকেলে, মোগিলনার এবং তার কো রাইটারের কিছু ছেলেরা একটি পার্কে  পথের ধারে লেবু পান বিক্রি করতে বেরিয়েছিল।

মোগিলনার ছেলেদের বলে, তারা লেবু পানি সেল করার সময় তিনটি শ্লোগান ১০ মিনিট পর পর পর্যায় ক্রমে বলতে থাকবে আর লেবু পানি সেল করবে।   

শ্লোগান তিনটি হচ্ছে, 

  1. একটু সময় ব্যয় করুন এবং সি অ্যান্ড ডি’র লেবু পানি পান করুন
  2. একটু টাকা খরচ করুন, এবং সি অ্যান্ড ডি’র লেবু পানি পান করুন
  3. সি অ্যান্ড ডি’র লেবু পান করুন

লেবু পানি পান করার জন্য কাস্টমার ১ থেকে ৩ ডলার মূল্যের মধ্যে যে কোন এমাউন্ট পরিশোধ করতে পারবে। 

দিনশেষে সেই পথ ধরে ৩৯১ জন হেঁটে যায় যার মধ্যে ৪০ জন লেবু পানি পান করে। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, “একটু সময় ব্যয় করুন এবং সি অ্যান্ড ডি’র লেবু পানি পান করুন” এই মেসেজে সবচেয়ে বেশি মানুষ সাড়া দিয়ে লেবু পানি পান করে, তারা বেশি টাকা দেয় ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। 

এই গবেষণা আমাদের সামনে একটি দারুন বিষয় নিয়ে আসে, আপনি যদি প্রোডাক্ট ও সার্ভিসকে সময়ের সাথে রিলেট করে মূল্য নির্ধারণে সক্ষম হন, তবে কাস্টমার সেটি কেনে, তার জন্য বেশি টাকা খরচ করে ও সন্তুষ্টি অর্জন করে।

আর এই কারনের বিশ্বখ্যাত রোলেক্স ঘড়ির বিজ্ঞাপনগুলো টাইম রিলেটেড থিম ব্যবহার করে নির্মিত। এবং আরো একটি বিষয় হচ্ছে “পারফেকশন ডিম্যান্ড প্রাইস” আর এই কারনে লাক্সারি প্রোডাক্ট কেনার জন্য মানুষ দামাদামি করে না।

যেমনঃ ম্যাকবুক, রোলস রয়েলস সবসময় সেরা প্রোডাক্ট তৈরি করে, আর কাস্টমার সেটির জন্য উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করতে ইচ্ছুক। 

৭) প্রাইস কম্পেয়ার না করা 

আপনি যখন ওষুধের দোকানে যান তখন যদি আপনাকে দোকানদার কম মূল্যে ওষুধ অফার করে এবং বলে এটি মার্কেটে সবচেয়ে সস্তা। তখন নিশ্চয় আপনি সস্তা ওষুধ কেনার ঝুঁকি নিবেন না। 

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় এসেছে,  কখনো কখনো কাস্টমারকে অন্য সেলারের সাথে আপনার প্রোডাক্টের মূল্য তুলনা করতে বলা ঝুঁকিপূর্ণ। কারন এতে করে আপনি কাস্টমার হারাবেন। প্রোডাক্টের মূল্য তুলনা করতে বললে কাস্টমারের মনে আপনার প্রোডাক্টের কোয়ালিটি বা আপনার সততা নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে।  

৮) দৃষ্টিভঙ্গি

অর্থনীতিবিদ রিচার্ড থ্যালার কয়েক বছর আগে এটি পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, কাস্টমার বুডউইজারের জন্য ( এটি একটি আমেরিকান একটি বেস্ট সেলিং বিয়ার) উচ্চ মূল্য দিতে ইচ্ছুক, যদি তারা জানেন এটি ফাইভ স্টার হোটেল থেকে নিয়ে আনা হয়েছে, এটি সাধারন মুদি দোকান থেকে নিয়ে আসা নয়। 

থ্যালার দাবি করেন যে এখানে সরল ব্যাখ্যা: ফাইভ স্টার হোটেলের অনুভূতি  এটির জন্য চড়া মূল্য পরিশোধ করার প্রভাবক, যা আপনার ব্রেনকে মূল্য নিয়ে চিন্তা করতে দেয় না। আর এই একই কারনে আমরা বেভারেজের দোকানে সেল করা ২০ টাকার একই কোক একটি দামি রেস্টুরেন্টে খাবার সময় তার জন্য ৫০ টাকা খরচ করি। 

এখানে সম্মানের সাথে সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয় জড়িত ।  

৯) প্রাইসের লিখিত ফরম্যাট সহজ রাখা

জার্নাল অফ কনজিউমার সাইকোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, যে শব্দগুলোতে বেশি অক্ষর রয়েছে সেগুলো কাস্টমারদের কাছে অনেক বেশি মনে হয়েছে। বিষয়টি অদ্ভুত, তাই না?

যে ধরনের ফরম্যাটগুলো তারা পরীক্ষা করেছেন সেগুলো হচ্ছে,

  • $১,৪৯৯.০০
  • $১,৪৯৯
  • $১৪৯৯

উপরের প্রথম দুটি প্রাইস কাস্টমারদের কাছে তিন নম্বরটির থেকে বেশি মনে হয়েছে, কারন সেগুলোর লিখিত ফরম্যাট তিন নম্বরের চেয়ে তুলনামুলক দীর্ঘ একই সাথে উচ্চারণে বেশি শব্দ ব্যবহার করতে হয়।

এটি শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও সত্য , প্রাইস লেখার সময় কমা বা পয়সার হিসাব পরিহার করলে সেটি ভালো পারফর্ম করে।  

পরিশেষে,

একটি সেরা প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের মূল্য নির্ধারণের পেছনে কারন থাকতে হয়। শুধু প্রোডাক্টের ভ্যালু ও প্রাইসকে এলাইন করলেই আপনার চলবে না, জানতে হবে কাস্টমারদের বিহেভিয়ার। 

ঠিক কি কারনে, কি ধরনের মূল্য তারা পছন্দ করছে এবং কেন তারা বিনা শর্তে বেশি মূল্য পরিশোধ করে বা কেন কম মূল্য দেবার জন্য বারগেইন করতে চায়। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজুন।  

আপনার কাস্টমারদের আচরণ বিশ্লেষণের দ্বারা ঠিক কি ধরনের প্রাইসিং স্ট্রাটেজি আপনি গ্রহন করবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন। মনে রাখবেন, বিশ্বসেরা ব্র্যান্ড হতে গেলে যেখানে প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়, সেখানে প্রোডাক্ট প্রাইসিং একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটিকে ইগনোর করার কোন অবকাশ আপনার নেই। 

 “The moment you make a mistake in pricing, you’re eating into your reputation or your profits.” – Katharine Paine 

আরো পড়ুনঃ

ফেসবুক অ্যাড স্ট্রাটেজিঃ অডিয়েন্সের ধরন অনুযায়ী সাজান অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার

ফেসবুক অ্যাড স্ট্রাটেজিঃ অডিয়েন্সের ধরন অনুযায়ী সাজান অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার

ফেসবুক অ্যাড স্ট্রাটেজিঃ অডিয়েন্সের ধরন অনুযায়ী সাজান অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার

একটি পরিকল্পিত ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার ফেসবুক মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের সফলতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ।

এই স্ট্রাকচার আপনাকে মার্কেটিং ফানেল তৈরি এবং কাস্টমারদের জার্নি স্টেজ অনুযায়ী সঠিকভাবে অ্যাড প্লেস করার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেয়।

যদিও বা ফেসবুক মার্কেটিং একটি ক্রমাগত শেখা এবং পরীক্ষা করার বিষয়, তবুও একটা পরিকল্পিত ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার আপনাকে পরীক্ষাগুলো সফলভাবে পরিচালনা ও বোঝার সুযোগ করে দেয়।

আপনি যদি প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের বিজ্ঞাপনের জন্য ফেসবুক অ্যাড পরিচালনা করে থাকেন, তবে পরবর্তী অ্যাড দেবার পূর্বে অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার সম্পর্কে জানুন। এতে করে আপনার অ্যাড ক্যাম্পেইনগুলো থেকে ভালো ফলাফল পাবেন। 

কাস্টমার জার্নি

ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার তৈরি করার পূর্বে মাথায় রাখবেন কাস্টমার জার্নি স্টেজগুলো। একজন কাস্টমার একবার অ্যাড দেখেই কি কেনাকাটা সম্পন্ন করে? না করে না। তারা বেশ কিছু স্টেজের মধ্য দিয়ে যায়। 

একজন কাস্টমার একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কেনার আগে ৪ টি স্টেজ পার করে।

