ফেসবুক অ্যাড রিটার্গেটিংবা Retargeting এর উদ্দেশ্য কী এবং কিভাবে করে

ফেসবুক অ্যাড রিটার্গেটিংবা Retargeting এর উদ্দেশ্য কী এবং কিভাবে করে

রিটার্গেটিং অ্যাড কী?

আগের ক্রেতাকে বা ভিজিটরদের আবার টার্গেট করাই রিটার্গেটিং। retargeting এর উদ্দেশ্য হল আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে যারা সচেতন, তাদের টার্গেট করে বিক্রি বাড়ানো। রিটার্গেটিং ডিজিটাল চ্যানেল গুলো ব্যবহার করে কুকি বেজ টেকনোলজির মাধ্যমে করা হয়।

রিটার্গেটিং অ্যাড কৌশল ব্যবহার করে কীভাবে ফেসবুক মার্কেটিং কম খরচে বেশি সেল করবেন?  আমরা আপনাকে সেই সম্পর্কে জানাতে চলেছি।

রিটার্গেটিং বা retargeting এর উদ্দেশ্য কী?

একটি সমীক্ষা অনুসারে, ওয়ার্ম বা সচেতন পুরনো অডিয়েন্স, কোল্ড বা নতুন অডিয়েন্সদের তুলনায় ৭০% বেশি কনভার্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইকমার্স বিজনেসে বেশি পরিমানে ROI পাওয়াই রিটার্গেটিং বা retargeting এর উদ্দেশ্য।

ফেসবুক রিটার্গেটিং অ্যাড আপনার বিজনেসের সেই সকল অডিয়েন্সদের জন্য যারা আপনার ব্র্যান্ডের সাথে এঙ্গেজড আছেন। তবে এখনও তারা কেনাকাটা সম্পন্ন করেন নি।  এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে ফেসবুক রিটার্গেটিং অ্যাড আপনার বিজনেসের সাথে ইতিমধ্যে এঙ্গেজ থাকা সঠিক অডিয়েন্সদের (ওয়ার্ম অডিয়েন্স) কাছে রিচ করার জন্য অন্যতম শক্তিশালী অ্যাড কৌশল। 

ফেসবুক রিটার্গেটিং বা retargeting কীভাবে কাজ করে?

ফেসবুক রিটার্গেটিং আপনাকে অতীতে ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজের অডিয়েন্সদের কাছে পুনরায় রিচ করতে সহায়তা করে। 

উদাহরণস্বরূপ, একজন কাস্টমার অনলাইনে গিফট আইটেম খোঁজ করছে। সে গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে আপনার ই কমার্স ওয়েবসাইটে ল্যান্ড করলো। কিন্তু কিছুই না কিনে ওয়েবসাইট ছেড়ে চলে গেল। এখন, আপনি ঠিক করলেন যে সকল কাস্টমার কেনাকাটা সম্পন্ন না করে চলে গেছে তাদের পুনরায় টার্গেট করে অ্যাড দিবেন।

এ জন্য আপনি একটি কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করে রিটার্গেটিং অ্যাড রান করতে হবে। তাহলে, সেই কাস্টমার যখন ফেসবুকে একটিভ থাকবে তখন সে আপানর ই কমার্স ব্র্যান্ড এর অ্যাড দেখতে পাবে। 

কেন ফেসবুক রিটার্গেটিং অ্যাড করবো, এর গুরুত্ব কী?

বিজনেসে সেল নিয়ে আসতে নতুন নতুন অডিয়েন্সদের কাছে পৌঁছনোর পাশাপাশি, পুরনো অডিয়েন্সদের কাছে আপনার সেলস ম্যাসেজ পৌঁছে দেয়া বেশি জরুরি। কারন পরিক্ষিত ভাবে তাদের ROI অনেক বেশি। 

আপনি যদি তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসতে মার্কেটিং কৌশলে বিনিয়োগ করেন, তবে দিগুন বা তার বেশি সেল করতে পারবেন।

চলুন কিছু পরিসংখ্যান দেখি, 

  • রিটার্গেটিং অ্যাড শপিং কার্ট ত্যাগ করার পরিমান ৬.৫% কমিয়ে আনে
  • ৬৮% মার্কেটিং এজেন্সিগুলো তাদের মার্কেটিং প্ল্যানে রিটার্গেটিং অ্যাড এর জন্য বাজেট রাখেন
  • এই অ্যাড কৌশল অন্য সকল অ্যাড কৌশলের চেয়ে ১০৪৬% কার্যকরী বলে প্রমানিত

রিটার্গেটিং অডিয়েন্স বিল্ড-আপ

দুই ধরনের সোর্স ব্যবহার করে এই রিটার্গেটিং অডিয়েন্স বিল্ড-আপ করা যায়। 

এক, নিজস্ব সোর্স। যেমনঃ ওয়েবসাইট, অ্যাপ এক্টিভিটি, কাস্টমার লিস্ট এবং অফলাইন এক্টিভিটি

দুই, ফেসবুক সোর্স যেমনঃ ভিডিও, ইনস্টাগ্রাম বিজনেস প্রোফাইল, লিড ফরম, ইভেন্ট, ইনস্ট্যান্ট এক্সপিরিয়েন্স, ফেসবুক পেজ।

নিজস্ব সোর্স

অ্যাপ এক্টিভিটিঃ এটি অনেকটাই ওয়েবসাইট ইভেন্টগুলোর মত। যেখানে কাস্টমারদের নির্দিষ্ট এক্টিভিটিগুলোর উপর নির্ভর করে রিটার্গেটিং করতে পারবেন। 

কাস্টমার লিস্টঃ আপনার কাছে থাকা কাস্টমারদের ডেটা, যেমন ইমেল বা ফোন নম্বর ব্যবহার করে অডিয়েন্সদের রিটার্গেটিং করতে পারবেন। 

অফলাইন এক্টিভিটিঃ অনলাইনের বাইরে যে সকল কাস্টমার আপনার বিজনেসের সাথে ফোনকল বা ফিজিক্যাল স্টোরে এসে কেনাকাটা করেছে তাদের নিয়ে কাস্টোম অডিয়েন্স তৈরি করতে পারবেন। 

ফেসবুক সোর্স গুলো হচ্ছে, 

ভিডিওঃ নির্দিষ্ট কোন ভিডিওতে এঙ্গেজ অডিয়েন্সদের ভিউের শতকরা অনুপাতে বা সময়ের উপর নির্ভর করে   রিটার্গেটিং অ্যাড পরিচালনা করতে পারবেন। 

ইনস্টাগ্রাম বিজনেস প্রোফাইলঃ ইনস্টাগ্রাম বিজনেস প্রোফাইলের সাথে এঙ্গেজ কাস্টমারদের আচরণের উপর নির্ভর করে তাদের রিটার্গেট করতে পারবেন।

লিড ফরমঃ কেউ যদি লিড ফরম পূরণ করে সাবমিট না করেন অথবা কেউ যদি পূরণ করে সাবমিট করে থাকেন তাদের সবাইকে রিটার্গেট করা যায়।

ইভেন্টঃআপনার ফেসবুক ইভেন্টগুলোর সাথে যে সকল কাস্টমার এঙ্গেজ হয়েছিলো তাদের প্রতিক্রিয়াগুলোর উপর নির্ভর করা রিটার্গেটিং অ্যাড দিতে পারবেন। 

ফেসবুক পেজঃ ফেসবুক পেজের সাথে এঙ্গেজ কাস্টমারদের এক্টিভিটি গুলোর উপর নির্ভর করে তাদের রিটার্গেটিং করতে পারবেন। 

এই সোর্সগুলো থেকে আপনি প্রয়োজন অনুসারে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করে নিবেন।

retargeting এর উদ্দেশ্যে কাস্টম অডিয়েন্স সেট করার নিয়ম

  1. আপনার এড ম্যানেজারের অডিয়েন্স অপশনে যাবেন। 
  2. সেখান থেকে ক্রিয়েট অডিয়েন্সের ক্লিক করবেন এবং কাস্টম অডিয়েন্স সিলেক্ট করবেন।
  3. এবার আপনাকে সোর্স সিলেক্ট করতে বলা হবে।
  4. এবারে আপনি একটি সোর্স সিলেক্ট করে দিলে রুলস সেকশন আসবে, সেখানে আপনি কি ধরনের ট্রাফিক ফিল্টার করতে চান সে রুলস সেট করে দিবেন। 
  5. ধরুন, আপনি চাচ্ছেন বিগত ৩০ দিনের সকল ওয়েবসাইট ভিজিটর তাহলে আপনি সেই রুলস সেট করবেন।
  6. এরপর আপনাকে বলা হবে এই অডিয়েন্স গ্রুপটি ইনক্লুড করবেন নাকি এক্সক্লুড করবেন। আপনি অডিয়েন্সদের জন্য  ভিন্ন পাঁচটি রুল সেট করতে পারবেন। 
  7. এখন আপনার অডিয়েন্স নাম সিলেক্ট করতে হবে।

 

  • এরপরে ক্রিয়েট অডিয়েন্স ক্লিক করতে হবে।

    রিটার্গেটিং কারার উদ্দেশ্যে ফেসবুক কাস্টম অডিএন্স তৈরি করার প্যনেল
    রিটার্গেটিং উদ্দেশ্যে ফেসবুক কাস্টম অডিএন্স

আপনি যখন অডিয়েন্স ক্রিয়েট করা শেষ করবেন তখন আপনাকে এড তৈরি করতে বলা হবে।

এখন আপনার একটি অডিয়েন্স ক্রিয়েট হয়ে গেছে। এখন সেই অডিয়েন্স গ্রুপ কীভাবে ব্যবহার করবেন? 

ধরুন আপনি চাচ্ছেন আপনি একটি কাস্টম অডিয়েন্স গ্রুপ তৈরি করতে যারা ব্লগিং এর প্রতি ইন্টারেস্ট রাখে। আপনি ইতিমধ্যে আলোচনা থেকে জেনেছেন, কীভাবে অডিয়েন্স কন্টেন্টের সাথে এঙ্গেজ হয়। 

এবার রুল সেট করুন ঠিক কতদিন পর্যন্ত অডিয়েন্স আপনি রিটেন করতে চান। তাহলে ফেসবুক ঠিক সেই সময়ের কাস্টমারদের এঙ্গেজমেন্ট বিহেভিয়ার অনুযায়ী অ্যাড শো করবে।

 

 

কাস্টম অডিয়েন্স সেগমেন্ট তৈরি করতে কন্টেন্টের ব্যবহার

আপনি দুটি ভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করুন এবং কনটেন্টগুলো প্রমোট করুন। এরপর খেয়াল করুন সবগুলো ট্রাফিক সোর্স থেকে আগত ট্রাফিক গুলো কোন কনটেন্টের সাথে কীভাবে এঙ্গেজ হচ্ছে।

রিটার্গেটিং করতে ফেসবুক কাস্টম সেগমেন্ট তৈরি করার প্যানেল
রিটার্গেটিং করতে ফেসবুক কাস্টম সেগমেন্ট

কন্টেন্টের সাথে ট্রাফিকের এঙ্গেজ হওয়ার ধরনের উপর ভাগ করে তাদেরকে ভিন্ন সেগমেন্টে আলাদা করে ফেলুন।

পরবর্তী সময় যখন অ্যাড রান করবেন তখন যে অডিয়েন্স গ্রুপ যে কনটেন্টটি পছন্দ করেছিল সেই ধরনের রিলেটেড কন্টেন্ট তাদের দেখান।

এতে আপনার বুঝতে সুবিধা হবে ঠিক কোন অডিয়েন্স গ্রুপ কোন ধরনের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের জন্য উপযুক্ত।

ধরুন আপনি দুটি অ্যাড ক্রিয়েটিভ তৈরি করেছেন, একটি কপি শাড়ি নিয়ে অপরটি সালোয়ার স্যুট। এখন এই কপি প্রোমট করুন। এবার দেখবেন অডিয়েন্স কোন অ্যাড কপিটির সাথে এঙ্গেজ হচ্ছে। এরপর তারা যে অ্যাড কপি পছন্দ করছে সেই অ্যাডের জন্য একটি কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করুন। অর্থাৎ যারা শাড়ির অ্যাড পছন্দ করছে তাদের নিয়ে আলাদা একটি কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করবেন।      

একটি রিটার্গেটিং অ্যাডের উদাহরণ  

Abc ব্র্যান্ড ঈদকে লক্ষ্য করে কিছু সময় হাতে নিয়ে নতুন ড্রেস কালেকশন নিয়ে হাজির হলো। তারা বেশ কিছু ইন্টারেস্ট টার্গেট করে অডিয়েন্স গ্রুপে করে অ্যাড দেখানো শুরু করলো।

কিছুদিন যেতে তারা খেয়াল করলো তার সেই ড্রেসগুলো মানুষ দেখছে, লাইক করছে, দাম জিজ্ঞাসা করছে। এই সময় Abc ব্র্যান্ড এর খুব কম পরিমানে সেল হচ্ছিলো।

ঈদ প্রায় নিকটে তারা মোটামুটি সেল করেছে কিন্তু এখনো তাদের প্রফিট আসে নি। তারা পরিকল্পনা করলো একটি আকর্ষণীয় ডিস্কাউন্ট অফার করে বেশ বড় সেল নিয়ে আসবে।   

তারা একটি রিটার্গেটিং অ্যাড ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা করলো যেখানে কেবলমাত্র বিগত ৩০ দিনের সকল ফেসবুক ভিজিটরকে টার্গেট করা হলো।

অন্য একটি অ্যাড সেটে তারা বিগত ৩০ দিনের ওয়েবসাইটে যারা শপিং কার্ট ত্যাগ করেছে তাদের টার্গেট করে অ্যাড রান করা হলো। 

এবার অডিয়েন্স দেখল তাদের পছন্দের ড্রেসে ডিস্কাউন্ট দেয়া হচ্ছে তারা সেই অফার মিস করতে চাইলোনা। এবং Abc ব্র্যান্ড সেই ক্যাম্পেইন থেকে প্রচুর সেল পেলো। 

( খেয়াল করবেনঃ পূর্বে একই অডিয়েন্স ড্রেসগুলো দেখেছে কিন্তু পারচেস করেনি।কিন্তু পরের বার যখন তারা ডিস্কাউন্ট পেলো তখন কেনাকাটা সম্পন্ন করলো। এখন যদি Abc ব্র্যান্ড সেই এঙ্গেজ কাস্টমারদের টার্গেট না করতো তবে একেবারে নতুন একজন কাস্টমার আপনার অফার পেলেই কিনতো না। কারন তারা আপনার ব্র্যান্ডকে জানে না।)  

এভাবেই ফেসবুক রিটার্গেটিং বা retargeting এর উদ্দেশ্য সফল হলে, একটি ব্যবসার বিক্রি বৃদ্ধি পায়। 

রিটার্গেটিং করে ফেসবুক অ্যাড হতে সর্বোত্তম ফলাফল আনতে হলে আপানার ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে ফেসবুক পিক্সেল সেটআপ করা জরুরি।

ফেসবুক পিক্সেল সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানেঃ ফেসবুক পিক্সেল এর কাজ কী এবং কিভাবে সেটআপ করে?

পরিশেষে

এখন আপনি জেনে গেছেন কিভাবে ফেসবুক রিটার্গেটিং অ্যাড রান করতে হয় এবং retargeting এর উদ্দেশ্য কি। আমরা আপনাকে কার্যকর ই-কমার্স কিভাবে করতে হয় তার পরামর্শ দিই। আপনি যদি ই-কমার্স এক্সপার্ট হতে চান, তবে আমাদের সামাজিক মাধ্যম গুলতে লাইক ফলো কমেন্ট করে সাথে থাকুন। ফেসবুক ইন্টারফেস খুব ঘন-ঘন পরিবর্তন হয়, আপনার যদি কোন পরিবর্তন দেখতে পান অথবা retargeting এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন থকে তাহলে কমেন্ট করুন। 

 

ই কমার্স বিজনেসের জন্য কিভাবে মার্কেট রিসার্চ করবেন

ই কমার্স বিজনেসের জন্য কিভাবে মার্কেট রিসার্চ করবেন

সমসাময়িক সময়ে মার্কেট রিসার্চ ছাড়া একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস লঞ্চ করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয় । বর্তমান সময়ে কাস্টমারদের হাতে অনেকগুলো অপশন রয়েছে আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস সম্পর্কে জানার জন্য। 

তারা ঠিক সেই প্রোডাক্ট বা সার্ভিসগুলো বেছে নিবে যা তার জন্য উপযুক্ত, কিন্তু আপনি কি আপনার কাস্টমারদের নিয়ে রিসার্চ করে দেখেছেন তারা কি চায়?  যদি সেটা না করে থাকেন তবে খুব দ্রুত আপনাদের কাস্টমারদের নিয়ে একটি বিস্তারিত ও বিশ্লেষণধর্মী মার্কেট রিসার্চ পরিচালনা করা আপনার একান্ত জরুরী। 

আপনি যদি না জানেন আপনার কাস্টমার কি চায়, তবে তাদের সামনে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন না। আর ঠিক এই কারণেই অনেক ব্র্যান্ড বিজনেস শুরু করার পরে মার্কেটে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ঝরে যায়।  

মার্কেট রিসার্চ কি?

মার্কেট রিসার্চ একটি বিজনেসের টার্গেট মার্কেট ও কাস্টমারদের তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত পদ্ধতি যা সেরা প্রোডাক্ট তৈরি করতে, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করতে এবং মান সম্মত কাস্টমার খুঁজে পেতে মার্কেটিং মেসেজগুলো তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়।  

মার্কেট রিসার্চ পদ্ধতি?

মার্কেট রিসার্চ সাধারণত দুটি ভিন্ন ধরণের হয়ে থাকেঃ প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি।

প্রাইমারি

প্রাইমারি রিসার্চ এমন যা আপনি নিজেরাই পরিচালনা করেন বা কাউকে নিয়োগ দেন সেটি পরিচালনা করার জন্য। এটি সরাসরি ডাটা সোর্সগুলোর সাথে জড়িত যেমন, আপনার টার্গেট মার্কেট এবং সম্ভাব্য কাস্টমারদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।  প্রাইমারি রিসার্চ উদাহরণগুলিঃ 

  • ইন্টারভিউঃ (টেলিফোন বা সরাসরি)
  • জরিপঃ (অনলাইন বা ইমেইল) 
  • প্রশ্নোত্তর (অনলাইন অথবা ইমেইল)
  • ফোকাস গ্রুপ
  • প্রতিযোগীদের লোকেশনে গিয়ে ডাটা সংগ্রহ

প্রাইমারি রিসার্চ দুই ধরনের হয়ে থাকে, অনুসন্ধানী এবং  সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধান।

অনুসন্ধানীঃ

এই রিসার্চ সাধারণ এবং উন্মুক্ত। এটি সাধারণত কোনও ব্যক্তি বা ছোট গোষ্ঠীর সাথে দীর্ঘ সাক্ষাত্কার নিয়ে সম্পন্ন করা হয়। 

সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধান 

এই রিসার্চ আরও সুনির্দিষ্ট এবং একটি চিহ্নিত সমস্যা সমাধান করতে পরিচালিত। এই রিসার্চ কাঠামোগত এবং আনুষ্ঠানিক উপায়ে হয়ে থাকে। 

সেকেন্ডারি রিসার্চ

এই রিসার্চ ইতিমধ্যে সংকলন, সংগ্রহ, সংগঠিত এবং অন্যের দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে। এই ধরনের রিসার্চে সরকারী সংস্থা, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন বা অন্যান্য ব্যবসায়ের রিপোর্ট এবং স্টাডি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সীমিত বাজেটযুক্ত ছোট বিজনেসের জন্য বেশিরভাগ সময় এই ধরনের রিসার্চ করা হয়ে থাকে। কারণ এটি প্রাইমারি রিসার্চের চেয়ে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী। 

আপনি যে ধরণের তথ্যের সন্ধান করছেন তার জন্য কি ওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবে সার্চ করলে প্রচুর রিসার্চ পেপার পাওয়া যাবে। 

আপনি পত্রিকা, বিজনেস জার্নাল এবং ইন্ডাস্ট্রি পাবলিকেশনগুলোর নিবন্ধ পড়ে বা লাইব্রেরিতে গিয়ে অথবা বিজনেস অর্গানাইজেশনগুলোতে যোগাযোগ করে এমন প্রচুর রিসার্চ পেতে পাবেন। 

৪ টি প্রচলিত মার্কেট রিসার্চ পদ্ধতি?

কাস্টমারদের তথ্য সংগ্রহ ও মার্কেট রিসার্চ করার জন্য চার ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। আপনি কোন একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আটকে না থেকে ৪ টি পদ্ধতিকে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করতে পারেন সর্বোচ্চ ফলাফল পেতে। 

মার্কেট সার্ভে 

এটি অত্যন্ত সাধারণ এবং বহুল প্রচলিত একটি মার্কেট রিসার্চ পদ্ধতি। কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্ন সম্বলিত একটি ডকুমেন্ট আদর্শ কাস্টমারদের সাথে শেয়ার করে তাদের উত্তর সংগ্রহ করতে হয়।  

একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক কাস্টমারদের সাথে এই ডকুমেন্ট শেয়ার করে তাদের উত্তর সংগ্রহ করার পর তা বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে একটি প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সম্পর্কে কাস্টমারদের অভিজ্ঞতা এবং প্রত্যাশা সম্পর্কে ধারণা করা হয়।

ইন্টারভিউ

আদর্শ কাস্টমারদের তালিকা তৈরি করে তাদের সাথে সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে একটি ব্যান্ড প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা মতামত এবং প্রত্যাশা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা।  ইন্টারভিউ মার্কেট রিসার্চ পদ্ধতির ক্ষেত্রে  একজন কাস্টোমারের বিস্তারিত অভিজ্ঞতা তুলে আনতে সক্ষম।

গ্রুপ

অনেকগুলো কাস্টমারের সমন্বিত একটি দলে সকল রকমের অভিজ্ঞতা, মতামত এবং প্রত্যাশা সম্বলিত কাস্টমার থাকে।  গ্রুপ রিসার্চ চালানোর সবথেকে বড় সুবিধা একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে কাস্টমারদের ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা সহজ হয়ে যায়। 

অবজারভেশন

একটি ব্র্যান্ড এর সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অথবা একটি প্রোডাক্ট ও সার্ভিস অন করার সময় কাস্টমারদের আচরণ বিশ্লেষণ এর উপর নির্ভর করে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।  

একজন অভিজ্ঞ মার্কেট এক্সপার্ট এই রিসার্চ পরিচালনা করে থাকেন। একটি নির্দিষ্ট সময়ে কাল ধরে কাস্টমারদের আচরণ বিশ্লেষণ এর পরে তাদের কমন এট্রিবিউট গুলি লিপিবদ্ধ করেন।যা কাস্টমারের অভিজ্ঞতা প্রত্যাশা এবং মতামত সম্পর্কে সুসংগঠিত ধারণা প্রদান করে।     

কিভাবে মার্কেট রিসার্চ করবেন? 

