ই কমার্স বেচাকেনায় প্রফিট বাড়িয়ে তোলার আল্টিমেট প্রাইসিং গাইডলাইন

ই কমার্স বেচাকেনায় প্রফিট বাড়িয়ে তোলার আল্টিমেট প্রাইসিং গাইডলাইন

ই কমার্স প্রাইসিং গাইডলাইন বিষয়ে জানার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, ই কমার্স অথবা ব্র্যান্ড শপে পছন্দের ড্রেসটি খুঁজে পাবার পর আপনি কি করেন? প্রোডাক্টের প্রাইস ট্যাগ দেখেন মূল্য কত। কিন্তু মূল্যটি যদি আপনার নাগালের বাইরে হয় কেমন অনুভব করেন আপনি? নিশ্চয় মন খারাপ হয়।

আপনার কাস্টমারদের একই অনুভূতি হয় যখন একটি প্রোডাক্ট তারা পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও কিনতে না পারলে। কিন্তু কিভাবে আপনি প্রোডাক্টের এমন একটি প্রাইস নির্ধারণ করবেন যা আপনাকে ও আপনার কাস্টমারদের সমান ভাবে লাভবান করবে?

ই কমার্স প্রোডাক্ট প্রাইসিং পদ্ধতি নির্ভর করে কি ধরনের বিজনেস পরিচালনা করছেন, প্রোডাক্ট কি, আপনার কাস্টমার কে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর। সবগুলো পদ্ধতি থেকে আপনার বিজনেসের ধরন ভেদে বেছে নিন উপযুক্ত কৌশল।

একজন কাস্টমার একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কেনার আগে কি ধরনের আচরণ করে সেটি বুঝতে নিচে দেয়া গুগল কঞ্জুমার ব্যারোমিটারের চিত্রটি খেয়াল করুন

২১% কাস্টমার একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নেবার আগে সেই প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে গবেষণা করে। এসময় তারা প্রোডাক্টের বিশেষত্ব, মূল্য, কাস্টমার সার্ভিস ও অনন্য বিষয়ে জানতে চায়। 

একটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন রকমের খরচ থাকে যেমন, 

  • ইয়ারলি ডোমেইন-হোষ্টিং রেনিউয়াল 
  • অফিস ভাড়া 
  • প্রোডাকশন সোর্সিং এর খরচ 
  • অয়ারহাউস এর খরচ 
  • থার্ড পার্টি কোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে সেটার খরচ 
  • শিপিং খরচ 
  • রিটার্ন এবং রিফান্ড খরচ 
  • ব্যাংক প্রসেসিং ফি 
  • সফটওয়্যার ফ্রি 
  • প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের স্যালারি এবং মার্কেটিং বাজেট

এক্ষেত্রে নিয়মটি হচ্ছে সমস্ত খরচগুলো হিসাব করার পর স্টকের থাকা প্রোডাক্ট এর সংখ্যা দ্বারা ভাগ করে যে অ্যামাউন্ট আসবে সেটিকে প্রত্যেকটি প্রোডাক্টের মূল খরচের সাথে যোগ করতে হবে।  তার সাথে আপনি যে পরিমাণ প্রফিট মার্জিন যোগ করতে চান সেটি যোগ করবেন।

অনেক সময় আমরা লক্ষ্য করি বেশিরভাগ ই কমার্স বিজনেস তাদের প্রোডাক্টের প্রাইসিং কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে না করার কারণে তাদের মার্কেটিং এবং অপারেশনের খরচ যে সময়ে বৃদ্ধি পায়, সে সময় তাকে লসে প্রোডাক্ট বিক্রি করতে হয়।

আবার কখনও কখনও অফার বা ডিসকাউন্ট দেবার ক্ষেত্রে প্রোডাক্টের প্রফিট মার্জিন জানা না থাকার কারণে আলাদাভাবে প্রোডাক্টের জন্য ডিসকাউন্ট নির্ধারণ করতে হয় অনেক কনফিউশন তৈরি করে এবং বেশি কোয়ানটিটির প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে এটি প্রায় অসম্ভব।

তবে প্রোডাক্টের প্রাইস যখন নির্ধারণ করবেন। দুটি বিষয় খেয়াল রাখবেন

  1. কম্পিটিটরদের প্রাইস এবং 
  2. অন্যটি হচ্ছে আপনার কাস্টমার কি সেই মূল্য কি স্বেচ্ছায় পরিশোধ করতে আগ্রহী?  

এবং যে দুটি কাজ কখনোই করবেন না

প্রোডাক্ট এর মূল্য একেবারে সস্তা নির্ধারণ করবেন না।  কারণ এটি প্রডাক্ট কোয়ালিটি নিয়ে কাস্টমারদের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে। 

প্রাইস খুব উচ্চ মাত্রায় নির্ধারণ করবেন না। কারণ এটি প্রোডাক্ট সম্পর্কে কাস্টমারদের মনে ওভাররেটেড ধারনার জন্ম দেয়। 

মার্কেট বেইজড প্রাইস (Market-based pricing)  

বিশেষ করে যে সকল প্রোডাক্ট আমরা রিসেল করি সে সকল প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে ইচ্ছামত মূল্য নির্ধারণ করা উচিত না। কারণ মার্কেটে আপনি একাই না, একই ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে আরো অনেকেই মার্কেটে কাজ করছে।

এ সকল ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, একই ধরনের প্রোডাক্টের জন্য অন্যান্য সেলার কি ধরনের দাম নির্ধারণ করেছে এবং আপনাকেও তাদের মূল্য মাথায় নিয়ে কাছাকাছি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। 

এক্ষেত্রে এক্সট্রা ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস অথবা কাস্টমার সার্ভিস অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করে এমন ক্ষেত্রে প্রাইসের কিছুটা তারতম্য হতে পারে তবে এটি অবশ্যই মূল প্রাইস থেকে অস্বাভাবিক বেশি হবে না। 

নিচের চিত্রগুলো খেয়াল করে দেখুন, তিনজন আলদা সেলার একই প্রোডাক্ট বিক্রি করছে এবং তাদের মূল্য প্রায় একই রকম। 

কস্ট বেইজড প্রাইসিং (Cost-based pricing) 

যখন একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্ত খরচ হিসেব করে সেই প্রতিষ্ঠানের স্টকে থাকা মোট প্রোডাক্টের উপর খরচগুলোকে সমানভাবে ডিস্ট্রিবিউট করা হয় তখন তাকে বলা হয় কস্ট বেইজড প্রাইসিং।

ডায়নামিক প্রাইসিং (Dynamic pricing)

ডায়নামিক প্রাইসিং এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে এয়ারলাইন্স কোম্পানি গুলো অথবা বাংলাদেশে উবারের প্রাইসিং স্ট্যাটিজ। 

আমরা যারা উবারে রাইড দিয়েছি তারা জানি, উবারের প্রাইস ফিক্সড না। এর মূল্য নির্ভর করে ডিমান্ড এবং এভেলেবিলিটির উপর। 

অর্থাৎ কাস্টমারদের চাহিদা যখন বৃদ্ধি পাবে এবং তার তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কম থাকবে, তখন এর মূল্য অটোমেটিকভাবে বাড়বে। 

এটি সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রিত কিছু রুলস সেট করার মাধ্যমে এ ধরনের প্রাইসিং করা হয়ে থাকে। একই ধরনের প্রাইসিং আমরা এয়ারলাইনস বিজনেসে দেখি।  

যেখানে দেখা যায় যে সকল সময় বেশি পরিমাণ মানুষ জার্নি করে সে সকল সময়ে এয়ারলাইন্সের ভাড়া বেশি থাকে এবং যখন যাত্রীদের চাহিদা কম থাকে অর্থাৎ কম সংখ্যক মানুষ জার্নি করে সেই সময়গুলোতে ভাড়া বেশি থাকে। 

সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে ডায়নামিক প্রাইস আদর্শ। আপনি আপনার দক্ষতা এবং সক্ষমতার উপর নির্ভর করে কাস্টমারদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সক্ষম হবেন এবং সেজন্য আপনাকে কাস্টমার হারানোর যে আর্থিক ক্ষতি সেটি নিয়ে ভাবতে হবে না। 

কনজ্যুমার বেইজড প্রাইসিং (Consumer-based pricing)   

কনজ্যুমার বেইজড প্রাইসিং একটি পার্সোনালাইজ প্রাইসিং কৌশল। একটি নির্দিষ্ট কাস্টমার গ্রুপের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই ধরনের প্রাইসিং করা হয়ে থাকে। 

একটি প্রোডাক্ট ও সার্ভিস যখন কাস্টমারের চাহিদাকে পূরণ করতে আবশ্যক এবং সেজন্য একটি প্রিমিয়াম প্রাইস নির্ধারণ করা হয়। কনজ্যুমার সেই প্রোডাক্টের অল্টারনেটিভ ভাবতে পারে না সেই মুহূর্তে। তাকে সেটি কিনতে হবে এমন পরিস্থিতি যখন তৈরি হয় এবং এক্ষেত্রে এই প্রাইসিং কৌশল কাজে আসে।একজন কনজ্যুমারকে তার আদর্শ সমাধান প্রদানের জন্য উপযুক্ত মূল্য অফার করা। 

আমরা হেলথকেয়ার বা মেডিকেল ইন্ডাস্ট্রি তে এই ধরনের কনজিউমার বেস্ট প্রাইসিং খেয়াল করে থাকি। আবার লাক্সারি প্রোডাক্টের জন্য এই কৌশল লক্ষণীয়।  

পেশেন্টকে এক্সট্রা কেয়ার অথবা আইসিইউ সুবিধা দেয়ার যখন প্রয়োজন পড়ে, তবে তার জন্য যেসকল পারসনালাইজড মেডিকেল ইকুইপমেন্ট সাজেস্ট করা হয় সেই মুহূর্তে পেশেন্টকে সেটি অত্যাবশ্যকীয় ভাবে কিনতে হয় এবং এক্ষেত্রে অল্টারনেটিভ খুঁজার সময় খুব কমই থাকে।

তবে এটিকে নেতিবাচক অর্থে দেখার কিছু নেই। সার্ভিস বা প্রোডাক্ট যখন একজন কাস্টমারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম এবং তার জন্য যথার্থ বলে বিবেচিত হয়, তখন তার জন্য উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করা কোনভাবেই দোষের না।

তবে খেয়াল রাখা জরুরি, কনজ্যুমারের দুর্বলতাকে পুঁজি করে যেন অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোন মূল্য নির্ধারণ না করা হয়। 

বান্ডেল প্রাইসিং(Bundle pricing)  

বান্ডেল প্রাইসিং সারাবিশ্বে খুব পপুলার একটি প্রাইসিং স্ট্র্যাটেজি যার মাধ্যম কাস্টমারের অ্যাভারেজ পারচেজ ভ্যালু কে বাড়িয়ে তোলা হয়।

খেয়াল করে দেখবেন যখন কোন স্পোর্টস পারসন বা খেলোয়ার একটি জার্সি কেনেন তখন তার সাথে একটি শর্ট প্যান্ট, সক্স এবং ক্যাপ কেনার প্রয়োজন পড়ে। যদি আলাদা আলাদা ভাবে প্রোডাক্টগুলো সে কিনে তবে তাকে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয়। 

কিন্তু যখন সে সবগুলো একসাথে একটা বান্ডেল অফারে কিনবে তখন সে কম মূল্যে পাচ্ছে। 

বান্ডেল নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে প্রাসঙ্গিকতা। আপনি যে প্রোডাক্ট গুলো নিয়ে বান্ডেল অফার তৈরি করছেন তা অবশ্যই একে অপরের সাথে রিলেটেড হতে হবে। আপনি কসমেটিকের সাথে কখনোই সু-কে বান্ডেল অফারে নিয়েআসতে পারবেন না। যদিও আপনি চাইলেই সেটি করতে পারেন কিন্তু এটি কাস্টমারদের আকৃষ্ট করবে না। 

 

পেনিট্রেশন প্রাইসিং(Penetration pricing)  

মার্কেট প্রতিযোগিতায় সবার থেকে নিজেকে এগিয়ে রাখতে মার্কেটে প্রোডাক্টের এক্সপোজার বাড়াতে এবং কাস্টমার বেজ বৃদ্ধি করার জন্য মার্কেট পেনিট্রেশন প্রাইসিং  প্রচন্ড কার্যকর। 

পেনিট্রেশন প্রাইসিং এর মূল বক্তব্য হচ্ছে, হাই কোয়ালিটি প্রডাক্ট লো প্রাইসে অফার করার মাধ্যমে একটি বড় কাস্টমার গ্রুপকেআকৃষ্ট করা এবং সেরা কাস্টমার সার্ভিস প্রদান করার মাধ্যমে তাদেরকে লয়াল কাস্টমারে পরিনিত করা।

তবে বিজনেসের যথেষ্ট আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে এই ধরনের প্রাইসিং আপনার বিজনেস হুমকির মুখে নিয়ে যেতে পারে। 

প্রাইস ডিস্ক্রিমিনেশন  

এটি একটি কাস্টমাইজড প্রাইসিং অ্যাপ্রচ অর্থাৎ আপনি আপনার কাস্টমারদের কে আলাদাভাবে কাস্টমাইজড প্রাইসিং অফার করেন। 

এটি তিনটি লেভেলে বিভক্ত,

ফাস্ট ডিগ্রিঃ যেখানে কাস্টমার একটি প্রোডাক্ট সার্ভিসের জন্য সর্বোচ্চ মূল্য দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। যেমন, বিভিন্ন অকশন এবং বেটিং সাইট গুলো। 

সেকেন্ড ডিগ্রিঃ এক্ষেত্রে আপনি যত বেশি কিনবেন তত বেশি প্রোডাক্ট এর মূল্য কমে আসবে। অর্থাৎ যত বেশি পরিমাণে কিনবেন তত বেশি মূল্য ছাড় পাবেন। 

থার্ড ডিগ্রিঃ এই ক্ষেত্রে প্রাইস নির্ধারণ করা হয় কাস্টমার সেগমেন্টের উপর নির্ভর করে। উদাহরন, স্টুডেন্ট এর জন্য এক ধরনের মূল্য, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আরেক ধরনের মূল্য এবং একটি রেগুলার মূল্য। 

লস লিডার প্রাইসিং(Loss leader pricing)  

এই প্রাইসিং কৌশলের লক্ষ্য হচ্ছে মূল প্রোডাক্টটি লসে সেল করে এর সাথে রিলেটেড এক্সেসারিজ বেচাকেনার মাধ্যম দিয়ে প্রফিট মার্জিনকে বাড়িয়ে তোলা।

ধরুন আপনার বাসায় একটি ওয়াটার পিউরিফাই সিস্টেম রয়েছে, এক্ষেত্রে মূল সিস্টেমটি সেলার আপনার কাছে লসে বিক্রি করে এর এক্সেসরিজগুলো বিক্রি করে প্রফিট করবে। 

নিচে একটি ইলেকট্রিক টুথ ব্রাশের উদাহরণ দেয়া হলো, 

প্রাইস স্কিমিং (Price skimming)  

এটা একটি সিম্পল টার্ম যা বহু বছর ধরে প্রোডাক্টের প্রাইস নির্ধারণের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। কাস্টমারদের আগ্রহকে ও তাদের নতুন প্রোডাক্টের অভিজ্ঞতা লাভের ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে বেশি প্রফিট নিয়ে আসা। 

খেয়াল করে দেখবেন, মোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে একটি নতুন মোবাইল যখন লঞ্চ করা হয় তার প্রাইস সর্বোচ্চ থাকে। এর দুই থেকে তিন মাস পরেই ডিস্কাউন্ট দিয়ে মূল্য কমিয়ে আনা হয় এবং আবার নতুন একটি মডেল লঞ্চ করা হয়।

কিছু কাস্টমার রয়েছে যারা সেরা টেকনোলজি এবং নিত্য নতুন প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস সবার প্রথমে কিনতে আগ্রহী এবং সেজন্য তারা চড়া মূল্য পরিশোধ করতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। 

তাদের থেকে আপনি বেশি পরিমাণ প্রফিট অর্জন করার পরে যখন ডিসকাউন্ট প্রাইস অফার করবেন। তখন আরও একটি শ্রেণী যারা সেটি ব্যবহার ইচ্ছা পোষণ করতো তাদের নাগালের মধ্যে আসবে এবং তারা সেটা কেনার সুযোগ পাবে। 

নিজস্ব প্রাইসিং স্ট্রাটেজি (Build your own strategy)  

দিনশেষে আপনার বিজনেস কি কি ধরনের প্রাইসিংস্ট্রাটেজি  ফলো করলে কাস্টমারদের জন্য কেনাকাটা আরামদায়ক হবে সেটা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে।

প্রচলিত স্ট্রাটেজি বাইরে নতুন কিছু উদ্ভাবন অথবা প্রচলিতপ্রাইসিং স্ট্রাটেজিগুলোর ফিউশন করার মাধ্যমে একটি তৃতীয় রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা প্রয়োজন। 

আপনি যদি এমন একটি প্রাইসিং স্ট্রাটেজি করে বের করতে সক্ষম হন যা আপনার ব্যবসার জন্য ফলপ্রসূ তবে সেটি মার্কেটে আপনাকে একটি অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করবে। 

পরিশেষে

দিনশেষে বিজনেস কত আয় হয়েছে তার উপরই নির্ভর করবে আপনার বিজনেসের টিকে থাকার সম্ভাবনা এবং সেটি করতে হলে আপনাকে সর্বোচ্চ পরিমাণ প্রফিট নিয়ে আসার পরিকল্পনা রাখতে হবে। 

বিশ্বের সকল কাস্টমার প্রাইস সেনসিটিভ যদিও তাদের মূল্য পরিশোধের সামর্থ্য থাকে। কাস্টমার নিজেকে ঠকে যেতে দেখতে চায় না, তারা চায় কেনাকাটায় লাভবান হতে।  তাই এমন একটি মূল্য কৌশল বের করুন যা আপনার কাস্টমারের মধ্যে এই অনুভূতির প্রদান করবে যে,  তারা লাভবান হয়েছে। 

 

 

অনলাইন টুলস

Product Price Calculator

 

ই কমার্স বিষয়ে আরো পড়ুনঃ

রিপিট কাস্টমার একুইজিশন ফ্রেমওয়ার্ক: পুরনো কাস্টমারদের ধরে রাখার কৌশল

ভূমিকা পড়ুনঃ

রিপিট কাস্টমার একুইজিশন ফ্রেমওয়ার্ক: পুরনো কাস্টমারদের ফিরিয়ে আনার কৌশল যা একটি বিজনেসের গ্রোথে মূল ভূমিকা পালন করে। যদিও একই ধরনের মার্কেটিং কৌশল সকল ধরনের বিজনেসের জন্য সমান ফলাফল নিয়ে আসে না এবং সব ধরনের বিজনেস মডেলের জন্য সামঞ্জস্য না।

মার্কেটিং এর এমন প্রচুর ট্যাকটিস রয়েছে যা ব্যবহার করে আপনি কাস্টমার একুইজিশন করতে পারবেন ও তাদের কাছে প্রোডাক্ট বেচাকেনা করতে পারবেন। তবে সেরা মার্কেটিং সেটাই যেখানে একটি মার্কেটিং প্ল্যান নির্দিষ্ট বিজনেস মডেলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং সেই মার্কেটিং কৌশলটি ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসতে সক্ষম।

রিপিট কাস্টমার একুইজিশন ফ্রেমওয়ার্ক: পুরনো কাস্টমারদের ধরে রাখার কৌশল

রিপিট কাস্টমার একুইজিশন ফ্রেমওয়ার্ক: পুরনো কাস্টমারদের ধরে রাখার কৌশল

রিপিট কাস্টমার একুইজিশন ফ্রেমওয়ার্ক: পুরনো কাস্টমারদের ফিরিয়ে আনার কৌশল যা একটি বিজনেসের গ্রোথে মূল ভূমিকা পালন করে। যদিও একই ধরনের মার্কেটিং কৌশল সকল ধরনের বিজনেসের জন্য সমান ফলাফল নিয়ে আসে না এবং সব ধরনের বিজনেস মডেলের জন্য সামঞ্জস্য না। 

মার্কেটিং এর এমন প্রচুর ট্যাকটিস রয়েছে যা ব্যবহার করে আপনি কাস্টমার একুইজিশন করতে পারবেন ও তাদের কাছে প্রোডাক্ট বেচাকেনা করতে পারবেন। তবে সেরা মার্কেটিং সেটাই যেখানে একটি মার্কেটিং প্ল্যান নির্দিষ্ট বিজনেস মডেলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং সেই মার্কেটিং কৌশলটি  ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসতে সক্ষম। 

কাস্টমার একুইজিশনের জন্য মার্কেটিং প্ল্যান নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার আগে আপনাকে যে বেসিক জিনিস জানতে হবে সেটি হচ্ছে,

  • আপনার কাস্টমার কারা 
  • তাদের চাহিদা কি 
  • কিভাবে আপনার প্রোডাক্ট এবং মার্কেটিং কৌশল তাদের চাহিদা পূরণে সক্ষম 

এই বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে যখন আপনি মার্কেটিং কৌশল তৈরি করবেন, তখন এটি আপনাকে কাঙ্খিত ফলাফল এনে দিবে। আমরা কাঙ্খিত ফলাফল বলতে বুঝি বেচাকেনা সম্পন্ন হওয়াকে। 

একটি বিজনেসের সাসটেইনেবিলিটির জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাট্রিক্স উন্নত করা আবশ্যক, সেগুলো হচ্ছে 

  1. পারচেজ ফ্রিকোয়েন্সি 
  2. এভারেজ অর্ডার ভ্যালু 
  3. টোটাল নাম্বার অফ কাস্টমার 

তবে এটিও মাথায় রাখবেন এ তিনটি ম্যাট্রিক্স এর ঊর্ধ্বগতি একটি বিজনেসকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে সহায়ক হলেও এর বাইরে আর কোন কাজ নেই, এমন কথা মোটেও চিন্তা করা যাবে না। বরং সকল মার্কেটিং প্রচেষ্টা দ্বারা এই তিনটি ম্যাট্রিক্সকে ক্রমাগত উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে হবে এবং একই সাথে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্র্যান্ডগুলো নতুন কাস্টমার একুইজিশনের দিকেই বেশি মনোযোগী হয়, কিন্তু সর্বদা নতুন কাস্টমার একুইজিশনে ব্যয়বহুল। এর চেয়ে পুরনো কাস্টমারকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। কিন্তু আপনি কি হুটহাট চাইলেই পুরনো কাস্টমারদের আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন? না পারবেন না। এর কিছু কৌশল আছে।

একটি সলিড মার্কেটিং ফ্রেমওয়ার্ক যা পুরনো কাস্টমারদের ফিরিয়ে নিয়ে এসে আরো বেশি কেনাকাটা করানোর মাধ্যমে আপনার বিজনেসকে প্রফিটেবল করতে সাহায্য করে। 

এ পুরো কর্মযজ্ঞের কিছু নির্দিষ্ট স্টেপ রয়েছে আজকে সেই স্টেপগুলো নিয়ে বলবো। 

  1. লয়ালটি প্রোগ্রামঃ ব্র্যান্ডের প্রতি ভালবাসা
  2. ইমেইল উইনব্যাক ক্যাম্পেইন 
  3. ইমেইল অথবা এসএমএস সাইনআপ কুপন প্রোগ্রাম
  4. পরিকল্পনামাফিক নতুন আইটেম রিলিজ 
  5. সাবস্ক্রিপশন বিজনেস মডেল
  6. মিন,মিডিয়ান এবং মোড 
  7. আপসেল এবং ক্রসসেল
  8. পেইড মার্কেটিং
  9. অর্গানিক কাস্টমার একুইজিশন
  10. সর্বোচ্চসংখ্যক ট্রাফিক কনভার্সন 

কিভাবে রিপিট কাস্টমার নিয়ে আসবেন

একটি বাগান নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বেড়ে উঠে আর রিপিট কাস্টমার সেই বাগানের মত। তাদের বিজনেস গ্রোথে সামিল করতে, বিজনেসে এঙ্গেজ রাখতে এবং তাদের কাছে বেশি বেশি বেচাকেনা করতে মার্কেটিং এ খরচ করতে হবে। 

কোন একজন কাস্টমার একবার আপনার কাছ থেকে কেনার পরে সে যখনই দ্বিতীয়বার আবার আপনার প্রোডাক্ট কিনবে, তখন তাকে টার্গেট করার জন্য আপনার মার্কেটিং খরচ কমে আসবে। 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়  যে সব কাস্টমার একের অধিক বার একটা ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করে তাদের জন্য একুইজিশন খরচ প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু খরচ নেই বলেই কি আপনি বসে থাকবেন? 

