কিভাবে আপনার ইকমার্স বিজনেসকে কম্পিটিশন থেকে আলাদা করবেন?

কিভাবে আপনার ইকমার্স বিজনেসকে কম্পিটিশন থেকে আলাদা করবেন?

আপনার ইকমার্স বিজনেসকে প্রতিযোগীদের থেকে আলাদাভাবে তুলে ধরার সক্ষমতা বিজনেসের সফলতা নির্ধারণ করে দেয়।  

বাংলাদেশেই প্রায় ২০০০ ই কমার্স সাইট রয়েছে যারা একটিভ বিজনেস করছে।  সারা বিশ্বে রয়েছে ২৪ মিলিয়ন ই কমার্স সাইট। ই কমার্স সাইটের এই মহা সুমুদ্রে আপনাকে জানতে হবে কীভাবে সবার থেকে আলাদা থেকে কাস্টমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হয়।  

প্রতিবার কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেবার মুহূর্তে কাস্টমার অবশ্যই যেন আপনার বিজনেসটিকে সবার আগে স্মরণ করে।

একটি ই কমার্স বিজনেস বড় হয়ে উঠে তখনই যখন কাস্টমারদের একটা বড় অংশ আপনাকে সবার থেকে আলাদা ভাবে মনে রাখতে পারে।

   

কাস্টমারদের সমস্যা সমাধানে উপযুক্ত প্রোডাক্ট তৈরি করুন

সবাই ফ্যাশন আইটেম সেল করছে, আপনিও একই প্রোডাক্ট নিয়ে বিজনেস করছেন। তাহলে আপনার সাথে তাদের পার্থক্য কি?

এই প্রশ্নের উত্তর যদি আপনার কাছে থাকে তবে আপনি সবাইকে পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সক্ষম হবেন । 

একটি উদাহরন দেয়, Sandha Collections bd একটি অনলাইন ফ্যাশন আইটেম রিসেলার। তারা ওয়েস্টার্ন ড্রেস সেল করেন। তাদের কাস্টমার তাদের ছাড়া আর অন্য কারো কাছে থেকে কেনাকাটা করেন না, যদিও তাদের  কেউ কম মূল্যে প্রোডাক্ট অফার করে। 

সে এমন কি কৌশল অবলম্বন করেছিলো যে কাস্টমার অন্য শপে কম মূল্য পাওয়া সত্তেও তার কাছেই কেনাকাটা করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করলো ?

খুব সাধারন একটি চিন্তা কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া ব্যাপক। 

তার USP (unique selling proposition) হচ্ছে, তিনি প্লাস সাইজের মেয়েদের ড্রেস সেল করেন।

যারা একটু হেলদি তারা তাদের সাইজের ড্রেস সবার কাছে পান না।

কিন্তু  Sandha Collections bd তাদের সাইজের ড্রেস নানান সোর্স থেকে সংগ্রহ করে কাস্টমারদের সরবরাহ করেন। 

প্লাস সাইজ মেয়েরাও চায় একটি দারুন ড্রেস পরতে, নিজেকে সুন্দর দেখাতে।

কিন্তু ফ্যাশান ডিজাইনাররা বেশিরভাগ স্লিম মেয়েদের জন্য  ড্রেস তৈরি করে, প্লাস সাইজের ড্রেস থাকে খুব কম। তাই ড্রেস পছন্দ হলেও হেলদি মেয়েরা সবার  থেকে কিনতে পারে না। 

এখানেই   Sandha Collections bd প্লাস সাইজ কাস্টমারদের ডিজাইন ড্রেসের সমস্যার সমাধান করে বাড়িয়ে তুলেছেন বেচাকেনা। 

মূল্য বৃদ্ধি করুন

মূল্য কমালেই কি বিজনেস বেশি হয়? এরাবিয়ান হর্সের ডেউটিনের একটি অ্যাড খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। তারা বলেছিল জিনিস যেটা ভালো দাম তার একটু বেশি। মানুষ এটিকে গ্রহন করেছিলো। কারণ গুনগত মান নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হলে কাস্টমার তার জন্য মূল্য দিবে। 

তবে এখানেও কৌশল রয়েছে। সেটি হচ্ছে বিশেষত্ব। ধরুন, আপনি ব্যাকপ্যাক সেল করেন।

এখন আপনি বললেন আপনার তৈরি ব্যাগ ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি।

কি কি সুবিধা এই ব্যাগ তাদের দিতে পারে সেটি বললেন। আর দামটি বাড়িয়ে দিলেন।

ধরুন সাধারন ব্যাগ ৫০০ টাকা আর আপনার তৈরি ব্যাগ ৮০০ টাকা কারণ এটি তাদের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি। 

তারা সবার থেকে আপনাকে বেশি গুরুত্ব দিবে কারণ আপনি একটি সুনির্দিষ্ট গ্রুপকে টার্গেট করেছেন। 

আরও একটি উধাহরন দেয়া যাক, আপনি অফিসের জন্য হোলসেলে কলম সেল করেন।

প্রতি বক্সে ১২ টি কলম থাকে এক বক্স কলমের দাম ৬০ টাকা আপনার কেনা বক্স প্রতি ৫০ টাকা অর্থাৎ প্রতিটি কলম ৫ টাকা।

লাভ বক্সপ্রতি ১০ টাকা আর কলম প্রতি ০.১৬ পয়সা। 

এবার আপনি অফিসিয়াল গিফট দেবার জন্য কলম সেল করা শুরু করলেন, একটু প্রিমিয়াম লুক দিতে দারুন একটি পাকেজিং সাথে আকর্ষণীয় ডিজাইন।

এবার আপনি প্রতিটি কলম সেল করছেন ৬০ টাকা।

বক্স  ৭২০ টাকা। প্রতি বক্স কেনা  ৩৬০ আর সাথে পাকেজিং কলম প্রতি আরও ১০ টাকা তাহলে বক্স প্রতি দাম হয় ৪৮০ টাকা।

বক্স প্রতি লাভ ২৪০ টাকা। আর কলম প্রতি ২০ টাকা। 

গিফট করার জন্য কেউ ৫ বা ১০ টাকার কলম কেনে না।

এভাবে বিশেষায়িত প্রোডাক্ট সেল করে  মূল্য বাড়িয়ে বেশি লাভ করতে পারেন। 

সার্ভিস কোয়ালিটি বাড়িয়ে তুলুন, কাস্টমারদের মনে জায়গা করুন

কাস্টমার সার্ভিস মানেই ফোন কথা বলা নয়, কাস্টমারদের অনলাইন কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করা কাস্টমার সার্ভিসের একটি বড় দায়িত্ব। 

আপনি কাস্টমারদের যত সম্ভব ঝামেলা কম করে কেনাকাটা করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সাহায্য করুন।

ই কমার্স সাইটে সাইন আপ না করলে তাদের চাপ দিবেন না। অনেকে ফরমের সব গুলো ফাকা ঘর পুরন না করলে চেকআউট করতে দেন না। 

কাস্টমার কেনাকাটা করার পদ্ধতিতে বিরক্ত বোধ করলেই আপনাকে ছেড়ে যাবে। অনলাইনে কি আর শপের অভাব পড়েছে যে আপনার থেকেই কিনতে হবে।

কি করবেন তাদের ধরে রাখতে? তাদের মনে জায়গা তৈরি করুন প্রথমে তারপরে তাদের যা বলবেন তারা তাই করবে।

কারণ, তখন কাস্টমার আপনাকে ভালবাসবে।

তাদের অর্ডার করা প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেবার সময় সারপ্রাইজ গিফট হিসেবে কিছু না কিছু দিন। ফ্রি পেতে কে না ভালোবাসে তবে যদি তাদের ফ্রি বলে দেন তবে কেউ কেউ অখুশি হতে পারে, তাই বলুন গিফট।

মনে আছে ছোট বেলায়, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় সামান্য  একটি প্লাস্টিক মগ বা কাঁচের প্লেট পুরস্কার পেলে নিজেকে অনেক গর্বিত মনে হতো। 

এভাবে কাস্টমারদের মনে আবেগ তৈরি করুন।  ধীরে ধীরে আরও বেশি সেল করুন। 

ইউজফুল প্রোডাক্ট বান্ডিল অফার করুন

আপনি যদি একজন ষ্টেশনারী আইটেম সেলার হন তবে আলাদা আলাদা প্রোডাক্ট সেল করার পাশাপাশি বান্ডিল আকারে প্রোডাক্ট সেল করুন। কীভাবে? 

কলম, নোটপ্যাড, স্টেপলার একসাথে একটি বান্ডিল হতে পারে। খাতা, কলম, পেন ড্রাইভ একসাথে বান্ডিল  হতে পারে। 

কাস্টমারদের প্রতিদিনের প্রয়োজনকে সহজ করে দিন, তাদের একই ধরনের প্রোডাক্ট আলাদা আলাদা ভাবে না কিনে একসাথে কিনতে উৎসাহী করুন।

তাতে এক কাস্টমারের কাছে একসাথে বেশি সেল করার সুযোগ থাকবে। 

আর এই বান্ডিল অফারের প্রোডাক্টগুলো যেহেতু তাদের লাগেই ফলে তারা সেগুলো আগ্রহ নিয়েই কিনবে।

আবার একই পরিবারে আলাদা আলাদা সদস্য একটি বান্ডিল কিনে তাদের দরকারি প্রোডাক্টগুলো ভাগ করে নেবার সুবিধা পেতেও কিনতে আগ্রহী হবে। 

 

 

পরিমানে কম সেল করুন

আপনি যেই প্রোডাক্টই সেল করুন না কেন সেগুলির লিমিটেড এডিশন সেল করতে চেষ্টা করুন।

লিমিটেড এডিশনের প্রতি কাস্টমারদের ঝোঁক সবসময় ছিলো এখনো আছে। 

লিমিটেড এডিশনের আথে যদি যোগ হয় লিমিটেড কোয়ানটিটি তবে কাস্টমারের মনে  FOMO ( Fear of missing) ভালোমতো প্রভাব ফেলবে। কাস্টমার প্রোডাক্টটি দ্রুত সেল হয়ে যাবার সম্ভবনায় না পাবার ভয়ে কিনবে। 

এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পরে প্রোডাক্ট গুলো স্টক আউট দেখান।

প্রয়োজনে কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে আবার রেডি স্টক দেখান।

এতে করে কাস্টমার বুঝেব আপনার শপে সত্যিকার অর্থে বেশিদিন প্রোডাক্ট থাকে না আর প্রতি নিয়ত নতুন প্রোডাক্ট আসে। 

প্রোডাক্ট নিয়ে গল্প বলুন

প্রোডাক্টের সুবিধা আর দাম এগুলো ছাড়া আর কিছুই কেউ বলেন না। কাস্টমার এই একই ধরনের কনটেন্ট দেখতে দেখতে ক্লান্ত তারা আপনাকে আলাদা করবে কীভাবে বুঝে উঠে না। 

কিন্তু যদি প্রোডাক্টের তথ্য দেন গল্পের মাধ্যমে যেমনটি এই ই কমার্স সেলার করেছেন, 

কাস্টমারদের মনে এই ধরনের গল্প আগ্রহের জায়গা তৈরি করে। আপনি প্রোডাক্টের ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে কথা বলতে পারেন কারণ অনেকেই প্রোডাক্ট কেনে কিন্তু এর সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি জানে না। 

তাদের জানান কীভাবে একটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ উপযোগিতা পাওয়া সম্ভব। কেউ চায় না তার খরচ করা টাকা বিফলে যাক। 

পরিশেষে, 

ভিন্ন চিন্তা কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণ করে, আর মনোযোগ আকর্ষণে বাড়ে বেচাকেনা।

ই কমার্স বিজনেসের সফলতা মানেই কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণের এই লড়াইয়ে নিজের দক্ষতার প্রমান দেয়া। 

ই কমার্স দুনিয়ায় পাত্তা আদায় করতে হলে নিজেকে করে তুলতে হয় বিশেষায়িত। তাহলেই কাস্টমারদের দৃষ্টি আপনার দিকে নিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।  

কাস্টমার সাইকোলোজি: কীভাবে কাস্টমার অনলাইন কেনাকাটায় আকৃষ্ট হয়

কাস্টমার সাইকোলোজি: কীভাবে কাস্টমার অনলাইন কেনাকাটায় আকৃষ্ট হয়

প্রতিবার কেউ যখন অনলাইনে কেনাকাটা করে তার পেছনে প্রচুর মনোবৈজ্ঞানিক কারণ কাজ করে যাকে আমরা কাস্টমার সাইকোলোজি বলি। সুতরাং কীভাবে মানুষের মস্তিষ্ক কাজ করে এবং কীভাবে লোকেরা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় তা বুঝতে হবে যদি আপনি অনলাইন বিজনেসটির  সাফল্যে নিশ্চিত করতে চান। 

ক্রেতার মনোবিজ্ঞান বোঝা বিক্রয় করার চেয়ে আরও বড় কিছু।

এটি আপনার কাস্টমারদের আরও ভালো উপায়ে বোঝা ও তাদের সমস্যার সমাধান করার মাধ্যমে  বিজনেসে সেল বাড়াতে সহায়ক হয়।

 

ওয়েবসাইট ডিজাইনের মনোবিজ্ঞান  

মানুষ কারো ছবি পছন্দ করে তার মুখমণ্ডল দেখে। মানুষ একটি ছবি তখন পছন্দ করে যখন ছবির চরিত্রটি পছন্দ হয়। আমাদের ব্রেইন মুখ দ্বারা প্রকাশিত প্রতিক্রিয়া বোঝার উপযোগী করে ডিজাইন করা। 

মুখের অভিব্যক্তিগুলি সর্বজনীন এবং আবেগের সাথে সংযুক্ত। আপনার পণ্যের প্রতি ইতিবাচক অনুভূতি তৈরির জন্য এটি দুর্দান্ত উপায় হতে পারে।

 অন্যের  হাসি দেখলে আমরা ভাল অনুভব করি কারণ আমাদের মস্তিষ্কের মিরর নিউরনগুলি প্রদর্শিত চিত্রের মতো অনুভূতি অনুভব করতে আমাদের সহায়তা করে।

 

সুতরাং আপনার প্রোডাক্টটির মার্কেটিং করতে হাসিখুশি মডেলের চিত্র প্রদর্শন করেন দেখবেন  দর্শকদের কাছে আপনার ব্র্যান্ডটি সম্পর্কে ভাললাগা তৈরি হবে। 

 

রঙ অনুভূতি এবং প্রতিক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত

রঙ আমাদের মেজাজ এবং আচরণগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই আপনার ব্র্যান্ড এবং ওয়েবসাইটের জন্য কি ধরনের রঙ পছন্দ করেছেন সেটি  বিবেচনায় নিয়ে আসা বুদ্ধিমানের কাজ। 

প্রতিটি রঙের জন্য আমাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে সেটি নির্ভর করে মূলত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর।  তবে সাধারনত কোন রঙ কি সংকেত বহন করে নিচে তার একটি তালিকা দেয়া হলো,

  • লাল – শক্তি, শক্তি এবং প্রেম
  • হলুদ – আনন্দ, সুখ এবং অনুপ্রেরণা
  • সবুজ – প্রকৃতি, স্বাস্থ্য এবং অর্থ
  • নীল – আস্থা, শান্তি এবং দায়িত্ব
  • বেগুনি – রয়্যালটি, সম্পদ এবং আধ্যাত্মিকতা
  • গোলাপী – যত্নশীল, লালনপালন এবং ভালবাসা
  • কালো – গুরুতরতা, রহস্য এবং দুঃখ 
  • সাদা – শান্তি, পরিষ্কার এবং সরলতা

আপনার গ্রাহকরা কোন রঙ কীভাবে গ্রহন করে তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। আপনার যদি আন্তর্জাতিক শ্রোতা থাকে তবে এটি আরো বেশি  গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, রঙের অর্থ বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। 

আপনি এমন রঙবেছে নিতে চান না যা আপনার সম্ভাব্য কাস্টমারদের শোক বা বিপদের সংকেত প্রদান করে ।  সাথে সংযুক্ত করে।

প্রায় ৪% পুরুষ এবং ০.৫% মহিলার কিছুটা বর্ণ অন্ধত্ব রয়েছে। কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ করতে শুধু মাত্র রঙের উপর নির্ভর করবেন না; পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্ন এবং দরকারি শেপ গুলোর  ব্যবহার করুন।

ওয়েবসাইটে লেখাগুলোর মধ্যে পরিমিত পরিমান ফাঁকা জায়গা রাখুন এবং কনটেন্ট গুলো দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে তুলুন।

ওয়েবসাইটটি আরো বেশি কাস্টমারদের কাছে গ্রহনযোগ্য কীভাবে করতে পারেন জানতে লিংকে ক্লিক করে পড়ুন এখানে।

গ্রাহকরা ছবি এবং ভিডিওগুলির সাথে সংযুক্ত হয়

ভাল ছবিগুলি দেখতে সুন্দর দেখানোর চেয়ে আরও বেশি কিছু করে; এটি কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণ করে, আবেগকে আহ্বান জানায় এবং ক্রেতাদের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। 

আমাদের ব্রেইন লেখার চেয়ে ছবিগুলো ৬০,০০০ গুণ বেশি দ্রুত প্রসেস করে। তাই কাস্টমারদের নজরে  আপনার ওয়েবসাইটে ছবিগুলো সবার প্রথমে নজরে আসে। 

যদি সম্ভব হয় তবে স্টক ছবিগুলির চেয়ে নিজের ব্র্যান্ডযুক্ত ছবিগুলি ব্যবহার করুন। স্টক ফটোগুলি আপনার গ্রাহকদের চোখে নকল মনে হতে এবং সেটির উপর আস্থা কমে যেতে পারে। 

যেহেতু আপনি ফিজিক্যাল স্টোরের সাথে প্রতিযোগিতা করছেন, তাই পণ্যের যতবেশি ও বিশ্বাসযোগ্য ছবি প্রদর্শন করা সম্বব সেটি নিশ্চিত করুন। 

কাস্টমার আপনার প্রোডাক্টগুলো স্পর্শ করতে বা অনুভব করতে পারে না, তাই একটি প্রোডাক্টের বিভিন্ন কোণ থেকে ছবি যুক্ত করুন। 

ভিডিও  আপনার কাস্টমারদের সাথে সংযোগ করার আরো একটি দুর্দান্ত উপায়।

এটি অডিও ভিজ্যুয়াল ফলে কাস্টমারদের মনে ভিডিও কনটেন্ট বেশি স্মরণীয় হয়। মানুষ কোনও লেখা পড়ার সময় মনে রাখে ১০%  কিন্তু ভিডিও দেখার সময় তারা সেই কনটেন্ট ৯৫% বেশি মনে রাখতে পারে ।