বায়ার  পারসোনা

আপনার ব্র্যান্ড অথবা প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসের জন্য আদর্শ কাস্টমারদের নির্দিষ্ট করতে হবে। এরপর যে সকল কাস্টমার আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ তাদের বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত একটি ডকুমেন্ট করতে হবে যেটাকে বায়ার পারসনা বলা হয়। 

কাস্টমারদের ব্যক্তিগত তথ্য যেমনঃ 

  • নাম 
  • বয়স 
  • পেশা 
  • ঠিকানা 
  • সামাজিক শ্রেণী 
  • ধর্মীয় পদবি ইত্যাদি সকল তথ্য তুলে নিয়ে আসতে হবে।

এই সকল তথ্য আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে আপনার আদর্শ কাস্টমারের সামগ্রিক চিত্র সম্পর্কে। যত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে আপনার কাস্টমারের বায়ার পারসনা তৈরি করবেন, তত ভালোভাবে একজন কাস্টমারকে আপনি বুঝতে সক্ষম হবেন। 

বায়ার পারসনা অনুযায়ী কাস্টমার গ্রুপ খুঁজে বের করতে হবে

এখন আপনি জানেন আপনার আদর্শ কাস্টমারের বৈশিষ্ট্যগুলো। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর উপর নির্ভর করে এমন একটি কাস্টমার গ্রুপ খুঁজে বের করতে হবে যারা আপনার ব্র্যান্ডের সাথে ইতিপূর্বে এঙ্গেজ হয়েছে এবং যারা আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে আগ্রহী কিন্তু এখনো যারা এঙ্গেজ হয়নি।  

কাস্টমার গ্রুপ সিলেক্ট করার সময় খেয়াল রাখবেন বায়ার পারসনায় যে বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করেছেন তার সর্বোচ্চ সংখ্যক বৈশিষ্ট্য যাতে নিশ্চিত হয়।

কাস্টমার গ্রুপ খুঁজে বের করতে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রুপ মেম্বার সংখ্যা নির্ধারণ করে রাখবেন এটি হতে পারে ১০ জন বা ২০ জনের একটি দল। চেষ্টা করবেন সর্বনিম্ন ১০ জন কাস্টমারকে নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করতে। 

যখন কাস্টমারগ্রুপ খুঁজে বের করছেন তখন ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কাস্টমার খুঁজে বের করবেন যারা বায়ার পারসনার সর্বোচ্চ সংখ্যক রিকোয়ারমেন্ট এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমনঃ

  • তাদের খুঁজে বের করুন যারা ইতিপূর্বে আপনার ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করেছে
  • সেই সকল কাস্টমারদের নিয়ে গ্রুপ তৈরী করুন যারা এখনও আপনার ব্যাংক থেকে কেনাকাটা করে নি
  • যারা কেনাকাটা করেছে এবং এখনো কেনাকাটা করেনি এই দুই বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত কাস্টমারদের নিয়ে আলাদা গ্রুপ তৈরি করুন
  • যারা আপনার ব্র্যান্ডের সামাজিক মাধ্যমে সাথে যোগাযোগ করছে তাদের জন্য একটা গ্রুপ তৈরি করুন
  • যাদের সাথে সরাসরি কথা বলতে চান এবং আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা মতামত এবং প্রত্যাশা তুলে নিয়ে আসতে চান এমন কাস্টমারদের জন্য গ্রুপ তৈরি করুন 
  • আপনার আত্মীয় বা বন্ধুদের মধ্যে থেকে মার্কেট রিসার্চ এর জন্য গ্রুপ তৈরি করুন 

এই প্রতিটি আলাদা গ্রুপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য সমন্বয় করে বিশ্লেষণ করলে সবচেয়ে নির্ভুল তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

প্রশ্ন তৈরি করুন

আদর্শ কাস্টমারদের বৈশিষ্ট্য পেয়েছেন এবং তাদের মধ্যে মার্কেট রিসার্চ পরিচালনা করবেন সেটা নির্দিষ্ট করে ফেলেছেন কিন্তু আপনি কি তথ্য তাদের থেকে তুলে নিয়ে আসতে চান সেটি নির্ধারণ করেছেন কি?  

এই অংশে কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্নাবলী তৈরি করুন যাতে আপনার প্রত্যাশিত তথ্য কাস্টমারদের থেকে তুলে নিয়ে আসা সম্ভব। 

তাই প্রতিটি ভিন্ন গ্রুপের জন্য কিছু কমন প্রশ্ন রেখে বাকি প্রশ্নগুলো এমনভাবে তৈরী করুন যা আপনার ব্র্যান্ড অথবা প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস সম্পর্কে 360 ডিগ্রি ধারণা প্রদান করতে সক্ষম। 

আপনার প্রতিযোগীদের সম্পর্কে জানুন

মার্কেট রিসার্চের অর্থ শুধুমাত্র আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস সম্পর্কে কাস্টমারদের মতামত বা প্রত্যাশা সম্পর্কে জানা নই। পাশাপাশি এটি অজানা যে আপনার জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং প্রতিযোগী সম্পর্কে ।  

আপনি যখন আপনার প্রতিযোগী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানবেন, তার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কার্যপ্রণালী সম্পর্কে অবহিত থাকবেন তখন আপনার ব্র্যান্ডকে কিভাবে তাদের থেকে সেরা উপায় কাস্টমারদের সামনে উপস্থাপন করবেন সে সম্পর্কে পরিকল্পনা তৈরি করতে সক্ষম হবেন।  

তাই এ পর্বে আপনাকে  আপনার প্রতিযোগীদের একটি লিস্ট তৈরি করতে হবে।

সার-সংক্ষেপ

এখন আপনাকে পুরো গবেষণার একটি সার-সংক্ষেপ তৈরি করতে হবে যেখানে কি কারনে গবেষণা পরিচালনা করেছেন, কাদের নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করেছেন, কোথায় গবেষণা পরিচালনা করেছেন, গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য গুলো কি কি, গবেষণার দ্বারা কি সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছেন এবং গবেষণার দ্বারা প্রাপ্ত তথ্যমতে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে। এ বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে লিখে ফেলুন।

কিছু দরকারি অনলাইন মার্কেট রিসার্চ টুলস

পরিসংখ্যান গত রিসার্চ কাজের জন্য, 

SiteProfiler

এটি এমন একটি ওয়েবসাইট এনালাইসিস টুলস যা আপনার প্রতিযোগীদের সমস্ত ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যানকে এক জায়গায় একত্রিত করে। 

প্রকৃতপক্ষে, এটি এমন একটি সহজ টুলস যেখানে আপনাকে কেবল একটি ওয়েবসাইট ইউআরএল প্রবেশ করাতে হবে এবং এই টুলস সেই ওয়েবসাইট সম্পর্কে আপনার প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিসংখ্যান সামনে নিয়ে আসবে। 

 

 

Tableau Public

এটি এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্ল্যাটফর্ম যা আপনার ডাটা ইনসাইটকে অ্যাকশনে রূপান্তরিত করে। এই ডাটা এনালাইসিস প্লাটফরমটি সুরক্ষিত, শক্তিশালী এবং end2end এনক্রিপটেড। এটি মূলত ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তৈরি তবে এন্টারপ্রাইজ গ্রেড পর্যন্ত এর কার্যক্রমকে বর্ধিত করা যায় ।

Statista

এটি একটি অনলাইন পরিসংখ্যান, মার্কেট রিসার্চ এবং ডাটা ইন্টালিজেন্স পোর্টাল। একটি মার্কেটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুলোর যেটা প্রোভাইড করে যা সাধারণত মার্কেট রিসার্চ কাজে ব্যবহার করা হয়। 

Google Trends

নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড অনুসারে কোন একটি প্রোডাক্ট সার্ভিস অথবা মার্কেটের গুগল সার্চের অবস্থান সম্পর্কে তুলনামূলক ডাটা প্রদান করে।  এটি দ্বারা নির্দিষ্ট সময় কাল ধরে একটি বিষয়বস্তুর জনপ্রিয়তা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।  প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রিসার্চ কাজের জন্য প্রাথমিক তথ্য তুলনামূলক পার্থক্য সম্পর্কে জানতে অত্যন্ত কার্যকর এবং জনপ্রিয়।

Google Analytics

এটি একটি ফ্রি ওয়েব এনালাইটিক টুলস যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটের সাথে কাস্টমারদের আচরণের 360 ডিগ্রি তথ্য পাওয়া যায় । 

মার্কেট সার্ভে কাজের জন্য,

SurveyMonkey

এটি একটি অনলাইন জরিপ সফ্টওয়্যার যা আপনাকে প্রফেশনাল অনলাইন জরিপ তৈরি এবং পরিচালনা করতে সহায়তা করে। এটি খুব শক্তিশালী এবং একটি সুপরিচিত অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন। 

এটি মূলত এমন একটি টুলস যা আপনাকে মার্কেট রিসার্চ কাজের জন্য, পোল, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্লেষণ বা কাস্টমারদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে অনলাইন জরিপ করতে সহায়তা করে। 

এটি সহজেই ব্যবহারযোগ্য, এই প্ল্যাটফর্মটি আপনাকে আপনার নির্ধারিত টার্গেট অডিয়েন্স অনুসারে আপনার জরিপ পরিচালনা করতে দেয়।

পরিশেষে,

মার্কেট রিসার্চ আপনার বিজনেস পরিচালনার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।  যদিওবা আপনি জানেন আপনার কাস্টমারদের সম্পর্কে তার পরেও একটি পরিকল্পিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক মার্কেট রিসার্চ আপনার কাস্টমার সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য প্রদান করবে। যা আপনার বিজনেস কে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে সহায়ক। 

ফেসবুক অ্যাড ‘ডেলিভারি’ না হওয়ার ১১ টি কারণ (এবং সমাধানের উপায়)

আপনি যদি প্রথমবার ফেসবুক অ্যাড দেবার পরিকল্পনা করেন অথবা ইতিপূর্বে ফেসবুকের এই সমৃদ্ধ অ্যাড ম্যানেজার ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা না থাকে, তবে সেটি আপনার জন্য কিছুটা হতাশাজনক হতে পারে। 

বিশেষ করে একটি পারফেক্ট ফেসবুক অ্যাড তৈরি করা, সেটি ফেসবুক মার্কেটিং পরিকল্পনা করা ও সবশেষে যখন ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজার ব্যবহার করে অ্যাড রান করছেন, ঠিক সেই মুহুর্তে যদি দেখতে পান আপনার অ্যাডটি সঠিকভাবে কাজ করছে না, সেটি অনেক বেশি কষ্টদায়ক।

এমন মুহূর্তে অনেকেই পুরো অ্যাড ক্যাম্পেইন বাতিল করে দিয়ে থাকেন কিন্তু সেটি আদর্শ সমাধান নয়। অ্যাড ক্যাম্পেইন পুরোপুরি ভাবে বাতিল করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, 

কেন আপনার ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন সঠিকভাবে রান হলো না? এই একটিমাত্র প্রশ্ন আপনার ফেসবুক অ্যাড সঠিকভাবে কাজ না করার জন্য দায়ী সকল ভুলগুলোকে শুধরে সঠিকভাবে অ্যাড রান করতে সাহায্য করবে। 

অ্যাড অ্যাপ্রুভ না হলে বা অ্যাড রিজেক্ট হলে

অ্যাড রান করার পরে যদি সেটি ডেলিভারি না হয় তার একটি অন্যতম কারণ হতে পারে সেই অ্যাডটি ফেসবুক অ্যাপ্রুভ করেনি। 

ফেসবুক একটি অ্যাড রান করার পূর্বে সকল অ্যাড পলিসি চেক করে তার পর অ্যাড আপ্রুভ করে। যদি কোন একটি পলিসি আপনার অ্যাড ব্রেক করে সেক্ষেত্রে অ্যাড অ্যাপ্রুভ হবে না। আর যদি অ্যাড আপ্রুভ না হয় তবে সেটি ডেলিভারিও হবে না।

অ্যাড যদি ডেলিভারি না হয় তবে অ্যাড ম্যানেজারে নোটিফিকেশন পাবেন অথবা আপনাকে ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে কি কারণে অ্যাড রিজেক্ট হয়েছে। 

যে সকল কারনে আপনার অ্যাড রিজেক্ট হতে পারে 

  • অবৈধ প্রোডাক্ট 
  • বৈষম্যমূলক আচরণ 
  • মাদক এবং অস্ত্র  
  • ১৮+ প্লাস কন্টেন্ট 
  • থার্ড পার্টি ইন্টিগ্রেশন 
  • অথবা বড় ধরনের গ্রামাটিক্যাল ভুল

সমাধান

প্রথমত, ঠিক যে কারনে আপনার অ্যাড আপ্রুভ করা হয়নি সেই কারণটিই জেনে নিয়ম মাফিক সেটি এডিট করে পুনরায় অ্যাড পাবলিশ করুন। 

যদি আপনি নিশ্চিত থাকেন ফেসবুকের সকল রকম নির্দেশনা মেনে অ্যাড তৈরি করেছেন কিন্তু তারপরেও অ্যাড রান হয়নি সেক্ষেত্রে ফেসবুক সাপোর্টে কথা বলুন।  অনেক সময় ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স একটি সঠিক অ্যাডকে  ভুল মনে করে থামিয়ে দিতে পারে। এটি প্রযুক্তির লিমিটেশন। সেক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি ফেসবুকের কাস্টমার সাপোর্ট অ্যাড পর্যালোচনা করে অনুমতি দিবে। 

অ্যাড রিভিউ পর্যায়ে আটকে থাকলে

ফেসবুকে একটি অ্যাড রান করার পরে সেটি রিভিউ এর জন্য প্লেস করা হয়, কিন্তু অনেক সময় এমন হয় একটি অ্যাড রিভিউ হতে অনেক বেশি সময় নিয়ে ফেলে অথবা রিভিউ স্টেজে  সেটি আটকে যায়। 

এমন অবস্থায় সফলভাবে অ্যাড ডেলিভারি হয় না। এক্ষেত্রে ফেসবুকের একটি নিজস্ব ব্যাখ্যা রয়েছে, তারা বলে ফেসবুকে একটি অ্যাড ডেলিভারি হতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি আরও কিছুক্ষণ বেশি সময় নিতে পারে। তাই আপনাকে ফেসবুকের অ্যাড রিভিউ স্টেজ শেষ হয়ে সেটি রিজেক্ট না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এমনটি হয় সাধারণত অ্যাডে বড় ধরনের পরিবর্তন সাধন করা হলে। যেমনঃ ক্রিয়েটিভ-এ বড় পরিবর্তন, অডিয়েন্স টার্গেটিং-এ বড় পরিবর্তন, ক্রিয়েটিভে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন বা বিলিং-এ পরিবর্তন লক্ষণীয় হলে। 

সমাধান

ফেসবুক অ্যাপ রিভিউ স্টেজ প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত সেই অ্যাডে কোন প্রকার পরিবর্তন সাধন করবেন না। যদি রিভিউ কালীন সময়ে সেই অ্যাডে পরিবর্তন করেন তবে, যখন থেকে পরিবর্তন সাধন করেছেন ঠিক সেসময় থেকে নতুন ভাবে সেই অ্যাড আবার রিভিউ স্টেজে চলে যাবে। যেটা রিভিউ টাইম দীর্ঘায়িত করে ফেলতে পারে।

লো কোয়ালিটি অ্যাড

অনেক সময় অ্যাড একটিভ থাকে কিন্তু সেটি ডেলিভারি হয়না। একটা নির্দিষ্ট সময় পার হবার পরেও খেয়াল করছেন সেটি রিচ হচ্ছে না ও ইম্প্রেশন খুব সামান্য। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার একটি অন্যতম কারণ লো কোয়ালিটি অ্যাড।

একটি লো কোয়ালিটি অ্যাডকে তিনটি মোটা দাগে ভাগ করা যায়ঃ 

এনগেজমেন্ট বাইট

 

অনেক সময় কোনো একটি অ্যাডের কনটেন্ট টার্গেট অডিয়েন্সদের জোর করে দেখতে পড়তে ক্লিক করতে বাধ্য করানো হয় এ ধরনের জোর পূর্বক শব্দগুলোকে ফেসবুক করেনা এমন অবস্থায় আপনার অ্যাড এপ্রুভ হলেও সেটি ডেলিভারি হবে না।

 

অপ্রত্যাশিত তথ্য

আমরা যে বিজ্ঞাপনটি প্রচার করছি তার সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা প্রদান না করে যদি সেই অ্যাডের কন্টেন্ট ও তার হেডলাইন ডেভলপ করি সেক্ষেত্রে আপনার অ্যাড ডেলিভারি হবে না। ফেসবুক কোনভাবেই মিস ল্যান্ডিং ইনফরমেশন প্রচার করতে সম্মতি দেয় না। 

অতিরঞ্জিত ও সংবেদনশীল শব্দ

এমন অনেক শব্দ রয়েছে যা আমাদের অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটি তথ্যকে অতিরঞ্জিত ভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে। এধরনের শব্দগুলো ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে দিতে পারে। তাই অ্যাড পরিচালনায় এ ধরনের শব্দ পরিহার করুন।

সমাধান

একটি অ্যাড রান করার পূর্বে আপনার অ্যাড কন্টেন্ট রিভিউ করুন ও এ ধরনের শব্দ থাকলে সেগুলো পরিহার করুন। সঠিক ও উপযুক্ত তথ্য সম্বলিত অ্যাড রান করার দিকে মনোযোগী হোন। 

ছবিতে লেখার পরিমাণ বেশি থাকলে

বিভিন্ন গবেষণায় লক্ষ্য করা গেছে, ফেসবুক অ্যাডের ছবিতে ২০ শতাংশের বেশি জায়গা জুড়ে যদি টেক্সট ব্যবহার করা হয় সেক্ষেত্রে সেই ছবি সম্বলিত অ্যাড ডেলিভারি হয় না।

এটিকে ৮০/২০ রুলস বলা হয়। তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। সেগুলো বাদে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য।

৮০/২০ রুলসের ব্যতিক্রম

  • বুক কভার 
  • প্রোডাক্ট ইমেজ 
  • গেম অ্যাড কভার 
  • ইভেন্ট কভার 
  • পোস্টার 
  • চার্ট 
  • ম্যাগাজিন কভার 
  • মুভি পোস্টার ইত্যাদি

সমাধান

ইমেজ টেক্সট অভারলে নামে একটা টুলস রয়েছে, যেটি ব্যবহার করে আপনি সহজেই দেখে নিতে পারেন আপনার অ্যাডের ছবিটিতে যে পরিমাণ টেক্সট রয়েছে তা ফেসবুক অ্যাড পলিসির জন্য আদর্শ কিনা।

এই টুলসে ছবিটি আপলোড করে নির্দেশনা দিলেই সেটি উল্লেখ করে দেয়, ছবিটি ফেসবুক অ্যাড এর জন্য কি পরিমাণ উপযোগী হবার পরিমান। 

স্পেন্ডিং লিমিট ওভার হলে

ফেসবুকে অ্যাড দেবার সময় আমরা একটি ক্যাম্পেইনের জন্য ঠিক কত পরিমাণ বাজেট ব্যয় করতে চাই তা নির্ধারণ করতে পারি। অনেক সময় দেখা যায় অ্যাড স্পেন্ডিং লিমিট যদি পৌঁছে যায় সেক্ষেত্রে সেই অ্যাড ডেলিভারি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

সমাধান

যদি চান আপনার অ্যাড আরো কিছুদিন চালাতে অথবা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ না হোক তবে, অ্যাড স্পেন্ডিং লিমিট উঠিয়ে দিবেন। তাহলে এটি আপনার চাহিদামত সময় পর্যন্ত চালাতে সক্ষম হবেন।.