প্রতিটি স্টেজ সম্পর্কে বোঝার পরে সে অনুযায়ী ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার তৈরি করলে সেখান থেকে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। 

যেহেতু ফেসবুক ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচারের প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এক্ষেত্রে এমন বিষয়ের অবতারণা করবো না যেগুলো সচরাচর এক্সপার্টরা বলে থাকেন।

এখানে আলোচনা করা হবে শুধুমাত্র সেই স্টেজগুলো সম্পর্কে যেটা জানলে আপনি প্রাথমিকভাবে অ্যাড ক্যাম্পেইন গুলোকে সঠিক নিয়মে সাজাতে পারবেন। 

কোল্ড অডিয়েন্স

কোল্ড অডিয়েন্স হচ্ছে যারা আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে কিছুই জানে না, কখনো আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করেনি বা সোশ্যাল মিডিয়াতে এঙ্গেজ না।

ওয়ার্ম অডিয়েন্স

এই অডিয়েন্স গ্রুপ আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানে, আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করেছে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে এঙ্গেজ।

হট অডিয়েন্স

এই অডিয়েন্স গ্রুপ আপনার ব্র্যান্ডের স্ট্রং ফলোয়ার। তারা ওয়েবসাইটে আসে, প্রোডাক্ট দেখে, সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়মিত ফলোয়ার, ইনবক্স করে, নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করেছে।  

লয়াল অডিয়েন্স 

এই অডিয়েন্স গ্রুপ আপনার ব্র্যান্ডের রেগুলার কাস্টমার। ওয়েবসাইট থেকে তারা একের অধিকবার কেনাকাটা করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার ব্র্যান্ডকে ফলো করে। 

এই চার প্রকারের অডিয়েন্স গ্রুপকে মাথায় রেখে আমরা ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচারগুলো তৈরি করবো। যেটাকে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার বলছি। বিজনেস শুরুর প্রথম দিকে এই ধরনের ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার আপনার অডিয়েন্সগ্রুপকে বুঝতে ও অ্যাড রেজাল্ট বিষয়ে সঠিক ধারনা পেতে সাহায্য করে। 

যেহেতু এই ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার খুব ছোট পরিসরের ও সরল হয়, ফলে অ্যাড সেটের কার্যকারিতা, অ্যাডের পারফর্মেন্স ও  কতগুলো কনভার্শন প্রত্যেক স্টেজ থেকে হচ্ছে সেটি জানা ও বোঝা সম্ভব হয়। 

এই ধরনের অ্যাড স্ট্রাকচার তৈরি করতে অনেক কম সময় প্রয়োজন হয়। ফলে আপনি আরো পাওয়ারফুল ল্যান্ডিং পেজ, অ্যাড কন্টেন্ট এবং প্রোডাক্ট ডিজাইনের জন্য সময় ব্যয় করতে পারেন। 

এবারে প্রতিটি স্টেজের জন্য কিভাবে অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার তৈরি করবেন সেই বিষয়ে আসি

কোল্ড অডিয়েন্স

এই স্টেজে অ্যাড ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য থাকে নতুন কাস্টমারদের আকর্ষণ করা এবং তাদের ব্র্যান্ডের সেলস ফানেল এর মধ্যে নিয়ে আসা।

যখনই কোল্ড অডিয়েন্স টার্গেট করবেন অবশ্যই আপনার পেজের বা বিজনেসের প্রিভিয়াস যে ভিজিটররা থাকবে তাদেরকে সে ক্যাম্পেইন থেকে এক্সক্লুড করে দিবেন। 

কোল্ড অডিয়েন্সে মার্কেটিংয়ের জন্য দুইটি ডিফারেন্ট ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার ব্যবহার করতে পারেন, 

এক, ডায়নামিক ক্রিয়েটিভ টেস্টিং

ডায়নামিক ক্রিয়েটিভ টেস্টটিং করার জন্য আপনাকে শুধু মাল্টিপল কন্টেন্ট ও ইমেজ দিতে হয়। ফেসবুক আপনার দেয়া সবগুলো কন্টেন্ট ও ইমেজগুলোর সেরা কম্বিনেশন তৈরি করে প্রতিবার নতুনভাবে কাস্টমারদের প্রদর্শন করে। 

এ জন্য শুধুমাত্র অ্যাড সেট লেভেল থেকে আপনাকে ডায়নামিক ক্রিয়েটিভ অপশনটি অন করে দিতে হবে। 

এই ক্যাম্পেইন চালানোর সময় আপনি বড় বাজেটে না গিয়ে ছোট বাজেট সেট করে শুরু করুন, লারনিং ফেজ সম্পূর্ণ হবার সময় দিন ও  ধীরে ধীরে অপ্টিমাইজ করে সেরা ফলাফলের দিকে নিয়ে যান।

লো বাজেটের সাথে প্রতিটি অ্যাডে একসাথে সর্বোচ্চ পাঁচটি ইমেজের বেশি টেস্ট করতে যাবেন না। 

দুই, লুকালাইক অডিয়েন্স ও ব্রড ইন্টারেস্ট টার্গেটিং

কোল্ড অডিয়েন্স টার্গেটিং এর জন্য আরেকটি ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার হচ্ছে লুকালাইক অডিয়েন্স এবং ব্রড ইন্টারেস্ট টার্গেটিং। 

কোল্ড অডিয়েন্সে অ্যাড দেবার সময় লুকালাইক অডিয়েন্স এবং ডিটেলস ইন্টারেস্টিং টার্গেটিং একসাথে না করে আলাদা দুটি ক্যাম্পেইন তৈরি করে করুন।  

কেন এই অ্যাড সেটগুলো একসাথে টেস্ট করবেন না? 

কারন, একটি ক্যাম্পেইন লুকালাইক অডিয়েন্স এবং ডিটেলস ইন্টারেস্টিং টার্গেটিং অ্যাড সেট তৈরি করলে অ্যাড সেট ও অ্যাড গুলোর ফলাফল আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা সহজ হয় না। অ্যাড সেটের আডিয়েন্স সাইজের ভিন্নতার কারনে অ্যাড অবজেক্টিভের জন্য অ্যাড সেটগুলোর পারফর্মেন্স বিষয়ে আলাদাভাবে সঠিক সিধান্তে পৌঁছানো যায় না।   

কোল্ড অডিয়েন্স ষ্টেজে অ্যাড ক্যাম্পেইন ডিজাইন করার সময় যে বিষয়গুলো ফলো করবেন,

  • প্রতিটি ক্যাম্পেইনে অ্যাড সেটের সংখ্যা কম রাখবেন এবং যতটা সম্ভব সরলীকরণ করার চেষ্টা করবেন।
  • বাজেটের উপর নির্ভর করে প্রতিটি অ্যাড সেটের অডিয়েন্সের সাইজ নির্বাচন করবেন। বাজেট বেশি হলে বড় অডিয়েন্স টার্গেট করতে অসুবিধা নেই। 
  • প্রতিটি অ্যাড সেটে ৩ থেকে ৫ টির বেশি অ্যাড যুক্ত করবেন না। 
  • ভিন্ন ভিন্ন ফরমেটের অ্যাড কপি তৈরি করবেন। চেষ্টা করবেন প্রতিটি অ্যাড সেটে অন্তত একটি  সিঙ্গেল ইমেজ, একটি ভিডিও ও একটি কেরোজাল অ্যাড রাখতে। 

ওয়ার্ম অডিয়েন্স

এই অডিয়েন্স গ্রুপের মেম্বারদের আপনার ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করার সম্ভবনা খুব সামান্য থাকে। কারন তারা আপনার বিজনেস সম্পর্কে খুব সামান্য জানে।

এদের জন্য দুই ধরনের অ্যাড সেট করে অ্যাড রান করবেন। 

এক, ওয়েবসাইট ভিজিটর

যারা আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করেছে বা ওয়েবসাইতে কোন একটি প্রোডাক্ট দেখেছে। 

দুই, সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা এঙ্গেজ

যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার ব্র্যান্ড পেজের সাথে লাইক, শেয়ার বা কমেন্টের মাধ্যমে এঙ্গেজ আছে। 

আপনি যখন এই দুটি অডিয়েন্স সেট নিয়ে ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার তৈরি করবেন, তখন একটি থেকে অপরটি এক্সক্লুড করে দিবেন। তা না হলে সম্ভবনা থাকে দুই অ্যাড সেটের অডিয়েন্স একে অপরের সাথে ওভারল্যাপ করবে। 

 

হট অডিয়েন্স

এই অডিয়েন্স গ্রুপটি মূলত আপনার বিজনেসের রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট নিয়ে আসে।