একটা কথা মনে রাখা জরুরী, কোন কিছুই বিনামূল্যে হয় না। আর্থিক দিক থেকে হয়তো একজন কাস্টমার আপনি সুবিধা না দিয়ে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসছেন, কিন্তু আপনি তাকে সেরা প্রোডাক্ট সরবরাহ করছেন। 

একটি দুর্দান্ত শপিং অভিজ্ঞতার সাথ্যে এমন কিছু এক্সট্রা ভ্যালু (কাস্টমার সাপোর্ট, ফেয়ার প্রাইস, টপ ক্লাস ডেলিভারি ইত্যাদি)  দিচ্ছেন যে কারনে আপনার প্রতি সে লয়াল থাকে। কাস্টমার লওয়ালটি ব্র্যান্ডের প্রতি কাস্টমারদের ভালবাসা, এটি বাধ্য হবার বিষয় না।

কাস্টমার লওয়ালটি তৈরি করার ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কাস্টমারদের প্রয়োজন সম্পর্কে বোঝা, তাদের চাহিদা গুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া। আর তবেই তাদের সঠিক ভ্যালু প্রদান করে লয়াল কাস্টমারের পরিণত করতে পারবেন। 

একজন সাধারন কাস্টমারকে লয়াল কাস্টমারে পরিণত করার জন্য তিনটা জিনিস গুরুত্বপূর্ণ,

মার্চেন্ডাইজিং

কাস্টমারকে সর্বদা সেরা পণ্যটি দিবেন। প্রোডাক্টের গুণগতমান যেন কোনোভাবেই নিম্নমানের না হয়। আপনি যে প্রোডাক্টগুলো উৎপাদন করছেন অথবা সেল করছেন সেগুলো অবশ্যই যেন কাস্টমারদের চাহিদা পূরণে সক্ষম হয় একই সাথে টার্গেট কাস্টমারদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে। 

কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স

কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স বলতে আমরা বুঝি কাস্টমার সার্ভিস। একজন কাস্টমার প্রোডাক্ট কেনার  আগে কেনে কমিটমেন্ট। আপনি একজন কাস্টমারকে যত সুন্দর শপিং এক্সপিরিয়েন্সের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন ব্র্যান্ডের প্রতি তার লয়াল হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। 

মার্কেটিং

এরপরেই প্রয়োজন মার্কেটিং। যখন সঠিক কাস্টমারের কাছে সঠিক প্রোডাক্ট সঠিক সময় তুলে ধরবেন তখন সে আপনাকে গ্রহণ করবে । প্রয়োজনের সময় আপনাকে খুঁজে পাবার কারণ হিসাবে সে লয়াল কাস্টমার হয়ে উঠবে। 

এখন আসি কিভাবে আপনার প্রোডাক্ট বাজারজাতকরণ বা মার্কেট করবেন

লয়ালটি প্রোগ্রামঃ ব্র্যান্ডের প্রতি ভালবাসা

সুপার শপ এবং ই কমার্স বিজনেসের ক্রমবর্ধমান সময়ে আমরা কমবেশি অনেকেই লয়ালটি প্রোগ্রাম শব্দটির সাথে পরিচিত।লয়ালটি প্রোগ্রাম মূলত একজন কাস্টমারের পারচেস ফ্রিকোয়েন্সি ও এভারেজ অর্ডার ভ্যালুর সাথে সম্পর্কিত।

একজন কাস্টোমার যত বেশি কেনাকাটা করবে তার প্রতিটি কেনাকাটায় বিপরীতে তার জন্য রেওয়ার্ড পয়েন্ট জমা হতে থাকবে এবং সেই রেওয়ার্ড পয়েন্ট দ্বারা সেই কাস্টমারকে বিভিন্ন সময়ে সেরা ডিসকাউন্ট অফার দেওয়া হয়ে থাকে যা সাধারন কাস্টমার পায় না। 

যে কোনো সুপারশপে কেনাকাটা করতে গেলেই আপনি যখন ক্যাশ কাউন্টারে বিল পরিশোধ করতে যান আপনাকে বলা হয়, “স্যার আপনার কি মেম্বারশিপ কার্ড রয়েছে”। 

যদি থাকে তবে সে মেম্বারশিপ কার্ডে আপনার কেনাকাটা তথ্যগুলোকে এন্ট্রি করা হয় এবং আপনি প্রতিবার কেনাকাটায় কত বেশি পরিমাণ কেনাকাটা করছেন তার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধাপে আপনাকে নাম্বারিং করা হয়। অর্থাৎ যে বেশি কেনাকাটা করবে  তার নাম্বার বাড়তে থাকবে এবং সে নাম্বার এর উপর নির্ভর করে খুব সহজেই বের করে ফেলা যায় আপনার বিজনেসের লয়াল কাস্টমার কারা। 

আপনি যখন এটি জানবেন তখন তাদেরকে আরো বেশি ডিসকাউন্ট দেবার মাধ্যমে কাস্টমারকে বারবার আরো বেশি পরিমান কেনাকাটা করাতে সক্ষম হবেন। 

উইন-ব্যাক ইমেইল ক্যাম্পেইন

উইন ব্যাক ইমেইল ক্যাম্পেইন আসলে কি? সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করলে বিষয়টি এমন, কাস্টমার যখন প্রথমবার কেনাকাটা সম্পন্ন করলেন তখন আপনার ডাটা সেলারের কাছে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। এখন সেই সেলার চাইলে খুব সহজেই আপনাকে তার অন্যান্য প্রোডাক্ট গুলো দেখাতে পারেন।

কাস্টমার যদি সে প্রোডাক্টে ইন্টারেস্ট না হন তাকে ডিসকাউন্ট অফার দিতে পারেন।

কাস্টমার যদি ডিসকাউন্ট অফারেও ইন্টারেস্ট ফিল না করেন, তবে তার কাছে সার্ভে ফরম পাঠানোর মাধ্যমে সেলার জানার চেষ্টা করেন, কেন তিনি কেনাকাটা করছেন না।

পরবর্তী কেনাকাটায় কাস্টমার যেন প্রবলেম ফেস না করে সেজন্য সেলার বিজনেসের বাধাগুলোকে দূর করার পদক্ষেপ নিতে সচেষ্ট হন।

প্রথম ইমেইল

একজন কাস্টমার যখন কেনাকাটা সম্পন্ন না করেই আপনার সাইট থেকে চলে যায় এর কিছুক্ষণ পরে অথবা একদিন পরে সে একটি ইমেইল পাবেন।  ইমেইলটিতে আপনার কেনাকাটার ধরন বিবেচনায় আরো কি কি সে কিনতে পারে সে প্রোডাক্টগুলো সাজেস্ট করা হয়।

এখন কাস্টমারের যদি চাহিদা থাকে আর প্রয়োজনীয় কিছু খুঁজে পেলে সেটা সে কিনতে চায়। 

দ্বিতীয় ইমেইল 

প্রথম ইমেইল পাবার পরেও কাস্টমার যদি কেনাকাটার না করেন, তবে তাকে একটি ছোট এমাউন্টের ডিসকাউন্ট দেয়া হয়ে থাকে অর্থাৎ তাকে ট্রিগার করানো হয়। সে কি মূল্য ছাড় জনিত কারণে কেনাকাটা করছে না, যদি তাই হবে তবে আশা করা যায় ডিস্কাউন্ট অফার তাকে উৎসাহী করবে। 

তৃতীয় ইমেইল 

দ্বিতীয় ইমেইলে ছোট পরিমাণ ডিসকাউন্টে পাবার পরেও যখন কাস্টমার কেনাকাটা করে না, তখন তাকে বড় ধরনের ডিসকাউন্ট দিয়ে কেনাকাটা করতে উত্সাহ করা হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বেশি ডিস্কাউন্ট পাবার পরে একটি কাস্টমার গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠে। 

বেশি পরিমান ডিস্কাউন্ট নিয়ে  একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করি,

বাংলাদেশি মার্কেটে “লারিভ ব্র্যান্ড” কিছুদিন আগে বেশি পরিমান ডিসকাউন্ট অফার দিয়ে বেশ ভালো পরিমান সাড়া পেয়েছিলো। দেখা যায়, কাস্টমার ট্রায়ালরুমের বাইরে লম্বা লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে প্রোডাক্ট ট্রায়াল করছেন। ট্রায়াল করা প্রোডাক্টের প্রায় ৮০% সেল হয়ে যায়।  

চতুর্থ ইমেইল 

এরপরও যখন কাস্টমার কেনাকাটা করছে না, তখন তাঁকে একটি সার্ভে ফ্রম পাঠানোর মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হয়, কেন সে কেনাকাটা করছে না। 

ইমেইল অথবা এসএমএস সাইনআপ কুপন প্রোগ্রাম

সোশ্যাল মিডিয়ায় কাস্টমারদের খুঁজে পাওয়া ও এঙ্গেজ রাখা অনেক বেশি ব্যয়বহুল সে ক্ষেত্রে email-marketing আপনার জন্য একটি আদর্শ সমাধান।  

কিন্তু সে আগের মতই বলতে হয় কাস্টমার যদি আপনার থেকে কোন ভ্যালুয়েবল জিনিস না পায় তবে সে আপনার কথা শুনবে না সেজন্য তাকে ইমেইল এড্রেস দিয়ে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট সাইন করলে তাকে আপনি গিফট প্রদান করবেন এই ঘোষণা দেন এবং এই ঘোষণাটি অনেক বেশি কার্যকরী। 

পরিকল্পনামাফিক নতুন আইটেম রিলিজ

প্রতিনিয়ত নতুন প্রোডাক্ট লঞ্চ করা, হুটহাট প্রোডাক্ট লঞ্চ করা, কোন কারণ ছাড়া প্রোডাক্ট লাঞ্চ করা একটি সমস্যা। এলোমেলো ভাবে প্রোডাক্ট লঞ্চ করার পরে যদি আফসোস করেন, 

কেনো আমার কাস্টমার নেই,  কেনো কাস্টমারকে কিনে না অথবা প্রোডাক্ট কি তারা পছন্দ করছে না, সেটি কি যৌক্তিক? 

কিন্তু আদতে আপনি যখন অনির্দিষ্ট বা এলোমেলো ভাবে প্রোডাক্ট লঞ্চ করেন, কাস্টমার জানতেই পারে না নতুন প্রোডাক্ট কি এসেছে। 

কিন্তু আপনি যখন প্রথম থেকেই কোন দিনে প্রোডাক্ট লঞ্চ করবেন সে বিষয়টি নির্ধারণ করে নেন, হতে পারে সপ্তাহে একবার, মাসে একবার বা বছরে একবার তবে ঠিক সেইসময় কাস্টমার আপনার পেজে বা ওয়েবসাইটে নজর দিবে।  

এর মূল কারণ তারা এখন জানে, আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত নতুন প্রোডাক্ট লঞ্চ করেন। 

সাবস্ক্রিপশন বিজনেস মডেল

সাবস্ক্রিপশন বিজনেস মডেল সকল ইন্ডাস্ট্রির জন্য কার্যকরী নাও হতে পারে। তবে ডিজিটাল প্রোডাক্ট অথবা সফটওয়্যার প্রোডাক্টের জন্য দারুণ রকম কার্যকর।

অনেকেই বিজনেসের শুরুতে বিগ ইনভেস্টমেন্ট করতে চায় না। সেক্ষেত্রে আপনি তাদেরকে একটি স্ট্যান্ডার্ড মানের সফটওয়্যার ব ডিজিটাল প্রোডাক্ট স্বল্প খরচে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে পারেন। 

এছাড়াও বান্ডেল অফারগুলো নিয়মিতভাবে কাস্টমারদের কাছে প্রমোট করে আপনি ম্যাক্সিমাম রিভিনিউ জেনারেট করতে পারবেন। ব্যান্ডেল অফারের ক্ষেত্রে সাবস্ক্রাইবারের প্যাকেজ যখন লো বা রান আউট হবে তখন সে নিজ উদ্যোগে রিফিল করে নিতে সচেষ্ট। 

সে ক্ষেত্রে যারা রেগুলার কাস্টমার তাদেরকে নিয়মিত বিরতিতে ইমেইল পাঠিয়ে রিমাইন্ডার দেওয়া যেতে পারে। সাবস্ক্রিপশন মডেলের একটি বড় সুবিধা হচ্ছে বিজনেসের ৮০% রেভিনিউ এই সাবস্ক্রিপশন মডেল থেকে উঠে আসে।

আসুন এবারে জানবো এভারেজ অর্ডার ভ্যালু বাড়িয়ে তোলার মাধ্যমে কি করে আরো বেশি রেভিনিউ আয় করা যায়

 

 

মিন, মিডিয়ান ও মোড

স্কুল-কলেজে গণিত করতে গিয়ে আমরা সবাই মিন, মিডিয়ান এবং মোড সম্পর্কে অবগত হয়েছি। আপনার বিজনেসের ক্রমাগত বেড়ে উঠাতে এর গুরুত্ব রয়েছে। এটি আপনাকে বুঝতে সহায়তা করে কাস্টমার রিটেনশন, সেলস গ্রোথ ও সেলস ভলিয়মের অবস্থা সম্পর্কে জানতে।

মিন

একটি  মূলত অ্যাভারেজ অর্ডার ভ্যালু কে নির্দেশ করে। এ পর্যন্ত যত কেনাকাটা হয়েছে সমস্ত কেনাকাটার পরিমাণকে যোগ করে কেনাকাটার সংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে একটি বের হয়ে যায়। 

মিডিয়ান

সকল অর্ডার ভ্যালুর মধ্যমান। যতগুলা অর্ডার হয়েছে সবগুলো অর্ডার ভ্যালু গড়ের মধ্যবর্তী মান। 

মোড

যে অর্ডার ভ্যালু সংখ্যায় সবচেয়ে বেশিবার রিপিট হয়েছে। 

আপসেল এবং ক্রসসেল

ফ্রী ডেলিভারি, ক্যাশব্যাক অফার, এগুলো সব সময় একই রকম ভাবে কাজ করে না। আপনাকে লোভনীয় ডিসকাউন্ট অফারের পাশাপাশি কাস্টমারের চাহিদাকে উস্কে দিতে হবে এবং সেজন্য আপসেলিং এবং ক্রস সেলিং কৌশল ব্যবহার করা হয়।

ক্রস সেলিং

ক্রস সেলিং মূলত একটি প্রোডাক্টের রিলেটেড প্রোডাক্ট সাজেস্ট করা। যেমন ধরুন, আপনি রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছেন। আপনি পিজা অর্ডার করেছেন, কিন্তু ওয়েটার এর পাশাপাশি আপনাকে কোক অফার করবে এবং মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার অফার করবে। এটি হচ্ছে ক্রস সেলিং। 

আপ সেলিং

আপ সেলিং হচ্ছে একই ধরনের প্রোডাক্টের বড় সাইজ অফার করা । যেমন ধরুন, আপনি রেস্টুরেন্টে ৬ ইঞ্চি পিজা অর্ডার করবেন ভাবছেন কিন্তু তারা আপনাকে ১০ ইঞ্চি পিজা অফার করলো। এটি হচ্ছে আপ সেলিং। 

পপুলার মার্কেটিং মেথডগুলো ব্যবহার করে রেভিনিউ বাড়িয়ে তুলুন

এতক্ষণ বললাম বিজনেস স্ট্র্যাটিজি, সেলস নাম্বার ব্যবহার করে কৌশলে কাস্টমারদের কাছে আরো বেশি পরিমাণে সেল করার পদ্ধতি নিয়ে। কিন্তু এর বাইরেও গতানুগতিক মার্কেটিং পদ্ধতি গুলো, যেমনঃ ট্রাডিশনাল অথবা ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়গুলোতে আপনাকে নজর দিতে হবে। 

পেইড মার্কেটিং

মার্কেটিং এর জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমগুলোতে সক্রিয় দর্শকদের আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিসগুলো দেখাতে হবে। 

কৌশলগত মার্কেটিং পদ্ধতি কাস্টমারদের থেকে আরও বেশি পরিমাণে রেভিনিউ জেনারেট করতে সহায়তা করলেও যে কাস্টমারগুলো আপনার রেভিনিউয়ের সোর্স হবে তাদেরকে পেতে আপনাকে লিড জেনারেট করতে হবে।

এই লিড জেনারেট করার জন্য অনেক মাধ্যম রয়েছে যার মধ্যে বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমগুলো অত্যন্ত কার্যকরী মাধ্যম। এছাড়াও আপনি চাইলে পুরনো পদ্ধতি গুলো, যেমনঃ মার্কেট ভিজিট করে কাস্টমার নিয়ে আসতে পারেন। তবে সেগুলো অনেক বেশি সেকেলে। তারচেয়ে খুব সহজে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সহায়তা নিয়ে কার্য সম্পন্ন করা।

অর্গানিক কাস্টমার একুইজিশন 

সব সময় পেইড মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কাস্টমার একুইজিশন করা বিজনেসের প্রফিট কমিয়ে দেয়। এগুলোর পাশাপাশি আপনাকে অর্গানিক ভাবে কাস্টমার একুইজিশন করার যে সকল কৌশল টুলস রয়েছে সবগুলো চলমান রাখার প্রয়োজন।

বিশেষ করে প্লাটফর্মে অর্গানিক ভাবে কাস্টমার একুইজিশনের জন্য ব্লগ পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ইমেইল মার্কেটিং, এসএমএস মার্কেটিং এগুলো অত্যন্ত পরিচিত এবং পরীক্ষিত মাধ্যম। 

সর্বোচ্চসংখ্যক ট্রাফিক কনভার্সন

এতকিছু করার পর সবশেষে আসে ট্রাফিক কনভার্সন। কিন্তু তারা যখন আসে সেই মুহূর্তে তাদের ক্লায়েন্টে পরিণত করতে না পারলে পুরো কার্য পদ্ধতি বা কর্মযজ্ঞ বিফলে যায়। আপনি যত বেশি ট্রাফিক সফল ভাবে কনভার্ট করে ক্লাইন্টে রুপান্তর করতে পারবেন আপনার বিজনেসের রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট তত বেশি হবে।

পরিশেষে

গ্রেট মার্কেটিং সর্বদা বেশি পরিমাণে সেল নিয়ে আসতে সাহায্য করে। কথাটি শুনতে অনেক সিম্পল মনে হলেও এটি একটি শক্তিশালী বাক্য। 

একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড একদিকে যেমন কাস্টমার একুইজিশনে মনোযোগী হয়। একই সাথে কাস্টমার রিটেনশনের দিকে তাদের সমান গুরুত্ব থাকে। কারণ রিপিট কাস্টমার  একটা বিজনেসের রেভিনিউের জায়গাটিকে শক্ত করে।

তাই প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাস্টমার একুইজিশন এবং রিটেনশন করার মাধ্যমে কাস্টমারদের নিয়মিতভাবে এঙ্গেজ করার মাধ্যমে আপনার বিজনেসকে. আরো বড় করে তুলুন, যা আপনাকে কাঙ্খিত রেভিনিউ নিয়ে এসে দিবে।

 

৭টি মার্কেটিং টিপস যা আপনার বিজনেসকে ক্রমাগত উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে

৭টি মার্কেটিং টিপস যা আপনার বিজনেসকে ক্রমাগত উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে

বিজনেসে উন্নতি করতে হলে প্রয়োজন ক্রমাগত গ্রোথ। এমন কিছু মার্কেটিং টিপস রয়েছে যা আপনার বিজনেসকে প্রতিদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। কিন্তু তারপরেও সফলতা আমাদের কাছে ধরা দেয় না। কারন আমরা জানি না কিভাবে মার্কেটিং টিপস গুলো রিয়েল লাইফে ব্যবহার করতে হয়। 

এখানে ৭টি এমন টিপস শেয়ার করা হয়েছে যা আপনার বিজনেসে বেশি বেশি ট্রাফিক নিয়ে আসার মাধ্যমে বিজনেসকে বড় করে তুলতে সাহায্য করবে।      

বেশি বেশি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করুন 

কনটেন্ট মার্কেটিং এর অনেকগুলো পদ্ধতি রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সেরা একটি পদ্ধতি হচ্ছে ভিডিও কনটেন্ট। 

জরিপে দেখা গেছে প্রায় ৮৮% মার্কেটিয়ার বিজনেসের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ ভিডিও কন্টেন্ট ব্যবহার করে যে ROI অর্জন করেছেন তা তাদের সন্তুষ্ট করেছে। ভিডিও মার্কেটিয়ারদের ৮৩% বলেছেন ভিডিও কন্টেন্ট তাদের লিড জেনারেট করতে সহায়তা করেছে।

প্রায় ৮৪% মানুষ বলছে তারা লাইভ প্রোডাক্ট দেখার মাধ্যমে কেনাকাটা করতে সবথেকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। 

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি আমরা খেয়াল করি তবে দেখা যায় লাইভ নির্ভর প্রোডাক্ট সেলিং অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে চলেছে। 

কাস্টমার খুব সহজেই ভিডিওতে সরাসরি প্রোডাক্ট দেখার মাধ্যমে প্রোডাক্ট নিয়ে সকল ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন এবং রিয়েল টাইম উত্তর পান। 

ভিডিও কনটেন্ট তৈরি এখন খুব সহজ। সমসাময়িক সময়ে এজন্য উচ্চমানের ক্যামেরা সেটআপ প্রয়োজন নেই, আপনার হাতে থাকা মোবাইল সেটটি এ কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম। 

যখন ভিডিও কনটেন্ট এর কথা বলছি তখন ভিডিও কনটেন্ট দিয়ে আপনি কি কি করতে পারবেন?

খেয়াল করবেন ভিডিও কনটেন্ট শুধুমাত্র কাস্টমারদের এঙ্গেজ করা বা শুধু তাদেরকে বিনোদন দেওয়া না, এর বাইরে একটি ভিডিও কনটেন্ট বিজনেস মার্কেটিং-এ শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। 

ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে আপনার ভ্যালু প্রপোজিশন ব্যাখ্যা করা সহজ, ভিডিও কনটেন্ট প্রোডাক্ট ডেমনস্ট্রেট করতে সহায়তা করে, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ একটি ভিডিও সর্বোচ্চ এনগেজমেন্ট নিয়ে আসতে পারে। 

তাই ফেসবুক তার ইউজারদের বিশেষ ভাবে ভিডিও কনটেন্ট বেশি বেশি তৈরি করার ব্যাপারে উৎসাহ দান করছে।

সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অথেন্টিসিটি তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর সফলতা এবং ব্যর্থতার নির্ণয়ক কাস্টমার সার্ভিস। এই সকল ক্ষেত্রেও ভিডিও কনটেন্ট আপনাকে যথেষ্ট সহায়তা প্রদান করে।  সরাসরি কাস্টমার ফিডব্যাক অথবা কাস্টমারের এক্সপেরিয়েন্স সম্পর্কে জানতে লাইভ ভিডিও দুর্দান্ত। 

শুধু কি তাই, এটি বিজনেস ম্যানেজমেন্টের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সমসাময়িক সময়কে সবাইকে অফিসে এসে ইন্টারভিউ দিতে হবে তার প্রয়োজন নেই। একটা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময় লোকবল নিয়োগের প্রয়োজন পড়ে এবং আপনার কাছে যদি এমপ্লয়ীদের ডেটাবেজ থাকে তবে তাদের সাথে অনলাইনে ভিডিও কলিং এ ফেস টু ফেস মিটিং অ্যারেঞ্জ করার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করতেও সক্ষম হবেন। 

ট্রেনিং এর কথা না বললেই নয়, একজন এমপ্লয়ির সর্বোচ্চ কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন প্রপার ট্রেনিং এবং আপনি যেকোন লোকেশন থেকেই তাকে সেই ট্রেনিং দিতে সক্ষম হবেন সে জন্য শুধুমাত্র আপনার ওয়েবক্যাম ওপেন করতে হবে।

অতএব যারা বিজনেসে ভিডিও কনটেন্ট বা ভিডিও কমিউনিকেশন সুবিধা এখনো ব্যবহার করছেন না, তারা সময় এবং সুযোগের যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সক্ষম হচ্ছেন না। 

নিয়মিত বিজনেস ডেটাগুলো পর্যবেক্ষণ করুন 

আমরা উদ্যোক্তাদের বারবার বলে থাকি আপনারা বিজনেস ডাটাগুলোকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করুন। কারন বিজনেস ডেটা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে বিজনেসে আপনি পরবর্তী সিদ্ধান্ত কি নেবেন, কোথায় কোথায় খরচ করবেন, এবং প্রোডাক্ট এডভার্টাইজিং এর জন্য কি করনীয়। 

আপনার মনে হতে পারে, আমার কাছে আইডিয়া আছে,আমি জানি কি করতে হবে, তাহলে ডেটা আমার জন্য কি প্রয়োজন? 