 

 

অ্যাড বিডিংঅ্যামাউন্ট যদি খুব কম হয়

শুধুমাত্র লোয়েস্ট কস্ট বিডিং স্ট্রাটেজি ছাড়া আমরা যদি আমরা বিড ক্যাপ ব্যবহার করে অ্যাড রান করি। আর অ্যাড বিড ক্যাপ অ্যামাউন্ট যদি খুব কম হয়। তবে অ্যাড ডেলিভারি হবে না। 

সমাধান

অ্যাড রান করার পরে লম্বা সময় (যেমনঃ ২ দিন বা তার অধিক) যদি সেই অ্যাড রেজাল্ট খুব খারাপ হয় সেক্ষেত্রে অ্যাড ডেলিভারি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন আপনি অ্যাড বিডিংঅ্যামাউন্ট চেক করে দেখুন ও  যদি সেটি খুব কম সেট করা থাকে তবে সেটিকে এডিট করে ধীরে ধীরে বাড়ান এবং লক্ষ্য করুন অ্যাড পুনরায় ডেলিভারি হচ্ছে কিনা। 

অপ্টিমাইজেশন গোল নির্ধারণে ভুল করা

আপনি যদি আপনার ফেসবুক পেজের জন্য প্রথমবার অ্যাড পরিচালনা করেন এবং শুরুতেই কনভার্শন ক্যাম্পেইন চালান। তবে আপনার অ্যাড ডেলিভারি না হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। 

এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ফেসবুক একজন অডিয়েন্সের এক্টিভিটি গুলোকে বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে তাকে কি ধরনের অ্যাড দেখাবে সেটি নির্ধারণ করে। 

এখন প্রথমেই যদি আপনি কনভার্শন অ্যাড চালান সেক্ষেত্রে আপনার পেজের সাথে কোন ধরনের অডিয়েন্স এনগেজ হবার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে সেটা ফেসবুক নির্ধারণ করতে সক্ষম হয় না। অপর্যাপ্ত ইনফরমেশন থাকার কারণে ফেসবুক সেই অ্যাড সফলভাবে দেলিভেরি করতে সক্ষম হয় না

সমাধান

প্রথমবার একটি পেজের জন্য ফেসবুক অ্যাড চালানোর আগে ফেসবুকের অবজেক্টিভ ফানেল বা মার্কেটিং ফানেল ফলো করার চেষ্টা করুন। আওয়ারনেস, এঙ্গেজমেন্ট ও কনভার্সন এই তিন ধাপে ধারাবাহিক ভাবে অ্যাড রান করুন। 

অ্যাড রেলেভান্ট না হলে

ফেসবুক তার অডিয়েন্সকে একটি অ্যাড প্রদর্শন করে রেলেভান্ট মেট্রিকগুলো  বিবেচনা করে অর্থাৎ একই ধরনের অন্য অ্যাড গুলোর সাথে অডিয়েন্স কিভাবে যুক্ত হয়েছে সেটির বিবেচনায় একই ধরনের অ্যাড রেলেভান্ট কাস্টমারদের নিউজফিডে প্রদর্শিত হয়।

যদি আপনার অডিয়েন্সের জন্য তৈরি করা ফেসবুক অ্যাড রেলেভেন্ট না হয় সেক্ষেত্রে ফেসবুক এই অ্যাড ডেলিভারি অফ করে দিবে।

সমাধান

একটি অ্যাড টার্গেট অডিয়েন্সদের জন্য কতটুকু রেলেভান্ট সেটি নির্ধারণ করার জন্য ফেসবুকে তিনটি প্যারামিটার রয়েছে।  এঙ্গেজমেন্ট কোয়ালিটি, অ্যাড কোয়ালিটি ও কনভার্শন কোয়ালিটি

নিচে একটি চিত্র দেওয়া হল যেখানে এই তিন ভাগের বৈশিষ্ট্যগুলো কি তা বিস্তারিত বর্ণনা করা আছে।

আপনার ফেসবুক অ্যাড যে প্যারামিটারে স্কোর ভালো করছে না সেই প্যারামিটারের বৈশিষ্ট্য গুলো ভালোভাবে লক্ষ্য করুন এবং অ্যাডটি পুনরায় এডিট করে রান করুন।  

অডিয়েন্স ওভারল্যাপিং

দুটি আলাদা অ্যাডের জন্য টার্গেট গ্রুপ যদি এক হয় সেক্ষেত্রে আপনার ফেসবুক অ্যাডটি ডেলিভারি হওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সমাধান

অ্যাড ম্যানেজারে গিয়ে ফেসবুক অডিয়েন্স অপশনে যাবেন। সেখান থেকে অডিয়েন্স ওভারল্যাপ অপশনে যাবেন। আপনার কারেন্ট অডিয়েন্স গ্রুপটি কি পরিমান অডিয়েন্স ওভারল্যাপ করে সেটি পরীক্ষা করে দেখবেন।

দুটি ভিন্ন অ্যাডের জন্য এমন দুটি পৃথক অডিয়েন্স টার্গেট গ্রুপ তৈরি করবেন যা একে অপরের থেকে ভিন্ন হবে। 

টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপ অনেক কম হলে

ফেসবুক অ্যাড রান করার সময় আপনার টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপটি যদি অনেক কম হয় বা ছোট হয় সেক্ষেত্রে আপনার অ্যাডটি ডেলিভারি হবে না।

সমাধান

যদি দেখেন আপনার টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপটি অনেক ছোট সেক্ষেত্রে সেই টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপ ব্যবহার করে লুকালাইক অডিয়েন্স তৈরি করুন। তাহলে আপনার অ্যাড পুনরায় ডেলিভারি হবে। 

আরো পড়ুনঃ

ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য ফেসবুক সেলস ফানেল: কী, কেন, কীভাবে

পরিশেষে

ফেসবুক অ্যাড পরিচালনা সংক্রান্ত রুলস গুলো যত ভালোভাবে আপনি জানবেন ততো দ্রুত একটি অ্যাড ডেলিভারি না হওয়ার কারণ গুলো খুঁজে বের করতে পারবেন এবং তার জন্য করনীয় কি তা নির্ধারণ করতে সক্ষম হবেন। 

আর এটি আপনার অ্যাড প্রদর্শনের জন্য মূল্যবান সময় অপচয় হবার থেকে আপনাকে বাঁচিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক অ্যাড কাস্টমারদের সামনে উপস্থাপন করবে। 

সমসাময়িক সময়ে আপনি যদি ফেসবুক অ্যাড পরিচালনায় এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন তবে কিভাবে সেটি সমাধান করেছেন আমাদের জানান। আর যদি এখনো সমাধান না পেয়ে থাকেন তবে আমাদের জানান কমেন্টের মাধ্যমে।. 

সেল বাড়াতে অফার, কুপন এবং ডিসকাউন্ট এর ১৮ রকম ব্যবহার

সেল বাড়াতে অফার, কুপন এবং ডিসকাউন্ট এর ১৮ রকম ব্যবহার

বিজনেস পরিচালনা করতে কিছু সময় এমন পরিস্থিতির তৈরি হয় যখন ব্যবসায়ীকে অফার, কুপন এবং ডিসকাউন্ট প্রদান করার প্রয়োজন পড়ে।কিন্তু কখন, কোন পরিস্থিতিতে, কি ধরনের অফার, কুপন এবং ডিসকাউন্ট প্রদান করতে হয় এবং সেগুলো বিজনেসে কতখানি সুফল বয়ে নিয়ে আসবে সে বিষয়ে অনেকেই ধারণা রাখেন না।

সেল বাড়াতে প্রমোশনাল অফার, কুপন এবং ডিসকাউন্ট অত্যন্ত উপযোগী একটি পদ্ধতি কিন্তু এর অপরিমিত এবং অপরিকল্পিত ব্যবহার বিজনেসে ক্ষতি সাধন করতে পারে, কমে যেতে পারে লভ্যাংশ।

অফার, কুপন এবং ডিসকাউন্ট দেবার মূল উদ্দেশ্য বেচাকেনা বাড়িয়ে তোলার মাধ্যমে প্রফিট বাড়িয়ে তোলা। যদি সেই উদ্দেশ্য অর্জিত না হয় তাহলে এ ধরনের অফার বিজনেসে কোনরকম ভ্যালু অ্যাড করেনা।

অফার, কুপন এবং ডিসকাউন্ট এর সুবিধা গুলো কি কি?

  • কাস্টমার লওয়ালটি বৃদ্ধি করে
  • কাস্টমার অ্যাকুইজিশন বৃদ্ধি করে 
  • কনভার্শন রেইট বাড়িয়ে তোলে 
  • স্টক দ্রুত কমিয়ে আনে 
  • সেলস টার্গেট পূরণ করে

অফার, কুপন এবং ডিসকাউন্ট এর অসুবিধাগুলো কি কি?

  • প্রফিট মার্জিন কমিয়ে ফেলে
  • অতিরিক্ত অফার প্রদান ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য ক্ষতিকর  
  • রেগুলার সেলস কমিয়ে দেয়, কারণ কাস্টমার অফারের জন্য অপেক্ষা করে 
  • অনটাইম কাস্টমারদের ব্রান্ডশপে নিয়ে আসে 
  • টার্গেট মার্কেটের বাইরের কাস্টমার আকৃষ্ট করে

অফার, কুপন এবং ডিসকাউন্ট এর ধরন সমূহ,

  • পার্সেন্টেজ বেজড ডিসকাউন্ট 
  • এমাউন্ট ভ্যালু ডিসকাউন্ট 
  • ফ্রী শিপিং 
  • ফ্রী গিফট

পার্সেন্টেজ বেজড ডিসকাউন্ট কি?

কোন একটি প্রোডাক্টের ওপরে যখন শতকরা হারে মূল্য ছাড় দেওয়া হয় যেমন, সেটি হতে পারে ৫% বা ১০% ডিসকাউন্ট ইত্যাদি কে পার্সেন্টেজ বেজড ডিসকাউন্ট বলে। 

পার্সেন্টেজ বেজড ডিসকাউন্ট বিভিন্ন ক্যাটাগরি কালেকশন বা প্রোডাক্ট অনুযায়ী দেওয়া সম্ভব। এ ধরনের ডিসকাউন্ট অনেকটা এরকম হয়ঃ Buy 2 shirt get 50% off any dress 

এমাউন্ট ভ্যালু ডিসকাউন্ট

সাধারণত একটি নির্ধারিত এমাউন্টের কেনাকাটার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের মূল্য ছাড় দেওয়া হয়। সেটি ৫০ টাকা ১০০ টাকা অথবা ২০০ টাকা ইত্যাদি। এই ধরনের ডিসকাউন্টকে এমাউন্ট ভ্যালু ডিসকাউন্ট বলে। 

আপনি চাইলে একটি নির্ধারিত পরিমাণ মূল্য ছাড় দিতে পারেন অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটার উপরে নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য ছাড় দিতে পারেন। তবে যদি আপনার প্রোডাক্টের মূল্যমান বেশি হয়ে থাকে তবে এমাউন্ট ভ্যালু ডিসকাউন্ট আপনার জন্য সুবিধাজনক।

ফ্রী শিপিং

কেনাকাটা পরবর্তী সময়ে অনেকের কাছেই শিপিং চার্জ কিছুটা বেশি মনে হয়। এক্ষেত্রে আপনি শপিং কার্ট ছেড়ে যাওয়া ঠেকাতে ফ্রী শিপিং অফার করতে পারেন।  ফ্রী শিপিং এর মূল বিষয় হচ্ছে, যারা মনে করেন প্রোডাক্ট ডেলিভারি খরচ তার কাছে অতিরিক্ত তাদের এই চিন্তাকে কিছুটা হল প্রভাবমুক্ত রাখা।

ফ্রী গিফট

একটি মিনিমাম পরিমাণ কেনাকাটা করলেই কাস্টমার ফ্রী গিফট পাচ্ছে বিষয়টি দারুন।  এক্ষেত্রে অনেক কাস্টমার একটি ফ্রি গিফট পাবার জন্য সেই মিনিমাম রিকোয়ারমেন্ট কেনাকাটা সম্পন্ন করে।

অটোমেটিক ডিসকাউন্ট

বর্তমান সময়ে বিষয়টি দারুন। কাস্টমার যত বেশি কেনাকাটা করছে সে তত বেশি ডিসকাউন্ট উপভোগ করছে।  বিভিন্ন সময়ে খেয়াল করে দেখা গেছে একজন কাস্টমার ডিসকাউন্ট কোড হারিয়ে ফেলে অথবা সেটি ব্যবহার করতে ভুলে যায়। 

কিন্তু সে যখন অটোমেটিকভাবে কেনাকাটার উপরে ডিসকাউন্ট পাচ্ছে  বা সিস্টেম ডিসকাউন্ট পাবার পরিমাণ অটোমেটিকভাবে নির্ধারণ করে দিচ্ছে সেক্ষেত্রে কাস্টমার কেনাকাটা করতে বেশি উৎসাহিত হয়।

কাস্টমার নিজে থেকে কোন ডিসকাউন্ট কোড ব্যবহার না করেই অটোমেটিক ডিস্কাউন্ট পাচ্ছে। তাই এটি তার কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।

কুপন কোড

এই কোড নির্দিষ্ট কাস্টমার অথবা গ্রুপ অনুযায়ী দেওয়া সম্ভব এবং শুধুমাত্র এই কোড ব্যবহারকারী ডিসকাউন্ট পাবেন তিনি ছাড়া অন্য কেউ ডিসকাউন্টের সুবিধাভোগী হবেন না।

সেল বাড়াতে কিভাবে অফারগুলো প্রদান করতে হয়

সেল বাড়ানোর জন্য অফার প্রদানের হাজারো রকম পন্থা রয়েছে যা সেল বাড়ায়, কাস্টমাররের পরিমান বৃদ্ধি করে ও  কনভার্শন রেট বাড়িয়ে তোলে।

সাপ্তাহিক বা মাসিক ডিসকাউন্ট

এটি একটি ট্রেডিশনাল ডিসকাউন্ট অফার টাইপ যেখানে সাপ্তাহিক এবং মাসিক সেলস টার্গেট পূরণের জন্য ডিসকাউন্ট প্রদান করা হয়

প্রি লঞ্চ অফার

একটি নতুন প্রোডাক্ট লঞ্চ করার সময় এই অফার ডিজাইন করতে হয়। যারা আর্লি এডাপ্টার তারা এই অফার সাদরে গ্রহণ করে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন কাস্টমার এতে আকৃষ্ট হয়ে লয়াল কাস্টমারে পরিণত হয়

ছুটির দিন বা সিজনাল অফার

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশেও ফ্রাইডে ফান্-ডে বা ছুটির দিনের অফার ইত্যাদি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এছাড়াও বিভিন্ন সিজনাল প্রোডাক্টের জন্য অফার গুলো প্রদান করা হয় মূলত সিজনাল কাস্টমারদের কেনাকাটা শুরু করানোর জন্য।

এবন্ডেন্ড কার্ট অফার

দেখা গেছে প্রায় ৭০% মানুষ কেনাকাটা সম্পন্ন করার আগে শপিং কার্ট ছেড়ে চলে যান। এ ধরনের কাস্টমারকে শপিং কার্ট ছেড়ে যাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করার জন্য এই অফার খুবই শক্তিশালী।

উদাহরণঃ

ব্র্যান্ডলেস একটি অনলাইন গ্রোসারি ব্র্যান্ড যারা শপিং কার্ট ছেড়ে যাওয়া কাস্টমারদের ইমেইলের মাধ্যমে 1 ডলার শিপিং অফার করে। এটি শুধুমাত্র ফার্স্ট টাইম ভিজিটরদের জন্য যারা কার্ট ত্যাগ করে চলে গেছে। এই অফারের উদ্দেশ্য ছেড়ে যাওয়া কাস্টমারদের শপিং কার্টে ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং কেনাকাটা সম্পন্ন করানো।

 

ইমেইল বা নিউজলেটার সাবস্ক্রিপশন অফার

একটি অনলাইন বিজনেসের জন্য ইমেইল লিস্ট তৈরি করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে যেনতেন ইমেইল লিস্ট হলে হবে না, হতে হবে খুবই টার্গেটেড, পটেনশিয়াল এবং একচুয়াল ইউজারদের ইমেইল লিস্ট।

তাই আপনি যখন ই-মেইল বা নিউজলেটার সাবস্ক্রিপশনের উপরে অফার প্রদান করছেন আর সে সকল কাস্টমার যদি সেটি গ্রহন করার জন্য তাদের তথ্য শেয়ার করে তবে তাদের কেনাকাটা করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

উদাহরণঃ

অনলাইন রিটেইলার Overstock.com কে খেয়াল করে দেখুন। তারা তাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইবারদের জন্য ১৫% কুপন অফার করছে।

সোশ্যাল মিডিয়া লাইক এবং শেয়ারের উপরে মূল্য ছাড়

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া অত্যন্ত পাওয়ারফুল টুল ই-কমার্স বিজনেস পরিচালনা করার জন্য। আপনার বিজনেসটিকে থেকে যত বেশি সংখ্যক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারবেন, ততবেশি নতুন এবং পোটেনশিয়াল কাস্টমার পাবার সম্ভাবনা আপনার বেড়ে যাবে। 

এক্ষেত্রে আপনি আপনার ব্র্যান্ড পেজের ফলোয়ারদের ইন্টারেকশনের উপর ইনভেস্ট করে আপনার ব্র্যান্ড পেইজটির সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ারিং বাড়িয়ে নিতে পারেন।

উদাহরণঃ

Truxx তাদের কাস্টমারদের ৫ ডলার ডিসকাউন্ট অফার করে পরবর্তী কেনাকাটায় যারা তাদের ফেসবুক ব্র্যান্ড পেজটি অন্যদের সাথে শেয়ার করেছে এবং লাইক করেছে। 

 

 

রেফারেল প্রমো কোড

আপনি নিজে অফার পাচ্ছেন পাশাপাশি সেই অফারটি যদি আপনার বন্ধু বা আত্মীয়দের মধ্যে ভাগ করে নেন তাহলে আপনি আবার অফার পাচ্ছেন।

অর্থাৎ প্রোমো কোড অন্যকে রেফার করার মাধ্যমে নিজে নতুনভাবে ডিসকাউন্টের সুবিধাভোগী হওয়া।

মিল ডেলিভারি ব্র্যান্ড Blue Apron and Hello Fresh তাদের রেফারেল মার্কেটিংয়ের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত।

এছাড়াও বাংলাদেশ উবার-পাঠাও সার্ভিস চালু হওয়ার প্রথম দিকে রেফারেল প্রোগ্রাম অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। যেখানে আপনি আপনার কাছে থাকা রেফারেল কোডটি আপনার আত্মীয়দের সাথে বা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলে পরবর্তী রাইডে ডিসকাউন্ট পাবেন যদি তারা সেটি ব্যবহার করে।

এক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট প্রদান করা হয় রেফারেল ডিসকাউন্ট অফারটি প্রাপ্ত ব্যক্তির ব্যবহারের উপর নির্ভর করে।

ফাস্ট টাইমস অফার

একজন কাস্টমারকে প্রথমে কেনাকাটা সুযোগ করে দিন। সেজন্য তাকে সর্বোচ্চ ডিসকাউন্ট অফার করতে পারেন। এখানে মূল বিষয় হচ্ছে আপনার প্রোডাক্ট কোয়ালিটি ও সার্ভিসের মাধ্যমে তাকে সন্তুষ্ট করা যা তাকে পরবর্তী সময়ে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে উৎসাহিত করে।

উদাহরণঃ

Clearly তাদের প্রতিটি নতুন কাস্টমারদের জন্য ৫০% ডিসকাউন্ট অফার করে। 

মিনিমাম পারচেস ডিসকাউন্ট

একটি মিনিমাম এমাউন্টের কেনাকাটা সম্পন্ন করলে আপনি অফার বা ডিস্কাউন্ট উপভোগ করতে পারবেন। ধরুন, বলা হয়েছে ৫০০ টাকার কেনাকাটা করলে ৫ পার্সেন্ট ডিস্কাউন্ট পাবেন এবং এটি সবার জন্য। 

এ ধরনের অফার ডিজাইন করা হয় অ্যাভারেজ অর্ডার ভ্যালু কে বাড়িয়ে তোলার জন্য।

উদাহরণঃ

জনপ্রিয় অনলাইন রিটেলার Nasty Gal ১০০ ডলারের কেনাকাটা সম্পূর্ণ করা কাস্টমারদের জন্য ফ্রী শিপিং অফার করেছে।

এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল অফার

এক্ষেত্রে শুধুমাত্র তারাই অফারের সুবিধাভোগী হবে যারা আপনার সোশ্যাল মিডিয়া পেজটি ফলো করে অথবা আপনার সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলগুলো সাবস্ক্রাইব করে রেখেছে।

এই অফারের উদ্দেশ্য কাস্টমারদের ব্র্যান্ড পেইজগুলো লাইক বা সাবস্ক্রাইব করে রাখতে উৎসাহিত করা।

উদাহরণঃ

অনলাইন স্কিন কেয়ার রিটেলার Maple Holistics শুধুমাত্র তার টুইটার ফলোয়ার দের জন্য কুপন কোড শেয়ার করেছে যা ব্যবহারে কাস্টমার ১৫% ছাড় পাবে।

কাস্টমার লয়ালটি অফার

এই অফার শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা আপনার রেগুলার কাস্টমার। এ ধরনের অফারের এর মূল উদ্দেশ্য কাস্টমারদের কন্ট্রিবিউশনকে সম্মান জানানো এবং তাদের আরো বেশি কেনাকাটায় উদ্বুদ্ধ করা।

আপনি আপনার সেরা কাস্টমারদের ইমেইল অথবা এসএমএসের মাধ্যমে এই অফার গুলো প্রদান করতে পারেন এবং শুধুমাত্র সেই কাস্টমার বাদে অন্য কেউ এই অফার গ্রহণ করতে পারবে না।

এক্সিট ইনটেন্ট অফার

কখনো কখনো কাস্টমার শেষ মুহূর্তে অফার পেলে কেনাকাটা করে। অনেক সময় কিছু কাস্টমার রয়েছে যারা পুরো ই-কমার্স সাইট ভিজিট করে কিন্তু কোন কেনাকাটা করে না। কিন্তু যখনই তারা একটি পপ-আপ এর মাধ্যমে কেনাকাটার জন্য অফার পায় তখন সেটি গ্রহণ করতে চেষ্টা করে।

কারণ এই অফারটি অত্যন্ত টার্গেটেড অফার যা সব সময় অ্যাভেলেবল থাকে না।

উদাহরণঃ

নিচের পপ-আপ অ্যাডটি লক্ষ্য করুন। অটো একসেসরিজ গ্যারেজ তাদের কাস্টমারদের জন্য এমন একটি অফার ডিজাইন করেছে যেটি পেতে হলে তাকে ইমেইল এড্রেস দিতে হবে। এর পেছনের মূল উদ্দেশ্যটি হচ্ছে, কাস্টমার যদি কেনাকাটা সম্পূর্ণ না করে চলে যায় তবে তাকে পরবর্তী সময়ে এবান্ডেন্ড কার্ট ইমেইল অফার প্রদান করার মাধ্যমে আবার কেনাকাটায় ট্রিগার করাবে।

রি-টার্গেটেড প্রোমোশন অফার

এই অফার গুলো তাদের জন্য যারা ইতিপূর্বে আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানে কিন্তু কেনাকাটা সম্পন্ন করনি।

উদাহরণঃ

খেয়াল করে দেখুন, DODOcase তাদের কাস্টমারদের জন্য একটি রিটার্গেটেড অ্যাড চালিয়েছে যেখানে তারা ২০% অফার প্রদান করেছে যদি কেউ কেনাকাটা করে।