এই স্টেজে দুটি আলাদা সেট তৈরি করবেন। 

একটি হচ্ছে যারা আপনার ওয়েবসাইটে প্রোডাক্ট ভিউ করেছে কিন্তু শপিং কার্টে প্রোডাক্ট এড না করেই ছেড়ে গেছে এবং অন্যটি হচ্ছে যারা শপিং কার্টে প্রোডাক্ট এড করেছে কিন্তু check-out প্রসেস সম্পন্ন না করেই ওয়েবসাইট ছেড়ে গেছে। 

ডায়নামিক রি-মার্কেটিংঃ 

যখন প্রোডাক্ট ভিউ করেছে কিন্তু শপিং কার্টে প্রোডাক্ট এড না করেই ছেড়ে গেছে।

এদের জন্য ডায়নামিক রি-মার্কেটিং এড ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবেন। ফলে যারা আপনার ওয়েবসাইটে কোন একটি প্রোডাক্ট দেখেছে কিন্তু শপিং কার্টে এড না করেই চলে গেছে, ফেসবুক পিক্সেল সেই অডিয়েন্সদেরকে তাদের দেখা প্রোডাক্টগুলো কাস্টমাইজড ভাবে প্রতিবার ইম্প্রেশন করে।

এতে বার বার তার পছন্দের প্রোডাক্ট সামনে আসতে থাকলে সেটি শপিং কার্টে যোগ করার প্রবনতা বাড়ে। 

কুপন

শপিং কার্টে প্রোডাক্ট এড করেছে কিন্তু check-out প্রসেস সম্পন্ন না করেই ওয়েবসাইট ছেড়ে গেছে তাদের জন্য ডিস্কাউন্ট দিয়ে অ্যাড তৈরি করুন। এটি তাদের check-out প্রসেস সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করবে। 

রেগুলার কাস্টমার 

যে সকল কাস্টমার আপনার থেকে বার বার কেনাকাটা করে তাদের জন্য আপনি দুই ধরনের ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার তৈরি করে অ্যাড পরিচালনা করবেন।

সিভিএস লিস্টঃ কাস্টমারদের ডাটা আপলোড করে অ্যাড সেট তৈরি করবেন।

পিক্সেল ইভেন্টঃ ফেসবুক পিক্সেল ইভেন্ট থেকে প্রাপ্ত ট্র্যাকিং ডাটা থেকে ইনফরমেশন নিয়ে যারা বিগত ৩০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে কেনাকাটা করেছে তাদের অ্যাড দেখাবেন। 

এই পদ্ধতি সাধারনত যে সকল প্রোডাক্ট নিয়মিত কেনাকাটা করা হয় সেই সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা আদর্শ। যেমনঃ ফুড, সাপ্লিমেন্ট, কসমেটিক্স ইত্যাদি। 

পরিশেষে,

ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার মার্কেটিয়ার ভেদে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ডিজাইন করেন। সবাই একই ধরনের ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার করে না। তবে আপনাকে খুঁজে নিতে হবে, কোন ধরনের ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ।  

ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার নিয়ে আপনার যদি কোন জিজ্ঞাসা থাকে তবে কমেন্টে জানাতে পারেন। 

 আরো পড়ুনঃ

ফেসবুক অ্যাড পলিসিঃ কন্টেন্ট, ক্রিয়েটিভ এবং টার্গেটিং বিষয়ে যা অবশ্যই জানা উচিত

ফেসবুক অ্যাড পলিসিঃ কন্টেন্ট, ক্রিয়েটিভ এবং টার্গেটিং বিষয়ে যা অবশ্যই জানা উচিত

ফেসবুক অ্যাড পলিসিঃ কন্টেন্ট, ক্রিয়েটিভ এবং টার্গেটিং বিষয়ে যা অবশ্যই জানা উচিত

ফেসবুক অ্যাড পলিসি তৈরি করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। 

প্রায় ২.২ বিলিয়ন মানুষ প্রতিদিন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার ব্যবহার করছে এবং ফেসবুক চায় প্রতিটি ব্যবহারকারী যেন প্লাটফর্মে তথ্য শেয়ার করতে নিরাপদ বোধ করে।  

সেজন্য ফেসবুকের রয়েছে নিজস্ব অ্যাড পলিসি যা ফেসবুকে অ্যাড দাতাদের অবহিত করে কোন অ্যাড গুলো ফেসবুক অ্যাপ্রুভ করবে এবং কোনগুলো করবেনা।

আপনি যদি ফেসবুকের অ্যাড পলিসি সম্পর্কে না জেনে অ্যাড পরিচালনা করেন, তবে পলিসি ভায়োলেসনের জন্য ফেসবুক পেজ এমনকি অ্যাড ম্যানেজার পর্যন্ত ডিজেবল হয়ে যেতে পারে। 

এফ কমার্স নির্ভর বিজনেসের জন্য এটি একটি ভয়াবহ বিপর্যয়। শুধুমাত্র অজ্ঞতার জন্য মুহূর্তে একটি বিজনেসকে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।    

ফেসবুকের অ্যাড রিভিউ প্রক্রিয়া কিভাবে কাজ করে

যখন কোন একটি অ্যাড পাবলিশ করা হয় তখন সেটি প্রাথমিকভাবে রিভিউের জন্য সাবমিট করা হয়ে থাকে। গড়ে ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন হয় একটি অ্যাড রিভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে। যখন রিভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে একটি রান হয় তখন সেটি একটি নোটিফিকেশনের মাধ্যমে অ্যাড দাতাকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

তবে অনেক ক্ষেত্রেই অ্যাড রিভিউ করার প্রক্রিয়া খুব দ্রুত হয়ে থাকে।

আবার অনেক সময় অ্যাড অ্যাপ্রুভ হবার পরে যখন ডেলিভারি শুরু হয় এরপরেও একটি ডিজঅ্যাপ্রুভ হতে পারে। যখন কোন একটি অ্যাডে কাস্টমার বেশি নেগেটিভ ফিডব্যাক দেয় এবং অধিক পরিমাণ হাইড করতে থাকে, তখন সেই অ্যাডটি পুনরায় ফেসবুক রিভিউ করার মাধ্যমে ডিজেবল করে দেয়। 

অর্থাৎ একটি অ্যাড প্রাথমিকভাবে অ্যাপ্রুভ হয়ে রান করলেও সেটি আর কখনো ডিজআপ্রুভ হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অ্যাড যদি অ্যাপ্রুভ না হয় তখন কি করবেন? 

যদি আপনার অ্যাডটি অ্যাপ্রুভ না হয়ে থাকে তবে সাধারণত সেটিকে এডিট করার মাধ্যমে অ্যাড পলিসি ফলো করে পুনরায় সাবমিট করতে হয়।

ধরুন, আপনার একটি অ্যাড অ্যাপ্রুভ করা হয়নি। কারণ আপনার ল্যান্ডিং পেজটি আন্ডার কনস্ট্রাকশন অবস্থায় আছে। সেক্ষেত্রে আপনাকে অ্যাড এডিট করে একটি ভিন্ন ল্যান্ডিং পেজের লিংক দিয়ে পুনরায় পাবলিশ করলে এটি সঠিকভাবে রান করবে। 

অনেক সময় এমন হয়ে থাকে যে, একটি অ্যাড যে কারণে ডিজঅ্যাপ্রুভ করা হয়েছে তা আপনার কাছে সঠিক মনে হয়নি। সেজন্য আপনি ফেসবুকের হেল্পলাইনে একটি ফরম ফিলাপ করে আবেদন করতে পারেন। এ সময় শুধুমাত্র লাস্ট ডিজ আপ্রুভ অ্যাডটির জন্য আবেদন ফরম টি কার্যকর হবে।

যদি আপনি ইতিপূর্বের কোন একটি অ্যাডের জন্য আবেদন ফরম পূরণ করতে চান, সেই ক্ষেত্রে আপনাকে আগের অ্যাড আইডি উল্লেখ করে দিতে হবে।

মনে রাখবেন, একটি অ্যাড ডিজআপ্রুভ হবার ক্ষেত্রে যদি সেটি এডিট করার প্রয়োজন পড়ে, তবে আপনি অ্যাডের অবজেক্টিভ পরিবর্তন করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আপনাকে নতুন একটি অবজেক্টিভ সিলেক্ট করে পুনরায় নতুনভাবে অ্যাড ক্যাম্পেইন তৈরি করতে হবে।

কি কারণে একটি অ্যাড অ্যাপ্রুভ করা হয় না

  • অ্যাডে যদি অ্যাডাল্ট কনটেন্ট থাকে
  • আপনি যদি ড্রাগ আইটেম সেল করে থাকেন
  • অনলাইনে জুয়া প্রমোট করে যদি কোন অ্যা দিয়ে থাকেন
  • অস্ত্র বা গোলাবারুদ সেল করার জন্য যদি অ্যাড দিয়ে থাকেন
  • টোবাকো আইটেম সেল করার জন্য অ্যাড দিলে 
  • অনলাইন ফার্মেসি ও ডেটিং সাইটের ক্ষেত্রেও কিছু কিছু সময় অ্যাড অ্যাপ্রুভ হয় না