অবশ্যই ডেটা আপনার অতীব প্রয়োজন। কারণ আপনার অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র আপনাকে ধারণা প্রদান করে কিন্তু ডেটা আপনাকে কতটুকু পদক্ষেপ নিতে হবে সেটি নির্ধারণ করে দেয়। বিজনেসে কাস্টমারদের দেয়া ডিস্কাউন্ট কোডগুলো কাজ করছে কিনা, আপনার কাস্টমার একুইজিশন যথার্থ হচ্ছে কিনা ইত্যাদি প্রসঙ্গে যা একটি বিজনেসের স্মুথ অপারেশনের জন্য জরুরি। 

জেরিন বিগত ১০ বছর ধরে একটি অনলাইন বিজনেস পরিচালনা করে আসছে। সমসাময়িক সময়ে তার সেলের অবস্থা দিন দিন শোচনীয় পর্যায়ে কমে এসেছে।

পুরনো কাস্টমার নেই, নতুন কাস্টমারের সংখ্যাও কম এমন অবস্থায় সে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না কি করতে হবে। যেহেতু সে লম্বা সময় বিজনেস পরিচালনা করেছে তাই তার কাছে অভিজ্ঞতা আছে কেন এবং কিভাবে একটা বিজনেস উপরে উঠে।

কিন্তু সত্যিকার অর্থে কোন পদক্ষেপ তাকে নিতে হবে সে বিষয়ে তার একেবারেই ধারণা ছিল না।

বিজনেসের সমস্যা নিরসনে সে একদিন ডেটা এনালাইটিক এর কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে পারে।সিদ্ধান্ত নেয় তার বিজনেস গ্রোথ এবং প্রবলেম আইডেন্টিফাই করার জন্য ডেটা অ্যানালিটিক্স সহায়তা নিবে। তারা একজন ই-কমার্স এজেন্সির কাছে যায় এবং কিভাবে বিজনেসে ডেটাগুলোকে সুসজ্জিত উপায় ট্র্যাক ও বিশ্লেষণ করতে পারে সেই বিষয়ে পরামর্শ করেন।

কিছু এনালইটিক্স টুলস তার ই-কমার্স সাইটে যুক্ত করা হয়। কিছুদিন পরে ডেটাগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় প্রতিমাসে তার বিজনেসে কাস্টমার রিটেনশন রেট ৫%, নতুন কাস্টমার একুইজিশন ১%  অপরদিকে সোশ্যাল মিডিয়া এনালিটিক থেকে দেখা যায় অ্যাড খরচের বিপরীতে কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট কম। প্রতিমাসে কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট কার্ভ নিচের দিকে যাচ্ছে।  

এমন একটি পরিস্থিতিতে তিনি বিগত ৩ বছরে কোনোভাবেই তার সেলস টার্গেট অ্যাচিভ করতে পারেননি।

এনালইটিক্স থেকে তিনি বুঝেছেন তাকে কোথায় পরিবর্তন আনতে হবে। তার প্রয়োজন এই মুহূর্তে অ্যাড খরচের পরিমাণ কমানো, কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট বাড়ানো, নতুন কাস্টমার একুইজিশন ও কাস্টমার রিটেনশনে মনোযোগী হওয়া। 

এবারে তিনি মার্কেটিং এ যে পরিমাণ ব্যয় ইতিপূর্বে করে আসছিলেন তার আলোকে পরবর্তী কি পরিমান বাজেট বর্তমানে এলোকেট করবেন এবং সেখান থেকে কি পরিমানে রেজাল্ট তিনি পেতে চান সেটির সংখ্যা নির্ধারণ করে ফেলেছেন। এখন সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। 

আপনি যখন সুস্পষ্টভাবে জানবেন আপনাকে কি করতে হবে সেই মুহুর্তে আপনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেন এবং এটি আপনার বিজনেসকে ক্রমাগত উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। 

কিভাবে ডাটা এনালাইসিস করবেন? 

ডেটা এনালাইসিস করার অনেকগুলো পদ্ধতি রয়েছে বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যাদের বিজনেস বড় এবং প্রচুর পরিমাণে ডাটা আসতে থাকে তাদের জন্য বিগ ডেটা এনালাইসিস হচ্ছে আদর্শ সলিউশন। কিন্তু আজকে আমরা কথা বলছি মূলত তাদের জন্য যারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তাদের নিয়ে। 

বিগ ডেটা এনালাইসিস কিছুটা ব্যয়বহুল ব্যাপার, কিন্তু মোটামুটি বড় একটি বিজনেসের ডেটা এনালাইসিস করার জন্য অনেকগুলো টুলস রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজে ডেটা এনালাইসিস করতে সক্ষম হবেন। 

গুগোল অ্যানালিটিক্স

এটা একটি ফ্রি ডেটা অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার যার মাধ্যমে আপনি আপনার বিজনেসের 360 ডিগ্রি ভিউ পাবেন। আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ওয়েব ট্রাফিকের সংখ্যা সম্পর্কে, অডিয়েন্স বিহেভিয়ার সম্পর্কে, কাস্টমার রিটেনশন রেট বিষয়ে, কাস্টমারদের এনগেইজ হবার ধরন ইত্যাদি সম্পর্কে। এজন্য আপনাকে গুগল এনালাইটিক্স আপনার ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত রাখতে হবে। 

ফেসবুক অডিয়েন্স ইন্সাইট

যারা মূলত সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর বিজনেস করেন তাদের ক্ষেত্রে ফেসবুক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ট্রাফিক চ্যানেল এবং ফেসবুক অডিয়েন্স ইন্সাইটস নামে নিজস্ব একটি এনালাইটিক ফিচার। কিন্তু আমরা অনেকেই সেটি ব্যবহার করি না। 

অডিয়েন্স ইন্সাইটের মাধ্যমে আপনি পেজের অডিয়েন্সদের টোটাল এক্টিভিটিজ মনিটর করতে পারবেন। তারা কখন আপনার পেজে একটিভ থাকছে, কতজন অডিয়েন্স একটিভ রয়েছে, তারা আপনার পেইজের কোন পোস্ট গুলোর সাথে কিভাবে এঙ্গেজ হচ্ছে, এভাবে প্রতি মাসের, প্রতিদিনের, এমনকি পুরো বছরের তথ্য আপনি বের করতে পারবেন। 

এর বাইরে কিছু পেইড টুলস রয়েছে যেগুলো আপনাকে আরো ব্যাপক পরিসরে কাস্টমার ডেটা বিশ্লেষণের সুযোগ করে দেয়।

কিসমেট্রিক্স

বিজনেসে রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট সম্পর্কে জানা খুব জরুরী। এই টুলস আপনাকে জানতে সাহায্য করে কাস্টমার সেগমেন্ট, কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট এবং কাস্টমার বিহেভিয়ার সম্পর্কে। এই টুলস ব্যাবহার করে আপনি অটোমেটিক ভাবে কাস্টমার বিহেভিওরের উপর নির্ভর করে ই-মেইল ক্যাম্পেইনগুলো সেট করতে পারবেন। এছাড়াও মার্কেটিং ক্যাম্পেইনগুলোকে আরো কার্যকর করতে আছে ট্রেনিং সুবিধা। 

ইনসাইড স্কয়ার

আমরা অনেকে যারা স্প্রেডশিট ব্যবহার করে ডেটা এনালাইসিস করি তাদের জন্যইনসাইড স্কয়ার ডেটা বিশ্লেষণের একটি আদর্শ সমাধান। আপনাকে আলাদাভাবে এক্সেলশিট ম্যানেজ করে ডেটা ম্যানেজ করার প্রয়োজন হবে না। 

এই সফটওয়্যার টি ব্যবহার করে কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে সেলস পাইপলাইন ফোরকাস্টিং, লিড জেনারেশন, ট্রাকিং এবং কাস্টমার অ্যাক্টিভিটি এনালাইসিস সবগুলো কাজ আপনি করতে সক্ষম হবেন। আপনি এটা দ্বারা বের করতে পারবেন আপনার বিজনেস পরিচালনার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক কোনটি এবং সব থেকে দুর্বল দিক কোনটি। 

ই-কমার্স ওয়েবসাইটটি হতে হবে মোবাইল ফ্রেন্ডলি

প্রায় ৫০% ওয়েবসাইট ভিজিট হয় মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে। তাই আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে আপনার ওয়েবসাইট যাতে সকল ধরনের মোবাইল ডিভাইসে কাজ করে। 

ওয়েবসাইটটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি হলেই আমাদের কাজ শেষ হয়ে যায় না কিছু জিনিস পরীক্ষা করার ব্যাপার থেকে যায়। আপনি কিভাবে বুঝবেন আপনার মোবাইল আপনার ওয়েবসাইটটি ফ্রেন্ডলি? 

পরীক্ষা করুন আপনার ওয়েবসাইটটি মোবাইল রেস্পন্সিভ স্ট্যাটাস   

https://search.google.com/test/mobile-friendly

উপরের লিংকটি ভিজিট করে সেখানে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক প্রদান করে দেখুন আপনার ওয়েবসাইটটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা। এই টুলস আপনাকে ওয়েবসাইটের বর্তমান স্ট্যাটাস সাথে এটিও দেখাবে মোবাইলে ডিভাইসে আপনার ওয়েবসাইটটি দেখতে কেমন দেখায়। 

ওয়েবসাইটটি মোবাইল রেস্পন্সিভ হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ্য রাখবেন যেন, ইনফরমেশনগুলো অডিয়েন্স সহজে ডিসকভার করতে পারে এবং অতিরিক্ত টেক্সটব্লক এবং পপ-আপ না থাকে। ওয়েবসাইটের স্পিড হতে হবে লাইটিং ফাস্ট। ওয়েবসাইট লোড হতে যত বেশি সময় নিবে কাস্টমার বাউন্স এর পরিমাণ ততবেশি বাড়তে থাকবে। 

ওয়েবসাইটের ডিজাইন হতে হবে সিম্পল, বাটন সাইজগুলো এমনভাবে ডিজাইন করবেন যেন আপনার মোবাইল স্ক্রিনের মধ্যে সহজে ফিট করে এবং অতিরিক্ত জায়গা দখল না করে। 

খুব ছোট ফ্রন্ট সাইজ হলে মোবাইলে সেটি দেখতে অসুবিধা হয়। ফন্ট সাইজ এমনভাবে রাখুন যেটি মোবাইলে পড়তে সুবিধা হয়। কেউ যদি মোবাইল ওয়েবসাইট ব্যবহারে ভালো অভিজ্ঞতা না পায় তবে আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। সবশেষে নিয়মিতভাবে ওয়েবসাইটের মোবাইল পারফর্ম টেস্ট করতে থাকুন। 

শুনুন, কাস্টমার কি চায়

কাস্টমার কি চায় সেটা আপনার ফার্স্ট প্রায়োরিটি। আপনি বিজনেসে সবকিছু করার পরও কাঙ্খিত ফলাফল নিয়ে আসতে পারবেন না যদি আপনি আপনার কাস্টমারদের কথা না শোনেন। 

আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর বিশেষ করে থাকেন তবে নিয়মিতভাবে বা নির্দিষ্ট বিরতিতে কাস্টমারদের ফিডব্যাক নিতে অডিয়েন্স পোল আয়োজন করুন।

ওয়েবসাইট এর ক্ষেত্রে আপনি সার্ভে ফ্রম জুড়ে দিন অথবা ই-মেইল এর মাধ্যমে কাস্টমার ফিডব্যাক নেবার চেষ্টা করুন। কাস্টমারের মতামত পাবার পরে সেগুলো থেকে দেখুন সবচেয়ে বেশি কোন বিষয়টি কাস্টমার আপনাদের কাছ থেকে সমাধান পেতে চায়। 

কাস্টমারদের চাওয়ার গুরুত্ব বিবেচনায় একটি লিস্ট করে ফেলুন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই সমস্যাগুলো সমাধান করুন।

 

আপনার অ্যাডে গ্রাহকদের যুক্ত করুন 

সেই অ্যাডভার্টাইজমেন্ট সবথেকে শক্তিশালী যাতে কাস্টমারদের এনগেজমেন্ট থাকে। কিন্তু কিভাবে আপনার অ্যাডে কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট নিশ্চিত করবেন। বিষয়টি খুব সোজা “User Generated Content”  আপনি কাস্টমারদের ইন্সপায়ার করুন প্রোডাক্ট নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা সরাসরি আপনার সাথে পোস্ট আকারে শেয়ার করতে। তাদেরকে টেস্টিমোনিয়াল দিতে বলুন। শুধুমাত্র স্টার রেটিং এর মাধ্যমে কাস্টমারকে সীমিত রাখবেন না।

বর্তমান সময়ে“User Generated Content” এর সবথেকে পাওয়ারফুল মাধ্যম হচ্ছে, যে প্রোডাক্টটি কাস্টমার কিনছে সে প্রোডাক্ট ব্যবহার করার পর তার একটি ইউজার রিভিউ দেওয়া। এটি  ভিডিও হতে পারে বা কপিরাইটিং হতে পারে। 

“User Generated Content” এর একটি পাওয়ারফুল উদাহরণ হচ্ছে কোকাকোলার “শেয়ার এ কোক” ক্যাম্পেইন। যেখানে কোকোকোলা তার প্রত্যেকটা বোতল পারসনালাইজড করে কিছু নাম ব্যবহার করে এবং সেগুলো কাস্টমারদের কে বলে তাদের পছন্দের মানুষের সাথে শেয়ার করতে যাদের সাথে এই নামগুলো মিলে যায়।

এটি কাস্টমার সাদরে গ্রহণ করে এবং সেই নির্দিষ্ট নাম যুক্ত কোকের বোতল সহকারে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শেয়ার করতে থাকে তাদের পছন্দের ব্যক্তির সাথে। কোকাকোলা এই ক্যাম্পেইন তাদের সোশ্যাল মিডিয়া এঙ্গেজমেন্টকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যায়। 

একই রকম ক্যাম্পেইন আমরা দেখেছিলাম স্টারবাকস এর ক্ষেত্রে, প্রত্যেকটি কফির কাপে চমৎকার কিছু গ্রাফিক এঁকে সেগুলো #WhiteCupContest এই Hashtag ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে বলা হয়। এটি স্টারবাকস পাঠালে তারা সেই ডিজাইন ব্যবহার করে লিমিটেড এডিশন কাপ তৈরি করে বাজারে ছাড়বে।

মাত্র তিন সপ্তাহে প্রায় ৪০০০ ইউনিক ডিজাইন তৈরি করে স্টারবাকসকে পাঠিয়েছিল এবং সেটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক পরিমান শেয়ার করা হয়েছিলো। 

আপনার বিজনেসের গ্রোথ স্ট্রাটেজিতে ভিন্নতা রাখুন

সব সময় একই ধরনের মার্কেটিং কৌশল কাজ করে না। বিজনেসের ডাইভারসিফিকেশন খুব দরকার। আপনি চার ধরনের গ্রোথ স্ট্যাটিজি নিয়ে ভাবতে পারেন। 

মার্কেট পেনিট্রেশন

যেখানে খুব কমন প্রোডাক্ট নিয়ে আপনি কাজ করবেন কিন্তু আপনার প্রোডাক্টের প্রাইস হতে হবে আপনার প্রতিযোগিতা থেকে অনেক কম, কিন্তু সেলের পরিমান বাড়াতে হবে। লক্ষ্য অধিক বেচাকেনার মাধ্যমে আপনি সর্বোচ্চ মুনাফা তুলে নিয়ে আসবেন। 

মার্কেট ডেভেলপমেন্ট

এক্ষেত্রে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন মার্কেট তৈরি করতে হবে। আপনি পূর্বে যাদের কাছে প্রোডাক্ট সেল করেছেন তার বাইরে নতুন সুযোগ আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে অর্থাৎ কাস্টমার সেগমেন্টেশন এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন আপনি লোকাল ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কাজ করছেন হতে পারে দেশের বাইরে আপনার প্রোডাক্ট এর চাহিদা রয়েছে।  তাই আপনাকে ফরেন মার্কেট নিয়ে ভাবতে হবে। 

প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট

একই প্রোডাক্ট লম্বা সময় ধরে কাস্টমার অ্যাটেনশন ধরে রাখে না।  প্রোডাক্টের স্বাভাবিক নিয়মের মতো জন্ম এবং মৃত্যু আছে অর্থাৎ একটা প্রোডাক্ট যখন জন্ম গ্রহন করে এটি ধীরে ধীরে ম্যাচিওর হয় এবং এক পর্যায়ে এটি ডেক্লাইন করে। যখন প্রোডাক্ট ডেক্লাইন করে তার আগেই আপনাকে নতুন প্রোডাক্ট তৈরি করতে হবে প্রোডাক্টকে রি ব্র্যান্ডিং করে নতুন করতে হবে। 

ডাইভারসিফিকেশন

শুধুমাত্র একটি মার্কেটের জন্য একটি প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকলে হবে না। আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন মার্কেট এক্সপ্লোর করার মাধ্যমে বিভিন্ন মার্কেটের জন্য প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট করে প্রোডাক্ট এবং মার্কেটের ভ্যারিয়েশন নিয়ে আসতে হবে। 

বিজনেস প্রতিযোগীদের সাথে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকুন 

কোন বিজনেস ইউনিক না, প্রতিটি দেশেই মার্কেটে প্রতিযোগী থাকে থাকে প্রতিযোগিতা। আপনার বিজনেস কত ভালো রান করবে সেটি নির্ভর করছে আপনার প্রতিযোগী থেকে আপনি কত দূর এগিয়ে আছেন। নিয়মিতভাবে আপনার প্রতিযোগীদের লক্ষ্য রাখবেন। তাদের এক্টিভিটিস, অফারগুলো বিশ্লেষণ করবেন এবং তার তুলনায় আপনি আরো বেটার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কিভাবে দিতে পারেন সেগুলো নিয়ে পরিকল্পনা করবেন। 

কম্পিটেটর ট্রাকিং এর জন্য কিছু পদ্ধতি রয়েছে, যেমন আপনি কীওয়ার্ড টার্গেট করে তাদেরকে ট্র্যাক করতে পারেন। তাদের নিউজলেটারগুলো সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন। এছাড়া যখনই তারা নতুন কন্টেন পাবলিশ করছে সেটির এলার্টপেতে গুগল এলার্ট ব্যবহার করুন। 

কি ওয়ার্ড ট্র্যাকিং এর জন্য গুগল ট্রেন্ড দারুন উপকারি একটি টুলস। এটি আপনার ট্র্যাক করা কি ওয়ার্ডের জন্য প্রতি সপ্তাহে বা মাসে একটি রিপোর্ট ইমেইল আকারে আপনাকে দেয়। 

পরিশেষে

বিজনেসে কাঙ্খিত ফলাফল পেতে চাইলে আপনাকে প্রতিনিয়ত ইন্ডাস্ট্রি ট্রেন্ড বিষয়ে আপডেট থাকতে হবে, পরীক্ষা করতে হবে একই সাথে আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ মার্কেটিং হ্যাকসগুলোর সঠিক প্রয়োগ করতে জানতে হবে। তবেই আপনি প্রতিযোগিতায় সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। 

কিভাবে আপনার বিজনেস পেজের জন্য কার্যকরী ফেসবুক কনটেস্ট আয়োজন করবেন

কিভাবে আপনার বিজনেস পেজের জন্য কার্যকরী ফেসবুক কনটেস্ট আয়োজন করবেন

একটি কার্যকরী ফেসবুক কনটেস্ট আপনার ফেসবুক ব্র্যান্ড পেজকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ফেসবুক মার্কেটিং স্ট্রাটেজির একটি গুরুত্বপূর্ণ এলিমেন্ট হচ্ছে “এনগেজমেন্ট”। আপনি যত বেশি এনগেজমেন্ট তৈরি করতে পারবেন, তত বেশি মানুষের কাছে আপনার ফেসবুক পেজটি রিচ করতে সক্ষম হবে। 

ফেসবুকে এঙ্গেজমেন্ট ক্রিয়েট করার জন্য আমরা অনেক ধরনের কৌশল ব্যবহার করি। তার মধ্যে অন্যতম একটি কৌশল হচ্ছে “ফেসবুক কনটেস্ট”। 

ফেসবুকে এনগেজমেন্ট বাড়াতে হলে অডিয়েন্সদের স্বেচ্ছায় আপনার পোস্টের সাথে এঙ্গেজ করতে হবে। আর সেজন্য ফেসবুক কনটেস্ট দারুণরকম কার্যকরী একটি পদ্ধতি। আপনাকে শুধু টার্গেট অডিয়েন্সদের দিকে এমন একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিতে হবে যাতে তারা উত্তর দিতে ইচ্ছে পোষণ করে। 

অথবা এমন কিছু কন্টেন্ট অফার করতে হবে যা তারা পছন্দ করবে ব্যবহার করতে। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির মধ্য একটি হচ্ছে নিজের স্কিল বা দক্ষতা সবাইকে জানান দেবার প্রবনতা। আপনাকে শুধু তার সেই প্রবৃত্তিকে নাড়া দিতে হবে। 

আর যখনই তারা উত্তর দিবে বা যুক্ত হবে তখনই ফেসবুকের এনগেজমেন্ট ও রিচ বাড়বে। কিন্তু এই কাজটি করতে গিয়ে আমরা এলোমেলো হয়ে যায়। বুঝে উঠতে পারি না কিভাবে “ফেসবুক কনটেস্ট” রান করবো।  

আজকে জানাবো step-by-step কিভাবে আপনি ব্র্যান্ড পেজের জন্য সফল ভাবে একটি সোশ্যাল মিডিয়া কনটেস্ট আয়োজন করবেন। 

প্রথম স্টেপঃ লক্ষ্য নির্ধারণ

আপনাকে প্রথমেই স্থির করতে হবে আপনি ফেসবুক কনটেস্ট থেকে কি অর্জন করতে চান? নিজেকে প্রশ্ন করুন,

  • আপনি কি পেজের লাইক সংখ্যা বাড়াতে চান?  
  • আপনি কি সেল নিয়ে আসতে চান?  
  • আপনি কি পেজের এনগেজমেন্ট লেভেলবাড়াতে চান?

আপনার চাওয়ার ওপর নির্ভর করেই সেট করতে হবে কনটেস্ট এর ধরন।

লাইক বাড়াতে চাইলে,

আপনি চাচ্ছেন আপনার পেজ লাইকের পরিমাণ বাড়াতে, সেক্ষেত্রে আপনি অনলাইন গেমের ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে করে অডিয়েন্স গেমের মাধ্যমে বিনোদন পাবে ও পরবর্তী সময়ের জন্য পেজটি লাইক করে রাখবে। অনেকে বন্ধুদের সাথে নিয়ে গেম খেলার জন্য অপরকে রেফার করবে। 

সেল বাড়াতে চাইলে

কাস্টমারদের আপনার বিজনেস সম্পর্কে, প্রোডাক্ট সম্পর্কে মতামত দিতে বলুন। তাদের চাওয়া, তাদের আকাঙ্খার কথা প্রকাশ করতে বলুন। তাদের পরামর্শগুলো অনলাইন ফর্ম এর মাধ্যমে সংগ্রহ করুন। অর্থাৎ একটি অনলাইন সার্ভে পরিচালনা করুন।  

আপনার প্রোডাক্ট এর ধরন অনুযায়ী তাদের সেই প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং ফিউচারে কি ধরনের প্রোডাক্ট তারা চায় সে বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চান। আপনার সার্ভে ফর্মটি ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত করে রাখুন। 

ফাইনালি তারা যখন পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবে তখন তাদের সরাসরি ওয়েবসাইটে নিয়ে যান।যখন তারা আপনার ওয়েবসাইটে ল্যান্ড করবে ফেসবুক চালানোর সময় ফেসবুক পিক্সেল ব্যবহার করে সহজেই তাদেরকে রি-টার্গেট করতে পারবেন। এটি আপনার সেল বাড়ানোর জন্য পটেনশিয়াল কাস্টমার খুঁজে পাবার একটি সহায়ক কৌশল।

এনগেজমেন্ট লেভেল ইমপ্রুভ করার জন্য

সাধারণত কনটেস্টে কাস্টমারদের একশন নিতে হয় অর্থাৎ পেজ বা পোস্ট লাইক করতে হয়, কমেন্ট করে প্রশ্নের উত্তর বা মতামত দিতে হয়। আর যখনই তারা এটি করে তখন ফেসবুকে তারা এঙ্গেজ হয়ে যায়।  যত বেশি কমেন্ট হবে, লাইক করবে, ততো বেশি এঙ্গেজমেন্ট বাড়বে। বোনাস পয়েন্ট হলো, তাদের পরবর্তী সময়ে রি টার্গেট করতে পারবেন। 

ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট

ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট তৈরি করার বিষয়টি মাথায় নিয়ে কনটেস্ট তৈরি করলে এটি বেশি লাভজনক হবে। কাস্টমারদের বলুন প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে তাদের টেস্টিমোনিয়াল অথবা রিভিউ পোস্ট করতে। প্রত্যেকে যখন প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ বা টেস্টিমোনিয়াল শেয়ার করবেন তখন ফেসবুকের এঙ্গেজমেন্ট লেভেল অটোমেটিক ভাবে বেড়ে যাবে। একই সাথে বাড়বে অর্গানিক রিচের পরিমাণ। 

স্টেপ ২ঃ সৃষ্টিশীল হোন, একটু চিন্তা করুন

যখন আপনি প্রতিযোগিতার আয়োজন করছেন তখন আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে। আপনার গ্রাফিক কনটেন্টগুলো যত বেশি ব্র্যান্ডেড এবং ইউনিক হবে তত বেশি মানুষ তাতে ইন্টারেক্ট করবে। তাই কনটেস্ট এর থিম নিয়ে প্ল্যান করুন। এমন একটি থিম তৈরি করুন যা দৃষ্টি নন্দন ও সৃষ্টিশীল এবং মানুষ সেটিকে মনে রাখতে পারে। 

নিচের ছবিতি খেয়াল করুন,  কি বিষয়ে কনটেস্ট ছবি দেখে সেটি পরিস্কার ভাবে বোঝা যায়।

 

 