ইনফ্লুয়েন্সের অফার

সাধারণত যারা সোশ্যাল মিডিয়া সেলিব্রেটি বা ব্লগার তাদের জন্য কিছু ইউনিক কোড জেনারেট করা হয় যা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেইজগুলোর মাধ্যমে তাদের নিজেদের ফ্যান ফলোয়ারদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া সেলিব্রেটিদের পরিচিতিকে ব্যবহার করে তাদের ফ্যান ফলোয়ারদের কাস্টমারে পরিণত করা এই অফারের মূল উদ্দেশ্য।

কাস্টমার লয়ালটি প্রোগ্রাম মেম্বারশিপ ইন্সেন্টিভ

আপনার অনেক কাস্টমার রয়েছে যারা রেগুলার কিন্তু তারা আপনার লয়ালটি প্রোগ্রাম এখনো জয়েন করেনি। এ ধরনের কাস্টমারকে লওয়ালটি প্রোগ্রামে জয়েন করানোর জন্য এ ধরনের অফার ডিজাইন করা হয়।

লয়ালটি প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য কাস্টমারদের কেনাকাটার ধরনের ওপর নির্ভর করে আরো বেশি অফার বা ডিসকাউন্ট প্রদানের মাধ্যমে তাকে নিয়মিত কেনাকাটা করাতে উৎসাহিত করা।

উদাহরণঃ

অনলাইন কেনাকাটায় অফার

যাদের ব্র্যান্ডশপ রয়েছে কিন্তু তারা চাচ্ছেন তাদের অনলাইন কেনাকাটার পরিমাণকে বাড়াতে তারা এ ধরনের অফার দিতে পারেন, যেখানে অনলাইন কেনাকাটায় কাস্টমারকে অফার প্রদান করা হয়।

ইভেন্ট অ্যাটেনডেন্স অফার

আমাদের দেশে ব্র্যান্ডগুলো বিভিন্ন সময় ফেয়ার অথবা মার্কেটিং ইভেন্ট অরগানাইজ করে প্রোডাক্ট প্রমোশন জন্য। এসময় আপনি ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীর জন্য অফার দিতে পারেন, এতে করে তারা এই অফারটি সুবিধা গ্রহণ করার জন্য কেনাকাটা করবে যা আপনার বেচাকেনাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

মাইলস্টোন ডিসকাউন্ট

কাস্টমারদের কেনাকাটার লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়, সেই লক্ষ্য পূরণ করলে কাস্টমার ডিসকাউন্ট অফার গ্রহণ করতে পারবে।

আবার কাস্টমারদের জন্মদিন বা বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে একটি ব্র্যান্ড তাদের কাস্টমাইজ অফার করে যদি সে কাস্টমার তার জন্মদিন বা বিবাহ বার্ষিকীর তারিখ উল্লেখ রাখে।

এই অফারগুলো একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে অথবা নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ সাপেক্ষে প্রদান করা হয়। 

পরিশেষে

অফার ডিসকাউন্ট বা কুপন দিলেই কাস্টমার বেশি বেশি কেনাকাটা করবে বিষয়টি মোটেও সঠিক নয়।

আপনাকে জানতে হবে কাস্টমারদের সেই সকল বিষয়গুলো যা তাদের একটি অফার গ্রহণে উৎসাহিত করে।এক্ষেত্রে সঠিক অফার প্রদান করা জরুরী। 

এখন আপনার কাছে অনেকগুলো অফারের আইডিয়া রয়েছে। আপনার কাস্টমারদের জন্য কোন অফার গুলি এই মুহূর্তে কার্যকর সেটি খুঁজে বের করুন এবং সঠিক কাস্টমারকে সঠিক অফারটি প্রদান করে প্রফিট মার্জিন বাড়িয়ে তুলুন। 

কীভাবে (হট, ওয়ার্ম এবং কোল্ড) ট্রাফিক টার্গেটিং এর মাধ্যমে সফল কাস্টমার রিলেশনশিপ তৈরী করবেন?

কীভাবে (হট, ওয়ার্ম এবং কোল্ড) ট্রাফিক টার্গেটিং এর মাধ্যমে সফল কাস্টমার রিলেশনশিপ তৈরী করবেন?

(হট, ওয়ার্ম এবং কোল্ড) ট্রাফিক টার্গেটিং পদ্ধতি কিভাবে কাস্টমার রিলেশনশিপ তৈরী করতে সাহায্য করে? ই-কমার্স ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আসা মানেই কি বেচাকেনা হওয়া? 

প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে  আসে কিন্তু সবাই  কি আপনার থেকে কেনাকাটা  করে। উত্তরঃ না 

ই-কমার্স বেচাকেনার মূল চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে আপনার  ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের বায়িং স্টেজ সম্পর্কে জানা, সঠিক ভাবে ওয়েব ট্রাফিক টার্গেটিং করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ  করার মাধ্যমে কাস্টমার এ পর্যন্ত করা। 

এমন অনেক পটেনশিয়াল কাস্টমার রয়েছে যারা আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের জন্য আদর্শ কিন্তু তারা জানেনা আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসগুলো কি? এগুলো কীভাবে তার সমস্যার সমাধান করবে? 

আপনি যত দ্রুত কাস্টমারদের বায়িংস্টেজ সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন তত দ্রুত তাদেরকে কাস্টমারে পরিণত করার জন্য সঠিক পদক্ষেপগুলো নিতে সক্ষম হবেন।

তাই শুরুতেই তাদের কাছে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বেচার কথা না বলে আপনি যা করতে পারেন তা হচ্ছে,

  • কাস্টমারদের সামনে আপনার বিজনেসটিকে থেকে তুলে ধরুন
  • যে সকল কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট, সার্ভিস বা বিজনেস সম্পর্কে আরও বেশি জানতে আগ্রহী, তাদের তথ্য সংগ্রহ করুন
  • এরপর তাদের ক্লায়েন্টে পরিণত করে বেশি বেশি বেচাকেনা করুন 

ট্রাফিক টার্গেটিং এর পুরো প্রক্রিয়াটি খুব বেশি জটিল না যদি সঠিকভাবে কাজটি করতে সক্ষম হন। আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের জানাবো কিভাবে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের কোল্ড, ওয়ার্ম এবং হট তিন ভাগে ভাগ করে  পর্যায়ক্রমে তাদের কাস্টমারে রূপান্তরিত করবেন।

কেন প্রথমেই কাস্টমারদের কাছে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেল করা যৌক্তিক নয়

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে একজন উদ্যোক্তা তার প্রডাক্ট ও সার্ভিসগুলো বেচার জন্য কাস্টমারদের সামনে  শুধুমাত্র সেল পোস্ট করতে থাকেন।  এখানে কাস্টমারদের চাহিদা বোঝা অথবা তাদের সমস্যাগুলো সমাধান সম্পর্কে দৃষ্টিপাত করা হয় না।

এর ফলশ্রুতিতে ভিন্ন ভিন্ন স্টেজে থাকা কাস্টমারেরা তার সমস্যার সাথে  সেই  প্রতিষ্ঠান বা বিজনেসের প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের সাথে  তার প্রয়োজনের সামঞ্জস্য বিধান করতে পারে না।

এতে করে শুধুমাত্র  সেলিং পোস্ট গুলোর  সাহায্যে  তারা একটা বিজনেসের সাথে লেনদেন করতে আগ্রহী হয় না। তাই শুরুতেই কাস্টমারদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করাটা জরুরী। আপনার বিজনেস, প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস নিয়ে সকল প্রকার প্রয়োজনীয় তথ্য কাস্টমারদের প্রদান করুন, তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরী করুন এবং এর পরে তাদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে তাকে ক্লাইন্টে  পরিণত করুন। 

কাস্টমারের আচরণ বিশ্লেষণ করার টুলস

কাস্টমারদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করার পূর্বে আপনাকে দেখতে হবে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের সাথে কাস্টমারদের ইন্টারেকশনের ধরন। 

প্রতিবার তারা যখন আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটটি ভিজিট করছে তারা ঠিক কোন কোন পেজগুলো ভিজিট করেছে এবং একটি পেজের কোন কোন অংশে তারা বেশি পরিমাণে ক্লিক করছে সেটি জানতে পারলে দারুন হয়।

তাদের ওয়েবসাইটের সাথে এনগেজ হবার  ধরন বিশ্লেষণ করে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটটিকে নতুনভাবে ডিজাইন করতে হবে। অথবা এমন একটি ই-কমার্স সলিউশন  প্রোভাইডার কোম্পানির ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যৌক্তিক হবে, যারা এই বিষয়গুলো নিয়ে আগে থেকেই গবেষণা করেছে। 

একটি ওয়েবসাইটের ভিজিটর কোথায় কোথায় ক্লিক করছে বা কিভাবে এঙ্গেজ হচ্ছে একটু বোঝার জন্য কিছু অনলাইন টুলস রয়েছে যা ওয়েবসাইটের  ক্লিক করার অংশগুলোকে হিট ম্যাপ চিত্র আকারে তুলে ধরে। যার মাধ্যমে এটি বুঝতে সুবিধা হয় কাস্টমার কোথায় বেশি পরিমাণে ক্লিক করছে।

নিচের চিত্রে দেখুন, দেশি কমার্স ব্লগে ঠিক কোথায় ভিজিটর ক্লিক করে,

Mocking Fish এমনই ধরনের একটি টুলস।

বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট ট্রাফিক সম্পর্কে জানুন

মার্কেটিং টার্মে ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। 

  • কোল্ড ভিজিটর 
  • ওয়ার্ম ভিজিটর এবং 
  • হট ভিজিটর

এই প্রতিটি ধরনের ট্রাফিক টার্গেটিং এর জন্য প্রথমে এদের আলাদা করতে হবে সেজন্য এদের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা দ্বারা তাদেরকে আলাদা করা যায়।

আরো পড়ুনঃ

ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য ফেসবুক সেলস ফানেল: কী, কেন, কীভাবে

 

কোল্ড ট্রাফিক

এমন কিছু অডিয়েন্স রয়েছে যারা আপনার বিজনেস সম্পর্কে ইতিপূর্বে কখনো শোনেনি। আপনি যখন একটি অ্যাড কপি বিভিন্ন মাধ্যমে  প্রচার  করার মাধ্যমে তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তখন তারা কিছুটা আগ্রহী হয়ে এঙ্গেজ হচ্ছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় তার আপনার সম্ভাব্য কাস্টমার হতে চলেছে। 

এধরনের অডিয়েন্সদের একটি সাধারণ সমস্যা থাকে এবং সেই সমস্যার সমাধানের জন্য সম্ভাব্য উপায়গুলো খুঁজতে থাকে যতক্ষণ না তারা সেই সমাধান খুঁজে পায় এবং আশ্বস্ত হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তারা সমাধান খোঁজ করে।

তাই এদের জন্য আপনাকে যা করতে হবে,

  • তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করুন
  • কোল্ড ট্রাফিক গুলোকে ওয়ার্ম ট্রাফিকে পরিণত করতে হবে
  • ওয়েবসাইটের সাথে তাদের আচরণের ধরন বিশ্লেষণ করে তাদের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে হবে
  • কনভার্শন ট্রাকিং পিক্সেল ব্যবহার করে তাদের আচরণের ওপর নির্ভর করে রেলেভান্ট অ্যাড প্রদান করতে হবে

এ ধরনের ট্রাফিক সাধারণত যে ধরনের কন্টেন্ট দ্বারা আকৃষ্ট হয়,

  • ব্লগপোস্ট
  • ভিডিও
  • সার্ভে
  • লিড মেগনেট
  • গবেষণাপত্র
  • টিউটোরিয়াল

এদেরকে কিভাবে ওয়ার্ম আপ করবেন

এ ধরনের ট্রাফিকে ওয়ার্ম আপ করার সবথেকে ইফেক্টিভ উপায় হচ্ছে লিড মেগনেট অ্যাড চালানো এবং তাদের সেই ফরমটি পূরণ করে ফেরত পাঠাতে উৎসাহিত করা। 

যেহেতু এ ধরনের অডিয়েন্স দের কিছু সমস্যা থাকে এবং সমস্যার সমাধানের জন্য তার উপায় খোঁজ করে, তাই তারা এই সমস্যা সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নিবে এটাই স্বাভাবিক এবং এই থেকে আপনাকে বুঝতে হবে আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের প্রতি তাদের প্রাথমিক পর্যায়ের আগ্রহ রয়েছে।

একবার যখন আপনি তাদের তথ্য গুলো পেয়ে গেছেন তখন নিয়মিত বিরতিতে তথ্যবহুল নিউজলেটার বা এসএমএস মার্কেটিং করে তাদেরকে সে বিষয়ে এডুকেট করে তুলতে হবে। 

ডেমোগ্রাফিক এবং ইন্টারেস্ট অনুযায়ী তাদের ভাগ করে সাধারণ অডিয়েন্স এবং এঙ্গেজিং অডিয়েন্সদের পৃথক করতে হবে।  পৃথক অডিয়েন্সদের তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা ঠিক কোন ধরনের পোস্ট গুলোতে কি ধরনের আচরণ করছে সেটি জানতে হবে এবং যতটা সম্ভব তাদের পছন্দনীয় পোস্টগুলো নিয়মিত বিরতিতে প্রদান করতে থাকতে হবে।

ওয়ার্ম ট্রাফিক

ওয়ার্ম ট্রাফিক গুলো সাধারণত আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে জানে, ইতিপূর্বে আপনার বিজনেস সম্পর্কে অবহিত আছে। তাই তাদেরকে জন্য বেশি অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন চালানোর প্রয়োজন নেই। 

এই ক্যাটাগরির ট্রাফিকদের কাছে বেচাকেনা করা আপনার মূল উদ্দেশ্য থাকবে তাই আপনাকে বুঝতে হবে তাদের আগ্রহের পরিধি সম্পর্কে।

নিয়মিতভাবে তাদেরকে এঙ্গেজ রাখতে হবে এবং প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য যেমনঃ বেনিফিট, টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

এ ক্যাটেগরির কাস্টমারদের কনভার্ট করানোর জন্য আপনি তাদেরকে ই-বুক, প্রোডাক্ট ডেমো, ওয়েবিনার, ফ্রী টুলস সার্ভিস ইত্যাদি ধরনের ইভেন্টের আয়োজন করতে পারেন। 

হট ট্রাফিক

এ ধরনের ভিজিটর ইতিপূর্বে আপনার থেকে প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কিনেছে এবং তারা আপনার বিজনেস সম্পর্কে জানে। ফলে তাদের কাছে সরাসরি সেল করার কথা বলতে পারেন।  

এ ধাপে আপনাদের উদ্দেশ্য থাকবে, 

  • তাদের কাছে আপ-সেল ও ক্রস-সেল করা
  • যারা অনেকদিন আপনার থেকে কেনাকাটা করেনি তাদেরকে কেনাকাটা করতে উৎসাহিত করা

তারা যে ধরনের কনটেন্ট ও পেজে এঙ্গেজ হয়

  • সেলস পেজ
  • প্রোডাক্ট পেজ 
  • অফার ডিসকাউন্ট 
  • হোম 
  • সার্ভিস
  • কাস্টমার কেয়ার 

ধরুন একজন কাস্টোমার আপনার বিজনেস সম্পর্কে আগে থেকেই জানে  এবং সে আপনার থেকে কেনাকাটা করেছে তবে তার জন্য আপনি কি ধরনের পরিকল্পনা করবেন?  

যেহেতু কাস্টমার আপনার বিজনেস সম্পর্কে আগে থেকেই জানে  এবং ইতিপূর্বে কেনাকাটা করেছে তাই তাকে সরাসরি প্রোডাক্ট শোকেস করুন।  এরপর যদি দেখেন সে  কেনাকাটা করছে না তবে তাকে অফার প্রদান করুন। 

যদি আপনার কাস্টমার প্রাইস সেনসিটিভ হয়ে থাকে তবে সে অফারটি লুফে নিবে। যদি দেখেন তারপরও সে কেনাকাটা করছে না, তবেএই পদ্ধতি তার জন্য না। তার জন্য ভিন্ন  কৌশল নিতে হবে। 

ই-কমার্স ওয়েবসাইট ভিজিটরদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার পদ্ধতি

কাস্টমার সাইকোলজি বিশ্লেষণ করা জরুরি। একজন কাস্টমার কেনাকাটা সম্পন্ন করার ঠিক আগ মুহূর্তেও কেনাকাটা না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কারণ তার মধ্যে প্রশ্ন জন্মে যে, সে কেন আপনাকে বিশ্বাস করবে। হয়তো সরাসরি আপনার সাথে কথা বলতে সে চাই কিন্তু ফোনে কল দিয়ে কথা বলা অর্থ সে ওয়েবসাইট থেকে বের হয়ে যাওয়া। তাই সে সেটি করতে চায় না।  এর উপযুক্ত সমাধান হচ্ছে লাইভ চ্যাট অপশন রাখা। 

আপনার ওয়েবসাইটের জন্য লাইভ চ্যাটিং সিস্টেম টি যুক্ত করে রাখুন। কাস্টমার যেন যে কোন সময় চাইলে আপনার সাথে এক ক্লিকে মেসেঞ্জারে যুক্ত হতে পারে এবং তার প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসা করতে পারে।

কোল্ড এবং ওয়ার্ম কাস্টমারদের কাছে সেল করাটা মূল উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের আস্থা জায়গা অর্জন করা। কাস্টমার একবার যখন আপনাকে আস্থার জায়গায় নিতে পারে পরবর্তী সময়ে সে বারবার আপনার থেকে কিনবে।

চ্যাটবট

খেয়াল করলে দেখা যায়, ওয়েবসাইট ভিজিটরের একটি বড় অংশ অনেক রাতে অথবা এমন কোন সময় আপনার সাথে যোগাযোগ করে যখন আপনি অ্যাভেলেবল নেই। সে ক্ষেত্রে ই-কমার্স ওয়েবসাইটে আপনি চ্যাটবট যুক্ত করে রাখুন। 

একটি বিজনেসের কমন যে সকল জিজ্ঞাসা রয়েছে একটি চ্যাটবট অনায়াসে সেগুলোর সমাধান দিতে পারে।

এতে করে কাস্টমারকে তার জিজ্ঞাসার সমাধান পেতে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না।

আরো পড়ুনঃ 

একটি সফল ই-কমার্স বিজনেস গড়ে তুলতে ৮ টি ব্র্যান্ডিং স্ট্রাটেজি এবং তার সঠিক ব্যবহার

পরিশেষে

আপনি এখন বুঝতে পেরেছেন ওয়েবসাইট ভিজিটরের ধরন গুলো সম্পর্কে। কোল্ড, ওয়ার্ম এবং হট ট্রাফিক আপনার বিজনেসের সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কি আচরণ করে এবং কিভাবে ট্রাফিক টার্গেটিং এর জন্য তাদের আলাদা করবেন।  

এটি একবার যখন আপনি ভালো ভাবে বুঝবেন ঠিক সেই মুহুর্তে থেকে আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর গুলোকে সঠিক লান্ডিং পেজে ডাইভার্ট করতে পারবেন।

কাস্টমার যদি তার বায়িংস্টেজ অনুসারে প্রাসঙ্গিক তথ্য পায় তবে সেই বিজনেস এর সাথে তার যুক্ত থাকার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে তারা আপনার বিজনেসের জন্য প্রফিটেবল কাস্টমার গ্রুপে পরিণত হয়।  

কীভাবে একটি ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার জন্য প্ল্যান করবেন

কীভাবে একটি ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার জন্য প্ল্যান করবেন

আপনি কি ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার কথা ভাবছেন? তাহলে আপনাকে জানতে হবে, কিভাবে একটি ই-কমার্স বিজনেসের জন্য প্ল্যান করবেন।

অধিকাংশ উদ্যোক্তা ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি জটিল করে ফেলেন, এতে করে বিজনেস শুরু করার আগেই তারা হতাশায় ভোগেন।

আবার কিছু উদ্যোক্তা ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার জন্য বিজনেস প্ল্যানিং এড়িয়ে যান, ফলে বিজনেস শুরু করার পরে তারা খুব বেশিদূর এগোতে পারে না।

আজকের গাইডে একটি ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার জন্য কিভাবে প্ল্যান তৈরি করতে হয় সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। 

ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান কি?

ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান বোঝার আগে আমাদের জানতে হবে প্ল্যান বা পরিকল্পনার সংজ্ঞা। Thinking before doing অর্থাৎ কোন কিছু করার আগে সে সম্পর্কে চিন্তা করাকেই প্ল্যান বা পরিকল্পনা বলে।

ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠানের সেই সকল স্ট্র্যাটেজিক ডকুমেন্ট যা প্রতিষ্ঠানের বিজনেস পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়। 

এই স্ট্র্যাটেজিক ডকুমেন্টগুলো বিজনেসের সুস্পষ্ট লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়তা করে ও বিজনেসের ভবিষ্যৎ সমস্যাগুলো অগ্রিম সমাধানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে ভূমিকা রাখে।

ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান ও ট্র্যাডিশনাল বিজনেস প্ল্যানের মধ্যে পার্থক্য কি? 