গড়ে একটি অ্যাড অ্যাপ্রুভ হওয়ার জন্য ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন হয় এবং যদি অ্যাডটি অ্যাপ্রুভ না হয়, তবে সেটি আপনাকে একটি নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হয়ে থাকে। 

যদি আপনার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাড অ্যাপ্রুভ না হয়, সেই ক্ষেত্রে আপনাকে একটি ইমেইলের মাধ্যমে কি কারণে অ্যাড অ্যাপ্রুভ হয়নি সেটির ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। 

কনটেন্ট এবং ল্যান্ডিং পেজের জন্য ফেসবুক অ্যাড পলিসি

আপনি যখন একটি ফেসবুক অ্যাড তৈরি করবেন তখন যে নির্দেশিকা গুলো মনে রাখবেন তা হচ্ছে, আপনার ফেসবুক অ্যাডে একটি শিরোনাম, বডি টেক্সট এবং একটি ল্যান্ডিং পেজ যেন অন্তর্ভুক্ত থাকে। 

অ্যাডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বোঝানো যাবেনা যে আপনি কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তির নাম জাতি, জাতিগত উৎস, যৌন দৃষ্টিভঙ্গি, শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা, চিকিৎসা শর্ত, আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি।

আপনি এসব বিষয়ে কারো অসম্পূর্ণতা অনুধাবন করাতে অ্যাটেনশন তৈরি করতে পারবেন না।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি বলতে পারবেন না- “আপনি কি খ্রিষ্টান?” 

এর পরিবর্তে আপনাকে বলতে হবে,  “খ্রিষ্টান মেয়েদের বা ছেলেদের সাথে দেখা করুন”

আপনি বলতে পারবেন না,  “রফিক, এই শার্ট আপনি কিনুন”

এর পরিবর্তে, আপনি ব্যক্তিগতকরণ শার্ট তৈরি করেন সে বিষয়টি বলতে পারেন। 

ভালগার ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করতে পারবেন না

ফেসবুকে আপনি অশ্লীল, অশুদ্ধ বা অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়াও ভুল বানান বা ব্যাকরণগত অশুদ্ধ বানান ব্যবহার করা থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

প্রতারক হিসেবে প্রতিপন্ন হয় এমন কিছু গ্রহণযোগ্য না

আপনার ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাডগুলোতে মিথ্যা প্রতারণামূলকভাবে বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য বা সামগ্রী গ্রহণযোগ্য না। আপনি যে বিষয়টি দাবি করেন তার বিপরীতে যথেষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে। 

ধরুন, আপনি একটি ব্যবসায়িক আইডিয়া নিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন এবং আপনার দর্শকদের দ্রুত অর্থ উপার্জনের সুযোগ সম্পর্কে বলছেন।

কিন্তু আপনি আপনার বিজ্ঞাপনে যদি পুরোপুরিভাবে বর্ণনা না করেন, কিভাবে আপনার দর্শক বিজনেস আইডিয়ার সাথে যুক্ত হবে তবে সে ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না। 

যেসকল এড থার্ড পার্টি ফ্যাক্ট চেকিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই বাছাই করণ করা হয়, সেই সকল অ্যাড প্রমোট করা সম্ভব হয় না। 

ল্যান্ডিং পেজ

ল্যান্ডিং পেজ এমন একটি সাইট যেখানে মানুষ একটি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার মাধ্যমে প্রবেশ করে। প্রতিটি ল্যান্ডিং পেজে  অবশ্যই বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান, প্রোডাক্ট বা সার্ভিস এবং ব্র্যান্ডকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে এমন সকল তথ্য থাকতে হবে।

এ সকল তথ্যের মধ্যে রয়েছে, কোথায় থেকে মানুষ ল্যান্ডিং পেজ এ আসছে, যেমনঃ ফেসবুক থেকে।  

জিওগ্রাফিক আইপি অ্যাড্রেস রেস্ট্রিক্টেড থাকলে সেই লান্ডিং পেজের  জন্য ফেসবুক অ্যাড অ্যাপ্রুভ হয় না

লান্ডিং পেজ এরর থাকলে সেই ল্যান্ডিং পেজের বিপরীতে ফেসবুক অ্যাড অ্যাপ্রুভ হয় না। 

আপনার ল্যান্ডিং পেজ বা ওয়েবসাইটটি যদি ওয়েবে নেগেটিভলি ফ্ল্যাগ থাকে তবে সে সকল ক্ষেত্রে ল্যান্ডিং পেজ এর বিপরীতে ফেসবুক অ্যাড অ্যাপ্রুভ হয় না। 

ল্যান্ডিং পেজে যদি নিষিদ্ধ বিষয় যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, সেসকল বিষয় থাকে তবে সেই লান্ডিং পেজের বিপরীতে অ্যাড অ্যাপ্রুভ হয় না। 

ল্যান্ডিং পেজ গাইডলাইন

লান্ডিং পেজ যদি পুরোপুরি কার্যকরী না হয়ে থাকে অথবা আপনার বিজ্ঞাপনে প্রচারিত পণ্য বা সার্ভিসের সাথে ল্যান্ডিং পেজের প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের মিল না থাকে তবে এই সকল কারণে বিজ্ঞাপন নীতিমালা না মেনে চলার জন্য আপনার ল্যান্ডিং পেজের বিপরীতে অ্যাড অ্যাপ্রুভ হবে না।  

এসকল বিষয় আরো কিছু নির্দেশিকা চলুন জেনে নেয়া যাক, 

যা করবেন না

  • নিম্নমানের সামগ্রী, অ্যাক্সেস করা কঠিন এমন সকল প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সহকারে যদি ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করা হয় সে ক্ষেত্রে ল্যান্ডিং পেজ আপ্রুভ হবে না। 
  • ল্যান্ডিং পেজে অতিমাত্রায় পপ-আপ বিজ্ঞাপন এমবেড করা থেকে বিরত থাকুন। 
  • অ্যাডে কোন একটি ইমেজকে ক্রপ করে নির্দিষ্ট স্থান দেখানো অথবা সেক্সুয়াল কপি অথবা মানুষ হতভম্ব হয় এমন ধরনের ইমেজ ব্যবহার করে ল্যান্ডিং পেজ প্রমোট করা যাবে না। 
  • ফেসবুক অ্যাডের মাধ্যমে অন্য একটি অ্যাড ল্যান্ড করানো যাবে না। 
  • নিম্নমানের এডভেটাইজ, মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি করে অথবা সেক্সচুয়াল গ্রাফিক রয়েছে এমন কন্টেন্ট ব্যবহার করে ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করা যাবে না। 

যা করবেন

  • নেভিগেট করা সহজ এমন একটি পরিষ্কার উপায়ে ল্যান্ডিং পেজে কন্টেন উপস্থাপন করতে হবে
  • আপনার ল্যান্ডিং পেজে থাকা প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিজ্ঞাপনের সাথে প্রাসঙ্গিক বা মিল রয়েছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিবেন।
  • আপনার ল্যান্ডিং পেজের সাথে বিজ্ঞাপনের ব্র্যান্ডিং স্পষ্ট ভাবে যুক্ত করুন।

ফেসবুক অ্যাড পলিসিঃ ক্রিয়েটিভ

মিসল্যান্ডিং বাটন

যে সকল ছবি বা ভিডিওতে এমন ধরনের বাটন রয়েছে যা আসলে কার্যকর না। কিন্তু মানুষ ভাবে এটিতে ক্লিক করা সম্ভব বা  ক্লিক করলে কাজ করবে। এমন ধরনের বাটন গ্রহণযোগ্য না। 

হেলথ এন্ড ফিটনেস

কাঙ্খিত ফলাফল নিয়ে আসে না বা আসেনি এমন কোন বিষয়ের পূর্বের এবং পরের চিত্র প্রকাশ করতে পারবেন না। উদাহরণস্বরূপ, ওয়েট লস করার ড্রামাটিক চিত্র, যা পূর্বের এবং পরের অবস্থার কম্পেয়ার করা হয়েছে। এ ধরনের চিত্র ফেসবুক অ্যালাউ করে না।

সেক্সুয়ালি সাজেস্টিভ

ফেসবুকে এমন ক্রিয়েটিভ ব্যবহার করতে পারবেন না যা অতিরিক্ত যৌনতা প্রকাশ করে বা নগ্নতা বোঝায়।  অত্যাধিক পরিমাণে ক্লিভেজ দেখায় যদিও তা শৈল্পিক বা শিক্ষামূলক কারনে ব্যবহার করা হয়। 