ভাল নকশা বিশ্বাসযোগ্যতার সাথে সম্পর্কিত

স্ট্যানফোর্ড ওয়েব গ্রহণযোগ্যতা প্রকল্প মতে , প্রায় অর্ধেক সংখ্যক কাস্টমার একটি ওয়েবসাইটের ভিজুয়াল ডিজাইন উপর ভিত্তি করে একটি ওয়েবসাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করে। 

রঙ, ফন্ট, লেআউট, ছবি এবং নেভিগেশনের মতো উপাদানগুলি আপনার সাইটটিকে দর্শকদের কাছে প্রফেশনাল হিসাবে গ্রহণযোগ্য করে। 

এখানে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে:

  • অস্পষ্ট লেখা ও চিত্রগুলি এড়িয়ে চলুন। কাস্টমার মনে করেন পেশাদারিত্বের অভাবের সাথে এই ধরণের ভুলগুলি হয়। 
  • পড়াতে সহজ এমন ফন্ট পছন্দ করুন। এটি গুরুত্বপূর্ণ যে দর্শক আপনার সমস্ত কনটেন্ট পড়তে পারেন। 
  • অগোছালো ভাব এড়িয়ে চলুন। আপনার ওয়েবসাইটে অহেতুক  ছবি এবং লেখা দিয়ে ভরিয়ে রাখবেন না। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ছবিগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। 
  • সামঞ্জস্য বজায় রাখুন। আপনার সাইট জুড়ে একই রঙ, ফন্ট এবং ডিজাইন শৈলী ব্যবহার করুন। এটি আপনার দর্শকদের বুঝতে সাহায্য করে যে তারা সঠিক জায়গায় আছেন। 

মনোবিজ্ঞান কীভাবে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে

মানুষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্ক্রীন স্ক্যান করে। 

চোখের ট্র্যাকিং হলো কোনও ওয়েবসাইট দেখার সময় লোকেরা কোথায় দেখে এবং কোন ক্রমে সেগুলি পরিমাপ করে সেটির প্রক্রিয়া। 

ওয়েবসাইট ডিজাইনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দর্শক কীভাবে অনলাইনে আচরণ সেটি অবিশ্বাস্যভাবে আপনার জন্য মূল্যবান। 

বেশিরভাগ মানুষ এফ-প্যাটার্নে একটি ওয়েবসাইট দেখে ।

আপনার কাস্টমার যখন আপনার সাইটে যায় তারা বাম থেকে পড়তে শুরু করে ডানে চলে আসে, আবার নিচে থেকে শুরু করে বাম থেকে ডানে আসে এবং এসব জায়গাতে তারা  আকর্ষণীয় তথ্য বা ভিজ্যুয়াল খোঁজে। নিচের চিত্রটি দেখুন, 

সুতরাং পৃষ্ঠার শীর্ষে বা “ভাঁজের উপরে” সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রেখে শুরু করুন।

স্পষ্ট শিরোনাম এবং বুলেট পয়েন্ট সহ আপনার বিষয়বস্তু এমন একটি শ্রেণিবিন্যাসে সজ্জিত করুন যা স্ক্যান করা সহজ। 

আমাদের মস্তিষ্ক অলস এবং শক্তি সঞ্চয় করার জন্য কোনও কার্য সম্পাদনের দ্রুততম উপায়ের সন্ধান করে।তারা যেখানে যে তথ্য আসা করে যদি তা না পায় তবে  আপনার ওয়েবসাইটটি পুরোপুরি ছেড়ে চলে যেতে পারে।

  • নেভিগেশন রাখুন ওয়েবসাইটের শীর্ষে 
  • শিরোনাম, সাইডবার বা ফুটারের মতো দৃশ্যমান স্থানে সার্চ অপশন রাখুন 
  • একটি কন্টাক্ট পৃষ্ঠা এবং এবাউট পৃষ্ঠা রাখুন
  • ক্লিক করার সময় হোম পেজে ফিরে যাওয়ার জন্য একটি লোগো রাখুন 
  • ট্যাগলাইন, চিত্র বা অনুরূপ কিছু সহ আপনার সাইটের উদ্দেশ্য এখনই
  • ফুটারে যোগাযোগের ঠিকানা রাখুন

আপনার সাইটের প্রত্যেকের মতো দেখতে হতে হবে এমনটি নয়। আপনার নতুন কিছু চেষ্টা করা উচিত। 

তবে আদর্শ ওয়েবসাইটের  চর্চা থেকে খুব দূরে সরে যাবেন না এতে কাস্টমার বিভ্রান্ত হতে পারে। 

মানুষ একটি প্রমান সাইজের ভাগে তথ্য দেখতে পছন্দ করে 

আমাদের মস্তিস্ক কেবলমাত্র একবারে নির্দিষ্ট পরিমাণের তথ্য প্রক্রিয়া করতে পারে, সুতরাং আপনার সাইটের দর্শকদের এমন ভাবে তথ্য দিন যেন তারা সেটি গ্রহন করতে পারে। 

অনেকগুলো বিষয় নিয়ে তৈরি একটি কনটেন্ট ভাগ ভাগ করে লিংক আকারে দিন, দর্শক যেটি তার জন্য দরকারি মনে করবে সেটিতে ক্লিক করে বিস্তারিত পরবে। 

ওয়েবসাইটের  FAQ লেখার সময় এই পদ্ধতি অনেকেই ব্যবহার করে।   

লেখাগুলো বুলেট পয়েন্ট বা ক্যাটাগরি আকারে দিলে আপনার দর্শক ঠিক যা সন্ধান করছে তা দ্রুত খুঁজে পাবে এবং সহজে তথ্য স্কিম করতে পারবে। 

বুলেট পয়েন্ট বা ক্যাটাগরি  ছাড়াও, আপনি  মূল্য, রেটিং, রঙ, আকার এবং আরও অনেক কিছু উপর আপনার প্রোডাক্টগুলো ফিল্টার করার অনুমতি দিতে পারেন।

মানুষের মন স্থির থাকে না

অনেক সময় আমরা ইউটিউবে একটি ভিডিও খুঁজতে যেয়ে অকারনে অন্য সব ভিডিও দেখি যা আমি দেখবো মনে করে আসি নি।

অনেক সময় আমরা কি তথ্য সন্ধান করছি সেগুলি পর্যন্ত ভুলে যায়। 

আমাদের মন  ৩০% সময় অকারনে ঘুরে বেড়ায় । মনের এই ভ্রমন আমাদের মস্তিষ্ককে বিশ্রামে সহায়তা করে এমনকি সৃজনশীলতার উচ্চ স্তরে নিয়ে যেতেও সাহায্য করে। 

সুতরাং, আপনার ওয়েবসাইটের দর্শকরা বিভ্রান্ত হয়ে এদিক ওদিক ঘুরবে তা জেনে আপনার ওয়েবসাইটটি তৈরি করুন।

কার্যকর নেভিগেশন তৈরিতে মনযোগী হন যাতে করে যেখান থেকে তারা শুরু করেছিলেন সেখানে আবার ফিরে যাওয়ার সহজ উপায় তারা খুঁজে পায়।

 

 

ধীরগতি ও প্রতিক্রিয়াবিহীন ওয়েবসাইট কেউ পছন্দ করে না 

গবেষণায় দেখা গেছে যে একটি অনুরোধ করার দুই সেকেন্ডের মধ্যেই মানুষ প্রতিক্রিয়া আশা করে। যদি এটি দুই সেকেন্ডের বেশি সময় নেয় তবে আমাদের মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায় । 

যদিও এই নীতিটি আমাদের জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু  ওয়েবসাইট ডিজাইনের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ ভুমিকা রাখে। 

যদি আপনার সাইটটি লোড হতে খুব বেশি সময় নেয়, গ্রাহকরা হতাশ হবেন, চলে যাবেন এবং অন্য কোথাও অনুরূপ পণ্য কিনবেন। 

বিভিন্ন ডিভাইসে ওয়েবসাইটের আকার ভিন্ন হয়, খেয়াল রাখতে হবে যেন সকল ডিভাইসে এটি ব্যবহার উপযোগী হয়। কিন্তু আপনার পক্ষে সবগুলো ডিভাইস রাখা সম্ভব নয়। সমাধান হলো এই Responsive Design Checker টুলস। 

এখন কোন ডিভাইসে আপনার ওয়েবসাইট কেমন দেখাচ্ছে এক ক্লিকে দেখে নিন সবগুলো ডিভাইস না কিনেই। 

অনেক বেশি বিকল্প মানুষকে বিহ্বল করে

আপনি যত বেশি পছন্দ করার স্বাধীনতা কাস্টমারদের দিবেন সিদ্ধান্ত নিতে তাদের তত বেশি সময় লাগবে। 

তারা  কি করবেন বুঝে উঠতে পারবেন না। 

একটি শপে টুথপেস্টের অনেকগুলো বিকল্প থাকলে কেমন লাগবে আপনার।

যেমন, দাঁত ঝকঝকে করে, এনামেল মেরামত করে, সংবেদনশীল দাঁত সুরক্ষা দেয়, কেমিক্যাল মুক্ত এমন অনেক ধরনের বিকল্প থাকলে আপনি কোনটি কিনতে চাইবেন?

সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে তাই না। 

আবার কার্ট চেকআউট করার সময় কাস্টমারদের অনেকগুলো তথ্য প্রদান করা লাগে এতে করে তারা বিরক্ত হয়।

আপনি বিকল্প হিসেবে ফেসবুক, গুগল দিয়ে চেকআউট করার প্রসেস রাখতে পারেন তাতে করে তাদের তথ্য পুরন করার ঝামেলায় পড়তে হবে না । 

ভাষা ও মনস্তত্ত্ব

কাস্টমার জরুরি এবং গ্যারান্টি এই শব্দগুলোতে বেশি সাড়া দেয়

জরুরী শব্দটি মানুষের হাতছাড়া হবার আশঙ্কা জাগিয়ে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে যে দুষ্প্রাপ্য আইটেমগুলোর মূল্য বেশি রাখা হয়। আপনার কাস্টমার যদি উদ্বিগ্ন হন যে তারা সেই প্রোডাক্টটি হারাতে পারেন তবে উচ্চ-মূল্যে দিয়ে সেটি দ্রুত কিনবেন সেই সম্ভাবনা বেশি।

 

চলুন পরিচিত হয় সেই শব্দগুলোর সাথে, 

  • Hurry
  • Limited
  • Right away
  • Running out
  • Now
  • Last chance

গ্যারান্টি কাস্টমারদের ক্লাইন্টে রূপান্তর করার জন্যও সহায়ক। কাস্টমার জানতে চান যে অন্যরা আপনার সংস্থাকে বিশ্বাস করছে কিনা। তারা এটিও দেখে আপনি তাদের আস্থা প্রদান করছেন কীভাবে। 

কাস্টমারদের প্রশংসাপত্র এবং পর্যালোচনা বেচাকেনায়  একটি বড় প্রভাবক।কাস্টমার একটি ইতিবাচক পর্যালোচনা রয়েছে এমন একটি বিজনেসে ৩১% বেশি ব্যয় করতে ইচ্ছুক !

এখন থেকে আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট লেখার সময়, নিচের শব্দগুলো ব্যবহার করুন:

  • Guarantee
  • Certified
  • Money back
  • Genuine
  • Proven
  • Authentic

মানুষ গল্প শুনতে পছন্দ করে

প্রত্যেকে ভালো গল্প পছন্দ করে। আপনার ওয়েবসাইটের গল্পগুলো দ্বারা আপনার ব্র্যান্ডে সত্যতা এবং ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে। এগুলি মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং কাস্টমারদের আপনার প্রোডাক্টগুলো মনে রাখতে সহায়তা করে।

যখন আমরা একটি ভাল গল্প শুনি তখন আমাদের সুখানুভুতির হরমোন অক্সিটোসিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এটি আমাদের আস্থা এবং সহানুভূতির অনুভূতি বৃদ্ধি করে এবং একটি প্রোডাক্ট এবং ব্র্যান্ডের প্রতি আমাদের মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

Rokomari.com বই বেচাকেনা করে। তারা ব্লগে গল্পের মাধ্যমে কাস্টমারদের কাছে বইয়ের লিস্ট তুলে ধরে। কাস্টমার এতে ভালো বোধ করে এবং অর্ডার করে। কাস্টমার মনে করেন, তাদের কেনার জন্য বলা হচ্ছে না তারা স্বাধীনভাবে আনন্দের সাথে কেনাকাটা করতে পারছেন। 

কাস্টমারদের সাফল্যের গল্পগুলো বলুন। বিশেষ করে সংবেদনশীল বা আবেগের সাথে যুক্ত গল্পগুলো তুলে ধরুন। 

আপনার ব্র্যান্ডের চারপাশের উপাদানগুলো নিয়ে একটি গল্প তৈরি করুন। হতে পারে বিজনেস শুরুর গল্প বা প্রতিষ্ঠাতার বিষয়ে অজানা তথ্য নিয়ে গল্প।  

প্রোডাক্ট নিয়ে গল্প বলতে পারলে দারুন হয়। কেন কীভাবে সেই প্রোডাক্ট তৈরি হলো। সেটি কি ধরনের সমস্যার সমাধান দিতে পারে ইত্যাদি। 

অন্যান্য মনস্তাত্ত্বিক কারণ

গ্রাহকরা অল্প ক্রয় দ্বারা কেনাকাটা শুরু করতে ভালোবাসে 

আপনি যদি আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস প্রথমবারের কাস্টমারদের কাছে মার্কেটিং করেন তবে ছোট কিছু দিয়ে শুরু করায়  ভাল।

ছোট কেনাকাটায় ঝুঁকি কম থাকে ও কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিসকে পরীক্ষা করতে পারে, তাতে পরবর্তী সময়ে তার কাছে প্রোডাক্ট সেল করতে আপনাকে বেগ পেতে হয় না। এটিকে foot-in-the-door technique বলে। 

এটি ব্যবহারের জন্য কয়েকটি উপায়, 

  • ছাড়ের বিনিময়ে তার ইমেল এড্রেস চান। দেখা গেছে  তিনজনের মধ্যে একজন ইমেল সাবস্ক্রাইবার সেই  ব্র্যান্ডটি থেকে কিছু না কিছু কেনে। 
  • ছোট আকারের প্রোডাক্টগুলো সেল করতে চেষ্টা করুন।  কাস্টমার ঝুঁকি নিয়ে ছোট পরিসরে আপনার প্রোডাক্ট ব্যবহার করার সুযোগ পাওয়ায়  ভাল বোধ করবেন।
  • বিনামূল্যে ট্রায়াল অফার করুন। পরীক্ষায় দেখা যায়, দশজন বিনামূল্যে  ট্রায়াল সুযোগ গ্রহনকারীর  ছয়জন ট্রায়াল অফারকারী ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করেছে। 

 

কাস্টমারদের নতুন প্রোডাক্ট সম্পর্কে শিক্ষিত করে তুলুন 

আপনি যদি এমন কোনও ব্র্যান্ডের নতুন প্রোডাক্ট সরবরাহ করেন যা ব্যবহারে আপনার কাস্টমারেরা অনভিজ্ঞ। তবে তাদের অভ্যস্ত করতে আপনি প্রশিক্ষণ প্রদান করুন। 

আপনার কাজটি হলো কাস্টমারদের আপনার প্রোডাক্ট সাফল্যের সাথে ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য সরবরাহ করা।

অন্যথায়, তারা অসন্তুষ্ট হবে বা মূল্য ফেরত চাইবে অথবা কেনাকাটা না করেই চলে যাবে। 

কীভাবে আপনি কাস্টমারদের শিক্ষিত করে তুলতে পারেন, 

  • কীভাবে পণ্য ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে ভিডিও সহ ফ্রি টিউটোরিয়াল অফার করুন।
  • প্রোডাক্টের ইউজ কেস ও  কাস্টমারদের  সাফল্যের গল্প সহ ব্লগ পোস্ট লিখুন।
  • পণ্য অর্ডার এবং  ডেলিভারি দেবার সময়ের মধ্যে প্রোডাক্টটি নানাবিধ বিষয়ে একটি সিরিজ ইমেল করুন।  
  • অনলাইন হেল্প ডেস্ক চালু রাখুন।

মানুষ পুরষ্কার পেতে পছন্দ করে

লয়ালিটি কার্ড, গিফট ভাউচার, কুপন আছে এমন ব্র্যান্ডগুলোকে আমরা কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়। 

কিন্তু কেন?