ই-কমার্স বিজনেস এবং ট্র্যাডিশনাল বিজনেসের মধ্যে মূল পার্থক্যটি হচ্ছে বিজনেস অপারেশন মিডিয়া।

একটি ট্রাডিশনাল বিজনেস পরিচালনা করতে ফিজিক্যাল শপের প্রয়োজন হয়। কাস্টমার সেখানে স্বশরীরে উপস্থিত থাকে এবং ফেস টু ফেস বা ডিরেক্ট কমিউনিকেশনের মাধ্যমে বেচাকেনা সম্পন্ন হয়।

কিন্তু ই-কমার্স বিজনেসে কাস্টমার ভার্চুয়াল শপের সাথে কমিউনিকেট করে এবং একটি প্রোডাক্ট ফিজিক্যালি দেখার আগেই সেটি অর্ডার করে।

ট্রাডিশনাল বিজনেসের সাথে ই-কমার্স বিজনেসের কমিউনিকেশন এবং প্রেজেন্টেশনের কৌশলগত জায়গায় মূল পার্থক্য তৈরি হয়।

কিভাবে ই-কমার্স বিজনেসের জন্য প্ল্যান করবেন

মনে করুন, আপনি সম্পূর্ণ নতুন একজন উদ্যোক্তা এবং আপনি ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে চান। তাহলে আপনাকে পর্যায়ক্রমিকভাবে যে বিষয়গুলো নিয়ে প্ল্যান তৈরি করা জরুরি –

  • মার্কেট রিসার্চ
  • এক্সিকিউটিভ সামারি
  • টেকনোলজিক্যাল প্ল্যান
  • মার্কেটিং প্ল্যান
  • অপারেশন প্ল্যান

১) মার্কেট রিসার্চ

আপনি যদি আপনার ইন্ডাস্ট্রির অডিয়েন্সদের সম্পর্কে না জানেন তবে বিজনেসে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তাই মার্কেট রিসার্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এখানেই ট্র্যাডিশনাল বিজনেস এবং ই কমার্স বিজনেসের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য রয়েছে।

বিজনেস শুরুর আগে জানুন,

  • আমার কাস্টমারদের কি ধরনের সমস্যা রয়েছে?
  • আপনি কীভাবে এই সমস্যাগুলি সমাধান করতে পারেন?
  • কোন প্রোডাক্টগুলো এই সমস্যাগুলি সমাধান করতে সক্ষম?
  • মানুষ কখন এই প্রোডাক্টগুলো কেনাকাটা করে?
  • তারা কতবার প্রোডাক্টগুলো কেনে?

২) এক্সিকিউটিভ সামারি

প্রতিটি বিজনেসের এমন একটি প্ল্যান থাকা উচিত যা প্রতিষ্ঠানের মিশন এবং ভিশনের স্পষ্ট রূপরেখা দেয়। এক্সিকিউটিভ সামারি এই কাজটি করে, তাই এটি বিজনেস প্ল্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

এক্সিকিউটিভ সামারি আপনার বিজনেসের সাধারণ পরিচিতির চেয়ে আরো বেশি কিছু। এটি আপনার বিজনেস প্ল্যানের  একমাত্র অংশ যা আপনার কাস্টমারেরা পড়তে পারে। তাই এটি চিন্তাশীল এবং স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এক্সিকিউটিভ সামারি  কীভাবে লিখতে হয় এবং এর মধ্যে কী কী অন্তর্ভুক্ত করা যায়? 

  • অবজেক্টিভ, মিশন ও ভিশন
  • টার্গেট মার্কেট
  • প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস
  • বিপণন ও বিক্রয় কৌশল
  • প্রতিযোগিতামূলক বিশ্লেষণ
  • অর্থায়ন এবং বাজেট বরাদ্দ
  • কর্মী নিয়োগ ও কর্মচারী সংক্রান্ত তথ্য
  • বিজনেস প্ল্যান কীভাবে কার্যকর করা হবে

নিচের লিংকটি ব্যবহার করে আপনার বিজনেসের জন্য এক্সিকিউটিভ সামারি তৈরি করতে পারেন, 

https://www.hubspot.com/business-templates/executive-summary 

৩) টেকনোলজিক্যাল প্ল্যান

দীর্ঘ মেয়াদে বিজনেস করতে হলে প্রথমেই ভেবে নেয়া প্রয়োজন ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কি ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করবেন। 

ই-কমার্সের জন্য সঠিক টেকনোলোজি নির্বাচনে ভুল করা উদ্বেগজনক, কারণ পেজ লোডিং এর জন্য এক সেকেন্ড বেশি সময় নিলে আপনার রেভিনিউ হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই সঠিক টেকনোলোজি নির্বাচন প্রোডাক্ট অংশের মতই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ই-কমার্স ওয়েবসাইটের দুটি ভিন্ন অংশ থাকে, 

  1. Front end (client-facing)
  2. Back end (server-facing)

Front-End eCommerce Technologies

Front end ওয়েব এবং অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের প্রযুক্তি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটকে কাস্টমারদের ব্যবহার উপযোগী করার জন্য প্রয়োগ করা হয়। এখানে তিনটি প্রধান প্রযুক্তি রয়েছে যা সর্বদা একে অপরের পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়, সেগুলো হচ্ছে, 

  • HTML 
  • CSS 
  • Java Script

Back-End eCommerce Technologies

প্রযুক্তির সার্ভার -মুখী অংশ যা ব্যাক এন্ড নামে পরিচিত। ই কমার্স ওয়েবসাইটের সকল কাজগুলি সম্পাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় টুলস এবং ফ্রেমওয়ার্কের একটি সম্মিলিত প্রয়োগ। 

Back-End eCommerce Technologies এর মধ্যে যে সকল অংশ রয়েছে,

Operating systems

প্রধান ৪ ধরনের Operating systems রয়েছে,

  1. Google’s Android 
  2. Microsoft Windows
  3. Apple macOS
  4. Linux OS 

আপনার বাজেট ও বিজনেসসের পরিধি ও প্রয়োজনীয়তা অনুসারে সঠিক Operating systems বেছে নিতে হবে। 

Web Server

ওয়েব সার্ভার এমন একটি সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীদের অনুরোধ গ্রহণ করে সেটি বিশ্লেষণ করে এবং ব্যবহারকারীর অনুরোধ করা নথিগুলির আউটপুট সরবরাহ করে। দুটি বড় ওয়েব সার্ভার যা উভয়ই ওপেন সোর্স এবং ফ্রি সেগুলো হচ্ছে, Apache and Nginx

Databases

ডাটাবেসগুলি ব্যাকেন্ড ইকোসিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আপনাকে প্রচুর ডেটা রাখতে এবং প্রসেস করতে দেয়। সর্বাধিক জনপ্রিয় ডাটাবেসগুলি হচ্ছে,

  • MySQL
  • MongoDB
  • DynamoDB by Amazon
  • Firebase database by Google
  • PostgreSQL

Storage

সর্বাধিক জনপ্রিয় স্টোরেজ সমাধানগুলি হচ্ছে, 

  • AWS S3 Amazon Simple Storage Solution
  • Digital Ocean Space
  • Firebase Storage by Google

Programming language

প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হলো শব্দভাণ্ডার এবং নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য কম্পিউটার বা কম্পিউটিং ডিভাইসকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য ব্যাকরণ সংক্রান্ত নিয়মের সেট। 

  • Ruby [Ruby on Rails]
  • Java [Spring]
  • Python [Django, Pylons, Flask]
  • Scala [Play]
  • PHP [Laravel]

ইকমার্সের জন্য কিভাবে একটি সঠিক টেকনোলোজি স্ট্যাক বা সেট নির্বাচন করবেন,

  • এটি বিদ্যমান টেকনোলোজি স্ট্যাক বা সেটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নিশ্চিত করুন 
  • আপনি কি বিষয়ে দক্ষ সেটি বের করুন
  • প্রোজেক্ট বিবেচনা করে
  • ডেভলপমেন্ট টাইম বিবেচনা করে 
  • স্কেলিবিলিটি বিবেচনা করে 
  • বাজেট পরিকল্পনা ও হার্ডওয়্যার রিকোয়ারমেন্ট

Amazon এর টেকনোলোজি সেট, 

৪) মার্কেটিং প্ল্যান

নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম নাকি মার্কেটপ্লেস? 

যেহেতু আপনি ই-কমার্স বিজনেস উদ্যোক্তা হতে চান তাই প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন আপনি কি নিজস্ব ই-কমার্স পরিচিতি তৈরি করতে চান, নাকি প্রতিষ্ঠিত মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বিজনেস করতে চান। 

আপনি চাইলে একই সাথে মার্কেটপ্লেস ও নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিজনেস চালিয়ে যেতে পারেন। তবে দুটি ভিন্ন প্লাটফর্মের জন্য আলাদা আলাদা বিজনেস প্ল্যান প্রয়োজন। 

এটি পরিষ্কার ভাবে জানা জরুরী যে আপনি নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করতে চান নাকি শুধুমাত্র মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে প্রোডাক্ট বেচাকেনা করতে চান। 

যদি নিজের ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করতে চান তবে নিজের ই-কমার্স ওয়েবসাইট প্রয়োজন।  

আর নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করতে না চাইলে শুধুমাত্র প্রোডাক্ট বেচাকেনা করার জন্য বাংলাদেশে এবং দেশের বাইরে অনেক স্বনামধন্য মার্কেটপ্লেস রয়েছে, যেখানে আপনি একাউন্ট খুলে আপনার প্রোডাক্ট শোকেস করে বেচাকেনা চালিয়ে যেতে পারেন।

 

 

নিজের ই-কমার্স ওয়েবসাইট এবং মার্কেটপ্লেসের মধ্যে পার্থক্য কি? 

নিজের ই-কমার্স ওয়েবসাইটের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ আপনার নিজের থাকে। প্রোডাক্ট ইনফো,কাস্টমার ডাটা আপনি ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করতে পারেন। 

অপরদিকে মার্কেটপ্লেস শুধুমাত্র আপনার প্রোডাক্ট বেচাকেনায় সহায়তা করে, কিন্তু কখনোই কাস্টমারদের ডাটা আপনাকে তারা হস্তান্তর করবে না।

ই কমার্স বিজনেস হচ্ছে ডাটা নির্ভর বিজনেস এখানে যার যতবেশি কাস্টমার ডাটাবেজ রয়েছে সে তত দ্রুত এগিয়ে যাবে।

তাই যদি দীর্ঘমেয়াদী বিজনেস পরিকল্পনা করেন এবং নিজের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে চান তবে নিজস্ব ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরীর মাধ্যমে বিজনেস শুরু করার পরিকল্পনা করুন। আর যদি শুধুমাত্র প্রোডাক্ট বেচাকেনা করার পরিকল্পনা করেন তবে এই মুহূর্তে মার্কেটপ্লেস আপনার জন্য আদর্শ সমাধান।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম সেটআপ

একবার যখন আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন মার্কেটপ্লেস অথবা নিজস্ব ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি  কোন মডেলে শুরু করবেন, এবারে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো সেটআপ করে নিন। 

যদি মার্কেটপ্লেস নির্ভর বিজনেস পরিচালনা করতে চান তবে প্রথম থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম আপনাকে ভালো একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। অনেক ক্ষেত্রে মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট করার জন্য মিনিমাম রিকোয়ারমেন্ট হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া থাকা বাধ্যতামূলক।   

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক ই-কমার্স বিজনেস পরিচালনার জন্য যথেষ্ট সুবিধা প্রদান করে।

নিজস্ব ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করতে হলেও আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, যেখানে ট্রাফিক রয়েছে সেখানেই রয়েছে বিজনেস অপরচুনিটি।

বিজনেসর ধরনভেদে কোন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো আপনি অগ্রাধিকার দিবেন সেটি নির্বাচন করতে হবে।

যদি পরিকল্পনা করেন ফ্যাশন ব্র্যান্ড, আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট, বুক অ্যান্ড প্রিন্টিং, ফুটওয়ার বা লাইফ স্টাইল প্রোডাক্ট নিয়ে বিজনেস করার তবে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ আপনাকে সুবিধা দিবে।

অপরদিকে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ১৮+ রেট প্রোডাক্ট, কর্পোরেট সার্ভিস ইত্যাদি নিয়ে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে চাইলে ইমেইল মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম, এসএমএস মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম, গুগল ইত্যাদি মিডিয়াগুলোকে প্রাধান্য দিতে পারেন।

মেডিকেল ইকুইপমেন্ট অথবা ১৮+ রেটেড প্রোডাক্টগুলো জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে মার্কেটিং করা কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সকল প্রোডাক্ট মার্কেটিং করার জন্য তারা আপনাকে অনুমতি দেয় না।

প্রতিযোগীদের কোয়ালিটি এবং লেভেল সম্পর্কে জানুন

নিজস্ব ব্র্যান্ড হোক অথবা মার্কেটপ্লেস দুই জায়গাতেই আপনার অসংখ্য প্রতিযোগী রয়েছে তাই হুটহাট শুরু করার আগেই সতর্কতার সাথে আপনার প্রতিযোগীদের বিহেভিয়ার, তাদের প্রোডাক্টের প্রাইস, প্রোডাক্ট কোয়ালিটি, বিজনেস পলিসি, শিপমেন্ট প্রসেস, কি ধরনের ডিসকাউন্ট তারা কাস্টমারদেরকে দিচ্ছে প্রতিটি বিষয় নিয়ে স্থির ভাবে চিন্তা করুন।

প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে টিকে থাকতে হলে আপনার নিজের বিজনেসের জন্য কি ধরনের পলিসি, প্রাইসিং এবং বিজনেস স্ট্র্যাটিজি তৈরি করতে হবে সেকি ঠিক করে ফেলুন।

এর ফলে যখন আপনি বিজনেস শুরু করবেন তখন কাস্টমারদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার যৌক্তিক উত্তর আপনার কাছে থাকবে।

কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট এবং গ্রাফিক ডিজাইনে মনোযোগী হন

হিন্দিতে খুব পপুলার একটি ডায়ালগ রয়েছে, “যো দিখতা হে ও বিখতা হে”। সেটাই বিক্রি হয় যা দেখা যায়।

ই-কমার্স বিজনেসে কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে দেখার আগে প্রোডাক্টের ছবি দেখে। প্রোডাক্টটির ব্যবহার  সম্পর্কে জানে ডেসক্রিপশন পড়ে, প্রোডাক্টের কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারনা পায় মার্কেটিং কনটেন্ট পড়ে।

আপনি যখন ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার পরিকল্পনা করছেন তখন মার্কেটিং কন্টেন্ট এবং আকর্ষনীয় গ্রাফিক ডিজাইন তৈরি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল টুলস এবং টেকনোলজি প্রস্তুত রাখুন।

যদি নিজে কন্টেন্ট লিখতে পারেন তবে ভালো,  না হলে অনেক এক্সপার্ট কনটেন্ট রাইটার রয়েছে যাদের সহযোগিতা নিতে পারেন।

গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, ডিজিটাল পেইন্টিং অথবা অনেক ফ্রি এবং পেইড অনলাইন গ্রাফিক ডিজাইন টুইস রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

যদি আপনার রাইটিং স্কিল না থাকে অথবা ডিজাইন সম্পর্কে ধারনা কম থাকে তবে কোন একটি দক্ষ এজেন্সির সহায়তা নিতে পারেন তারা সে বিষয়ে আপনাকে সাহায্য করবে।

প্রোডাক্ট প্রাইসিং, প্রফিট মার্জিন, পলিসি,  টার্ম এন্ড কন্ডিশন

বিজনেস শুরু করার আগেই আপনার বিজনেস পলিসি, প্রোডাক্ট রিটার্ন এবং রিফান্ড পলিসি, টার্মস এন্ড কন্ডিশন, প্রফিট মার্জিন এগুলো নির্ধারণ করে ফেলতে হবে।

পরবর্তী সময়ে কাস্টমার ফিডব্যাকের উপর নির্ভর করে আপনার সমস্ত রকম প্রোডাক্টের জন্য প্রাইসিং, পলিসি, টার্ম এন্ড কন্ডিশন ইত্যাদি অপটিমাইজ করবেন। 

একটি বিষয় মনে রাখবেন যদি প্রোডাক্ট প্রাইসিং, প্রফিট মার্জিন, পলিসি,  টার্ম এন্ড কন্ডিশন আপনাকে এবং আপনার কাস্টমার উভয়কে লাভবান করে না, সেটি বিজনেসের জন্য ইতিবাচক নয়।

৫) অপারেশন প্ল্যান

এই অংশটি নির্ধারণ করে আপনার বিজনেসের প্রতিদিনের রূপরেখা। কীভাবে বিজনেসটি পরিচালিত হবে, মানুষ কীভাবে ক্লাইন্টে রূপান্তর হবে, এবং কীভাবে আপনি তাদের সেলস অর্ডারগুলি পূরণ করবেন?

চিন্তা করুন, 

  • আপনার কোন সরঞ্জাম এবং সরবরাহের প্রক্রিয়া প্রয়োজন?
  • বিজনেসের চেইন অফ কমান্ড কী হবে, তাদের দায়িত্বে কি হবে?
  • আপনি কি প্রোডাক্ট ডেভেলপ করবেন নাকি রিসেল করবেন? 
  • আপনার কর্মীদের কি প্রয়োজন?
  • বিজনেসের উন্নতির সাথে সাথে সকল অপারেশন প্রক্রিয়া কি একই থাকবে, নাকি এর পরিবর্তন প্রয়োজন? 

প্রোডাক্ট শিপমেন্ট এবং অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট

শুধু প্রোডাক্ট বেচে দিয়ে ই-কমার্স বিজনেসের কাজ শেষ হয়ে যায় না, প্রোডাক্টটি কাস্টমারদের হাতে সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং পেমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে একটি ই-কমার্স ট্রানজেকশন সফল ভাবে সম্পন্ন হয়।

তাই যখন ই-কমার্স বিজনেস পরিকল্পনা করছেন তখন প্রোডাক্ট শিপমেন্টের জন্য কোন third-party প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিবেন নাকি নিজস্ব প্রোডাক্ট ডেলিভারি সিস্টেম চালু করবেন সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিন।

যাদের ইনভেস্টমেন্ট তুলনামূলকভাবে কম এবং ইতিপূর্বে বিজনেস পরিচালনার সম্যক অভিজ্ঞতা না থাকলে  উদ্যোক্তাদের জন্য আমাদের পরামর্শ হবে প্রোডাক্ট শিপমেন্টের জন্য থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠানগুলো সহায়তা নিন।

শুরুতেই শিপমেন্টের জন্য নিজস্ব সিস্টেম চালু করলে আপনার বিজনেসের ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।

যারা ইতিপূর্বে ফিজিক্যাল স্টোরের মাধ্যমে  বিজনেস পরিচালনা করেছেন কিন্তু এখন ই-কমার্স বিজনেস আসতে চান তাদের ক্ষেত্রে নিজস্ব ডেলিভারি সিস্টেম তৈরি করা যৌক্তিক হবে। 

এটি তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি এক্সট্রা সুবিধা প্রদান করবে।তবে নিজস্ব ডেলিভারি সিস্টেম চালু করবেন কি না সেটি নির্ভর করবে আপনার আর্থিক সামর্থ্যের উপরে। 

পেমেন্ট সিস্টেম

বিজনেসে টিকে থাকতে প্রয়োজন টাকা বা কাস্টমারদের পেমেন্ট তাই শুরুতেই নির্বাচন করুন আপনি কিভাবে পেমেন্ট নিতে চান।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের  সকল ই-কমার্স উদ্যোক্তা পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এটি লেনদেনের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য সাথে  ই-কমার্স বিজনেসের একটি মূল অংশও বটে।

শুরুর দিকে আপনি ক্যাশ অন ডেলিভারি দিয়ে চালিয়ে নিতে পারেন তবে একটি সময় আপনাকে অবশ্যই পেমেন্ট গেটওয়েতে আসতে হবে।  কারণ মানসম্মত কাস্টমার খুচরা পয়সা মানিব্যাগে রাখার থেকে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ড অথবা ডিজিটাল মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেম ব্যবহার করতে বেশি অভ্যস্ত।

পরিশেষে

এখন আপনি জানেন একটি ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার আগে ঠিক কোন কোন বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।

এই গাইড থেকে ধারণা নিয়ে আপনি আপনার বিজনেসের জন্য একটি বিস্তারিত বিজনেস প্ল্যান তৈরি করুন। আপনার তৈরি করা বিজনেস প্ল্যান নিয়ে আমাদের সাথে আলোচনা করতে পারেন। 

আরো কি কি বিষয় সেখানে যুক্ত করা যেতে পারে বা কোন কোন বিষয়গুলো অপ্রয়োজনীয় সেটি নিয়ে আমাদের মতামত পেতে কমেন্ট করুন। 

ফেসবুক অ্যাড ফরম্যাট 101 : কত ভাবে ফেসবুকে একটি অ্যাড দেয়া যায়

ফেসবুক অ্যাড ফরম্যাট 101 : কত ভাবে ফেসবুকে একটি অ্যাড দেয়া যায়

আপনারা কি জানেন ফেসবুকে কতভাবে একটি অ্যাড দেওয়া যায়? ভিন্ন ভিন্ন ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভ এর জন্য ফেসবুক অ্যাড ফরম্যাট বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে? 

ফেসবুক অ্যাড থেকে আপনি কি লক্ষ্য অর্জন করতে চান তার উপর নির্ভর করে অ্যাড ফরমেট বেছে নিতে হয়। 

ফেসবুকের কত ধরনের অ্যাড টাইপ রয়েছে? এগুলোর স্পেসিফিকেশন কি? ভিন্ন ভিন্ন অ্যাড টাইপের উদাহরণ সহ কেন সঠিক অ্যাড ফরম্যাট বেছে নেয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে আপনি জানেন কি?  