স্টেপ ৩ঃ পুরস্কার নির্ধারণ করুন

কনটেস্টের জন্য পুরস্কার প্রদান করুন। বিনা কারণে কেউ আপনার কনটেস্ট এর সাথে যুক্ত হবে না। যদি কনটেস্টের বিজয়ীর জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন তবে সেটি পাবার আশায় অডিয়েন্স উৎসাহী হবে অংশ নিতে।  

স্টেপ ৪ঃ ফেসবুকে অ্যাড দিন

শুধু কি কনটেস্ট করলেই হবে, এটি প্রচার না করলে কিভাবে মানুষ জানবে। কনটেস্ট যাদের জন্য তৈরি করেছেন তাদেরকে টার্গেট করে ফেসবুকে অ্যাড দিন। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যাড চালু রাখুন। 

স্টেপ ৫ঃ বিজয়ী ঘোষণা ও পুরুস্কার প্রদান

এবারে বিজয়ীকে পুরুস্কার দিন। সেটি আপনার পেজে শেয়ার করুন। পুরুস্কার সব সময় আনন্দের মর্যাদার তাই বিজয়ী নিজে থেকেই সেটি আরো অনেকের সাথে শেয়ার করবে। এতে যেমন এঙ্গেজমেন্ট বাড়বে একই সাথে পেজের প্রতি অডিয়েন্সদের আস্থা তৈরি হবে।

 

স্টেপ ৬ঃ ফলাফল পরীক্ষা করুন

শুধুমাত্র কনটেস্ট পরিচালনা করলেই হবেনা আপনাকে জানতে হবে কনটেস্ট থেকে আপনার অর্জন কি। একটি কনটেস্ট শেষ হওয়ার পরে কতগুলো পেজ লাইক এসেছে, পোস্ট এঙ্গেজমেন্ট হয়েছে, পেজ ক্লিক হয়েছে, টপ পোস্ট কোনগুলো ছিল এসব বিষয় পরিষ্কার ভাবে জানতে হবে।

পরিশেষে

ফেসবুক  কনটেস্ট এর মূল উদ্দেশ্য ফেসবুক পেইজের এঙ্গেজমেন্ট এবং রিচ বাড়িয়ে তোলার মাধ্যমে সেল হবার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ কাস্টমারদেরকে এঙ্গেজ রাখা।  

আর সেজন্য আপনাকে প্রতিবার কনটেস্টের শেষে রেজাল্ট পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি কনটেস্ট সফল না হয় তবে কনটেস্ট এর ধরন চেঞ্জ করতে হবে, গ্রাফিক্স চেঞ্জ করতে হবে অথবা পুরস্কার নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে হবে।  

সবসময় মনে রাখবেন এমন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ যা অডিয়েন্সদের চিন্তার বিকাশ ঘটাবে এবং একই সাথে সে পুরস্কৃত হবে। 

আরো পরুনঃ

মার্কেটিং কমান্ডমেন্টস: বিজনেস পরিচালনার ঠিক বেঠিকের আদ্যোপান্ত

মার্কেটিং কমান্ডমেন্টস: বিজনেস পরিচালনার ঠিক বেঠিকের আদ্যোপান্ত

মার্কেটিং কমান্ডমেন্টস: বিজনেস পরিচালনার ঠিক বেঠিকের আদ্যোপান্ত

সেরা মার্কেটিং কমান্ডমেন্টস কোনগুলো? বিজনেসে কিভাবে সফল হবেন সে বিষয়ে অনলাইনে হাজারো উপদেশ রয়েছে, যা আমাদের সফল বিজনেস পরিচালনায় উৎসাহ যোগায়। কিন্তু কোন গুনে একজন মানুষ সফল বিজনেস পরিচালনার মহানায়ক হয়ে উঠে সে বিষয়ে কেউ বলে না। এটি তার পক্ষে বলা অসম্ভব, যদি না সে নিজেই সফলতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। 

আজ আপনাদের শোনাবো একজন সফল ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির প্রধান কর্মকর্তার “মার্কেটিং” বিষয়ে নিজ অভিজ্ঞতার কথা। এটি কোন উপদেশ নয়, এটি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল বিক্রয় ও বিপণন জগতে একজন মানুষের সফল হবার মূলমন্ত্র।

আপনি যদি তার উপলব্ধিগুলো নিজ বিজনেস পরিচালনায় ব্যবহার করতে সক্ষম হন, তবে নিশ্চিতভাবে আপনাকে পিছনে ফিরে দেখতে হবে না। বদলে যাবে বিজনেসের গতিপথ। উন্মোচিত হবে এমন এক সম্ভবনাময় দিগন্ত যা আপনাকে দিগ্বিজয়ী উদ্যোক্তার খ্যাতি এনে দিবে।   

Ryan deiss – যিনি একই সাথে একজন উদ্যোক্তা, লেখক এবং বিনিয়োগকারী। শার্ক ট্যাঙ্ক তারকা “ডায়মন্ড জন” তার বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেছিলেন “তাঁর কোম্পানিগুলো ইন্টারনেট দুনিয়ার মালিক।” কি ছিলো তার উপলব্ধিগুলো আসুন জানি, 

০১.

প্রথমে বিজনেসের রেভিনিউ অর্জন করা জরুরি তারপর ব্র্যান্ড তৈরি করুন।

যদিও “ব্র্যান্ড” বিজনেসের জন্য অপরিহার্য কিন্তু আপনার প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই সেলস হতে হবে। বিজনেসের সেলস আনতে গিয়ে যদি ব্র্যান্ড তৈরিকে বিসর্জন দেন, তবে পরবর্তী সময়ে সেটি আবার পুনুরদ্ধার করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু আপনি ব্র্যান্ড তৈরি করতে গিয়ে যদি বিজনেসের সেলস বিসর্জন দেন তাহলে সব আশা হারিয়ে ফেলবেন। 

০২.

বিজনেসের জন্য অফার তৈরি করুন, শ্লোগান নয়।

শ্লোগান হয়তো আপনাকে সৃজনশীল কাজের জন্য পুরুস্কার জেতাবে, কিন্তু সেটি আপনার সেলস এনে দিবে না। সেরা মার্কেটিং সেটাই যা টার্গেট অডিয়েন্সকে অ্যাকশন নিতে উৎসাহিত করে। এটি কেবলমাত্র মানুষকে বিনোদন দেয় না। যাদের অ্যাড শুধুমাত্র কাস্টমারদের বিনোদন দিয়ে থাকে কিন্তু সেলস নাম্বার বাড়াতে কাজে আসে না, তাদের জন্য মার্কেটিং এর দুনিয়ায় রয়েছে দূর্দশা। 

০৩.

বিজনেস ডাটার সাথে বুদ্ধিমত্তাকে ব্যালেন্স করুন।

১০ দিনের মধ্যে ৯ দিন বিজনেস ডাটা আপনাকে বিজয়ী হতে সাহায্য করবে ঠিকই কিন্তু কখনো কখনো আপনার বুদ্ধিমত্তার উপর আপনাকে ভরসা করতে হবে।এমন কিছু করতে হবে যা ডাটা দিয়ে পরিমাপ করা বা কোন নাম্বার দিয়ে ট্র্যাকিং যোগ্য না।

০৪.

কাস্টমার এটেনশন ও অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি করতে খরচ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

পেইড অথবা অর্গানিক… ইনবাউন্ড অথবা আউটবাউন্ড, এটি নিয়ে বিতর্ক করার মানে নেই। এই ধরনের তর্ক বুফে খেতে গিয়ে ডেজারট খাবেন নাকি বিফ সেটি নিয়ে বিতর্ক করার সামিল। যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী মার্কেটিং এর জন্য বাজেট নির্ধারণ করবেন কিন্তু বাজেট থাকতেই হবে।    

০৫. 

কিছু কাস্টমার আপনাকে ছেড়ে যাবে, কিছু কাস্টমার আপনাকে পছন্দ করবে না। এটি সহজ ভাবে নিতে হবে।

আপনার বিজনেসের একজনও “হেটার” থাকবে না এমন কল্পনা অসম্ভব, এ অনেকটা পৃথিবীতে একটিও ধর্মান্ধ বা উগ্রপন্থী মানুষ না থাকার মতো ব্যাপার যা কিনা অসম্ভব বিষয়। গ্রেট মার্কেটিং সেটাই, যেখানে ভালো মন্দের পার্থক্য পরিস্কার হয়ে যায়।

০৬.

আপনাকে সুনির্দিষ্ট হতে হবে।

আপনার যে দাবিটি করছেন সেটি হতে হবে নির্দিষ্ট এবং তা আপনার কন্টেন্ট দ্বারা পরিস্কার ভাবে প্রকাশ করতে হবে। যদি চান সবাই আপনার ব্র্যান্ডকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করুক তবে সেটাই বলুন যা প্রকৃত সত্য। 

০৭.  

সেল হচ্ছে বা  লিড জেনারেট সফল হয়েছে বলে আপনি মার্কেটিং বন্ধ করে দিবেন এমনটি কখনোই করবেন না।

কাস্টমার অর্ডার সম্পন্ন করলেই মার্কেটিং এর কাজ শেষ হয় না।কারো দীর্ঘ প্রেমের পরে প্রিয়তমার সাথে বিয়ে হয়ে গেলে বিয়ের পরে কি তারা রোমান্স করা বন্ধ করে দিবেন?  সেটা নিশ্চয় হতে পারে না । 

০৮. 

বড় আইডিয়াগুলো খুব অল্প কোথায় প্রকাশ করুন।

যেমন, “F=ma” নিউটন তার এই সূত্র দ্বারা বস্তুর ভরবেগের ধারণার ব্যাখ্যা সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করেছেন। যখন আপনার কিছুই বলার থাকে না, অনুগ্রহ করে আপনার যে কিছু একটা বলা দরকার – এই বিষয়ে আপনাকে কনভেন্স করার সুযোগ অন্য কাউকে দিবেন না।

০৯. 

কাস্টমারদের বোঝার সুবিধার্থে আপনি  ইচ্ছেমতো বেশি শব্দ ব্যবহার করতে পারেন। যার চেয়ে বড় আর কিছু নেই কিন্তু সেটি তাদের জন্য খুব বিরক্তিকর হবে। 

১০.

আপনি যা প্রতিজ্ঞা করবেন তার চেয়ে ২-গুন বেশি দেবার চেষ্টা করবেন।

অর্থাৎ প্রতিজ্ঞা করবেন কম কিন্তু ডেলিভারি করবেন তারচেয়ে বেশি। খেয়াল করবেন, আপনার মার্কেটিং কন্টেন্ট যেন কখনোই একটি ব্যাংক চেকের মতো ভাব প্রকাশ না করে, কারন কাস্টমার সেটির বিপরীতে টাকা পাবে না। 

 ১১.

সর্বদা অহেতুক নতুন জিনিস নিতে মাতামাতি করবেন না।

বিক্রেতাদের কখনোই বলবেন না এখন কোন ট্রেন্ড চলছে, কোনটা হট সেলার। শুধু তাদের অবজারভ করুন, দেখুন আপনার কাস্টমার কি আচরণ করছে। 

১২. 

বুদ্ধিদীপ্ত হবার চেয়ে স্পষ্ট হওয়াকে বেছে নিন।

১৩. 

আপনার কাস্টমারদের সাথে কথা বলুন।

যদি তাদের সাথে না কথা বলেন তবে তাদের সম্পর্কে জানবেন কিভাবে? মার্কেটিং অনুমান বা টেস্ট করার বিষয় না। মার্কেটিং হচ্ছে, রিসার্চ,  রিসার্চ,  রিসার্চ, টেস্ট, রিসার্চ,  রিসার্চ,  রিসার্চ, টেস্ট, রিসার্চ, টেস্ট, স্কেল  নিজেকে বিপণনকারী হিসেবে পরিচয় দিতে হলে আবশ্যই কমপক্ষে ২৫ জন কাস্টমারের সাথে আপনাকে সরাসরি কথা বলতে হবে।

১৪.  

আপনার কোনো একটি বিশেষ গুনের কারনে কাস্টমার আপনার সাথে আছে এবং আপনার থেকে কেনাকাটা করছে বলে স্বস্তির ঢেকুর তুলবেন না।

আপনার একটি ভুলে তারা আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে এবং তারা এটিও চিন্তা করবে না যে আপনার একটি বিশেষত্ব আছে। তাই মার্কেটিং কন্টেন্ট লেখার সময় আপনার গ্রাহক ও আগামী দিনের সম্ভবনাময় কাস্টমারদেরকে মাথায় রাখুন।

 

 

১৫. 

“আপনি নিশ্চয় প্রথম দিনেই আপনার প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসবেন না।”

৭০% সময় চিন্তা করুন আপনার কাস্টমারদের কি ম্যাসেজ দিবেন, ২৫% সময় ভাবুন ম্যাসেজগুলো দেবার ক্রমানুসার কি হবে সেটি নিয়ে আর বাকি ৫% সময় দিন টার্গেটিং করতে।আমরা টার্গেটিংকে অনেক বেশি মূল্যায়ন করি। সঠিক ম্যাসেজের জন্য সেরা টার্গেটিং কৌশল হচ্ছে, লক্ষ্যহীন টার্গেট অডিয়েন্সদের টার্গেটিং করে মার্কেটিং ম্যাসেজ দ্বারা ফিল্টার করে খুঁজে বের করা। 

১৬. 

সুপেয় পানি ফুটো পাত্রে সঞ্চয় করা ঠিক না। তাই প্রথমে অফার তৈরি করুন তারপর সেটাকে আরো বর্ধিত করতে কাজ করতে পারেন।

১৭. 

আপনাকে গল্প বলতে হবে।

পরিবর্তনের গল্প বলুন… নিজের বা বিজনেসের পরিচিতি নিয়ে গল্প বলুন… প্রতিযোগীদের থেকে আপনার এগিয়ে যাবার গল্প বলুন। মানুষ কখনোই এমন পদক্ষেপ গ্রহন করে না, যার মধ্যে তারা নিজেকে কল্পনা করতে পারে না। তাই একটি দারুন সম্ভবনার কল্পচিত্র নিজে আঁকুন এর পরে আপনার কাস্টমারদের সেটি আঁকতে উৎসাহিত করুন। যদি আপনি এটি করতে সফল হোন তবে কাস্টমার আপনার কাছে নিজে থেকেই ধরা দিবে। 

১৮. 

মনে রাখবেন মানুষ দুটি জিনিসের মধ্যে যেকোনো একটি কিনে, ১) পরিবর্তন ২) আত্মপরিচয়। তাই আর্ট অফ সেলিং জানতে হবে।

১৯.

আপনাকে নির্ভরযোগ্য হতে হবে। যা আপনি না সেই আচরণ করলে হবে না, সত্যকে প্রকাশ করতে হবে। 

২০.

মানুষকে বিনোদন দিন।

তথ্য দ্বারা কিছু মুহুর্তের জন্য কারও মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়, কিন্তু সেই মনোযোগ স্থায়ী করা যায় বিনোদনের মাধ্যমে।

২১.

মানুষকে মাঝে মাঝে প্রান খুলে হাসতে সাহায্য করুন। সেরা বিপণনকারী সবকিছুর শেষে তার কাস্টমারদের হাসির খোরাক যোগাতে সক্ষম। 

২২.

মাঝে মধ্যে মানুষকে কাঁদানো জরুরি।

মানুষের যা নেই সেটি তাকে উপলব্ধি করতে দিতে হয়। আমাদের অপ্রাপ্তিগুলোই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। 

২৩. 

আপনার কাস্টমারদের অসম্ভব ভালবাসুন।

তাদের সর্বাঙ্গীণ সুখ ও শান্তি কামনা করুন। “সহমর্মিতা” বিপণনের সবচেয়ে মূল্যবান দক্ষতা যেটা কাউকে শেখানো অসম্ভব।

পরিশেষে,

আপনি যদি বিজনেসের মার্কেটিং করতে  ভুল পথে পরিচালিত হন, কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্বদিবেন তা নিয়ে হতাশায় থাকেন অথবা মার্কেটিং দুনিয়ায় রাজত্ব করার পরিকল্পনা করেন তবে উপরের আদেশগুলো পড়ুন, ভাবুন, কাজে লাগান।তবে  আপনি সঠিক পথের সন্ধান পাবেন।

আরো পড়ুনঃ

বিজনেসের উন্নতি পরিমাপ করার গুরুত্বপূর্ণ সাকসেস ম্যাট্রিক্স (Success Metrics) সমূহ 

কাস্টমারের এভারেজ কেনাকাটার পরিমাণ (কাস্টমার ভ্যালু) কিভাবে বাড়াবেন

কাস্টমারের এভারেজ কেনাকাটার পরিমাণ (কাস্টমার ভ্যালু) কিভাবে বাড়াবেন

কাস্টমার ভ্যালু বা কাস্টমারের এভারেজ কেনাকাটার পরিমাণ কিভাবে বাড়াবেন?  অনলাইনে এমন প্রচুর আর্টিকেল রয়েছে যেখানে পরামর্শ দেয়া হয় কিভাবে কাস্টমারদের কেনাকাটার পরিমাণ বৃদ্ধি করবেন।

কিন্তু এত এত পরামর্শের ভিড়ে কোন কৌশলগুলো নিয়ে উদ্যোক্তারা শুরু করবে সেটি বুঝে উঠতে তাদের হিমশিম খেতে হয়।

এটি সব সময় সত্য যে, নতুন কাস্টমারদের কাছে বেশি বেশি বেচাকেনা করার থেকে পুরনো কাস্টমারদের কাছে বেশি পরিমাণ বিক্রি করা সহজ। পুরনো কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করার জন্য মার্কেটিং খরচ তুলনামূলকভাবে কম হয়।

যখনই সর্বনিম্ন মার্কেটিং খরচে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে বেচাকেনা করা সম্ভব হয়, ঠিক তখন বিজনেসে প্রফিট আসে। 

তাই প্রফিটেবল বিজনেসের জন্য কাস্টমারদের বেশি পরিমান কেনাকাটা করা যেমন প্রয়োজন একই সাথে এর বিপরীতে প্রতি কাস্টমারের জন্য মার্কেটিং খরচের পরিমাণ অল্প হতে হবে।

আরো স্পষ্ট করে যদি বলা হয়, তবে একজন কাস্টমারকে আপনি যত বেশি পরিমাণে সিঙ্গেল অর্ডারে কেনাকাটা করাতে পারবেন, তত বেশি আপনি প্রফিট অর্জন করতে পারবেন।

তাহলে সেই সকল কৌশলগুলো কি, যার মাধ্যম দিয়ে খুব সহজেই কাস্টমার ভ্যালু বাড়ানো যায় বা কাস্টমারদের কম সংখ্যক অর্ডারে বেশি পরিমাণ বেচাকেনা করা সম্ভব? 

কাস্টমার ভ্যালু বাড়াতে বান্ডেল অফার

যখনই কোন একটি প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস বাজারজাত  করছেন তখন সিঙ্গেল প্রোডাক্ট কেনাবেচার থেকে চেষ্টা করবেন বান্ডেল আকারে প্রোডাক্টগুলো কাস্টমারদের জন্য বাজারজাত করতে।

এর মূল সুবিধাটি হচ্ছে কাস্টমার যখন কিনবে তখন একটি সিঙ্গেল অর্ডারে আগের তুলনায় বেশি পরিমাণে কিনবে।

ধরুন, আপনি ফ্যাশন ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করেন। তাহলে আপনি যখন আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে বান্ডেল অফার তৈরি করবেন তখন সেটি কেমন হতে পারে?

আপনি যদি সালোয়ার-কামিজ বিক্রি করেন তাহলে, আপনি একই সাথে একটি শাড়ি এবং পাশাপাশি ইনারওয়ার বা আন্ডার গার্মেন্টস সহকারে একটি বান্ডেল তৈরি করতে পারেন।

কারণ একজন সালোয়ার-কামিজের ব্যবহারকারী শাড়ি ও আন্ডার গার্মেন্টস ব্যবহার করে এটি খুবই স্বাভাবিক। ব্যতিক্রম থাকতে পারে তবে তার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে বান্ডেল অফারের জন্য কেন কাস্টমার বেশি টাকা খরচ করে বেশি পরিমাণ প্রোডাক্ট কিনবে?

মনে রাখবেন, আপনি যখন অফার অথবা ডিসকাউন্ট দিচ্ছেন তখন সেটি আপনার কাস্টমারের জন্য সুস্পষ্ট ভাবে লাভজনক হতে হবে, পাশাপাশি এটি আপনার বিজনেসের জন্য প্রফিটেবল হওয়া আবশ্যক।

তাই আপনি যখন কোন একটি সিঙ্গেল প্রোডাক্টে ডিসকাউন্ট দিচ্ছেন এবং যা কাস্টমারের জন্য লাভজনক তখন কাস্টমার আকৃষ্ট হচ্ছে। 

একইভাবে আপনি যখন বান্ডেল অফার তৈরি করে কাস্টমারের জন্য ডিসকাউন্ট দিবেন তখন আরো বেশি পরিমাণ ডিসকাউন্ট দিতে সক্ষম হবেন। পাশাপাশি কাস্টমার বেশি পরিমাণ কেনাকাটায় বেশি লাভবান হচ্ছে  বিষয়টি তারা বুঝবে এবং আনুষঙ্গিক কেনাকাটার জন্য সে আপনার বান্ডেলে থাকা প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট গুলো যখন একসাথে পাবে তখন সে নিঃসন্দেহে আপনার অফারটি বেছে নিবেন।

অর্থাৎ শুধুমাত্র আপনি বান্ডেল অফার করেই নিশ্চিত হতে পারবেন না যে আপনার কাস্টমার বেশি পরিমাণে কিনবে। আপনাকে বান্ডেলের সাথে সাথে অবশ্যই আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট অফার দিতে হবে। তবেই কাস্টমার আপনার বান্ডেল অফারকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করবে।

 

ই-কমার্স শপিং কার্ট ছেড়ে যাওয়া কাস্টমারদের উদ্দেশ্য করে ইমেইল মার্কেটিং

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন হয় একজন কাস্টমার আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের শপিং কার্টে প্রোডাক্ট অ্যাড করার পরে শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা না করেই সাইট ত্যাগ করে।

যখন কেউ একজন আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের শপিং কার্ট পর্যন্ত পৌঁছে গেছে এবং তার পরেও কেনাকাটা সম্পন্ন করেনি, এটি পরিষ্কার ইঙ্গিত বহন করে তার চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ঠিক কী কারণে সে কেনাকাটা সম্পন্ন করেনি সে বিষয়ে আপনি নিশ্চিত নন।

এমন অবস্থায় যে সকল কাস্টমার শপিং কার্টে প্রোডাক্ট অ্যাড করেছে কিন্তু এখনও কেনাকাটা সম্পন্ন করেনি তাদেরকে লক্ষ্য করে ইমেইল সেন্ড করতে পারেন।

সেই কাস্টমার পরবর্তী সময়ে যখনই ইমেইল পাবে এবং দেখবে তার শপিংকার্টে প্রোডাক্ট অ্যাড করা রয়েছে কিন্তু সে কেনাকাটা সম্পন্ন করেনি। তখন তার যদি সত্যিকারের প্রয়োজনীয়তা থাকে তবে সে পুনরায় শপিংকার্ট চেক আউট প্রসেস সম্পন্ন করবে এবং আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে সফলভাবে একটি অর্ডার কমপ্লিট হবে।

অনেক সময় উদ্যোক্তারা প্রশ্ন করেন, কেনাকাটা সম্পন্ন না করেই যে শপিংকার্ট ছেড়ে গেছে  সে পুনরায় কেন কেনাকাটা করবে?