কারণ আমরা পুরুস্কার পেতে ভালবাসি। এই পদ্ধতি একটি ব্র্যান্ডের সাথে কাস্টমারের সম্পর্ক লম্বা সময় ধরে রাখতে সাহায্য করে।

তাই কাস্টমারদের কেনাকাটায় প্রভাবিত করতে তাদের বেশি বেশি পুরস্কৃত করুন। 

কাস্টমার  কিছু সাধারণ বিষয়গুলির দ্বারা কেনাকাটার  সিদ্ধান্ত নেন। সাম্প্রতিক জরিপে কাস্টমার বলেছেন যে নিম্নলিখিত কারণগুলো তাদের ক্রয়ের সিদ্ধান্তগুলিকে প্রভাবিত করেছে:

  • Free delivery
  • Coupons and discounts
  • Reviews from other customers
  • An easy return policy
  • Loyalty points
  • A quick, easy online checkout process

এটি লক্ষণীয় যে কাস্টমার অনেকসময় ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অচেতন ভাবে।

স্নায়ুবিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে আমরা কেবল আমাদের মস্তিস্কের প্রায় ২০% সচেতনভাবে ব্যবহার করি, তাই এমন বিভিন্ন বিষয় রয়েছে যা আমাদের সিদ্ধান্তগুলিকে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে আমরা  অবগতই নই।

তারা মনে করেন আবেগ থেকে মানুষ বেশিরভাগ সময়ে মানুষ কেনাকাটার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন ।

আবেগগুলি এত গুরুত্বপূর্ণ যে স্নায়ুবিজ্ঞানীরাও আবিষ্কার করেছিলেন যে যাদের মস্তিস্ক আবেগ তৈরি করতে পারে না তারা সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম।

তাই প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের মার্কেটিং সফলতায় কাস্টমারদের আবেগকে মূল্যায়ন করুন। 

পরিশেষে,

কাস্টমারদের মনোবিজ্ঞান বোঝা প্রয়োজন কেবল বিক্রয় বাড়ানোর জন্য নয়।

এটি আপনাকে কাস্টমারদের সাথে গভীরভাবে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। যা আপনার প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করার মাধ্যমে কেনাকাটার পরিমান বাড়িয়ে তোলে। 

কাস্টমারদের ঠকানোর উদ্দেশ্যে নয়, তাদের সাথে যোগাযোগের উন্নতির সাধনে এটিকে সরঞ্জাম হিসাবে ব্যবহার করুন। আপনারা এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি নিয়ে সামান্য কাজ করলে  আরও বিক্রয় বাড়বে সাথে কাস্টমারও খুশি থাকবে। 

সফলদের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কৌশল: ফেসবুক বিজনেস পেজ

সফলদের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কৌশল: ফেসবুক বিজনেস পেজ

ফেসবুক এলগোরিদম আপনার বিজনেস পেজকে অপছন্দ করে (যতক্ষণ না আপনি তাদের পেইড কাস্টমার হচ্ছেন)! আপনার মনে হতে পারে, এটি অবাস্তব। কিন্ত এটিই সত্য। কারণ ফেসবুক নিজেও একটি বিজনেস এবং তাকে দিন শেষে প্রফিট এর কথা চিন্তা করতে হয় ।

২০১২ সালে আপনি ফেসবুকে কিছু পোস্ট করলে সেটি ১৬% মানুষ দেখতে পেতো কিন্ত বর্তমানে সেটির পরিমান ৫২% কমেছে। তার মানে আপনার বিজনেস পোস্টটি কাস্টমারদের কাছে পৌঁছানটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। 

এতো কিছুর পরেও কিছু দেশি বিদেশী ই কমার্স ব্র্যান্ড তাদের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ ভাটা পড়তে দেয়নি।

ক্রমাগত  তাদের ফ্যান ফলোয়ার বেড়ে চলেছে, বাড়ছে কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট, সাথে বাড়ছে বিজনেস।

ই কমার্স বিজনেসে উন্নতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে তাদের ফেসবুক মার্কেটিং  কৌশলগুলো আপনি রপ্ত করতে পারেন।

বিষয়টি এমন নয় যে তারা যেভাবে করছে ঠিক সেভাবেই আপনাকে করতে হবে। আপনি আপনার বিজনেসের উপযোগী করে এই কৌশলগুলো ব্যবহার করবেন। 

এখানে দেশ ও দেশের বাইরের কিছু স্বনামধন্য ই কমার্স বিজনেসের ফেসবুক মার্কেটিং কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।   

বিক্রয় ডট কম 

Fastest-Growing Brands Pages in Bangladesh এই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে ৪০৬,৫৭৯৪ জন ফলোয়ার নিয়ে Bikroy.com ৬ নম্বরে অবস্থান করছে।

বিক্রয় ডট কম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন বায়িং এন্ড সেলিং প্ল্যাটফরম। শুরু থেকে তারা ক্রমাগত ভাবে অনলাইনে রাঙ্কিং ধরে রাখতে প্ল্যাটফরমগুলোর নিয়মিত পরিবর্তন সাধনে মনযোগী ছিল। 

ফেসবুক তাদের প্রচার মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম।নিচের ছবিতে দেখুব তাদের ফেসবুক পেজের Engagement Overview এর চিত্র

মার্চ ২৩, ২০২০ এ তাদের একটি পোষ্টে সর্বোচ্চ গড়  ইন্টারঅ্যাকশন ছিল ৬.৯ হাজার । একটি বিজনেসের ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য এটি একটি ভালো সংকেত। 

একই সপ্তাহে তাদের পোষ্টগুলোতে সর্বোচ্চ ইন্টারঅ্যাকশনের পরিমান ছিল ৩৪.৫ হাজার এবং গড়ে প্রতি সপ্তাহে তাদের পোস্টগুলোতে  ইন্টারঅ্যাকশনের পরিমান ১০.৪ হাজার। এটি সত্যি অসাধারণ। 

এবার দেখুন কতগুলো লাইক, শেয়ার ও কমেন্ট ছিল তার পরিসংখ্যান

নিচের চিত্রটি দেখুন তাদের সর্বাধিক এঙ্গেজিং পোস্টের ধরন কি ছিল,

তাদের সর্বাধিক এঙ্গেজিং পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথমে রয়েছে ছবি ও দ্বিতীয় স্থানে ভিডিও কন্টেন্ট । 

তারা সপ্তাহে কতগুলো পোস্ট করতো দেখুন নিচের ছবিতে,

 

সপ্তাহে মোট ১৮ টি পোস্ট ও গড়ে প্রতিদিন ৪.৫০ টি পোস্ট তাদের পেজে করা হতো। 

নিচের পোস্টটি তাদের সর্বাধিক এঙ্গেজিং পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম। 

এটি নভেল করোনা ভাইরাসের জন্য সচেতনতা মূলক একটি পোস্ট ছিল এবং এটি স্পন্সর  অ্যাড।

অর্গানিক অ্যাড হিসেবে তাদের সর্বাধিক এঙ্গেজিং অ্যাডের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নিচের এই অ্যাডটি 

উপরের দুটি অ্যাডের ধরন গ্রাফিক ক্যাটাগরি বা ছবি। 

ভিডিও অ্যাডের অবস্থান তাদের সর্বাধিক এঙ্গেজিং অ্যাডের তালিকায় ৬ নম্বর এবং এটি অর্গানিক অ্যাড। 

 

ভিডিও অ্যাডটিতে মোট ইন্টারঅ্যাকশনের পরিমান প্রতি হাজার ফলোয়ারে ৫১০ টি। 

আলোচনার শিক্ষা

উপরের সকল তথ্য থেকে আমার দেখতে পায়, বিক্রয় ডট কমের একটি পোষ্টে এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ গড়  ইন্টারঅ্যাকশন ৬.৯ হাজার ।

সপ্তাহে তাদের পোষ্টগুলোতে সর্বোচ্চ ইন্টারঅ্যাকশনের পরিমান ছিল ৩৪.৫ হাজার।

সর্বাধিক এঙ্গেজিং অ্যাডের ধরনের মধ্যে প্রথমে গ্রাফিক ডিজাইন ও দ্বিতীয় ভিডিও কন্টেন্ট। 

প্রতি সপ্তাহে তারা পেজে গড়ে ৪.৫ টি পোস্ট করে এবং তাদের অর্গানিক রিচের পরিমানও ভালো।

তারা তাদের এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। একজন অনলাইন বিজনেস পরিচালক হিসেবে আপনি তাদের মতো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে থাকতে চাইলে কি করবেন? 

করনীয়

প্রথমে তাদের ফেসবুক পেজটি দেখুন আর আপনার পেজের সাথে পার্থক্য খুঁজুন, bikroy.com official facebook page 

বিক্রয় ডট কমের ফেসবুক পেজের একটি ট্যাব আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি, এটি আপনার ফেসবুক পেজে ব্যবহার করতে পারেন। এনগেজমেন্ট বাড়ানোর জন্য এটি দারুন একটি কৌশল। 

বাম পাশের কলামে YouTube Channel  নামে একটি ট্যাব যুক্ত আছে।

এটির সুবিধা হল আপনার বিজনেস পেজের যদি  youtube channel থাকে তবে এটি এখানে যুক্ত রাখতে পারবেন তাতে করে কেউ চাইলে এই ট্যাব থেকে ভিডিও দেখা এবং সেই ভিডিও তে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করতে পারবে ফেসবুক থেকে না বের হয়ে।

ফেসবুকের জন্য তাই এই youtube এ প্রতি মাসে একটিভ দর্শক সংখ্যা ৮৪০,০০০ (জুন ২০১৭ পর্যন্ত)  এবং এই ফিচার টি বিক্রয় ডট কমকে সর্বাধিক ভিডিও ভিউ এনে দিতে সহায়তা করে।

যার কারনে তাদের অর্গানিক ভিউতে ভিডিও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। 

কাদের জন্য এই ফিচার আদর্শ হতে পারে

যারা ফেসবুক লাইভে প্রোডাক্ট সেল করেন তারা চাইলে রেকর্ড লাইভটি এখানে রেখে দিতে পারেন।

যাদের প্রোডাক্ট সেল করতে ভিডিও কনটেন্ট প্রয়োজন হয় যেমন, প্রোডাক্ট রিভিউ, আনবক্সিং ভিডিও ইত্যাদি কনটেন্ট মার্কেটিং এ ব্যবহার করেন তাদের জন্য।

যারা তাদের প্রোডাক্ট সেল করার জন্য ভিডিও মার্কেটিং করেন তাদের জন্য। 

এটি আপনার  Youtube Channel এর সাবস্ক্রাইবার বাড়াবে সাথে সাথে ফেসবুকের পোষ্টগুলোতে সর্বোচ্চ ইন্টারঅ্যাকশন নিশ্চিত করবে। 

এই ফিচারটি আপনার পেজে যুক্ত করতে ক্লিক করুনঃ  YouTube Tab for Facebook

Chaldal

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন গ্রোসারি আইটেম সেলার। তারা তাদের ফেসবুক পেজের ফ্যান ফলোয়ার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে।

বর্তমানে তাদের  পেজে ২৯৮,৭৬৩ জন একটিভ ফ্যান।  তারা যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ দিয়েছেন সেটি হলো তাদের কাস্টমার টার্গেটিং কৌশল। 

অন্যান্য ব্র্যান্ডের Facebook statistics বিশ্লেষণে লক্ষ্য করা গেছে তাদের সর্বাধিক এঙ্গেজমেন্ট প্রাপ্ত ক্যাটাগরি হচ্ছে ছবি বা ভিডিও।

কিন্তু একজন ই কমার্স বিজনেস উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার সফলতা তখনই যদি কাস্টমারদের আপনার ই কমার্স সাইটে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। 

একজন কাস্টমার ই কমার্স সাইটে আসে  প্রোডাক্টের কালেকশন দেখতে অথবা কেনাকাটা করতে । তারা আপনার পটেনশিয়াল কাস্টমার গ্রুপ। 

নিচের ছবিটি খেয়াল করুন,

 

চালডালের সর্বাধিক এঙ্গেজিং পোস্টের ধরনে, লিংক ক্লিকের পরিমান বেশি। অর্থাৎ তারা সফল ভাবে কাস্টমারদের ই কমার্স সাইটে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।

 

তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলোতে প্রতি সপ্তাহে গড়  ইন্টারঅ্যাকশনের পরিমান ১.৭ হাজার এবং প্রতি পোস্টে গড়  ইন্টারঅ্যাকশনের পরিমান ৬২৪.১ টি

এক সপ্তাহে তাদের পেজের ফলোয়ার বেড়েছে ১৩.১ হাজার জন এবং প্রতি সপ্তাহে সেটি গড়ে ৩.৩ হাজার জন করে বেড়ে চলেছে। 

কীভাবে তারা এটি করলো?

তাদের ফেসবুক পেজটিতে ঘুরে আসলে দেখতে পাবেন তাদের প্রতিটি পোষ্টে লিংক শেয়ার করা এবং অতি সাধারণ ভাবেই লিংকগুলো তারা শেয়ার করেছেন। 

তাদের প্রায় প্রতিটি পোষ্টে এইভাবে লিংক শেয়ার করে দেয়া হয়েছে। এই লিংকে ক্লিক করলে কাস্টমার ই কমার্স সাইটে সেই প্রোডাক্টের পেজে যায়। তারা কাস্টমারদের ই কমার্স সাইটের মাধ্যমে প্রোডাক্ট অর্ডার করতে উৎসাহ প্রদান করে। 

ই কমার্স সাইটে নিয়ে গেলে চালডাল কাস্টমারটিকে আরো ভালোভাবে ট্র্যাক করতে পারে।

সেই ট্র্যাকিং থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে  তাদের পরবর্তী ক্যাম্পেইন চালায় এতে করে  ট্রাফিক বেশি আসে, অ্যাড খরচ কম হয়। 

চালডালের কাস্টমার সংখ্যা বেড়ে চলেছে সাথে বাড়ছে বেচাকেনার পরিমান।

অনেক ই কমার্স সেলার আছেন যারা ভাবেন ই কমার্স সাইট দিয়ে বিজনেস করা ঝামেলা, ফেসবুক সহজ। তাদের জন্য চালডাল একটি উদাহরন হতে পারে।

 কারণ প্রতি সপ্তাহে ৩.৩ হাজার নতুন ফলোয়ার চালডালের ফেসবুক পেজে অ্যাড হচ্ছে আর তাদের অ্যাডগুলোতে লিংক ক্লিকের পরিমান বেশি। অর্থাৎ তারা চালডালের জন্য পটেনশিয়াল কাস্টমার।

একজন ই কমার্স সেলার তার ফেসবুক বিজনেস পেজ থেকে এমন ফলাফলই আশা করেন।

এজন্য আপনার থাকতে হবে দক্ষ ডিজিটাল মিডিয়া কর্মী  অথবা সহায়তা নিতে হবে দক্ষ ই কমার্স সল্যুশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের।   

ফেসবুক 

আমি ফেসবুকের নিজস্ব পেজের কথা বলছি। তাদের পেজের লাইক সংখ্যা ১৮৯,৭৮০,৫৯১ টি এবং এটি দিন দিন বাড়ছে।

মার্ক জুকারবার্গ একটি কৌশল অবলম্বন করেছেন সেটি হচ্ছে ফেসবুক লাইভ। 

তিনি আমেরিকান কমেডিয়ান Jerry Seinfeld এর সাথে ফেসবুকে প্রথম লাইভ প্রশ্ন উত্তরের একটি ইভেন্ট করেন। 

এবং সেটিতে ৫ লক্ষ ৫৩ হাজার মানুষ  রিএকশন দেন, ২৫ হাজারেরও বেশি শেয়ার করা হয় আর  ভিউ হয় ১০ মিলিয়ন। 

তিনি এটি পরিষ্কার বুঝিয়েছেন পোস্ট এঙ্গেজমেন্ট পেতে ফেসবুক  লাইভ কতটা কার্যকর হতে চলেছে।

কোন ধরনের কনটেন্ট মানুষ দেখতে বেশি পছন্দ করে? কাস্টমারদের আচরণের  একটি জরিপে দেখা যায় ৫৫% মানুষ ভিডিও কনটেন্ট এর পক্ষে মতামত দেয়। 

 

 Starbucks

বিখ্যাত কফি ব্যান্ড Starbucks এর ফলোয়ার সংখ্যা ৩৫, ৪৩১,৫৩১ জন। তারা সোশ্যাল মিডিয়া বা মোবাইল টেকনোলোজি ব্যবহারে অগ্রগামী।

তাদের ফেসবুক পেজের এঙ্গেজমেন্ট বাড়িয়ে তুলতে পেজে সাথে স্টোর লোকেটর ফিচারটি ব্যবহার করেছে।

এটির মাধ্যমে কাস্টমার Starbucks এর লোকেশন খুঁজে পান ফেসবুকের মধ্যে তাকে আলাদাভাবে গুগল মাপ ব্যবহার করতে ফেসবুক ছেড়ে যাবার প্রয়োজন হয় না। 

আপনার বিজনেস পেজের জন্য স্টোর লোকেটর অ্যাপটি ব্যবহার করুনঃ Family & Friends Locator app

লোকেশনে ক্লিক করলে কাস্টমার Starbucks এর ঠিকানা ও খোলা থাকার সময় সম্পর্কে জানতে পারেন। 

পরিশেষে,

ই কমার্স বিজনেসে যারা নিজেদের ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছেন তারা তাদের সোশ্যাল মিডিয়াকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করেছেন। প্রযুক্তিকে গ্রহন করেছেন সবার প্রথমে আর সাথে প্রযুক্তির পরিবর্তনকে মানিয়ে নিতে বিলম্ব করেন নি মোটেও। 

তাদের লক্ষ্য ছিল সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বাধিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কাস্টমারদের কাছাকাছি থাকা।

সঠিক কাস্টমারদের কাছে প্রোডাক্টের মার্কেটিং করে বিজনেসটিকে বড় করে তোলা। 

আপনি এখন ই কমার্স উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার অগ্রজদের ব্যবহার করা কৌশলগুলি চর্চা না করার ভুলটি নিশ্চয় করতে চাইবেন না।  

ইকমার্স মার্কেটিং: সেল বাড়াতে প্রোমো কোডের সঠিক ব্যবহার

ইকমার্স মার্কেটিং: সেল বাড়াতে প্রোমো কোডের সঠিক ব্যবহার

আমরা সবাই অফার পেতে ভালোবাসি। আর অনলাইন কেনাকাটা তো অফার ছাড়া জমেই না। এখানে প্রোমো কোডের ব্যবহার দারুন জনপ্রিয়। যেমন ধরুন: ফ্রি ডেলিভারি অফার!  আপনি কি জানেন, কেবল মাত্র ‘ফ্রি ডেলিভারী অফার’  মানুষের কেনাকাটার পরিমান কয়েকগুন বৃদ্ধি করে? নিচের ছবিটি দেখুন।  

আমেরিকান কাস্টমারদের উপর ২০১২-১৭ সাল পর্যন্ত করা এই জরিপে দেখানো হয়েছে, শুধুমাত্র ‘ফ্রি ডেলিভারি’ অফার কত শতাংশ কাস্টমারের ‘পারচেস ডিসিশন’ কে বিভিন্ন মাত্রায় অতিশয় প্রভাবিত করে ।

এর মধ্যে অতিশয় প্রভাবিত কাস্টমার ৬৪% – ৭৫% !

ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মানুষের এই অফার কেন্দ্রিক মনস্তত্বকে আপনি কিভাবে আপনার ব্যবসার সেলস বাড়াতে কাজে লাগাতে পারেন?   

উত্তর: প্রোমো কোডের সঠিক ব্যবহার 

প্রোমো কোডের ব্যবহার

 ই কমার্স বিজনেসের সেলস বৃদ্ধি করতে এটি দারুন কার্যকরী একটি কৌশল । ২০১৯ সালে সারা বিশ্বে  ১.০৫ বিলিয়ন ডিজিটাল কুপন কোডের ব্যবহার হয়েছে। অবিশ্বাস্য ব্যাপার! 