তাহলে, আসুন ফেসবুকের অ্যাড ফরম্যাটগুলো সম্পর্কে জানি এবং খুঁজে বের করি ফেসবুক অ্যাডের প্রতিটি ভিন্ন ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভগুলোর জন্য কোন ধরনের অ্যাড ফরম্যাট উপযুক্ত। 

ই কমার্স ওয়েবসাইটে ট্রাফিক ও লিড পেতে চাইলে 

আমরা সবাই চায় আমাদের ই-কমার্স ওয়েবসাইটে বেশি সংখ্যক ভিজিটর আসুক। ফেসবুক ব্যবহার করে ই-কমার্স ওয়েবসাইটে বেশি সংখ্যক ভিজিটর নিয়ে আসতে হলে, আপনার ই-মেইল নিউজলেটারের জন্য সাবস্ক্রাইবার বাড়াতে অথবা যদি চান আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের কনটেন্টগুলো বেশি পরিমাণ মানুষকে দেখাতে নিম্নে উল্লেখিত অ্যাড ফরমেটগুলো থেকে প্রয়োজনীয় ফরম্যাটটি বেছে নিতে পারেন। 

লিংক ক্লিক অ্যাড

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ রাইট কলাম, ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড, অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক, ইনস্টাগ্রাম

সাধারনত ফেসবুকের বাইরের লিংক অডিয়েন্সদের বেশি পরিমাণে ভিজিট করাতে এই অ্যাড ফরম্যাট ব্যবহার করতে হয়। এই অ্যাড ফরম্যাট ই-কমার্স ওয়েবসাইট, ব্লগ, ই-মেইল সাবস্ক্রিপশন বাড়িয়ে তুলতে দারুন রকম কার্যকর। 

স্পেসিফিকেশন

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ ১২০০× ৬২৮ পিক্সেল
  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ সর্বোচ্চ ৯০ অক্ষর
  • হেডলাইনঃ ২৫ অক্ষর

ভিডিও অ্যাড

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড, অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক, ইনস্টাগ্রাম

ফেসবুক ভিডিও অ্যাড ফরম্যাট লিংক ক্লিক অ্যাডের ভিন্ন যেখানে ভিডিও এর স্থানে স্থির চিত্র থাকে।

স্পেসিফিকেশন

  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ সর্বোচ্চ ৯০ অক্ষর
  • অ্যাসপেক্ট রেশিওঃ ১৬ঃ৯ থেকে ৯ঃ১৬ 
  • ফাইল সাইজঃ সর্বোচ্চ ৪ জিবি
  • কন্টিনিয়াস লুপিং এভেলেবল

ভিডিও ১২০ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা যায় কিন্তু ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও গুলো সব থেকে বেশি পারফর্ম করে।

বুস্টেড পেজ পোস্ট

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড, অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক, ইনস্টাগ্রাম

আমরা যখন নতুন কিছু ফেসবুকে পোস্ট করি ফেসবুক আমার ইউজার ইন্টারফেস থেকেই একটি পোস্ট বুস্ট করার জন্য অপশন দেয় যেখান থেকে সেই পোষ্টটি বুষ্ট করা যায়। 

স্পেসিফিকেশন

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ ১২০০× ৬২৮ পিক্সেল
  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ আনলিমিটেড
  • হেডলাইন ২৫ অক্ষর 
  • লিংক ডেসক্রিপশনঃ ৩০ অক্ষর সর্বোচ্চ

প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সেল করতে এবং নতুন লিড খুঁজে পেতে

আপনার যদি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট থাকে এবং তার মাধ্যমে যদি প্রোডাক্ট শোকেস করতে চান। অথবা ফেসবুকে একটি সিঙ্গেল অ্যাডের দ্বারা সকল প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কাস্টমারদের কাছে তুলে ধরতে চান। পাশাপাশি কাস্টমারদের তথ্য যেমন, ফোন নাম্বার, ইমেইল ইত্যাদি সংগ্রহ করতে চান তবে এই ধরনের অ্যাড ফরম্যাট ব্যবহার করুন। 

মাল্টি প্রোডাক্ট বা ক্যারোজেল অ্যাড

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড, অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক, ইনস্টাগ্রাম

ক্যারোজেল অ্যাড ফরমেট আপনাকে একসাথে সর্বোচ্চ দশটা ইমেজ বা ভিডিও, হেডলাইন অথবা লিংক কল টু অ্যাকশন এর সাথে একটা সিঙ্গেল অ্যাডের মাধ্যমে শো-কেস করার সুবিধা দেয়। 

এটি ই-কমার্স বেচাকেনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যাড ফরমেট যেখানে একজন কাস্টোমার একটা পোস্টে  স্ক্রিনে ডানে ও বামে স্ক্রল করে অনেকগুলো প্রোডাক্ট এক সাথে দেখতে পায়। 

স্পেসিফিকেশন

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ ১০৮০× ১০৮০ পিক্সেল ও ৬০০ × ৬০০ পিক্সেল 
  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ সর্বোচ্চ ৯০ অক্ষর
  • হেডলাইন ২৫ অক্ষর 
  • লিংক ডেসক্রিপশনঃ ৩০ অক্ষর সর্বোচ্চ

ডায়নামিক প্রোডাক্ট অ্যাড

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ রাইট কলাম, ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড, অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক, ইনস্টাগ্রাম

ফেসবুক ডায়নামিক প্রোডাক্ট অ্যাড অনেকটাই রি-মার্কেটিং ডিসপ্লে অ্যাডের মত, যেখানে টার্গেট অডিয়েন্সদের ইতিপূর্বের ইন্টারেকশন থেকে ধারণা নিয়ে তাদের সঠিক সময়ে এড প্রদর্শন করা হয়। 

এই ফরম্যাটের অ্যাডের জন্য ফেসবুকে প্রোডাক্ট ক্যাটালগ তৈরি করতে হবে এবং আপনার ফেসবুক পেজের জন্য পিক্সেল টি সঠিক ভাবে যুক্ত আছে কিনা দেখে নিতে হবে। বাকি সমস্ত কাজ ফেসবুক নিজে থেকে করে দিবে।

স্পেসিফিকেশন

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ ১২০০× ৬২৮ পিক্সেল ও ৬০০ × ৬০০ পিক্সেল 
  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ সর্বোচ্চ ৯০ অক্ষর
  • হেডলাইন ২৫ অক্ষর 
  • লিংক ডেসক্রিপশনঃ ৩০ অক্ষর সর্বোচ্চ

ফেসবুক লিড অ্যাড

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড, অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক, ইনস্টাগ্রাম

কাস্টমারদের ইমেইল এড্রেস সংগ্রহ করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে যেখানে কাস্টমার আপনার ফেসবুক পেজ থেকে কোন একটা কন্টেন্ট ডাউনলোড করার জন্য তার ই-মেইল এড্রেসটি প্রদান করে।

স্পেসিফিকেশন

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ১২০০× ৬২৮ পিক্সেল
  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ সর্বোচ্চ ৯০ অক্ষর
  • হেডলাইন ২৫ অক্ষর 
  • লিংক ডেসক্রিপশনঃ ৩০ অক্ষর সর্বোচ্চ
  • কন্টেন্ট প্যারাগ্রাফ ফরমেটে হয়ে থাকে যেখানে কোন ক্যারেক্টার লিমিট নেই অথবা পাঁচটি বুলেট পয়েন্ট ফরমেটে দিতে পারবেন, যেখানে সর্বোচ্চ ৮০ অক্ষর প্রতি বুলেটের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন। 
  • কন্টেন্ট কার্ড হেডলাইনঃ সর্বোচ্চ ৬০ অক্ষর 
  • কন্টেন্ট কার্ড বাটনঃ ৩০ অক্ষর
  • প্রাইভেসি পলিসি এবং ওয়েবসাইট ইউ আর এল লিংক  দিতে হবে

একজন ব্যক্তি যখন এই লিড ফরমটি পূরণ করবে তার ই-মেইল এড্রেসটি ফেসবুক একাউন্টে স্টোর হয়ে যাবে এবং সেখান থেকে আপনি খুব সহজেই তার তথ্য গুলো ডাউনলোড করে নিতে পারবেন ও আপনার CRM এ যুক্ত করে তাকে নিয়মিতভাবে আপনার কন্টাক্ট পৌঁছে দিতে পারবেন।

ক্যানভাস অ্যাড প্লেসমেন্ট নিউজ ফিড

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ মোবাইল নিউজফিড

ক্যানভাস অ্যাড হচ্ছে ইন্টার‌একটিভ অ্যাড যেখানে আপনার অডিয়েন্সদের যুক্ত হতে সাহায্য করে। এটি শুধুমাত্র মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে যুক্ত হবার জন্য প্রযোজ্য। 

ক্যানভাস অ্যাডে টার্গেট কাস্টমার ক্যারোজেল অ্যাড ইমেজগুলো বিভিন্ন ডাইরেকশনে সয়াইপ করে বা জুম-ইন ও জুম- আউট করে দেখতে পারবে। ক্যানভাস অ্যাড যেকোনো স্ট্যান্ডার্ড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের চেয়ে ১০ গুণ দ্রুত লোড হয়।

স্পেসিফিকেশন

রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ  রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ১২০০× ৬২৮ পিক্সেল

  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ সর্বোচ্চ ৯০ অক্ষর
  • হেডলাইন ৪৫ অক্ষর 
  • ক্যানভাস এডে যে কাজগুলো করা সম্ভব তা হচ্ছে,
  • হেডারের সাথে লোগো দিতে পারবেন
  • ফুলস্ক্রীন ইমেজ দেখানো সম্ভব 
  • টেক্সট এর জন্য আলাদা ব্লক রয়েছে
  • অফ সাইট লিঙ্কের জন্য বাটন রয়েছে
  • ইমেজ ক্যারোজেল রয়েছে 
  • অটো ভিডিও প্লেয়ার রয়েছে 
  • প্রডাক্ট সেট সুবিধা রয়েছে

কালেকশন অ্যাড

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ মোবাইল নিউজফিড

ফেসবুক কালেকশন অ্যাড দ্বারা একসাথে অনেকগুলো প্রোডাক্ট যা আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করছেন তা শোকেস করার মাধ্যমে সেল করতে পারবেন এই ফরম্যাট ব্যবহার করে। আপনারা অডিয়েন্স সকল খুব সহজেই প্রোডাক্টগুলো ডিসকভার করতে পারবে ও ব্রাউজ করতে পারবে। 

স্পেসিফিকেশন

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ  রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ১২০০× ৬২৮ পিক্সেল
  • ইমেজ রেশিওঃ ১.৯ঃ১ 
  • ইমেজে ২০ শতাংশের বেশি টেক্সট ব্যবহার করা যাবে না 
  • হেডলাইন ২৫ অক্ষর 

পেজে লাইক এবং এনগেজমেন্ট পেতে চাইলে  

ফেসবুকের অর্গানিক রিচের পরিমান গড়ে ২% থেকে 3%, তাই পেজে নতুন অডিয়েন্স নিয়ে আসতে এবং এঙ্গেজমেন্ট ধরে রাখতে হলে পেজ বা পোস্ট প্রমোট করা জরুরি। সে ক্ষেত্রে যে সকল ধরনের ফরমেট আপনি ব্যবহার করতে পারেন,

পেজ লাইক অ্যাড

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ রাইট কলাম, ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড

পেজ লাইক অ্যাডে কন্টেন্ট এর সাথে কল টু একশন বাটন জুড়ে দেয়া থাকে যেখানে ক্লিক করা মাত্র একজন অডিয়েন্স পেইজের লাইক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বেশি পরিমান পেজ লাইক পেতে সঠিক টার্গেট করতে হবে এবং  ছবি হতে হবে আকর্ষণীয়।

 

পেজ পোস্ট ফটো অ্যাড

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ রাইট কলাম, ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড

আরো বেশি অডিয়েন্স পেজে পেতে চান? সেক্ষেত্রে এই অ্যাড ফরম্যাট ব্যবহার করে চমৎকার ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে আপনারা অডিয়েন্সদের এঙ্গেজ করতে পারেন। ছবির সাথে ডেসক্রিপশন লিংক দিতে পারেন এবং খুব সামান্য পরিমাণে লিখা দিতে পারেন তবে এখান থেকে খুব বেশি ট্রাফিক আশা করাটা যৌক্তিক হবে না।

পেজ পোস্ট ভিডিও অ্যাড

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ রাইট কলাম, ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড

ভিডিও এডভার্টাইজিং অনেক বেশি অডিয়েন্স এঙ্গেজমেন্ট তৈরি করতে পারে। এমনকি ছোট কোম্পানিগুলো তাদের জন্য ছোট ছোট ভিডিও অ্যাড তৈরি করে তাদের অডিয়েন্সদের জন্য প্রদর্শন করতে পারে। এই অ্যাড অনেক কার্যকরী এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ভিডিও অ্যাড দেখার সময়কালের উপর নির্ভর করে অডিয়েন্সদের টার্গেট করা যায়।

 

স্পেসিফিকেশন

  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ ৯০ অক্ষর 
  • অ্যাসপেক্ট রেশিওঃ ১৬ঃ৯ (ফুল ল্যান্ডস্কেপ) ৯ঃ১৬ (ফুল পোট্রেট) 
  • ফাইল সাইজঃ ৪ জিবি

ভিডিও দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১২০ মিনিট, তবে ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ভালো পারফর্ম করে। 

পেজ পোস্ট টেক্সট

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ রাইট কলাম, ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড

পেজ প্রোমট ও এংগেজমেন্ট তৈরি করতে এই ফরম্যাট ব্যবহার করা হয়, শুধুমাত্র লেখা যে সকল অডিয়েন্স পছন্দ করেন তাদের জন্য এই ফরম্যাট। এই অ্যাডের পারফরম্যান্স নির্ভর করে সম্পূর্ণ লেখার বিষয়বস্তুর  উপরে। 

মোবাইল এবং ডেক্সটপ অ্যাপ ইনস্টল করার জন্য 

ফেসবুক তাদের মোবাইল অ্যাপস নিয়ে আসার পর থেকে এডভার্টাইজিং এর ক্ষেত্রে মার্কেটে একটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। 

একজন ইউজার যদি তার ফোনে মোবাইল অ্যাপ ইন্সটল করার মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহার করে তবে তাকে রিচ করার জন্য অনেক ধরনের অ্যাড ফরম্যাট করেছে। 

মোবাইল অ্যাপ

অ্যাড প্লেসমেন্ট পজিশনঃ মোবাইল নিউজফিড

মোবাইল অ্যাপ অ্যাড আরো বেশি মোবাইল অ্যাপ ইন্সটল করার জন্য একটি পারফেক্ট অ্যাড ফরম্যাট। এটি শুধুমাত্র মোবাইলনিউজফিডে প্রদর্শিত হয়। যখন কেউ সেই অ্যাডের কল টু অ্যাকশন “ইনস্টল” বাটনে ক্লিক করে সাথে সাথে একটা পপ আপ উইন্ডো আসে যা আপনাকে প্লে স্টোর থেকে সেই অ্যাপটি ইন্সটল করার জন্য দিক-নির্দেশনা দেয়। 

আপনি যখন এই অ্যাড ফরম্যাট ব্যবহার করবেন তখন প্রোমট করার জন্য ফাইন টিউন  অডিয়েন্স গ্রুপ তৈরি করুন।  ধরুন, আপনি একটি অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস অ্যাপ প্রোমট করতে চাচ্ছেন, সেক্ষেত্রে তাদেরকে টার্গেট করবেন যারা মোবাইল ডিভাইস ইউজ করে, ট্যাবলেট ইউজ করে এবং যারা ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্টেড। 

স্পেসিফিকেশন 

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ ১২০০× ৬২৮ পিক্সেল
  • ইমেজ রেশিওঃ ১.৯ঃ১ 
  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ ৯০ অক্ষর 
  • ইমেজে ২০ শতাংশের বেশি টেক্সট ব্যবহার করা যাবে না

ডেক্সটপ অ্যাপ

সাপোর্টেড প্লেসমেন্টঃ রাইট কলাম, ডেস্কটপ নিউজ ফিড

এই ধরনের অ্যাড ফরম্যাট অডিয়েন্সদের ফেসবুক অ্যাপের দিকে  ড্রাইভ করে এবং আরো বেশি এঙ্গেজমেন্ট তৈরি করে।

যেগুলো মোবাইলে ফেসবুক অ্যাপ সাপোর্ট করে না মূলত তাদের ডেক্সটপ নিউজফিডে এই অ্যাড দেখানো হয়। 

স্পেসিফিকেশন 

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ ১২০০× ৬২৮ পিক্সেল
  • ইমেজ রেশিওঃ ১.৯ঃ১ 
  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ ৯০ অক্ষর 

ইনস্টাগ্রাম মোবাইল অ্যাপ 

সাপোর্টেড প্লেসমেন্টঃ  ইনস্টাগ্রাম

ইনস্টাগ্রামে অ্যাড দেখানো ক্ষেত্রে এই অ্যাড ফরম্যাট আপনার জন্য উপকারী হতে পারে। যারা তাদের মোবাইলে ইনস্টাগ্রাম অ্যাপটি ইন্সটল করে ব্যবহার করছেন তাদেরকে এই ফরম্যাটে অ্যাড দেখানো সম্ভব।

স্পেসিফিকেশন 

  • ইমেজ রেশিওঃ ১ঃ১
  • ইমেজ সাইজঃ ১০৮০× ১০৮০ পিক্সেল
  • মিনিমাম রেজুলেশন ৬০০ x ৩১৫ পিক্সেল (১.৯১ঃ১ ল্যান্ডস্কেপ) ৬০০ x  ৬০০ পিক্সেল (১ঃ১ স্কয়ার) ৬০০  x ৭৫০ পিক্সেল (৪ঃ৫ ভারটিকেল)
  • মিনিমাম রেজুলেশনঃ ১৯৩৬ x ১৯৩৬
  • ক্যাপশন টেক্সটঃ ১২৫ অক্ষর 

স্টোর ভিজিটর অথবা ইভেন্টের জন্য অ্যাড ফরম্যাট 

আমরা সবসময়ই অনলাইনের সেল করতে হবে  বিষয়টা এমন না। অফলাইনেও আমাদের সেল হতে পারে। সেক্ষেত্রে ফেসবুকের কোন ফরম্যাট ব্যবহার করে কাস্টমারদের আপনার ফিজিক্যাল শপে  নিয়ে যাবেন? 

ইভেন্ট অ্যাড

সাপোর্টেড প্লেসমেন্টঃ  রাইট কলম ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড

ফেসবুক ইভেন্ট  অডিয়েন্সদের ফিজিক্যাল শপে নিয়ে আসার দারুন একটি উপায়। সঠিক টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপে ইভেন্ট অ্যাড প্রোমট করে আরো বেশি অডিয়েন্স রিচ করুন।  

ইভেন্টের আকার এবং প্রাসঙ্গিকতা অনুসারে একই শহরে অথবা একই অঞ্চলে বসবাসকারী লোকেদের কাছে ভৌগোলিকভাবে একটি অ্যাপকে পৌঁছানোর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করতে পারেন। 

স্পেসিফিকেশন 

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ ১৯২০× ১০৮০ 
  • ইমেজ রেশিওঃ ১.৯ঃ১ 
  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ ৯০ অক্ষর 
  • হেডলাইন ২৫ অক্ষর 
  • লিংক ডেসক্রিপশনঃ ৩০ অক্ষর 

অফার ক্লেইম

সাপোর্টেড প্লেসমেন্টঃ রাইট কলাম, ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড

এই ধরনের অ্যাড ফরম্যাট লোকাল স্টোর অথবা ফিজিক্যাল শপে কাস্টমারদের নিয়ে আসার জন্য দারুন।  যখন একটি অফার লাইভ করছেন এবং কাস্টমাররা যখন সেটাতে ক্লিক করছে তখন সে অফারের বিস্তারিত তার ই-মেইলে গ্রহন করবে। 

স্পেসিফিকেশন

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ ১২০০x ৬২৮ পিক্সেল
  • ইমেজ রেশিওঃ ১.৯ঃ১ 
  • অফার টাইটেলঃ ২৫ অক্ষর
  • অ্যাড কপি টেক্সটঃ ৯০ অক্ষর 

অফার অ্যাড তৈরি করার জন্য আপনার ফেসবুক পেজে সর্বনিম্ন ৫০ টি লাইক থাকতে হবে। 

লোকাল অ্যাওয়ারনেস অ্যাড

সাপোর্টেড প্লেসমেন্ট:  রাইট কলাম ডেক্সটপ নিউজফিড, মোবাইল নিউজফিড

আপনার ফিজিক্যাল স্টোরে কাস্টমারদের নিয়ে আসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে লোকাল অ্যাওয়ারনেস অ্যাড। লোকেশন বেজড টারগেটিং করে নিকটস্থ কাস্টমারদের শপে নিয়ে আসার জন্য এই অ্যাড সেরা। আপনি এর সাথে কল টু একশন জুড়ে দিতে পারবেন। 

স্পেসিফিকেশন

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ ১২০০x ৬২৮ পিক্সেল
  • ইমেজ রেশিওঃ ১.৯ঃ১ 
  • হেডলাইনঃ ২৫ অক্ষর
  • নিউজ ফিড হেডলাইনঃ  ৩০ অক্ষর 

মেসেঞ্জার অ্যাড

সাপোর্টেড প্লেসমেন্ট: মেসেঞ্জার ইনবক্স মেসেঞ্জার স্টোরিজ

মেসেঞ্জার ইনবক্সের ভিতরে এই অ্যাড শো করে যেখানে আপনার আরো অনেকগুলো ফ্রেন্ডের চ্যাটিং হেড এর মাঝে অবস্থান করে। এই অ্যাডে ক্লিক করলে সরাসরি ইনবক্সে নিয়ে যায়। 

 

স্পেসিফিকেশন

  • রিকমেন্ডেড ইমেজ সাইজঃ ১২০০x ৬২৮ পিক্সেল
  • মিনিমাম প্রস্থঃ ২৫৪ x ১৩৩ 
  • ইমেজ রেশিওঃ ১.৯ঃ১ 
  • টেক্সটঃ ১২৫ অক্ষর
  • হেডলাইনঃ  ২৫ অক্ষর
  • ডেসক্রিপশনঃ ৩০ অক্ষর 

পরিশেষে, 

আপনি যেমনটি দেখলেন, ফেসবুকের কাছে আপনার বিজনেসের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিস্তৃত অ্যাড ফরম্যাট রয়েছে। অ্যাড পরিচালনার জন্য আমরা আপনাকে বিভিন্ন অ্যাড ফরম্যাট পরীক্ষা করার পরামর্শ প্রদান করছি  এবং কোনটি আপনার জন্য আরও ভাল ফলাফল নিয়ে আসে সেটি খুঁজে বের করুন। এটি আপনাকে কম খরচে সেরা ফলাফল এনে দিবে। 

আপনি এখন ফেসবুকে কতভাবে অ্যাড দেয়া যায় সে সম্পর্কে জানেন, এখন আপনার অ্যাড অবজেক্টিভের সাথে প্রাসঙ্গিক অ্যাড ফরম্যাট বেছে নিন এবং পরবর্তী অ্যাড থেকে সেরা ফলাফল নিশ্চিত করুন। 

একটি সফল ই-কমার্স বিজনেস গড়ে তুলতে ৮ টি ব্র্যান্ডিং স্ট্রাটেজি এবং তার সঠিক ব্যবহার

একটি সফল ই-কমার্স বিজনেস গড়ে তুলতে ৮ টি ব্র্যান্ডিং স্ট্রাটেজি এবং তার সঠিক ব্যবহার

একটি সফল ই-কমার্স বিজনেস গড়ে তুলতে ৮ টি ব্র্যান্ডিং স্ট্রাটেজি সম্পর্কে জানার আগে আপনাদের সামনে একটি প্রশ্ন রাখতে চায়।

ই-কমার্স বিজনেস পরিচালনা করছেন কিন্তু বিজনেসে তেমন অগ্রগতি হচ্ছে না, এই সমস্যার সম্মুখীন হননি এমন উদ্যোক্তা কেউ কি আছেন? 