উত্তর সহজ, সবাই যে বিনা কারণে শপিং কার্ট ছেড়ে গেছে বা কেনাকাটা সম্পন্ন করেনি ব্যাপারটা এমন নয়। হতে পারে তার ওয়ালেটে ইন্সাফিশিয়েন্ট ব্যালেন্স ছিল যে কারণে সে কেনাকাটা সম্পন্ন করতে পারেনি। 

হতে পারে তার ক্রেডিট কার্ড সমস্যা করার কারনে কেনাকাটার জন্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল বা কেনাকাটা সম্পন্ন করে নাই  তার ব্যক্তিগত কোন কারণে। 

অতএব পয়সা খরচ করে মার্কেটিং করে একজন কাস্টমার আপনি নিয়ে আসছেন এবং শপিং কার্ট পর্যন্ত সেই কাস্টমার যাচ্ছে। তাহলে কেন আপনি বেচাকেনার একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হতে দিবেন।

দেখা গেছে প্রায় ৬৯.৮০% কাস্টমার শপিংকার্ট চেকআউট প্রসেস সম্পন্ন করার আগেই শপিং কার্ট ছেড়ে যায়। এই জরিপটি বলে দেয় শপিং কার্ট আবান্ডমেন্ট ইমেইল নিঃসন্দেহে ই-কমার্স বিজনেস কাস্টমারদের ফিরিয়ে নিয়ে এসে তাদের কেনাকাটার পরিমাণ বা কাস্টমার ভ্যালু বাড়াতে সহায়ক।

কনটেন্ট এর মাধ্যমে ভাল্যু তৈরি করুন

কোন একজন কাস্টমারের কাছে টাকা চাওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন,  আপনি তাকে কি দিচ্ছেন?  সে কেন আপনার প্রোডাক্ট কেনার জন্য টাকা খরচ করবে?  প্রকৃতপক্ষে কোন উদ্যোক্তা এই প্রশ্নটি নিজেকে করেন না আর যে কারণে তারা কনটেন্টের শক্তি সম্পর্কে একেবারেই অসচেতন। 

একজন কাস্টমার যখন আপনার থেকে কেনাকাটা করছে তখন পরবর্তী কেনাকাটার জন্য তাকে উৎসাহী করতে এমন কিছু ইনফরমেশন তাকে সরবরাহ করুন যা উক্ত প্রোডাক্ট কেনার জন্য তাকে আরো বেশি উৎসাহিত করে।

সাধারনত অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে দেখা যায় গাড়ি বেচার পরেই একজন সেলার সন্তুষ্ট থাকেন না। বরং সেই গাড়ি তাকে কিভাবে দৈনন্দিন রাইডিংয়ে  আরো বেশি উপযোগিতা প্রদান করতে পারে সে বিষয়ে নিয়মিত ভাবে তাকে তথ্য প্রদান করা সাপেক্ষে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করেন। 

যার ফলে একজন কাস্টমার একটি প্রোডাক্টের  ব্যবহার সম্পর্কে আরো বেশি সচেতন হয় এবং পরবর্তী সময়ে যখনই নতুন একটি প্রোডাক্ট কোম্পানি লঞ্চ করে তখন কাস্টমার তাকে নির্দ্বিধায় গ্রহণ করে। কারণ সে জানে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা যথেষ্ট সুন্দর ছিল এবং কাস্টমার সেই প্রতিষ্ঠানের তথ্যগুলোকে গুরুত্বের সাথে বিচার করে।

 

ফলোআপ

এটি সবশেষে স্থান পায় কিন্তু এটি সবার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় একটি কৌশল।

নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময়ে ফলোআপ একজন কাস্টমারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

বর্তমান বাজারে এত বেশি প্রতিযোগিতা যে প্রত্যেকেই তার টার্গেট কাস্টমার কে উদ্দেশ্য করে নানা ধরনের অফার ডিসকাউন্ট এবং ম্যাসেজ দিচ্ছে। ঠিক সেই মুহুর্তে আপনি যদি আপনার কাস্টমারকে আপনার নিজের সম্পর্কে এবং তার প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন করিয়ে দিতে ব্যর্থ হন তবে আপনাকে সে কখনোই গ্রহণ করবেনা।

তাই একজন কাস্টমারের কেনাকাটা পরবর্তী সময়ে অথবা কেনাকাটা সম্পন্ন হওয়ার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন অবস্থায় নিয়মিতভাবে তার সাথে এংগেজ থাকতে হবে। 

কাস্টমারের তথ্য হাতে পাওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় ফলোআপের যে মাধ্যমগুলো রয়েছে, যেমন ইমেইল মার্কেটিং এসএমএস মার্কেটিং অথবা ফোন ফলোআপ সেগুলো নির্দিষ্ট বিরতিতে কাস্টমারদের আচরণ বিশ্লেষণ সাপেক্ষে চালিয়ে যেতে হবে। 

তাহলে আপনার মার্কেটিং এর জন্য ব্যয় করা অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবেন।

এতে করে কাস্টমারদের অর্ডার করার পরিমাণ বাড়তে থাকবে যা নিঃসন্দেহে আপনার বিজনেস প্রফিটেবল করে তুলবে।

পরিশেষে

ঠিক কিভাবে কাস্টমারদের কেনাকাটার পরিমাণ বা কাস্টমার ভ্যালু বাড়াতে হবে সে বিষয়ে আর দ্বিধান্বিত না থেকে উপরে বর্ণিত চারটি প্রক্রিয়াকে আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসের বেচাকেনায় কৌশল হিসেবে ব্যবহার করুন।

সবার জন্য একই ধরনের কৌশল হতে হবে সেটি বাধ্যতামূলক নয় তবে প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসের ধরন ভেদে বিভিন্ন ধরনের বান্ডেল অফার তৈরি করুন। অথবা ইমেইল মার্কেটিং বা কনটেন্ট মার্কেটিং কৌশল তৈরি প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।

পরবর্তী সময়ে এই ধাপগুলোর বাইরে যদি আরও কিছু নতুন প্রক্রিয়া আপনার চিন্তায় আসে তবে সেগুলো আপনি পাশাপাশি গ্রহণ করতে পারেন।

এ প্রক্রিয়াগুলো আপনার কাস্টমারদের এভারেজ অর্ডার কোয়ানটিটি বাড়িয়ে তুলবে। আপনি আপনার কাস্টমারদের কাছে আরো বেশি বেচাকেনা করতে সক্ষম হবেন।

বিজনেসের উন্নতি পরিমাপ করার গুরুত্বপূর্ণ সাকসেস ম্যাট্রিক্স (Success Metrics) সমূহ

বিজনেসের উন্নতি পরিমাপ করার গুরুত্বপূর্ণ সাকসেস ম্যাট্রিক্স (Success Metrics) সমূহ

বিজনেসের উন্নতি পরিমাপ করতে সাকসেস ম্যাট্রিক্স কেন প্রয়োজন জানেন কি?  বিজনেসের একটা বিষয় কমন, সবাই সফল হতে চায়। আপনি যে ধরনের প্রোডাক্ট সেল করেন না কেন, কাস্টমারদের যে ধরনের প্রবলেম সলভ করেন না কেন, প্রতিটি ব্যবসায়ী প্রতিযোগিতায় সবার উপরে নিজেকে রাখতে চায়। 

কিন্তু কিভাবে এটি সম্ভব? 

বেশিরভাগ মানুষ জানে সফলতার অনুভব কেমন কিন্তু এই সফলতার বাস্তব চিত্র দেখতে কেমন? জানেন কি? 

একটি বিজনেসের সফলতা পরিমাপ করার জন্য অনেক ধরনের ম্যাট্রিক্স রয়েছে যেগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু ঠিক কোন ম্যাট্রিক্স গুলো বিজনেস এর সফলতা ধরে রাখতে এবং পরিমাপ করতে ব্যবহার করা হয়?

আজকে জানাবো একটি বিজনেস সফলতা পরিমাপ করার জন্য কোন ম্যাট্রিক্স গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে।

কেন সাকসেস ম্যাট্রিক্স গুরুত্বপূর্ণ

সফল বিজনেস মাত্রই তার প্রতিটি কার্যকলাপ পরিমাপযোগ্য। বিজনেস শুরু করার পর থেকে প্রতিনিয়ত আপনি যখন উন্নতির দিকে যাচ্ছেন, তখন আপনার প্রতিটি এক্টিভিটিস পূর্বে কি ছিল এবং বর্তমানে কোন অবস্থানে আছে সেটি পরিমাপ করা যায়।

আমরা যখন বিজনেস এক্টিভিটিস অথবা সাকসেস ম্যাট্রিক্স গুলো পরিমাপ করি তখন তুলনা করে দেখি পূর্বে এগুলোর সংখ্যা কেমন ছিল এবং পরবর্তীতে এটি পরিবর্তিত হয়ে কোন অবস্থানে রয়েছে।

যদি দেখা যায়, পূর্বের থেকে বর্তমানে কোন একটি ম্যাট্রিক্স নিচের দিকে যাচ্ছে, তবে বুঝতে হবে সেই অংশে আপনি খারাপ করছেন অর্থাৎ আপনাকে সেখানে পজিটিভ পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে।

এখন পূর্বে কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন নিয়ে আসার ফলে বর্তমানে বিজনেস উন্নতির দিকে যাচ্ছে সেই ম্যাট্রিক্স গুলো যদি আপনি খুঁজে বের করতে পারেন এবং সেগুলোকে ক্রমাগতভাবে উপরের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হন তবে আপনার বিজনেস কখনোই ডাউন হবে না। আর এই জন্যই বিজনেস এর সফলতায় তাৎপর্যপূর্ণ এই সাকসেস ম্যাট্রিক্স গুলো অত্যন্ত গুরুত্ব রাখে।

কোন ম্যাট্রিক্স গুলো প্রয়োজনীয়

সত্যি বলতে একটি বিজনেসের  উন্নতির জন্য অনেকগুলো ম্যাট্রিক্স ভূমিকা রাখে। কিছু ম্যাট্রিক্স রয়েছে যেগুলো খুব জেনারেল ভাবে আমরা ব্যবহার করি যা প্রতিদিন বিজনেসের এক্টিভিটিস গুলোকে পরিমাপ করার জন্য প্রয়োজন। আর কিছু ম্যাট্রিক্স রয়েছে যেগুলো প্রতিনিয়ত সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হয়। সেগুলোর উপরেই একটি বিজনেস উত্থান ও পতন নির্ভর করে। তবে প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস বেজড বিজনেস এবং ই-কমার্স বিজনেসের জন্য এই ম্যাট্রিক্স গুলো ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস বেজড বিজনেসের জন্য আমাদের যে ম্যাট্রিক্স ট্র্যাক করতে হয়? 

  • প্রতি মাসের রেভিনিউ
  • প্রতি মাসের সেলস ভলিউম
  • লিড কনভার্শন রেট
  • লিড ক্যান্সলেশন রেট
  • ল্যান্ডিং পেজ কনভার্শন রেট
  • অ্যাভারেজ কস্ট-পার-ক্লিক এবং ক্লিক-টু-রেট

ই-কমার্স এবং রিটেল বিজনেসের জন্য আমাদের যে ম্যাট্রিক্স ট্র্যাক করতে হয়

  • প্রতি মাসের রেভিনিউ
  • প্রতি মাসের সেলস সংখ্যা
  • ইউনিক ভিজিটর
  • এভারেজ অ্যাড কস্ট-পার-ক্লিক এবং ক্লিক-থ্রু-রেট

এই ম্যাট্রিক্স গুলো প্রায় সকল ধরনের বিজনেসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো আপনার বিজনেসের অবস্থা সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র আপনার সামনে তুলে ধরে। 

একটি বিজনেসের আর্থিক উন্নতি কোন দিকে যাচ্ছে সেগুলোর হিসাব নিকাশে পার্থক্য তৈরি করে দেয় এই ম্যাট্রিক্স গুলো। 

প্রতি মাসের রেভিনিউ

এটিপ্রতিটি ব্যবসায়ী তার বিজনেসের রেভিনিউ পরীক্ষা করেন বা পরিমাপ করেন এবং সাধারণত সবাই বিজনেসের রেভিনিউের উপর নির্ভর করে বিজনেসের উন্নতি এবং অবনতির পরিমাপ হিসাব করেন।

আমরা যখন এই ম্যাট্রিক্স গুলো মাসের শেষে পর্যালোচনা করি তখন পুরো মাসের চিত্র আমাদের সামনে ভেসে ওঠে এবং আমরা পরের মাসে কিভাবে আপনার বিজনেসের উন্নতি করতে এই ম্যাট্রিক্সগুলো উপরের দিকে নিতে পারি সে বিষয়ে মনোযোগী হই। 

কিন্তু যদি আমরা প্রতি সপ্তাহের রেভিনিউ ম্যাট্রিক্স গুলো লক্ষ্য করি তবে এই মাসে আমাদের কতটুকু অর্জন করতে হবে সে বিষয়ে অগ্রিম ধারনা পাবো। যদি প্রতি ১৫ দিন পর পর এই ম্যাট্রিক্স গুলো আমরা লক্ষ্য করি তবে পরবর্তী ১৫ দিনে আমাদের টার্গেট এচিভ করার জন্য কি পরিমান সেল করতে হবে সে বিষয়ে আমরা জানতে পারবো। 

তাই এই মেসেজটি যত ছোট ছোট অংশে পরিমাপ করা যায় তত ভালো ভাবে একটি বিজনেস এর গ্রোথ নিয়ে আসার জন্য উদ্যোগী হতে পারবো। 

প্রতি মাসের সেল সংখ্যা

এটিও রেভিনিউ এর মতোই অনেকটা একই রকম ভাবে বিজনেসের গ্রোথ ট্র্যাক করার জন্য পরিমাপ করা হয়।

প্রতিটি সেলস বিজনেসে টাকা নিয়ে আসে, তাই সেল সংখ্যা যত বেশি হবে ততবেশি রেভিনিউ অর্জন হবে।

তাই প্রতি মাসের সেলস সংখ্যা আমাদের হিসাব করতে হবে এবং এই সংখ্যা যত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে পরিমাপ করতে পারবো তত দ্রুততার সাথে পরবর্তী সময়ে বিজনেসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবো। 

ধরুন, একটি বিজনেসের প্রতিদিনের গড় সেল সংখ্যা ৩০ টি। এখন আমরা যদি দেখি কোন একদিন এটি  ১০ টিতে নেমে এসেছে তবে পরবর্তী দিনে এটি আরো বেশি কিভাবে অর্জন করা যায় সেদিকে আমরা মনোযোগী হতে পারবো। 

যদি দেখা যায় প্রতি সপ্তাহে ২১০ টির কম সেল হয় তবে পরবর্তী সপ্তাহে যে কয়টি সেল আমাদের কম হয়েছে সেগুলো পুষিয়ে নেয়ার জন্য আরো বেশি যত্নশীল হতে পারবো। তাই এই ম্যাট্রিক্স এর দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বিশ্লেষণ বিজনেসের ক্রমাগত গ্রোথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এভারেজ অ্যাড কস্ট-পার-ক্লিক এবং ক্লিক-থ্রু-রেট

এই মেসেজগুলো একটি অ্যাড এর কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। এটা থেকে আমরা বুঝতে পারি একজন অডিয়েন্সকে একটি অ্যাড দেখানোর জন্য আমরা কি পরিমাণ টাকা খরচ করছি এবং তারা কতবার অ্যাডগুলো দেখছে এবং অ্যাডের সাথে যুক্ত হচ্ছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর সফলতার জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ম্যাট্রিক্স। 

আমরা যখনই লক্ষ্য করবো অ্যাড কস্ট-পার-ক্লিক ও ক্লিক থ্রু রেট ধীরে ধীরে কমে আসছে, তখন আমাদের বুঝতে হবে আমাদের অ্যাড খরচ বেড়ে যাবে এবং অডিয়েন্সের অ্যাড দেখার এবং অ্যাডের সাথে যুক্ত হওয়ার সংখ্যাও কমে আসবে। অর্থাৎ আমরা সঠিকভাবে বিজনেসের মার্কেটিং করতে ব্যর্থ হচ্ছি।

 

ইউনিক ভিজিটর প্রতি মাসে

একটি বিজনেসের সেল ধরে রাখার জন্য রেগুলার কাস্টমার গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু শুধু রেগুলার কাস্টোমারের কাছে বিক্রি করার অর্থ ধীরে ধীরে সেল হবার পরিমান কমে যাওয়া। একটি মানুষের চাহিদার তৈরি হবার সময়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তাই আমাদেরকে রেগুলার সেলের জন্য রেগুলার কাস্টমার দের পাশাপাশি প্রতিমুহূর্তে ইউনিক ভিজিটরদের ট্র্যাক করতে হবে।

আজকে একটি ই-কমার্স শপে যে সকল ভিজিটর নতুন এসেছে তারা পরবর্তী সময়ে আবার আসবে এমন সম্ভাবনা থেকে যায় যদিও সেই সম্ভবনা অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। তবুও একটি বিজনেস যদি গুরুত্বের সাথে কাস্টমারদের জন্য প্রোডাক্ট ও সার্ভিস এর কোয়ালিটি ধরে রাখে তবে সেই কাস্টমারগুলো বারবার আসতে থাকে।

কিন্তু যখনই ইউনিক ভিজিটর সংখ্যা কমে যাবে তখন বুঝতে হবে আপনার রেগুলার কাস্টমার সংখ্যাও কমে আসবে। তাই আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে এবং প্রতিমাসে কি পরিমাণ নতুন ভিজিটর আছে সেটি ট্র্যাক করা প্রয়োজন। 

লিড কনভার্শন রেট ও লিড ক্যান্সলেশন রেট

এ দুটি ম্যাট্রিক্স আলাদা কিন্তু তাদের প্রত্যেককে একই সাথে ট্র্যাক করতে হয়।

একটি সার্ভিস বেজড ইন্ডাস্ট্রিতে যত বেশি পরিমাণ লিড কনভার্শন রেট হবে তত বেশি সেল হবে এবং ততবেশি রেভিনিউ আসবে।

একইভাবে যে সকল লিড কনভার্ট হচ্ছে না সেগুলো আমাদের ট্র্যাক করতে হবে। আর সেটি না হলে আমাদের সেলস সংখ্যা কমে যাবে এবং এর ফলে রেভিনিউ এর পরিমাণ কমে আসবে। 

পরিশেষে

মনে রাখবেন যে সকল ম্যাট্রিক্স গুলোর কথা বলা হয়েছে এগুলো প্রতিটিী একটি বিজনেস পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রায় সবাই এই ম্যাট্রিক্সগুলোর উপর নির্ভর করে বিজনেসের সফলতা এবং ব্যর্থতার পরিমাপ করেন।

আপনি যখন একটি বিজনেস পরিচালনা করছেন এবং সেটি যদি হয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তবে এমন অনেক পাওয়ারফুল টুলস রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে এই সাকসেস ম্যাট্রিক্স গুলো ট্র্যাক রাখা যায়। 

আপনি যখন প্রতিমুহূর্তে বা নির্দিষ্ট বিরতিতে ম্যাট্রিক্স গুলোর সংখ্যা পরিমাপ করবেন এবং পূর্ববর্তী সময়ের সাথে তুলনা করবেন তখন আপনি পরিষ্কারভাবে ধারণা পাবেন এই মুহূর্তে আপনার বিজনেসর অবস্থা কি। 

এটি আরো বুঝতে সহায়তা করে, কোথায় কোথায় পরিবর্তনগুলো প্রয়োজন আর আপনি যখন সঠিক জায়গায় সঠিক পরিবর্তন গুলো নিয়ে আসতে সক্ষম হবেন তখন আপনার বিজনেস অবশ্যম্ভাবীভাবে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।

এই ম্যাট্রিক্সগুলোর সম্পর্কে এখনই সচেতন হোন এবং ইতিবাচকভাবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করুন। আপনি বিশ্বাস রাখতে পারেন আপনি কখনোই বিফল হবেন না।

আরো পড়ুনঃ

ফেসবুক অ্যাড ফরম্যাট 101 : কত ভাবে ফেসবুকে একটি অ্যাড দেয়া যায়

কাস্টমার অ্যাভাটার ওয়ার্কশিট (উদাহরণ সহ): শনাক্ত করুন বিজনেসের সঠিক কাস্টমার কে?

কাস্টমার অ্যাভাটার ওয়ার্কশিট (উদাহরণ সহ): শনাক্ত করুন বিজনেসের সঠিক কাস্টমার কে?

কাস্টমার অ্যাভাটার কেন বিজনেসের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে যে কথাটি মনে রাখা প্রয়োজন সেটি হলো, 

যদি পৃথিবীর সেরা প্রোডাক্টটি আপনার কাছে থাকে কিন্তু আপনি যদি এটি ভুল ব্যক্তির কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করেন, তবে আপনার সফল হবার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। 

একজন ব্যবসায়ী কি সেল করছেন সেটিকে বেশি ফোকাস করতে গিয়ে ভুলে যান কাদের কাছে সেটি সেল করছেন। আর এটি তার মার্কেটিং ক্যাম্পেইনকে বিফল করে দেয়। 

কার্যকরভাবে যে কোনও কিছু বিক্রি করতে পারার আগে বুঝতে হবে … 

  • আপনার আদর্শ কাস্টমার কে? 
  • তারা অনলাইনে কোথায় সময় কাটায়?  
  • তাদের চ্যালেঞ্জগুলো কি? 

তাহলে কিভাবে আপনি এই প্রশ্নগুলোর সমাধান করবেন? 

চিন্তা করবেন না – এই আর্টিকেলে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। প্রথমত, কাস্টমার অ্যাভাটার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন এটিকে মার্কেটিং এর “সুইস আর্মি নাইফ” হিসাবে উল্লেখ করা হয় সে বিষয়ে বলি। 

মার্কেটিং এর “সুইস আর্মি নাইফ”

ডিজিটাল মার্কেটিং অনেকগুলো আলাদা শাখা নিয়ে গঠিত। যেমনঃ কন্টেন্ট মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, প্রোডাক্ট ক্রিয়েশন, পেইড ট্র্যাফিক,সোশ্যাল মিডিয়া, কপিরাইটিং, আনালিটিক্স ইত্যাদি। 

এই প্রতিটি শাখায় মাস্টার হতে কিছু স্কিল সেট দরকার। 

আপনার  কাস্টমার অ্যাভাটার সঠিকভাবে শনাক্ত করার দক্ষতা এর মধ্যে একটি যা মার্কেটিং এর প্রতিটি শাখার জন্য সমান প্রযোজ্য। এই দক্ষতা আপনার মার্কেটিংকে “সুইস আর্মি নাইফ” করে তোলে। আপনি মার্কেটিং এর প্রতিটি ক্ষেত্রে এটিকে ব্যবহার করতে পারেন।

উদাহরণ স্বরূপ,

কন্টেন্ট মার্কেটিংঃ কাস্টমার অ্যাভাটার আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে কি ধরনের ব্লগ পোস্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি করলে কাস্টমার আকৃষ্ট হবে। 

পেইড ট্র্যাফিকঃ এটি বুঝতে সাহায্য করে যে আপনার কাস্টমার কোন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া বেশি ব্যবহার করে এবং তাদের টার্গেট করতে হলে কোন টার্গেটিং কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। 

কপি রাইটিং: কাস্টমার অ্যাভাটার জানতে সহায়তা করে আপনার দেয়া অফারগুলিকে কিভাবে বর্ণনা করতে হবে যা আপনার সম্ভব্য কাস্টমারদের সমস্যার সাথে কথা বলে এবং তাদের সেই প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কেনার সিধান্ত নিতে প্রভাব বিস্তার করে।

ইমেইল মার্কেটিংঃ বেশি ইমেইলে ওপেন রেট ও কনভার্সন পেতে কাস্টমার অ্যাভাটার সহায়তা করে।কাস্টমার সেগমেন্ট করতে এটি আপনার অডিয়েন্স সম্পর্কে ধারনা দেয়। 

মার্কেটিং এবং সেলস প্রসেস এর মধ্যে  যে সকল অংশে কাস্টমারদের সাথে টাচ পয়েন্ট রয়েছে সেই সব জায়গাতে আপনি আপনার কাস্টমাদের কি অফার করবেন সে বিষয়ে পরিস্কার ভাবে ধারণা পেতে কাস্টমার অ্যাভাটার সহায়তা করে।

যখন আপনি পরিষ্কারভাবে সেসকল মানুষের ক্যারেক্টারিস্টিক সম্পর্কে ধারনা পাবেন যা আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস কিনতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। ঠিক সে সময় সঠিক কাস্টমারদেরকে খুঁজে পাওয়া এবং তাদের সামনে উপযুক্ত মার্কেটিং মেসেজ প্রদান করার মাধ্যমে তাকে ক্লাইন্টে কনভার্ট করা সহজ হবে। 

কাস্টমার অ্যাভাটারের উদাহরণ

এরিক এজেন্সি একটি ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেনিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। তাদেরকে আমরা এখানে উদাহরণ হিসাবে ধরে নিয়ে কাস্টমার অ্যাভাটার তৈরি করার প্রক্রিয়া বিস্তারিত বর্ণনা করার চেষ্টা করবো।

তাহলে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের জন্য সঠিক কাস্টমার কারা? আমরা এখানে চার ধরনের বায়ার পারসোনা নির্ধারণ করেছি। 

মার্কেটিং ফ্রিল্যান্সারঃ যারা ট্রেনিং এবং সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামের ব্যাপারে আগ্রহী। 

মার্কেটিং এজেন্সি ওনারঃ যারা ট্রেনিং এবং সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম গুলোর মাধ্যমে তাদের ডিজিটাল মার্কেটিং দক্ষতাকে আরো বেশি উন্নত করতে চায়।

চাকুরীজীবীঃ যারা ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেনিং এবং সার্টিফিকেশন গুলোর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থানকে আরো শক্ত করতে এবং প্রমোশনের জন্য নিজেকে আরও বেশি দক্ষ করতে ইচ্ছুক। 

ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তাঃ যারা ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেনিং এবং সার্টিফিকেশন গুলোর মাধ্যমে মার্কেটিং স্কিল বাড়িয়ে তুলে তার মার্কেটিং টিম ম্যানেজমেন্টের দক্ষতাকে বাড়াতে চায়। 

এখানে প্রতিটি বায়ার পারসনার জন্য আলাদা আলাদা কাস্টমার অ্যাভাটার তৈরি করা প্রয়োজন। তবে উদাহরণ হিসেবে আমরা শুধুমাত্র মার্কেটিং এজেন্সি ওনারকে  বেছে নিচ্ছি যার নাম দিয়েছি, “এজেন্সি এরিক”

এবার কাস্টমার অ্যাভাটার ওয়ার্কশীট step-by-step আমরা বোঝার চেষ্টা করছি। 

কাস্টমার অ্যাভাটারের মধ্যে কি রয়েছে? একটি কাস্টমার অ্যাভাটারের ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে।

  1. লক্ষ্য উদ্দেশ্য
  2. সোর্স অফ ইনফরমেশন
  3. ডেমোগ্রাফিক ইনফর্মেশন
  4. চ্যালেঞ্জ এবং পেইন পয়েন্ট
  5. অবজেকশন এবং রোলস

কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাস্টমারদের সাথে কথা বলার মাধ্যমে তথ্যগুলো আপনি তুলে নিয়ে আসতে পারেন। আবার আপনি যদি ইতিপূর্বে এ তথ্যগুলো সম্পর্কে অবগত থাকেন তবে একজন কাস্টমারকে আদর্শ হিসেবে বেছে নিয়ে তার ক্যারেক্টারিস্টিক গুলো কে আপনি লিপিবদ্ধ করতে পারেন। 

কাস্টমার সার্ভে করার পরে কাস্টমার অ্যাভাটার তৈরি করবেন সেই আশায় সীমাহীন সময় পর্যন্ত কখনোই বসে থাকবেন না। আপনার কাস্টমার সম্পর্কে আপনার কাছে যে পরিমান তথ্য রয়েছে সেটি দিয়ে শুরু করুন।   

লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য

শুরুতেই বোঝার চেষ্টা করুন আপনার আদর্শ কাস্টমারদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য কি? এজেন্সি এরিকের ক্ষেত্রে তার বিজনেসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। 

আপনার কাস্টমারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসের সামঞ্জস্যতা কোথায়?  সেগুলো নোট রাখুন যা পরবর্তী সময়ে আপনাকে সাহায্য করবে, 

  • নতুন প্রোডাক্ট তৈরিতে
  • কপিরাইটিং এর ক্ষেত্রে
  • কনটেন্ট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে
  • ইমেইল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে

উদাহরণস্বরূপ, এজেন্সি এরিকের কাস্টমার অ্যাভাটারে আমরা দেখতে পাচ্ছি, তারা তাদের টিমের দক্ষতা উন্নয়নে আগ্রহী।  

এখন আমরা যদি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে একটি ইমেইল মার্কেটিং প্রমোশন চালাতে চাই তাহলে সেই ইমেইল এর সাবজেক্ট লাইন হতে পারে এমন, 

আপনার টিম মেম্বারদের কন্টেন্ট মার্কেটিং দক্ষতাকে বাড়াতে আমরা সাহায্য করি 

এবং এই হেডলাইন বা সাবজেক্ট লাইনটি নিঃসন্দেহে এজেন্সি এরিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। 

সোর্স অফ ইনফর্মেশন

কাস্টমার অ্যাভাটারের এই অংশে আপনার কাস্টমার কোথায় অবস্থান করছে সে বিষয়ে জানা যায়।

  • অনলাইনে অথবা অফলাইনে তারা কোথায় বেশি সময় কাটায়? 
  • তারা কি ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে পড়াশোনা করে? 
  • তারা প্রশিক্ষক হিসেবে কাদের কে ফলো করে? 