ভীতিকর চিত্র

ভীতিকর চিত্র, দুর্যোগপূর্ণ বা সংবেদনশীল চিত্র প্রকাশের অনুমতি নেই। যেসকল চিত্র অডিয়েন্সদের মনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াত সৃষ্টি করে সে ধরনের চিত্র ফেসবুক অ্যালাউ করেনা। 

 

 

ব্র্যান্ড অ্যাসেট 

ফেসবুক বিজ্ঞাপন বা ইনস্টাগ্রামের নতুন বা পুরোনো সংস্করনের কোন ট্রেডমার্ক অথবা লোগো বা নাম ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ধরনের ট্রেডমার্ক বা নাম অডিয়েন্সের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। 

অ্যাড ইমেজের মধ্যে টেক্সট

আপনি যখন অ্যাডে ছবি ব্যবহার করবেন তখন ছবিতে যতটা সম্ভব ছোট লেখা যুক্ত করবেন। ফেসবুক অ্যাডে প্রদর্শিত চিত্রের ২০% এলাকায় লেখা যুক্ত করার পরামর্শ দেয়। 

বিজ্ঞাপনচিত্রে বেশিমাত্রায় লেখা থাকলে সেটির ডেলিভারি কম হয় যা ফেসবুক পেনাল্টি হিসেবে বিবেচনা করে। 

এসকল ক্ষেত্রে মাল্টিপল ছবি ব্যবহার করে প্রতিটি ছবিতে লেখাগুলো পর্যায়ক্রমে ভাগ করে দিতে পারেন। 

তবে যে সকল লোগো টেক্সট ভিত্তিক হয়ে থাকে সে সকল লোগোর ক্ষেত্রে লিখার পরিমাণকে ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা হয়। 

ফেসবুক অ্যাড পলিসিঃ টার্গেটিং

অ্যালকোহল

বিজ্ঞাপনে অ্যালকোহলের প্রচার করতে হলে অবশ্যই নিজ নিজ দেশের প্রযোজ্য আইন বিধিমালা এবং শিল্প কোড গুলো অনুসরণ করতে হবে। 

আপনি যদি একটা বিজ্ঞাপনে একাধিক দেশকে টার্গেট করে থাকেন তবে দয়া করে সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারণ করবেন। 

আপনি যদি কানাডা এবং সুইডেনের লোকদের লক্ষ্যবস্তু করেন তবে আপনার বিজ্ঞাপনে কেবল ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সকে টার্গেট করবেন। 

বিভিন্ন দেশের জন্য লিগ্যাল বয়সসীমার একটি চার্ট, 

হেলথ এবং ফিটনেস

আপনি যদি ভিটামিন এবং পরিপূরক বা স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ফিটনেস পণ্য বা সেবা প্রচার করে থাকেন। তবে অবশ্যই বিজ্ঞাপনে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের লোকদের টার্গেট করবেন। 

যদি ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে আপনার বিজ্ঞাপনটিকে দেখানোর চেষ্টা চালানো হয় তবে তা ব্যর্থ হবে কারণ ফেসবুকের সর্বনিম্ন আঠারো বছর বয়স সীমা নির্ধারণ করা রয়েছে। 

ফিনান্সিয়াল সার্ভিস

অনুমোদিত ফিনান্সিয়াল সংস্থার জন্য অ্যাড প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৮ বছর বয়সের লোকদের আপনি টার্গেট করতে পারবেন। 

ডেটিং

আপনার যদি কোন অনুমোদিত ডেটিং সাইট থাকে তবে আপনি ফেসবুকের আওতাধীন সমস্ত অ্যাপ্লিকেশনে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। তবে টার্গেট অডিয়েন্স তৈরি করার সময় ফেসবুকের নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে হবে। 

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পুরুষ এবং মহিলা উভয়কে টার্গেট করে পৃথক পৃথক বিজ্ঞাপন তৈরি করতে হবে।

যেমন, ফ্রান্সের ক্ষেত্রে কারো যৌন পছন্দের উপর নির্ভর করে তাকে টার্গেট করা যাবে না। 

এ সকল ক্ষেত্রে কিভাবে টার্গেট করবেন তা নিচে দেখানো হয়েছে,

বৈষম্য

ফেসবুকে কোন বিজ্ঞাপনদাতা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ বা মনোভাব প্রকাশ পায় এমন ধরনের প্রোডাক্ট ও সার্ভিস প্রমোট করতে পারবে না। 

যে সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করা যাবে না সেগুলো হচ্ছে, 

  • জাতি
  • জাতিগততা
  • মূল জাতীয়তা
  • ধর্ম
  • বয়স
  • লিঙ্গ
  • যৌন দৃষ্টিভঙ্গি
  • লিঙ্গ পরিচয়
  • পারিবারিক বা বৈবাহিক অবস্থা
  • অক্ষমতা বা মেডিকেল কন্ডিশন

এ সকল বিষয়গুলো ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজারের সংযুক্ত হেল্প গাইডলাইনে পেয়ে যাবেন। আপনার যখন কোন বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হবে তখন ফেসবুক কমিউনিটি পলিসি দেখে যে সকল বিষয় নিশ্চিত হয়ে নিবেন। 

আবাসন কর্মসংস্থান এবং ঋণ বিতরণের বিজ্ঞাপন

যদি কেউ আবাসন কর্মসংস্থান বা ক্রেডিট এর বিজ্ঞাপন পরিচালনা করতে চায়, সেক্ষেত্রে বয়স, লিঙ্গ, পিন কোড বা জিপ কোড ছাড়া টার্গেট করার অনুমতি দেয়া হয় না। 

আবাসন কর্মসংস্থান বা ঋণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দাতাদের টার্গেট অপশন গুলো অনেক ছোট হয়ে থাকে। 

এ সকল ক্ষেত্রে টার্গেট অডিয়েন্সদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের বিষয়ে বিশদ তথ্য কখনোই ফেসবুকে সবার জন্য উপলব্ধ করে না। 

শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এমন একটি টুল তৈরি করা আছে যার দ্বারা সমস্ত আবাসন বিজ্ঞাপনগুলো এক জায়গায় দেখানো হয় এবং বিভিন্ন দেশ জুড়ে টার্গেট অডিয়েন্স সেগুলো দেখতে পায় এবং বিজ্ঞাপনদাতা নিশ্চিত হতে পারে তার বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হচ্ছে কিনা। 

পরিশেষে,

ফেসবুক অ্যাড পলিসি ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়ে চলেছে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আপনাকে বিজনেস পেজের নিরাপত্তা ও কাস্টমারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার স্বার্থে এই সকল নীতিমালা বিষয়ে ধারনা রাখতে হবে। তা না হলে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে ফেসবুক নির্ভর আপনার বিজনেস উদ্যোগটি। 

ফেসবুকে অ্যাড পরিচালনা করতে গিয়ে আপনি যদি অ্যাড পলিসিগত কোন প্রকার জটিলতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন তবে আপনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে কমেন্ট করুন। 

ফেসবুক অ্যাড অপটিমাইজেশনঃ অ্যাড ফ্যাটিগ কি? কিভাবে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন?

ফেসবুক অ্যাড অপটিমাইজেশনঃ অ্যাড ফ্যাটিগ কি? কিভাবে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন?

আজ আলোচনা করবো অ্যাড ফ্যাটিগ বিষয়ে তবে তার আগে কিছু প্রশ্ন, আপনার একটি সফল ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন কি ধীরে ধীরে তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলছে?

অ্যাড খরচ বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু তার বিপরীতে সেল হচ্ছে না। কাস্টমার অ্যাড দেখে আর আগের মতো সাড়া দিচ্ছে না? 

আপনি সম্ভবত অ্যাড ফ্যাটিগ জনিত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।  

অ্যাড ফ্যাটিগ কি? 

অ্যাড ফ্যাটিগ হচ্ছে ফেসবুক মার্কেটিং এর একটি টার্ম। যখন একজন অডিয়েন্স একটা অ্যাড বার বার দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে যায় এবং সে অ্যাডের সাথে আর এঙ্গেজ হয়না, সেই অবস্থাকে  অ্যাড ফ্যাটিগ বলা হয়।

কিভাবে বুঝবেন আপনার ক্যাম্পেইনটি অ্যাড ফ্যাটিগ সমস্যায় ভুগছে? 

ফেসবুকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্পেইন ম্যাট্রিক্স অ্যাড ফ্যাটিগ বোঝার জন্য সহায়ক। 

একটি হচ্ছে ফ্রিকোয়েন্সি এবং অন্যটি হচ্ছে Click-through রেট

ফ্রিকোয়েন্সি

একটি অ্যাড অডিয়েন্সদের গড়ে কতবার দেখানো হচ্ছে বা তারা গড়ে কতবার সেই অ্যাড দেখছে সেই সংখ্যাকে বলা হয় ফ্রিকোয়েন্সি। গড় ফ্রিকোয়েন্সি বের করা হয় টোটাল ইম্প্রেশন এর সাথে টোটাল রিচকে ভাগ দিয়ে। 

Click-through রেট

 

প্রতিবার অডিয়েন্স একটা অ্যাড দেখার পর সেটিতে ক্লিক তাদের ক্লিক করার যে শতকরা গড় অনুপাত অর্থাৎ টোটাল ইম্প্রেশন এর সাথে ক্লিক সংখ্যার পার্থক্য হচ্ছে Click-through রেট। 

যখন দেখবেন আপনার অ্যাড ক্যাম্পেইনটির ফ্রিকুয়েন্সি বেড়ে যাচ্ছে এবং click-through রেট কমে যাচ্ছে। ঠিক সে সময় বুঝবেন, আপনার ক্যাম্পেইনটি অ্যাড ফ্যাটিগ জনিত সমস্যায় পড়েছে। 

এই সমস্যা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে, ফেসবুকে একটি নোটিফিকেশন দিয়ে সতর্ক করা হয়। 

অ্যাড ফ্যাটিগ কেন হয়? 

ধরুন, একজন মানুষকে যদি একই ধরনের খাবার প্রতিবেলায় একটি লম্বা সময় ধরে দেওয়া হয় তবে কি হবে?  সে রুচিহীনতার ভুগবে। অর্থাৎ স্বাদের পরিবর্তন না থাকায় সে দীর্ঘ সময় ধরে সেই খাবারটি খেতে পারে না। 

একইভাবে একটি অ্যাড একজন মানুষকে লম্বা সময় ধরে ক্রমাগত দেখিয়ে গেলে সেটি তার জন্য আর কোনো গুরুত্ব রাখে না, এক সময় বিরক্তি বোধ করে আরো কিছুদিন পরে সেটি আর দেখতে চায় না। আর তখনই অ্যাড ফ্যাটিগ সৃষ্টি হয়। 

কিভাবে অ্যাড ফ্যাটিগ জনিত সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন? 

ফেসবুক ক্যাম্পেইন যখন অ্যাড ফ্যাটিগ জনিত সমস্যার সম্মুখীন হয় তখন এমন কিছু কৌশল রয়েছে যেগুলো অবলম্বন করার মাধ্যমে খুব সহজেই এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা যায়। 

সেজন্য সব সময় যে বিষয়টি মনে রাখবেন সেটি হচ্ছে, অডিয়েন্সদের ভিন্ন ধরনের অ্যাড দেখাতে হবে অথবা ভিন্ন অডিয়েন্স গ্রুপে অ্যাড দেখাতে হবে। 

তাহলে কিভাবে আপনি এ কাজগুলো করবেন যা আপনার ক্যাম্পেইনটিকে অ্যাড ফ্যাটিগ জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে? 

অ্যাড ক্রিয়েটিভ পরিবর্তন করুন

প্রথমত আপনি যেটি করতে পারেন সেটি হচ্ছে ক্যাম্পেইনটি জন্য যে অ্যাড ক্রিয়েটিভ চালু রেখেছেন সেটি পরিবর্তন করুন। 

অ্যাড ক্রিয়েটিভ পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে যা করতে হবে তা হচ্ছে ক্যাম্পেইন এবং অ্যাড সেট ঠিক রেখে অ্যাডটি ডুপ্লিকেট করে নিন।

 

এবারে ডুপ্লিকেট করা অ্যাডে সম্পূর্ণ নতুন একটি অ্যাড ক্রিয়েটিভ যুক্ত করে পাবলিশ করুন এবং পুরনো অ্যাডটি অফ করুন। 

এতে করে একটি নির্দিষ্ট ক্যাম্পেনের টার্গেট অডিয়েন্সগুলো পুরনো অ্যাড আর দেখতে পাবে না পরিবর্তে নতুন অ্যাড দেখবে। 

অ্যাড সেটে পরিবর্তন নিয়ে আসুন

অ্যাড ফ্যাটিগ থেকে মুক্তি পেতে অ্যাড টার্গেটিং পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। এক্ষেত্রে ক্যাম্পেইন এবং অ্যাড ঠিক রেখে অ্যাড সেটের টার্গেটিংগুলো পরিবর্তন করুন।

এজন্য অ্যাড সেট ডুপ্লিকেট করে নিয়ে টার্গেটিংগুলো বা টার্গেটিং কিওয়ার্ডগুলো পরিবর্তন করে নেবেন। এতে করে যে দর্শক গুলো আপনার অ্যাড দেখছিল তারা বাদে নতুন একটি অডিয়েন্স গ্রুপ অ্যাড দেখবে। এসময় আগের অ্যাড সেট অফ করে দিবেন।  

এছাড়াও লুকালাইক অডিয়েন্স তৈরি করে অ্যাড সেটে পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারেন। 

ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভ পরিবর্তন করুন 

অ্যাড ফ্যাটিগ থেকে মুক্তি পাবার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভ পরিবর্তন করা। এক্ষেত্রে অ্যাড সেট এবং অ্যাড ঠিক থাকবে শুধুমাত্র ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভ পরিবর্তন হবে।

এটি করার জন্য ক্যাম্পেইনটি ডুপ্লিকেট করে নিবেন এবং সে ক্যাম্পেইনের জন্য অ্যাড সেট এবং অ্যাড গুলো আগের মতই থাকবে অর্থাৎ কোন ভ্যারিয়েবলের পরিবর্তন করবেন না।

ধরুন ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভ ছিলো রিচ  সেটি পরিবর্তন করে  পোস্ট এঙ্গেজমেন্ট অবজেক্টিভ সিলেক্ট করুন।

এজন্য ক্যাম্পেইন ডুপ্লিকেট করে শুধু অবজেক্টিভ পরিবর্তন করে পাবলিশ করে দিবেন। 

অফারে পরিবর্তন আনুন 

আরো একটি পরিবর্তন আপনাকে অ্যাড ফ্যাটিগ থেকে মুক্তি দিতে পারে সেটি হচ্ছে আপনি অ্যাড এর মাধ্যমে যা অফার করছেন সে অফারটি পরিবর্তন অথবা পরিমার্জন করুন।

এই ক্ষেত্রে টার্গেট অডিয়েন্স ভিন্ন ম্যাসেজ পাবে। অর্থাৎ একটা ফ্রেশ অ্যাড দেখবে ফলে তার সাথে এঙ্গেজ হওয়ার পরিমাণ বাড়বে যা ক্লিক-থ্রু-রেট আরো বাড়িয়ে তোলার মাধ্যমে অ্যাড ফ্যাটিগ থেকে মুক্তি পাবে। 

অ্যাড ক্রিয়েটিভের রঙের পরিবর্তন

অ্যাড ফ্যাটিগ থেকে মুক্তি পাবার জন্য আরও একটি সহজ উপায় হচ্ছে ক্যাম্পেইন, অ্যাড সেট অথবা অ্যাডে বড় ধরনের পরিবর্তন না করই শুধুমাত্র অ্যাড ক্রিয়েটিভের রঙের পরিবর্তন করার মাধ্যমে একটা রিফ্রেশ অ্যাড তৈরি করা।

যে অ্যাডটি কাস্টমার দেখতে দেখতে বিরক্ত তারা যখন সেই স্থানে সম্পূর্ণ ভিন্ন রঙের একটি অ্যাড দেখবে, তখন মনে করবে এটি নতুন কিছু। 

তখন তারা সেটির সাথে যুক্ত হবে যা এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি করবে ও আপনার ক্লিক-থ্রু-রেট বাড়িয়ে তুলবে। এক্ষেত্রে ফ্রিকোয়েন্সি যদি বেশি হয়ে থাকে সেটি সমস্যা হবে না। কারণ অডিয়েন্স সর্বোচ্চসংখ্যক বার অ্যাড দেখার পরেও সেটির সাথে যুক্ত হচ্ছে।  এই ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই। 

অ্যাড ক্রিয়েটিভের টেক্সট পরিবর্তন করুন 

অ্যাডের রং পরিবর্তন না করে গ্রাফিকের মধ্যে টেক্সটগুলোর পরিবর্তন করার মাধ্যমে আপনি অ্যাড ফ্যাটিগ কাটিয়ে উঠতে পারেন। অডিয়েন্স যখন নতুন একটি ম্যাসেজ পাবে তখন অ্যাডের সাথে যুক্ত হবে। 

কারণ পূর্বের এবং পরের অ্যাডের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে যে সম্পর্কে তারা জানতে আগ্রহী। 

 

 