সম্ভবত এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া সত্যি মুশকিল।

প্রতিটি ই-কমার্স উদ্যোক্তা তার বিজনেসের শুরুর দিকে বিজনেস গ্রোথ ধরে রাখতে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে আপনি হয়তো তার সফলতা দেখছেন কিন্তু তার পেছনের গল্পটা আপনার অজানা। 

যারা আজকে ই-কমার্স বিজনেসে সাফল্য পেয়েছেন, তারা সবাই বিজনেসের সূচনা লগ্ন থেকে বিজনেসের ধারাবাহিক গ্রোথ ধরে রেখেছিলেন। 

কিন্তু কিভাবে ই-কমার্স বিজনেসে ধারাবাহিক গ্রোথ তারা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন? এর মুলে ছিলো একটি পরিকল্পিত ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটিজি। 

একটি ই-কমার্স বিজনেসের ব্র্যান্ডিং প্রচেষ্টা সফল করতে কি করতে হয়?

কি সেই সকল অভিনব উপায় যা একটি ই-কমার্স বিজনেসকে ক্রমাগত উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে থাকে?

কেন একজন কাস্টমার একটি ব্র্যান্ডের লয়াল কাস্টমারে পরিণত হয়?

বিজনেস ব্র্যান্ডিং এর কথা বলা হলে আমাদের চোখের সামনে কোন একটি বিজনেসের লোগো ভেসে ওঠে ‌। কিন্তু ব্র্যান্ডিং শুধুমাত্র লোগো সর্বস্ব নয়।  ব্র্যান্ডিং এমন একটি অভিজ্ঞতা যা কাস্টমারদের সন্তুষ্টি ও নিরাপত্তাকে প্রতিনিধিত্ব করে।

“ব্র্যান্ডিং হচ্ছে, মানুষ আপনার বিজনেস সম্পর্কে আসলে কি ভাববে এবং আপনি কতভাবে মানুষকে আপনার বিজনেস সম্পর্কে সেই ভাবনার খোরাক জোগাতে চান, তা সমন্বয় করার শিল্প।”

এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা যা একজন কাস্টমার ইতিবাচকভাবে স্মরণ রাখে এবং অন্যদের থেকে আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিসকে আলাদা করতে ব্যবহার করে। 

বিজনেস ব্র্যান্ডিং এত সহজ বিষয় নয়, জানতে হবে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় যা আপনার বিজনেস গ্রোথের ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখবে। 

১) আপনার টার্গেট অডিয়েন্স সম্পর্কে পরিপূর্ণ ভাবে জানুন

মার্কেটে ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করতে হলে প্রথমে জানতে হবে, আপনার টার্গেট অডিয়েন্স সম্পর্কে।

তারা কে, কি পছন্দ করে, কোথায় থাকে, তারা যখন একটি ব্র্যান্ডের সাথে এঙ্গেজ হয় তখন কি ধরনের আচরণ করে। খুঁজে বের করতে হবে তাদের ব্যক্তিগত প্রোফাইলের সেই বৈশিষ্ট্যগুলো যা কোনো একটি ব্র্যান্ডকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে একই ধরনের সকল কাস্টমার গ্রুপের জন্য কমন। 

পটেনশিয়াল  অডিয়েন্স সম্পর্কে জানতে যা করবেন, 

আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ কাস্টমার খুঁজে পেতে চাইলে পরিস্কার ভাবে জানুন আপনার বর্তমান কাস্টমারদের বৈশিষ্ট্যগুলো এবং একই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কাস্টমারদের ডাটা সংগ্রহ করে এনালাইসিস করুন। ডাটা সংগ্রহ করতে মার্কেট সার্ভে করুন। 

যখনই একজন অডিয়েন্সের তথ্য সংগ্রহ করবেন তখন স্পেসিফিক হতে হবে। অর্থাৎ তার অতিক্ষুদ্র তথ্যগুলো আপনাকে তুলে নিয়ে আনতে হবে। জানতে হবে তার আচরণ, পেইন পয়েন্ট, প্যাশন এবং বিলিভ সম্পর্কে।

এরপর সেই ডাটা ব্যবহার করে বিস্তারিত কাস্টমার প্রোফাইল তৈরি করতে হবে, যাকে মার্কেটিং এর ভাষায় “বায়ার পারসোনা” বলে।

কাস্টমারের ডেমোগ্রাফিক ডাটা, 

  • লোকেশন 
  • ইনকাম 
  • পেশা 

সাইকোগ্রফিক ডাটা, 

  • ইন্টারেস্ট 
  • অ্যাটিটিউড 
  • লাইফস্টাইল
  • পছন্দ এবং অপছন্দ 

ইত্যাদি ডাটা সম্বলিত একটি প্রোফাইল তৈরি করতে হবে।

আপনার প্রতিযোগীদের মার্কেট পজিশনিং, প্রাইসিং, কাস্টমার কমেন্ট, কমিউনিকেশন, সামাজিক মাধ্যমগুলোর রিভিউ বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে।

২) শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি করতে 4V

ব্র্যান্ডিংয়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলো হচ্ছে 4V = (Vision, Voice, Values, Variation)  

একটি ব্র্যান্ডের জন্য এগুলো ভিত্তিপ্রস্থরসম। ই-কমার্স বিজনেসকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এই চারটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ভিশন

আপনার বিজনেসকে একটি নির্দিষ্ট সময় পরে কোথায় দেখতে চান? সেটি বিজনেসের ভিশন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের বিজনেস ভিশন থাকেনা, যে কারণে বিজনেস শুরু করার কিছুদিন পরেই তাদের বিজনেস গতি হারায়।

আপনি যখন জানবেন, আপনার বিজনেসের ভিশন কি অর্থাৎ আপনি বিজনেসকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর ঠিক কোথায় দেখতে চান, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নেয়া আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।

ভয়েস

 

ব্র্যান্ড বিল্ডিং এর জন্য টোন অফ ভয়েস অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আপনি কিভাবে আপনার টার্গেট অডিয়েন্সদের সাথে কথা বলছেন সেটির উপর নির্ভর করছে কাস্টমার আপনার সম্পর্কে কি ধারণা তৈরি করবে।  

একটি তার ব্র্যান্ড কনটেন্টের মাধ্যমে কাস্টমারের সাথে মানুষের মতই কথা বলে। একটি ব্র্যান্ডের মেসেজ দ্বারা কাস্টমার কখনো আনন্দিত হয়, কখনো উৎসাহিত হয়, অনুপ্রাণিত হয় আবার বিষণ্ণ বোধ করে ও দুঃখ পায়।  

তাই আপনার ব্র্যান্ড ভয়েস কাস্টমারদের সাথে কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে কি ধরনের টোন ব্যবহার করবে সেটি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ব্র্যান্ড ভয়েস অনেক ধরনের হতে পারে যেমন,

  • Authoritative
  • Cheerful
  • Conservative
  • Conversational
  • Casual
  • Enthusiastic
  • Formal
  • Friendly
  • Funny
  • Humorous
  • Informative
  • Nostalgic
  • Playful
  • Professional
  • Provocative
  • Romantic
  • Sarcastic
  • Serious
  • Smart
  • Sympathetic
  • Trendy
  • Trustworthy

কিভাবে আপনার ব্র্যান্ডের জন্য ব্র্যান্ড ভয়েস টোন খুঁজে বের করবেন?

আপনার ব্র্যান্ডের মিশন এবং ভিশন স্টেটমেন্ট রিভিউ করুন এবং দেখুন বিজনেসের সাথে কোন ধরনের ভয়েস অফ টোন সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

কাস্টমার সার্ভে পরিচালনা করে দেখতে পারেন, আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে অডিয়েন্সরা কি অনুভূতি প্রকাশ করছে এবং আপনার বর্তমান ভয়েস টোন সম্পর্কে তাদের মতামত কি।

নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার ব্র্যান্ড যদি একটি মানুষ হয়, তবে তার ভয়েস টোন কেমন হতো। 

আপনার ব্র্যান্ডের সেরা ৫ জন কাস্টমারের মতামত নিয়ে দেখুন, তারা আপনার ব্র্যান্ডের জন্য কি ধরনের ভয়েস টোন শুনতে পছন্দ করে। 

ভ্যালু

আপনার ই-কমার্স বিজনেসের জন্য যে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে চান, সেটি আপনার বিজনেসের ভ্যালু যা আপনার সমস্ত বিজনেসকে ধারণ করে।

ভ্যালু একটি ব্র্যান্ডের ভিশন, ভয়েস এবং ব্র্যান্ডের ইতিবাচকতাকে প্রভাবিত করে।এটি বিজনেসের এমন একটি মুখ্য বিষয় যা একটি ব্র্যান্ডের সাথে কাস্টমারদের যুক্ত থাকার অন্যতম কারণ। সোজা কথায় আপনার ব্র্যান্ড থেকে আপনার কাস্টমার কি পাবে তার পরিষ্কার রূপরেখা।

ব্র্যান্ড ভ্যালুর তালিকা জানতে ক্লিক করুন। 

ভেরিয়েশন

আপনার বিজনেসটি আর সবার থেকে কেন আলাদা? কেন একজন কাস্টমার একই ধরনের অন্য একটি ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা না করে আপনার ব্র্যান্ডকে কেনাকাটার জন্য বেছে নিবে? 

অর্থাৎ আপনার ব্র্যান্ড এবং আপনার প্রতিযোগীদের ব্র্যান্ডের মধ্যে মূল পার্থক্য কি সেটি জানা এবং তার ওপর নির্ভর করে একটি ব্র্যান্ডের সমস্ত রকম কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা প্রয়োজন।

4V সম্পর্কে জানার পরে কি করবেন?

এবার বাস্তবায়ন করার সময় , কিভাবে সেটি করবেন? 

ধরুন, আপনার টার্গেট মার্কেট স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা । তাদের ক্যারেক্টার ফানি, প্লে-ফুল এবং কোন কিছুকেই তারা খুব বেশি সিরিয়াসলি নিতে পছন্দ করে না এবং তারা সবসময় বাজেটের মধ্যে কেনাকাটা করতে পছন্দ করে।

তাহলে আপনার ব্র্যান্ড ভয়েস টোন হতে হবে ফানি এন্ড প্লে-ফুল এবং বিজনেসের কমিউনিকেশন তৈরি করার ক্ষেত্রে খুব বেশি সিরিয়াস মেসেজ দেয়া ঠিক হবে না। ই-কমার্স স্টোরের কালার হবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত সাথে টাইপোগ্রাফি শৈল্পিক হলে ভালো হয়। 

তরুণদের জন্য ডেভেলপ করা কনটেন্ট যদি খুব বেশি প্রফেশনাল ধাঁচের হয়ে যায় তবে তাদেরকে এঙ্গেজ করবে না।

4V বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে তিনটি বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে, সেগুলো হচ্ছে লোগো, টাইপোগ্রাফি এবং কালার কম্বিনেশন।  কারণ এই তিনটি উপাদান একটি ব্র্যান্ড সম্পর্কে একজন কাস্টমারের অবচেতন মনে ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করে। 

তাই লোগোটি হতে হবে মিনিংফুল এবং সহজে মনে রাখার মত।  টাইপোগ্রাফি অবশ্যই টার্গেট অডিয়েন্সদের বয়স ও আচরণকে মাথায় রেখে নির্ধারণ করতে হবে এবং কালার নির্বাচন করতে হবে ফিলিং এর বিষয়টিকে বিবেচনা করে।  

৩) এঙ্গেজিং এবং একশনেবল কনটেন্ট তৈরি করুন

একটি ই-কমার্স বিজনেসে কনটেন্ট কাস্টমারদের সাথে কমিউনিকেশন করে। তাই কন্টেন্ট তৈরি করার সময় ভাষার ব্যবহার এবং অ্যাপ্রোচ হতে হবে এমন, যেন সেটি আপনার কাস্টমারদের সাথে মানুষের মত কথা বলে।

একজন কাস্টমার যেন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট পড়ার পরে একশন নিতে উৎসাহিত হয় এবং কন্টেন্ট তৈরির সময় ব্র্যান্ড ভয়েস ধরে রাখা আবশ্যক। 

আপনার কনটেন্ট গুলো ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা পরিমাপ করার জন্য সামাজিক মাধ্যমগুলোতে কাস্টমারদের রিভিউ, কমেন্ট, রিঅ্যাকশনগুলো পর্যবেক্ষণ করুন। প্রয়োজনে আপনার প্রতিযোগীদের কনটেন্ট নিয়ে রিসার্চ করুন, দেখুন তাদের কনটেন্টগুলোর ক্ষেত্রে কাস্টমারদের রিঅ্যাকশনগুলো। 

 

 

৪) কাস্টমার সার্ভিসকে প্রাধান্য দিন

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেচাকেনা শেষ হয়ে যাবার পরে কাস্টমারদের কথা সবাই ভুলে যায় কিন্তু একটা ই-কমার্স বিজনেসের জন্য আফটার সেলস সার্ভিস কাস্টমারদের আস্থা অর্জন ও তাদের লয়াল করতে ভুমিকা রাখে।  

কাস্টমারদের নিয়মিত এঙ্গেজ রাখতে হবে, তাদের কাছে সেল করা প্রোডাক্ট গুলো থেকে কাস্টমার কিভাবে সর্বোচ্চ উপযোগিতা পেতে পারে সে বিষয়ে নিয়মিত ট্রিক্স ও টিপস প্রদান করার মাধ্যমে তাদের এঙ্গেজ রাখতে হবে যেন পরবর্তী কেনাকাটায় তারা আপনাকে প্রাধান্য দেয়।

একজন হ্যাপি কাস্টমারের রিভিউ অথবা রেফারেন্স শতভাগ সাফল্যের সাথে আরেকজন কাস্টমারকে পেইড কাস্টমার হিসেবে রূপান্তর করে। 

কাস্টমার সার্ভিস নিশ্চিত করতে যা করতে পারেন? 

বায়িং প্যাটার্নের উপর নির্ভর করে কাস্টমারদের ভাগ করে ফেলুন, বিজনেসে সকল ধরনের কাস্টমার গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানিত তবে যারা আপনার কাছ থেকে বেশি পরিমাণে কিনছে তাদেরকে প্রাধান্য দিন।

যে সকল কাস্টমার বেশি বেশি কেনাকাটা করছে তাদেরকে টাচে রাখুন এবং যারা এখনো কেনাকাটা সম্পন্ন করেনি তাদেরকে রেলেভেন্ট এডুকেশনাল ও ইনফরমেটিভ তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। 

৫) স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করুন

আপনার বিজনেস একজন কাস্টমারের দৈনন্দিন জীবনে কি ভ্যালু অ্যাড করছে এবং আপনার বিজনেস কোন লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে সেটি কাস্টমারদের সামনে তুলে ধরতে পারেন। 

যৌক্তিক প্রমাণ দিতে হবে আপনি যা বলছেন তা সত্য এবং তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত প্রদান করতে হবে। ই-কমার্স বিজনেসে আস্থা তৈরি করা প্রধান বিষয়।  একবার কাস্টমারদের আস্থার জায়গাতে স্থান পেলে আপনার বিজনেসের ব্র্যান্ডি প্রচেষ্টা  সফল।

অথেন্টিসিটি তৈরি করার জন্য কাস্টমার রিভিউ, ব্র্যান্ড স্টোরি, প্রোডাক্ট রিভিউ কাস্টমার ওপিনিয়ন ইত্যাদি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি আপনার বিজনেসের অগ্রগতি, এক্টিভিটিস এবং ফিউচার প্লান কাস্টমারদের জানতে দিন। কারণ এগুলো স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা তৈরি করে।

৬) কাস্টমারদের প্রত্যাশাকে ম্যানেজ করুন

কাস্টমারদের প্রত্যাশা বিশাল। তাদের চাওয়ার কোন শেষ নেই তাই বলে কি আপনি তাদের সকল প্রত্যাশার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারবেন?  কখনোই না।

এক্ষেত্রে আপনি কাস্টমারদের প্রত্যাশার বিপরীতে কি ধরনের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম যথাসম্ভব স্বচ্ছতার সাথে উপস্থাপন করুন। কখনোই ওভার প্রমিসিং হতে যাবেন না।

বিজনেসের রিটার্ন পলিসি, রিফান্ড পলিসি, ডেলিভারি পলিসি, পেমেন্ট মেথড, টার্মস এন্ড কন্ডিশন সবকিছু যথাযথভাবে উল্লেখ করুন। প্রয়োজনে এই সকল বিষয়কে উন্নত করতে ইনভেস্ট করুন এবং আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ পলেসি তৈরি করতে মনোযোগী হন।

৭) কনটেন্ট মার্কেটিং এর উপর জোর দিন

৯৩% বি টু বি বিজনেস উদ্যোক্তা কন্টেন্ট মার্কেটিং-কে প্রাধান্য দেয় এবং তাদের মার্কেটিং বাজেটের ৪০% কন্টেন্ট মার্কেটিং এর জন্য বরাদ্দ রাখে। 

ই-কমার্স বিজনেসের জয় পরাজয়ের বেশিরভাগই নির্ভর করে কনটেন্ট মার্কেটিংয়ের উপর। যত বেশি সাবলীল এবং বুদ্ধিদীপ্ত উপায়ে আপনার প্রোডাক্টের তথ্যগুলো কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। তত বেশি মানুষ আপনাকে গ্রহন করবে।

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ব্লগ পোস্ট, ইমেইল মার্কেটিং, এসএমএস মার্কেটিং, প্রতিটি চ্যানেলের জন্য সমন্বিত কনটেন্ট প্ল্যান করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

৮) কাস্টমার রিভিউ এবং ফিডব্যাক

আপনি বিজনেসের প্রচারে ও প্রসারে যা কিছু করছেন সবকিছুই আপনার অডিয়েন্স এবং পোটেনশিয়াল কাস্টমারদের ঘিরে, তাই তাদের মতামতকে মূল্যায়ন করা আপনার প্রয়োজন।

আপনার বিজনেস এবং প্রোডাক সম্পর্কে তারা কি বলে অর্থাৎ তাদের রিভিউ সংগ্রহ করুন।

নির্দিষ্ট সময় পরপর জরিপ পরিচালনা করুন এবং তাদের মতামত গ্রহণ করুন।

যদি খেয়াল করেন তারা পরিবর্তন চায় এবং বিজনেসের ভালো ও মন্দের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত প্রদান করছে তবে সেগুলোকে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করুন। 

আপনার বিজনেসের আয়সীমা কাস্টমারদের সংখ্যা ও সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করে।

আরো পড়ুনঃ 

ইকমার্স বিজনেসে সেলস বাড়াতে ব্র্যান্ডিং কেন জরুরী?

পরিশেষে

একটি ই-কমার্স বিজনেসের সফলতায় ব্র্যান্ডিং অনস্বীকার্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।হাজারো লক্ষ ব্র্যান্ডের ভিড়ে আপনার ব্র্যান্ডটিকে কাস্টমারের মাঝে স্থায়ী জায়গা করে দিতে আপনাকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে।

ব্র্যান্ড বিল্ডিং প্রক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন কৌশলের সমন্বিত রূপ। আপনাকে সম্ভাব্য সকল কৌশল অবলম্বন করে পরীক্ষা করতে হবে এবং খুঁজে বের করতে হবে ঠিক কোন কৌশলটি আপনার বিজনেসের জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে নিয়ে আসছে।

আলোচিত ৮ টি ব্র্যান্ডিং স্ট্রাটেজি আপনার বিজনেস পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিতে ভূমিকা পালন করবে। ই কমার্স বিজনেসের নানবিধ কৌশল নিয়ে আপনাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শেয়ার করতে কমেন্ট করুন।

কিভাবে ফেসবুক পেজের অর্গানিক রিচ বৃদ্ধি করবেন

কিভাবে ফেসবুক পেজের অর্গানিক রিচ বৃদ্ধি করবেন

ফেসবুক পেজের অর্গানিক রিচ বৃদ্ধি করতে কি করবো? এই প্রশ্নটি প্রায় সকল ফেসবুক বিজনেস উদ্যোক্তারা করে থাকেন।

ফেসবুক প্রতিনিয়ত তাদের অ্যালগরিদমে পরিবর্তন করে চলেছে এবং এই পরিবর্তনের সাথে সাথে অর্গানিক ভাবে পোষ্টের রিচ বৃদ্ধি করা ক্রমাগত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ছে।

কিন্তু ফেসবুক ই-কমার্স বিজনেসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটিং প্লাটফর্ম। তাই মার্কেটিং এর জন্য এই প্ল্যাটফরমের সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে পরিবর্তনগুলোর সাথে মানিয়ে নিয়ে কার্যকর ভাবে অর্গানিক রিচ ধরে রাখার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে হবে। 

তা না হলে আপনি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন।

মেরি স্মিথ একজন স্বনামধন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এক্সপার্ট। তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করতে চেষ্টা করা হয়েছে, ফেসবুকের অর্গানিক রিচ বৃদ্ধি করতে হলে কি করবেন এবং কি করবেন না। 

সমসাময়িক সময়ে ফেসবুক পেজের অর্গানিক রিচ ১ থেকে ৬ শতাংশ মাত্র।

ফেসবুক মার্কেটিং এক্সপার্ট মেরি স্মিথ দাবি করেন তার ফেসবুক পেজের রিচ সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। বিষয়টি সত্যি অবাক করার মতো। 

কীভাবে তিনি সেটি করতে সক্ষম হলেন? 