এই ইনফরমেশন গুলো আপনাকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে সাহায্য করে আপনার কাস্টমারদের আকৃষ্ট করতে হলে বা খুঁজে পেতে হলে অনলাইনের কোথায় কোথায় এড দিতে হবে। 

কাস্টমার অ্যাভাটারের সোর্স অফ ইনফর্মেশন অংশটি পূরণ করার ক্ষেত্রে আপনি যেভাবে লিখতে পারেন,

  • আমার আদর্শ কাস্টমার বই পড়তে ভালোবাসে কিন্তু অন্যরা সেটি পছন্দ করেনা
  • আমার আদর্শ কাস্টমার অনলাইন ম্যাগাজিন সাবস্ক্রাইব করে রেখেছে কিন্তু অন্যরা সেটি করেনি
  • আমার আদর্শ কাস্টমার মার্কেটিং সংক্রান্ত কনফারেন্স গুলো এটেন্ড করে কিন্তু অন্যরা সেটি করে না

আপনার আদর্শ কাস্টমার কোন বইগুলো পড়ে?  

কি ধরনের ম্যাগাজিন বেশি পড়ে?  

কোন ধরনের ব্লগ পড়ে?  

কি ধরনের কনফারেন্স অ্যাটেন্ড করছে?  

তারা কাদের শিক্ষক হিসেবে ফলো করে? 

এ বিষয়গুলো আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে আপনার সার্ভিস সেল করার জন্য সম্ভাব্য যে সকল কাস্টমারকে খুঁজছেন তারাও একই ধরনের বিষয়ে আগ্রহী। 

উদাহরণস্বরূপ ধরুন, আপনি বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ রাখেন।  সে ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আপনি আগ্রহী হবেন। 

যদি আরো নিস অডিয়েন্স খুঁজে পেতে চাই তবে আপনাকে এমন একজন সেরা বিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টারকে খুঁজে বের করতে হবে যাকে এভারেজ বিজ্ঞান প্রেমী মানুষ চেনে না।

কোয়ান্টাম থিউরির কথা বলা হলে সবার প্রথমে আইনস্টাইনের নাম মনে আসে কিন্তু সমসাময়িক সময়ে এই থিউরি নিয়ে গবেষণা করছেন এর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী হলেন “অ্যালাইন অ্যাস্পেক্ট”

তাই আপনি যদি বিজ্ঞান বিষয়ে নিস অডিয়েন্স খুঁজে পেতে চান তবে অ্যালাইন অ্যাস্পেক্ট বিষয়ে জানে এদের খুঁজে বের করুন। 

যখন ফেসবুকের মত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আমরা এড দিচ্ছি তখন যত স্পেসিফিক নিস অডিয়েন্স টার্গেট করতে পারবো, ততো বেশি সঠিক কাস্টমারের কাছে পৌঁছানো যাবে এবং সঠিক কাস্টমারদের কাছে পৌঁছতে নিস অডিয়েন্সের টার্গেট ইন্টারেস্ট গুলো আমাদেরকে সঠিক কৌশল বেছে নিতে সাহায্য করবে।

 

 

ডেমোগ্রাফিক ইনফর্মেশন

আপনার টার্গেট অডিয়েন্সের ডেমোগ্রাফিক ইনফর্মেশন যেমনঃ তাদের বয়স, লিঙ্গ, ম্যারিটাল স্ট্যাটাস, ইনকাম রেঞ্জ, জব টাইটেল, ইত্যাদি ইনফর্মেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে এড দেওয়ার সময় ইন্টারেস্ট টার্গেটিং করতে এই ইনফর্মেশন গুলো সহায়তা করে। 

এখন “এজেন্সি এরিক” যদি চায় এমন মানুষের কাছে তার ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স গুলো বিক্রি করবে যাদের বার্ষিক ইনকাম দশ লক্ষ টাকার উপরে তাহলে টার্গেটিং অপশন গুলোকে আরো বেশি ন্যারো ডাউন করার ক্ষেত্রে সেই ডেমোগ্রাফিক ইনফরমেশনগুলো কে ব্যবহার করা যেতে পারে। 

কন্টেন্ট তৈরির সময় কাস্টমারদের ডেমোগ্রাফিক ইনফরমেশন গুলো আরো সুচারুভাবে তথ্যগুলোর উপস্থাপন এবং তাদের সাথে কন্টেন্টের কমিউনিকেশনে সাহায্য করে।

চ্যালেঞ্জ এবং পেইন্ট পয়েন্ট

আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসগুলো তাদের কোন কোন সমস্যা গুলোর সমাধান করে দেয়? 

আপনি যখন জানবেন আপনার সম্ভাব্য কাস্টমারের চ্যালেঞ্জগুলো কি? তাদের পেইন পয়েন্ট গুলো কি?  তখন আপনার এড কপিগুলো তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তৈরি করতে পারবেন।  

উদাহরণ স্বরূপ, “এজেন্সি এরিক” যদি তার কাস্টমারদের পেইন্ট পয়েন্টগুলো মাথায় রেখে অ্যাড কপি ডিজাইন করে তাহলে তারা কি বলবে?  দেখুন,

আপনার বিজনেস কি কাস্টমারদের জন্য কনটেন্ট মার্কেটিং অফার করে না?  এই কারণে আপনি কি কাস্টমার হারাচ্ছেন? তাহলে শিখুন কিভাবে কনটেন্ট মার্কেটিং করতে হয়। 

এ কোর্সের মাধ্যমে আপনি আপনার কাস্টমারের জন্য কনটেন্ট মার্কেটিং সার্ভিস প্রদান করতে পারবেন, যা আপনার কাস্টমারদের ধরে রাখতে সাহায্য করবে। 

অথবা সে বলতে পারে, 

কন্টাক্ট মার্কেটিং বিষয়ে আপনার ক্রিয়েটিভ টিম কি ভালো করছে না ? তাহলে এখুনি সাইন আপ করুন আমাদের কন্টেন্ট মার্কেটিং ট্রেনিং কোর্স এবং লেটেস্ট মার্কেটিং স্ট্রাটেজি সম্পর্কে আপডেট থাকুন। 

এ ধরনের মার্কেটিং মেসেজ নিঃসন্দেহে এজেন্সি এরিকের নজরে আসবে, কারণ তারা এই সমস্যার মোকাবেলা করছে এবং তাদের মতো আরো যে সকল এজেন্সি রয়েছে যারা ডিজিটাল মার্কেটিং সার্ভিস প্রদান করছে এবং কন্টেন্ট মার্কেটিং এ দক্ষতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহী  তারাও নিশ্চিতভাবে এই মেসেজগুলো দেখে আগ্রহী হবে। 

অবজেকশনস এবং রোল

সবশেষে কেন আপনার কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কিনছে না?  সে বিষয়গুলোকে এখানে অবজেকশন বলা হচ্ছে। 

আপনি যদি জেনে থাকেন এজেন্সি এরিক তার টিম মেম্বারদের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেনিং করাতে বেশি পরিমাণ সময় খরচ করতে চান না তাহলে আপনার লেখা সাবজেক্ট লাইনটি হতে পারে এমন, 

মাত্র ১ দিনে সম্পন্ন করুন কনটেন্ট মার্কেটিং এর উপর বিশেষ শর্ট কোর্স

এখানে “একদিন” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে যেহেতু এজেন্সি এরিক তার এমপ্লয়ীদের বেশি সময় তাঁর কাজের বাইরে রাখতে চায় না সেক্ষেত্রে এই “এক দিনের ট্রেনিং প্রোগ্রাম” শব্দটি তাকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। 

আপনাকে আরো নির্ধারণ করতে হবে প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কেনার ক্ষেত্রে আপনার কাস্টমার অ্যাভাটারের রোল কি? 

  • তারা কি প্রাইমারি ডিসিশন মেকার
  • অথবা তারা শুধু মাত্র ডিসিশন নিতে প্রভাবকের কাজ করে 

আপনার কাস্টমার আবার যদি প্রাইমারি ডিসিশন মেকার হয়ে থাকে, তাহলে আপনার মার্কেটিং এর ম্যাসেজের ভয়েস টোন  হবে এমন যা তার সাথে সরাসরি কথা বলে।

আর যদি তারা শুধু মাত্র ডিসিশন নিতে প্রভাবকের কাজ করে তবে আপনি যাকে এই সার্ভিস নিতে উৎসাহিত করুন বা ভিন্ন কৌশল বেছে নিন যেন সে আপনার সার্ভিসকে সঠিক বলে মনে করে। 

পরিশেষে

শুধুমাত্র একটি কাস্টমার অ্যাভাটার তৈরি করে থেমে গেলে চলবে না। একের অধিক আদর্শ কাস্টমারদের ক্যারেক্টারিস্টিক গুলো নিয়ে আপনাকে কয়েকটি কাস্টমার অ্যাভাটার তৈরি করতে হবে। 

একের অধিক কাস্টমার অ্যাভাটার গুলো নিয়ে আপনি ভিন্ন ভিন্ন কাস্টমার সেগমেন্ট তৈরি করবেন।

প্রতিটি কাস্টমার সেগমেন্টের জন্য লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ইনফর্মেশন সোর্স, পেইন পয়েন্ট এবং অবজেকশন ও রোল উল্লেখ করতে হবে।

এবারে আপনি আপনার বিজনেসের মার্কেটিং এর জন্য নির্ভয় এগিয়ে যান।  কারণ এখন আপনি জানেন ঠিক কোন কাস্টমারের কাছে আপনি আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সেল করতে যাচ্ছেন। আপনি এটিও জানেন কি বললে তারা আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কিনবে। 

হতে পারে একটি কাস্টমার সেগমেন্ট থেকে ভালো সেল আসেনি কিন্তু অন্য কাস্টমার সেগমেন্ট সেই কমতি পূরণ করে দিতে পারে। ফলে আর আপনি কখনোই ব্যবসায় লস করবেন না।

আরো পড়ুনঃ

কিভাবে ‘অফার’ ডিজাইন করবেন যা কাস্টমার গ্রহণ না করে পারবে না

কিভাবে ‘অফার’ ডিজাইন করবেন যা কাস্টমার গ্রহণ না করে পারবে না

কিভাবে ‘অফার’ ডিজাইন করবেন যা কাস্টমার গ্রহণ না করে পারবে না

ব্ল্যাক ফ্রাইডের দিনে আমেরিকায় একজন কাস্টমার শুধুমাত্র অফার পেয়ে কেনাকাটা করার জন্য ২.৫ ঘণ্টা লাইনে দাড়িয়ে থাকে। আপনি কি কখনো এতো সময় কেনাকাটার জন্য লাইনে দাড়িয়েছেন?  শুনে অবাক হলেও সত্য একটি দুর্দান্ত অফার মানুষকে এতোটাই আগ্রহী করে তুলতে পারে। 

শুধুমাত্র অফার পাবার কারণে আমেরিকার ৬০% মানুষ তাদের সারা মাসের বেতনের ৮০% টাকা খরচ করে  কেনাকাটায়।

সুতরাং অফার সেল নিয়ে আসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই অফারটি কি যা আপনার শপের স্টক একেবারে খালি করে দিতে পারে?   

আমাদের দেশে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা যে অফারগুলো কাস্টমারদের প্রদান করি, সেগুলো তেমন পরিমান সেল নিয়ে আসতে পারে না। কারন আমাদের দেয়া অফার কাস্টমারদের চাহিদাকে বোঝে না। 

অফার কি?

অফার হলো এমন একটি প্রস্তাব যা বিক্রয় কার্যক্রমকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং ক্রেতাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এটি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন:

  • ডিসকাউন্ট (ছাড়) – নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বা শতাংশ কমানো।
  • বাই ওয়ান গেট ওয়ান (BOGO) – একটি কিনলে আরেকটি ফ্রি।
  • লিমিটেড টাইম ডিল – নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষ মূল্যছাড়।
  • এক্সক্লুসিভ মেম্বারশিপ অফার – শুধুমাত্র নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা।

অফার দেবার আগে আমাদের জানতে যা জানতে হবে

  • কোনটি অফার এবং কোনটি অফার না  
  • অফার কেন একজন কাস্টমারের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়
  • কাস্টমারদের দ্রুত কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেয়াতে কীভাবে একটি অফার ডিজাইন করবেন   
  • কার্যকর অফার তৈরির পদ্ধতি ও সেটি কিভাবে অপ্টিমাইজ করতে হয়

কোনটি অফার এবং কোনটি অফার না কিভাবে বুঝবেন?

আপনি যা সেল করছেন এটি আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস এটি অফার নয়। আপনার প্রোডাক্টটি শুধুমাত্র একটি প্রোডাক্ট। অফার হচ্ছে সেই প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সেল করার অনন্য উপায়।

প্রতিটি আলাদা কাস্টমার সেগমেন্টের জন্য আপনার দেওয়া প্রতিটি প্রোডাক্ট ও সার্ভিস অফার আলাদা হতে পারে, অথবা একাধিক অফারের অংশ হতে পারে। 

সচেতন থাকুন, আপনার কাস্টমারদের জন্য দেয়া অফারটি তৈরি করার জন্য সীমাহীন উপায় রয়েছে। এই উপায় কখনো সহজ কখনোবা জটিল কম্বিনেশনে তৈরি হতে পারে। কখনো শর্ট টাইমে সেল নিয়ে আসতে কখনোবা দীর্ঘমেয়াদে সেল নিয়ে আসার জন্য তৈরি হতে পারে।  

যদিও অফার তৈরি করার সময় কোন অফারটি কাজ করবে সেটি আগে থেকে জানার উপায় নেই। তার জন্য, আপনাকে  এটি পরীক্ষা করতে হবে।

যদি কাস্টমারদের সঠিক অফার সঠিক সময়ে দিতে পারেন, তবে বেচাকেনায় যে পরিবর্তন আসে তা রাত দিনের পার্থক্য তৈরি করে। 

বিফোর এবং আফটার  গ্রিড

একজন কাস্টমার আপনার বিজনেসের সাথে যুক্ত হবার পূর্বে কি অবস্থায় ছিল এবং আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নেবার পরে তার পরিবর্তিত অবস্থা বা অভিজ্ঞতা কি রকম? এই বিষয়টা জানা ও চিত্রায়ন করা প্রয়োজন। কিন্তু কেন?  

বিষয়টি বোঝার সুবিধার্থে বিফোর এবং আফটার গ্রিড চিত্রটি নিচে দেওয়া হয়েছে খেয়াল করুন, প্রয়োজনে এটি সেভ করে রাখুন।

ছবি সংগ্রহীতঃ DigitalMarketer.com 

এখানে তিনটি আলাদা কলাম রয়েছে। 

প্রথম কলাম বিফোর গ্রিডঃ 

একজন কাস্টমার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কেনার আগের অবস্থা উল্লেখ করতে হবে। তার সমস্যা ও অভিজ্ঞতা এখানে লিপিবদ্ধ করতে হবে।  

তৃতীয় কলাম বা একেবারে ডান দিকের কলাম আফটার গ্রিডঃ 

যখন সে একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ব্যবহার করলো তখন  তার অভিজ্ঞতা কি এখানে উল্লেখ করতে হবে। আফটার গ্রিডে কাস্টমারের সমস্যার সমাধানের ফলে ইতিবাচক অভিজ্ঞতাগুলো তুলে নিয়ে আসতে হবে।   

মাঝের কলামে কাস্টমারদের প্রাপ্ত তথ্য থেকে তাকে কোন ক্যাটাগরিতে রাখবো, তার ডেমোগ্রাফিক বৈশিষ্ট্যগুলো কি বের করে সেটি লিপিবদ্ধ করতে হবে। যা একই ধরনের অন্য কাস্টমারদের আচরণগত ও অভিজ্ঞতালব্ধ বৈশিষ্ট্য গুলো সম্পর্কে জানতে ও প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে তার অবস্থান নির্ণয় করতে সাহায্য করবে।  

পূর্বে  যে বিষয়গুলো নিয়ে সে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল এবং পরবর্তী পর্যায়ে যখন প্রোডাক্ট বা সার্ভিসটি গ্রহণ করল তখন তার যে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হলো এর মাঝে কোন বিষয়গুলো প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে? এটি জানার মাধ্যমে কাস্টমারদের সম্পর্কে আরো স্পষ্ট তথ্য নিশ্চিত করা মূল লক্ষ্য। 

কেন কাস্টমারদের এই পরিবর্তনজনিত প্রভাবকগুলো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন? 

"প্রকৃতপক্ষে একজন কাস্টমার একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কেনে না, মূলত সে কেনে পরিবর্তন।"

কোনো একটি অবস্থায় কাস্টমার যখন নিয়মিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল এবং তা থেকে মুক্তির উপায় খোঁজ করছিলো, তখন যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস তাকে সেই সমস্যার সমাধান দিয়েছে  তা প্রকৃত অর্থে তার নেতিবাচক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ইতিবাচক দিকে নিয়ে গেছে। 

অর্থাৎ কাস্টমার প্রোডাক্ট কিনছে না, সে কিনছে পরিবর্তিত ইতিবাচক অবস্থা।

আপনি যখন একজন কাস্টমারের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ব্যবহারের পূর্বের নেতিবাচক অবস্থা এবং প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ব্যবহারের পরের অবস্থা সম্পর্কে জানবেন তখন পরিস্কার ভাবে বুঝবেন কোন ধরনের অবস্থায় কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে ও তাদের সেগমেন্ট কি।  

এখানে সেগমেন্ট বলতে বোঝানো হয়েছে কাস্টমারকে সেই বৈশিষ্ট্যগুলো যা তাদের টার্গেট করার জন্য জানা আবশ্যক।  একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিস্কার হয়।

ধরুন একজন কাস্টমার তার বাচ্চার জন্য বাথট্যাব কিনতে চাচ্ছে। কিন্তু সে প্রকৃতপক্ষে কিনতে চাচ্ছে তার বাচ্চার গোসলের নিরাপদ সমাধান। 

পূর্বের বাথটাবে তার বাচ্চার অস্বস্তি বোধ করতো। বাথট্যাব অনেক শক্ত হবার ফলে বাচ্চার অনেক কষ্ট হতো।  বাথট্যাবের প্লাস্টিক কোয়ালিটি খুব ভাল না হবার ফলে সেটি ফুটো হয়ে যেতো। কাস্টমার এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য এমন একটি সমাধান খোঁজ করছিলো যা তার বাচ্চার গোসল কে আরো আরামদায়ক করবে সাথে অনেক দিন সেই বাথট্যাব ব্যবহার করতে পারবে।

এবার যখন সেই কাস্টমার বাথট্যাব কিনলো এবং তার পূর্বের নেতিবাচক অভিজ্ঞতাগুলো বা সমস্যাগুলো  সমাধান হলো তখন সে আনন্দিত হলো।  তাহলে এই কাস্টমারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো রয়েছে আপনার ভবিষ্যৎ কাস্টমারদের মাঝে সেই একই ধরনের বৈশিষ্ট্যগুলো থাকবে। যা সম্ভব্য কাস্টমারদের খুঁজে পেতে সহায়ক।

ধরুন আপনার কাস্টমার বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে, 

  • তারা নিউ মাদার
  • চাইল্ড কেয়ার আইটেমে আগ্রহ রাখে
  • বেবিদের নিয়ে তৈরি ব্লগগুলো সে ফলো করে
  • বেবি টয়ে আগ্রহ রাখে
  • কোয়ালিটি প্রোডাক্ট সম্পর্কে সচেতন ইত্যাদি

আপনি যখন একজন কাস্টমারের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পরিস্কার ভাবে জানবেন এবং তাকে সঠিক ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করতে পারবেন সেই মুহূর্তে তার জন্য আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসের ম্যাসেজ তৈরি করা সহজ হয়ে যাবে। কিভাবে তার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কাস্টমারদের জন্য ভ্যালু অ্যাড করে সেটি বোঝাতে সক্ষম হবেন। 

বিশেষ করে অনেক সেলার তাদের প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসকে কাস্টমারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য করে তুলতে পারেন না বিধায় তিনি কি অফার দিবেন সেটি তার কাছে স্পষ্ট নই। 

এমন একটি অফার যেটি কাস্টমারের অভিজ্ঞতার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম না সে অফারটি কাস্টমারদের জন্য মোটেও গুরুত্ব রাখবেনা।

স্টেটমেন্ট অফ ভ্যালু বনাম ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন

আমরা একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের জন্য অফার অথবা ম্যাসেজ তৈরি করার সময় বেশিরভাগ সময়ে খেয়াল করি ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন বিষয়টিকে।

ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন আমাদের বলে, কেন আমার প্রোডাক্ট অন্যদের প্রোডাক্ট থেকে আলাদা। প্রতিযোগীদের সাথে আমাদের প্রোডাক্ট এর পার্থক্য গুলো কি। কিন্তু এই চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং পাওয়ারফুল হচ্ছে স্টেটমেন্ট অফ ভ্যালু। 

স্টেটমেন্ট অফ ভ্যালু আমাদের বলে একটি প্রোডাক্ট কাস্টমারের জন্য কি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। সে প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কাস্টমারদের কিভাবে সেরা অভিজ্ঞতা লাভের সাহায্য করে।

এটি আরো বলে আপনার ব্র্যান্ড কিভাবে কাস্টমারের কেয়ার করে।

এটি সত্য যে ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন বিজনেসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু আমরা যখন স্টেটমেন্ট অফ ভ্যালু মাথায় রেখে একটি প্রোডাক্টের জন্য অফার তৈরি করবো, এটি সরাসরি কাস্টমারকে বেশি আকৃষ্ট করে। 

উদাহরণস্বরূপ, আমরা ইতিপূর্বে বেবি প্রোডাক্ট নিয়ে কথা বলছিলাম, সেখানে ইউনিক সেলিং প্রপোজিশনে আমরা বলতে পারি আমাদের প্রোডাক্ট এর  ম্যাটেরিয়াল অন্যদের থেকে অধিক মানসম্মত এবং এর বিপরীতে আমরা হয়তোবা এর বৈশিষ্ট্যগত ব্যাখ্যা দিতে পারি।

কিন্তু যখন আমরা স্টেটমেন্ট অফ ভ্যালু বিষয়ে বলব, তখন এটি কাস্টমারদের বলে তার বেবিকে এই বাথ ট্যাবে গোসল করানোর সেরা অভিজ্ঞতা সম্পর্কে। হতে পারে বাচ্চাটি পূর্বে বাথ ট্যাবে গোসল করার সময় প্লাস্টিকের রুক্ষতার কারনে কষ্ট পেতো। কিন্তু যখন বাথট্যাবের পরিবর্তন করে দেওয়া হল তখন সে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তি অনুভব করছিলো। যে কাস্টমার তার বেবির জন্য এই প্রোডাক্ট ব্যবহার করেছে তার ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা এখানে প্রকাশিত হয়। 

এই ম্যাসেজটি কাস্টমার অকপটে গ্রহণ করে, কারণ এটি অভিজ্ঞতালব্ধ।

কাস্টমার ভ্যালু জার্নি ও অফার

একটি অফার ডিজাইন করার আগে আমাদের জানতে হবে কাস্টমারদের জার্নির সিকোয়েন্স যা একজন কাস্টমার step-by-step আসার পরে একটি ব্র্যান্ডকে রিকগনাইজ করে এবং লয়াল কাস্টমারে রুপান্তরিত হয়। 

আমি প্রথমেই একটি কাস্টমারকে অফার দিলাম আর অফার পাওয়া মাত্র সে সেটি গ্রহণ করে নিবে এমনটি ভাবা মোটেও সঠিক হবে না

কাস্টমার ভ্যালু জার্নি বিষয়টা কি? 