প্রশ্ন জাগতে পারে প্রোমো কোড আর কুপন কোড কি একই? হ্যাঁ, দুটি একই জিনিস পার্থক্য হলো কুপন কাগজে লিখা একটি অংশ আর প্রোমো কোড হচ্ছে কিছু সংখ্যার সন্নিবেশ যা যে কোন মাধ্যমে থাকতে পারে। 

প্রোমো কোড নিয়ে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক:

জুন 2019 পর্যন্ত তথ্য মতে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০%  অনলাইন ক্রেতারা কেনাকাটা করার আগে ই কমার্স সেলার অনুসন্ধান করার সময় কুপন এবং ছাড়ের সন্ধান করত।

কেল্টনের মতে, ৪৮% গ্রাহকরা বলছেন যে তারা সাধারন সময়ের চেয়ে  অফার ব্যবহার পাবার পরে দ্রুত ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

কাস্টমারদের কেনাকাটার আচরণের উপর পরিচালিত inmar.com একটি গবেষণার  প্রতিবেদনে মতে,  ৮৩% গ্রাহকরা মনে করেন যে প্রোমো কোডগুলো  তাদের ক্রয় আচরণে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। 

একটি সমীক্ষায় দেখা যায় যে ৩৯% গ্রাহক এমন কোনও ব্র্যান্ডের কাছ থেকে ক্রয় করবেন যারা তাদের প্রোমো কোড অফার করবে অন্যথায় তারা ক্রয় করবে না।

কেলটন দেখিয়েছেন যে, ২৮% গ্রাহক  কুপন পাবার পরে বেশি ব্যয়বহুল প্রোডাক্ট কিনতে ইচ্ছে পোষণ করে। 

ডিল নের্ড প্রকাশ করেছেন যে কুপন ব্যবহারকারী সাধারণ ক্রেতাদের তুলনায় ২৪% বেশি ব্যয় করে। 

রিয়েলমেনট দ্বারা পরিচালিত ২০১৯ সালের কুপনের পরিসংখ্যান বলছে যে, যদি একটি কুপন রানিং থাকে তবে ৮০% নৈশভোজী একটি নতুন রেস্তোঁরায় খাবার খেতে চেষ্টা করেন। 

 

source : https://www.clothingric.com/insights/coupons 

আমাদের ই কমার্স ব্যবসায়ীরা প্রোমো বা কুপন কোড ব্যবহার করেন কিন্তু ভুল উপায়ে। যার ফলে এই দারুন মার্কেটিং কৌশল থেকে তারা চাহিদা অনুযায়ী সেল নিয়ে আসতে সক্ষম হন না। 

লিড জেনারেট করতে প্রোমো কোড ব্যবহার করুন

আমাদের চিন্তার মধ্যে সবসময় চলে সেলস। সেলস।। সেলস।।। কিন্তু যদি কাস্টমারের সংখ্যা কম থাকে তবে বেচবেন কার কাছে? 

আপনার ই কমার্স বিজনেসের সেল বাড়াতে তাই কাস্টমার চায়।

কিন্তু কাস্টমার এমনি এমনি আপনার থেকে কেনাকাটা করবে না। তাকে কেনাকাটা করতে উৎসাহী করে তুলতে হবে। 

আপনি কাস্টমারদের প্রোমো কোড অফার করুন ।

বিনিময়ে তাদের কাছে ইমেল এড্রেস বা ফোন নম্বরটি চান। তাতে করে কাস্টমার যেমন তার ইমেল বা ফোন নম্বর শেয়ার করে মূল্যছাড় পাবার জন্য প্রোমো কোড পাবে অন্যদিকে আপনি পাবেন তাদের ডেটা। 

এবার সেই ডেটাগুলো ব্যবহার করে ইমেল মার্কেটিং করুন বা এসএমএস মার্কেটিং করুন।

দেখবেন সেল বেড়ে গেছে। কারণ যার কেনাকাটার আগ্রহ আছে সেই তার ডেটা শেয়ার করে প্রোমো নিবে। তারা আপনার পটেনশিয়াল কাস্টমার। 

কাস্টমার লয়ালিটি বাড়িয়ে তুলতে প্রোমো কোড

নতুন কাস্টমার খুঁজে পাবার থেকে পুরনো কাস্টমারদের কাছে সেল করা সহজ ও তাতে মার্কেটিং খরচ অনেক কম। অন্যদিকে কাস্টমার অনেক চিন্তা করার পরে একজন ই কমার্স সেলারকে বেছে নেন ও কেনাকাটা করেন।

ফলে তার কাছে আপনার থেকে কেনা বেশি নিরাপদ বলে তারা মনে করেন। 

রিটার্ন কাস্টমার বাড়াতে, পুরনো কাস্টমারদের কাছে বার বার বেচাকেনা করতে প্রোমো কোড দারুন ভুমিকা রাখে। 

মনে আছে, বাংলাদেশে উবার তাদের কাস্টমার বাড়ানোর জন্য প্রতি সপ্তাহে প্রোমো কোড দিত, সেসময় পাঠাও বেশ নামডাক পেয়েছে।

তারাও কুপন দিয়ে যাচ্ছিলো। প্রতিযোগীতা তুমুল চলছে তাদের মাঝে। কিন্তু একজন কাস্টমার হিসেবে আপনি ভাবুন, আপনার ফোন উবার অ্যাপ ইন্সটল আছে এবং আপনি প্রোমো কোড পাচ্ছেন।

কিন্তু কোন কারনে একদিন বাইরে যাবার দরকার পড়লো আর সেদিন উবার আপনাকে প্রোমো কোড দেয় নি। 

সেই মুহূর্তে কি করেন, ফোনের মেসেজ বক্স চেক করেন আর দেখেন পাঠাও থেকে কোন কোড আছে কি না। 

সবাই কম মূল্য চায় আর বিশেষ করে যারা আপনার থেকে নিয়মিত কেনাকাটা করেন তারা মূল্যছাড় প্রত্যাশা করেন। 

এবার ভাবুন, আপনি একসময় উবারে অভ্যস্ত হয়ে গেলেন এরপরে আর প্রোমো কোড দেখার প্রয়োজন আপনার পড়ে নি।

আপনি দরকার হলেই উবার কল করেছেন। প্রোমো না থাকলেও। কিন্তু সেটি করার জন্য প্রথমে আপনাকে প্রোমো কোড অফার করতেই হবে। 

ছুটি বা উৎসবের দিনগুলোতে প্রোমো কোড

ছুটির দিনমানে কেনাকাটা ঘুরে বেড়ানো বা আড্ডা। সময় কেনাকাটার ঝোঁক কাস্টমারদের মাঝে বেশি দেখা যায়। এছাড়া আমাদের দেশে । ই ক্যাব সাধারন সম্পাদকের দেয়া তথ্য মতে বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন ৪০,০০০ প্রোডাক্ট ডেলিভারি করা হয়েছে।

কাস্টমার যেহেতু এই সময়গুলোতে বেশি কেনাকাটা করেন তাই প্রোমো কোড দেবার উপযুক্ত সময় হতে পারে এই উৎসবের সময়গুলো।   

আপনি যদি পারফিউম সেল করেন তবে ভালোবাসা দিবসে প্রোমো কোড অফার করুন।

প্রতিদিন কারো না কারো জন্মদিন পালিত হয় আপনি যদি কাস্টমারদের স্পেশাল দিনগুলোতে কেনাকাটা করাতে চান প্রোমো কোড ব্যবহার করুন। 

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রোমো কোড অফার করুন। কাস্টমারদের মনে আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে একটি জায়গা তৈরি হবে নিয়মিত এক্সপোজার থাকার ফলে। 

যখন প্রোমো কোড অফার করবেন তখন প্রিমিয়াম প্রোডাক্টগুলোর জন্য প্রথমে প্রোমো কোড অফার করুন।

বাকি থেকে যাওয়া প্রোডাক্টগুলোর সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পরবর্তী সময়ে প্রোমো কোড অফার করতে পারেন। 

আপনার ব্র্যান্ড উৎসবগুলো পালন করে এই মেসেজ কাস্টমারদের কাছে পৌঁছালে তারা  নির্দিষ্ট উৎসবের সময়গুলোতে আপনাকে খুঁজে নিবে। 

 

 

সোশ্যাল মিডিয়া প্রোমোশনে প্রোমো কোড

সোশ্যাল মিডিয়া একটি ই-কমার্স মার্কেটিং এর জন্য দারুন গুরুত্বপূর্ণ। একজন ই কমার্স সেলার সোশ্যাল মিডিয়া হাজার হাজার ডলার খরচ করেন।

অর্গানিক পারফর্মেন্স সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর সফলতার সবচেয়ে বড় ইনডিকেটর।

আর ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট বা ইউজার সেলফ ইনভল্ভমেন্ট একটি সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যক্ষমতাকে অনেকাংশে বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম। 

আপনাকে যা করতে হবে,

কাস্টমার বলুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলিং পোস্ট শেয়ার করলে তাদের অফার করবেন প্রোমো কোড যা দিয়ে তারা পরবর্তী কেনাকাটায় পাবেন মূল্যছাড়। 

এতে করে বাড়বে সোশ্যাল মিডিয়ার পারফর্মেন্স আর সাথে সাথে বাড়বে সেল। 

শপিং কার্ট পরিত্যাগকারীদের টার্গেট করে প্রোমো কোড

জরিপে দেখা যায় 67.71 % মানুষ শপিং সম্পন্ন না করেই কার্ট পরিত্যাগ করেন। বিষয়টি ই কমার্স সেলারের জন্য চিন্তার।

আপনার যদি একটি ই কমার্স ওয়েবসাইট থাকে আর তাতে গুগল এনালাইটিক যুক্ত থাকে।

তবে কার্ট  পরিত্যাগকারীদের কেনাকাটায় উৎসাহী করতে প্রোমো কোড অফার করুন। 

শুধু শপিং কার্ট ত্যাগকারীদের নয় আপনার ই কমার্স সাইটের যে কোন স্থান থেকে যদি কাস্টমার কেনাকাটা সম্পন্ন না করে সাইট ছেড়ে যায়।

তবে তাদের টার্গেট করে প্রোমো কোড অফার করুন। এটি শপিং কার্ট ত্যাগ করার পরিমান কমিয়ে আনতে দারুন কাজ করে

ভোক্তাদের অতীত আচরণকে কাজে লাগাতে প্রোমো কোডের ব্যবহার

কিছু কাস্টমার আছেন যারা কেনাকাটা করার সময় কিছু জিনিস একসাথে কেনেন।

আপনার যে সকল কাস্টমার কেনাকাটায় এই ধরনের আচরণ করেন তাদের একটি লিস্ট তৈরি করুন।

এরপরে তাদের প্রথম প্রোডাক্টটি একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় কিনলে অন্য প্রোডাক্টটি ফ্রি দেবার জন্য একটি কুপন অফার করুন।  

যারা এই কুপন ব্যবহার করে কেনাকাটা করবে তারা এই অফারটি পাবে। এভাবে আপনি একজন কাস্টমারকে বেশি কেনাকাটায় উৎসাহী করাতে পারবেন। 

রি মার্কেটিং অফার 

আপনার ই কমার্স শপ থেকে একবার যারা কেনাকাটা করেছে তারা আপনার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সম্পর্কে জানে, তাদের টার্গেট করে রি মার্কেটিং অ্যাড চালান এবং অ্যাডে কুপন কোড অফার করেন।

তারা একবার যেহেতু আপনার থেকে কেনাকাটা করেছে পরের বার তাদের শুধু ধাক্কা দিতে হবে। তারা নিশ্চয় আপনার শপ থেকে কিনবে। 

প্রি অর্ডার করতে কুপন কোড

কিছু নতুন প্রোডাক্ট যা সদ্য মার্কেটে আসতে যাচ্ছে সে সব প্রোডাক্টের জন্য অনেকে প্রি অর্ডার নেন। এরপর থেকে প্রি অর্ডার নেবার সময় তাদের প্রোমো কোড অফার করুন।

নতুন প্রোডাক্ট সাথে মূল্য ছাড়! প্রি অর্ডার পাবার সম্ভবনা অনেকাংশে বেড়ে যাবে।  

যারা কেনাকাটা করবে বলে আপনার শপে এসেছে এবং কেনাকাটার জন্য কার্টে প্রোডাক্ট অ্যাড করেছে ঠিক সেই সময় পপ আপ অ্যাডে কুপন কোড অফার করুন।

দেখবেন তারা দ্রুত শপিং সম্পন্ন করেছে। 

পরিশেষে, 

ই কমার্স সেলার ভাবেন প্রোমো কোড দিলেই কাস্টমার কেনাকাটা করেন, এই ভাবনা সঠিক নয়। কখন, কীভাবে প্রোমো কোড দিলে কাস্টমার কিনতে আগ্রহী হবে সেটি জানা প্রয়োজন। 

প্রোমো কোডের মাধ্যমে একটি সেলস ফানেল তৈরি করুন, তাদের নিয়মিত পরিচর্যা করার মাধ্যমে কেনাকাটা সম্পন্ন করতে সাহায্য করুন।

আশা করি আপনি এখন থেকে আপনার ই কমার্স বিজনেসে  প্রোমো কোড ব্যবহারের এই কৌশলগুলো সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হবেন। 

বিজনেসের প্রসারে ডিজিটাল মার্কেটিং কতটা প্রয়োজন

বিজনেসের প্রসারে ডিজিটাল মার্কেটিং কতটা প্রয়োজন

ডিজিটাল মার্কেটিং প্রসঙ্গে বিখ্যাত কফি ব্র্যান্ড স্টারবাকস এর চেয়ারম্যান ও সিইও বলেছিলেন,

“SOCIAL AND DIGITAL MEDIA IS A BULLET TRAIN, AND THAT BULLET TRAIN IS NOT COMING HOME.”

ডিজিটাল মার্কেটিং এভাবেই দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আপনাকে এই গতির সাথে মানিয়ে নেবার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগের ধরন ও প্রকৃতিতে ক্রমাগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

 

যখন মানুষ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার জানতো না, সে সময় তারা জনসমাগম আছে এমন জায়গায় ঢোল পিটিয়ে কাস্টমারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রচারণা চালাতো।

ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকলো সভ্যতা, তার সাথে পরিবর্তিত হতে থাকলো বিজনেসে মার্কেটিং এর ধরন।

পত্রিকা, বিলবোর্ড, রেডিও, টেলিভিশনের পরে বর্তমান সময়টা এখন ইন্টারনেটের।

ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত সকল মাধ্যম ডিজিটাল। আপনি এটিকে কোনভাবেই এড়িয়ে যেতে পারবেন না।

য়তো এর পরে নতুন কোন যুগে আমরা প্রবেশ করবো মার্কেটিং এ আবার নতুন কোন পরিবর্তন আসবে। 

Ad65.com তথ্য মতে ২০১৯ সালের জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে বর্তমান ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯১.৪২ মিলিয়ন যাদের মধ্যে ৮৫.৬৩ মিলিয়ন মোবাইল ব্যবহারকারী।  

আমরা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ফেসবুক বিজ্ঞাপনগুলির জন্য ৩০০% মূল্যবৃদ্ধিও দেখেছি (অ্যাডপ্রেসো অনুসারে)।

এই সমস্ত উদ্বেগ সত্ত্বেও মানুষ দুটি কারণে মার্কেটিং এর জন্য ফেসবুকের সাথে লেগে রয়েছে। কারণ দুটির মধ্যে,

প্রথমত ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষত ৩০থেকে ৩৬ বয়সের মধ্যে যাদের বয়স তারা এই প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত সক্রিয়।

এর অর্থ এই কাস্টমার গ্রুপের মধ্যে পড়া ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে আপনার পণ্যগুলি মার্কেটিং করার  জন্য এটি দুর্দান্ত সময়।

দ্বিতীয়ত প্রিন্ট ও টেলিভিশন মিডিয়াতে মার্কেটিং করার জন্য খরচ করা অর্থের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিং এর জন্য অর্থ বেশি পরিমান লাভজনক। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কি

সহজ কথায় বলতে গেলে, ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ডিজিটাল চ্যানেল যেমন ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার  করে মার্কেটিং করা ও কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা। 

ডিজিটাল মিডিয়া মার্কেটিং এর উদাহরনঃ 

  • সোশ্যাল মিডিয়া ( ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম ইত্যাদি) 
  • ওয়েবসাইট
  • কন্টেন্ট মার্কেটিং 
  • ইনবাউন্ড মার্কেটিং
  • ইমেল মার্কেটিং 
  • পি পি সি
  • সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং  

২০১৮ সালে বাংলাদেশের ডিজিটাল এবং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর  কিছু তথ্য এবং পরিসংখ্যান 

  • বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬৬.৫ মিলিয়ন যার মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৮১.৮৮ মিলিয়ন
  • একটিভ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ৩০ মিলিয়নেরও বেশি
  • দেশে একটিভ মোবাইল কানেকশন রয়েছে ১৩৭.২ মিলিয়ন
  • মবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর পরিমান ৭৬.২২ মিলিয়ন
  • ৪৮% মানুষ সামাজিক মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার করে। 
  • ৩% মেয়ে আর ০.৫ % পুরুষ কাস্টমার অনলাইনে পেমেন্ট করতে পছন্দ করে

ফেসবুক মার্কেটিং

ফেসবুক বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম পাশাপাশি বিজনেসের প্রচার প্রচারণায় এটির গুরুত্ব দিন দিন বেড়ে চলেছে।

২০১৯ সালে, বিজ্ঞাপন থেকে  ফেসবুকের আয় হয়েছিলো প্রায় ৬৯.৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০১৯ এর চতুর্থ ত্রৈমাসিক হিসাবে মাসিক ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সংখ্যা কমপক্ষে ২.৮৯ বিলিয়ন যারা ফেসবুকের সকল প্রোডাক্টগুলোর মধ্যে (ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, বা ম্যাসেঞ্জার) প্রতিমাসে কমপক্ষে একটি ব্যবহার করছে। 

যে ৬ টি সুবিধার জন্য আপনার বিজনেসের ফেসবুক মার্কেটিং করবেন

বিশ্বব্যাপী সফল মার্কেটিং করতে

ফেসবুকের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পোঁছানোর একটি যথাযথ উদাহরণ “ডাভ রিয়েল বিউটি স্কেচস” ক্যাম্পেইন।

ক্যাম্পেইনটি ২০১৩ সালে কার্যকর করা হয়েছিল। এফবিআই স্কেচ শিল্পীরা অংশগ্রহণকারীদের তাদের মুখের ছবির বর্ণনা করতে বলেছিলেন, তারপরে তাদের আত্মীয় এবং বন্ধুদের একই কাজ করতে বলা হয়েছিল।

 

তারা ফলাফলে দেখিয়েছে যে বেশিরভাগ লোকেরা নিজেরাই নিজেদের অত্যধিক সমালোচনা করছেন। ক্যাম্পেইনটি ফেসবুকে প্রকাশের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে ৬৩০,০০০ বার শেয়ার করা হয়েছে।এই ধরণের অনেক বিশাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের সফলতার উদাহরন ফেবুকের রয়েছে।

কম মার্কেটিং খরচ 

যাদের বিজনেস ছোট এবং  ওয়েবসাইট নেই তারা একটি ফেসবুক পেজ বিনা মূল্যে তৈরি করতে পারেন।

সেখানে তাদের প্রোডাক্টগুলো সমস্ত তথ্য প্রদর্শন করতে পারে।এবং কেবল মাত্র আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকদের টার্গেট করে ফেসবুক বিজ্ঞাপন দেখানো সক্ষম। 

ফেসবুক বিজ্ঞাপন বাজেট-বান্ধব। ব্যবহারকারীর জন্য কি উপযুক্ত তার উপর নির্ভর করে বিজ্ঞাপনগুলি বিভিন্ন ভাগে চার্জ করে।

সিপিএম এবং সিপিসি দুটি জনপ্রিয় চার্জিং পদ্ধতি। সিপিএম (প্রতি মিলিয়ন ব্যয়) প্রতি হাজার ইমপ্রেশন চার্জ করা হয় যেখানে সিপিসি (প্রতি ক্লিক ক্লিকের জন্য) প্রতি ক্লিকে প্রযোজ্য।