অ্যাড ফরম্যাট পরিবর্তন করুন 

অ্যাড ফরম্যাট পরিবর্তন করার মাধ্যমেও অ্যাড ফ্যাটিগ কাটিয়ে উঠা যায়। এজন্য ক্যাম্পেইন এবং অ্যাড সেট ঠিক রেখে অ্যাডটিকে ডুপ্লিকেট করবেন। এরপরে আপনি যদি “ইমেজ অ্যাড” ব্যবহার করে থাকেন তাহলে সেটি পরিবর্তন করে “ভিডিও অ্যাড” যুক্ত করবেন এবং সেটি পাবলিশ করবেন একই সাথে পূর্বে অ্যাড অফ করে দিবেন। 

এক্ষেত্রে মানুষ সম্পূর্ণ নতুন ফরম্যাটে কনটেন্ট পাবে যার ফলে অ্যাডের সাথে যুক্ত হবার প্রবণতা বেড়ে যাবে যা অ্যাড ফ্যাটিগ কাটিয়ে উঠতে সহায়ক।

কল টু অ্যাকশন এর পরিবর্তন

ধরুন, কোনো একটি অ্যাডে লার্ন মোর কল-টু-অ্যাকশন দেওয়া আছে। আপনি সেটি পরিবর্তন করে “সাইন আপ” বা “সাবস্ক্রাইব” ইত্যাদি ধরনের কল-টু-অ্যাকশন ব্যবহার করতে পারেন। 

কল-টু-একশনের পরিবর্তনের ফলে অডিয়েন্সের মধ্যে কনটেন্ট এর সাথে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছাটা পরিবর্তিত হয়। এতে কিছু অডিয়েন্স যারা সঠিক কল-টু-অ্যাকশন খুঁজছিলো বা তাদের পছন্দের কল-টু-অ্যাকশন খুঁজছিলো সেটি তারা খুঁজে পায়। ফলে অ্যাডে যুক্ত হয়। আর এটি অ্যাড ফ্যাটিগ সমস্যাকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। 

পরিশেষে,

অডিয়েন্সদের নিত্য নতুন অ্যাড উপহার দেবার মাধ্যমে তাদের এঙ্গেজ করা জরুরি। তবে একই অ্যাড বার বার দেখিয়ে তাদের বিরক্ত করা ঝুঁকিপূর্ণ।

যখন খেয়াল করবেন আপনার অ্যাডের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ছে কিন্তু ক্লিক-থ্রউ-রেট বাড়ার পরিবর্তে কমছে তখন সতর্ক হন। উপরে আলোচনা করা কৌশলগুলো প্রয়োগ করুন। এতে করে আপনি খুব দ্রুত অ্যাড ফ্যাটিগ সমস্যার সম্মুখীন হবার আগেই তার প্রতিকার করতে সক্ষম হবেন।  

আপনি কি মনে করেন? আপনি কি অ্যাড ফ্যাটিগ মোকাবেলায় এই কৌশলগুলি ব্যবহার করেন? আপনি কি সবার সাথে নতুন কোনো কৌশল শেয়ার করতে চান? আপনার চিন্তা জানিয়ে কমেন্ট করুন। 

আরো পড়ুনঃ

কখন ও কিভাবে ফেসবুক অ্যাডের জন্য “রিচ অবজেক্টিভ” ব্যবহার করবেন

ভুমিকাঃ

ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজারের অ্যাড অবজেক্টিভগুলোর প্রথমে রয়েছে ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস এবং রিচ অবজেক্টিভ।এটি থেকে অনেকে অনুমান করতে পারেন ফেসবুক মার্কেটিং এর শুরুর দিকে ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস তৈরি বা কাস্টমারদের কাছে প্রোডাক্টগুলো পরিচিত করানোর জন্য এই অবজেক্টিভগুলো ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি কি শুধুই তাই?

ফেসবুক অ্যাড অবজেক্টিভগুলোর রয়েছে বহুমাত্রিক ব্যবহার পদ্ধতি। কিভাবে এই অবজেক্টিভগুলো ব্যবহার করবেন সেটি বিজনেসের লক্ষ্য ও কাস্টমারদের আচরণের উপর নির্ভর করে নির্ণয় করতে হয়।

কখন ও কিভাবে ফেসবুক অ্যাডের জন্য “রিচ অবজেক্টিভ” ব্যবহার করবেন

কখন ও কিভাবে ফেসবুক অ্যাডের জন্য “রিচ অবজেক্টিভ” ব্যবহার করবেন

ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজারের অ্যাড অবজেক্টিভগুলোর প্রথমে রয়েছে ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস এবং রিচ অবজেক্টিভ।এটি থেকে অনেকে অনুমান করতে পারেন ফেসবুক মার্কেটিং এর শুরুর দিকে ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস তৈরি বা কাস্টমারদের কাছে প্রোডাক্টগুলো পরিচিত করানোর জন্য এই অবজেক্টিভগুলো ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি কি শুধুই তাই?

ফেসবুক অ্যাড অবজেক্টিভগুলোর রয়েছে বহুমাত্রিক ব্যবহার পদ্ধতি। কিভাবে এই অবজেক্টিভগুলো ব্যবহার করবেন সেটি বিজনেসের লক্ষ্য ও কাস্টমারদের আচরণের উপর নির্ভর করে নির্ণয় করতে হয়।  

রিচ অবজেক্টিভ কি?

রিচ অবজেক্টিভ নিশ্চিত করে, একটি বিজ্ঞাপন সর্বাধিক অডিয়েন্সদের কাছে পৌঁছানো ও তারা কতবার সেটি দেখছে। এই অবজেক্টিভের মাধ্যমে আপনি যথাসম্ভব সর্বোচ্চ অডিয়েন্সদের কাছে অ্যাডটি নিয়ে যেতে পারবেন এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতবার অ্যাডটি দেখবে। 

ধরুন, আপনি চাচ্ছেন আপনার বিজনেসের অ্যাড একটি নির্দিষ্ট এলাকার সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সামনে নিয়ে যাবেন এবং তাদের বার বার দেখানোর মাধ্যমে সচেতন করে তুলবেন। তাহলে আপনি রিচ অবজেক্টিভ সিলেক্ট করবেন ও ফ্রিকোয়েন্সি নির্দিষ্ট করে দিবেন যে প্রতিজন অডিয়েন্স নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতবার অ্যাডটি দেখবে।

রিচ অবজেক্টিভ পরিমাপ করা হয় “রিচ এবং ফ্রিকোয়েন্সি” দিয়ে। এই ম্যাট্রিক্স গুলো বুঝতে সাহায্য করে কতজন মানুষ আপনার অ্যাড দেখছে এবং কতবার দেখছে।

এই অবজেক্টিভ আরো পরিমাপ করে প্রতি ১০০০ জন মানুষকে আপনার অ্যাড পৌঁছে দিতে কি পরিমান খরচ হচ্ছে।

রিচ অবজেক্টিভ

ফ্রিকোয়েন্সি ম্যাট্রিক্স আপনাকে বুঝতে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে যে, প্রোডাক্টের ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস তৈরি করতে বা কাস্টমারদের কাছে প্রোডাক্টগুলো পরিচিত করে তুলতে অডিয়েন্সদের কতবার অ্যাডগুলো দেখানো হবে।

রিচ এবং ফ্রিকোয়েন্সি বায়িং

ফেসবুকে অ্যাড দেবার জন্য দুই ধরনের বায়িং স্ট্র্যাটেজি রয়েছে যেমন, অকশন ও ফ্রিকোয়েন্সি বায়িং। বর্তমান আপডেট এর পরে সর্বমোট সাতটি অবজেক্টিভ এর জন্য রিচ এবং ফ্রিকোয়েন্সি বায়িং অ্যাভেলেবল।

এটি ফেসবুক বায়িং পদ্ধতির বিকল্প কৌশল। সাধারণত আমরা অকশন পদ্ধতি ব্যবহার করি। এই পদ্ধতি অনুসারে ফেসবুক অন্যান্য সকল অ্যাডদাতাদের অ্যাডগুলোর সাথে বিড করে এক দেখানোর জন্য মূল্য ও প্লেসমেন্ট নির্ধারণ করে।

অপরদিকে রিচ এবং ফ্রিকোয়েন্সি বায়িং পদ্ধতি আপনাকে আরো নিয়ন্ত্রিত উপায়ে অ্যাড পরিচালনার সুযোগ দেয়। যেখানে আগে থেকেই ফেসবুক আপনাকে অ্যাড রেজাল্টের আনুমানিক ফলাফল সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে। একটি অ্যাডের টোটাল রিচ এবং ফ্রিকোয়েন্সি সংখ্যা আপনি নির্ধারণ করে দেবার মাধ্যমে আগে থেকেই ফলাফলকে অপটিমাইজ করতে পারবেন।

রিচ এবং ফ্রিকোয়েন্সি বায়িং

তবে উল্লেখ্য যে রিচ এবং ফ্রিকোয়েন্সি স্ট্রাটেজি বড় সংখ্যক অডিয়েন্স দের জন্য কার্যকর। যেখানে আপনি সর্বোচ্চসংখ্যক অডিয়েন্সকে কম সংখ্যকবার অ্যাড দেখানোর মাধ্যমে রিচ করতে পারবেন। 