একটি ব্র্যান্ডের সাথে যুক্ত হওয়া থেকে লয়াল কাস্টমারে কনভার্ট হবার যে জার্নি তার প্রতিটি ধাপে একটি ব্র্যান্ড থেকে তার যে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি সেটিকেই কাস্টমার ভ্যালু জার্নি বলে। 

কাস্টমার প্রাথমিক অবস্থায় একটি ব্র্যান্ডের সাথে যুক্ত হয় এবং কিছু নির্দিষ্ট ধাপ পার হবার পরে সেই কাস্টমার ব্র্যান্ডের কাস্টমারের লয়াল কাস্টমারে রুপান্তরিত হয় এবং প্রতিটি ধাপে তাদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অফার ডিজাইন করা প্রয়োজন হয়। 

ছবি সংগ্রহীতঃ DigitalMarketer.com 

১. এ ধাপের প্রথমে আসে অ্যাওয়ারনেস

এ অবস্থায় কাস্টমার কেবল একটি ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানে এবং সে সময় তাঁর কাছে খুব বেশি তথ্য থাকে না। 

অফারঃ রেফারেল অফার এই ধাপের জন্য উপযুক্ত  

২. দ্বিতীয় ধাপঃ এনগেজমেন্ট

এবারে কাস্টমার সেই  ব্র্যান্ড বিষয়ে আরো বেশি তথ্য পায় এবং তার আগ্রহের জায়গায় তৈরি হয়। আরো বেশি জানার জন্য  সে ব্র্যান্ডের সাথে এঙ্গেজ হয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে লাইক, শেয়ার বা কমেন্টের মাধ্যমে।

অফারঃ এই ধাপে আপনি কাস্টমারদের শর্ট ভিডিও বা ব্লগ পোস্ট অফার করতে পারেন যা তাকে অধিক তথ্য দেবে। 

৩. তৃতীয় ধাপঃ সাবস্ক্রাইব

এ পর্যায়ে কাস্টমার ব্র্যান্ড থেকে আরো বিস্তারিত তথ্য পেতে ইচ্ছা পোষণ করে। অহেতুক কোন কারণ ছাড়া কেউ কোন বিষয়ের উপর আগ্রহী হয়ে উঠে না। তাই প্রত্যেকটি সাবস্ক্রাইবার একটি ব্র্যান্ডের জন্য প্রস্পেক্ট। তারা সেই ব্র্যান্ডের ইমেল নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করে। 

অফারঃ এই ধাপে গেটেড কন্টেন্ট অফার করুন। অর্থাৎ তার পার্সোনাল তথ্য যেমন ইমেল বা ফোন নম্বরের বিপরীতে দরকারি ডকুমেন্ট বা টিউটোরিয়াল ইত্যাদি।  

৪. চতুর্থ ধাপঃ  কনভার্ট

এই পর্যায়ে তাকে কাস্টমার ছোট পারচেস করে বা কম মূল্যমানের প্রোডাক্ট কেনে।কাস্টমার সেই প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ব্যবহার শুরু করে।

অফারঃ এক্ষেত্রে তাকে ফ্রি প্রোডাক্ট বা ডেমো অফার করতে পারেন। (নোটঃ আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের ধরনভেদে উপযুক্ত অফার তৈরি করবেন।)  

৫. পঞ্চম ধাপঃ এক্সাইটমেন্ট

কাস্টমারকে এখন  প্রোডাক্টটি ব্যবহার করছে এবং তাকে যে তথ্য প্রদান করা হয়েছিল তার সাথে সে সামঞ্জস্যতা খুঁজে পাচ্ছে। এতে করে তার অভিজ্ঞতা অনেক ভালো এবার সে কাস্টমার পরবর্তী ধাপে যায় অর্থাৎ সে দারুণ আনন্দিত হয়। 

অফারঃ কাস্টমার ফিডব্যাক নেয়া সাপেক্ষে তাকে গিফট প্রদান করতে পারেন। 

৬. ষষ্ঠ ধাপঃ এসেন্ড

এ অবস্থায় কাস্টমার সে ব্র্যান্ডের প্রতি দারুণ রকম ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে এবং ব্র্যান্ডকে তার পছন্দের শীর্ষে অবস্থান দেয়। ব্র্যান্ড এই কাস্টমারের কাছে আপসেল করতে থাকে। 

অফারঃ একই ধরনের উচ্চমূল্যের প্রোডাক্ট কেনার জন্য অফার ডিজাইন করুন। আপসেলের মাধ্যমে তার কেনাকাটার পরিমান বাড়িয়ে তুলুন।  

৭. সপ্তম ধাপঃ অ্যাডভোকেট 

এখন কাস্টমার শুধুমাত্র সে প্রোডাক্ট ব্যবহার করছে না বরং নিজেই সে প্রোডাক্টের উপযোগিতা সম্পর্কে আরো তথ্য প্রদান করছে অন্য কাস্টমারদের এবং তাদের সেটি ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছে। পাশাপাশি সে ব্র্যান্ড কেউ সে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে  নানা রকমের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে।

অফারঃ তার রিভিউ নেবার জন্য অফার দিন।  

৮. অষ্টম ধাপঃ  প্রমোট

এবারে একজন কাস্টমার সেই প্রোডাক্টটি অন্যদের রেফার করে। সে নিজেই সেই প্রোডাক্টের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে রোল প্লে করে।

অফারঃ তাকে বেশি বেশি কুপন বা রেফারেল কোড দিন।    

কাস্টমার জার্নির প্রতিটি পর্যায়ে ভিন্ন ধরনের অফার তৈরি করার মাধ্যমে সেই কাস্টমারদের ব্র্যান্ডের সাথে এঙ্গেজ থাকতে, ও কেনাকাটা চালিয়ে যেতে উপযোগিতা তৈরি করতে হয়। অফারের মানে শুধুমাত্র মূল্যছাড় না। 

অফারের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে ও ধরে রাখতে সেটি অপটিমাইজ করবেন কিভাবে?  

এন্ট্রি পয়েন্ট অফার 

তিন ধরনের অফার রয়েছে যা দ্বারা একজন কাস্টমারকে সহজেই এংগেজ করা যায়। সেগুলো হচ্ছে,

  1. গেটেড কন্টেন্ট
  2. লস লিডার
  3. প্রোডাক্ট রিভিউ

কাস্টমারদের প্রথমবারের মত একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ব্যবহার করানো এর মূল লক্ষ্য। আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কোয়ালিটি সন্তোষজনক হলে কাস্টমার বারবার কিনবে।   

গেটেড কন্টেন্ট 

গেটেড কন্টেন্ট এমন একটি অফার প্রক্রিয়া যেখানে কিছুর বিনিময়ে কিছু পাওয়া যায়। যেমন ধরুন, আপনার টেকনোলজি কোম্পানি এবং আপনি ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেল করেন। 

এক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রোডাক্ট যে কারণে অথবা যে সমস্যা সমাধানের জন্য তৈরি করেছেন সেই সমস্যার সমাধানের কিছু কার্যকরী উপায় নিয়ে একটি টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরি করতে পারেন এবং এটি আপনার অডিয়েন্সের অফার করতে পারেন। 

তবে শর্ত হচ্ছে যদি এই টিউটোরিয়াল ভিডিওটি ডাউনলোড করতে চায় তবে তাকে অবশ্যই তার পার্সোনাল ইনফরমেশন দিতে হবে। (যেমনঃ ইমেল, ফোন)

কাস্টমারকে আপনার ভ্যালু জার্নির লুপে প্রবেশ করানো হয়। 

লস লিডার অফার

লস লিডার অফার সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি দারুন কার্যকারী অফার। যে সকল প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস ব্যবহার না করার পূর্বে সে সম্পর্কে খুব বেশি পরিমাণ তথ্য জানা সম্ভব হয়না অথবা এর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা যায় না সে প্রোডাক্ট গুলোর জন্য লস লিডার অফার তৈরি করতে হয়। 

লস লিডার অফারের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসটি আপনি অফার করছেন তার জন্য একটি আংশিক মূল্য আপনাকে পরিশোধ করতে হচ্ছে কখনো এটি কেউ কেউ বিনামূল্যে অফার করেন । 

ধরুন একজন কাস্টমার গুগোল ওয়ার্কস্পেস সাইন আপ করবেন এবং আপনি তাকে বলছেন প্রথমবার সে যদি সার্ভিসটি সাইনআপ করে তবে তাকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত সিক্সটি পার্সেন্ট ডিসকাউন্টে এই সার্ভিসটি ব্যবহার করতে দিবেন।

এখানে কাস্টমারসিক্সটি পার্সেন্ট টাকা পরিশোধ করছে এবং বাকি ফরটি পার্সেন্ট টাকা অফার দাতা পরিশোধ করছেন। অর্থাৎ আপনি আংশিক টাকা লস করে একজন কাস্টমারকে এন্ট্রি করছেন বা আপনার অফার এর সাথে যুক্ত করছেন। 

লস লিডার অফারটি সাধারণত মার্কেটিং ক্যাম্পেইন বাজেটের মধ্যেই ধরে নেওয়া হয়। আপনার প্রতিষ্ঠানের যদি যথেষ্ট আর্থিক সক্ষমতা থাকে তবে লস লিডার অফার প্রদানের মাধ্যমে সঠিক কাস্টমারদের ফিল্টার করে সার্ভিস রেগুলার করানো যায়। এতে করে একটি দীর্ঘ সময়ে কাস্টমারদের সার্ভিসটি ব্যবহারের করানোর মাধ্যমে লস কাটিয়ে লাভের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়। 

প্রোডাক্ট প্রিভিউ

ডিজিটাল প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিশেষ করে সফটওয়্যার সার্ভিস চালু করার জন্য ডেমো দারুণ একটি অফার কারণ গেটেড কন্টেন্টে প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যবহারিক তথ্য পায় কিন্তু প্রোডাক্ট প্রিভিউের দ্বারা সেটি ব্যবহার করে দেখার সুযোগ থাকে। সেজন্য তাকে কোনরকম মূল্য পরিশোধ করতে হয় না ।

এন্ট্রি পয়েন্ট অফার তৈরির জন্য ব্রেইন স্ট্রোর্মিং

আপনাকে যদি এক মিনিট সময় দেওয়া হয় এবং বলা হয় আপনার সামনের মানুষটিকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করুন, তাহলে আপনি কি করতেন? 

আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের কাস্টমারদের আকৃষ্ট করার জন্য খুব অল্প সময় পাবেন আর সেটিকে কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে কাস্টমার হারাবেন। 

একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন প্রত্যেকটি অফার একেকটি ভ্যালু প্যাক। যে অফারটি আপনি কাস্টমারদের দিচ্ছেন সেটি যদি তাকে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ব্যবহারে অন্যান্য যেকোনো সময়ের থেকে বেশি পরিমাণে লাভবান না করে, তবে সে কখনোই অফারটি গ্রহণ করবে না।

এখন একজন কাস্টমার লাভবান হয় তখনই যখন সে প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে তার সমস্যার সমাধান পায় খুব সহজে সাথে আর্থিক মূল্যমানেও লাভবান হয়। 

যে তিনটি অফার প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে প্রত্যেকটি স্টেজে অফারের ধরন ভিন্ন এবং কাস্টমারদের লাভবান হওয়ার প্রক্রিয়া ভিন্ন।

খেয়াল করলে দেখবেন গেটেড কনটেন্টের  ক্ষেত্রে কাস্টমার শুধুমাত্র তার ইনফরমেশন দেওয়ার মাধ্যমে একটি অজানা তথ্য জানার সুযোগ পাচ্ছে। এটি তার জানার প্রক্রিয়াকে বিস্তৃত করে। অপরদিকে  তাকে কোন প্রকার খরচ করতে হচ্ছে না এবং খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় না শুধুমাত্র ইনফর্মেশন দেবার সাথে সাথে সে তথ্যটি পেয়ে যাচ্ছে।

আবার যখন লস লিডার অফারের কথা বলছি,  তখন একজন কাস্টমার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম মূল্য দিয়ে সেই প্রোডাক্ট বা সার্ভিসটি ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে। 

এটি  সেই প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের কার্যকারিতা পরীক্ষা সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।  অপরদিকে যদি সেটি অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয় তবে তার লস করার পরিমাণ আর্থিক ভাবে কমে যাচ্ছে।

আবার প্রোডাক্ট রিভিউ বা ডেমো পর্যায়ে একজন কাস্টমার একটি প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কিছু সময়ের জন্য বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। শুধুমাত্র এটির ব্যবহার এবং ইউজ কেসগুলো পরীক্ষা করার জন্য সেজন্য তাকে কোনো রকম খরচ করতে হচ্ছে না।

এই প্রতিটি জায়গায় কাস্টমার লাভবান হচ্ছে। তাই অফার তৈরি করার সময় যে বিষয়টি সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে একজন কাস্টমার আপনার অফার থেকে অবশ্যই লাভবান হতে হবে। 

কাস্টমারদের পেইন্ট পয়েন্ট গুলো খুব ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। প্রতিটি স্টেজে কাস্টমারের পেইন পয়েন্ট গুলোর উপর ভিত্তি করে অফার তৈরি করুন যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।

অফার অপটিমাইজেশন

একটি অফার কত ইফেক্টিভ ভাবে অপটিমাইজ করার মাধ্যমে কাস্টমারদের সামনে প্রদর্শন করতে পারছেন বা পৌঁছে দিচ্ছেন সেটির উপর অফারের কার্যকারিতা এবং সফলতা নির্ভর করে।

আমরা একটি অফারকে ধাপে ধাপে অপটিমাইজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানব।

ধরুন, একটি ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড অফার দিচ্ছে এবং প্রোডাক্ট গেজেট আইটেম। তাহলে অফার গুলো কিভাবে অপটিমাইজ করতে হবে। 

অফারের শুরুতেই আমাদের মনোযোগ দিতে হবে পেমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে। 

প্রথম ধাপ

এ পর্যায়ে আপনি প্রথমে প্রোডাক্টের সাধারণ মূল্যটি উপস্থাপন করবেন।

  • প্রোডাক্টঃ ব্র্যান্ডড হেডফোন
  • মূল্যঃ ৬০০০ টাকা

সাধারণ দৃষ্টিতে আমাদের মনে হতে পারে এটি শুধুমাত্র প্রোডাক্ট এবং প্রোডাক্ট এর মূল্য। কিন্তু প্রোডাক্টের এই সাধারন মূল্য থেকেই শুরু হয় অফার শুরু করার প্রক্রিয়া। 

দ্বিতীয় ধাপঃ

এবারে পেমেন্ট টার্ম উল্লেখ করুন। 

একটি প্রোডাক্টের পেমেন্ট কয়েকটি ধাপে অফার করা যেতে পারে যেটিকে ইএমআই বলা হয়। এখানে কয়েক মাসে ভেঙ্গে ভেঙ্গে মূল্য পরিশোধ করার সুযোগ। বেশি মূল্যমানের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের জন্য এই কৌশল দারুন কার্যকরী। 

  • প্রোডাক্টঃ ব্র্যান্ডড হেডফোন
  • মূল্যঃ ৬০০০ টাকা
  • পেমেন্ট টার্মঃ   ইএমআই সর্বোচ্চ তিন মাসের। প্রতি মাসে ২০০০ টাকা। 

এখানে আপনি প্রোডাক্টের  মূল্যমান কম করেননি কিন্তু প্রোডাক্টের মোট মূল্যকে তিনটি ভাগে ভাগ করে কাস্টমারদের আলাদাভাবে পেমেন্ট করার সুযোগ দিয়েছেন। যা সেই প্রোডাক্টকে কাস্টমারের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে এসেছে। 

এক্ষেত্রে কাস্টমার খুব কম পরিমাণ পেমেন্ট করার মাধ্যমে কাস্টমার প্রোডাক্টটি কেনার সুযোগ পাচ্ছে। একই সাথে আপনি কোন রকম ডিসকাউন্ট না দিয়ে প্রোডাক্ট এর পুরো মূল্য সাপেক্ষে বিক্রি করতে পারছেন।

তৃতীয় ধাপঃ

ডিসকাউন্ট যেকোনো বিজনেসের জন্য সেল নিয়ে আসতে সক্ষম। তবে ডিসকাউন্ট প্রথম থেকে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দিলে সেটি আরও বেশি কার্যকর হয়।

  • প্রোডাক্টঃ ব্র্যান্ডড হেডফোন
  • মূল্যঃ ৬০০০ টাকা
  • পেমেন্ট টার্মঃ   ইএমআই সর্বোচ্চ তিন মাসের। প্রতি মাসে ২০০০ টাকা।
  • ডিসকাউন্টঃ ১০০০ টাকা

যারা পটেনশিয়াল কাস্টমার এবং যাদের চাহিদা একেবারেই শেষ মুহূর্তে অবস্থান করছে এ ধরনের অফার তাদেরকে দারুণ রকম আকৃষ্ট করে। 

চতুর্থ ধাপঃ

অফারটি আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে এবারে যুক্ত করুন বোনাস। তাতে অফারটি ফ্রেস থাকবে, যোগ হবে বাড়তি উপযোগিতা। 

  • প্রোডাক্টঃ ব্র্যান্ডড হেডফোন
  • মূল্যঃ ৬০০০ টাকা
  • পেমেন্ট টার্মঃ   ইএমআই সর্বোচ্চ তিন মাসের। প্রতি মাসে ২০০০ টাকা।
  • ডিসকাউন্টঃ ১০০০ টাকা
  • বোনাসঃ এর সাথে থাকছে বিশ্বখ্যাত মিউজিক্যাল ব্যান্ড এর একটি অ্যালবাম। 

পঞ্চম ধাপঃ

এই ধাপে বান্ডেল অফার যোগ করে এগিয়ে যেতে হবে। কাস্টমারদের একের পর এক লোভনীয় অফারের মাধ্যমে ক্রমাগত মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

  • প্রোডাক্টঃ ব্র্যান্ডড হেডফোন
  • মূল্যঃ ৬০০০ টাকা
  • পেমেন্ট টার্মঃ   ইএমআই সর্বোচ্চ তিন মাসের। প্রতি মাসে ২০০০ টাকা।
  • ডিসকাউন্টঃ ১০০০ টাকা
  • বোনাসঃ এর সাথে থাকছে বিশ্বখ্যাত মিউজিক্যাল ব্যান্ড এর একটি অ্যালবাম।
  • বান্ডেল অফারঃ ব্র্যান্ডেড হেডফোন ও পেনড্রাইভ একসাথে কিনলে পাবেন আরো ২০% ডিসকাউন্ট।  

ষষ্ঠ ধাপঃ 

একজন কাস্টমার অনেকগুলো অফার পাবার কেনাকাটা সম্পন্ন করে তখন তাকে খরচ করা অর্থের নিরাপত্তা অফার করতে পারেন। অর্থাৎ সে যে মূল্য পরিশোধ করে প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কিনছে সেটির গুনগত মান যদি দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী না হয় তবে মূল্য ফেরত সুবিধা। অর্থাৎ কেনাকাটায় সঠিক উপযোগিতা নিশ্চিত হবার নিরাপত্তা। 

  • প্রোডাক্টঃ ব্র্যান্ডড হেডফোন
  • মূল্যঃ ৬০০০ টাকা
  • পেমেন্ট টার্মঃ   ইএমআই সর্বোচ্চ তিন মাসের। প্রতি মাসে ২০০০ টাকা।
  • ডিসকাউন্টঃ ১০০০ টাকাবোনাসঃ এর সাথে থাকছে বিশ্বখ্যাত মিউজিক্যাল ব্যান্ড এর একটি অ্যালবাম।
  • বান্ডেল অফারঃ ব্র্যান্ডেড হেডফোন ও পেনড্রাইভ একসাথে কিনলে পাবেন আরো ২০% ডিসকাউন্ট।
  • গ্যারান্টিঃ সাত দিনের মধ্যে প্রোডাক্ট সংক্রান্ত সমস্যায় মূল্য ফেরত

সপ্তম ধাপঃ

অনেকগুলো অফার পর্যায়ক্রমে দেবার পরে কাস্টমার যখন চিন্তা করছে এই প্রোডাক্টটি টার এখন কেনার সঠিক সময়।  এই মুহূর্তে তাঁর কেনাকাটার সিদ্ধান্তকে আরো সন্নিকটে নিয়ে আসতে আর্জেন্সি তৈরি করতে পারেন।  

আপনি বলতে পারেন এই অফার একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত  এভেলেবেল। অফার মিস হয়ে যাবার ভয় তৈরি করে দ্রুত কেনাকাটা করার অবস্থা তৈরি করা যাকে ফিয়ার অফ মিসিং বলে। 

যখন আর্জেন্সি তৈরি করা হয় ঠিক সেসময় কয়েকটি ক্ষেত্রে কাস্টমারদের মনে প্রোডাক্ট কেনাকাটার জন্য দ্রুততম সময়ে সিধান্ত নিতে সাহায্য করে সেগুলো হচ্ছে,

  • যখন আমরা বলি অফারটি  খুবই কম পরিমান স্টকে এভেলেবেল আছে 
  • প্রোডাক্টের স্টক রয়েছে  কিন্তু নির্ধারিত সময় পরে অফার থাকবে না। পরবর্তী সময়ে সেই প্রোডাক্ট কিনতে পূর্বের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। 
  • নির্ধারিত সময় পরে এর সাথে এক্সট্রা বোনাস এবং বান্ডেল অফার থাকবে না। 

কাস্টমার যখন একটি প্রোডাক্ট কেনার সিধান্ত নিতে আটকে আছে কিন্তু একটি নির্ধারিত সময় পরে অফার গুলো হারিয়ে যাবার ভয়ে তার মধ্যে কাজ করবে। তখন সে আরো দ্রুত প্রোডাক্ট কেনার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে তৎপর হয়ে ওঠে। 

  • প্রোডাক্টঃ ব্র্যান্ডড হেডফোনমূল্যঃ ৬০০০ টাকা
  • পেমেন্ট টার্মঃ   ইএমআই সর্বোচ্চ তিন মাসের। প্রতি মাসে ২০০০ টাকা।
  • ডিসকাউন্টঃ ১০০০ টাকাবোনাসঃ এর সাথে থাকছে বিশ্বখ্যাত মিউজিক্যাল ব্যান্ড এর একটি অ্যালবাম।
  • বান্ডেল অফারঃ ব্র্যান্ডেড হেডফোন ও পেনড্রাইভ একসাথে কিনলে পাবেন আরো ২০% ডিসকাউন্ট।
  • গ্যারান্টিঃ সাত দিনের মধ্যে প্রোডাক্ট সংক্রান্ত সমস্যায় মূল্য ফেরত
  • আর্জেন্সিঃ নির্ধারিত সময়ের পরে মূল্য পূর্বের অবস্থানে ফেরত যাবে এবং কোনরকম বোনাস থাকবে না

চ্যাম্পিয়ন অফারঃ

এতো অফার দেবার পরেও একটি অফারকে আরো গতিশীল ও কার্যকরী করা সম্ভব। দেখা গেছে মানুষের আবেগি সিদ্ধান্তগুলো কেনাকাটায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এবারে মানবিক ভাবে অফারটিকে গ্রহণযোগ্য করতে হবে। 

হয়তো আপনি খেয়াল করেছেন অনেক জুতো প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বলে আপনার কেনা প্রতিটি জোড়া জুতো থেকে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য এক জোড়া জুতা প্রদান করা হবে। 

একদিকে যেমন আপনি কিনছেন একই সাথে আপনার কেনার বিপরীতে একটি সুবিধাবঞ্চিত শিশু জুতো ব্যবহার করার সুবিধা অর্জন করছে। এটি মানবিক ভাবে তাকে ভাল বোধের অনুভুতি দেয়।

  • প্রোডাক্টঃ ব্র্যান্ডড হেডফোনমূল্যঃ ৬০০০ টাকা
  • পেমেন্ট টার্মঃ   ইএমআই সর্বোচ্চ তিন মাসের। প্রতি মাসে ২০০০ টাকা।
  • ডিসকাউন্টঃ ১০০০ টাকা
  • বোনাসঃ এর সাথে থাকছে বিশ্বখ্যাত মিউজিক্যাল ব্যান্ড এর একটি অ্যালবাম।
  • বান্ডেল অফারঃ ব্র্যান্ডেড হেডফোন ও পেনড্রাইভ একসাথে কিনলে পাবেন আরো ২০% ডিসকাউন্ট।
  • গ্যারান্টিঃ সাত দিনের মধ্যে প্রোডাক্ট সংক্রান্ত সমস্যায় মূল্য ফেরত
  • আর্জেন্সিঃ নির্ধারিত সময়ের পরে মূল্য পূর্বের অবস্থানে ফেরত যাবে এবং কোনরকম বোনাস থাকবে না
  • চ্যাম্পিয়ন অফারঃ আপনার প্রতি জোড়া কেনা জুতার বিপরীতে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য অর্থায়ন করা হবে। 

একটি বিষয় সবসময় মাথায় রাখবেন প্রতিটি আলাদা ইন্ডাস্ট্রির জন্য অফার অপটিমাইজেশনের  ধরন হবে আলাদা। ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ এক রকম হবে আবার সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির জন্য অন্য রকম হবে। আবার একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের জন্য এই অফারের ধরন হবে ভিন্ন কিন্তু সবার জন্য অফার অপ্টিমাইজেশন প্রক্রিয়া একই রকম। 

অফারগুলো কেমন পারফর্ম করতে সেটি ক্রমাগত পরীক্ষা করার মাধ্যমে সর্বাধিক কার্যকর অফার কম্বিনেশন খুঁজে পেতে হবে।

অফার নিয়ে শেষ কথা

আপনি যখন জানবেন কিভাবে অফার ডিজাইন করতে হয় ও সেটিকে কার্যকরী করে তুলতে এর  অপ্টিমাইজেশন প্রক্রিয়া কিভাবে পরিচালিত হয় তখন আপনার কাস্টমারদের জন্য সেরা অফারটি তৈরি করতে সক্ষম হবেন। আপনার দেয়া প্রতিটি অফার বিজনেসের সেল বাড়িয়ে তুলে আরো বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। 

দিন শেষে একটি বিজনেসের সফলতা ও ব্যর্থতা পরিমাপ করা হয় টাকার অংকে, তাই বিজনেসে প্রফিট করতে ভুল অফার দিয়ে টাকা অপচয় না করে সঠিক অফারটি তৈরি করুন, লাভবান হোন। 

ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিংঃ কি করবেন যখন আপনার অ্যাড ঠিকমতো কাজ করছে না

ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিংঃ কি করবেন যখন আপনার অ্যাড ঠিকমতো কাজ করছে না

ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিংঃ প্রসঙ্গে যাবার আগে, আপনি ইকমার্স বিজনেসের প্রচারে ফেসবুক অ্যাড পরিচালনা করছেন সে জন্য আপনাকে অভিনন্দন! কিন্তু এখনো আপনার কাজ শেষ হয়নি, কিন্তু কেন? মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

একবার একটি ফেসবুক অ্যাড চালু হবার পরে অ্যাডটি আপনার বিজনেসের জন্য কি সাফল্য নিয়ে আসছে বা এই অ্যাড থেকে প্রাপ্ত ROI এর পরিমানে আপনি কি সন্তুষ্ট? যদি সেটি না হয়ে থাকে তবে তা নিশ্চিত করার জন্য আপনার পরবর্তী করনীয় কি? 