ব্যবহারকারীরা তাদের বিজ্ঞাপনের বাজেট সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। ফেসবুকের বিজ্ঞাপনের ফলাফল প্রত্যাশিত না আসলে সেটি সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে। 

বিভিন্ন ফেসবুক বিজ্ঞাপন সংস্থার গবেষণাগুলিতে দেখা গেছে যে বেশিরভাগ শিল্পের জন্য  ফেসবুক বিজ্ঞাপনের গড় খরচ প্রতি ক্লিকে ০.৫ থেকে ২.০০ ডলারের মধ্যে। 

উপযুক্ত কাস্টমারদের টার্গেট করে মার্কেটিং করা যায়

ফেসবুক বিজ্ঞাপনগুলির একটি অনন্য সুবিধা রয়েছে সেটি  হলো আপনাকে সম্ভাব্য গ্রাহকদের ডেমোগ্রাফিক এবং আগ্রহের ভিত্তিতে টার্গেট করা যায়।  উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি তরুণদের কাছে আপনার বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করতে চান। আপনি চান তারা আপনার বিজনেস এবং প্রোডাক্ট নিয়ে  আগ্রহ রাখে। আপনি চান বড় শহরগুলিতে বসবাসরত, মধ্যবিত্ত জীবনযাত্রার ৩৫ বছরের কম বয়সী কাস্টমার। তবে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের দ্বারা সেটি করা সম্ভব। 

ওয়েবসাইট ট্রাফিকের পরিমান বাড়ায়

ফেসবুক মার্কেটিং এর আর একটি বড় সুবিধা হচ্ছে এটি ব্যবহার করে আপনার বিজনেস ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বাড়াতে সক্ষম হবেন। 

Jabong.com ফেসবুকের উপর নির্ভর করে ভালো মানের অডিয়েন্স টার্গেট করে তাদের সেল বাড়িয়েছিল। এপ্রিল ২০১৭ সালে   Jabong.com সঠিক পণ্যগুলি সঠিক লোকের কাছে পৌঁছে দিয়ে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে কাস্টমার বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে। 

ভারতের এই ই-কমার্স সংস্থা তার গ্রাহক সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে এবং ফেসবুককে শীর্ষস্থানীয় মার্কেটিং চ্যানেল হিসেবে বেছে নেবার পরে কাস্টমার দ্বারা তাদের মোবাইল অ্যাপ অ্যাক্টিভেশন  পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দরকারী তথ্য সরবরাহ 

আপনি  ফেসবুক মার্কেটিং করার পরে, সেখান হতে  প্রচুর দরকারী তথ্য পাবেন। পেজের লাইকের সংখ্যার তথ্য, আপনার পোস্টের মোট রিচ  ইত্যাদি।এছাড়া কমেন্ট ও শেয়ারের নির্দিষ্ট সংখ্যা পরিমাপ করতে পারবেন। একটি মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করার সুযোগ রয়েছে। 

ওয়েবসাইট মার্কেটিং

ওয়েবসাইট মার্কেটিং হলো আপনার ওয়েবসাইটটি ইন্টারনেটে প্রচার করার প্রক্রিয়া। এটি আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং এর কৌশলের অংশ হিসেবে একটি অনলাইন মার্কেটিং চ্যানেল।ওয়েবসাইট মার্কেটিং এর  মূল লক্ষ্যটি হলো ওয়েবসাইটে ভিজিটর সংখ্যা বাড়ানো। 

বিজনেসের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায় 

এটি আপনার বিজনেসকে বৈধতা দেয় এবং আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা উন্নত করে। এটি বিজনেসের ভার্চুয়াল প্রমাণ যে সত্যিকার অর্থেই আপনার বিজনেসটি রয়েছে। 

জরিপে দেখা গেছে যে ৮৪% গ্রাহকরা বিশ্বাস করেন যে কোনও ওয়েবসাইট  আপনার বিজনেসকে কেবল একটি সামাজিক মিডিয়া পেজে থাকার চেয়ে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

বিজনেসের অনলাইন উপস্থিতি বৃদ্ধি করে 

এই পৃথিবীতে ৭.৪ বিলিয়ন মানুষ রয়েছে তাদের মধ্যে প্রতিদিন ৩.৫ মিলিয়ন মানুষ অনলাইনে থাকে যা মত জনসংখ্যার ৪৭% । এসময়  তারা তথ্য অনুসন্ধান করছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটিয়েছে অথবা ই-কমার্স ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করছে। তাই আপনার বিজনেসটিকে তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হলে থাকতে হবে ওয়েবসাইট আর সাথে সেটির মার্কেটিং। 

বিজনেসের রিয়েল টাইমে ট্র্যাক রাখা 

একটি ছোট বিজনেসের জন্য ওয়েবসাইট থাকার উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাস্তব সময়ে তার পারফরম্যান্সের উপর নজর রাখতে পারবেন। 

আপনার বিজনেস বর্তমানে কীভাবে চলেছে সে সম্পর্কে বিশ্লেষণধর্মী মূল্যবান ডেটা সরবরাহ করবে। বিজনেস পারফরম্যান্সের  সূচকগুলো যেমন, আপনার ওয়েবসাইটে আশা ভিজিটর সংখ্যা। পেজ ভিজিট বা কোন পেজগুলো কতবার পরিদর্শন করা হয়েছে সে সকল তথ্য। বাউন্স রেট বা আপনার পেজে অবতরণ না করেই আপনার ওয়েবসাইটটি ছাড়েন ছেড়ে গেছেন এমন ভিজিটরের তথ্য সহ আর অনেক তথ্য আপনি পাবেন। 

 

 

কন্টেন্ট মার্কেটিং

একটি কৌশলগত মার্কেটিং পদ্ধতি যা টার্গেট অডিয়েন্সদের মনোযোগ আকর্ষণ এবং তাদের ধরে  রাখার জন্য মূল্যবান, প্রাসঙ্গিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়বস্তু তৈরি এবং প্রদানের মাধ্যমে তাদের কাছে প্রোডাক্টের প্রচার করাকে কন্টেন্ট মার্কেটিং হলো । 

কেনো করবেন কন্টেন্ট মার্কেটিং ? 

আপনার ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করে

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে মানসম্পন্ন কন্টেন্ট প্রচার করার ফলে যারা তাদের সমস্যার সমাধান খুঁজছেন তাদের সামনে আপনার ব্র্যান্ডটি পেয়ে যায়।

আপনার শ্রোতাদের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলে 

যদি আপনি ক্রমাগত আপনার টার্গেট অডিয়েন্সদের প্রয়োজনীয় কন্টেন্ট সরবরাহ করেন তবে তারা  আপনার বিজনেসের দিকে ঝুঁকবে।

ব্র্যান্ড সচেতনতা 

ছোট বিজনেসগুলো তাদের টার্গেট অডিয়েন্সদের সামনে তাদের ব্র্যান্ডটিকে তুলে ধরতে  চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। আপনি যদি এমন কোনও কন্টেন্ট তৈরি করেন যা একজন কাস্টমার আপনার পেজে খুঁজে পায় তখন সেটি আপনার ব্র্যান্ডের সুনামকে প্রভাবিত করে। 

আপনার বিজনেসকে বিশেষজ্ঞ হিসাবে পরিচিত করে

বিজনেসে আপনি যে দক্ষ তার  পরিচয় দিলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে আপনার থেকে উত্তরগুলির সন্ধান করবে।তাই সবার থেকে এগিয়ে থাকতে প্রয়োজন কন্টেন্ট মার্কেটিং। 

আপনার গ্রাহককে দ্রুত ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে

যদি আপনার কন্টেন্ট তাদের সমাধানের দিকে নিয়ে যায় তবে তারা আপনাকে প্রাধান্য দিবে। যদি সঠিকভাবে কন্টেন্ট মার্কেটিং দ্বারা  ক্রেতার একটি বায়িং জার্নির অভিজ্ঞতা প্রদান করতে সক্ষম হন তবে যখন তারা কিনতে প্রস্তুত হবে তখন তারা আপনার বিজনেসকে বেছে নিবে।

ইনবাউন্ড মার্কেটিং 

কনটেন্ট মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন এবং ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে কাস্টমারদের প্রোডাক্ট এবং সেবার প্রতি আকর্ষণ করার কৌশলকে ইনবাউন্ড মার্কেটিং বলা হচ্ছে।

আপনার ওয়েবসাইটকে আপনার এক নম্বর বিক্রয় এবং বিপণনের সরঞ্জামে রূপান্তরিত করতে ইনবাউন্ড মার্কেটিং দারুন । এটি চব্বিশ ঘন্টা কাজ করে, এবং কখনও থামে না।

এর সুবিধাগুলো কি? 

  • সেল নিয়ে আসতে ভালো মানের লিড তৈরি করে
  • আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে কাস্টমারদের ভালো ধারণা দেয় ও সম্পর্ক উন্নত করে
  • কাস্টমারদের শিক্ষিত করে তোলে তাদের আস্থা অর্জন করে
  • মার্কেটিং পদ্ধতিকে সহজ করে

ইমেইল মার্কেটিং

ইমেল মার্কেটিং হলো প্রোডাক্ট ও সার্ভিস  প্রচারের জন্য ইমেল ব্যবহার। 

ইমেইল মার্কেটিং এর প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে, 

লক্ষ্যযুক্ত এবং ব্যক্তিগতকরন  

আপনাকে কাস্টমারদের কাছে ব্যক্তিগত তাদের পছন্দের উপর ভিক্তি করে  কন্টেন্ট প্রদান করা যায়।   

ব্র্যান্ডের স্বীকৃতি

আজ বিশ্বের বেশিরভাগ স্বীকৃত ব্র্যান্ড তাদের মার্কেটিং কৌশলে ইমেইল মার্কেটিং প্রাধান্য দেয়। ই মেইলের মাধ্যমে সরাসরি একজন কাস্টমারদের ইনবক্সে পৌঁছানো সম্ভব । যা একটি ব্র্যান্ডকে পরিচিত করতে সহায়ক। 

সেল বাড়ায়

মার্কেটিং উইক এর মতে  ই মেইল মার্কেটিং বছরে ৩৭ বিলিয়ন ডলার সেল নিয়ে আসে।কাস্টমার যখন এমন কোন প্রোডাক্টের  ইমেল পান যা তিনি খুঁজছেন সেই ইমেল তারা গুরুত্ব দিয়ে পড়েন। 

সময় এবং বাজেট বাঁচায়

বিক্রেতা সরাসরি একজন কাস্টমারের ইনবক্সে তার প্রোডাক্টের তথ্য পৌঁছে দিতে পারেন। ফলে তাদের সময় ও কাস্টমারদের কাছে পৌঁছানোর খরচ দুটোই সাশ্রয় হয়। 

পি পি সি (Pay per click)

পিপিসি একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনের মডেল যেখানে প্রতিবার ব্যবহারকারী তাদের অনলাইন বিজ্ঞাপনগুলির মধ্যে একটিতে ক্লিক করলে তার বিনিময়ে বিজ্ঞাপনদাতারা অর্থ প্রদান করে। এটি ফেসবুকের বিজ্ঞাপন মডেল হিসেবে জনপ্রিয়।  

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEO)

কোনও ওয়েব অনুসন্ধান ইঞ্জিনের ব্যবহারকারীদের কাছে ওয়েবসাইট বা ওয়েব পৃষ্ঠার দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে ওয়েবসাইট ট্র্যাফিকের গুণমান এবং পরিমাণ বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বলে।

 SEO এর সুবিধাগুলো হলো,

  • এটি ভালো মানের লিডের অন্যতম উৎস
  • সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর সেলস ক্লোজ রেট বা সেলস হবার পরিমান অনেক বেশি যা প্রায় ১৪.৬%
  • সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর ফলে সার্চ সাইটগুলো কাস্টমারদের ফিজিক্যাল স্টোরে ভিজিট করতে উৎসাহী করে।
  • এটি ব্র্যান্ডেে প্রতি আস্থা বাড়ায়

ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং কি

মার্কেটিং এর আদি রুপ, যেমন প্রিন্ট মিডিয়া, বিলবোর্ড, টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেল ব্যবহার করে মার্কেটিং পরিচালনা করা। ১৯৯০ সালের আগে পর্যন্ত আমার একটি মাত্র মার্কেটিং ধারনার সাথে পরিচিত ছিলাম। সেটি হচ্ছে, ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং। 

উদাহরন,

  • আউটডোরঃ  বিলবোর্ড , বাস বা কার ব্রান্ডিং, পোষ্টার ইত্যাদি  
  • প্রচার মাধ্যমঃ টেলিভিশন, রেডিও ইত্যাদি 
  • প্রিন্টঃ ম্যাগাজিন, নিউজপেপার  
  • ডিরেক্ট মেইলঃ  ক্যাটালগ
  • টেলি মার্কেটিং 

কোন ধরনের মার্কেটিং পদ্ধতি আপনি ব্যবহার করবেন?

বিজনেসে ডিজিটাল ও ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং এর বালান্স  থাকাটা জরুরী। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে একটি মাত্র মার্কেটিং পদ্ধতি আঁকড়ে থাকতে চলবে না। তাই ডিজিটাল ও ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং একই সাথে থাকাটা প্রয়োজন। 

ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং এর সুবিধা ও অসুবিধা

সোশ্যাল মিডিয়ার উত্থানে এই মার্কেটিং পদ্ধতিকে বিক্রেতাদের দ্বারা অবমূল্যায়ন হতে দেখা যায়।

কাস্টমার প্রতিদিনের জীবনে ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং এর একটি  জায়গা সব সময় ছিলো এখনো আছে।

তবে এটি খরচ সাপেক্ষ হওয়াতে কেবল যদি আপনার বাজেট থাকে তবে এই মার্কেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। 

ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং কার্যকারী, সহজে বোধগম্য এবং স্থায়ী। কিন্তু পরিমাপ করা কঠিন বায়বহুল ও কাস্টমারদের সাথে রিয়েল টাইম যোগাযোগ সম্ভব নয়। 

ডিজিটাল  মার্কেটিং এর সুবিধা ও অসুবিধা

মার্কেটিং কৌশল ও কন্টেন্ট  সম্পর্কে আপনার শ্রোতা কী ভাবেন তা প্রত্যক্ষ ভাবে দেখতে  পাওয়া যায়।

লাইক শেয়ার ও কমেন্ট দ্বারা কাস্টমার এটিকে কীভাবে গ্রহন করছে?

আপনি ঠিকঠাক মার্কেটিং কৌশল পরিচালনা করছেন কিনা আপনার কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন সেটি জানা সম্ভব।

ফলাফল নির্দিষ্ট ভাবে পরিমাপ করা যায়।মার্কেটিং কৌশলকে আরও বেশি সফল করে তুলতে পরবর্তী পদক্ষেপ কি নেয়া প্রয়োজন সেটি বোঝা যায়। 

চাহিদামাফিক নির্দিষ্ট কাস্টমারদেরকেই কেবল অ্যাড দেখানো যায়।

এতে আপনার খরচ করা অর্থের বিপরীতে সঠিক কাস্টমার অ্যাড দেখতে পায়।

ধরুন, আমি ভাবলাম কেবল ২৫ থেকে ৩০ বছরের মেয়েদের অ্যাড দেখাব তবে কেবল সেই মেয়েদের টার্গেট করেই অ্যাড দেয়া সম্ভব। 

অসুবিধার দিকগুলো হচ্ছে, সবাই যখন একটি আদর্শ কাস্টমার গ্রুপকে টার্গেট অ্যাডে দেখাতে চান এতে  অনেক সময় কাস্টমার বিরক্ত বোধ করে। ডিজিটাল অ্যাড সময় স্থায়ী এবং ক্রমাগত পরিবর্তনশীল। 

কোন ধরনের মার্কেটিং আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ

ট্র্যাডিশনাল ও ডিজিটাল মার্কেটিং এই দুটি ধরনের মার্কেটিং প্রচেষ্টা সমান গুরুত্বপূর্ণ একটি বিজনেসের বেড়ে উঠায়।

শুধু বুঝতে হবে আপনার বিজনেসের জন্য কোনটি আদর্শ। কীভাবে বুঝবেন? 

যেমন ধরুন, আপনার বিজনেসের টার্গেট কাস্টমার গ্রুপ যদি তরুনরা হয় তবে ডিজিটাল মাধ্যম আদর্শ।

কারণ তাদের মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিমান বেশি। আবার একটু বয়স্ক মানুষ টেলিভিশন ও পত্রিকায় বেশি সময় দেন। তাদের জন্য ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং প্রয়োজন। 

ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের বিজনেসের প্রাথমিক মূলধনের পরিমান কম থাকে তাই মার্কেটিং করার সময় কম খরচে বেশি আয় করা যায়।

এমন বিজনেসের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং প্রয়োজন। 

Digital Marketing Case Study: 

Yellow ফ্যাশান ব্র্যান্ডের ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন যার ফলে ৭ দিনে প্রোডাক্ট আউট অফ স্টক হয়

এই ক্যাম্পেইনটি ৫৭৪ হাজার ভিডিও ভিউ  এবং ৫.৫ মিলিয়ন রিচ হয় যার ফলে সেল ও সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার একই সাথে বাড়ে।

সফল এই মার্কেটিং ক্যাম্পেইনটি দ্বারা Yellow ফ্যাশান ব্র্যান্ডের কিছু সিগনেচার কালেকশন ৭ দিনে আউট অফ স্টক হয়ে যায়। 

পটভূমি

ইদের মৌসুমে মানুষ একটু বেশি বেশি কেনাকাটা করে।

Yellow ফ্যাশান ব্র্যান্ড এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর ডিজিটাল মিডিয়া প্লানের মাধ্যমে ইদের কেনাকাটায় কাস্টমারদের মনোযোগ তাদের দিকে আকর্ষণ করে বেশি পরিমান সেল করতে পরিকল্পনা করেছিলো। 

চ্যালেঞ্জ 

ইদের আগেই একটি পরিকল্পিত সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং প্লানের মাধ্যমে কাস্টমারদের আকছে ইদের কালেকশন তুলে ধরা।

Yellow ফ্যাশান ব্র্যান্ডের টার্গেট কাস্টমার হলো যারা নতুন ফ্যাশানের নিত্য নতুন ট্রেন্ড সম্পর্কে সচেতন ও প্রত্যাশা করে। 

কীভাবে তারা এটি করতে সফল হলো

পরিকল্পনা

তারা সঠিক কাস্টমারদের সঠিক সময়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু চটকদার অডিও জিজুয়াল ব্যবহার করে টার্গেট কাস্টমারদের যুক্ত করবে বলে পরিকল্পনা করে।

সম্পাদন

তারা টপ মডেল ও ফটোগ্রাফারদের একসাথে করেন। এবং সময়ের মধ্যে প্রোডাক্টের ফ্যাশান ফটোগ্রাফি ও ভিডিও সম্পাদনা করেন।

তারা শহুরে কাস্টমারদের টার্গেট করে ১৫ থে ২০ সেকেন্ডের আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরি করে এবং সেটির মাধ্যমে তাদের নতুন সিগনেচার কালেকশনগুলোকে প্রচার করে।

এবং সেই ভিডিও সকল ডিজিটাল প্লাটফর্মে মার্কেটিং এর জন্য ব্যবহার করা হয়।  

Yellow ফ্যাশান ব্র্যান্ডের মিডিয়া টিম সেই ভিডিও কন্টেন্ট গুলো

টার্গেট কাস্টমারদের বয়স, লোকেশন অনুসারে সবার কাছে পৌঁছে দিতে থাকে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ও ইউটিউবে মার্কেটিং করতে থাকে। 

ফলাফল  

৫৭৪ হাজার ভিডিও ভিউ  এবং ৫.৫ মিলিয়ন রিচ এবং  এই মার্কেটিং ক্যাম্পেইনটি দ্বারা Yellow ফ্যাশান ব্র্যান্ডের কিছু সিগনেচার কালেকশন ৭ দিনে আউট অফ স্টক হয়ে যায়। 

মার্কেটিং ক্যাম্পেইনটি দেখুনঃ Yellow ফ্যাশান ব্র্যান্ডের ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন ২০১৮ 

পরিশেষে,  

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে কম খরচে এবং পরিমাপযোগ্য  উপায়ে এমন এক বিশাল সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছে যেতে পারেন যারা আপনার বিজনেসের জন্য আদর্শ। আপনার টার্গেট কাস্টমার গ্রুপের সম্পর্কে জানুন, পরিকল্পনা করুন, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মার্কেটিং করুন আর বিজনেস বাড়ান।  

 

সফল ই-কমার্স বেচাকেনায় মনকাড়া প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার নিয়ম

সফল ই-কমার্স বেচাকেনায়  মনকাড়া প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার নিয়ম

কাস্টমার একটি প্রোডাক্ট সম্পর্কে নিশ্চিত না হবার আগে সেটি কেনে না। প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন কি করে? সে কি কিনতে যাচ্ছে? সেটি তার প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম কি না? সেটি তার জন্য উপযুক্ত কিনা? এসকল প্রাথমিক তথ্য তাকে জানতে সাহায্য করে।

সকল ই কমার্স সেলার তার প্রোডাক্টের ডেসক্রিপশনে প্রাথমিক এই তথ্য রাখে।তাহলে কি কারনে সবার মধ্যে নির্দিষ্ট একজন সেলারকে বেছে নেন?