তিনি দুটি বিষয়ের উপরে প্রাধান্য দিয়েছেন। প্রথমত, পেজের অর্গানিক রিচ ধরে রাখতে হলে কি করতে হবে সে প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়ত, কোন বিষয়গুলো পেজের অর্গানিক রিচকে কমিয়ে দেয়। 

মূল বিষয়ে যাবার পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন

প্রথমে আপনাকে খুঁজতে হবে ফেসবুকের অ্যালগরিদম কোন কনটেন্টগুলো কে অর্গানিক ভাবে সবথেকে বেশি রিচ দেয়।

মেরি স্মিথ, চার ধরনের কনটেন্ট টাইপ খুঁজে বের করেছেন যা তাকে সর্বোচ্চ অর্গানিক রিচ এনে দিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে,

১) ভিডিও পোস্টঃ 

ফেসবুক ভবিষ্যতের ডিজিটাল ভিডিও স্ট্রিমিং টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে যার কারণে সব থেকে বেশি প্রাধান্য ভিডিও কনটেন্টগুলো পাচ্ছে।  

ভিডিও কনটেন্ট পোস্ট করার ক্ষেত্রে মেরি স্মিথ রিকমেন্ডেড করেন, ৭০% ভিডিও কনটেন্ট, ২০% ছবি এবং ১০% লিংক শেয়ার করতে। 

লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, লিংক ফেসবুক পোস্টের রিচ কমিয়ে দেয় তবে সুসংবাদ হলো ভিডিও অথবা ছবির সাথে আপনি লিংক শেয়ার করতে পারেন। সেটি আপনার পোষ্টের রিচে কোন প্রকার প্রভাব ফেলে না।

২) ফেসবুক লাইভঃ 

দেখা গেছে ফেসবুক লাইভ সাধারণ আপলোড করা ভিডিও-র থেকে ছয় গুণ বেশি এঙ্গেজমেন্ট নিয়ে আসতে সক্ষম। তাই সপ্তাহে অন্তত একটি ফেসবুক লাইভ ভালো ফলাফল এনে দেয়। 

৩) ফেসবুক ওয়াচ পার্টিঃ

ফেসবুকের যে কোন পাবলিক ভিডিও নিজের ওয়াচ পার্টিতে অডিয়েন্স সাথে শেয়ার করতে পারেন। ফেসবুক মতে, অডিয়েন্স ওয়াচ পার্টির ভিডিওগুলোতে কমেন্ট করার প্রবণতা প্রায় ১০০ গুণ পর্যন্ত বেশি। 

মনে রাখবেন, অর্গানিক রিচের মূলমন্ত্র হচ্ছে এনগেজমেন্ট। আপনি যত বেশি এনগেজমেন্ট তৈরি করতে পারবেন, তত বেশি অর্গানিক রিচ বেড়ে যাবে।

৪) প্রশ্ন ছুড়ে দিনঃ 

কোন ভিডিও না, কোন ছবি না অথবা কোন লিংক না শুধুমাত্র একটি ছোট্ট সিম্পল প্রশ্ন আপনার অডিয়েন্সদের দিকে ছুড়ে দিন।

এখানে কৌশলটি হচ্ছে রেলেভেন্সি। আপনার অডিয়েন্সদের জন্য যখন একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ছুড়ে দিবেন তার বিপরীতে তাদের উত্তর দেবার প্রবণতা দেখা যাবে। আর উত্তর দেওয়া মানেই এনগেজমেন্ট। যেটি আগেও বলেছি, অর্গানিক রিচের মূলমন্ত্র এঙ্গেজমেন্ট তৈরি করা। 

ফেসবুকের অর্গানিক রিচ বৃদ্ধি করতে করনীয়

কম পরিমান পোস্ট করুন

অনেকের ধারণা, বেশি পোস্ট করলে বেশি এঙ্গেজমেন্ট আসে যা সবক্ষেত্রে সত্য নয়। ফেসবুক শুধুমাত্র হাই কোয়ালিটি পোস্টগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেয়। তাই বেশি বেশি পোস্ট করার চেয়ে বেশি কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট তৈরি এবং শেয়ার করার দিকে গুরুত্ব দেয়া জরুরি ।

একটি পোস্ট যখন ফেসবুকে ট্রাকশন পায় ঠিক সে সময়ে আপনি যখন আরেকটি পোস্ট করেন তাহলে, এনগেজমেন্ট বিভক্ত হয়ে যাবে।আপনি যদি সপ্তাহে তিনটি পোস্ট করে থাকেন তবে সেটি কমিয়ে সপ্তাহে একটি করুন। 

বিভিন্ন সোর্স বা মিডিয়া থেকে আপনার পোস্টে ট্রাফিক নিয়ে আসুন

প্রতিটি ফেসবুক পোস্টের একটি ইউনিক লিংক থাকে সেই লিংকটি কপি করুন এবং আপনার অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুলো যেমন টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইমেল, ব্লগ ইত্যাদি তে শেয়ার করুন। 

আপনার অডিয়েন্সদের জানতে সাহায্য করুন, আপনি ফেসবুক একটি নতুন পোস্ট করেছেন।

এতে তারা সেই লিংকটি ভিজিট করবেন এবং আপনার স্পেসিফিক পোস্টে আরো বেশি ট্রাফিক আসবে। বেশি ট্রাফিক আসা মানে এঙ্গেজমেন্ট বেড়ে যাওয়া।  আর যে পোস্টে এনগেজমেন্ট বাড়তে থাকে সে পোস্টের অর্গানিক রিচ অটোমেটিক ভাবে ফেসবুক বাড়িয়ে দেয়। 

চ্যাটবট যুক্ত করুন

যখন পেজে চ্যাটবট যুক্ত করবেন এবং মানুষ যখন আপনার চ্যাটবট মেসেঞ্জারে সাবস্ক্রাইব করবে তখন সে অটোমেটিকভাবে তার ফেসবুক মেসেজ ইনবক্সে আপনার বিভিন্ন ইভেন্ট বা প্রমোশনাল মেসেজগুলো পাবে।

এটি একদিকে যেমন প্রমোশনাল চ্যানেল হিসেবে কাজ করে অপরদিকে রিমাইন্ডার হিসেবেও দারুণ কার্যকর। অর্গানিক রিচ বাড়িয়ে তুলতে এটির ভূমিকা অনেক।

অ্যাড বাজেট

প্রশ্ন আসতে পারে, এখানে অর্গানিক রিচের কথা বলা হয়েছে তাহলে কেন ফেসবুক অ্যাডের জন্য বাজেট রাখতে হবে।

উত্তরটা খুবই সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। একটি পোস্ট কম বাজেটের মধ্যে প্রমোট করে ট্রাকশন নিয়ে আসুন। এটি যখন আপনার টার্গেট অডিয়েন্সদের কাছে পৌঁছাবে এবং তারা সেটি পছন্দ করবে তখন অটোমেটিকভাবে পোস্টের অর্গানিক রিচ বাড়তে থাকবে।

মনে করুন, আপনি তিন দিনের জন্য খুবই কম বাজেটে একটি পোস্ট বুষ্ট করেছেন। খেয়াল করলে দেখবেন আপনার বুষ্টের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও পোস্টটি অর্গানিক ভাবে ভাল পারফর্ম করছে।

 

 

তিনটি টিপস যা আপনার ফেসবুক পেজের অর্গানিক রিচ কমিয়ে দেয়

ফেসবুক পোস্টের সাথে কখনো ইউটিউব লিংক যুক্ত করবেন না।

ভিডিও কনটেন্টের ক্ষেত্রে ফেসবুকের সবথেকে বড় প্রতিযোগী হচ্ছে ইউটিউব। যখন একটি ফেসবুক পোস্টের সাথে ইউটিউব লিংক যুক্ত করছেন অথবা ফেসবুক পোস্টে  ইউটিউব লিংক শেয়ার করবেন  সেই পোষ্টের অর্গানিক রিচ পাবেন না। 

ফেসবুক AI ইউটিউব লিংকগুলো শনাক্ত করে সেটির রিচ কমিয়ে দিতে পারদর্শী। 

এঙ্গেজমেন্ট বাইট

বেশিরভাগ সময়ে লক্ষ্য করা যায় ফেসবুকে পোস্ট করার পরে সেটিতে কমেন্ট, শেয়ার বা লাইক করার জন্য অনুরোধ করা হয়ে থাকে। যাকে ফেসবুক এঙ্গেজমেন্ট বাইট বলে উল্লেখ করে।

ফেসবুক ফেয়ার কনটেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন পলিসিতে বিশ্বাস করে। তারা মনে করে, মানুষ সেই কনটেন্টগুলো পছন্দ করবে যা সে স্বেচ্ছায় দেখতে চায়। আপনি কখনোই অডিয়েন্সদের আপনার কনটেন্ট দেখতে জোর করতে পারেন না। 

তাই এই ধরনের শব্দগুলো ফেসবুক ডিটেক্ট করে এবং সেই পোস্টের অর্গানিক রিচ কমিয়ে দেয়। ফেসবুকের ল্যাংগুয়েজ ডাইরেক্টরিতে এখন বাংলা ভাষা যুক্ত হয়েছে। তাই এঙ্গেজমেন্ট বাইট থেকে এখুনি সতর্ক হোন।  

এঙ্গেজমেন্ট বাইটের বিপরিতে, একটি পোস্ট করার পরে অডিয়েন্সরা সে সম্পর্কে কি চিন্তা করছে?  আপনার পোষ্ট সম্পর্কে তাদের মতামত কি? এই সকল বিষয়গুলো জানতে চান বা শেয়ার করার জন্য অডিয়েন্সদের উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।

যেমন, “ আপনার অভিজ্ঞতা কি?  আপনি কি এটা সঠিক মনে করেন?  এ বিষয়ে আপনি কি ভাবছিলেন? “ এই ধরনের বাক্য ও শব্দ চয়ন করুন। 

ই-রেলেভেন্ট এবং অফটপিক পরিহার করুন

আপনার ব্র্যান্ড ভয়েসের সাথে যে টপিকগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ না সেগুলো পোস্ট করবেন না। 

একজন গাড়ি বিক্রেতার কাছে অডিয়েন্সরা কখনোই কসমেটিক আইটেম নিয়ে কথা শুনতে চাইবে না এটিই স্বাভাবিক।

আরো পড়ুনঃ

ফেসবুক প্রোমোশনঃ বেশি রিচ হবার পরেও কেন কাস্টমার এঙ্গেজ হয় না

পরিশেষে

ফেসবুক সব সময় হাই কোয়ালিটি কনটেন্ট গুলোকে প্রাধান্য দেয়। হাই কোয়ালিটি কনটেন্ট মূলত সেগুলো যা একজন অডিয়েন্সের জন্য রেলেভেন্ট এবং অথেন্টিক তথ্য যুক্ত।

আপনি এমন কোন বিষয় কি ফেসবুক মার্কেটিং এর সময় খুঁজে পেয়েছেন যা আপনার পেজের এঙ্গেজমেন্টকে বাড়িয়ে দিয়েছিলো অথবা কমিয়ে ফেলেছিলো।  শেয়ার করুন আপনার অভিজ্ঞতা। 

ফেসবুক শপ ২০২০: প্রোডাক্ট বিক্রি করতে কিভাবে ফেসবুকে শপ তৈরী করবেন

ফেসবুক শপ ২০২০: প্রোডাক্ট বিক্রি করতে কিভাবে ফেসবুকে শপ তৈরী করবেন

ফেসবুক শপ হলো ফেসবুকের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ “অনলাইন স্টোর”।যার দ্বারা আপনার ফেসবুক পেজ ও ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইল/অ্যাকাউন্টের মধ্যে আপনার প্রোডাক্টেগুলো সুসজ্জিত উপায়ে কাস্টমারদের সামনে বিনামূল্যে তুলে ধরতে পারবেন। আপনার ফেসবুক ফলোয়াররা এই স্টোর থেকে কেনাকাটা করতে পারবে খুব সহজেই।

যদিও বর্তমান সময়ে ফেসবুক শপ ফিচারটি কেবলমাত্র ফিজিক্যাল প্রোডাক্টের জন্য ব্যবহার যোগ্য, কিন্তু সুখবর হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস রিলেটেড বিজনেসের জন্য এটিকে ব্যবহারযোগ্য করে তৈরি করার প্রক্রিয়া চলমান।

ফেসবুক শপ কেবলমাত্র প্রোডাক্ট শোকেস করার জন্য না, এর সাথে আরও কিছু অসাধারন  টুলস রয়েছে।

যেমনঃ  প্রমোশন, সেলস, মার্কেটিং, কনভার্শন, কাস্টমার সাপোর্ট এবং আরো  অনেক ফিচার।

এর বাইরে ফেসবুক থার্ড পার্টি ই কমার্স টুলস ইন্টিগ্রেশন সুবিধা দিচ্ছে যা ব্যবহার করে অন্যান্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম গুলো ফেসবুক শপের সাথে লিংক করতে পারবেন।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাগন ফেসবুক শপ ব্যবহার করে বিনামূল্যে সম্পূর্ণ অনলাইন সেলিং এক্সপেরিয়েন্স পাবেন। 

জেনে নেয়া যাক ফেসবুকের পাঁচটি নতুন ফিচার যা ফেসবুক শপ ২০২০ তে যুক্ত করা হয়েছে। 

ইউনিফাইড সিঙ্গেল শপ প্রেসেন্স শপিং এক্সপেরিয়েন্স

ফেসবুক একই সাথে ইনস্টাগ্রাম, স্টোরি, এড থেকে বিক্রয় এবং কেনাকাটার সুবিধা প্রদান করছে। অতি শিগ্রই মেসেঞ্জার ও হোয়াটস অ্যাপ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে। 

সহজ চেক আউট সুবিধা

ফেসবুক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটার সুবিধা প্রদান করছে যেটা এঙ্গেজড শপারদের জন্য দারুন একটি ফিচার। (এটি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য না)

Real-time শপিং

ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম লাইভ ব্যবহার করে সরাসরি বিক্রয় সুবিধা রয়েছে যেটা বর্তমান সময়ের সব থেকে বেশি আলোচিত ফিচার হিসেবে লক্ষণীয়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

ফেসবুক আপনার দেয়া পোস্টগুলোর  ছবি থেকে প্রোডাক্টকে অটোমেটিক আইডেন্টিফাই করতে পারে। প্রোডাক্টের ছবির মধ্যে  প্রয়োজনীয় ট্যাগ এবং লিংক যুক্ত করা যায়।

অগমেন্টেড রিয়েলিটি

এই প্রযুক্তি আপনার ছবির সাথে নানান ধরনের ফিল্টার ও স্টিকার ব্যবহার করে সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন আঙ্গিকে ছবিগুলোকে সাজিয়ে তোলার সুবিধা দেয়।

ফেসবুক শপ সেটআপ প্রক্রিয়া  

প্রথমে আপনাকে e-commerce manager সেটআপ করতে হবে, যা আগে থেকেই প্রতিটি ফেসবুক একাউন্টের সাথে থাকে। এরপরে ফেসবুক ক্যাটালগ সেটআপ করতে হবে।

এটি করার জন্য facebook.com/commerce_manager এই লিংক ভিজিট করুন।


উপরের ছবির মত একটি স্ক্রিন আসবে সেখানে “create commerce account” বাটনে ক্লিক করুন। এবার ফেসবুক আপনাকে দুটি অপশন দিবে।

 

আপনি যদি সম্পূর্ণ নতুন হয়ে থাকেন তবে বাম পাশে “Get started for facebook” এই বাটনে ক্লিক করবেন।আর যদি  আপনার একটি ই-কমার্স প্লাটফর্ম থাকে তবে ডানপাশের “Get started” বাটনে ক্লিক করুন। 

এবারে ফেসবুক আপনাকে তিনটি প্রয়োজনীয় অপশন দেবে যা ই কমার্স শপ ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন হবে।
এখানে একটি ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার, ট্যাক্স এবং পেমেন্ট ইনফর্মেশন, শপ প্রিফারেন্স এবং পলিসি যোগ করতে বলা হবে। (বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়)

নেক্সট বাটনে ক্লিক করে পরের ধাপে যেতে হবে।

আপনার কমার্স একাউন্ট তৈরি করতে বলা হবে। এজন্য বিজনেস ইনফরমেশনে যেয়ে “Set Up” বাটনে ক্লিক করুন।

এবার আপনার কমার্স অ্যাকাউন্টের জন্য নাম লিখুন ও নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন।


এবার আপনার যে বিজনেস পেজের জন্য শপটি চালু করতে চান সেই পেজটি সিলেক্ট করে দিন।


এবারে ফেসবুক আপনার বিজনেস ম্যানেজার একাউন্টটি কানেক্ট করতে বলবে। সেটি সিলেক্ট করে “Finish Setup” বাটনে ক্লিক করলে এই ধাপের কাজ শেষ।

এবারে আপনার প্রোডাক্ট এবং সেটিংস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হবে

এখান থেকে (উপরের চিত্র) প্রোডাক্ট এবং সেটিংস এর নিচে “Get Started” বাটনে ক্লিক করলে নিচের ছবির মত “add your product” পেজ আসবে। এখান থেকে আপনার প্রোডাক্টগুলো কমার্স অ্যাকাউন্টের সাথে যোগ করতে পারবেন।

যদি আপনার ইতিপূর্বেই প্রোডাক্ট ক্যাটালগ তৈরি করা থাকে তবে সেখান থেকে প্রোডাক্ট অ্যাড করতে পারবেন। আর যদি সেটি না থাকে তবে ক্রিয়েট নিউ ক্যাটালগ অপশনটি বেছে নিয়ে নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন। 
এই ধাপে আপনার ফেসবুক শপের জন্য শিপিং রিলেটেড তথ্য প্রদান করতে বলা হবে। সকল তথ্য আপডেট করার পরে নেক্সট বাটনে ক্লিক করে পরের ধাপে যাবেন। 
এবারে রিটার্ন পলিসি সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করতে বলা হবে। কত দিনের মধ্যে প্রোডাক্ট রিটার্ন গ্রহণ করবেন উল্লেখ করতে হবে এবং কাস্টমার সার্ভিস প্রদানের জন্য একটি ইমেইল দিতে বলা হবে। 
সব শেষে এই ধাপে আপনার ব্যাংক একাউন্ট যোগ করতে বলা হবে। যেখানে আপনার বিক্রয় করা প্রোডাক্টের জন্য পেমেন্ট গ্রহন করবেন। (এই অপশনটি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়)

ব্যাংক একাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য যোগ করার পরে  আপনি কি সেল করছেন সেই সংক্রান্ত তথ্যে দিতে হবে।

আপনার বিজনেসের ধরন অনুযায়ী ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে দিবেন। এরপর নেক্সট বাটনে ক্লিক করবেন।

এখানে আপনার ফিজিক্যাল শপের তথ্য গুলো দিতে হবে। যেমন, শহরের নাম, ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। 

যদি আপনার ফিজিক্যাল শপ না থাকে তবে “skip for now” বাটনে ক্লিক করে এড়িয়ে যান। 
এখানে আপনার ট্যাক্স ও রিপ্রেজেন্টেশন সংক্রান্ত তথ্য গুলো চাওয়া হবে। যথাযথ ভাবে তথ্য গুলো পূরণ করে পরবর্তী ধাপে চলে যান।

এবার আপনার ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য গুলো যথাযথ ভাবে পূরণ করার পরে এই ধাপের সেটআপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

 

 

প্রোডাক্ট সেটআপ পর্ব

এখান থেকে “Go to commerce manager” এই বাটনে ক্লিক করুন।

(উপরের চিত্রে) এখানে বামপাশের কলাম থেকে “Inventory” অপশনটি বেছে নিন।


উপরের চিত্রের মত একটি স্ক্রিন আসবে সেখান থেকে “Add Product” এ ক্লিক করুন।


এখানে ফেসবুক আপনাকে তিনটি অপশন দিবে। আপনি ম্যানুয়ালি প্রডাক্ট অ্যাড করতে পারেন অথবা একসাথে সবগুলো প্রোডাক্ট অ্যাড করতে পারেন অথবা কানেক্ট ফেইসবুক পিক্সেল অপশনটি নির্বাচন করতে পারেন।

যদি আপনার ৫০ টির বেশি আইটেম থাকে সেক্ষেত্রে Use data feeds এবং connect facebook pixels অপশন ব্যবহার করুন। 

আর আপনার প্রোডাক্ট যদি ৫০ টির কম হয় তবে ম্যানুয়ালি প্রোডাক্ট অ্যাড করুন। 


প্রোডাক্ট অ্যাড করা খুব সহজ। ছবি, নাম, ডিসক্রিপশন, ওয়েবসাইট লিংক, সেল প্রাইস, অ্যাভেলেবিলিটি, ইনভেন্টরি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্য  দিয়ে প্রোডাক্ট অ্যাড করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। 


একই প্রক্রিয়ায় আপনি আরো প্রোডাক্ট অ্যাড করতে পারবেন।

প্রোডাক্ট অ্যাড করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে আপনার ফেসবুক শপটি দেখতে “view shop” বাটনে ক্লিক করুন ।


আপনার ফেসবুক শপটি উপরের চিত্রের মত দেখা যাবে। যেখানে বামদিকের কলামে shop নামে একটি নতুন ট্যাব যোগ হয়ে যাবে।

এবং ডানদিকের কাভার পিকচারের নিচে “manage your catalog” নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন যেখান থেকে আপনার প্রোডাক্ট ক্যাটালোগ গুলো ম্যানেজ করতে পারবেন।

পরিশেষে,

ফেসবুক শপ ফিচারটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আশীর্বাদ। ই-কমার্স ওয়েবসাইটে খরচ না করেই কাস্টমারদের ই কমার্স ওয়েবসাইটের অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য এই ফিচার অনন্য। ইকোসিস্টেম তবে এটি শুধুমাত্র ফেসবুকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। 

আপনি কি এখনো বিজনেসের জন্য ফেসবুক শপ ফিচারটি চালু করেন নি? তবে এখুনি সেটআপ করে ফেলুন আপনার ফেসবুক শপ আর বেশি বেশি সেল করুন। 

আরো পড়ুনঃ

অনলাইন স্টোরের সেলস বাড়াতে ৩৮ টি আকর্ষণীয় ‘অফার’ আইডিয়া   

লাইক-ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় পোস্ট