জানাতে চলেছি আপনার ফেসবুক অ্যাড রান করার পরবর্তী সময়ে সেই অ্যাডের পারফরমান্স বাড়াতে কিভাবে ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিং ও অ্যাড স্কেলিং করবেন এবং এ থেকে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানের উপায় সম্পর্কে। 

ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিং ও অ্যাড স্কেলিং নিয়ে জিজ্ঞাসা ও জানার বিষয়গুলোঃ  

  1. আপনার ফেসবুক অ্যাডের সাফল্যের ম্যাট্রিক্স কি?  কোন সংখ্যাটি এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ? আপনার অ্যাড আসলে কাজ করছে কিনা আপনি কীভাবে বুঝবেন? 
  2. আপনি যখন উপরের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং বুঝবেন আপনার অ্যাডে সমস্যা রয়েছে যার সমাধান প্রয়োজন তখন কি করবেন? 
  3. তারপরে, আমরা অ্যাড স্কেলিংয়ে মনোযোগী হবো। অর্থাৎ আপনার অ্যাড চলাকালীন সময়ে কি করবেন যা আপনাকে আরো বেশি রেজাল্ট এনে দিবে? 

লো-পারফরমান্স অ্যাডগুলো সঠিক দিকে নিয়ে যেতে বা  ভাল পারফরম্যান্স করছে এমন অ্যাডগুলো আরো ভালো করার লক্ষ্যে স্কেল করার জন্য আমাদের কি করতে হবে সেটি নির্ধারণ করার আগে, এটি বর্তমানে কি অবস্থায় আছে তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। 

আমরা সেই সকল ডেটাগুলোর দিকে ফোকাস করেছি যা সত্যিকার ভাবে আপনার অ্যাডের জন্য গুরুত্ব রাখে। এই ম্যাট্রিক্সগুলো সর্বজনীন, ভিন্ন ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি বা যেকোনো ধরনের ফেসবুক অ্যাডের জন্য এগুলো আবশ্যক।

ডেটা বিশ্লেষণ করতে এবং আপনার অ্যাডের পারফরমান্স নির্ধারণে সহায়ক একটি অ্যাড চেকলিস্ট নিচে দেয়া হয়েছে।

এই চেকলিস্ট আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে ঠিক কোথায় মনোযোগ দিতে হবে। এটি আপনাকে অ্যাড সংক্রান্ত অপ্রয়োজনীয় তথ্যের বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত রাখবে। আপনি যখন কোনো অ্যাডের সাফল্য বিচার করবেন তখন একটি অ্যাডের প্রতিটি মেট্রিক আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনি শুধু সেটিকে বেছে নিবেন যা সেই অ্যাডের সাফল্যে ভূমিকা রাখে। 

আপনার ফেসবুক অ্যাডের সাফল্য যাচাই করতে সপ্তাহে কমপক্ষে একবার এই চেকলিস্টটি ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছি। 

প্রথমে, আপনার অ্যাডটি পরিমাপ এবং বিশ্লেষণ করার আগে ডেটা সংগ্রহ হবার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিন।এক সপ্তাহ পরে (বা আপনার অডিয়েন্স টাইপ ও সাইজের উপর নির্ভর করে) আপনার অ্যাডটি পরিমাপ এবং এটি কীভাবে চলছে তা দেখার জন্য আপনার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডেটা থাকবে। 

এর পরে, চেকলিস্টের প্রতিটি মেট্রিক আপনার অ্যাডের জন্য প্রয়োগ করতে হবে এমনটি না। আপনার বিজনেসের সাফল্যে প্রভাবক শুধু সেই ম্যাট্রিক্সগুলোর উপর লক্ষ্য রাখবেন। 

অর্থাৎ আপনি যখন অ্যাড ক্যাম্পেইন চালু করেছিলেন, সেই সময়ে নির্ধারণ করে দেয়া অবজেক্টিভ থেকে যে ফলাফল আশা করেন সেটির উপর নির্ভর করে ম্যাট্রিক্সগুলোর গুরুত্ব পাবে। 

ধরুন, ফেসবুক অ্যাড থেকে লিড কালেকশন করা যদি আপনার অ্যাডের লক্ষ্য হয়ে থাকে তবে, সেজন্য প্রতিটি লিডের জন্য কত খরচ হচ্ছে সেটি আপনার সাকসেস ম্যাট্রিক্স, যদিও বাকি প্যারামিটারগুলো গুরুত্বরাখে। কিন্তু যদি লিড পেতে খরচের বাইরে অনন্য প্যারামিটারগুলো, (যেমন, প্রতি ক্লিকের খরচ) যদি বেশি হয় তবে এই অ্যাডের সাফল্য বিচার করার জন্য যদি এটিকে প্রাধান্য দেন তবে মনে হতে পারে এই অ্যাড খারাপ রেজাল্ট করছে। 

কিন্তু  প্রতি ক্লিকের খরচ আপনার অ্যাডের লক্ষ্য না। তাই যে লক্ষ্য সেট করেছেন সেই লক্ষ্যকেই অ্যাডের সাফল্য বিচারে ব্যবহার করুন। 

অ্যাড ম্যানেজারে সব গুলো ম্যাট্রিক্স দেখা না গেলে কাস্টম কলাম থেকে উপযুক্ত অ্যাড ম্যাট্রিক্স ইনডিকেটর সিলেক্ট করে নিন। 

প্রতি সপ্তাহে আপনার অ্যাড ম্যাট্রিক্স পরীক্ষা করুন। যখন কোনো অ্যাডে সমস্যা পরিলক্ষিত হবে তখন আপনি জানতে পারবেন ঠিক কোথায় অপ্টিমাইজেশন প্রয়োজন। কোন বিষয়গুলোর পরিবর্তন ঘটালে অ্যাড আরো উন্নত হবে। 

কি করবেন যখন আপনার ফেসবুক অ্যাড ঠিকমতো কাজ করছে না

এবার আমরা ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিং বা অ্যাডের সমস্যা সমাধান নিয়ে কথা বলবো। যখন অ্যাড সঠিকভাবে কাজ করে না তখন কি করতে হবে?

যখন দেখছেন অ্যাড তার নির্ধারিত গোল হিট করছেন না তখন আতঙ্কিত হবেন না। দেখা গেছে বেশিরভাগ ট্র্যাফিক ক্যাম্পেইন গুলো  প্রথম দিকে ভালো ফলাফল করে না এবং এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।  

একটি অ্যাড ক্যাম্পেইন রান করার পরে প্রথমে ডাটা সংগ্রহ হতে দিন এরপর প্রয়োজন মাফিক অপটিমাইজেশন করুন। 

একটি অ্যাডের যে সকল বিষয় সঠিক ভাবে কাজ করছে না তার উপর ভিত্তি করে আমরা আপনাকে দেখাবো  এটি সঠিক দিকে নিয়ে যেতে আপনাকে কি করতে হবে। 

মনে রাখবেন, একটি অ্যাড রান করার পরে কমপক্ষে ৩ দিন সময় অতিবাহিত হওয়া আবশ্যক। এবারে পর্যাপ্ত ডেটা সংগ্রহ হলে সেই ডেটার বিশ্লেষণ সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয় যে আপনাকে কোথায় উন্নতি সাধন করতে হবে। 

ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিংঃ ইমপ্রেশন পর্যাপ্ত না পেলে

ফেসবুক অ্যাডে ইমপ্রেশন পাচ্ছেন না? কখনও কখনও ট্র্যাফিক অ্যাড ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে। অ্যাড কোনো একটি কারণে অডিয়েন্সদের দেখাচ্ছে না। এটি ঠিক করার কয়েকটি উপায় রয়েছে,

ধরুন, একটি অ্যাড রান করার কয়েকদিন পরে এটি পর্যাপ্ত অডিয়েন্স রিচ করতে পারছে না অথবা মাত্র ১০০ অডিয়েন্স রিচ করেছে তাহলে এটি বুঝতে হবে .আপনার অ্যাডে কিছু সমস্যা আছে।

আপনার অ্যাডের সমস্যা সমাধানের প্রথম উপায়টি হচ্ছে, অ্যাড সেটগুলোতে বিড পরিবর্তন করা। কারণ কখনও কখনও আপনার অডিয়েন্সের আকারের উপর ভিত্তি করে আপনি যে বিড সেট করেছেন সেটা সঠিক হয়নি তাই প্রয়োজনীয় রেজাল্ট আসছে না। 

ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিংঃ আপনি লিড কালেকশন করার জন্য অ্যাড রান করছেন কিন্তু এখনো অ্যাড ইমপ্রেশন পাচ্ছে না তাহলে অ্যাডের বিড আমাউন্ট পরিবর্তন করুন। 

অটো বিডিংয়ের পরিবর্তে ম্যানুয়ালি বিড করুন। একটি অ্যাডের প্রতিটি রেজাল্ট পেতে স্বেচ্ছায় আপনি যে পরিমান টাকা আপনি দিতে ইচ্ছুক তার চেয়ে বেশি পরিমান বিড করতে হবে। 

উদাহরণ স্বরূপ, আমি প্রতিটি রেজাল্ট পেতে সর্বাধিক ৭ ডলার  দিতে আগ্রহী হলে আমাকে বিড সেট করতে হবে ১০ ডলার। তাহলে আপনি সেই অ্যাড থেকে কাঙ্খিত রেজাল্ট আনতে পারবেন। 

( নোটঃ আপনি প্রতিটি রেজাল্ট পেতে ১০ ডলার বিড করছেন তার মানে এই না যে এক একটি রেজাল্টে ১০ ডলার খরচ হবে। ) 

যদি ২৪ ঘন্টা বা তার বেশি সময় পার হবার পরে এই পদ্ধতি কাজ না করে?

ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিংঃ তবে বিকল্প পদ্ধতি হচ্ছে, এই অ্যাড সেটটি ডুপ্লিকেট করে পুনরায় রান করুন। তাহলেই এই অ্যাড চালু হবে। 

ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিংঃ ক্লিক না পেলে

এখন আপনার অ্যাড ইমপ্রেশন সঠিক পাচ্ছেন। কিন্তু আপনি অ্যাডে ক্লিক পাচ্ছেন না।তাহলে কি করবেন?

অ্যাডে ক্লিক না পাবার কারন সেই অ্যাড অডিয়েন্সদের জন্য রেলেভেন্ট না অথবা টার্গেটিং সঠিক হয়নি। 

তাই নতুন টার্গেটিং ও অ্যাড কপি তৈরি করে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। 

ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিংঃ  প্রথমত, আপনি অ্যাড কপি বা ক্রিয়েটিভ পরিবর্তন দিয়ে শুরু করবেন। আপনার অদিয়েন্স অ্যাড দেখছে ঠিকই কিন্তু সেটি তাদের জন্য উপযোগিতা তৈরি করে না। আপনি সম্পূর্ণ নতুন অ্যাড কপি বা ক্রিয়েটিভ তৈরি করুন যা আপনার অডিয়েন্সদের জন্য রেলেভেন্ট। তাহলে অ্যাডে ক্লিক পাবার পরিমান বাড়বে। 

পূর্বের অ্যাড কপিটি ডুপ্লিকেট করে রাখতে পারেন তাতে কোন অ্যাড কপি ভালো রেজাল্ট নিয়ে আসে সেটি স্প্লিট টেস্ট করে বের করতে পারবেন। 

এবারে, যদি দেখেন সেই নতুন অ্যাড কপিটিও রেজাল্ট নিয়ে আসছে না তাহলে আপনার অডিয়েন্স টার্গেটিং এর দিকে দৃষ্টিপাত করুন। 

হতে পারে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স আপনার অ্যাডের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস অথবা বিষয়বস্তু নিয়ে আগ্রহী নয়। তাই আপনার আদর্শ অডিয়েন্স গ্রুপ খুঁজে পেতে আরো গবেষণা প্রয়োজন। 

এখন লোকেরা অ্যাড দেখছে, তারা ক্লিক করছে, কিন্তু যখন তারা আপনার ল্যান্ডিং পেজে আসছে তখন আপনি তাদের যে কল টু একশনে ক্লিক করাতে চান তা হচ্ছে না। এটি একটি ভিন্ন সমস্যা। 

ফেসবুক অ্যাড ট্রাবলশুটিংঃ সুতরাং আপনি যদি ল্যান্ডিং পেজে কাঙ্খিত একশন না পেয়ে থাকেন তবে আপনাকে “ad scent.” পরীক্ষা করে দেখতে হবে। “ad scent.” হচ্ছে অ্যাড এবং ল্যান্ডিং পেজে আসার মধ্যে  ধারাবাহিকতাকে নির্দেশ করে। 

নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনার অ্যাডের সাথে ল্যান্ডিং পেজ কি যুক্ত আছে? আপনি কি আগের অ্যাডের মত একই ধরনের কন্টেন্ট দিচ্ছেন? আপনার অ্যাডের ডিজাইন কি একই রকম রয়েছে?  আপনি কি অ্যাডে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সেটি  রক্ষা করছেন? 

অ্যাডের প্রতিশ্রুতি বলতে বোঝানো হয়েছে যে তথ্য দেখে একজন অডিয়েন্স ল্যান্ডিং পেজে যায় সেখানেকি রেলেভেন্ট কন্টেন্ট দেয়া আছে সেই বিষয়টিকে।

এখন, যদি আপনার ল্যান্ডিং পেজের দ্বারা অডিয়েন্স কনভার্সন ভালো না হয়ে থাকে তবে আপনার পেজের অপ্টিমাইজেশন প্রয়োজন। এটি ফেসবুক অ্যাডের বাইরের বিষয়। যা অন্য সময়ে আলোচনা করবো। 

আপনি নতুন অ্যাড সেট তৈরি করেছেন, নতুন অডিয়েন্স টার্গেটিং পরীক্ষা করেছেন, নতুন অ্যাড ক্রিয়েটিভ পরীক্ষা করেছেন, আপনি আপনার ল্যান্ডিং পেজ অপ্টিমাইজ করেছেন কিন্তু  “এটি এখনও কাজ করছে না।”

তবে একটু থামুন। এটি প্রতিটি ডিজিটাল মার্কেটিয়াদের মাঝে মধ্যে ঘটে যা স্বাভাবিক। 

উপরের সবগুলো পন্থা অবলম্বন করেও যদি অ্যাড কাঙ্খিত রেজাল্ট আনতে না পারে তবে আপনি অডিয়েন্সদের যা অফার করছেন সেটি নিয়ে ভাবুন।

হতে পারে যে আপনার অফার অডিয়েন্সদের জন্য কোনো উপকারে আসছে না তাই তারা আপনার অ্যাডে অনীহা প্রকাশ করছে।

যদি সঠিক অফারটি দিতে পারেন তবে আমাদের অ্যাড ট্রাবলশুটিং তার কার্যকারিতা দেখাবে। 

যদি অ্যাড ক্যাম্পেইন ঠিকমতো কাজ করে তবে কি করবেন?  

এখন অ্যাড স্কেলিং প্রসঙ্গে আসি।যখন আপনার অ্যাড ঠিকমতো চলছে এবং আপনি এই অ্যাড থেকে আরো বেশি ফলাফল পেতে চান তখন কি করবেন? 

এই ক্ষেত্রে ২ টি পন্থা রয়েছেঃ  আপনি একটি হচ্ছে ভারটিকেলি স্কেলিং অপরটি হরাইজেন্টাল স্কেলিং। 

ভারটিকেলি স্কেলিং হচ্ছে অ্যাডটির মধ্যে পরিবর্তন সাধন যেমন, বাজেট বৃদ্ধি। আর হরাইজেন্টাল স্কেলিং হচ্ছে নতুন অ্যাড তৈরি বা টার্গেটিং পরিবর্তন করে আরো বেশি অডিয়েন্স রিচ করা। যেমন, লুকালাইক অডিয়েন্স। 

ভার্টিক্যালি স্কেলিং

যখন আপনি অ্যাড ভার্টিক্যালি স্কেলিং করছেন তখন প্রতি ৭ দিনে আপনার বাজেট ৫০% এর বেশি বাড়ানো উচিত হবে না।

অনেকে ২০ ডলার খরচ করে যখন ভাল ফলাফল পাচ্ছেন সেই সময় তারা বাজেট বাড়িয়ে ২০০ ডলারে উন্নিত করেন এবং তাদের আশা থেকে একই অনুপাতে অল্প সময়ে অনেক বেশি পরিমান ফলাফল আসবে। দুর্ভাগ্যক্রমে, খুব দ্রুত বাজেট বৃদ্ধি করা আপনার অ্যাডের অপ্টিমাইজেশন ক্ষমতাকে নষ্ট করে। 

তাই আমরা প্রতি ৭ দিনে ৫০% এর বেশি বাজেট স্কেলিং না করার পরামর্শ দিই। এটি আপনার অ্যাড ক্যাম্পেইনকে হেলদি রাখবে।

তবে খেয়াল রাখবেন, আপনার অ্যাড বাজেট যেন পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন কে ছাড়িয়ে না যায়। 

পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন হচ্ছে অ্যাড থেকে প্রতিটি রেজাল্ট পেতে স্বেচ্ছায় খরচ করা ডলারের পরিমান। 

মনে করুন, আপনি লিড ক্যাম্পেইন রান করেছেন যার প্রতি লিডের জন্য ১০ ডলার খরচ করতে ইচ্ছুক।এখন প্রতিটি লিড পেতে আপনাকে ৯.৫০ বা ৯.৭৫ ডলার খরচ করতে হচ্ছে কিন্তু যখন এটি ১০ ডলারকে ছাড়িয়ে যাবার উপক্রম হবে সেই পয়েন্টকে আমরা বলছি পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন। 

তাই একবার যখন কোন অ্যাড ক্যাম্পেইন এই পয়েন্টে পৌঁছে যাবে তখন সেটি বাজেট স্কেলিং না করা ভালো। এতে আপনার অ্যাড খরচ বেড়ে যাবে এবং বিজনেসের প্রফিট মার্জিন কমে যাবে। 

 

 

হরাইজেন্টাল স্কেলিং

হরাইজেন্টাল স্কেলিং এর বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি আক্ষরিকভাবে আপনার অ্যাডটিকে ক্রমাগত স্কেল করতে পারবেন।.

মনে রাখবেন, বাজার একটি ঘূর্ণায়মান দরজা। আপনার এই বাজারে ক্রমাগত নতুন লোক আসছে যার কাছে আপনি আপনার পণ্য বা পরিষেবা বিক্রি করতে পারবেন। প্রতিনিয়ত নতুন লোকেরা তাদের যে সমস্যা রয়েছে তা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছে, আর সে সমস্যাটির সমাধান আপনার কাছে রয়েছে। আর তাই নিয়মিতভাবে হরাইজেন্টাল স্কেলিং এর মাধ্যমে নতুন নতুন কাস্টমারদের কাছে আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সেল হবার সুযোগ থাকে।  

হরাইজেন্টাল স্কেলিং করার জন্য, আপনি এমন অ্যাড বেছে নিবেন যা ভাল পারফরম্যান্স করছে এবং অ্যাড সেটগুলি ডুপ্লিকেট করে নিবেন। এবার নতুন অ্যাড সেট তৈরি করে পূর্বের বেস্ট পারফর্মার অ্যাড গুলো নতুন অডিয়েন্সদের দেখাবেন।

অডিয়েন্সদের দ্বারা আপনি যে ধরনের একশন নেয়াতে চান তার জন্য তাদের পূর্বের নেয়া একশনের ভিত্তিতে লুকালাইক অডিয়েন্স তৈরি করবেন।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি চান পেজ লাইক ট্রাফিক তবে কোন একটি পেজ লাইক ট্রাফিক অ্যাডের উপর ভিক্তি করে আপনাকে একটি লুকালাইক অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে। 

লুকালাইক অডিয়েন্স তৈরি করতে, বিজনেস ম্যানেজারে “অডিয়েন্স” অপশনে যান। তারপর ” ক্রিয়েট অডিয়েন্স ” এ ক্লিক করুন এবং “লুকালাইক অডিয়েন্স” সিলেক্ট করুন।

সেখান থেকে, আপনি আপনার লুকালাইক অডিয়েন্সের সোর্স সিলেক্ট করবেন। ফেসবুকের অ্যালগরিদম সেই সোর্সের সাথে ইন্টারেক্ট করেছে এমন ধরনের সিমিলার অডিয়েন্সদের খুঁজে বের করবে। 

লুকালাইক অডিয়েন্স তৈরি করার পরে, আপনি আপনার সেরা পারফর্ম করা অ্যাড কপি ডুপ্লিকেট করতে পারেন এবং লুকালাইক অডিয়েন্সে প্রোমোট করতে পারেন। এটি হরাইজেন্টাল স্কেলিং করার একটি সেরা উপায়।

পরিশেষে

আপনি জানলেন অ্যাড পরিচালনার সময় কি ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং কিভাবে সেটি কাটিয়ে উঠে বিজনেসকে প্রফিটেবল করা যায়। আবার যখন আপনার অ্যাড ভালো পারফর্ম করছে সেই সময়ে কিভাবে সেই অ্যাড স্কেলিং করে আরো বেশি রেজাল্ট নিয়ে আসা সম্ভব। 

যে সকল উদ্যোক্তা ফেসবুক অ্যাড পরিচালনা করেন তাদের অনেকেই এই সমস্যাগুলো ফেস করেছেন আবার অনেকে এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু তারা জানেন না কিভাবে এর সমাধান করতে হবে। 

আপনার ফেসবুক অ্যাড যদি কাঙ্খিত ফলাফল আনতে ব্যর্থ হয় অথবা অ্যাড একই স্থানে স্থির থাকে তবে এখুনি সচেতন হোন, ফেসবুক অ্যাড সংক্রান্ত যে কোনো ধরনের সমস্যার সমাধানে পরামর্শ পেতে কমেন্ট করুন। 

লাইক-ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় পোস্ট