এর অনেকগুলো কারনের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে মনকাড়া প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন।

অনলাইনে লাখো কন্টেন্টের মধ্যে এমন কিছু কন্টেন্ট আমাদের সামনে আসে যা আমাদের থামতে বাধ্য করে। আমরা থামি কারণ আমরা জানতে আগ্রহী হয়, এটি আমার জন্য সঠিক বলে মনে করি।

এই মুহূর্তে ভালো বিজনেস হলেও প্রোডাক্টের ডেসক্রিপশনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করা জরুরী। যাতে করে আগামীতে আরো ভালো সেল করতে কীভাবে আমাদের পণ্যের বিবরণ আরও বেশি উন্নত করতে পারি।

আজকে ইকমার্স পণ্য বিবরণ উন্নত করার শীর্ষ ৪ উপায় নিয়ে কথা বলবো আর দেখবো সফল ই কমার্স সেলারদের প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার ধরন ও কৌশল।

কীওয়ার্ড মাথায় রেখে প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন অপ্টিমাইজ

আপনি যে শব্দগুলি ব্যবহার করেন সেগুলি কেবল ক্রেতার উপরে প্রভাব ফেলবে না।এটি SEO এর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ।
অ্যামাজনের সাথে কাজ করা বিক্রয় বিশেষজ্ঞদের মতে , এমন কিছু প্রমাণ রয়েছে যে পণ্যের বর্ণনায় কীওয়ার্ড রাখা – বিশেষত বুলেট পয়েন্টগুলি সার্চে রাঙ্কিং বাড়িয়ে তোলে।

tangle-free vacuums. লিখে সার্চ দিলে কি আসে দেখুন। খেয়াল করবেন সার্চ করা কী ওয়ার্ড প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনেও রয়েছে।

যখন অ্যামাজনে সার্চ করি তখন কি দেখিঃ

যখন গুগলে একই কীওয়ার্ডগুলি টাইপ করি তখন ফলাফল হিসাবে কী সামনে আসে দেখুনঃ

এই সার্চেও সেই প্রোডাক্ট নিয়ে আসছে। অর্থাৎ প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনে কী ওয়ার্ডের ব্যবহার সার্চে প্রভাব ফেলে।তাই প্রতিবার প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখার সময় সম্ভব্য সকল নতুন কী ওয়ার্ড রাখুন। সফল ই কমার্স সেলারেরা এই কৌশলে দারুন অভ্যস্ত।

ছবি এবং সমন্বিত মিডিয়ার ব্যবহার

ছবি কথা বলে… একটি প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনকে আরো বেশি প্রাণবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে ছবি। ৬৩% কাস্টমার মনে করে একটি দুর্দান্ত ছবি প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রোডাক্টের যত বেশি সংখ্যক ছবি দিতে পারবেন সেটি কাস্টমারদের কাছে তত বেশি পছন্দনীয় হবে।

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রোডাক্টের ছবি, ভিডিও একসাথে প্রদর্শন করতে পারেন।

নিচের ছবিটি দেখুনঃ

এখানে ছবির সাথে ভিভিও দেয়া হয়েছে। এমন একটি প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন সব কাস্টমার পেতে ভালবাসে। খেয়াল করুন ডেসক্রিপশনের বডিতে বুলেট আকারে প্রোডাক্টের মুল ফিচার গুলোর বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এগুলো SEO তে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কাস্টমারদের প্ররোচিত করে এমন সকল শব্দ ব্যবহার করুন

১১ টি শব্দের লিস্ট দেয়া হলো যার ব্যবহারে কাস্টমারদের কেনাকাটায় প্ররোচিত করা যায়।

  1. Suddenly
  2. Now
  3. Announcing
  4. Introducing
  5. Amazing
  6. Sensational
  7. Revolutionary
  8. Miracle
  9. Magic
  10. Quick
  11. Hurry

নিচের ছবিটি দেখুন, আপনি কি এই ড্রেসটির জন্য ২০০ ডলার খরচ করতে চাইবেন?

এবার যখন নিচের এই ডেসক্রিপশনটি পড়ুন এবং ভাবুন কি মনে হচ্ছে?

Sensational, New, Substantial Feel, Elegant এই শব্দগুলো পড়ার পরে মনে হচ্ছে না, হুম এটি বেশ দামি ড্রেস। আর এটি হলো প্রভাবশালী শব্দের ক্ষমতা।

এমন আরও কিছু পাওয়ারফুল শব্দের লিস্ট দেখুনঃ

 

ব্র্যান্ড ভয়েস ও টোনের দিকে নজর দিন

স্টার্টআপ ব্র্যান্ডগুলো এই বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চান না।

তাদের ভাবনা, এগুলো বড় ব্র্যান্ডের মার্কেটিং কৌশল।কিন্তু এটি একটি ব্র্যান্ডের পারসোনালিটি প্রকাশ করে, অডিয়েন্সদের সাথে যোগাযোগে স্থাপন করতে সহায়তা করে এবং অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলোর থেকে আপনাকে আলাদা করে পরিচিত করে।

প্রতিটি বড় ব্র্যান্ডের নিজস্ব স্টাইলের ভয়েস টন রয়েছে। বিজনেস বড় করতে চাইলে এটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন একজন কাস্টমারের সাথে প্রোডাক্টের যোগাযোগ স্থাপন করে তাই ডেসক্রিপশন লিখতে হবে এমন ধরনের ভয়েস ব্যবহার করে ও নজর দিতে হবে টোনে যাতে করে টার্গেট অডিয়েন্স সেটির সাথে সংযুক্তি বোধ করে।

যেমন, কোকাকোলার ব্র্যান্ড ভয়েস হ্যাপিনেস, জয়, এক্সপিরিয়েন্স এবং টোন হলো ফ্রেন্ডলি। নাইকি ব্র্যান্ড এর ভয়েস ও টোন ইন্সপায়ারিং ।

ব্র্যান্ড ভয়েস ও টন হতে পারে, ফানি, সিরিয়াস,রোমান্টিক, আগ্রেসিভ ইত্যাদি আরো অনেক ধরনের। তবে মোটা দাগে সাধারনত ফরমাল ও কাজুয়াল এই দুইভাগে এটিকে ভাগ করা যায়।

কোন ই কমার্স বিজনেস এই দুই ধরনের ব্র্যান্ড ভয়েস ও টোনের মধ্যে কোনটিকে বেছে নিবে সেটি নির্ভর করে তার টার্গেট অডিয়েন্সদের উপর।

নিচের ছবিতে দেখুন,

ড্রেসটির বর্ণনা দেয়া হয়েছে রেগুলার টনে ব্র্যান্ড ভয়েস বর্ণনা মুলক ও বেনিফিত ওরিয়েন্টেড। এই ডেসক্রিপশন ফরমাল ডেসক্রিপশন বলা যায়।

এবার নিচের ছবিটি দেখুন,

ব্র্যান্ড ভয়েস উৎসাহমূলক ও টোন ফ্রেন্ডলি। এটি কেজুয়াল ডেসক্রিপশনের উদাহরন।

এবার নিচের ছবিতে আসুন,


খেয়াল করুন শেষ লাইন, “We think this dress for spring and summer, featuring beautiful shade of Blue” এখানে কাস্টমারকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এটির ব্র্যান্ড ভয়েস এডভোকেসিভ ও টোন ফরমাল।

পরিশেষে,

প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনের উন্নতি সাধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সময়ের পরিবর্তনের সাথে কাস্টমারদের পছন্দ ও চাহিদা বুঝে এটিকে উন্নত করতে থাকতে হবে। আপডেট থাকতে হবে সমসাময়িক ট্রেন্ডের সাথে। আপনি যখন একটি প্রোডাক্টের ডেসক্রিপশনকে কাস্টমারদের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হবেন তবেই অব্যাহত থাকবে আপনার ই কমার্স বিজনেসের সফলতা।

FOMO (Fear of Missing Out) মার্কেটিং স্ট্রাটেজিঃ কীভাবে ই কমার্স সেলস বৃদ্ধি করতে পারেন?

FOMO (Fear of Missing Out) মার্কেটিং স্ট্রাটেজিঃ কীভাবে ই কমার্স সেলস বৃদ্ধি করতে পারেন?

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কেন মেডিটেশন, স্ক্র্যাচ জিন্স প্যান্ট অথবা কিটো ডায়েটের মতো বিষয়গুলি এত জনপ্রিয়তা পেয়েছে? এর কারণ হল FOMO মার্কেটিং।

অন্যরা কোন একটি কাজ করছে তাই আমিও সেটি করছি। এটি মানুষের খুব সাধারন আচরণ।

কেন কেউ কোনও খালি রেস্তোঁরায় খেতে চায় না এবং সকলেই যে রেস্তোরাঁয় দরজার বাইরে লম্বা লাইন থাকে সেখানে খেতে চায়?

FOMO মার্কেটিং কী?

FOMO , হলো হারিয়ে ফেলার ভয়। মানুষকে কোন একটি কাজ দ্রুত করানোর মনস্তাত্ত্বিক কৌশল।

আমরা সবাই পেতে চায়, কেউ কিছুই হারাতে চায় না। যদি হারানোর সংকেত পায় তবে সেটি পাবার জন্য আমরা উৎসাহী হয়ে উঠি।

মানুষের আচরণের এই বিশ্লেষণকে কাজে লাগিয়ে তাদের মধ্যে হারানোর শঙ্কা জাগিয়ে তুলে পাবার আগ্রহ বাড়িয়ে বেচাকেনা করার পদ্ধতিকে ফোমো মার্কেটিং বলে।

কোন কিছু হারিয়ে ফেলার ভয় মানুষের মাঝে সব সময় ছিল এবং এখনো আছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে এটি আরও বেশি বিস্তার লাভ করেছে । একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রতি ১০ হাজারে প্রায় ৭ জন FOMO অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

FOMO মার্কেটিং নিয়ে কিছু অজানা তথ্য জেনে নিন

জরিপে দেখা গেছে, ৫৬% সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ফোমো অভিজ্ঞতা লাভ করেন। অর্থাৎ এই ধরনের অ্যাড দেবার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার হতে পারে আপনার আদর্শ টার্গেট অডিয়েন্স।

২১ শতকের ৬৯% ইয়ংএডাল্ট ও টিনেজারেরা প্রতিদিন ফোমো অভিজ্ঞতায় ভুগেন। আমেরিকায় তাদের দ্বারা বছরে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেচাকেনা হয়।

তাই এটি স্পষ্ট যে ২১ শতকের ইয়ংএডাল্ট ও টিনেজারেরা এই মার্কেটিং কৌশল দ্বারা নিশ্চিতভাবে প্রভাবিত হয় এবং তাদের কাছে বেচাকেনার জন্য এই কৌশল দারুন কার্যকরী।

আশা করা হচ্ছে ২০২০ সালে এই এই টার্গেট গ্রুপের কাছে বেচাকেনার পরিমান ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

ই-কমার্স সেলার হিসেবে আপনি কি এমন একটি সুযোগ মিস করতে চাইবেন?

৬০% মানুষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি অর্ডার সম্পন্ন করেছে শুধু এই ফোমো অভিজ্ঞতার কারনে। দেখা গেছে ফোমো অভিজ্ঞতা অর্জনকারী সকল কাস্টমারদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

সিটিজেন রিলেশনের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা এই ফোমো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তাদের মধ্যে তিন ধরনের আবেগ লক্ষণীয়।

  • ৩০% মানুষ ঈর্ষা অনুভব করে।
  • ৩৯% মানুষ হিংসা অনুভব করে
  • আর ২১% মানুষ মন খারাপ বা হতাশা অনুভব করেন।

একজন ই কমার্স সেলার হিসেবে আপনি এই সুযোগ কাজে না লাগানোর মতো ভুল করবেন না।

কিভাবে ই কমার্স বিজনেসে ফোমো মার্কেটিং করতে হয়, চলুন জানি।

রিয়াল টাইম সেলস আপডেট জানান

অনেক সময় ই কমার্স সাইটে গেলে আমরা দেখি লেখা থাকে, স্টক ৬০% সেল আউট বা গত ২৪ ঘণ্টায় কতগুলি অর্ডার হয়েছে এমন তথ্য দেয়া থাকে।

নিচের ছবিটি দেখুন

 

ছবিটি তে বলছে, আপনার পছন্দের তারিখে ৬০% রুম বুকিং। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জন রুম বুক করেছে। তাদের কাছে অফার করা মূল্যে মাত্র আর ১ টি রুম খালি আছে!

এখন আপনি যদি ট্যুর প্লান করেন আর সেই লোকেশনে থাকার জায়গা পেতে চান তবে কি করবেন? নিশ্চয় দ্রুত রুমটি বুক করতে চাইবেন।

এভাবেই রিয়াল টাইম সেলস আপডেট দিয়ে কাস্টমারদের মধ্যে পছন্দের জিনিস হারানোর ভয় তৈরি করে সেলস বাড়ানো যায়।

সুযোগ মিস করার ভয়

আপনি একটি রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে পছন্দের খাবার অর্ডার করলেন, কিন্তু জানতে পারলেন সেটি মাত্র শেষ হয়ে গেছে। অন্যকিছু অর্ডার করতে চাইলে করতে পারেন।

তখন মনে হয় শেষ হয়ে যাওয়া মেন্যুটি সবচেয়ে সুস্বাদু এবং আপনি সেটি ছাড়া খেতে চান না। আপনাকে বলায় হয় পরের বার এই মেন্যুটি খেতে চাইলে যথাসম্ভব আগে আসবেন।

এভাবে একজন কাস্টমারের পছন্দের জিনিস হারিয়ে ফেলার ভয়কে কাজে লাগিয়ে পরের বার দ্রুত ও অনেক বেশি পরিমান সেল করা যায়।

উপরের ছবিটি দেখুন।একটি প্রোডাক্ট স্টক আউট যদি সেটি কিনতে চান তবে আপনার আগ্রহ প্রকাশ করে তথ্য দিয়ে রাখুন। পরবর্তী সময়ে আপনাকে স্টক আসলে জানানো হবে।

দেখা গেছে অধিকাংশ মানুষ সেই স্টক আউট প্রোডাক্টটি কিনতে চায়।

লিমিটেড টাইম অফার বা লিমিটেড এডিশন প্রোডাক্ট

গবেষণা বলে, যে সকল প্রোডাক্টের সাপ্লায় কম বা লিমিটেড এডিশনের এক্সক্লুসিভ প্রোডাক্ট সেগুলো কাস্টমারদের কাছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত।

Pumpkin Spice Latte, Starbucks -এর অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়, তবে এটি কেবল ছুটির মৌসুমে পাওয়া যায়। এজন্য এই পানীয় এত জনপ্রিয় আর বছরের মাত্র কয়েক মাস কেবল এটি পাওয়া যায়।

কাউন্টডাউন টাইমার

eBay শপিং অভিজ্ঞতাকে আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে কাউন্টডাউন টাইমার ব্যবহার করে এবং ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা মুলক মনোভাব তৈরি করার মাধ্যমে কেনাকাটায় জরুরি অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

eBay প্রমাণ করে যে এটির মার্জিত ব্যবহার করা হলে, কাউন্টডাউন টাইমার কাস্টমারদের কেনাকাটার ক্ষেত্রে খুব কার্যকর।

এজন্য আপনাকে একটি লিমিটেড টাইম অফার তৈরি করতে হবে এবং সেই অফারটি শেষ হওয়া পর্যন্ত কাউন্টডাউন চালিয়ে যেতে হবে। ।

অ্যামাজন যেমন ১ দিনের মধ্যে ডেলিভারি পেতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্ডার করার কথা মনে করিয়ে দিতে কাউন্টডাউন করে।

সীমিত পরিমাণ প্রোডাক্ট

লিমিটেড টাইম অফারের মতো লিমিটেড পরিমাণ প্রোডাক্টের মার্কেটিং কৌশল কাস্টমারদের মনে জরুরিতার অনুভূতি তৈরি।

এটি মানুষের মনে হারানোর ভয় বা ফোমো অনুভূতি তৈরি করে।

লিমিটেড পরিমান প্রোডাক্ট ঘাটতির নীতিতে নির্ভর করে যা এই ধারণাটি যে প্রোডাক্ট যত বেশি দুষ্প্রাপ্য সেটি তত বেশি আকাঙ্ক্ষিত।

বেশ কয়েক বছর আগে,

লেখক এবং বিপণনকারী শেঠ গডিন একটি বই প্রকাশ করেছিলেন, এই বইটি কেনার জন্য কেবল ২,৪০০ কপি উপলব্ধ ছিল।

তিনি এটির জন্য ৪০০ ডলার মূল্য নির্ধারণ করেন।

গডিন বুঝতে পেরেছিলেন যে এই বইয়ের জন্য ব্যয় করা এই মূল্য অনেক বেশি সুতরাং তিনি একটি ব্লগ পোস্ট লিখেছিলেন।

সেটির শিরোনাম ” একটি বইের মূল্য কি ৪০০ ডলার হতে পারে?