কেবল মাত্র তখনই রিচ ক্যাম্পেইনে  সেট করবেন, যদি আপনার মার্কেট শেয়ার কম হয় অথবা আপনার ব্র্যান্ডটি মার্কেটে একেবারেই নতুন হয়। 

 সে ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য রিচ অবজেক্টিভ ক্যাম্পেইন চালালে কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়।

কখন রিচ অবজেক্টিভ দিয়ে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবেন 

রিচ অবজেক্টিভ ব্যবহার করতে হবে বুদ্ধিমত্তার সাথে। লুকালাইক অডিয়েন্সের মত ব্রড অডিয়েন্সের জন্য এই অবজেক্টিভ তেমন কোনো ফলাফল নিয়ে এসে দেয় না।

রিচ অবজেক্টিভ থেকে সেরা ফলাফল পেতে স্মল অডিয়েন্স গ্রুপকে টার্গেট করতে হবে, এটি আপনাকে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তার জন্য (CPM) সিপিএম কম রাখতে সাহায্য করে।

রিচ অবজেক্টিভ এর আরেকটি উপকারিতা হচ্ছে, এটি একটি বিজ্ঞাপনকে অ্যাড ফ্যাটিক হওয়া থেকে বিরত রাখে। কারণ আপনি ফ্রিকুয়েন্সি ক্যাপ সেট করার মাধ্যমে অডিয়েন্স দের এড দেখার সংখ্যাটিকে বা অডিয়েন্স কতবার এড দেখবে সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

অন্যান্য অবজেক্টিভ গুলোর মতই রিচ অবজেক্টিভ তিন ধরনের অডিয়েন্স গ্রুপে পরিচালনা করতে পারেন। সেগুলো হচ্ছে কোল্ড, ওয়ার্ম ও হট।

কোল্ড অডিয়েন্স টার্গেটিং

রিচ অবজেক্টিভ সেরা সিদ্ধান্ত যখন আপনি জিওগ্রাফিক্যাল ভাবে অডিয়েন্সকে টার্গেট করছেন বা লোকাল অডিয়েন্সকে টাগেট করছেন।

এক্ষেত্রে অডিয়েন্স সাইজ কম হয় এবং তাদেরকে বারবার অ্যাড দেখানোর মাধ্যমে সচেতন করে তোলা যায়।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, রেস্টুরেন্ট অথবা লোকাল ব্র্যান্ড শপ এ ধরনের বিজনেসের জন্য আপনি নির্দিষ্ট এলাকার অডিয়েন্স কে টার্গেট করতে রিচ অবজেক্টিভ ব্যবহার করতে পারেন।

কোল্ড অডিয়েন্স টার্গেটিং

ওয়ার্ম অডিয়েন্স টার্গেটিং

ওয়ার্ম অডিয়েন্সে রিচ ক্যাম্পেইন চালাতে কাস্টম অডিয়েন্স থেকে বেছে নিবেন মোস্ট এঙ্গেজিং অডিয়েন্স গ্রুপকে।

ধরুন, আপনার একটি প্রমোশনাল ভিডিও অ্যাড চলেছিল সেই ভিডিওটি যারা ৮০% বা ৯০% ভিউ করেছে আপনি তাদেরকে রিচ করার মাধ্যমে আপনার ব্র্যান্ডটিকে সেই অডিয়েন্স দের টপ অফ দা মাইন্ডে রাখতে চান। 

তাহলে আপনি একটি স্বল্প সময় নির্ধারণ করে তাদের প্রতিদিন অথবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক বার এড গুলো দেখাতে রিচ ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভ ব্যবহার করতে পারেন।

ওয়ার্ম অডিয়েন্স টার্গেটিং

হট অডিয়েন্স টার্গেটিং

একটি বিজনেসের ওয়েবসাইট ভিজিটররা সেই বিজনেসের হট অডিয়েন্স হিসেবে বিবেচিত হয়। 

ওয়েবসাইট ভিজিটরদের সংখ্যা যেকোনো অডিয়েন্স গ্রুপ থেকে কম। এই অডিয়েন্স গ্রুপকে সচেতন রাখতে আপনি রিচ অবজেক্টিভ ক্যাম্পেইন চালাতে পারেন।

সেজন্য আপনাকে শর্ট ডিউরেশন এর ক্যাম্পেইন টাইম নির্ধারণ করতে হবে এবং তাদের জন্য ফ্রিকোয়েন্সি কম রাখতে হবে।

বেশি সময় ধরে এই অডিয়েন্স গ্রুপকে বেশিবার অ্যাড দেখাতে গেলে তারা বিরক্ত হতে পারে। এই এড দেখানোর ধরন অনেকটা রিমাইন্ডার এর মত।

 

 

স্বল্প সময়ের অফার গুলোর জন্য

কিছু বিজনেস অফার রয়েছে যা খুব স্বল্প সময়ের জন্য থাকে যেমন ভ্যালেন্টাইন ডে বা ফ্রাইডে অফার ইত্যাদি। 

এক্ষেত্রে আপনার হট অডিয়েন্স গ্রুপকে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে পুরোপুরি রিচ করতে, রিচ অবজেক্টিভ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে।

 

 

রিচ অবজেক্টিভ চালানোর ক্ষেত্রে কি ধরনের বাজেট নির্ধারণ করতে হয়

অপরিকল্পিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ এক বাজেট আপনার পুরো অ্যাড কৌশলকে এলোমেলো করে দিতে পারে।

বাজেট নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি মাথায় রাখবেন, ডেইলি বাজেট যত বেশি হবে আপনি প্রতিদিন ততবেশি অ্যাক্টিভ অডিয়েন্সকে রিচ করতে পারবেন।

যদি অডিয়েন্স সাইজের তুলনায় এন্ড বাজেট বেশি হয়ে যায় সেটি অ্যাড ফ্যাটিক ইস্যু তৈরি করে। এজন্য ফ্রিকোয়েন্সি ক্যাপ ব্যবহার করা জরুরি।

দেখা গেছে রিচ অবজেক্টিভ সবচেয়ে ভালো কাজ করে ছোট অডিয়েন্স গ্রুপে এবং স্বল্প বাজেটে। সবসময়ই এক বাজেট কম থেকে শুরু করবেন এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করবেন।

ছোট অডিয়েন্স গ্রুপে এড চালানোর সময় সর্বনিম্ন তিন থেকে পাঁচ ডলার দিয়ে শুরু করতে পারেন, এরপরে ধীরে ধীরে সেটি প্রয়োজনমাফিক বৃদ্ধি করবেন।

ফেসবুক রিচ অবজেক্টিভ এর জন্য খরচ নির্ধারণ করা হয় CPM (cost per mille)  দ্বারা ।

প্রথমবার রিচ অ্যাড রান করার সময় এর খরচ সম্পর্কে আপনার একটি ধারণা হয়ে যাবে যা পরবর্তী অ্যাড পরিচালনায় বাজেট ক্যালকুলেশনে আপনাকে সাহায্য করবে।

পরিশেষে

সেরা মার্কেটিংয়ের মূল কথা হচ্ছে আপনার ব্র্যান্ড বা প্রোডাক্ট কে কাস্টমারের বায়িং কনসিডারেশন এর মধ্যে নিয়ে আসা। এবং এটি তখনই সফল হয় যদি আপনি কাস্টমারদের টপ অব দ্য মাইন্ডে জায়গা করে নিতে পারেন।

এবং এই কাজটি করতে সবসময় যে আপনাকে এনগেজমেন্ট অ্যাড চালাতে হবে তা নয়, আপনাকে বুঝতে হবে আপনি আপনার টার্গেট অডিয়েন্সদের থেকে কি প্রত্যাশা করছেন এবং সে প্রত্যাশা মাফিক ফলাফল পাওয়ার জন্য আপনি কোন কৌশল ব্যবহার করে তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছেন।

আর তাই কাস্টমারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে আপনাকে ফেসবুক এন্ড অবজেকটিভ গুলোর বহুমাত্রিক ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে। তবেই আপনি একটি সফল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন পরিচালনার মাধ্যমে বিজনেসকে প্রফিটেবল করে তুলতে পারবেন।

 

আরো পড়ুনঃ

কমপ্লিট ফেসবুক অ্যাড গাইড ২০২১ঃ কিভাবে ফেসবুকে অ্যাড দিতে হয়

ভুমিকাঃ কমপ্লিট ফেসবুক অ্যাড গাইড ২০২১ঃ ফেসবুক অ্যাড তৈরির প্রাথমিক পর্যায় থেকে অ্যাডভান্স কৌশলের প্রতিটি ধাপ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই গাইডে।

লাইক-ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় পোস্ট