যা কাস্টমারদের দাম দিয়ে এই বই কেনার বিষয়ে দ্বিধার সমাধান করেছে।শেষ পর্যন্ত, গডিন বইটির প্রতিটি অনুলিপি বিক্রি করেছিলেন।

এখান থেকে আমরা কি শিখলাম?

আপনার ইকমার্স স্টোরে কিছু প্রোডাক্ট সীমিত পরিমাণে বিক্রির চেষ্টা করুন।

যদি প্রোডাক্টটির উচ্চ মূল্য ট্যাগ থাকে, তবে গডিনের মতো আপনার কাস্টমারদের কাছে সেই মূল্যটিকে ন্যায়সঙ্গত করুন এবং আপনার প্রোডাক্টটি কীভাবে কাস্টমারদের জীবনকে কি উপযোগিতা দিবে তা বলুন।

স্টকের পরিমান প্রদর্শন করুন

একটি নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট বিক্রি করুন, আপনার গ্রাহকদের এটি সম্পর্কে বলুন, তবে এটি নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ হবেন না। কাস্টমারদের মধ্যে FOMO অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে এটি কার্যকরী।

স্টকের পরিমান কাস্টমারদের সাথে শেয়ার করার সময় সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত।

কাস্টমার নির্বোধ নন, তারা জানেন আর মাত্র কয়েকটি প্রোডাক্ট আছে এর অর্থ আপনি চালাকি করছেন। তাই আইটেমের সঠিক সংখ্যা বলুন।

যদি আপনার কাস্টমারদের নির্দিষ্ট আকার বা রঙের প্রোডাক্ট যা দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে সেটি নির্দিষ্ট করে দেখাতে পারেন তবে তারা বাকি প্রোডাক্টগুলির চেয়ে সেটি কিনতে বেশি ঝুঁকবে।

 

 

কাস্টমারদের দ্রুত চেকআউট করতে উৎসাহিত করুন

কল্পনা করুন: আপনি অনলাইনে কেনাকাটা করছেন, আপনার কার্টে কয়েকটি আইটেম যুক্ত করলেন এবং তারপরে হঠাৎ নিচের ছবির মতো এই পপ-আপ বিজ্ঞপ্তিটি সামনে এলো

কেমন অনুভব হবে সে সময়? আপনি নিশ্চয় দ্রুত অর্ডার সম্পন্ন করতে চাইবেন।

দেখা গেছে অনেক কাস্টমার চেকআউট করার শেষ মুহূর্তে এসে অর্ডার সম্পন্ন না করে বের হয়ে পড়েন।

যদি এই কৌশল আপনি অবলম্বন করেন তবে তারা দ্রুত অর্ডার করবে। কমে যাবে কার্ট ড্রপ আউটের পরিমান।

জনপ্রিয় আইটেমগুলি প্রদর্শন করুন

আমরা সবাই যখনই কোন রেস্তোরাঁয় খেতে যায় এবং আমাদের যখন জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কি খেতে চান?

আমরা জানতে চায় এখানে সর্বাধিক জনপ্রিয় আইটেমগুলি কোনগুলো। আমরা বিশ্বাস করি সর্বাধিক জনপ্রিয় জিনিস অবশ্যই ভাল হওয়া উচিত?

তাই ই কমার্স বিজনেসে অন্যান্য কাস্টমারগুলো কি বেশি পছন্দ করছে তা সবাইকে জানান।

উপরের ছবির মতো আপনার ই কমার্স সাইটে বেস্ট সেলার আইটেমের পাশে একটি ট্যাগ রাখতে পারেন।

কাস্টমার এথেকে জানতে পারবে আপনার ই কমার্স সাইটের জনপ্রিয় প্রোডাক্ট কোনটি।

FOMO কাস্টমারদের মনে হারানোর ভয় জাগিয়ে দ্রুত কেনাকাটা করার অনেক পুরনো কৌশল,

তবে সোশ্যাল মিডিয়ার উত্থানের সাথে ই কমার্স বিজনেসে এটি অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমানিত হয়েছে।

পরিশেষে,

আপনি যদি আপনার ইকমার্স মার্কেটিং কৌশলে FOMO মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ব্যবহার করেন তবে আরো বেশি কাস্টমার আকর্ষণ করতে এবং বিক্রয় বাড়াতে সক্ষম হবেন।

আপনার বিজনেসে আপনি কী কখনো FOMO ব্যবহার করেছেন? FOMO মার্কেটিং নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন আমাদের সাথে।

ই কমার্স সেলস বৃদ্ধি করার ফ্রি মার্কেটিং টুলস

ই কমার্স সেলস বৃদ্ধি করার ফ্রি মার্কেটিং টুলস

অনলাইনে অনেক ফ্রি মার্কেটিং টুলস রয়েছে যার ব্যবহার আপনার ই কমার্স বিজনেস সম্পর্কে এমন সব তথ্য তুলে ধরে যা বিজনেসটিকে লাভজনক করে তোলার সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক।

কারণ ডেটা আর ইনসাইট সফল ই-কমার্স বিজনেস পরিচালনার মুল চাবিকাঠি।

আবার কিছু ফ্রি মার্কেটিং টুলস রয়েছে যা ই কমার্স বিজনেসের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সহজ ও দ্রুততম উপায়ে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।

আজ আমারা পরিচিত হবো এমনি কিছু অনলাইন ফ্রি মার্কেটিং টুলসের সাথে যা ই কমার্স বিজনেসের জন্য অত্যন্ত দরকারি।

Facebook Pixel

ফেসবুকে অ্যাড দিলেন সেই অ্যাডটিতে অডিয়েন্স এঙ্গেজ হয় তখন ফেসবুক পিক্সেল সেই অডিয়েন্সকে ট্র্যাক করে রাখে।

পরের বার ফেসবুকে অ্যাড দেবার সময় রি টার্গেট করে অ্যাড চালালে ইতিপূর্বে যারা এঙ্গেজ হয়েছে তারা তো আপনার অ্যাড দেখবেই সাথে সাথে তাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অডিয়েন্সদের কাছেও অ্যাডটি পৌঁছে যাবে।

এটিকে অনেক মার্কেটিয়ার অ্যাডভান্স মার্কেটিং বলে থাকেন।

অনেক সময় কিছু কমার্স ওয়েবসাইটে একটি প্রোডাক্ট দেখেতে ভিজিট করলেন কিছুক্ষণ পরেই আপনি যখন আপনার ফেসবুকে ঢুকবেন খেয়াল করবেন সেই ই কমার্স সাইটের রিলেটেড অন্যান্য অ্যাডগুলো আপনার ফেসবুকের টাইমলাইনে চলে আসবে।

ফেসবুক পিক্সেল দিয়ে আপনাকে ট্র্যাক করে রি টার্গেট অ্যাড রান করায় এমনটি হয়।

Google Analytics

এটি গুগলের একটি ফ্রি ট্রাকিং সফটওয়্যার যা বিজনেসের ৩৬০ ডিগ্রি ইনসাইট প্রদান করে। সেজন্য আপনার একটি জি মেইল একাউন্ট লগইন থাকতে হবে।

এর মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের লাইভ ট্রাফিক দেখতে পারবেন।

এটি আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক রিলেটেড বিস্তারিত ও বিশ্লেষণ ধর্মী তথ্য প্রদান করে।

আপনার ই কমার্স সাইটে ট্রাফিক কোন দেশ থেকে আসছে, তাদের বয়স কেমন, তারা আপনার ওয়েবসাইটের কোন পেজগুলো সবচেয়ে বেশি ভিজিট করছে।

তারা পুরুষ না মহিলা এসব ডাটা গুগল অ্যানালিটিকস থেকে পাবেন।

এই সকল ডেটা আপনার ওয়েবসাইটকে অপটিমাইজ করার জন্য খুব প্রয়োজনীয়।

Google Trends

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ট্রেন্ডি টপিক গুলো সম্পর্কে জানতে এটি ব্যবহার করুন।পছন্দের টপিকের কিওয়ার্ড ধরে সার্চ দিলেই খুঁজে পাবেন সব তথ্য।

আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে সেই প্রোডাক্টটি জনপ্রিয়তা গুগল ট্রেন্ড দিয়ে অনায়াসে যাচাই করতে পারবেন।

Google Search Console

আপনার ওয়েবসাইটে গুগল সার্চ কনসোল এড করা থাকলে ওয়েবসাইটের কোন সমস্যা হলে অটোমেটিক ভাবে জানতে পারবেন।

এছাড়া সার্চ কনসোল আপনি আপনার ওয়েবসাইটের প্রতিটি পেজকে গুগলে তাড়াতাড়ি ইনডেক্স করাতে সাহায্য করে।

সার্চ কনসোলের দ্বারা আপনার ওয়েবসাইটের পারফরম্যান্স দেখতে পারবেন।

জানতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইটে এভারেজ CTR( Click Through Rate ) কত, আপনার ওয়েবসাইটে কত ইম্প্রেশন আসছে এবং আপনার ওয়েবসাইটে কত ক্লিক আসছে।

Tawk

Tawk একটি ফ্রি লাইভ চ্যাটিং সফটওয়্যার ।

ওয়েবসাইট থেকে কাস্টমারের সাথে লাইভ চ্যাটিং করার জন্য এই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়।

আমাদের দেশে মেসেঞ্জার লাইভ চ্যাটিং এর ব্যবহার সবচেয়ে করা হয়।

কিন্তু এই সফটওয়্যার টি আপনাকে মেসেঞ্জারের থেকেও অনেক বেশি সুবিধা প্রদান করে।

Google Alerts

ইন্ডাস্ট্রি রিলেটেড নিউজ বা পছন্দের টপিকের উপর নিউজ পেতে চাইলে এই ইন্সটল করে নিন। অনলাইনে যখনি কেউ
সেই রিলেটেড নিউজ প্রকাশ করবে সাথে সাথে আপনি জানতে পারবেন।

গুগল এলার্ট ফ্রি একটি টুলস এটি ওয়েবসাইটে ইন্সটল করাও সহজ।

 

 

Google My Business

ওয়েবসাইটের লোকাল এসইও এর সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো Google My Business। এটি আপনার ওয়েবসাইটকে গুগল এর প্রথম পেজে নিয়ে আসতে পারে।

এটি গুগলের একটি ফ্রি টুলস।

আপনার যদি কোন ওয়েবসাইট না থাকে অবুও শুধু আপনার কোম্পানির নাম দিয়েই গুগলের প্রথম পেজে জায়গা করে নিতে পারবেন ।

সেলস জেনারেট করতেও এটি সহায়ক ।

আপনি একটি ভালো সফটওয়্যার খুঁজছেন খুঁজছেন সেটির নাম ধরে গুগলে সার্চ দিলেই সব গুলো প্রতিষ্ঠানের লিস্ট চলে আসবে।

ধরুন, আপনি Best software company in Dhaka লিখে সার্চ দিলেন গুগল আপনাকে শুধু ঢাকার ভিতরে যে সকল সফটওয়্যার কম্পানি আছে সেগুলো দেখাবে। আপনি পছন্দমত কোম্পানি বেছে নিবেন।

Keyword Planner

ডিজিটাল মার্কেটিং করেন তাদের জন্য কিওয়ার্ড প্ল্যানার এই টুলসটি খুব পরিচিত।আর যদি না জেনে থাকেন তাহলে আপনি একটু ইউটিউব এবং গুগল ঘাটলেই কিওয়ার্ড প্ল্যানার নিয়ে বিস্তারিত সব তথ্য পেয়ে যাবেন।

নির্দিষ্ট টপিক রিলেটেড যেকোনো ধরনের কিওয়ার্ড এবং রিলেটেড কিওয়ার্ড খুঁজে পেতে এবং সেই কিওয়ার্ডগুলো ওয়েবসাইটে ব্যবহার করেন খুব দ্রুত আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম পেজে নিয়ে আসতে এই টুলস দারুন।

গুগোল কিওয়ার্ড প্ল্যানার দিয়ে বের করতে পারি কোন একটি কিওয়ার্ডের সার্চ ভলিয়ম কত ?

 

পরিশেষে,

উপরে প্রদত্ত টুলসগুলো সম্পূর্ণ ফ্রি তাই আপনি চাইলে সেগুলো ওয়েবসাইটের সাথে ব্যবহার করতে পারবেন । এই ফ্রি মার্কেটিং টুলস গুলোর সঠিক ব্যবহার করলে আপনার ই কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভালো পরিমাণ সেলস করতে পারবেন। তাই আর দেরি কেন? টুলসগুলো ব্যবহার করুন আর বেশি বেশি বেচাকেনা করুন।

ফেসবুক অ্যাড: ৬ টি অতি সাধারণ ভুল যা আপনার অ্যাডের ROI কমিয়ে দেয়

ফেসবুক অ্যাড: ৬ টি অতি সাধারণ ভুল যা আপনার অ্যাডের ROI কমিয়ে দেয়

যদি ফেসবুক অ্যাডের ROI নিশ্চিত করতে চাই তবে জানতে হবে সেই সাধারন ভুলগুলো সম্পর্কে যা একটি অ্যাডের ROI কমিয়ে দেয়।

ফেসবুক বিজনেসের প্রচারে সবচেয়ে বড় অ্যাড প্ল্যাটফরম সুবিধা প্রদান করে। কিন্তু একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আমরা সকলেই ফেসবুকে অ্যাড দেবার সময় কিছু সাধারন ভুল করি।

এই ভুলগুলো বিজনেসের ROI (Return on investment) এ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আসুন জেনে নেয়া যাক সে সকল সাধারন ভুলগুলো সম্পর্কে যা আমরা সকলেই করি।

 

অডিয়েন্স রিসার্চে বিনিয়োগ না করা

ভুল মানুষের সামনে একটা ভাল মানের বিজ্ঞাপন দেখানো অথবা সঠিক মানুষের সামনে একটি মধ্যম মানের বিজ্ঞাপন দেখানো?

আপনি কোনটিকে সঠিক বলে মনে করেন? অবশ্যই সঠিক মানুষদের সামনে বিজ্ঞাপন দেখানো।

এজন্য প্রথমে আমাদের প্রয়োজন সঠিক অডিয়েন্সদের খুঁজে পেতে অর্থ খরচ করা।

ফেসবুকে বিচিত্র ধরনের দর্শক রয়েছে। আপনি কি বিক্রি করছেন তার উপর নির্ভর করে অডিয়েন্স নির্ধারণ করতে হয়। এক্ষেত্রে অডিয়েন্সের আকার বড় বা ছোট হতে পারে।

বিজ্ঞাপনের দেবার শুরুর দিকে এই অডিয়েন্স গ্রুপ খুঁজে পেতে রিসার্চ করতে হবে।তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনি অনুমান নির্ভর তথ্যের ভিক্তিতে এটি করবেন।

অডিয়েন্স রিসার্চের সময় নিজেকে কাস্টমারের স্থানে বসিয়ে প্রশ্ন করবেন, আপনি কি চান? তবে আপনি অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সহজ হয়ে যায়।

ধরুন আপনি কফি সেল করেন।

আপনি ভাবতে পারেন যে সকল ব্যক্তিরা ফেসবুকে “স্টারবাকস” পছন্দ করেন তারা আপনার এই বিশেষ কফি কিনতে আগ্রহী হতে পারেন। তবে আপনি ফেসবুকে এমন অনেক অডিয়েন্স পাবেন যারা স্টারবাকস পছন্দ করে এবং পান করে আবার অনেকে এই কফি পছন্দ করে কিন্তু কখনো পান করেন নি।

এরা সবাই মুলত আপনার টার্গেট অডিয়েন্স। কারণ কফির প্রতি এদের সবার আগ্রহ রয়েছে।

লক্ষ্য করুন, আপনি যদি সঠিক টার্গেট অডিয়েন্স খুঁজে পেতে চান তবে কোন প্রশ্নগুলো নিজেকে করবেন?

  • কাস্টমার গুগলে কি সার্চ করে?
  • ফেসবুকে কোন পেজগুলো তারা লাইক করে?
  • টার্গেট অডিয়েন্স কোন প্রভাবশালী বা সেলিব্রিটিদের অনলাইনে অনুসরণ করে?
  • কি ধরনের অ্যাপ্লিকেশনগুলো তারা ব্যবহার করে?
  • অনলাইনে কোন ধরনের নিউজ বা ব্লগ পড়ে?
  • ইতিমধ্যে কোন প্রতিযোগীদের কাছ থেকে প্রোডাক্ট কিনছেন?

প্রশ্নগুলির উত্তর পেলে আপনি সম্ভব্য টার্গেট অডিয়েন্সদের কাছে অনেকটা এগিয়ে গেছেন।

অডিয়েন্স রিসার্চের জন্য ফেসবুকের Audience Insights tool ব্যবহার করতে পারেন। অডিয়েন্সদের আচরণ, পছন্দের ধরন, তারা কোথায় বেশি সময় কাটাচ্ছে সে সকল তথ্য থেকে আপনি আপনার সম্ভব্য টার্গেট কাস্টমার সম্পর্কে ধারনা পাবেন।

অনেক বড় টার্গেট অডিয়েন্স সেট করা

আমাদের আরেকটি বড় ভুল হলো প্রোডাক্টের অ্যাড দেখানোর জন্য অনেক বড় আকারের টার্গেট অডিয়েন্স গ্রুপ বেছে নেওয়া। এতে অ্যাডের ROI কমে যায়।

ফেসবুক অ্যাড দেখালেই অর্থ পাবে তাই আপনাকে সজাগ থাকতে হবে অ্যাডে আপনি যে অর্থ প্রদান করছেন তা উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত যেন হয়। ভুল লোকের কাছে অ্যাড দেখিয়ে অর্থের অপচয় কেন করবেন?

আপনার টার্গেট অডিয়েন্স যদি খুব বড় হয় তবে কাস্টমারদের ইন্টারেস্টের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মিল রেখে টার্গেট গ্রুপ ছোট করে নিয়ে আসুন । যত বেশি সঠিক কাস্টমার গ্রুপের কাছে আপনার অ্যাড পৌঁছে দিতে পারবেন ততবেশি প্রোডাক্ট সেল হবার সম্ভবনা বেড়ে যায়।

অধৈর্য হওয়া

ফেসবুক অ্যাড দেবার সাথে সাথে কেন ফলাফল পাচ্ছি না এমন অভিযোগ অনেকে করেন।

অ্যাডে খরচ করা টাকার বিপরীতে সুফল না পেয়ে অনেকে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আরও ভাল পারফরম্যান্স পেতে চলমান অ্যাড বার বার অপটিমাইজড করতে থাকেন। এ

টি করবেন না। এটি অ্যাডের ROI কমিয়ে দিতে পারে।

শুরুতে আপনাকে কাস্টমার ডেটা সংগ্রহ করার দিকে মনযোগী হতে হবে।

একজন গ্রাহক পেতে কতটা ব্যয় আপনি করতে চান তা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরী।

ধরুন, আপনার পণ্যগুলির দাম ১০০ টাকা এবং আপনি পণ্যটি ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

তবে প্রথমদিকে কাস্টমার পেতে অতিরিক্ত এই ৫০ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা রাখতে হবে।

ফেসবুক একটি অ্যাড রান করার পর কিছু সময় লারনিং স্টেজে রাখে। এসময় ফেবসুক আপনার টার্গেট কাস্টমারদের কাছে পৌছাতে নিজে নিজে শিখে।

এই লারনিং স্টেজ ১০০০ রিচ পর্যন্ত চলে এবং এরপরে অ্যাড সম্পূর্ণভাবে রান হয়। তাই অ্যাড রান করার পরে কিছুটা সময় দিন।

ফেসবুক পিক্সেলটি ইনস্টল না করে থাকেন তবে সেটি ইন্সটল করে নিন।

ফেসবুকের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম প্রাপ্ত ডেটার উপর ভিক্তি করে অ্যাড পারফরম্যান্স উন্নত করতে পিক্সেল ব্যবহার করে।

তাই অ্যাড চালনা করার পরে অধৈর্য হলে চলবে না।

টার্গেটিং-এ ভিন্নতা না নিয়ে আসা

মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ইনসাইট। অ্যাড চালনার সময় টার্গেটিং এ পার্থক্য নিয়ে আসুন। দেখুন কোন বিষয়গুলোর উপস্থিতি অথবা অনুপস্থিতি অ্যাডের পারফর্মেন্সে পার্থক্য তৈরি করছে।

পরের বার অ্যাড চালনা করার সময় অ্যাডের পজিটিভ আউটকামের সাথে যুক্ত ফ্যাক্টরগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে আসুন।

 

 

অ্যাডের প্রাপ্ত সকল ফলাফলকে মূল্যায়ন না করা

যদিও অ্যাডের প্রাথমিক লক্ষ্য বিক্রয় করা তবে এর বাইরেও অনেক অর্জন থাকে সেগুলোর দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন।

  • ই কমার্স ওয়েবসাইটে আসা দর্শকদের কাছ থেকে ইমেল সংগ্রহ করতে পারেন।
  • অ্যাড দেখে যারা কমেন্ট করছে তাদের সহায়তা করতে তাদের সাথে সরাসরি কভারসেশনে জড়িত হন।
  • আপনার সাইটে দর্শকদের ভবিষ্যতে রিটার্গেট করে অ্যাড দিতে পারেন।
  • পোস্ট লাইক করা লোকগুলিকে আপনার ফেসবুক পেজটি লাইক করতে ম্যানুয়াল ইনভাইটেসন জানাতে পারেন।

ওয়েবসাইটে গুগল অ্যানালিটিকস সেট আপ করুন সেটি ধারনা দিবে ট্র্যাফিকগুলো আপনার ওয়েবসাইটটিতে কি ধরনের আচরণ করছে। যা পরবর্তী অ্যাড চালনা করার সময় টার্গেট অডিয়েন্স অপটিমাইজ করতে সহায়ক হবে।

আকর্ষনীয় ও ক্লিকের জন্য উপযোগী করে অ্যাড তৈরি না করা

অডিয়েন্সদের আকর্ষণ করে এমন একটি ভাল ক্রিয়েটিভ অ্যাড আপনার ফলাফল পাবার সম্ভবনা আরও বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

একটি ভাল অ্যাডে তৈরি করতে কি করবেন?

  • অ্যাডের ছবি হতে হবে দৃষ্টিনন্দন।
  • আবেগের সঠিক মেসেজ দিতে ইমোজিগুলি ব্যবহার করতে পারেন।
  • অ্যাডে সোশ্যাল প্রুফ (লাইক, কমেন্ট, শেয়ার) এর সংখ্যা প্রকাশ করুন যা কাস্টমারদের কাছে আপনার অ্যাডটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
  • ডেসক্রিপশনে লিংক জুড়ে দিতে পারেন, শপ বা বায় নাও বাটন যুক্ত করে ক্লিকের পরিমান বাড়িয়ে তুলতে পারেন।
  • ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাট ব্যবহার করে অ্যাড চালাতে পারেন।

পরিশেষে

ফেসবুক প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে অ্যাড দিলে সেখান হতে সুফল পেতে কিছু সময় যদিও লাগে কিন্তু এটি বিজনেসের প্রচার প্রচারণায় কার্যকর মাধ্যম।সঠিক ভাবে অ্যাড পরিচালনার পন্থাগুলো সম্পর্কে সচেতন হলে এই প্ল্যাটফরমে অ্যাড দেবার জন্য খরচ করা টাকার উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিতকরণ সম্ভব।

প্রোডাক্ট রিটার্ন পলিসি, শুধুমাত্র প্রোডাক্ট নয় কাস্টমার কেনে নিরাপত্তা

প্রোডাক্ট রিটার্ন পলিসি, শুধুমাত্র প্রোডাক্ট নয় কাস্টমার কেনে নিরাপত্তা

আড়ং এর প্রোডাক্ট রিটার্ন পলিসি সম্পর্কে আপনার কি জানা আছে? কাস্টমার একটি ব্র্যান্ড থেকে শুধুমাত্র কি প্রোডাক্ট কেনে?

আড়ং থেকে কমবেশি আমরা সবাই কেনাকাটা করতে পছন্দ করি ।তারা একটি দারুন রিটার্ন সুবিধা আমাদের অফার করে। সে সম্পর্কে আমরা কি জানি?

আপনি যখন আড়ং থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন করবেন তখন তাদের কাস্টমার প্রতিনিধি বলে দেয়, যদি প্রোডাক্টটি পরিবর্তন প্রয়োজন হয় তবে আড়ং এর যেকোনো ব্র্যান্ড শপ থেকে তা পরিবর্তন করে নেয়া সম্ভব।

ভেবে দেখুন, ঈদ বা পুঁজোর মৌসুমে আপনি পরিবারের জন্য কেনাকাটা করে গ্রামের বাসায় গেলেন কিন্তু পরিবারের কোনো একজনের ড্রেসটি মাপে বড় বা ছোট হলো তখন কি করবেন?

যদি আড়ং এর ঢাকা আউটলেট থেকে থেকে কেনাকাটা করেন আর আপনি ভ্রমন করেন খুলনা তবে আপনি সহজেই খুলনা আউটলেট থেকে ড্রেসটি পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। এটি কাস্টমারদের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি বড় সুবিধা।

বিজনেসে রিটার্ন পলিসি তখনই সার্থক যখন ক্রেতা তাঁর প্রোডাক্ট ফেরত দেবার পরে সেলার থেকে শান্তির ঘুমটি গিফট হিসেবে পায়।কাস্টমার শুধু প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কেনে এই ধারণা সত্য নয়, কাস্টমার কেনে নিরাপত্তা।

এই নিরাপত্তা প্রোডাক্টের গুনগতমানের নিরাপত্তা, চাহিদামতো প্রোডাক্ট পাবার নিরাপত্তা, অর্থের বিপরীতে উপযুক্ত উপযোগিতা পাবার নিরাপত্তা ও যথাযথা কাস্টমার সার্ভিস পাবার নিরাপত্তা।

ই কমার্স বিজনেসে প্রোডাক্ট রিটার্ন পাবার অভিজ্ঞতা হয়নি এমন সেলার খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বেচাকেনা বাড়ে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে প্রোডাক্ট রিটার্নের হার।

বিজনেসকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে এসময় তাঁর রিটার্ন পলিসি নিয়ে ভাবতে হয়।

প্রোডাক্ট কেনার পরবর্তী পর্যায়ে কখন, কীভাবে, কি অবস্থায় একজন কাস্টমার সন্তুষ্ট না হলে পরিবর্তন বা মূল্য ফেরত সুবিধা পাবেন নাকি পাবেন না সেটি জানা তাঁর অধিকার। এটি কাস্টমার সার্ভিসের একটি অপরিহার্য অংশ।

এ কারণে একটি নতুন ই কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কাস্টমার প্রোডাক্ট অর্ডার করার সিদ্ধান্ত নেবার সময় দ্বিধায় ভুগেন, মনে প্রশ্ন জাগে, পরিবর্তন প্রয়োজন হলে পাবো তো?

প্রোডাক্ট রিটার্নের প্রভাব সরাসরি রেভিনিউের উপরে পড়ে। দেখা যায় অনেক প্রোডাক্ট ডিস্কাউন্টে সেল করার পরে যদি রিটার্ন আসে তবে লজিস্টিক খরচ বেড়ে যায়, সেই প্রোডাক্টের স্টক বেড়ে যায়।এতে নতুন প্রোডাক্টের জন্য ইনভেস্টমেন্ট কমে যেতে পারে।যা আপনার লসের পরিমাণকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

আবার যদি লজিস্টিক চার্জ কাস্টমারদের থেকে পুষিয়ে নিতে চান তবে গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হবেন। তবে সচেতনতা দ্বারা প্রোডাক্ট রিটার্নের অস্বস্তিকে বিজনেসের ইতিবাচক উন্নতির জন্য ব্যবহার করা সম্ভব।

চারটি উপায় রয়েছে যা এই রিটার্ন পলিসিকে বিজনেস বান্ধব করে তূলে বেচাকেনা বাড়িয়ে তোলা যায়।

জানুন, কোন ধরনের প্রোডাক্টগুলো কাস্টমার বেশি রিটার্ন করে।

আপনি বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট সেল করেন তবে এমন কিছু আইটেম রয়েছে যা অন্যগুলোর চেয়ে কাস্টমার বেশি ফেরত দেয়। যদি আপনি পোশাক আইটেম বিক্রি করেন তবে আসবাবপত্র গুলোর তুলনায় অনেক বেশি রিটার্ন আসবে।

সুতরাং, আপনি যখন কোনও রিটার্ন পলিসি তৈরি করবেন, তখন এই ধরনের বেশি পরিমাণ রিটার্ন সম্ভব্য আইটেমগুলির রিটার্ন পলিসি অন্যদের চেয়ে আরও বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট করবেন।

L.L.Bean একটি আমেরিকান রিটেল কোম্পানি। কাস্টমার যদি তাদের প্রোডাক্টে সন্তুষ্ট না হয় বা প্রোডাক্টের বর্ণনা মোতাবেক কাস্টমার যদি প্রোডাক্ট থেকে উপযোগিতা না পেয়ে থাকেন তবে এক বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রোডাক্ট রিটার্ন করার সুবিধা প্রদান করে।

একদিন তাদের কাছে একটি চার বছরের পুরনো প্রোডাক্ট (জুতা) রিটার্ন আসে এবং কাস্টমারের কাছে কেনার ইনভয়েসটিও ছিল না ।কিন্তু L.L.Bean সেই কাস্টমারের জুতা রিটার্ন নেয় ও দুইদিনের মধ্যে তাঁর বাসায় নতুন এক জোড়া জুতা পাঠিয়ে দেয়।

তারা জানত কিছু মানুষ এই সুবিধার সুযোগ গ্রহন করবে কিন্তু তাঁর পরেও তারা কাস্টমার সার্ভিসকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবার পক্ষে পলিসি তৈরি করে।

এটি মার্কেটে তাদের সম্পর্কে দারুন ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। প্রোডাক্টের গুনগতমান নিশ্চিত করার আত্মবিশ্বাস থাকলেই এমন সাহসী পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। এভাবে L.L.Bean ব্র্যান্ড রিটার্ন পলিসিকে ব্যবহার করে কাস্টমারদের মাঝে আস্থার জায়গা তৈরি করতে সামর্থ্য হয় যা তাকে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলে ।

লাস ভেগাস কেন্দ্রিক Zappos নামে একটি অনলাইন রিটেল কোম্পানির VP of services and operations, Craig Adkins বলেন, তাদের সেরা কাস্টমার গুলোর প্রোডাক্ট রিটার্ন দেবার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি কিন্তু সেই কাস্টমার গুলোই Zappos থেকে বেশি পরিমাণ টাকার প্রোডাক্ট কিনেছে এবং তারাই তাদের লাভজনক ক্রেতা।

 

কোন ধরনের প্রোডাক্টগুলোর রিটার্ন রেট বেশি হয় দেখুন নিচের চিত্রে।

পোশাকের ক্ষেত্রে ফিট না হবার কারনে ৭৪% গ্রাহক প্রোডাক্ট রিটার্ন করে।

প্রোডাক্ট রিটার্ন পলিসি বেশি বেশি প্রচার করুন

একটি দারুন রিটার্ন পলিসি কাস্টমারদের নির্ভয়ে কেনাকাটার আশ্বাস প্রদান করে।

বিজনেসে রিটার্ন পলিসি কেবল পেজের নিচে এককোণে নির্দেশাবলী হিসেবে দেয়া থাকে যা অনেকে কোনদিন পড়েন নি। রিটার্ন পলিসি দেবার উৎকৃষ্ট স্থান হচ্ছে ই-মেইল।যখন আপনি কারো অর্ডার কনফার্ম করছেন সেই ই-মেইলের সাথে রিটার্ন পলিসি যোগ করে দিন।

কাস্টমার যখন কোনও নতুন ই কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করেন, তখন মনে দ্বিধা কাজ করে। যদি প্রোডাক্টটি আমার কাজে না আসে বা পরিবর্তন প্রয়োজন হয় তবে রিটার্ন পাবো তো?

একবার কাস্টমারদের মনে রিটার্ন পলিসি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সে আপনার ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা না করেই চলে যায়।এতে নতুন কাস্টমার আসা কমে যায়, এবং ব্যবসায়ী সেটি বুঝতেই পারে না।

এক্ষেত্রে সচ্ছ রিটার্ন পলিসি কাস্টমারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে ও কেনাকাটা সম্পন্ন করতে উৎসাহী করে।

বস্তুত,৭২% কাস্টমার প্রোডাক্ট অর্ডার করার আগে কোম্পানির রিটার্ন পলিসি চেক করে। যখন কাস্টমার জানতে পারেন যে একটি ই কমার্স ওয়েবসাইট উপযুক্ত রিটার্ন সুবিধা অফার করে না, তাদের ৭০% কেনাকাটা না করে চলে যায় ।

এটি থেকে পরিত্রান পেতে চাইলে, ওয়েবসাইটের প্রতিটি প্রোডাক্ট ডিটেলস পেজে রিটার্ন পলিসি প্রদর্শন করুন।

 

 

বিনামূল্যে নয়, সহজ ও দ্রুত রিটার্ন পলিসি কাস্টমারদের পছন্দ

৮৪ % কাস্টমার ফ্রি রিটার্ন পাবার চেয়ে দ্রুত এবং সহজে রিটার্ন পেতে চায়।

রিটার্ন সুবিধা যত দ্রুত ও সহজ হবে কাস্টমার তত বেশি সাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করবে। ফোন কল, মেসেজ বা ইমেইলের মাধ্যমে প্রোডাক্ট রিটার্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুবিধা কাস্টমারদের প্রোডাক্ট অর্ডার করতে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

৬০% কাস্টমার বছরের কোনো এক সময়ে একবার হলেও প্রোডাক্ট রিটার্ন বা এক্সচেঞ্জ চেয়েছে।যদি রিটার্ন করার অভিজ্ঞতা সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয় তবে ৯৫% কাস্টমার আবার সেই শপ থেকে কেনাকাটা করে

প্রচলিত একটি ভুল ধারণা রয়েছে, রিটার্ন পলিসি সহজ করে দিলে কাস্টমার বেশি বেশি প্রোডাক্ট ফেরত দিবে যা একেবারেই ভুল ও কল্পনা প্রসূত।

দেখা গেছে কেনাকাটা পরবর্তী সময়ে প্রোডাক্ট পছন্দ হয়নি কিন্তু রিটার্ন পলিসি নেই বলে প্রোডাক্ট রিটার্ন দিতে পারে নি এমন কাস্টমারদের সংখ্যা মাত্র 12%। এটির মানে রিটার্ন সুবিধা বাড়িয়ে দিলে সব কাস্টমার প্রোডাক্ট রিটার্ন করবে এমন কথা সত্য নয়।

গড়ে প্রতি ১০০ টি প্রোডাক্ট সেল হলে ১২ টি প্রোডাক্ট বিভিন্ন কারনে ফেরত আসতেই পারে। বিজনেসে সব প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে একই পরিমাণ রিটার্ন রেট হয় না।

তবে সহজ রিটার্ন পলিসি থাকলে সেই ব্র্যান্ডগুলির বেচাকেনা আরও বেড়ে যায়।যার মূল কারণ কাস্টমার প্রোডাক্টের জন্য খরচ করা টাকার বিপরীতে উপযোগিতা পাবার নিরাপত্তা পায়।

 

রিটার্নে চার্জ সীমিত করুন

সরলতা এবং গতি বিনামূল্যে প্রোডাক্ট রিটার্ন সুবিধার চেয়েও বড় প্রভাবক। দেখা গেছে যে কাস্টমারেরা প্রোডাক্ট রিটার্ন দেবার সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রোডাক্টের মূল্যের ১১% পর্যন্ত বেশি মূল্য পরিশোধ করতে ইচ্ছুক। তবে তারা দ্রুততম সময়ে ঝামেলা বিহীন উপায়ে প্রোডাক্ট পাবার আকাঙ্ক্ষা রাখে।

প্রোডাক্ট রিটার্নের জন্য চার্জ করা রিটার্ন শিপিং খরচ ও প্রোডাক্ট রিটার্নের দ্রুততম সময়ের আশ্বাস কাস্টমারদের মধ্যে রিটার্ন পাবার প্রত্যাশাকে বাড়িয়ে তুলে।তাদের কেনাকাটায় আত্মবিশ্বাসী করে।প্রোডাক্ট ও অর্থের নিরাপত্তা প্রদান করে।

পরিশেষে

এমন একটি শক্তিশালী রিটার্ন পলিসি আপনাকে পরিকল্পনা করতে হবে যা কাস্টমারদের কেনাকাটা পরবর্তী পর্যায়ে সেই প্রোডাক্ট থেকে উপযোগিতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার নিরাপত্তা প্রদান করে। আর এই রিটার্ন পলিসি মুলত বেশি বেশি ই কমার্স বেচাকেনার গোপন পলিসি।

লাইক-ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় পোস্ট